Logo
শিরোনাম
মেঘনা নদীতে গোসল করার সময় নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও কথামালায় প্রকাশনা উৎসব নওগাঁয় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত-মা ও ছোট বোন আহত মোরেলগঞ্জে শ্রমীকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন এমপি মিলন লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারাগেছে স্কুলছাত্র নওগাঁয় বোরো ধান চাষের শুরুতেই বিদ্যুতের লোড শেডিং, দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা নওগাঁয় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ কুড়িগ্রামের শীতকাতর অসহায় মানুষের পাশে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেত্রকোনায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

২০ হাজার মানুষের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

মাহবুবুল আলম রিপন :

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় বিশ হাজার দরিদ্র অসহায় নারী পুরুষের মাঝে বিনামূলে চিকিৎসা সেবা ও ফ্রি ঔষুধ প্রদান করা হয়েছে। দুই মাস ব্যাপী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ক্যাম্পিং করে বিনা মূলে চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা করেন আমেনা নূর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিআইপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আল জামান। এছাড়াও আমেনা নূর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্কুল কলেজ,মসজিদ মাদ্রসা,এতিমখানা,মন্দির,রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমে অনুদান দিয়ে যাচ্ছেন।এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় করোনা ও বন্যা কালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমেনা নূর ফাউন্ডেশন। চাঁদপুর হাজীগঞ্জে ও নোয়াখালি বেগমগঞ্জে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকালীন সময়েও পাশে ছিলেন আমেনা নূর ফাউন্ডেশন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দাথ বিজ্ঞান,ইসলামি ইতিহাস ও বাংলা বিভাগের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উজ জামান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমেনা জামানের নামে ট্রাস্ট গঠন করেছেন আমেনা নূর ফাউন্ডেশন। 

শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে সারাদিন ব্যাপী সানোড়া ইউনিয়নের মহিষাশী বাজারে প্রায় এক হাজার রোগিকে বিনামূলে চিকিৎসা ও ঔষুধ দেওয়া হয়। শিশু, গাইনী,ডায়বেটিস,মেডিসিনসহ অন্যন্য রোগের ডাক্তারগণ চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

এসময় আমেনা নূর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিআইপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আল জামান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষে আমেনা নূর ফাউন্ডেশন সমাজের দরিদ্র অসহায় মানুষদের পাশে রয়েছে। আমরা বিনামূলে চিকিৎসা ছাড়াও মানুষের বাসস্থান ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। স্কুল কলেজ,মসজিদ মন্দির, এতিমখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের অনুদান অব্যহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তারা যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন মানুষের সেবা করে যাবেন। পরিশেষে তিনি ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমেনা নূর ফাউন্ডশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উজ জামানের র্দীঘ আয়ুর জন্য সবাইকে দোয়া করার অনুরোধ করেন।


আরও খবর



'ফারাজ' এর আগে 'শনিবার বিকেল' মুক্তির দাবি

প্রকাশিত:Friday ১৩ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে বলিউড ফিল্ম ‘ফারাজ’, এদিকে একই ঘটনার উপর নির্মিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ছবি ‘শনিবার বিকেল’ এর মুক্তি গেলো ৪ বছর ধরে আটকে আছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফারুকী। তিনি দাবি তুলেছেন, ছবিটি যেনো ফারাজ মুক্তি পাবার ঘন্টাখানেক আগে হলেও বাংলাদেশে মুক্তি দেয়া হয়।

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালেরে ১ জুলাই জঙ্গি হামলায় নিহত হন ফারাজ আইয়াজ হোসেন। বন্ধুদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন তিনি। তার সেই সাহসিকতা ও ত্যাগ নিয়ে ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে ৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে বলিউড সিনেমা ফারাজ।

এদিকে সেই ঘটনাকে অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্দায় তুলে এনেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যা গেলো চার বছর ধরে সেন্সর বোর্ডে আটকে আছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন ফারুকী। ফারূকীর মন্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পরমুহূর্তেই সেই স্ট্যাটাসটি শেয়ার দিয়েছেন একাধিক পরিচালক, শিল্পী কলাকুশলী। একই সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

 এই গুণী পরিচালক বলেন, শনিবার বিকেল ছবিটি মুক্তি না পাওয়াটা কষ্টের। যেখানে ফারাজ মুক্তি পাচ্ছে সেখানে শনিবার বিকেল ছবির মুক্তি আটকে থাকায় নিজেকে এদেশের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক মনে হচ্ছে তার।

বহিবিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফারুকী বলেন, ছবিটি সেখানে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে দেশের। তার প্রশ্ন তাহলে বাংলাদেশে কেনো তার ছবিটি আটকে রাখা হচ্ছে?

