Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

৮-০ গোলে সিঙ্গাপুরকে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফিফা প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এতে করে স্বাগতিকরা দুই ম্যাচ সিরিজ জিতলো ২-০ ব্যবধানে। ৪ ডিসেম্বর বড় জয় দিয়েই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল শেষ করতে যাচ্ছে ২০২৩ সাল।

বাংলাদেশের বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন তহুরা খাতুন ও রিতুপর্না চাকমা। অন্য চার গোল সানজিদা, সাবিনা, মাতসুসিমা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের। প্রথমার্ধে তিন গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।

তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। মাঝ মাঠে 'ম্যাজিক্যাল মনিকা' সিঙ্গাপুরের তিন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে লম্বা পাস দেন সাবিনা খাতুনকে। বক্সে বলটি ধরে জায়গা বানিয়ে শট নিয়েছিলেন সাবিনা। সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন সাবিনার শট। ফিরতি বলে তহুরার শট চলে যায় ওপর দিয়ে।

১১ মিনিটে সাবিনার সামনে এসেছিল আরেকটি সুযোগ। বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে সাবিনা যে শট নেন, তা চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ৫ মিনিট পর লিড নেয় বাংলাদেশ।

ডান দিকে বক্সের মাথা থেকে সাবিনার ফ্রি-কিক থেকে আফিদার ভলি যায় মাসুরার সামনে। তিনি হেড নিলে বল যায় তহুরার কাছে। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা তহুরা খাতুন সুযোগ মিস করেননি। হেডে বল জড়িয়ে দেয় জালে।

পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা। সাবিনার কর্নার পোস্টের সামনে থেকে ক্লিয়ারের চেষ্টা করেছিলেন সিঙ্গাপুরের ডিফেন্ডার ডরকাস চু। বল পেয়ে যান রিতুপর্না চাকমা। তিনি বা পায়ের আলতো টোকায় বল পাঠান জালে।

২৪ মিনিটে সানজিদার ক্রস থেকে রিতুপর্না চাকমা বল ঠেলে দিয়েছিলেন গোলমুখে। সামনেই দাঁড়ানো ছিলেন তহুরা। বল জালে ঠেলে দিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন কলসিন্দুরের এই যুবতী।

বিরতির পর বাংলাদেশ ব্যবধান ৪-০ করে ৫৭ মিনিটে। বাঁ দিক দিয়ে রিতুপর্না বল নিয়ে ঢুকে পাস দিয়েছিলেন তহুরাকে। তহুরার শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বল সানজিদার কাছে গেলে প্লেসিংয়ে গোল করেন তিনি।

দলের পঞ্চম গোল করেন রিতুপর্না চাকমা। মনিকা চাকমা বাড়ানো বল ধরে বাম দিক দিয়ে দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বা পায়ের ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রিতুপর্না।

৭৫ মিনিটে দলের ষষ্ঠ গোল করেন সাবিনা খাতুন। ডান দিক থেকে বদলি শামসুন্নাহারের ক্রসে সাবিনা ডান পায়ের প্লেসিংয়ে বল পাঠান জালে। ৮৭ মিনিটে সপ্তম গোল করেন বদলি মাতসুসিমা সুমাইয়া।

এখানেই শেষ হয়নি। ইনজুরি সময়ে আরও একবার সিঙ্গাপুরের জালে বল পাঠায় বাংলাদেশ। এবার বাঁ দিক থেকে রিতুপর্নার ক্রস থেকে বদলি শামসুন্নাহার প্লেসিংয়ে ৮-০ করেন।

বাংলাদেশ একাদশ রুপনা চাকমা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, আফিদা খন্দকার, মাসুরা পারভীন, মনিকা চাকমা, সানজিদা আক্তার, মারিয়া মান্ডা, রিতুপর্না চাাকমা, তহুরা খাতুন ও সাবিনা খাতুন।

 

 


