শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক থাই গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা

থাই গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিতর্কিত সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামীণ সড়কের চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে আছেন নরংচাই পুত্তেত।নেভিব্লু পোশাকে ৬০ বছর বয়সী এই কৃষক থেকে গ্রাম নিরাপত্তারক্ষীতে পরিণত হওয়া বৃদ্ধের কাঁধে ঝুলছে একটি রাইফেল।

থাইল্যান্ডের উরিরাম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যাদেরকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থাই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো রক্ষার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তিনি তাদের মধ্যে একজন।

টানা এক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে চলমান গোলাবর্ষণে অধিকাংশ বাসিন্দাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে।

দুই দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, আর ঔপনিবেশিক আমলের এই সীমান্ত বিরোধ থেকেই নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটেছে।

এই স্বেচ্ছাসেবকরাই এখন কার্যত নিজ নিজ গ্রামের ‘চোখ ও কান’।

তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে— খালি বাড়ি ঘরের জিনিসপত্র লুটপাট থেকে রক্ষা করা, গবাদিপশুর দেখাশোনা করা ও গ্রামের প্রবেশপথগুলোতে অবস্থিত চেকপোস্টে পাহারা দেওয়া।

চারদিকে নীরবতা। শুধু শুকনো ধানক্ষেত পেরিয়ে ভেসে আসছে দূরের গোলা ও কামানের গর্জন।

এটি একেবারেই এক ব্যতিক্রমধর্মী সেবা। বিনা পারিশ্রমিকে ও চরম ঝুঁকি নিয়ে এই স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামগুলোকে পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন।

নরংচাই এএফপিকে বলেন, ‘আমরা কোনো বেতন বা ভাতা পাই না, তবুও এটা সার্থক।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্তত আমরা আমাদের গ্রামের মানুষদের সাহায্য করতে পারছি, আর আমরা স্বেচ্ছাসেবকের মন থেকেই এটি করে যাচ্ছি।’

উরিরাম প্রদেশের এক গ্রাম প্রধান কমকাই সিহানাম ২০ সদস্যের একটি দল পরিচালনা করছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের এই দল প্রায় ৫০০ বাসিন্দার সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

খুঁজুন