ফারুকী বলেন, যেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্যে ‘শনিবার বিকেল’ ছবিটি আটকে আছে তাদের এদেশে নিন্দিত হতে হবে।

পরিচালকের প্য়ত্য়াসা ভারতে ‘ফারাজ’ ছবির ঘন্টাখানেক আগে হলেও বাংলাদেশে শনিবার বিকেল আলোর মুখ দেখবে।  


আরও খবর



রাজবাড়ীতে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

প্রকাশিত:Friday ০৩ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি,রাজবাড়ী :

রাজবাড়ীর পাংশায় ড্রামট্রাক ও মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে মোটর সাইকেলের আরোহী শাহারুল ইসলাম সাহা ওরফে শহর আলী (৭০) মৃত্যু  হয়েছে। 

তিনি পাংশা উপজেলার শিয়েলডাঙ্গী গ্রামের শীতল মন্ডলের ছেলে। এ সময় কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার বসুয়া গ্রামের মৃত লতিফ শেখের ছেলে আইউদ্দিন শেখ (৭৫) আহত হয়েছেন। শুক্রবার ( ৩ ফেব্রুয়ারী ) বিকেলে  রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেল আরোহী পাশের সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠার সময় কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ীগামী একটি ড্রাম ট্রাক এসে পিছন থেকে ধাক্কা দিলে ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয় ও একজন গুরুতর আহত হয়। আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে খোকসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা ঘাতক ড্রাম ট্রাকটি ও চালককে আটক করে। 

পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি ) মোঃ লিয়াকত আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ এসে, ট্রাকটি জব্দ করে ও চালককে পুলিশের হেফাজতে নেয়। এবং মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে 


আরও খবর



নওগাঁয় বিস্ফোরক মামলায় বিএনপির ৮ নেতা-কর্মী কারাগারে

প্রকাশিত:Thursday ০৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :


নওগাঁর মহাদেবপুর ও পত্নীতলা থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক মামলায় বিএনপির ৮ নেতা কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে জেলা ও দায়েরা জজ মোঃ আবু শামীম আজাদ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০ নভেম্বর ২২ তারিখে জেলার পত্নীতলা থানার ২৬/৪০৬ নং  বিস্ফোরক দ্রব্য আইন প্যানেল কোড মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে পত্নীতলা থানার যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ শাহির হোসেন শিপু (৩৫), পত্নীতলা থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ শাহীন বায়জিদ রহমান (৪২), নজিপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে যুবদলের সভাপতি মোঃ রনি হোসেন (৩৫), নজিপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ উজ্জল হোসেন (৩৫), নজিপুর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আব্দুল কাদের(৪০), পত্নীতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম (৪৫) এবং মহাদেবপুর থানার ২২ নভেম্বর ২২ইং তারিখের ২০/৩৭৫ নং মামলার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে মহাদেবপুর থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল ইসলাম (৪৫), ও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ এফ আই সবুজ(৩৭)।

বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালতে তারা হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক জেলা জজ মোঃ আবু শামীম আজাদ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে (পত্নীতলা থানার ৬ জন এবং মহাদেবপুর থানা ২ জন) মোট ৮ জনকে কারাগারে প্রেরনের আদেশ দেন।


আরও খবর



সীমান্ত সড়ক প্রকল্প পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

প্রকাশিত:Monday ৩০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Thursday ০২ February 2০২3 |
Image

উচিংছা রাখাইন, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ৩০ জানুয়ারী সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সাইচাল আর্মি ক্যাম্পে দুমদুম্যা এলাকায় সীমান্ত সড়কের প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রহতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।

এ সময় সেনাপ্রধানের সাথে লেঃ জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ারি হাসান, এসবিপি, এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি, মেজর জেনারেল মোঃ নজরুল ইসলাম, এসপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ হাবিব উল্লাহ, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিএসপি, এসইউপি, এনডিসি, এইচডিএমসি সহ রাঙ্গামাটি ব্রিগেড কমান্ডার সহ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সেনা প্রদান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকা গুলোতে কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য। এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও এই বর্ডার রোড ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, দুর্গম এই এলাকা কাজ করতে গিয়ে কষ্ট হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সড়কের কাজ সমাপ্ত করা হবে। তিনি বলেন, আমি পরিদর্শন করতে এসে তা হলো এই এলাকায় যারা কাজ করছে তাদের মনোবল বাড়ানোর জন্য আমার পরিদর্শণে আসা। 

