Logo
শিরোনাম

আসামে হতে পারে মোমেন-জয়শঙ্করের বৈঠক

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮২জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশ-ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলতি মাসের ২৭-২৯ তারিখে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকটি আসামের রাজধানী গৌহাটিতে হতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে এমনটাই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানানো হয়, আগামী ২৮-২৯ মে নদী বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক কনক্লেভের আয়োজন করা হবে। এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করবে শিলং-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিঙ্কট্যাঙ্ক এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর যোগ দিচ্ছেন। এদিকে কনক্লেভে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকেও আমন্ত্রণ করা হয়েছে। আর ওই সময়েই বৈঠকটি করতে আগ্রহী ভারত।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের কাছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ফোকাস করতে চাইছে ভারত। এ অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের কানেকটিভিটি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে দেশটি। তাই সেখানেই বৈঠকের আয়োজন করতে চাইছে ভারত।

গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা সফরকালে ড. এস জয়শঙ্কর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ওই সময় মোমেনকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান জয়শঙ্কর।


আরও খবর



জামিল হাসান দুর্জয়'র যে বক্তব্য গাজীপুরে ভাইরাল

প্রকাশিত:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১৬০জন দেখেছেন
Image

সদরুল আইন,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

             আগামি ১৯ শে মে গাজীপুর জেলা আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলণ। এই সম্মেলণকে সফল করতে আগামিকাল বৃহস্পতিবার(২১ এপ্রিল) বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গাজীপুর জেলা সম্মেলণের পূর্বেই জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জামিল হাসান দূর্জয়ের দেওয়া একটি বক্তব্য গাজীপুর তথা বিশেষ করে শ্রীপুরে ব্যাপকভাবে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সর্বত্র তা আলোচিতও হচ্ছে।

সুলতান উদ্দিন মেমোরিয়াল একাডিতে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আ.লীগের সম্মেলণে তার সাধারন সম্পাদক পদ প্রাপ্তিকে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত করে বলেছেন " আমি পরাজিত হওয়ার জন্য পৃথিবীতে জন্মাইনি, আমি পরাজিত হবার জন্যে পৃথিবীতে আসি নাই।"

তার এ বক্তব্যকে ঔদ্ধত্বপূর্ণ অরাজনৈতিক,অজ্ঞতাপূর্ণ এবং নিজেকে বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে জাহির করার অপরিপক্ক মানসিকতার বর্হিপ্রকাশ বলে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন।

কেউ কেউ বলছেন, এ ধরনের বক্তব্য একজন অপরিপক্ক আত্ম অহমিকায় ভরা রাজনৈতিকের মুখেই মানায়।দূর-দৃষ্টিসম্পন্ন, বিচক্ষণ কোন রাজনৈতিকের মুখে এ ধরনের ঔদ্ধত্বপূর্ণ অগ্রিম বক্তব্য মানায় না।

 বেশিরভাগ মানুষ, তার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছেন,একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এই নেতা প্রধানমন্ত্রী তাকে অগ্রিম মনোনয়ন দিয়ে দিয়েছেন বলে জনসভাসমুহে এবং এলাকায় মাইকিং করে বর্তমান সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজ'র  লাখ লাখ নেতা কর্মিদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে যে স্ট্যান্ডবাজি ও চতুরতার আশ্রয় নিয়েছিলেন জেলা সম্মেলণে সাধারন সম্পাদক হচ্ছেন এটা তারই অগ্রীম পদধ্বনীর মত অসাড় আষাঢ়ে গল্পের মতও হতে পারে।

অন্যদিকে অনেকেই বলেছেন,একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এক হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মনোনয়ন কেনার যে গল্প ও প্রপাগন্ডা গাজীপুর-৩ আসনে ছড়িয়েছিলেন এটা তারই পদধ্বনী।

কোনভাবেই তার এ বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন বেশিরভাগ মানুষ।

কেউ কেউ বলেছেন জামিল হাসান দুর্জয় তো একাদশ সংসদ নির্বাচনে সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজ'র কাছে পরাজিত হয়েছেন।এর পরও তিনি পরাজিত হতে পৃথিবীতে আসেনননি,জন্মাননি এ ধরনের অহমিকাপূর্ণ অসত্য কথা জনসমুখে বলেন কি করে।তার অগ্রীম এ চরম অহমিকাপূর্ণ বক্তব্যের উৎসই বা  কি।

উল্লেখ্য, জামিল হাসান দুর্জয়ের নিকট নেতা কর্মিদের মাধ্যমে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে যে, ১৯ মে'র জেলা সম্মেলণে তিনি বর্তমান সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এমপিকে হটিয়ে জেলার সাধারন সম্পাদক হচ্ছেন।

