মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে ফের তেলেসমাতি শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয় বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়ে গেছে। গত তিন-চার দিনে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে প্রায় মাসখানেক ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, লাতিন আমেরিকা থেকে সয়াবিন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪৫ দিন। তার মানে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক যুদ্ধের প্রভাব ভোজ্যতেলের দামের ওপর পড়তে অনেক সময় লাগার কথা। অথচ যুদ্ধ শুরুর তৃতীয় দিন ১ মার্চ দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সয়াবিনের মণপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৪ লাখ ৬৩ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের দাপটে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান, সেগুনবাগিচা, মানিকনগরের খুচরা বিক্রেতারা জানান, বেশি দাম দিতে চাইলেও বোতলে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব পণ্য ইতোমধ্যে মজুদ রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে যুদ্ধের প্রভাবে দাম বাড়ার প্রশ্নই আসে না। যদি দাম বাড়েও, তার প্রভাব পড়তে অন্তত আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, সংকটের কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা সময় এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। যুদ্ধকে ইস্যু করে ভোজ্যতেল নিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ তেল আসতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগে। তিনি বলেন, সরকারকে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা দরকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কয়েক দিন বাজারে যে সংকট হয়েছে, এর কারণ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা করেছে অনেকে। যে কারণে সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় সরবরাহের চাপ তৈরি করেছে। ভোক্তারা নিশ্চিন্তে বাজার করতে পারেন। বাজারে অনিয়ম হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি করছে এবং জেলা প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালাবে।
ভোজ্যতেল নিয়ে বৈঠক : ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন বাজারে যে সংকট হয়েছে, এর কারণ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা করেছে অনেকে। যে কারণে সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় সরবরাহের চাপ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের সংকট বা লিটারে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রির খবর প্রকাশ হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে আমদানিকারক ও রিফাইনারি মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য বসেছিলাম। বৈঠকে আমরা জানতে পেরেছি বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কোথাও কোথাও ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে বেশি বেশি কেনার প্রবণতার কারণে সাময়িকভাবে কিছু দোকানে মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে বলেন, রাজধানীর একটি বাজারে গিয়ে দেখেছি রাস্তার পাশে বড় দোকানগুলোতে ভোজ্যতেল পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বোতলের গায়ে নির্ধারিত দামই লেখা আছে। তবে বাজারের ভেতরের একটি দোকানে সীমিত তেল মজুদ রেখে প্রতি লিটারে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। ভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আতঙ্কিত হয়ে বেশি বেশি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। বাজারে যেহেতু পণ্য আছে, তাই অযথা প্রতিযোগিতা করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের মতো ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও কোনো সংকট নেই। জ্বালানি তেল, গ্যাস বা ভোজ্যতেল- কোনোটিতেই সংকট নেই। তাই এসব পণ্যের সঙ্গে ‘সংকট’ শব্দটি যুক্ত করে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি না করার আহ্বান জানাচ্ছি। মন্ত্রী আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না। ভোক্তারা নিশ্চিন্তে বাজার করতে পারেন। বাজারে অনিয়ম হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি করছে এবং জেলা প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালাবে।
এদিকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যের দাম যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সামনে খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশও তার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।
এফএওর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত গমসহ বিভিন্ন দানাশস্য, ভোজ্যতেল ও মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। গত মাসে পনিরসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য ও চিনির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হলেও তাতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমেনি। এফএওর খাদ্যপণ্য সূচক ফেব্রুয়ারিতে ১২৫ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি মাসে যা ছিল ১২৪ দশমিক ২। অর্থাৎ এক মাসে বেড়েছে ১ দশমিক ১ পয়েন্ট।
ফেব্রুয়ারি মাসে ভোজ্যতেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোজ্যতেলের দাম ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনের পর এটি সর্বোচ্চ। গমের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। তুলনায় চালের মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই কম; চালের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাংসের প্রায় ৮ শতাংশ। অন্যদিকে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। চিনির দাম কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
ভোজ্যতেলে ফের তেলেসমাতি
