Logo
শিরোনাম
দিনমজুর সেজে ক্লুলেস

৮ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি খালেকে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

দিনমজুর সেজে ক্লুলেস ৮ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি আব্দুল খালেক (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার  বিকেলে রূপগঞ্জের ইসলামবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে খালেক। এসময় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আ. খালেক রূপগঞ্জ থানার ইসলামবাগ এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার বেপারীর ছেলে।

জেলা পুলিশের উপ—পুলিশ পরিদর্শক (ইনচার্জ, আইসিটি এন্ড মিডিয়া) হাফিজুর রহমান জানান, আসামি আ. খালেকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও ধর্ষণ এবং মাদকের একাধিক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে। ঘটনাস্থলের পাশেই তার শশুর বাড়ি। শশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে সে এ শিশু ধর্ষণের মত জঘণ্য অপরাধ করেছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত বছর ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয় শ্রেণীর বাৎসরিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ভুক্তভোগী ওই শিশু বেড়াতে এসেছিল মামার বাড়িতে । সন্ধ্যায় মামির অনুরোধে পাশের দোকান থেকে শুকনা মরিচ কিনতে সমবয়সী মামাত বোনের সাথে গিয়েছিল সে । ওই সময় সেখানে দেখা হয় এক অপরিচিত মধ্যবয়সী আব্দুল খালেকের সাথে। সে জিগ্যেস করে জনৈক ব্যাক্তির বাড়ি চিনে কিনা। সাথে থাকা মামাত বোন চিনে বলে জানালে তাদের দু’জনকে বলে বাড়িটি দেখিয়ে দিতে। তারা খালেককে সাথে নিয়ে ওই বাড়ির সামনে যায়। সেখানে গিয়ে ওই ব্যাক্তি নতুন কৌশলে মামাত বোনকে বলে তুমি আগে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখো পূর্ব পাশের ফ্লাটের দরজা খোলা আছে কিনা। সরল সহজ শিশুটি চলে যায় দ্বিতীয় তলায়। এ সুযোগে সে ভুক্তভোগী শিশুর মুখ চেপে জোর করে পাশের বাড়ির বসত ঘরের পিছনে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেলে চলে যায়। এসময় শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকে সেখানে। অপরদিকে মামাত বোন এসে কার বোনকে এবং অপরিচিত সেই ব্যক্তিকে দেখতে না পেয়ে দৌঁড়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের জানায়। এরপর খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায় অনেকটা জ্ঞানহীন অবস্থায়। দ্রুত নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সিসিইউতে। তিন মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ, আইসিইউ এবং কেবিনে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কেটেছে সময়। চার ব্যাগ রক্ত লেগেছিল রক্ত শুণ্যতা কাটাতে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় থানায় মামলা হয় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে। কিন্তু অনেক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েও ঘটনার রহস্য এবং আসামি সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষে মামলা চলে আসে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের কাছে। ডিবির চৌকস অফিসার এসআই মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান তদন্তভার গ্রহণ করে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সনাক্ত করেন মূল আসামিকে। ছদ্দবেশে দিন মজুরের বেশে কৌশল অবলম্বন করে ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আসামি  আব্দুল খালেককে তার নিজ গ্রামের বাড়ি রূপগঞ্জের ইসলামবাগ এলাকার একটি মাঠ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে উঠালে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধরায় জবানবন্দি দিয়েছে খালেক। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


আরও খবর



নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হলে তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিব.. ববি হাজ্জাজ

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

দেশে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হলে তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে আগামি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম। শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনে একটি রেস্টুরেন্টে ত্রি-বার্ষিক জেলা সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে দেশ চলতে পারে না। তাই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এনডিএম আগামি ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। সেই লক্ষ্যে সারা দেশে জেলা কমিটি গঠন করে দলের সাংগঠনিক অবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। 

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না দাবি করে ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকতে হবে। ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহণের ব্যাপারেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারের সমালোচন করে ববি বলেন, এই সরকার সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। তাই অচিরেই নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজপথে সন্ত্রাসবিরোধি আন্দোলন শুরু করবে এনিিডএম। 

ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে মিঠু আলীকে সভাপতি ও আনিসুর রহমান জহিরকে সাধারণ সম্পাদক করে একুশ সদস্যবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




শুভ জন্মদিন জনকের যোগ্য উত্তরসূরী

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, গবেষক :

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বলেছিলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। কথা তিনি রেখেছেন দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য তার দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে। রাষ্ট্রনায়ক থেকে নিজেকে নিয়ে গেছেন বিশ্বনেতার কাতারে। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মগ্রহণের দিন। শুভ জন্মদিন শেখ হাসিনা।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী-বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। এবছর তাঁর ৭৬তম জন্মদিন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর সাধারণ আলোচনায় অন্যান্য বছরের মতো বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন একটি রোল মডেল। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিশ্বনেতাদের। মিয়ানমারে জাতিগত নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই মহামারীর ধাক্কার পরও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এশিয়ার প্রায় সব দেশের ওপরে। সঠিক নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ, মানুষের জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা, অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রণোদনা ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষকে করেছেন ক্ষুধামুক্ত।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। বিশেষত শিক্ষা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম।

গত ১৩ বছর ধরে শেখ হাসিনার বিশ্বাসযোগ্য ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যতিক্রমীভাবে দুর্দান্ত সফলতা অর্জন করেছে। ফলস্বরূপ, বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে তাঁর নিরন্তর পরিশ্রম যেমন সারা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে অনেক আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৪০টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরষ্কার পেয়েছেন। বিভিন্ন সূচকে দেশের অগ্রগতির কারণে এ সম্মান অর্জন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রথমবার ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী এবং বাঙালীর দুই দশকের বেশি সময়ের যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবদান স্বরূপ ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো হোফোয়েট বোইগনি শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত করেন তাকে।

১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মান সূচক ডক্টর অব লজ উপাধি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই জাপানের বিখ্যাত ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর গ্রেট ব্রিটেনের ডান্ডি অ্যাবার্তে বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমার্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিবারেল আর্টস ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি শান্তি, গণতন্ত্র ও উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে নেতাজী মেমোরিয়াল পদক ১৯৯৭ প্রদান করে।

১৯৯৭ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের রোটারি ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে পল হ্যারিস ফেলো নির্বাচিত করে এবং ১৯৯৬-৯৭ সালের সম্মাননা মেডেল প্রদান করে।

একই বছর লায়ন্স ক্লাবসমূহের আন্তর্জাতিক অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রপ্রধান পদক-এ ভূষিত হন শেখ হাসিনা।

পাবর্ত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইউনেস্কো শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালের ফেলিক্স হুফে বইনি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেন।

১৯৯৮ সালের ১২ এপ্রিল শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে মাদার তেরেসা পদক প্রদান করে নিখিল ভারত শান্তি পরিষদ।

নরওয়ের রাজধানী অসলোয় অবস্থিত মহাত্মা গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালের এম কে গান্ধী পদক প্রদান করে। ১৯৯৯ সালে ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ঋঅঙ) কর্তৃক সেরেস পদক লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অসাধারণ অবদানের জন্য ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ উপাধি প্রদান করা হয়। ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে (Doctor Honor is Cauca) প্রদান করে।

২০০০ সালে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য ম্যাকন ওমেনস কলেজ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পার্ল এস বাক পদক লাভ করেন তিনি।

২০০০ সালে আফ্রো-এসিয়ান ল ইয়ার্স ফেডারেশন প্রদত্ত পারসন অফ দ্যা ইয়ার নির্বাচিত হন তিনি।

২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

২০০৫ সালের জুন মাসে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির স্বপক্ষে অবদান রাখার জন্য শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে পিপলস ফ্রেন্ডসশিপ ইউনির্ভাসিটি অব রাশিয়া।

২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্বখ্যাত ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক ২০০৯-এ ভূষিত হন শেখ হাসিনা।

২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নে অসমান্য অবদানের জন্য St. Peters burg বিশ্ববিদ্যালয় Honorary Doctorate প্রদান করে।

শিশুমৃত্যু হ্রাস সংক্রান্ত এমডিজি-৪ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ কর্তৃক এমডিজি অ্যাওয়ার্ড-২০১০ পুরস্কার লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১১ সালে প্যারিসের ডাউফিন ইউনিভার্সিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক ও ডিপ্লোমা পুরস্কার প্রদান করে।

আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন, সাউথ-সাউথ নিউজ ও জাতিসংঘের আফ্রিকা সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কমিশন কর্তৃক যৌথভাবে প্রদত্ত South-South Awards 2011 : Digital Development for Digital Health শীর্ষক পদক লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের হাউস অব কমনসের স্পিকার John Be cow, MP

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার অনবদ্য অবদানের জন্য Global Diversity Award প্রদান করেন।