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে প্রকল্পটির কাজ চলছে। সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার।

 প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হলে পার্বত্য জেলাগুলোর সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে। এ ছাড়া সীমান্তে দুই পাশের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে।

পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এটি সীমান্ত এলাকার কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতিতেও ভূমিকা রাখবে।


আরও খবর



তথ্য পরিবর্তন করে ২২ বছর

কারারক্ষীর চাকুরী করা প্রতারক তাজুল‌কে গ্রেপ্তার করলো র‌্যাব

প্রকাশিত:Saturday ১৪ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Thursday ০২ February 2০২3 |
Image

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ,কু‌মিল্লা :         

প্রতারণার খবর পাওয়া যায় যা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। এমনি এক ধূর্ত প্রতারক তাজুলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তথ‌্য গোপন ক‌রে ২২বছর কারারক্ষীর চাকুরী করা প্রতারক তাজুল ইসলাম‌কে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজার  থে‌কে গ্রেপ্তার ক‌রেছে র‌্যাব। ওই এলাকার বা‌ড়ি থে‌কে ৩ সেট কারারক্ষী ইউনিফর্ম, ১ টি কারারক্ষী জ্যাকেট,১ সেট কারারক্ষী রেইনকোট, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি-পত্রাদি উদ্ধার ক‌রে‌ছে র‌্যাব।

শুক্রবার সকা‌লে কু‌মিল্লার শাকতলা  র‌্যাব কার্য‌্যাল‌য়ে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে র‌্যাব -১১উপ-পরিচালক,

কোম্পানী অধিনায়ক‌ মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন

জানান-  ভুয়া পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে চাকুরী করে গেছে কারারক্ষীর মত স্পর্শকাতর জায়গায়।  গত ২০০১ সালে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার শাহজাহানপুর গ্রামের মোঃ নুর উদ্দিন খান এর ছেলে মোঃ মঈন উদ্দিন খান কারারক্ষী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজির হয়ে শারীরিক ফিটনেস, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দি‌য়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রত্যেকের স্থায়ী ঠিকানায় নিয়োগপত্র পরবর্তীতে ডাকযোগে প্রেরণ করা হবে। একই নিয়োগ দেখে উক্ত প্রতারকও পরীক্ষা দেয় এবং অকৃতকার্য হয়। এরই মধ্যে প্রতারকসহ আরো দুইজন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে মঈন উদ্দিন খানের বাড়িতে যান ও নিজেদের কারাকর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং মঈন উদ্দিন খানকে বলে সে যদি কিছু টাকা দেয় তবে তাকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে অন্যথায় তার নিয়োগ বাতিল করা হবে। কিন্তু মঈন উদ্দিন খান ঘুষ দিয়ে চাকুরী করবে না বলে টাকা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন খান নিয়োগপত্র না পাওয়ায় আশাহত হয়ে বেসরকারী চাকুরী শুরু করেন। এরই মধ্যে প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান এর ঠিকানা ব্যবহার করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার স্থলে কারারক্ষী হিসেবে চাকুরী শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারাগারে চাকুরী সম্পন্নও করেন ও সর্বশেষ ঐ প্রতারক সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত ছিলেন। এরই মধ্যে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তির জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রয়োজন হলে প্রতারক প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান এর নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করে ফেলে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ২০২০ সালের শেষ দিকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রিন্ট সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সংবাদে প্রকাশিত হয় যে, সিলেট বিভাগে প্রায় ২০০ জন কারারক্ষী সিলেটের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও প্রায় ২০/২২ বছর যাবত চাকুরী করে আসছে। উক্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সিলেট বিভাগে কর্মরত প্রত্যেক কারারক্ষীর ঠিকানা যাচায়েরই জন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। তেমনিভাবে প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান এর ঠিকানা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কারা উপ-মহাপরিদর্শক, সিলেট কার্যালয়ে হতে শাহাজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি পত্র পাঠানো হয় এবং মঈন উদ্দিন খান সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা কি না এ ব্যাপারে একটি প্রত্যয়ন পত্র প্রেরণের জন্য বলা হয়। পত্র প্রাপ্তির পর শাহাজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একটি প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন যে, মঈন উদ্দিন খান, পিতা-মোঃ নুর উদ্দিন, গ্রাম-শাহজাহানপুর, ডাকঘর-তেলিয়াপাড়া, থানা-মাধবপুর, জেলা-হবিগঞ্জ-কে তিনি চিনেন এবং মঈন উদ্দিন খান কারারক্ষী হিসেবে চাকুরী নয় বরং স্থানীয় একটি ফার্মেসীতে ঔষুধের ব্যবসা করেন। চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট এর বিষয়ে জানার পর প্রতারক গত ২০২১সা‌লের ১৫ সেপ্টেম্বর  হতে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত ৫ দিনের নৈমিত্তিক ছুটিতে গমন করেন ও ২০ সেপ্টেম্বরে যোগদান করার কথা থাকলেও সে ইতিমধ্যে তার কিছু নিকট সহকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারে কারা কর্তৃপক্ষ তার ভুয়া ঠিকানার ব্যাপারে জানতে পারে। তার সে যোগদান থেকে বিরত থাকে। এপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে তাকে ছুটি হতে যোগদান না করলে চাকুরিচ্যুত করার বিষয়টি অবগত করলে সে যোগদান না করে অতিবাস করতে থাকে।

