শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় তিন ফেরির দুটিই নষ্ট

তিন ফেরির দুটিই নষ্ট

ফেরি সংকটের কারণে আরিচায় পার হওয়ার জন্য পাবনার বেড়া উপজেলার কাজিরহাট ফেরিঘাটে প্রায় তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় জটলা লেগে আছে। এ অবস্থায় জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ঘাট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যমুনা সেতু হয়ে ঘুরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে তিন দিন ধরে এই রুটে চলাচল করার তিনটি ফেরির মধ্যে দুটি ফেরিই নষ্ট পড়ে থাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফেরিঘাট সংলগ্ন মহাসড়কে সব সময় আটকে থাকছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক।

ঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ফেরি কপোতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত তিন দিন মেরামতের জন্য আরিচাতে অবস্থান করছে। এ ছাড়া ডাম্প ফেরি রাণী ক্ষেত যমুনা নদীতে প্রচন্ড স্রোতের কারণে চলতে পারছে না। অপর রো-রো-ফেরি রোকেয়া পন্টুন সমস্যার কারণে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। একটি ফেরি ‘কদম’ দিয়ে পরিবহন পারাপার করায় যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজেই কাটানো সম্ভব হবে না বলে জানা যায়। তবে ডাম্প ফেরি "কপোতি" আজকের মধ্যে মেরামত হলে নৌ-পারাপারে যুক্ত হতে পারে। রো-রো-ফেরি রোকেয়া ঘাটে ভিড়তে না পারার কারণে মন্থর গতিতে পরিবহন পারাপার করতে হচ্ছে।

কবে নাগাদ ডুবে যাওয়া পন্টুন মেরামত করে রো-রো-ফেরি চলাচলের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে বিআইডব্লিউটিএ এমন বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা জানান, তারা পন্টুন মেরামতের কাজ চলমান রেখেছেন নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিকূলতার মধ্যে চলছে পন্টুন মেরামতের কাজ। দুই একদিনের মধ্যে পন্টুনটি স্থাপন করা সম্ভব হতে পারে। ওই পন্টুনটি চালু করে রো-রো-ফেরি চলাচলের উপযুক্ত না করা পর্যন্ত চলমান সংকট কাটানো সম্ভব নয় বলে জানান।

মঙ্গবার (২৪ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কাজিরহাট ট্রাক টার্মিনাল থেকে শুরু করে কাশিনাথপুর কাজিরহাট সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে প্রায় তিন শতাধিক ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন আরিচায় যাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী ছোট গাড়িগুলোকে ফেরিতে ওঠার সুযোগ দেওয়ায় কোনো কোনো পণ্যবাহী ট্রাককে আরিচায় যাওয়ার জন্য দেড় থেকে দুই দিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া দুধ, সবজিসহ নানা জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ঘাট কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

আটকে থাকা ট্রাকচালক হারুন আলী, সবুর আলীসহ তিন-চারজন অভিযোগ করে জানান, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁরা পণ্য নিয়ে এই ফেরিঘাটে আটকে রয়েছেন। যানজটের কারণে অনেক যানবাহনই এখন বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে এই ফেরিঘাট হয়ে ঢাকা আসা-যাওয়া করায় চাপ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ মাত্র তিনটি ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ মার্কা ফেরিতে যানবাহন পারাপার চলছে। এগুলোর কোনো কোনোটি প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়েও পড়ছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো ফেরিতে ওঠায় অগ্রাধিকার পাওয়ায় প্রতিটি ফেরিতে মাত্র তিন থেকে চারটি ট্রাক ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঘাটে ট্রাকের জট বাড়তেই থাকবে।

তাঁরা আরো জানান, এভাবে আটকে থাকায় খাওয়া ও টয়লেট নিয়ে তাঁদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা অভিযোগ করে জানান, এই নৌপথে কমপক্ষে ছয়টি ফেরির প্রয়োজন।

কাজি হাট টার্মিনাল এসিস্টেন্ট আবুল হাসনাইন জানান, সোমবার বিকেল পর্যন্ত কাজির হাট ফেরিঘাটে তিন শতাধিক পণ্য পরিবহন সিরিয়াল দিয়ে পারের জন্য অপেক্ষা করছে। তারা একটিমাত্র ফেরি চব্বিশ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ টি পরিবহন পার করতে পারছেন।

এদিকে, ঘাটে এসে পারের অপেক্ষায় থেকে চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন চালক ও হেলপারেরা। তারা রাস্তার ওপর প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দিনরাত অপেক্ষা করছেন। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এ নৌ-পথটি বন্ধ হওয়া দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে।

খুঁজুন