Logo
শিরোনাম

আসুন আমরা বানভাসিদের পাশে দাঁড়াই

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

আমাদের এই দেশটা টিকে আছে মূলত মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার ওপর। শুভচিন্তা ওপর। আকস্মিক এই ভয়াবহ বন্যায় হতদরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে যখন দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো ভীষণ জরুরী হয়ে উঠেছিল তখনও বরাবরের মতই এই আমাদের মত সাধারণ মানুষেরাই ছুটে গিয়েছি নিজের সবটুকু দিয়ে। 

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম একেবারেই তলিয়ে গেছে। এই এলাকাগুলোতে কিছুটা প্রাথমিক সহায়তার বন্দোবস্ত হলেও যেসব পরিবার নিজেদের চলার সবটুকু হারিয়ে ফেলেছে। তাদের সামনের দিনগুলোর কথাও ভাবতে হবে এই আমাদেরই। বন্যা চলে গেলেই বিপদ চলে যায় না। বন্যা নিয়ে আসছে নানান পানিবাহিত রোগ। চিকিৎসার কথা ভাবতে হবে। ভেসে গেছে ঘর, বাড়ি। ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে পানিতে। গেরস্তের গরু হারিয়ে গেছে। 

গত বন্যায় আমরা দেখলাম কৃষক তার সোনার ফসল পানিতে ডুবে ডুবে কাটছে। সেই শস্যের একটি দানাও বাঁচাতে পারা গেলো না এবারে। বানের জলে ভেসে গেছে শেষ সম্বলটুকুও।

প্রাথমিকভাবে আমরা সবাই মিলে হয়তো এই মানুষগুলোকে প্রাণে বাঁচাতে পারলাম কিন্তু এই মানুষগুলোকে জীবন সংগ্রামে ফিরিয়ে আনতে পাশে দরকার মানুষদের সহায়তা। 

আমরা কি করতে পারি?

আমরা কাজ করতে চাই দুর্যোগটার প্রাইমারি ইমপালসটা কেটে যাবার পর। আমি হাওরের মানুষ। আমার পরম পরিচিত ছোটবেলা মত প্রিয় গ্রামগুলোই মর্মান্তিকরকম ক্ষতিগ্রস্থ। আশেপাশের গ্রামের মানুষগুলোও কোন না কোনভাবে আমার রক্তেরই আত্মীয়। এই গ্রামগুলোতে যারা সবকিছু হারিয়েছেন তাদের আমরা অল্প অল্প করে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে চাই। 

কারো আয়ের একমাত্র পথ ছোট মুদি দোকান ভেসে গেছে, তাকে সামান্য পুঁজি তুলে দিতে চাই। কারো গোয়ালের তিনটা গরু ভেসে গেছে, তাদের কিনে দিতে চাই একটা গরু। যেই দরিদ্র মানুষটার বেড়ার ঘরটা ভেঙে গেছে তাদের একটা ছোট ঘর তুলে দিতে চাই আমরা। 

সহমর্মী সুহৃদ ডাক্তারদের একটা দল নিয়ে আমরা পানিবাহিত রোগাক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দিতে চাই। বন্দোবস্ত করে দিতে চাই ওষুধের।

বন্যায় শিশুদের শারীরিক আর মানসিক ক্ষতিটা হয় সবচেয়ে বেশি। স্কুল ঘর তো ভেসে গেছেই, চলে গেছে বই, খাতা, কলম, শিক্ষার সব অনুষঙ্গ। দরিদ্র পরিবারের শিশু সন্তানটির প্রিয় খেলনাটা হারিয়ে যাওয়ার কষ্ট কোন অংশে কি কম?  নিজ চোখে এই বন্যা দেখে শিশুদের মানসিক ক্ষতিটা হয়েছে অনেক বেশি। তাদের আবারও পড়াশোনা আর খেলাধূলায় ফিরিয়ে নিতে হবে। আমরা তাদের জন্যও কিছু করতে চাই দীর্ঘ মেয়াদের কথা মাথায় রেখে।  

এসবকিছুই জন্যই আপনাদের কাছে সাহায্য চাইছি। আসুন আমরা সবাই সাধ্যমত সহায়তা করি। আমরা ঠিক কতজনকে পুনঃবাসন করে দিতে পারবো, কতজনকে আবার আগের জীবনটাতে ফিরিয়ে নিতে পারবো সেটা নির্ভর করছে আমরা ঠিক কি পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে পারছি তার ওপর। যদি কম টাকা হয় তাহলে হতোয় একটা পরিবারকেই আবার আমরা মূলস্রোতে নিয়ে আসতে পারবো। টাকা বেশি উঠলে হয়তো একশ বা এক হাজার মানুষকে পুরনো জীবনটা ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করতে পারবো আমরা।

আসুন আমরা সবাই মিলে সবার শক্তিটা নিয়ে পাশে দাড়াই। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সবচেয়ে দুর্গম গ্রামে সবকিছু হারিয়ে ফেলা মানুষটা আর এই লেখাটা এই মুহূর্তে যিনি পড়ছেন সে আমরা সবাই মিলেই যে 'আমরা সবাই' সেটা প্রতিষ্ঠিত হোক!  