আরও খবর

মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে মোস্তাফিজ

রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: আসুন সচেতন হই

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

মানবদেহে কিডনি এমনই একটা অঙ্গ যে আজ ভালো আছে মানে চিরকাল ভালো থাকবে, সেটা যেমন নয়, আবার আজ ভালো নেই মানে কোনো দিনও ভালো হবে না সেটাও নয়। কিডনির মূল কাজ হলো, শরীর থেকে টক্সিন বা দূষিত পদার্থকে আলাদা করে দেয়া। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির তাই সারাজীবনই ভালো থাকা খুব দরকার। আর তার জন্যই চাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে কিডনির প্রতি বিশেষ যত্ন।

আজ কী কী করলে কিডনি ভালো থাকবে?

এপ্রসঙ্গে বলতে গেলে প্রথমেই বলা যায়, প্রাথমিকভাবে সকলের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা রয়েছে, কিডনি খারাপ হলে আগে থেকে তা জানান দেয়। তা কিন্তু নয়। কিডনির অসুখ হলো সাইলেন্ট কিলার বা নীরব ঘাতক। এই অঙ্গে কোনও অসুখ বাসা বাঁধলে সেটা প্রথমে একেবারেই টের পাওয়া যায় না। যখন খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যায় তখন বোঝা যায়। প্রতিটি কিডনি ১১ লক্ষ নেফ্রন নিয়ে গঠিত। কিন্তু ১০-২০ হাজার নেফ্রন নিয়ে আমরা ভালোভাবে কাটাতে পারি। ওই কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি বিকল হলে আমরা টের পাই না। কোনো লক্ষণই থাকে না। তাই যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনো মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিডনিতে কোনো রোগ বাসা বাঁধছে কি না বোঝা মুশকিল।

তাই আগাম কিডনির টেস্ট, যা রোগের পূর্বাভাস জানায়

রক্তের টেস্ট যেমন, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম ও পটাশিয়াম।

আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে কিডনির গঠন ঠিক রয়েছে কি না দেখা।

রুটিন ইউরিন টেস্ট করে দেখা উচিত।

একটি অ্যাডভান্সড টেস্ট রয়েছে, যার নাম হলো সিস্টাসিন সি। এই টেস্ট করে অনেক আগে থেকেই বোঝা যায় রোগীর ভবিষ্যতে ক্রিয়েটিনিন বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না।

ক্রিয়েটিনিন থেকে জিএফআর লেভেল দেখেও কিডনির অসুখের ভবিষ্যৎবাণী করা যায়।

কী কী লক্ষণ অ্যালার্মিং?

১. পা ফুলছে কি না।

২. প্রস্রাব করার সময় তা থেকে সাবানের মতো ফেনা হচ্ছে কি না।

৩. কোনো কারণ নেই, খুব ক্লান্তিভাব।

৪. খাওয়ার ইচ্ছে চলে যাওয়া।

৫. ঘুমের অত্যধিক সমস্যা।

৬. মেয়েদের ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা থাকলে বারবার ইউরিন ট্রাক্ট ইনফেকশন হতে পারে।

আজ মানলে কাল ভালো

কিডনি ভালো আছে কি না এই চিন্তা মনে জাগলে প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরবর্তী কী করবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এছাড়া কতগুলো জিনিস মানতে হবে। যেমন- পর্যাপ্ত পানিপান করুন, লবণ বাদ দিন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, ওভার দ্য কাউন্টার মেডিসিন এড়িয়ে চলুন, মুড়ি-মুড়কির মতো আয়ুর্বেদিক ওষুধ খাওয়া বা ন্যাচারোপ্যাথিতে অতিরিক্ত বিশ্বাস কিডনির ক্ষতি করতে পারে, অতিরিক্ত ব্যথার ট্যাবলেট কিডনির সমস্যার কারণ, কথায় কথায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া মারাত্মক কিডনির জন্য।

ভবিষ্যতেও মাথার রাখুন

কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগে থেকে মেনে চলতে হবে। কিছু অসুখের প্রেক্ষাপটে কিডনির অসুখের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি তাদের খুব সতর্ক থাকা দরকার। আজ কিডনি ভালো থাকলেও যদি ঠিকভাবে সচেতন না হওয়া যায় তাহলে ডায়াবেটিস কিন্তু ধীরে ধীরে কিডনি বিকল করে।

রক্তচাপ এক্ষেত্রে বর্তমানে কোনোরকম সমস্যা না হলেও এই অসুখ কিন্তু ভবিষ্যতে কিডনির নানা সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

কোলাজেন মাসক্যুলার ডিজিজ বা ক্রনিক আর্থ্রাইটিস- এই ধরনের সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত পেন কিলার খাওয়ার প্রবণতা থাকে, সেটাও কিন্তু কিডনি ফাংশন প্রতিহত করতে পারে। লুপাস, মাল্টিপল টিস্যু ডিসঅর্ডার ইত্যাদি অসুখগুলো ধীরে ধীরে কিডনির উপরে প্রভাব ফেলে।

আর একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হলো কারো আগে কোনো কিডনির সমস্যা ছিল, তা এখন ভালো হয়েছে। তবু কিছু জিনিস না মানলে বিপদ। যেমন- কিডনিতে স্টোন। এক্ষেত্রে যাদের রয়েছে অসুখটা বা অপারেশন হয়েছে, তার পরবর্তী সময়েও ডায়েট খুব জরুরি। স্টোনের কারণ জানতে জেনেটিক মেটাবলিক ডিসঅর্ডার থাকলে সেগুলোর চিকিৎসা করা দরকার। ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক ও পেনকিলার খুব বুঝে খাওয়া উচিত।

দুর্বল কিডনি সবল রাখতে বয়সকালে অর্থাৎ ষাটোর্ধ্বদের বয়সজনিত কারণে কিডনির নানা সমস্যা হয়। এই বয়সজনিত কারণ প্রতিহত করতে কয়েকটি পদক্ষেপ রয়েছে-

১) ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ঠিক রাখার সাথে হার্টের বিশেষ যত্ন এই বয়সীদের নিয়ে হবে। যাঁর যত ভালো হার্ট, তার কিডনির সমস্যাও কম। কার্ডিও রেনাল সিন্ড্রোম এই বয়সে বেশি হয়। তাই রোজ হাঁটা, কিডনি ভালো রাখার জন্য অন্যতম এক্সারসাইজ। এছাড়া এন্ডোরফিন হরমোন হাঁটলে ক্ষরণ হয়। এই হরমোন কিডনির কার্যক্ষমতা ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারে। তাই হাঁটুন। তবে অতিরিক্ত নয়। খুব বেশি এক্সারসাইজ করলে পেশি থেকে প্রোটিন বের হয়, সেই প্রোটিন কিডনির ক্ষতি করতে পারে। ২০-৩০ মিনিট সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন।

২) বয়সকালে ডায়ালিসিস নিতে হলে মাথায় রাখুন কিছু বিষয়। যাদের দীর্ঘদিন ধরে ডায়ালিসিস চলছে, তাদের বয়স বাড়লে সাবধান হতে হবে। প্রথমত, খুব সতর্ক থাকতে হবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে। দ্বিতীয়ত, সঠিক ডায়ালিসিস সেন্টার থেকে ডায়ালিসিস নিতে হবে। এসব বুঝে চললে, ডায়ালিসিস নিয়েও ১০-১৫ বছর ভালো থাকা যায়।


আরও খবর

চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশা

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশা

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

চলতি বছরের শুরুতেই চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশা। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কিউলেক্স মশার উপদ্রব। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ জনজীবন। কিন্তু মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিশেষ কোনো কার্যক্রম নেই।

২০২৩ সালে ঢাকা শহরে এডিস ও কিউলেক্স মশা উপদ্রব অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। গত বছর ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবে লাখ ছাড়িয়েছে। আর এ রোগে মারা গেছেন দেড় হাজারের বেশি। এবার বর্ষা মৌসুমে এডিস পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা।