২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।

২০১২ সালের ১২ জানুয়ানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে ত্রিপুরা সেন্ট্রাল ইউনির্ভাসিটি। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্বের দূরদৃষ্টি এবং শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

৬ ডিসেম্বর, ২০১২ সালে, তাঞ্জানিয়ায় অনুষ্ঠিত GAVI alliance Partners Forum এ বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। টীকাদান কর্মসূচীতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অন্য ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

৮ই জুন, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল এর তরফ থেকে রোটারী শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

১৩ই জুন, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহনের জন্য আমন্ত্রণ জানান জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল হোসে গ্রাজিয়ানো দা সিলভা।

২০১৩ সালের ১৬ জুন জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা দারিদ্র্যতা, অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় বাংলাদেশকে ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড পদকে ভূষিত করে।

২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ পুরস্কার লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার স্বপ্ন-প্রসূত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত তথ্যপ্রযুক্তি মেলায় সাউথ এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক ম্যানহাটন অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ পদকে ভূষিত হয়।

নারী শিক্ষায় অনবদ্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে শান্তি বৃক্ষ স্মারক তুলে দেয়। ৮ই সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা তাঁর হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেন।

২০১৪ সালের ২১শে নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরষ্কারে ভুষিত করা হয়।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ তারিখে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্ল্যানেট ৫০-৫০ পুরস্কারে ভূষিত করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউএন ওম্যান

গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এজেন্ট অফ চেঞ্জ পুরস্কারে ভূষিত করে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য ও সাহসী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, মূল্যবোধ, কৃষি, অর্থনীতি, রেমিট্যান্স, বিদ্যুৎ, বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশবাসীকে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। শুধু আর্থিক বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়েছে, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন রকমের সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের স্বীকৃতি মিলেছে। বাংলাদেশের সফলতা ও নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন ও নানাবিধ সম্মানে ভূষিত হয়ে বাংলাদেশের নাম বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল করেছেন। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। বিশ্ব গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা এখন বহুল আলোচিত ও প্রশংসিত নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনা ছাড়া এমন গুণাবলিসম্পন্ন আর কোনো নেতা বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। এ কারণে তাঁর সাথে অন্য কোনো নেতার তুলনা চলে না, শেখ হাসিনা নিজেই নিজের তুলনা।

 


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




মুক্ত চিন্তার নাগরিক ঐক্য পরিষদের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে মুক্ত চিন্তার নাগরিক ঐক্য পরিষদের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।  সারাদেশের ছিন্নমূল ও ঝরে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে এই অসাম্প্রদায়িক, অরাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে।  লালমনিরহাট জেলার পরিচ্ছন্ন সাংবাদিক, সংস্কৃতিজন ও ৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি উত্তম রায়ের প্রস্তাবে উপস্থিত সকলের  সম্মতি ক্রমে  লালমনিরহাট পৌরসভার কার্জীটারি মিলন কফি হাউজে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া দশটায় ১৭ সদস্যের আহবায়ক কমিটি করে আত্মপ্রকাশ করেছে।  এসময় উত্তম রায়ের সভাপতিত্বে সবার সম্মতি ক্রমে মোঃ রুহুল আমিন মুন্সিকে আহবায়ক,সুজিত চন্দ্র সরকারকে যুগ্ম আহবায়ক ও মোঃ রুহুল আমিন মুন্সিকে আহবায়ক, সুজিত চন্দ্র সরকারকে যুগ্ম আহবায়ক ও রশিদুল ইসলাম রিপনকে  সদস্য সচিব করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট মুক্ত চিন্তার নাগরিক ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়েছে । এই সংগঠনটি সম্পূর্ণরুপে অরাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন,মোঃ শামীম হোসেন,নিপেন কার্জী ( অবঃ পুলিশ সদস্য), আব্দুল হাই, হরেকৃষ্ণ মোহন্ত, মিলন রায়,সুমন চন্দ্র,জয়ন্ত,রবিউল ইসলাম,মিলন মোহন্ত, হরিচন্দ্র চন্দ্র ও আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ।


