Logo
শিরোনাম

আমির হামজার স্বাধীনতা পদকে মনোনয়ন : তদন্ত করবে সরকার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৮ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৩২৭জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের চলতি বছরের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার - স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য সাহিত্য ক্যাটাগরিতে মনোনীত হওয়া আমির হামজার বিষয়ে তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সরকার বলছে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং যেসব বিষয় নিয়ে অনেকে আপত্তি করছে সেগুলো তদন্ত করা হবে।

জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখবেন। তবে আমির হামজার মনোনয়ন বাতিল বা পর্যালোচনা করা হবে কি-না তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব তিনি দেননি।

এর আগে ২০২০ সালে সাহিত্য ক্যাটাগরিতে স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর মনোনয়ন বাতিল করেছিল সরকার।

সাহিত্যিক আনিসুল হক বলছেন, আমির হামজাকে সাহিত্য ক্যাটাগরিতে পুরস্কার না দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বা পালাগান কিংবা অন্য কোনো অবদান থাকলে যাচাই সাপেক্ষে তার ভিত্তিতে দেয়া যেতো।

‘আমি মনে করি পুরস্কার দেয়ার বর্তমান পদ্ধতিটাই বাতিল করা উচিত। এক-দুইজন আমলা বললো আর একজনকে মনোনয়ন দেয়া হলো-এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুর রহমান, হাসান আজিজুল হকের মতো সাহিত্যিকরা এ পুরস্কার পেয়েছেন। সেই মর্যাদা বিবেচনায় নেয়া উচিত,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

আনিসুল হক বলছেন, আমির হামজার নাম তিনি আগে কখনো শোনেননি। বাংলাদেশের আরো কয়েকজন সুপরিচিত সাহিত্যিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার তালিকায় তার নাম দেখার পর অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন, কারণ আমির হামজার নাম সাহিত্য অঙ্গনে আগে শোনা যায়নি।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মারা যাওয়া এ লেখকের দুটো বই আছে - ‘বাঘের থাবা’ ও ‘পৃথিবীর মানচিত্রে একটি মুজিব তুমি’ শিরোনামে।

কিভাবে এলো আমির হামজার নাম
আমির হামজা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং পালাগান কিংবা গীতিকবি হিসেবে নিজ এলাকায় তার পরিচিতিও আছে।

তার ছেলে একজন সরকারি কর্মকর্তা। মূলত তিনিই আবেদন করেছিলেন তার বাবাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ার জন্য।

আর তাতে স্বাক্ষর করে সুপারিশ করেছিলেন একজন সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা।

পরে মন্ত্রিসভা বিভাগ কর্তৃক গঠিত জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত কমিটি সেটি চূড়ান্ত করে নাম প্রকাশ করেছে।

সে কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, কমিটিতে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সচিব আছেন। সবাই দেখেশুনেই নামগুলো চূড়ান্ত করেছে।

‘এখন আমি পত্রিকায় দেখেছি। তদন্ত করে আগে দেখি,’ বলছিলেন তিনি।

কিন্তু এটি বাতিল বা পর্যালোচনার কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’এখনই এ বিষয়ে বলতে পারছি না, আগে দেখি বিষয়গুলো।’

এর আগে ২০২০ সালেও সাহিত্য ক্যাটাগরিতে যাকে প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।

পরে সমালোচনার মুখে এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদের মনোনয়ন বাতিল করেছিল সরকার।

এবারেও পুরস্কার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা দেখা যায়।

সরকার সমর্থকদের কেউ কেউ অবশ্য মুক্তিযোদ্ধা ও তৃণমূল পর্যায়ে পালাগান রচয়িতা হিসেবে আমির হামজাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

যদিও সরকার সমর্থকদেরই আরেকটি অংশ আমির হামজার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন।

কীভাবে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত হয় নাম
স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য সরকারের নির্ধারিত ছকে নাম প্রস্তাবের সুযোগ আছে। সেখানে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে তার অবদান জানাতে হয়।

সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বা সচিব পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার সুপারিশ নিয়ে চূড়ান্ত কমিটিতে যায়।

এরপর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কমিটি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত করে থাকে।

সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, এ পদ্ধতির পরিবর্তে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে একটি শক্তিশালী বিশেষজ্ঞ কমিটি করা উচিত।

‘সংগীতজ্ঞরা ঠিক করবেন গানের ক্ষেত্রে কে পাবে, সাহিত্যিকরা ঠিক করবেন সাহিত্যে কে পাবে কিংবা প্রকৌশলীরা ঠিক করবেন কোনো প্রকৌশলী পেতে পারেন কি-না। পুরস্কারের জন্য আসা প্রস্তাবগুলো এভাবেই যাচাই-বাছাই করা উচিত,’ বলছিলেন তিনি।

সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু নাম
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। সে বছর সাহিত্য ক্যাটাগরিতে পুরস্কারটি পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। এর পরের বছর পল্লীকবি জসিম উদদীন ও তার পরের বছর পেয়েছেন আবুল মনসুর আহমেদ।

এরপর থেকে গত বছর পর্যন্ত যারা সাহিত্য ক্যাটাগরিতে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন কবি শামসুর রাহমান, জহির রায়হান, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, শওকত ওসমান, শহীদুল্লাহ কায়সার, কবি ফররুখ আহমদ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, মহাদেব সাহা, হাসান আজিজুল হক, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, নির্মলেন্দু গুন, আবদুল গাফফার চৌধুরী ও সৈয়দ শামসুল হকের মতো সুপরিচিত লেখক-কবি ও সাহিত্যিকরা।

বাংলাদেশে জাতীয় পুরস্কার কতগুলো
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১৯ সালের ঘোষণা অনুযায়ী দেশে এখন ছয়টি জাতীয় পুরস্কার আছে।

এগুলো হলো- স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার।

পুরস্কার হিসেবে একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, নগদ টাকা ও সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।

এর মধ্যে স্বাধীনতা ও একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে এসবের পুরস্কারের বাইরেও জাতীয় পর্যায়ে দেয়া হয় জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা পুরস্কার, জাতীয় শিশু পুরস্কার, জাতীয় সমবায় পুরস্কার, জাতীয় যুব পুরস্কার ও রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার।

যদিও এসব পুরস্কার জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আওতার বাইরে। মূলত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে।


সূত্র : বিবিসি


আরও খবর

কবি গুরুর জন্মোৎসব

রবিবার ০৮ মে ২০২২




পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যু মেনে নেয়া অসম্ভব

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ১০২জন দেখেছেন
Image

পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যু মেনে নেওয়াকে অসম্ভব বললেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম (গোলাম মোহাম্মদ) কাদের এমপি।

 এক বিবৃতিতে লালমনিরহাটে পুলিশের হেফাজতে নিহত রবিউল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

বিবৃতিতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশের হেফাজতে রবিউলের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী পুলিশের নির্যাতনে রবিউলের মৃত্যু হলে অবশ্যই দায়ী ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

অপরাধীকে কোনভাবেই ছেড়ে দেয়া যাবে না। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রবিউলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান জিএম কাদের।


আরও খবর



ইন্টারনেট ডাটার মেয়াদ এখন এক বছর

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৯৮জন দেখেছেন
Image

ইন্টারনেটের ডাটা প্যাকেজের মেয়াদ নিয়ে অসন্তোষ ছিল গ্রাহকদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি ছিল ডাটার মেয়াদ অনির্দিষ্ট করার। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত¡ মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক তাদের ইন্টারনেট ডাটার মেয়াদ অনির্দিষ্ট মেয়াদে ঘোষণা করে। এবার তাদের সাথে একই পথে হাটলো অন্য অপারেটরগুলোও। ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ অল্প কয়েক দিনে শেষ করার সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে ডেটার মেয়াদ বাড়াচ্ছে মোবাইলফোন অপারেটরগুলো। মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে বিটিআরসি। গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন এ ডেটা প্যাকেজগুলোর উদ্বোধন করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)।

এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো দুই ধরনের সেবা চালু করছে- আনলিমিটেড (মেয়াদবিহীন) ডেটা প্যাকেজ ও নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজ। ডেটা প্যাকেজগুলোকে মেয়াদবিহীন বলা হলেও এগুলোর মেয়াদ মূলত এক বছর পর্যন্ত। বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব প্যাকেজের উদ্বোধন করেন। নির্ধারিত কয়েকটি প্যাকেজসহ নতুন সেবার নানা দিক তুলে ধরেন বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ।

মেয়াদবিহীন (এক বছর) ডেটা প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোনের ১ হাজার ৯৯ টাকায় ১৫ জিবি ও ৪৪৯ টাকায় ৫ জিবির প্যাকেজ। রবির ৩১৯ টাকায় ১০ জিবির প্যাক। বাংলালিংকের ৩০৬ টাকায় ৫ জিবির প্যাকেজ। টেলিটকের রয়েছে দুটি বার্ষিক অফার- ৩০৯ টাকায় ২৬ জিবি, ১২৭ টাকায় ৬ জিবি।
আর নিরবচ্ছিন্ন মাসিক ইন্টারনেট প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোনের ৩৯৯ টাকার (দৈনিক ১ জিবি পর্যন্ত) ও ৬৪৯ টাকার (দৈনিক ২ জিবি পর্যন্ত) প্যাকেজ। গ্রামীণফোনের ৩৬৫ দিনেরও (প্রতিদিন ১ জিবি পর্যন্ত) প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রবির ৩০ দিন (দৈনিক সর্বোচ্চ ২ জিবি), বাংলালিংকের ৩০ দিনের (দৈনিক সর্বোচ্চ ২ জিবি) প্যাকেজ রয়েছে। টেলিটকের ৩০ দিনের চারটি প্যাকেজ রয়েছে, এগুলোর ব্যবহার দৈনিক যথাক্রমে ১, ২, ৩ ও ৫ জিবি পর্যন্ত।

শেষের প্যাকেজগুলোর কোনো মূল্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি। ৩১ মের মধ্যে এসব প্যাকেজ চালুর নির্দেশনা দিয়েছে বিটিআরসি। মো. নাসিম পারভেজ বলেন, এটি শুধু ডেটা সেবা প্রদানের একটি বিশেষ প্যাকেজ। এর অধীন কোনো অফার (ভয়েজ, এসএমএস, সোশ্যাল প্যাক) থাকবে না। তবে আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ডেটা উদ্বৃত্ত থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ডেটা ফরোয়ার্ডের (ডেটা ফেরত) সুবিধা থাকলেও নতুন প্যাকেজে সেটা থাকছে না।

প্যাকেজের নামকরণে আনলিমিটেড ও মেয়াদবিহীন শব্দগুলো থাকলেও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে সর্বোচ্চ মেয়াদকাল ১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মো. নাসিম পারভেজ। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট মেয়াদে ডেটা থাকলে তা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহারের সুযোগ থাকলে এ সমস্যা হবে না।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তুলে নিলে ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকে। ইন্টারনেট ব্যবহারে জনগণের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু সেবা স¤প্রসারণ নয়, গুণগত মান ঠিক করতে হবে। বর্তমান সেবায় মানুষ সন্তুষ্ট নয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, বিটিআরসি কখনো অপারেটরদের পক্ষে ছিল না, থাকবে না। জনগণ হচ্ছে বিটিআরসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতি বিটিআরসি তৃপ্ত না, বিরক্ত। এর পর থেকে সেবার গুণগত মান ঠিক না হলে অপারেটরদের জরিমানা করা হবে। এখন তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক (স্পেকক্ট্রাম) ব্রিগে. জেনা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং) আশীষ কুমার কুন্ডু মহাপরিচালক (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) প্রকৌশলী মো. মেসবাহুজ্জামানসহ বিভিন্ন মুঠোফোন অপারেটরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



জেরুজালেমে সহিংসতায় ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১১৩জন দেখেছেন
Image

জেরুজালেমের একটি পবিত্র স্থানকে ঘিরে সহিংস ঘটনার বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বৈঠকে বসছে। সপ্তাহান্তে সহিংসতায় সেখানে ১৭০ জন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের কূটনৈতিক সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা জানায়।

মুসলিম ও ইহুদি উভয়ের পবিত্র স্থান জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে সহিংসতার কয়েকদিন পর চীন, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের আহবানে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে গত শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে 'তাণ্ডব' চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেদিনের সহিংসতায় দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়। এর দুই দিন পর আজ রবিবার ফের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। 

তবে পুলিশ বলছে, আল আকসা পরিদর্শনের জন্য ইহুদি দর্শনার্থী সেখানে আসার কিছুক্ষণ আগে শত শত ফিলিস্তিনি পাথর নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, ইহুদি দর্শনার্থীরা আল-আকসা দেখতে চাইলে তাতে বাঁধা দেয় শত শত ফিলিস্তিনি। এর পরই মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী এবং তাদের সরিয়ে দেয়।


আরও খবর



কেনাকাটায় ধুম রাজধানীর মার্কেট-বিপণিবিতানগুলোতে

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১০৯জন দেখেছেন
Image

 রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে ঈদের আমেজ বইছে। সব ধরনের ক্রেতা সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে দোকানপাট। শেষ মুহূর্তে বেচাকেনায় যেন ধুম পড়েছে। আসন্ন ঈদ ঘিরে বাহারি পোশাকে সেজেছে রাজধানীর ফ্যাশন হাউসগুলো। রঙ-বেরঙের পোশাকে ভরে গেছে রাজধানীসহ সারা দেশের মার্কেটগুলো। করোনায় দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দোকানিরা। গত দুই বছরের চেয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে তাদের। নানা সমস্যার মধ্যেও অনেকে ঈদের কেনাকাটা করছেন। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর ঈদে সন্তানদের আবদার মেটাতে পারেননি তারা এবার কমবেশি কেনাকাটা করছেন।

‘গত দুই বছর বেচাবিক্রি ছিল না। এবার আশা করছি ভালো বিক্রি হবে। ক্রেতারা আসতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে,’ জানালেন রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ নূরু। অন্য ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, গত দুই বছরের ক্ষতি এবার তারা কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার ঈদুল ফিতরের মূল আকর্ষণ কাঁচাবাদাম ও পুষ্পা দ্য রাইজ। সকাল থেকেই প্রচন্ড গরম আর রোদ উপেক্ষা করে মার্কেটমুখী ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। ঈদ কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

দুপুরের পর থেকে প্রায় প্রতিটি মার্কেট ও বিপণিবিতান এলাকায় ক্রেতা বাড়তে থাকায় পা ফেলার স্থান নেই। ভারতের ভুবন বাদ্যকারের কাঁচাবাদাম খ্যাত গেঞ্জির মূল্য ১৫০-১৬০ টাকা। এছাড়া লাল চন্দন গাছ নিয়ে বিখ্যাত তেলেগু সিনেমা পুষ্পা দ্য রাইজ নামের মিল রেখে এসেছে ছেলেদের টি-শার্ট ও প্যান্ট। ক্রেতারা এ নামের পোশাক খুঁজছেন। প্রতিটি পুষ্পা টি-শার্ট ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ও প্যান্ট ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

