কর্মসংস্থানে বিঘ্ন থেকে শিশু নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে রেখে সোমবার নয়াদিল্লিতে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন শুরু হয়েছে। তবে কিছু অংশগ্রহণকারী আশঙ্কা করছেন, আলোচনার পরিধি অতিরিক্ত বিস্তৃত হওয়ায় বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
নয়াদিল্লি খেকে এএফপি জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার বিকেলে পাঁচদিনব্যাপী ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনের লক্ষ্য বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা ও সহযোগিতার জন্য একটি ‘যৌথ রোডম্যাপ’ ঘোষণা করা।
মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এ আয়োজন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ এবং দেশের তরুণদের সক্ষমতাও তুলে ধরে।
প্যারিস, সিউল ও ব্রিটেনের কোড-ব্রেকিং কেন্দ্র ব্লেচলি পার্ক-এ আগের তিনটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের পর এটি চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন। এবারই সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে আশা করছে ভারত সরকার।
প্রযুক্তিখাতের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থী, ২০ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ৪৫টি মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এতে অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরাও অংশ নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন স্যাম অল্টম্যান ও সুন্দর পিচাই। তবে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং অনিবার্য কারণে নির্ধারিত উপস্থিতি বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে।
আয়োজকদের মতে, মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং আগামী দশকে এআই ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরবেন।
তবে এআই কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এআই নাউ ইনস্টিটিউটের সহ-নির্বাহী পরিচালক আম্বা কাক।
তার মতে, আগের সম্মেলনগুলোর অনেক প্রতিশ্রুতিই ছিল সীমিত পরিসরের ‘স্ব-নিয়ন্ত্রিত’ কাঠামো, যেখানে কোম্পানিগুলো কার্যত নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করেছে।
এআই নিরাপত্তা এখনো আলোচনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর একটি, বিশেষ করে ডিপফেকের মতো ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি। সম্প্রতি ইলন মাস্কের গ্রোক এআই টুল নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হয়, কারণ সাধারণ টেক্সট নির্দেশনা ব্যবহার করে বাস্তব মানুষের, এমনকি শিশুদেরও, যৌনধর্মী ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির বাধা কমিয়ে দেওয়ায় শিশু নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ক্ষতির বিষয়টি ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসছে।
আয়োজকদের দাবি, কোনো উন্নয়নশীল দেশে আয়োজিত এটিই প্রথম বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলন। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সম্মেলন এমন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যাতে এআই কেবল অল্প কয়েকজনের নয়, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকারে আসে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বড় অবকাঠামো পরিকল্পনা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে ভারতের এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
ভারতে এআই সম্মেলন শুরু, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ভারতে এআই সম্মেলন শুরু, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
কর্মসংস্থানে বিঘ্ন থেকে শিশু নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে রেখে সোমবার নয়াদিল্লিতে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন শুরু হয়েছে। তবে কিছু অংশগ্রহণকারী আশঙ্কা করছেন, আলোচনার পরিধি অতিরিক্ত বিস্তৃত হওয়ায় বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।নয়াদিল্লি খেকে এএফপি জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার বিকেলে পাঁচদিনব্যাপী ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর উদ্বোধন করেন।সম্মেলনের লক্ষ্য বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা ও সহযোগিতার জন্য একটি ‘যৌথ রোডম্যাপ’ ঘোষণা করা।মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এ আয়োজন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ এবং দেশের তরুণদের সক্ষমতাও তুলে ধরে।প্যারিস, সিউল ও ব্রিটেনের কোড-ব্রেকিং কেন্দ্র ব্লেচলি পার্ক-এ আগের তিনটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের পর এটি চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন। এবারই সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে আশা করছে ভারত সরকার।প্রযুক্তিখাতের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০
হাজার দর্শনার্থী, ২০ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ৪৫টি মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এতে অংশ নিচ্ছেন।সম্মেলনে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরাও অংশ নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন স্যাম অল্টম্যান ও সুন্দর পিচাই। তবে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং অনিবার্য কারণে নির্ধারিত উপস্থিতি বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে।আয়োজকদের মতে, মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং আগামী দশকে এআই ক্ষেত্রে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরবেন।তবে এআই কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এআই নাউ ইনস্টিটিউটের সহ-নির্বাহী পরিচালক আম্বা কাক।তার মতে, আগের সম্মেলনগুলোর অনেক প্রতিশ্রুতিই ছিল সীমিত পরিসরের ‘স্ব-নিয়ন্ত্রিত’ কাঠামো, যেখানে কোম্পানিগুলো কার্যত নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করেছে।এআই নিরাপত্তা এখনো আলোচনার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত
বিষয়গুলোর একটি, বিশেষ করে ডিপফেকের মতো ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি। সম্প্রতি ইলন মাস্কের গ্রোক এআই টুল নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হয়, কারণ সাধারণ টেক্সট নির্দেশনা ব্যবহার করে বাস্তব মানুষের, এমনকি শিশুদেরও, যৌনধর্মী ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল।বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির বাধা কমিয়ে দেওয়ায় শিশু নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ক্ষতির বিষয়টি ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসছে।আয়োজকদের দাবি, কোনো উন্নয়নশীল দেশে আয়োজিত এটিই প্রথম বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলন। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সম্মেলন এমন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যাতে এআই কেবল অল্প কয়েকজনের নয়, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকারে আসে।তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বড় অবকাঠামো পরিকল্পনা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে ভারতের এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত