শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার আটকের পর মাদুরোর হুশিয়ারি

তেলবাহী ট্যাংকার আটকের পর মাদুরোর হুশিয়ারি

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দাঁত ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে দেশটির একটি তেলবাহী ট্যাংকার মার্কিন বাহিনী কর্তৃক আটকের পর বুধবার এক সমাবেশে দেওয়া ভাষনে তিনি এ হুশিয়ারি দেন। মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করে এ ঘটনাকে জলদস্যুতা বলে উল্লেখ করেন। বিবিসি, দ্য সান, গার্ডিয়ান।

জাহাজ আটকের পরে খোলা তরবারি হাতে দেওয়া ওই ভাষণে মাদুরো ভেনেজুয়েলাবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রকে সত্যিকারের পরাজয় উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনারা প্রস্তুত হোন উত্তর আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের দাঁত ভেঙে ফেলার জন্য, যদি প্রয়োজন হয়।

এর আগে ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও জোরদার করার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি ট্যাংকার জব্দ করেছি। একটি বিশাল ট্যাংকার। খুব বড়। সত্যি বলতে গেলে, যা এ যাবৎকালে সবচেয়ে বড় জব্দ।’ ট্যাংকার জব্দ করার ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন অ্যাটর্নি .

জেনারেল পাম বন্ডি জাহাজটিকে ‘ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাযুক্ত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকার’ বলে আখ্যা দেন।

নিকোলাস মাদুরো সরকার দ্রুত এই পদক্ষেপের নিন্দা করে একে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুগিরি’ বলেও আখ্যা দিয়েছে। এর আগে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ঘোষণা করেছিলেন ভেনেজুয়েলা কখনোই ‘তেল উপনিবেশে’ পরিণত হবে না। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছে এবং বিগত মাসগুলোয় প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে একঘরে করার প্রচেষ্টা আরও তীব্র করেছে। অপর দিকে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদের অধিকারী ভেনেজুয়েলা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তাদের সম্পদ চুরি করার চেষ্টার পাল্টা অভিযোগ এনেছে।

এই জব্দের খবরে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের সাবধানবাণী এই পদক্ষেপ জাহাজ পরিচালনাকারীদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে এবং ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিতে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানান, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এফবিআই, প্রতিরক্ষা দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর এবং ইউএস কোস্ট গার্ড যৌথভাবে ট্যাংকারটি জব্দ করেছে। দেশের শীর্ষ সাবেক সরকারি কৌঁসুলি এক্স প্ল্যাটফর্মে লেখেন ‘বহু বছর ধরে এই তেলের ট্যাংকারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল, কারণ এটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সমর্থনকারী একটি অবৈধ তেল শিপিং নেটওয়ার্কে জড়িত ছিল।’

বন্ডির শেয়ার করা ফুটেজে দেখা যায়, একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিশাল জাহাজের ওপর চক্কর কাটছে এবং সেনারা দড়ি ব্যবহার করে জাহাজের ডেকে নামছেন। ক্লিপটিতে ইউনিফর্ম পরা পুরুষদের সশস্ত্র অবস্থায় জাহাজে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএসকে এক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলো ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, যা বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি এবং গত মাসে ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল।

এই অপারেশনে দুটি হেলিকপ্টার, ১০ কোস্ট গার্ড সদস্য ও ১০ জন মেরিনস, তার সঙ্গে বিশেষ বাহিনী যুক্ত ছিল। সিবিএসকে একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযান সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন এমন আরও পদক্ষেপের কথা ভাবছে।

সাংবাদিকেরা ট্যাংকারের তেলের কী হবেÑ জিজ্ঞেস করলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তা রাখব, মনে হয়। আমি ধরে নিচ্ছি, আমরা তেলটা রেখে দেব।’

মেরিটাইম রিস্ক অর্গানাইজেশন সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জাহাজটিকে স্কিপার নামে শনাক্ত করেছে এবং তাদের বিশ্বাস, জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থান ‘স্পুফিং’ বা মিথ্যা অবস্থান প্রচার করে আসছিল। সিবিএসের খবর অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জন্য রাজস্ব তৈরি করা কথিত তেল পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর ২০২২ সালে স্কিপারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

খুঁজুন