রাজধানীর তালতলা সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, রামপুরা মার্কেট ও বাড্ডার মার্কেটগুলোতে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের সমাগম বেশি। প্রতি বছর রমজানের শেষ দিকে ক্রেতা বেশি দেখা গেলেও এবার শুরু থেকেই বিপণিবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরগরম থাকছে বঙ্গবাজার, বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ বেশিরভাগ সুপার মার্কেট।

মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া কামাল বলেন, গত দুই বছর ঈদের কেনাকাটা করা সম্ভব ছিল না। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। কমবেশি যাই হোক ঈদের কেনাকাটা করতে হবে।

অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদ-আনন্দের আমেজ নেই বললেই চলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে কোনো মতো টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানালেন তাদের অনেকে।

ঈদে বখশিসের আশায় আছেন রাজধানীর শত শত বাসার দারোয়ান, গৃহশ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষরাও।

রাজধানীর ছয়তলা একটি ভবনে দারোয়ানের চাকরি করেন নাজির হোসেন। তিনি জানালেন, ঈদ বোনাস ও জাকাত-ফিতরা পেলে স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কেনাকাটা করতে পারবেন। তাছাড়া সম্ভব নয়।

বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজের জন্য রাজধানীর গোপীবাগে থাকেন মিনি। তিনি বলেন, ঈদে বোনাস ও ফিতরা পেলে মেয়ের জন্য জামা কিনতে মার্কেটে যাবেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দুই বছর পর অন্তত কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে মানুষ আয় করতে পারছে। ব্যয় করার সক্ষমতাও বাড়ছে। এ কারণে এবার ঈদে আংশিকভাবে হলেও সবাই কম-বেশি ব্যয় করবেন। তবে সবার জন্য সুযোগটা সমান হবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘খাবারের উচ্চমূল্য তাদের ঈদ আনন্দ মলিন করে দিচ্ছে। এটি কোনো স্বস্তির ঈদ নয়।’

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের দৃষ্টিতে গত দুই বছরের চেয়ে এবারের ঈদ সবার জন্যই আনন্দের হবে। কারণ ধীরে ধীরে অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ কাজে ফিরছে। হয়তো করোনার আগের সময়কালে ফেরেনি। তবে গত দুই বছরের চেয়ে ভালো আছে। কেনাকাটা ও বাজার পরিস্থিতি দেখেই তা বোঝা যায়। হয়তো কষ্ট হচ্ছে, তবু সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করছেন সবাই। তিনি উল্লেখ করেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদ আনন্দের ছোঁয়া দিতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ব্যাংকগুলোরও দরিদ্রদের পাশে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন।’


আরও খবর



ইলিশের নামে বিক্রি হচ্ছে ‘সার্ডিন

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৭জন দেখেছেন
Image

নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বাজার থেকে প্রকৃত ইলিশ কিনেই যেন প্রবাসীরা ঘরে ফিরতে পারেন তার জন্য হতে হবে একটু সাবধান ও সচেতন। কারণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ছেয়ে গেছে নকল ইলিশে।

গোটা যুক্তরাষ্ট্রেই বাংলাদেশি গ্রোসারিগুলোতেই ইলিশের নামে একই আদলের মাছ ‘সার্ডিন’ ও ‘চৌক্কা’ বিক্রি করা হচ্ছে। ইলিশের নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিয়ে একটি অসাধু চক্র এই ভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি করছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ঈদের পরই বাংলা বর্ষবরণ কর্মসূচি পালন করবেন।

এদিকে, প্রবাসী ক্রেতাদের অভিযোগ, নিউ ইয়র্কের বাজার থেকে ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে রান্না করার পরও তারা ইলিশের সেই ঘ্রাণ বা স্বাদ পাচ্ছেন না। এই মাছগুলো দেখতে ইলিশের মত হলেও এগুলোতে খুব বেশি কাটা। আর ভাজলে তাতে ইলিশের মতো তেলও বের হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র রমজানের কারণে প্রায় ৩৫টি অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবারও যথাসময়ে বাংলা বর্ষবরণের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। প্রতিবছর এপ্রিলে বর্ষবরণের আনন্দে প্রবাসীরা মেতে উঠলেও এবার সে উৎসব থেকে সকলেই বঞ্চিত হয়েছেন। তবে রোজার পরই ঈদ আনন্দ ও বাংলা বর্ষবরণ জমজমাটভাবে পালনের চিন্তা করছেন প্রবাসীরা।