ভোজ্যতেলে ফের তেলেসমাতি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে ফের তেলেসমাতি শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও স্থানীয় বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়ে গেছে। গত তিন-চার দিনে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে প্রায় মাসখানেক ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।জানা গেছে, লাতিন আমেরিকা থেকে সয়াবিন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪৫ দিন। তার মানে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক যুদ্ধের প্রভাব ভোজ্যতেলের দামের ওপর পড়তে অনেক সময় লাগার কথা। অথচ যুদ্ধ শুরুর তৃতীয় দিন ১ মার্চ দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সয়াবিনের মণপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৪ লাখ ৬৩ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের দাপটে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।রাজধানীর কারওয়ান, সেগুনবাগিচা, মানিকনগরের খুচরা বিক্রেতারা জানান, বেশি দাম দিতে চাইলেও বোতলে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না।বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব পণ্য ইতোমধ্যে মজুদ রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে যুদ্ধের প্রভাবে দাম বাড়ার প্রশ্নই আসে না। যদি দাম বাড়েও, তার প্রভাব পড়তে অন্তত আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, সংকটের কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা সময় এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। যুদ্ধকে ইস্যু করে ভোজ্যতেল নিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ তেল আসতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগে। তিনি বলেন, সরকারকে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা দরকার।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়ার
সম্ভাবনা নেই। কয়েক দিন বাজারে যে সংকট হয়েছে, এর কারণ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা করেছে অনেকে। যে কারণে সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় সরবরাহের চাপ তৈরি করেছে। ভোক্তারা নিশ্চিন্তে বাজার করতে পারেন। বাজারে অনিয়ম হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি করছে এবং জেলা প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালাবে।ভোজ্যতেল নিয়ে বৈঠক : ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন বাজারে যে সংকট হয়েছে, এর কারণ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা করেছে অনেকে। যে কারণে সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় সরবরাহের চাপ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের সংকট বা লিটারে দুই টাকা বেশি দামে বিক্রির খবর প্রকাশ হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে আমদানিকারক ও রিফাইনারি মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য বসেছিলাম। বৈঠকে আমরা জানতে পেরেছি বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। কোথাও কোথাও ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে বেশি বেশি কেনার প্রবণতার কারণে সাময়িকভাবে কিছু দোকানে মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে।বাণিজ্যমন্ত্রী নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে বলেন, রাজধানীর একটি বাজারে গিয়ে দেখেছি রাস্তার পাশে বড় দোকানগুলোতে ভোজ্যতেল পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বোতলের গায়ে নির্ধারিত দামই লেখা আছে। তবে বাজারের ভেতরের একটি দোকানে সীমিত তেল মজুদ রেখে প্রতি লিটারে দুই থেকে তিন টাকা বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। ভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আতঙ্কিত হয়ে বেশি বেশি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। বাজারে যেহেতু পণ্য আছে, তাই অযথা প্রতিযোগিতা করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে।এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের মতো ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও কোনো সংকট নেই। জ্বালানি তেল, গ্যাস বা ভোজ্যতেল-
কোনোটিতেই সংকট নেই। তাই এসব পণ্যের সঙ্গে ‘সংকট’ শব্দটি যুক্ত করে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি না করার আহ্বান জানাচ্ছি। মন্ত্রী আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না। ভোক্তারা নিশ্চিন্তে বাজার করতে পারেন। বাজারে অনিয়ম হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি করছে এবং জেলা প্রশাসনও নিয়মিত অভিযান চালাবে।এদিকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়েছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যের দাম যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সামনে খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশও তার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।এফএওর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত গমসহ বিভিন্ন দানাশস্য, ভোজ্যতেল ও মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। গত মাসে পনিরসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য ও চিনির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হলেও তাতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমেনি। এফএওর খাদ্যপণ্য সূচক ফেব্রুয়ারিতে ১২৫ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি মাসে যা ছিল ১২৪ দশমিক ২। অর্থাৎ এক মাসে বেড়েছে ১ দশমিক ১ পয়েন্ট।ফেব্রুয়ারি মাসে ভোজ্যতেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোজ্যতেলের দাম ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনের পর এটি সর্বোচ্চ। গমের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। তুলনায় চালের মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই কম; চালের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাংসের প্রায় ৮ শতাংশ। অন্যদিকে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। চিনির দাম কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত