Logo
শিরোনাম

আল্লামা শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বিপন্ন মানবতার পাশে সৈয়দ মইনুদ্দিন

১৯৮৮, ১৯৯৮ ইং সালের শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা কবলিত বিপন্ন মানুষের পাশে ত্রাণ-সামগ্রী নিয়ে হাজির হন আওলাদে রাসূল (দঃ) মুর্শেদ কেবলা। ১৯৯১ ইং সালের ভয়াবহ জলোচ্ছাসে ক্ষতিগ্রস্থ পতেঙ্গা এলাকার দুঃখী মানুষের পাশে গিয়ে দাড়ান হুজুর কেবলা। ২০০৭ ইং সালের বন্যা এবং শতাব্দীর ভয়াবহ সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে ত্রান-সামগ্রী নিয়ে দাড়ান আমাদের নিবেদিত প্রাণ আশেকান তাঁরই নির্দেশক্রমে। তিনি এতিম-অনাথ দুঃখী মানুষের বন্ধু ও কান্ডারী। বিশ্ব মানবতার সেবাই যার জীবনের ব্রত।

তরীকতের সিপাহ্সালার ও দিক্ নির্দেশক

তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার দিক-নির্দেশক হিসাবে সারা বাংলার আনাচে-কানাচে খিদমত আন্জাম দিয়েছেন। এ তরীকাকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার মূল সুর আল্লাহ ও রাসূল (দঃ) এবং মানবতার প্রেম। সাম্য-মৈত্রী সৃষ্টি। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা। তাই তিনি বাংলাদেশে আট সহস্রাধিক খানকা শরীফ কায়েম করেন। এমনিভাবে বর্হিবিশ্বে ও এ তরীকার খিদমত অব্যাহত রেখেছেন। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আবুধাবী, ওমানসহ সমগ্র বিশ্বে খানকা শরীফ, মসজিদ ও ইসলামী রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। যুগের সকল তরীকতের প্রতিনিধিগণের সাথে তাঁর রয়েছে রূহানী নিবিড় সম্পর্ক। তিনি পীরানে পীর। সোলতানুল আউলিয়া। সমগ্র বিশ্বে তাঁর লাখো-কোটি ভক্ত অনুরক্ত রয়েছে। রয়েছে হাজারো খলিফা ও প্রতিনিধি। তরীকায়ে মাইজভান্ডারীয়ার চর্চা ও তালিম সমগ্র বিশ্বে সম্প্রসারিত করেন আওলাদে রাসূল (দঃ) শাহ্সূফী সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ)।

শতাব্দীর সংস্কারক মুর্শেদ কেবলা

প্রিয় নবীজি (দঃ) ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা প্রতি শতাব্দীর মাথায় এমন ব্যাক্তিকে দুনিয়াতে প্রেরণ করবেন, যিনি দ্বীন ইসলামের সংস্কারের খিদমত আন্জাম দেবেন”। মহানবী (দঃ) এর পবিত্র বানীর আলোকে মুর্শেদ কেবলা ইসলামের সংস্কারক হিসাবে খিদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বব্যাপী নিরলসভাবে। একদিকে তরীকত পন্থীদের মাঝে সংস্কারের মাধ্যমে তরীকতের ছহীহ খিদমত আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। সকল অনাচারের বিরুদ্ধে তাঁর জিহাদ অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে প্রেম-ভালবাসা দিয়ে অমুসলমানদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করছেন। “ইসলাম উদারতায়’ তলোয়াওে নয়”, যার বাস্তব প্রতিচ্ছবি মুর্শেদ কেবলা সৈয়দ মুইনুদ্দিন আহমদ আল্-হাসানী ওয়াল্ হোসাইনী (মাঃজিঃআঃ)।

ইলমে দ্বীনের খিদমত

জ্ঞান পিপাসু মাহজ্ঞানী সৈয়দ মইনুদ্দিন। তিনি তাঁর আশেকান ও তাদের সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য সর্বদা উৎসাহিত করে যাচ্ছেন। জ্ঞানী ও শিক্ষাবিদকে তিনি অত্যন্ত ভালবাসেন। পড়াশুনার প্রতি অত্যাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি মানুষ গড়ার এক নিপুন কারিগর। তিনি সাচ্চা হাফেজ তৈরীর লক্ষ্যে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে মাইজভান্ডার রহমানিয়া মইনীয়া হেফজখানা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স (৫ তলা বিশিষ্ট ভবন) প্রতিষ্ঠা করেন। এতিমখানার ছাত্রদের ভরন-পোষন-চিকিৎসা এমনকি জামা-কাপড় পর্যন্ত ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যয় ভার বহন করে থাকেন। সুন্নী যোগ্য আলেম তৈরীর মানসে নিুোক্ত মাদ্রাসাসমূহ প্রতিষ্ঠা করেনঃ
v শরীফপুর রহমানিয়া মইনীয়া দাখিল মাদ্রাসা, রায়পুরা, নরসিংদী
v শরীফপুর রহমানিয়া মইনীয়া হেফজখানা ও এতিমখানা, রায়পুরা, নরসিংদী
v ডিমডুল রহমানিয়া মইনীয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, বরুড়া, কুমিল্লা
অসংখ্য সুন্নী কামিল-ফাজিল-আলিম মাদ্রাসায় বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। ওলামায়ে আহলে সুন্নাতের পৃষ্ঠপোষকাত করছেন আর্থিক ভাবে নীরবে অকাতরে।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষার্থী ও গবেষণারত অনেকের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে। এতিম-দুঃখী ও বিপন্ন মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু সৈয়দ মইনুদ্দিন। বহুজনকে কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করেন তিনি।


আরও খবর

সূফিবাদের প্রয়োজনীয়তা

বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২

সুফিবাদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২




সোনারগাঁয়ে ১৫টি পশুর হাটের ইজারা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

প্রতিনিধি, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় কোরবানীর ঈদ উপক্ষে ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়। 

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের যেসব স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অলিপুরা বাজার কবরস্থান সংলগ্ন অস্থায়ী গরু, আলমদী কালভার্ট সংলগ্ন হারুনের মাঠ অস্থায়ী গরু, রিলায়েন্স হাউজিং  মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, বস্তল অ্যাম্পায়ার ষ্টীল মিল সংলগ্ন মাঠ অস্থায়ী গরুর, হাট শিলাব বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, তালতলা বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, বন্ধীর বাজারের দক্ষিন পার্শ্বে চরনোয়াগাঁও বালুর মাঠে অস্থায়ী গরু, বৈদ্যেরবাজার বালুর মাঠ সংলগ্ন অস্থায়ী, মেঘনা শিল্পনগরী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, মঙ্গলেরগাঁও গিয়াস উদ্দিন সাহেবের বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, খুলিয়াপাড়া মিলন মিয়ার বালুর মাঠ অস্থায়ী গরুর হাট, হোসেনপুর করবস্থান সংলগ্ন বিল্লাল বেপারীর বাড়ীর পার্শ্বেঅস্থায়ী গরু ছাগলের হাট, চর কিশোরগঞ্জ বালুর মাঠ প্রাঙ্গনে অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট, বারদী ইউনিয়নের ফুলদী বাগেরপাড়া বিলকী বাড়ী আমিন মেম্বারের বালুর মাঠ অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট, নয়াপুর বাজারের পিছনে আম বাগানে অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট।

এই ১৫টি অস্থায়ী হাটের বাইরে সোনারগাঁ পৌরসভার একটি পশুর হাট বসবে। এ হাটের অনুমোদন দেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ছাড়াও উপজেলার আনন্দবাজার ও কাইকারটেকে দুটি বৃহত্তর স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ এলাহী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং এলাকাবাসী যাতে নির্বিঘ্নে কাছাকাছি স্থান থেকে পশু কিনতে পারে সে জন্যই এত বেশি সংখ্যক হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



টানা ১৯ দিন বন্ধ থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

গ্রীষ্মকালীন ছুটি এবং ঈদুল আজহা ও আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে ২৮ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৯ দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

নির্দেশনা বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ খ্রিস্টাব্দের ছুটির তালিকায় গ্রীষ্মকালীন ছুটি ১৬-২৩ মে নির্ধারিত ছিল। শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি প্রদানের সুবিধার্থে পূর্বে নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ছুটি ১৬-২৩ মের পরিবর্তে ২৮ জুন থেকে ৫ জুলাই সমন্বয়পূর্বক নির্ধারণ করা হলো।

এমতাবস্থায় আগামী ২৮ জুন থেকে ৫ জুলাই গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঈদুল আজহা এবং আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ে সরাসরি পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।


আরও খবর



দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  দেশে অব্যাহত অভিযানে নিবন্ধন না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার  হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনোস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সারাদেশে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনা এবং চিকিৎসার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এই অভিযানে ছোট-বড় সব ধরনের হাসপাতালেই নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিযানের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান হতে পারে - এমন খবরে সেখানে সদ্যজাত সন্তানসহ এক নারীকে অপারেশেন টেবিলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান ক্লিনিকটির ডাক্তার-নার্সসহ সবাই।
ঘটনাটি ঘটে রোববার ২৯ মে এবং এ ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানে নিবন্ধন এবং এমনকি সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
ক্লিনিকটিতে ওই ঘটনার শিকার নারীকে সদ্যজাত সন্তানসহ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাছেই একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার স্বামী তানভীর হাসান বলেন, ওই ক্লিনিকটির দালারের খপ্পরে পড়ে তারা সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন।
তিনি জানান, আমি অন্য জায়গায় ছিলাম। আমার শাশুড়ি আমার স্ত্রীকে এই ক্লিনিকে নিয়ে আসে। এক মহিলা দালাল আমার শাশুড়িকে ভুল বুঝিয়ে এখানে নিয়ে আসে। তারপর ক্লিনিকে নিয়ে বলেছে যে, ১৮ হাজার টাকা লাগবে। আমরা ১২ হাজার টাকা দিলে দুই মিনিটের মধ্যে সিজার করার জন্য ভেতরে নিয়ে গেল।
তানভীর হাসান আরো জানান, তার স্ত্রীকে যখন অপারেশন টেবিলে নেয়া হয়, তখন সেখানে সাংবাদিক এবং অভিযানের লোকজন আসছে বলে খবর আসে।
সে সময় মুহূর্তেই সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকে হাসানের হাতে দিয়ে এবং তার স্ত্রীকে অপারেশন কক্ষের ভেতরে রেখেই সেই কক্ষে তালা লাগিয়ে ক্লিনিকের ডাক্তার-নার্সসহ সবাই পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানের লোকজন এসে তালা ভেঙে তার স্ত্রীকে পাশে একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, ওই ক্লিনিকে অভিযানের পর থেকে স্থানীয় বেশির ভাগই ক্লিনিকই বন্ধ রয়েছে।
নাগরিকের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী এবং বারডেম হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডা: রশিদ-ই মাহবুব বলেছেন, সারাদেশেই সরকারি চিকিৎসা সেবায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কোনো নিয়ম না মেনে শত শত হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে।
সেজন্য চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা চরম এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা যেহেতু পর্যাপ্ত নয়, সুতরাং চাহিদা আছে। এখন এই চাহিদার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলো গড়ে উঠছে।
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রথম শর্তই হচ্ছে এর নিবন্ধন করতে হবে।
কিন্তু নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ডা: রশিদ-ই মাহবুবের।
এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কিন্তু প্রয়োজনের ভিত্তিতে নয়। যে যেভাবে পারে নিবন্ধনটা করিয়ে নিয়ে তা চালিয়ে দেয়।
ডা: মাহবুব আরো বলেন, জনগণ স্বাভাবিকভাবে তাদের চিকিৎসাসেবা পায় না বলে দালালচক্রের মাধ্যমে এসব স্থানে যায়।
ব্যক্তি মালিকানায় বা বেসরকারিভাবে পরিচালিত হাসপাতাল-ক্লিনিক বা ডায়গনোস্টিক সেন্টারগুলোতে সেবার মানসিকতার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে মূলত ব্যবসায়িক চিন্তা - বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু যখন যেটাতে লাভ সেটা ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠতে থাকে। সেটা হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে পারে। সেখানে মান দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের যে পরিমাণ জনবল দরকার, তার ঘাটতি আছে, এছাড়া মানুষেরও সচেতনতার অভাব আছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সব পর্যায়েই ব্যয় অনেক বেশি এবং আইসিইউতে কোনো রোগীকে যেতে হলে গুণতে হয় অনেক বেশি টাকা।
সেখানে অনেক সময় পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত লাশ বের করতে দেয়া হয় না, এমনকি রোগী সুস্থ হওয়ার পরেও আইসিইউ থেকে ছাড়া পায় না - এ ধরনের নানা অভিযোগ বিভিন্ন সময় ওঠে।
ঢাকায় বেসরকারি বড় এক হাসপাতালে এমনই এক পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন প্রায় ৭০ বছরের একজন নারী, যে অভিজ্ঞতার কথা জানান তার একজন আত্মীয় পরিচয় গোপন রাখার শর্তে।
তিনি বলেন, আমাদের রোগী আইসিইউতে ১২ দিন থাকার সময় মাঝে আমি পেমেন্টও করেছি। পরে আমরা রোগীকে যেদিন কেবিনে নিয়ে শিফট করতে গিয়েছিলাম, সেদিন আমরা পেমেন্টটা করিনি। কিন্তু হাসপাতাল ওই মুহূর্তে আমাদের বলতেছে যে, আইসিইউতে থাকার পুরো পেমেন্ট না করলে কেবিনে নেয়া যাবে না। আমরা বললাম, আমরা তো এই হাসপাতালেই থাকছি। আমাদের আইসিইউ-এর অল্প কিছু পেমেন্ট বাকি আছে। কিন্তু তারা তা মানেনি। যখন টাকা পুরো ক্লিয়ার করেছি, তারপর রোগীকে কেবিনে নিতে দিয়েছে।
চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের পাল্লা অনেক ভারী। চরম অব্যবস্থাপনা, মূলত ব্যবসায়িক চিন্তায় হাসপাতাল-ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা - এসব অভিযোগ স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িতদেরই অনেকে তুলেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক কর্মকর্তা অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যাপারে সরকারের নতুন কোনো উদ্যোগ নেই। সে কারণে স্বাস্থ্যখাত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দখলে চলে গেছে।
সরকারি খাতটাকে এখন আর উন্নত করার চেষ্টাই করা হচ্ছে না। বড় বড় হাসপাতাল হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সিস্টেম অনুযায়ী উন্নত করা হচ্ছে না।
অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, সে কারণে প্রাইভেট খাতের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে মানুষ।
তিনি উল্লেখ করেন, জমিজমা বিক্রি করে হলেও মানুষ প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে।
অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, সরকারি হাসপাতালে যারা যান, তাদেরকে সেবা পেতে অনেক রকম বাধা পার হতে হয়। যেমন দালালদের ব্যাপার আছে। তারপর টেস্ট বা ইনভেস্টিগেশন বাইরে থেকে করতে হচ্ছে - ইত্যাদি, এমন অনেক ব্যাপার আছে। সুতরাং বেসরকারি খাতকে ইগনোর করতে পারবেন না। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি দুটো খাতেই অনিয়মের চূড়ান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ক্লিনিকের সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, যদিও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল আহসান জানিয়েছেন, ১৪ হাজারের মতো তাদের সমিতির তালিকাভুক্ত রয়েছে।
ডা: মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা এই বিশাল সংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা যথাযথ নজরদারি কাঠামোই তৈরি হয়নি।
ডা: মাহবুব বলেন, উন্নত বিশ্বে তাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে। কিন্তু আমাদের রেগুলেটরি কোনো মেকানিজম নেই এবং আর্থিক সঙ্গতিও নেই। ফলে সবকিছু মিলিয়ে এই জায়গাটা এখন যার-যার তার-তার।
তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে আলাদা কোনো রেগুলেটরি মেকানিজম নেই, অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর বিষয়গুলো তদারকি করলেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালানো এবং নজরদারির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই।
সে কারণে তিনি মনে করেন, সার্বিকভাবে বিষয়গুলোর দিকে নজর না দিয়ে শুধু অভিযান চালিয়ে ভাল ফল পাওয়া যাবে না।
সপ্তাহ খানেক ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক ডায়গনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় অভিযানে বন্ধ করে দেয়া অনেক হাসপাতাল ক্লিনিক পরে আবার চালু হয়েছে এবং আবার একই অনিয়ম করে চলেছে।
অনিয়ম বন্ধে কয়েক ধাপের পরিকল্পনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবির বলেছেন, এবার তারা কয়েক ধাপে অভিযানের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
এই পরিকল্পনায় তারা বেসরকারি ও সরকারি - দুই খাতেরই হাসপাতালে অনিয়ম চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।



আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




শ্রীনগরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

শ্রীনগর সংবাদদাতাঃ

মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইরাস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা  আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেহানা বেগকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও হাত পা ভেঙ্গে দিবে বলে লাঞ্চিত করার অভিযোগে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ‘শ্রীনগর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ’-এর ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা পরিষদ সড়ক  থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে শেষ হয়। 

মানবন্ধনে নারো নেত্রীরা বলেন,  শ্রীনগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ এর মতবিনিময় সভার নামে পকেট কমিটি করার প্রতিবাদ করি। এসময় আমাদের নেত্রী 

শ্রীনগর উপজেলা মহিলা  আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেহানা বেগম আমাদের সাথে পকেট কমিটির প্রতিবাদ জানায়। সেই প্রতিবাদ কে কেন্দ্র করে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী তোফাজ্জল হোসেন প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি, হাত পা ভেঙ্গে দিবে ও লাঞ্চিত করায় আমরা নিন্দা ও ঘৃনা জনাচ্ছি। 

মানববন্ধনে মহিলা আওয়ামীলীগের   পক্ষে বক্তব্য রাখেন, বাড়ৈখালী ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফরোজা মোবারক,  কোলাপাড়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্নি বেগম, কুকুটিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  সেলিনা হোসেন, মহিলা নেত্রী আরমিনের ,  শেলিনা বেগম, আফরুজা মোবারক, আছিমন, নুরজাহান প্রমুখ।


আরও খবর



প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর ; এক প্রার্থীসহ দুইজন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের

ফলাফল ঘোষনাকে কেন্দ্র করে এক দুই পরাজিত প্রার্থীর লোকজন প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করে আহত করেছে।  এ ঘটনায় পুলিশ আল মাহাবুব নামে এক ইউপি সদস্য প্রার্থী ও তার সমর্থক রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার  করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৭নং ওয়ার্ডে পাঁচপীর দরগাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করেছেন পরাজিত দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। 

 বুধবার (১৫ জুন) অনুষ্ঠিত উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডের পাঁচপীর দরগাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পুরুষ ও নারী দুটি কেন্দ্রে বিভক্ত করা হয় হয়। ভোটগ্রহন শেষ হলে পুরুষ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার টিটু চন্দ্র দেবনাথ ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন। পরে নারী ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ফখরুল ইসলাম ফল ঘোষণা করে তা নোটিশ বোর্ডে সাটিয়ে দেন। এসময় ভোটে পরাজিত হওয়া ইউপি সদস্য পদে তালা প্রতীকের প্রার্থী আল মাহাবুব ও মোরগ প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহের ফলাফল না মেনে তাদের সমর্থকদের জড়ো করেন এবং  মাহাবুব নোটিশ বোর্ডে সাঁটানো রেজাল্ট শীট ছিঁড়ে ফেলে দেন। প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ভাংচুরসহ  প্রিজাইডিং অফিসার ফখরুল ইসলামকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। 

খবর পেয়ে পুলিশ আহত অবস্থায় প্রিজাইডিং অফিসারকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তালা প্রতীকের প্রার্থী আল মাহাবুব ও তার সমর্থক রবিউল ইসলামকে আটক করে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, পাঁচপীর দরগাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধরের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ রাউন্ড ফাকাঁ গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


আরও খবর