শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য উদ্যোক্তাদের ঋণে ভরসা পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো

উদ্যোক্তাদের ঋণে ভরসা পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বিনিয়োগ ঝুঁঁকি ও ঋণ আদায়ের অনিশ্চয়তার কারণে দেশের ব্যাংকগুলোর এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দুই দিনব্যাপী ‘বার্ষিক সম্মেলন ও কর্মশালা-২০২৫’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ঋণ বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন গভর্নর। বলেন, ‘ঋণ বণ্টনে দক্ষতা না থাকলে বরাদ্দ ২,০০০ কোটি টাকা নষ্ট হয়ে যাবে। ঋণ রিভলভিং ফান্ড হিসেবে ফেরত আসা জরুরি, না হলে চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাবে।’ চাহিদা তৈরির গুরুত্বকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’বাজার তৈরি না করলে সরবরাহ বাড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি উদ্যোক্তার আলাদা প্রোফাইল, শপিং কার্ড এবং রিয়েল-টাইম তথ্য থাকা জরুরি।’

আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য অনলাইন ও পেপ্যালের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, আমরা ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট সেক্টরের সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংযুক্ত করার চেষ্টা করছি। এ জায়গাটায় বিশেষভাবে ফোকাস করছি। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি পণ্য কেনা অনেক বেড়ে গেছে। তারা সেখানে বসে চীন থেকে পণ্য কিনে নিচ্ছে। তা হলে আমাদের জামদানি কেন বিদেশ থেকে কিনতে পারবে না!

গভর্নর বলেন, ’ক্ষুদ্র শিল্পের সম্ভাবনা অসীম। সঠিক নীতি প্রয়োগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সোলার ব্যবহার এবং পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া গ্রিন সার্টিফিকেশন (পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতি) পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। গ্রিন সার্টিফিকেশন ছাড়া রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা আসবে বলে মনে করেন তিনি।

বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক জটিলতার কারণে এসএমই খাত বিকশিত হতে পারেনি এবং এই জটিলতা নিরসন করতে হবে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বর্তমানে ৩৭.৭৭ শতাংশ, যা প্রায় পাঁচ ভাগই আসে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাত ধরে। তিনি সামনের বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও উদ্যোক্তাবান্ধব বিসিক দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পরে ‘৬৯ বছরে বিসিক : অর্জন, সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্যে বিসিকের কর্মকাণ্ডের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন বিসিকের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পনগরী/শিল্পপার্ক স্থাপন, শিল্পনগরীর অনাবরাদ্দ প্লটসমূহের ১০০ ভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি আমরা। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়নসহ বিসিকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

খুঁজুন