নিউ ইয়র্কের ৫টি বৃহৎ পৌরসভা ব্রঙ্কস, কুইন্স, জামাইকা, ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের প্রায় অর্ধশত বাংলাদেশি মালিকানাধীন গ্রোসারিগুলো থেকে ইলিশ মাছ কিনে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছেন প্রবাসী ক্রেতারা। এসব এলাকার অসাধু ব্যবসায়ীরা ইলিশের দামে দেদারছে বিক্রি করেছে সার্ডিন মাছ। কিন্তু প্রবাসী ক্রেতারা বিশেষ করে বাইরের অঙ্গরাজ্যের ক্রেতারা কেউ কোন প্রতিবাদ করছেন না। কারন অনেকেই জানেন না কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করতে হয়।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ও বাংলাদেশি অধুষ্যিত নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইলিনয়স, কলারাডো, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, কানসাস, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, ওয়াশিংটন ডিসি ও কেন্টাকির বাংলাদেশি মালিকানাধীন গ্রোসারিগুলোতে নকল ইলিশ বিক্রির প্রতারক চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আসল ইলিশের দামও হাঁকাচ্ছেন তারা। তবে মাছ বিক্রেতারা ইলিশ বলে যে মাছ বিক্রি করছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে ‘সার্ডিন’, ও ‘চৌক্কা’। এগুলো দেখতে ইলিশের মতো হলেও এতে ইলিশের স্বাদ-গন্ধ কিছুই নেই।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, ‘সার্ডিন’ দেখতে আকারে জাটকার মতো হলেও ‘চৌক্কা’ মাছ আকারে বেশ বড়। এটি লম্বায় ইলিশের অনেকটাই কাছাকাছি। তবে ইলিশের চেয়ে চওড়ায় কম। আর ইলিশের চেয়ে সার্ডিন ও চৌক্কার চোখের আকার বড়। অনেকেই তাই ইলিশের মত দেখতে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, ‘সার্ডিন’ দেখতে আকারে জাটকার মতো হলেও ‘চৌক্কা’ মাছ আকারে বেশ বড়। এটি লম্বায় ইলিশের অনেকটাই কাছাকাছি। তবে ইলিশের চেয়ে চওড়ায় কম। আর ইলিশের চেয়ে সার্ডিন ও চৌক্কার চোখের আকার বড়। অনেকেই তাই ইলিশের মত দেখতে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের নদীকেন্দ্র ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে ‘সার্ডিন ও চৌক্কা সমুদ্রের মাছ হলেও অনেক সময় নদীর মোহনায় চলে আসে। জেলেদের জালে ইলিশের সঙ্গে এসব মাছও ধরা পড়ে। চেহারায় কিছুটা সাদৃশ্য থাকায় অনেকেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ভালো করে খেয়াল করলে পার্থক্য বোঝা যায়।’

জানা যায়, পরিপূর্ণ ইলিশ লম্বায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। সার্ডিন ও চৌক্কা আকারে ইলিশের ধারে-কাছে যেতে পারে না। সাগরে সারা বছরই কম-বেশি সার্ডিন ও চৌক্কা ধরা পড়ে। বিদেশ থেকেও আমদানি হয় সার্ডিন। তবে নববর্ষের আগে বেশি আমদানি হয়। তবে অনেক ধরনের মাছ একসঙ্গে আমদানি হয় বলে কী পরিমাণ সার্ডিন আসে সেই পরিসংখ্যান নেই।


আরও খবর