শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
প্রবাস যতদিন হাসিনা থাকবে ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও তত দীর্ঘস্থায়ী হবে

যতদিন হাসিনা থাকবে ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও তত দীর্ঘস্থায়ী হবে

কলকাতা প্রতিনিধি ঃ


যথাযোগ্য মর্যাদায় কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী মহান বিজয় দিবস-২০২২। ১৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার ছিল তার প্রথম দিন, উৎসব চলবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর। তিনি দিন ধরে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। 

এদিন উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণের বঙ্গবন্ধু মঞ্চে  বাংলাদেশ-এর বিজয় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন উপ হাই কমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস। এরপর এনআরবি ওয়ার্ল্ড এর সদস্যরা এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত করেন। 

মিশন প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা ছবি সম্বলিত একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। 


এদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল 'বিজয়ের ৫১ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কঃ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত' শীর্ষক এক আলোচনা।  এই আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মহম্মদ শাহ আজম, কলকাতার সাংবাদিক মানস ঘোষ, উপ হাই কমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস প্রমুখ। 


বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে জানান " তখন ভারতও ছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশ। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন, প্রশিক্ষন দিয়েছে তা ভোলার নয়।" 


তার অভিমত "ভারত ভাগ হলেও বাংলাদেশ ভারতের ভাতৃত্ব বন্ধন ভাগ হয় নি। আমি যখন কলকাতায় আদি, আমার কখনও মনে হয় না আমি দেশের বাইরে আছি। আমাদের যে বন্ধন তা রক্তের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়, তা এখনো অটুট। এই বন্ধুত্বের বন্ধন ছিন্ন হবে না। এটি আত্মার, হৃদয়ের এবং ঐতিহাসিক। গতকাল যে শত্রু ছিল, সে আজ বড় বন্ধু হতে পারে। এটা দুই দেশ বা প্রতিবেশীর মধ্যে হতে পারে। ১৯৭১ সালে যে রক্তের বন্ধন তৈরি হয়, সেই রক্তের রঙ লাল। যখন রক্তের প্রয়োজন জয়, আমরা জানতে চাইনা সে কোন ধর্মের।  আমরা জানতে চাই সেটা মানুষের কিনা? আসলে দিন শেষে আমরা মানুষ। 


দুই দেশের যে সম্পর্ক, তা মাঝে মধ্যেই উঠানামা করে, চির ধরে, আবার ঠিকও হয়ে যায়, অনেকটাই পরিবারের মত। আমরা যদি সম্পর্ক ঠিক রাখতে পারি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারি।" 


তার অভিমত "দুই দেশের মধ্যে বড়ো কোন ধরনের অমীমাংসিত বিষয় নেই। একমাত্র তিস্তা ছাড়া।  ভারত আশা করছে উভয় পক্ষ কে সাথে নিয়েই অচিরেই এর সমাধান হয়ে যাবে। তাই সম্পর্ক ভালো থাকলে অনেক কিছুই হতে পারে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কত রকম টালবাহানা ছিল, কিন্তু হাসিনার হাত ধরে সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে।"  


বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মহম্মদ শাহ আজম জানান "বাংলাদেশ এবং ভারতের যে মধুর বন্ধুত্বের সম্পর্ক এই সম্পর্কটা দীর্ঘস্থায়ী হবে ততদিন, যতদিন পর্যন্ত মুজিবকন্যা শেখ হাসিন বাংলাদেশ পরিচালনা করবেন। শেখ হাসিনা আমাদের শেষ ভরসাস্থল। যিনি থাকলে বাঙ্গালীত্ব থাকবে, আমরা বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস চর্চা করতে পারবো। আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরের প্রকৃত ইতিহাস আমরা চর্চা করতে পারি তাহলে পরেই বাংলাদেশ এবং ভারতের বন্ধুত্ব চিরঅম্লান হয়ে থাকবে। কারণ তখনই আমরা প্রকৃত সত্যগুলোকে জানার চেষ্টা করব। প্রকৃত সত্যগুলোকে আমাদের প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারব। যদি এই সত্য জানে তাহলে এ সম্পর্ক কোনদিনও নষ্ট হবার নয়।


কলকাতার সাংবাদিক মানস ঘোষ জানান "১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কাছে গৌরবের দিন। কিন্তু নতুন প্রজন্ম তারা কিছু জানেন না। বাংলাদেশের ইতিহাসকে এমন ভাবে বিকৃত করা হয়েছে, যে সমস্ত মুক্তি যোদ্ধারা অবদান রেখে গেছেন, ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম নেই। অনেকেই আবু উসমান চৌধুরী সহ বীর যোদ্ধাদের জানেন না। তাতে আমি হৃদয় থেকে মর্মাহত, আমি খুব দুঃখ পাই।" 

আলোচনা শেষে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের তরফে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 


খুঁজুন