আরও খবর



নারায়ণগঞ্জে কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিখোঁজের চারদিন পর একটি ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা অটোরিক্সা চালক কায়েস আহমেদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুপুরে উপজেলার নরপদি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত কায়েস নবীগঞ্জ এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে। বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক শিহাব আহমেদ জানান, ২৮ অক্টোবর অটোরিক্সা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ থাকে কায়েস। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোজাখুঁজি করে না পেয়ে দুইদিন আগে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করে। আজ স্থানীয়রা ডোবায় মরদেহ দেখে পুলিশকে খবরদেয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত  ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সন্ধ্যায় পাঠানটুলী এলাকার স্পাইডার ফেব নামে একটি ডাইং কারখানার সাব স্টেশনের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, নিহত যুবক তাদের প্রতিষ্ঠানের কেউ নয়। দুই সপ্তাহ পর পর সাব স্টেশনটি মেইন্টেনেন্টের কাজ করা হয়। সন্ধ্যায় দরজা খুললে ভেতরে লাশটি দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের করা হচ্ছে। নিহতের নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। 


আরও খবর



বহুল পরিচিত পাঁচ তরিকার : (কাদেরিয়া তরিকা )

প্রকাশিত:রবিবার ০২ অক্টোবর 2০২2 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, ও গবেষক :

কুতুবে রব্বানী গাউসে সামদানী বড়পীর হযরত সৈয়্যেদ মহিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল কাদির জিলানী রহ. এই তরিকার প্রবর্তক। হযরত বড় পীর রহ.-এর নামানুসারে তাঁহার উদ্ভাবিত ও প্রচারিত তরিকার নাম কাদেরিয়া তরিকা। রাসূলুল্লাহ সা. হইতে শুরু করিয়া তরিকাতে খেলাফত প্রাপ্ত চতুর্দশ পুরুষ হইলেন গাউসুল আজম হযরত বড়পীর আবদুল কাদির জিলানী রহ.।

কালেমা তাইয়্যেবা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহযথা: লাম, আলিফ, আলিফ, লাম, হা, আলিফ, লাম, আলিফ, আলিফ, লাম, লাম, হা নোক্তা বিহীন এই বারোটি বর্ণের তালিম কাদেরিয়া তরিকার খাস তালিম। এই নোক্তা বিহীন বারোটি হরফের মধ্যে দুনিয়ার সমস্ত রহস্য লুকায়িত রহিয়াছে। এই বারোটি হরফই বিশ্ব জগতের মূল কারণ ও উৎস। তৌহিদের প্রকৃত রূপও এই কালেমা। নোক্তা শূন্য বর্ণ দিয়ে কেন কালেমার সৃষ্টি, তাহা গভীর রহস্যে নিমজ্জিত। এই কালেমাকে জানিলে, চিনিলে ও সঠিক ভাবে গবেষণা করিয়া পড়িলে তাহার নিকট সকল রহস্যের দ্বার উন্মোচিত হইয়া যায়। এই কালেমা বিশ্ব মহীরুহের মূল ও নূরে মুহাম্মদীর মূল উৎস। এই তালিম না পাওয়া পর্য্যন্ত কেহ কাদেরিয়া তরিকার সূফী-সাধক ও পীর হওয়ার যোগ্য হন না। যিনি এই কালেমার রহস্য জানেন - তিনি আরেফ বিল্লাহ ও অলিয়ে কামেল - এর মর্যাদায় আসীন হন। এই রূপ জ্ঞানী সম্পর্কেই বলা হইয়াছে:

مَن قَالَ لا الَهَ الا اللهُ مُخلِصاً دَخَلَ الجَنَّةَ

উচ্চারণ: মান কলা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিছান দাখালাল জান্নাতা।

অর্থ: যে তাহকিক (গবেষণা) করিয়া জীবনে একটি বারের জন্যও কালেমা পাঠ করিয়াছে, তাহার জন্য দোজখের আগুন হারাম।

এই কালেমা শরীফ প্রথমত: দুই ভাগে বিভক্ত। এর এক ভাগ ফানা ও এক ভাগ বাকা। ফানাকে নুজুল (অবরোহ) ও বাকাকে উরুজ (আরোহ)ও বলা হয়। কি ভাবে এই কালেমার শিক্ষা গ্রহণ করিতে হইবে, কালেমা সাবেত করিতে হইবে - তাহা সূফী-সাধক ও পীর-মোর্শেদগণ ব্যতীত সাধারণ শুষ্ক আলেমগণ (আরবী ভাষায় বিদ্বান) বলিতে পারেন না।