কীটতত্ত্ববিদদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সরকারের হিসাবের দ্বিগুণের বেশি হবে। এবার এডিস মশায় আক্রান্তের হার আরও বাড়তে পারে। গত বছর যেসব স্থানে এডিস মশা ডিম ছেড়েছে, সেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমা মাত্রই এডিস মশা জন্মাবে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনকে আগ থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি কোনো ভবনের ছাদ বা আঙিনায় যাতে বৃষ্টির পানি জমা না থাকে, তা নাগরিকদের আগেই নিশ্চিত হতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার ১৮টি সরকারি হাসপাতালে ৩৪২ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া ৫৯টি বেসরকারি হাসপাতালে ১১২ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রায় সবাই ঢাকার বাসিন্দা।

এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটিতে বর্ষা-পরবর্তী এডিস মশার লার্ভা বা শূককীট জরিপ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা। এ জরিপে উত্তর সিটির ৪০টি ও দক্ষিণের ৫৯টি ওয়ার্ডে মোট তিন হাজার ২৮৩টি বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ডিএসসিসিতে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ ও ডিএনসিসিতে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকি পেয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা।

২০২২ সালের বর্ষা-পরবর্তী জরিপে উত্তরে শতকরা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ও দক্ষিণ সিটি এলাকায় ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা বা শূককীটের উপস্থিতি পাওয়া গিয়ে ছিল। সেই হিসেবে ২০২২ সালের বর্ষা-পরবর্তী সময়ের চেয়ে ২০২৩ সালে তা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




শীঘ্রই কাটছে না গ্যাস সংকট

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের যোগান কম থাকায় রেশনিং করে খাতভিত্তিক গ্যাসের সরবরাহ করছে জ্বালানি বিভাগ। সে ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে শিল্প ও বিদ্যুৎখাত। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, এখনো চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে না বেশিরভাগ শিল্প। অন্যদিকে চলতিমাসেই বিদ্যুতের চাহিদা আরও ২-৩ হাজার মেগাওয়াট বাড়তে পারে। আর এই বর্ধিত চাহিদা পূরণে বাড়ানো হতে পারে গ্যাসের সরবরাহ। এতে শিল্পখাতে তৈরি হয়েছে নতুন শংকা।

শিল্পসহ দেশের বিদ্যুৎখাতের গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের। গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মলূত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন সংস্কারের কারণে সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। যদিও পাইপলাইন বন্ধের কারণে দিনে মাত্র ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যেখানে দিনে চাহিদা ৪শ মিলিয়ন ঘনফুট। দেখা গেছে স্থানীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাহিদার থেকে যোগান ক্রমেই কমছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎসহ সবধরনের শিল্প ও উৎপাদনমুখী খাতে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এর বাইরেও সিএনজি ও আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়াবে কয়েকগুণ। এদিকে সংকট নিরসনে শিল্প উদ্যোক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই জোড় দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলেও শিল্প ও বিদ্যুৎখাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।এদিকে মার্চের শুরুতেই বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। এই মুহূর্তে ৪-৫ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলেও তখন এ খাতে গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে শিল্পে বিদ্যমান গ্যাসের সরবরাহ নতুন শংকা তৈরি হয়েছে। যদিও বিকল্প জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। কিন্তু অন্য যে কোনো জ্বালানিকে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি কিংবা আমদানি করা বাড়বে ব্যয়, যা এখাতে ভতুর্কি আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে অন্তত ২ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সম্প্রতি সংসদে এক বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে বর্তমান সংকট নিরসনে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন নিম্নমুখী। আমদানির মাধ্যমে এই ঘাটতি মেটানো হলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। মূলত আমদানি গ্যাস পরিবহণ ও মজুদের বিদ্যমান অবকাঠামোগত সক্ষমতার চেয়ে ঘাটতি বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় একমাত্র নিজস্ব গ্যাসের উত্তোলন বৃদ্ধি ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দেখা গেছে দেশের প্রধান গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরেই এর উত্তোলন কমতির দিকে। অন্যদিকে নতুন গ্যাস কূপগুলোর সঙ্গে পাইপলাইন সংযোগ নেই। ফলে তা জাতীয় গ্রিডে আসছে না। তাই গ্যাস পরিবহণে অবকাঠোগত সক্ষমতা তৈরিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে শিল্প উদ্যোক্তারা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই জ্বালানি বিভাগকে বাড়তি দামে হলে আমদানি করে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বলে আসছে। কিন্তু এখন আমদানি বাড়ানো হলেও তা সরবরাহে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকয়ে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পখাতে নেতীবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করেন উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফাকচার্স এন্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও শিল্প উদ্যোক্তা শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি গত দুবছর ধরেই খারাপ। এখন যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অগ্রাধিকার দেওয়ার পরেও ৪০-৪৫ শতাংশ গ্যাসের সরবরাহ মিলছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ২ থেকে আড়াই গুণপর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ৩ শিফটের পরিবর্তে মাত্র ১টি শিফট ফ্যাক্টরি চালাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিল্পসহ সামগ্রিক রপ্তানিখাত দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি রপ্তানি বাজার হারানোর শংকাও রয়েছে।