 আ.লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি এক কেন্দ্রিয় দায়িত্বশীল নেতার মাধ্যমে তাকে এ বিষয়টি অগ্রীম জানিয়ে দিয়েছেন।এরই প্রেক্ষিতে তিনি  এ ধরনের দাম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেছেন বলে অধিকাংশ মানুষ মন্তব্য করছেন।

এছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তি প্রায় ৪ বছর অনেকটা পর্দার আড়ালে থাকা জামিল হাসান দুর্জয়ের শীর্ষ নেতা কর্মিরা বলতেন তিনি পরিবর্তন হয়ে গেছেন,রাজনৈতিক পরিপক্কতা অর্জন করেছেন, তাদের সেই গল্প, সেই জনশ্রুতি মিথ্যা প্রমান করে দিয়ে  দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘুম ভেঙ্গে, খোলস ছেড়ে,  তিনি তার চিরায়ত চরিত্রে ফিরে গেলেন এমনটিও মনে করছেন অনেকেই।


আরও খবর



প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের শেষ ধাপের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১১২জন দেখেছেন
Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ হাজার সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় ও শেষ ধাপের পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়েছে। ২৭ মে’র পরিবর্তে ৩ জুন হবে এই পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ২৭মে। একই দিন ৪৪তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষাও হবে। সে কারণেই প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রথম ধাপের পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার (২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা হবে ২০ মে এবং শেষ ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৩ জুন। উল্লেখ্য, আবেদনকারীর নিজ নিজ জেলায় সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



শিমুলিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের চাপ

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ৭৩জন দেখেছেন
Image

মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ঈদের পরের দিন ঘরমুখো মানুষ ও গাড়ির চাপ বেড়েছে। ঈদের আগের ৫ দিনের ন্যায় আজও শিমুলিয়া ঘাট হয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কালবৈশাখী ঝড়ের এই মৌসুমে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও বাড়ি ফিরছে মানুষ। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ঘাটে বর্তমানে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৫ শতাধিক যানবাহন। ১০টি ফেরি এই মুহূর্তে ঘাটে চলছে।

এ ছাড়া ঘাটে যাত্রী পারাপারের জন্য ৮৫টি লঞ্চ ও ১৫৪টি স্পিডবোট চলছে। সকালে ঝড় হওয়ার কারণে লঞ্চ-স্পিডবোট চলাচল আধাঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।

এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ঘাটের এক কর্মকর্তা বলেন, ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ রয়েছে। এই মুহূর্তে ঘাট হতে ৮৫টি লঞ্চ ১৫৪টি স্পিডবোট চলছে। সকালে ঝড় হওয়ার কারণে পোনে ৭টা থেকে সোয়া ৭টা পর্যন্ত আধাঘণ্টা লঞ্চ-স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল।

অতিরিক্ত যাত্রী পারাপারের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু ঘাটে চাপ আছে, সেহেতু অনেক সময় প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যাত্রীরা লঞ্চে বেশি উঠছে।


আরও খবর



পণ্যের উচ্চমূল্য: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সিন্ডিকেটেড রাজনীতি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৫জন দেখেছেন
Image

অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি যখন অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছায় তখন সেটি ‘জাতীয় সমস্যায়’ রূপ নেয়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ট্রাক সেলিং পয়েন্টগুলোতে (অস্থায়ী ভর্তুকিযুক্ত বিক্রয় পয়েন্ট) সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গরিব ও মধ্য-আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে হিমশিম খাওয়ার ফলে এই মূল্যবৃদ্ধি এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। কেন এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি? বাংলাদেশ কি সিন্ডিকেটেড রাজনীতির প্রভাবে একচেটিয়াভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে? নাকি উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তা হচ্ছে? এটি কি বৈশ্বিক পণ্যমূল্যবৃদ্ধির ফল?

নব্বইয়ের দশক থেকে সোভিয়েত রাশিয়ার পতন, আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা, একক রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিগুলো আন্তঃসংযুক্ততার দ্বারা বিশ্ব অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই বিশ্বায়ন রাষ্ট্রগুলোর মাঝে আন্তঃসংযুক্ততা তৈরি করেছে একই সাথে কিছু অর্থনৈতিক দুর্বলতাও ছড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে, একটি ছোট এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিবর্তন পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে পারে এবং পুরো বিশ্বকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ১৯৯৪ সালের মেক্সিকান পেসো সঙ্কট, ১৯৯৭-৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক বিপর্যয় কিংবা ২০০৮ সালের আর্থিক সঙ্কট এবং সারা বিশ্বে এর প্রভাব এই ধরনের দাবির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বর্তমান অস্থিতিশীল দ্রব্যমূল্যের সূচনা ২০১৮ সালে শুরু হওয়া মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সয়াবিন তেলের বৃহত্তম রফতানিকারক এবং চীন বৃহত্তম আমদানিকারক। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনা সয়াবিনের আমদানি অন্তত ৩৫-৪০ শতাংশ কমেছে। এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ও বিলম্বের কারণে বিশ্ববাজারে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সয়াবিনের দাম। বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য পণ্যের দামেও। পরবর্তীতে, মহামারীর আগমন এবং সরবরাহে বাধা বিশ্বজুড়ে সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করে তোলে।

অন্যদিকে, করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি, মহামারী ঠেকাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, লকডাউনে উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি দেশ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো ঋণসঙ্কটে নিপতিত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা হচ্ছে সঙ্কুুচিত। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নেও মহামারীর প্রভাবে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে, আর্থসামাজিক স্থিতিস্থাপকতা কমছে এবং বাড়ছে অর্থনৈতিক দুর্বলতা। ইউরোজোনে সঞ্চয়ের হারও কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০২০ সালে যেখানে ২০ শতাংশ হারে সঞ্চয় প্রবণতা ছিল, ২০২১ সালে তা স্মরণকালের সর্বনিম্ন ১৪.৫ শতাংশে নেমে গেছে। মহামারী চলাকালীন, মূল্যস্ফীতিও ২০০৮ সালের আর্থিক সঙ্কটের পর থেকে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪.১ শতাংশে পৌঁছেছে। গত দুই বছরে ইউরোপের অর্থনীতিতেও পণ্যের দাম বেড়েছে আনুপাতিক হারে। সম্প্রতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দামও নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে লোহার দাম ২৪৩ শতাংশ বেড়েছে, ইস্পাত এবং লিথিয়ামের দাম যথাক্রমে ২৫০ শতাংশ এবং ৯৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালে প্রায় সব খাদ্যদ্রব্যের দামই দ্রুত বেড়েছে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে এটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেন সঙ্কট বিশ্ববাজারে আরো প্রভাব ফেলেছে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া ও উৎপাদনের অস্থিতিশীলতার কারণে। অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গম এবং সূর্যমুখীসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে কারণ এই অঞ্চলটি বিশ্বব্যাপী চাহিদার ৩০ শতাংশ গম এবং ৯০ শতাংশ সূর্যমুখী সরবরাহ করে। গত ১৪ এপ্রিল পর্তুগালের ভোক্তা অধিকার রক্ষা অ্যাসোসিয়েশন ডেকো প্রেটেস্ট তাদের সমীক্ষায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চিত্র প্রকাশ করতে গিয়ে দেখায় পর্তুগালের বাজারে ইউক্রেন সঙ্কট শুরুর পর থেকে অন্তত সাত দফায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য রফতানি ব্যাহত হওয়ায় মার্চ মাসে বিশ্বে খাবারের উচ্চমূল্য নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশ্ববাজারে সব খাদ্যপণ্যের দাম ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বাণিজ্যযুদ্ধ, মহামারী ও সর্বশেষ রুশ আক্রমণের ফলে মূল্যবৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি শুধু ইইউ বা বাংলাদেশের জন্যই খারাপ হচ্ছে না। তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য অংশও ভুগছে। পার্থক্য হচ্ছে কেউ এই সমস্যায় বেশি জর্জরিত আর কেউ কিছু কম। গবেষণা সংস্থা সিপিডি বলছে, প্রধানত করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব, ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, পরিবহন খরচ ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। আর এসবের ব্যাপক প্রভাবে গরম হয়ে গেছে বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের বাজার।

করোনা আর যুদ্ধের প্রভাবে উন্নত বা গরিব কোনো দেশই এখন আর উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাইরে নেই। কোভিডে নাগরিকদের বড় ধরনের প্রণোদনা দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হওয়ার রেকর্ড গড়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশে ঠেকেছে। আর ব্রিটেনে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভও করেছে মানুষ। ইউরোজোনে যে ১৯টি দেশে ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করা হয় সেসব দেশে এই জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ শতাংশের বেশি, যা ২৩ বছর আগে ইউরো চালুর পর সর্বোচ্চ।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে- স্থানীয় বাজারে কেরোসিন, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কোভিডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দেয়ার কারণে। প্রশ্ন হচ্ছে বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধিই কি বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির একমাত্র কারণ?

সিন্ডিকেটেড রাজনীতি
দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত অগ্রসরমান দেশ শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি অনেক দিন ধরেই টালমাটাল। ঋণের বোঝায় জর্জরিত দেশটি নিজেকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করেছে। গভীর সঙ্কট হাতছানি দিচ্ছে এ অঞ্চলের আরেক দেশ নেপালকেও। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে সরকার নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। তবে সে রকম সঙ্কটে না পড়লেও বাংলাদেশের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে দ্রব্যমূল্যের নজিরবিহীন ঊর্ধ্বগতিতে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আড়তদার ও সিন্ডিকেটের অধিক মুনাফা লাভের আশায় পণ্য গুদামজাতকরণ এবং দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে। বিশেষ করে রমজান আসার আগে আগে দেখা যায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে।

বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে দাম যতটুকু বাড়ার কথা দেশে, বাড়ে তার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য যখন কমে আসে তখনই পণ্য বেশি দামেই কিনতে হয় ‘বাড়তি’ দামের অজুহাতে। সাম্প্রতিককালে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে চলছে তেলেসমাতি। বরাবরের মতো তেল উৎপাদনকারী এবং বড় বড় ডিলার এর পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে এটি স্পষ্ট সিন্ডিকেটেড কারসাজি এ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক।নিয়মিত বিরতিতে এ দেশের বাজারে কারসাজি চলে, পণ্যটা পাল্টে যায় শুধু। কখনো চাল, কখনো পেঁয়াজ, চিনি, তেল এমনকি কাঁচামরিচের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ খাওয়ার স্মৃতি এ দেশের মানুষের মনে এখনো তরতাজা।

জিনিসপত্রের দাম যে সবসময় বাড়েই তা নয়, কমে এমনকি মূল্যহীনও হয়ে পড়ে। পিচঢালা রাস্তায় আলু, টমেটো কিংবা সবজি ফেলে দিয়েছে কৃষক ন্যূনতম দামের অভাবে। গত কয়েকটি ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়াকে প্রায় মূল্যহীন হয়ে যেতে দেখা গেছে। অনেকে গরু অথবা ছাগলের চামড়া নামমাত্র মূল্যে বিক্রি না করে সেটি ফেলে দিয়েছে। দাম কমে ফসলের মৌসুমে যখন ফসল ওঠে। কৃষক হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে লাভ করা দূরে থাকুক, বহু সময় উঠিয়ে নিতে পারে না তার ধান, আলু কিংবা সবজি আবাদের খরচটুকুও। অর্থাৎ যেসব জিনিসের দাম বাড়লে দেশের হাতেগোনা কিছু মানুষের লাভ হবে, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়তে দেখা গেছে সেগুলোর। আবার উল্টোদিকে যেসব জিনিসের দাম কমলে বিরাট লাভবান হবে সেই হাতেগোনা কিছু মানুষ, সেগুলোর দাম পড়ে যাবে একেবারেই। এই সিন্ডিকেটের রাজনীতি আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে বাজার হয়ে ওঠে অস্থিতিশীল।

করোনাভাইরাস আতঙ্ক ও ইউক্রেন সঙ্কটকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাল, পেঁয়াজ, রসুন ও আলুসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে দিয়েছে। বাজারে কোনো কিছুর ঘাটতি নেই, তারপরও এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে দেয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে আইন অনুযায়ী তাকে জেল-জরিমানা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোগ্যপণ্য বাজার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ অভিযান অব্যাহত রাখা একান্ত জরুরি।

সমাধান কোথায়?
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির সমস্যার জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রধান কারণ তবে একমাত্র নয়। কর্তৃপক্ষ সমস্যার পেছনে স্থানীয় কারণগুলোকেও প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। বাজার নিয়ন্ত্রণের অভাব, দুর্বল প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অর্থনীতির করপোরেটাইজেশন এবং সিন্ডিকেটেড রাজনীতিও মূল্যস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ। বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে মূল্যস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধি শুধু সরকার, ব্যবসায়ী এবং জনগণের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। যেহেতু যুদ্ধ এড়ানো একটি স্থিতিশীল সরবরাহের পূর্বশর্ত, তাই পেশিশক্তির পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য, বিকল্প আমদানি গন্তব্য খুঁজতে ও আমদানি কর কমাতে হবে। সরকারকে অবশ্যই বাজারের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এই দেশীয় কারণগুলোকে মোকাবেলা করার জন্য একটি সতর্ক ভূমিকা নিতে হবে। সরকারের উচিত পণ্যবাজার স্থিতিশীল রাখতে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং সমন্বয় সাধন করা এবং সর্বোপরি, আধিপত্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্বীকার করা উচিত তাদের কর্মের প্রভাব পড়ছে বিশ্বের সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে।



আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২




শনিবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৭১জন দেখেছেন
Image

শনিবার (৭ মে) বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতাদের নিয়ে গণভবনে বৈঠক করবেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।


আরও খবর