হযরত নবী করিম সা. এই কালেমার বিশেষ তালিম হযরত আলী রা.কে প্রদান করিয়াছিলেন। তিনি এই তালিম তাঁহার খলিফা হযরত হাসান বসরী রহ.-কে দান করেন। তাঁহার নিকট হইতে গাউসুল আজম হযরত আবদুল কাদির জিলানী রহ.- এর নিকট আসে। এই কালেমার রহস্য তাঁহার নিকট আসিবার পূর্ব পর্য্যন্ত ইহার তালিম সিনা-ব-সিনা আসিত। কিন্তু তিনি এই তালিমকে সু-বিন্যস্ত করিয়া লিখিত আকারে গুপ্ত ভাবে বিশেষ মুরিদানকে দান করেন। এতদ ব্যতীত এই তরিকার অন্যান্য পদ্ধতিও তিনি সু-সংবদ্ধ করেন।

তরিকার নিয়মানুসারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে অজিফা পাঠ, বিশেষ দরূদ শরীফ, নফী-এসবাতের জিকির ও মোশাহাদা করিতে হয়। মুরিদের মনের অবস্থা ও পরিবেশ বা পারিপার্শ্বিকতা ভঙ্গ করিয়া জিক্রে জলী বা জিক্রে খফী উভয় প্রকার জিকির করিবার নিয়ম এই তরিকায় রহিয়াছে। কাদেরিয়া তরিকা ভুক্ত অনেক উপ-তরিকা রহিয়াছে। তন্মধ্যে প্রধান ও আদি নয়টি উপ-তরিকা রহিয়াছে, যথা: হাবিবিয়া, তারফুরিয়া, কারখিয়া, সকতিয়া, জুনায়দিয়া, গাজর দিদিনিয়া, তুরতুসিয়া, কারতুসিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া। এই তরিকা ভুক্ত জুনায়েদিয়া উপ-তরিকা মতে সামারও প্রচলন রহিয়াছে।

আওলাদে রাসূল সা. হযরত বাবা ফতেহ আলী ওয়াইসী পাক রহ.-এর প্রিয়তম মুরিদ-খলিফা হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ আহমদ আলী ওরফে জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী রহ. কাদেরিয়া তরিকা সম্পর্কে স্ব-রচিত র্সিরেহক্ক জামেনূরকিতাবে একটি ভিন্ন অধ্যায় রচনা করিয়াছেন। নিম্নে উহার অংশ বিশেষ তুলিয়া ধরা হইল:

কাদেরিয়া তরিকার সাধনা কোন লতিফার সহিত সম্পৃক্ত নহে। বরং খোদা প্রেমিকের যেই স্থানে আল্লাহ শব্দের প্রভাব পড়িবে, সেখানেই জিকির জারী হয়। সেইখান হইতে তাহা সমস্ত শরীরে শিহরিত হয়। অতঃপর সেখানে বিশেষ অবস্থা ও নূর সমূহ বিচ্ছুরিত হইবার পর তাজাল্লী বা আলোক প্রভার বিকিরণ এবং ঊর্ধ্ব জগতের ভ্রমণ সংঘটিত হয়। ফলে এমন আবেগের উত্থান এবং অবস্থার পর্য্যায়ক্রমিক উন্নতি সাধিত হয়, যাহা বলা বা লেখা যায় না।
মোর্শেদের তাওয়াজ্জুহ্ ব্যতীত সালেকের এই পথে সফল হওয়া খুবই কঠিন। যখনই এই সকল বিশেষ অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়, তখনই মোর্শেদ তাহাকে নিজের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা বলে উন্নততর মনজিলে পৌঁছার পথ নির্দেশ করেন। প্রকৃত মকসুদে পৌছাইবার পথ বাতলাইয়া দেন। সালেক চলার পথে যখনই ধীরে ধীরে নূরানী জগতে অগ্রসর হয় এবং বিশাল বিশাল ভয়ানক সমুদ্র অতিক্রম করিবার পর জাতী তথা মূল নূরের প্রভাবে ফানার মাকামের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তখনই মূল সত্তার দরিয়ায় ডুবিয়া যায়। সমুদ্রের মতো যাহার কিনারায় মূলের মূল, শাখার শাখা বিভিন্ন পর্য্যায়ে ওয়াহ্দাতুল ওজুদ বা অস্তিত্বের একত্বের অলি-গলিতে ঘুরিতে থাকে। ইহারই মধ্যে শাহে লা-তায়াইউন বা অসীম অমূর্ত বা নির্বস্তুক জগতের আবির্ভাব ঘটে, যাহার কূল-কিনারা নাই।


( চলবে...)


আরও খবর

তরিকা সমূহের বর্ণনা, তরিকা কি ?

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২

সুফিবাদ ও ইসলাম

রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২