এমনিতেই স্বাভাবিক অবস্থায় শিল্পখাতে বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকে। এছাড়াও গ্যাসে চাপ এত কম থাকে। ফলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি বিকল্প জ্বালানিতে মেটাতে হয়। এতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এ অবস্থায় যদি দীর্ঘ মেয়াদে রেশনিং করে সরবরাহ করা হয় তাহলেও গড় ঘাটতি ৪০ শতাংশ থেকেই যাবে। আর এই ঘাটতি বিকল্প জ্বালানিতে মেটানোর সক্ষমতা অনেকেরই নেই। এতে বিদ্যমান ব্যাংক ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে।

সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি : সম্প্রতি ২০২৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বৈশ্বিক গ্যাস বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সেখানে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা তেমন বাড়েনি বলে উল্লেখ করা হয়ছে। বরং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৩ সালের প্রথম ১০ মাসে গ্যাসের চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও একই সময়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু স্থানীয় গ্যাসের যোগান ধারাবাহিকভাবে কমতির দিকে থাকায় ২০ শতাংশ আমদানি বাড়িয়েও বিভিন্ন খাতে গ্যাসের রেশনিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফলে ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

এদিকে দেশে গ্যাসের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। অন্য যে কোনো জ্বালানির থেকে এর উৎপাদন ব্যয় অর্ধেকেরও কম। তবে দেশি গ্যাসের যোগান কমতে থাকা এবং আমদানি বাড়তে থাকায় গ্যাসের গড় দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। দেখা গেছে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত গ্যাসের ৭০ শতাংশই নিজস্ব। তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই এই সরবরাহ ৫০ শতাংশে নামতে পারে। ফলে এই বিশাল ঘাটতি পূরণে আমদানি ব্যয় ছাড়াবে ৫ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটে অর্ধেক কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে অর্থাৎ ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য বছরে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।

সিএনজি গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রেশনিংয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিএনজি খাত। সার ও আবাসিক খাতেও তা চলছে এক প্রকার অঘোষিতভাবে। অর্থাৎ এসব খাতেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না পেট্র্রোবাংলা। দেশে গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা আসলে কত সেটির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সরকারি সংস্থাগুলো থেকে তথ্য জানা যায়নি। তবে পেট্রোবাংলার ভাষ্যমতে, দেশে দৈনিক প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। আর তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ থাকলে বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক, সার ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, চাহিদা ও সরবরাহে এখন গ্যাসের ঘাটতি দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এ পরিমাণ ঘাটতি গ্যাস স্থানীয়ভাবে যেমন জোগান দেওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি নেই আমদানি করার মতো অর্থ।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় পরিসরে গ্যাসের জোগান বাড়াতে হলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। কারণ ওই সময়ে নতুন চুক্তির আওতায় দেশে এলএনজি আসবে এবং সেই সময়ে টার্মিনালগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে। তখন গ্যাস সরবরাহ সংকট কমে আসবে।