 পরবর্তীতে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ মঈন উদ্দিন খান বিভাগীয় দপ্তরে চাকুরীতে যোগদানের জন্য একটি আবেদনপত্র প্রেরণ করেন যেখানে উল্লেখ করেন তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন এবং তার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেও কোন যোগদানপত্র পান নাই। বিষয়টি প্রতারক জানতে পারে ও সে শাহাজাহানপুরে মঈন উদ্দিন খান এর দোকানে গিয়ে তাকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয় এবং সত্য ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য বলে। কিন্তু মঈন উদ্দিন খান হুমকির কোন তোয়াক্কা না করে বিষয়টি উন্মোচন করে দিবে বলে জানালে প্রতারক ব্যক্তি মঈন উদ্দিন খানকে ১০ লক্ষ টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন খান চাকুরী পেতে উচ্চ আদালতের দারস্থ হন। এরই মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষের পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রমে সংগৃহীত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা, সাক্ষীগণের সাক্ষী, জাল শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে চাকুরীতে বহাল থাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাতে প্রাপ্ত তথ্য, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা, প্রকৃত মঈন খান কে হুমকি ধামকি দিয়ে সত্যতা ধামাচাপা দেয়াসহ বিভিন্ন লোমহর্ষক তথ্য প্রমাণিত হয়। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাকুরীরত প্রতারক কারারক্ষীকে গত ২০২১সা‌লের ২০ নভেম্বর তদন্ত কমিটির নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলে সে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে আত্নগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে গত বছ‌রের ৪ আগষ্ট  তারিখে অন্যের ঠিকানা-পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চাকুরীরত থাকায় তার বিরুদ্ধে এস.এম.পি এর জালালাবাদ থানায় মামলা করা হয়।     

যেহেতু কারা কর্তৃপক্ষের নিকট এই প্রতারকের প্রকৃত ঠিকানা ছিল না তাই তারা মামলায় আসামীর নাম মোঃ মঈন খান এবং অন্যান্য তথ্যাদি অজ্ঞাত দিয়ে একটি মামলা রুজু করে। মামলা দায়েরের পর  প্রতারক পুরোপুরিভাবে আত্নগোপনে চলে যায়। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে জানতে পারেন তৎকালীন সময়ে কুমিল্লা জেলা হতে অনেক লোক কারারক্ষী পদে পরীক্ষা দিয়ে চাকুরীরত রয়েছে। পরবর্তীতে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতারককে গ্রেপ্তা‌রের জন‌্য র‌্যাব-১১কুমিল্লা এর সহায়তা কামনা করে।

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব ১১,  গোয়েন্দা সূত্র ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১২ জানুয়া‌রি বিকালে কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া বাজার এলাকা থে‌কে প্রতারক তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার ক‌রে র‌্যাব। তারঁ বা‌ড়ি থে‌কে ৩ সেট কারারক্ষী ইউনিফর্ম, ১ টি কারারক্ষী জ্যাকেট, ১ সেট কারারক্ষী রেইনকোট, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি-পত্রাদি উদ্ধার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃত,মোঃ তাজুল ইসলাম (৪২) জানায়,ব্রাহ্মণপাড়া উপ‌জেলার ৬নং দ‌ক্ষিণ শশীদল গ্রামের মৃত মোঃ কালা মিয়ার ছে‌লে। নাম-ঠিকানা গোপন করে প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান এর নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরী করা সহ সরকারী সুযোগসুবিধা ভোগ করে আসছিল। 

এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন র‌য়ে‌ছে।

        


আরও খবর