 


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

বিশ্বে দিন দিন বেড়েই চলছে বায়ুদূষণ। অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণও। রবিবার শহরটির বাতাস খুব অস্বাস্থ্যকার অবস্থায় রয়েছে।

এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ২৫৭ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা, যা খুব অস্বাস্থ্যকার হিসেবে বিবেচিত।

এ ছাড়া ২১৮ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা শহর। ২১৭ স্কোর নিয়ে দেশটির রাজধানী দিল্লি রয়েছে তৃতীয় স্থানে। আর চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের উহান শহরের স্কোর ১৯৬ এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোর শহরের স্কোর ১৯২।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নোবিপ্রবিতে শহীদ দিবস পালনে বিশৃঙ্খলা

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মোঃ সিনান তালুকদার নোবিপ্রবি প্রতিনিধি,

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের অব্যবস্থাপনায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে (বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে)। 

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নোবিপ্রবির শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

জানা যায়, দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, বিভাগসহ বিভিন্ন সামাজিক,  সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য নাম ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ। ক্রমান্বয়ে নাম ঘোষণার কথা থাকলেও বিভাগটির অব্যবস্থাপনায় শহীদ মিনারেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আগ্রহী সংগঠনসমূহকে পূর্ব নির্ধারিত কোন ক্রম জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কোন নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই শ্রদ্ধা নিবেদন করার আহবান জানায় ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ।

ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, দিবস উপলক্ষে শুরুতে শোক পদযাত্রা করা হয়। শোক পদযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শহীদ মিনার চত্বরে এই হট্টগোলে সৃষ্টি হয়। 


সূত্র অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষক সমিতির পর নোবিপ্রবি ছাত্রলীগকে শ্রদ্ধা নিবেদন করার আহবান জানানো হয়। শিক্ষক সমিতির পরে নোবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের নাম ঘোষণা না করায় তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের ঘোষণা না মেনে সকল বিভাগ, দপ্তর ও সংগঠনের ফুল দেওয়া শেষে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের এই সংগঠন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, নোবিপ্রবিতে সব সময়ই সাদামাটা ভাবে আয়োজন করা হয় দিবসসমূহ। যার ফলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এক শতাংশ ও হয়না।

দিবস পালনে কোন সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ নোবিপ্রবি ছাত্রলীগেরও। এই বিষয় অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি নাঈম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শুভ বলেন, আমাদেরকে যখনি সুযোগ দেওয়া হতো তখনি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করতাম। দিবস উদযাপনে সব সময়ের মত এবারও সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। ভবিষ্যতে জাতীয় দিবস উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরো সতর্ক হয়ে পরিকল্পনা করার আহবান নোবিপ্রবি ছাত্রলীগের। 

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক ইবনে ওয়াজেদ ইমন বলেন, এখানে একটি ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আমরা আশা করি পরিবর্তীতে এরকম কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবেনা।

এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. বিপ্লব মল্লিক বলেন, আমাদের দিবস উদযাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টটা নেই, আমরা নির্দেশিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি।

নোবিপ্রবি জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয় উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী বলেন, প্রশাসনিক কিছু বিষয়ে সমস্যা হলে তা পুরো নোবিপ্রবির নাম চলে আসে, তাই আমাদের সবাইকে এই বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। আমরা সকলে পরবর্তীতে আরো সতর্কতার সাথে সকলের সহযোগিতায় স্বতঃস্বপূর্ত ভাবে সুন্দর আয়োজন করবো।


আরও খবর