সহায়তা করতে: 

আতিক রহমান 

বিকাশ (পার্সোনাল): 01913925026

নগদ (পার্সোনাল): 01913925026


আরও খবর



সেন্ট লুসিয়া টেস্টে ২৩৪ রানে থামল বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

প্রথম টেস্টের মতো টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা ভালো পার্টনারশিপ করতে পারেনি। এতেই শঙ্কা জেগেছিল দুইশ রানের মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার। তবে শেষদিকে শরিফুল ইসলাম আর এবাদত হোসেনের লড়াকু ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৩৪ সংগ্রহ করেছে।

এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে সাকিব আল হাসানের দল। এদিন তামিম ইকবাল আর লিটন ছাড়া সুবিধা করতে পারেননি স্বীকৃত ব্যাটাররা। তবে অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংস বিবেচনায় সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে লড়াইটা মন্দ করেনি তারা।

৬ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ১৫৯ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় টাইগাররা। লিটন ৩৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ রান নিয়ে দিনের তৃতীয় ও শেষ সেশনের খেলা শুরু করেন। তবে বিরতি থেকে ফিরে লিটনকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি মিরাজ। অহেতুক শটে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন এই ডানহাতি।

এরপর লেজের দিকের ব্যাটসম্যান এবাদত হোসেনকে নিয়ে ব্যাট চালিয়ে খেলেন লিটন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। মাত্র ৬৬ বলে পাওয়া ফিফটিতে চারের মার ৮টি। তবে এরপরই যেন নিজের মনোযোগ হারিয়ে বসেন এই ডানহাতি। আলজারি জোসেফকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ব্র‍্যাথওয়েটের হাতে। ৭০ বলে থামে তার ৫৩ রানের ইনিংস।

লিটনের আউটের পর ক্রিজে এসে আগ্রাসী শরিফুল ইসলাম। টি-টোয়েন্টি স্বভাবের ব্যাটিং করে দলকে দুইশর কোটা পার করেন তিনি। শরিফুলের ক্যারিয়ার সেরা ২৬ রানের সঙ্গে এবাদতের ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ২১ এবং খালেদ আহমেদের ১ রানের কল্যাণে অলআউট হওয়ার আগে স্কোর বোর্ডে ২৩৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ দল।

আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ দল অবশ্য দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দলে ফিরেছেন ব্যাটার এনামুল বিজয়, বাদ পড়েছেন সাবেক টেস্ট কাপ্তান মুমিনুল হক। ২০১৪ সালে সেন্ট লুসিয়াতেই সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন বিজয়। আর পেসার মোস্তাফিজকে দলের বাইরে রেখে মূল একাদশে ফেরানো হয়েছে শরীফুল ইসলামকে।


আরও খবর



‘যুদ্ধ করতে প্রস্তুত’ সৈন্যের সংখ্যা দশগুণ বাড়াচ্ছে ন্যাটো

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট তাদের ‘যুদ্ধ করতে প্রস্তুত’ এমন সেনা সংখ্যা বিপুল সংখ্যায় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

স্নায়ু যুদ্ধের অবসানের পর ন্যাটো জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একে সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। 

ন্যাটো জোটের মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ বলছেন, এ জোটের ‘দ্রুত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ সৈন্যের সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে প্রায় দশগুণ বাড়িয়ে ৩ লক্ষাধিকে উন্নীত করছে।

এটি একটি নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা- এবং এ সপ্তাহেই মাদ্রিদে একটি শীর্ষ সম্মেলন হবে যেখানে এটা অনুমোদিত হতে পারে বলে বিবিসি জানিয়েছে।  

স্টোলটেনবার্গ বলছেন, ইউরোপের নিরাপত্তার প্রতি রাশিয়ার প্রত্যক্ষ হুমকির পরই এই সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার কথায়, নতুন এই ‘সামরিক ব্লুপ্রিন্ট’ পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে উন্নত করা হবে।

ন্যাটোর এই ‘র‍্যাপিড রিঅ্যাকশন ফোর্স’ হচ্ছে স্থল, নৌ ও বিমান সেনা ও সরঞ্জামের সমন্বয়ে তৈরি করা একটি বাহিনী। কোন আক্রমণ হলে যাদেরকে দ্রুতগতিতে মোতায়েন করা যাবে। ২০১৪ সালের আগে এ বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার - আর এখন তা বেড়ে ৪০ হাজার হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর এই সৈন্যদের ইতোমধ্যেই লাৎভিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডে উচ্চ-প্রস্তুতিমূলক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ায় আরো ‘যুদ্ধের জন্য তৈরি’ সেনাদল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্টোলটেনবার্গ জানিয়েছেন, স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তীকালে ২০১০ সালে ন্যাটো জোট রাশিয়ার ব্যাপারে নতুন অবস্থান নিয়েছিল। রাশিয়াকে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৌশলগত অংশীদা’ বলা হতো। তবে এখন তা বদলে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের প্রতি সবচেয়ে বড় ও প্রত্যক্ষ হুমকি হচ্ছে রাশিয়া। তবে নতুন পরিকল্পনাটিতে এই প্রথমবারের মতো ন্যাটো জোটের প্রতি চীনের চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও থাকবে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরও খবর



বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না গম বহনকারী ৬ হাজার ট্রাক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে আটকে রয়েছে গম বোঝাই ৬ হাজার ট্রাক। গত ১৪ মে থেকে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থলবন্দরে এসব ট্রাক আটকে রয়েছে। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) থেকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আরসি) বা ছাড়পত্র না পাওয়ায় বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না গম বহনকারী এসব ট্রাক।

মঙ্গলবার (৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমস। এতে বলা হয়, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত ১৩ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সেই প্রজ্ঞাপনে ভারত থেকে অবিলম্বে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কারণ এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী গম সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অবশ্য ডিজিএফটি গম রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করলেও ভারতের সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়, গত ১৩ তারিখের আগে যেসব ঋণপত্র বা এলসি ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলো যথাসময়ে রপ্তানি করা হবে। তবে এরপরও ১৩ মের আগে চালান সম্পন্ন হওয়া বা অর্থ পরিশোধ করা গম বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ইকোনোমিক টাইমস বলছে, ১৩ তারিখের আগে যেসব ঋণপত্র বা এলসি ইস্যু করা হয়েছে সেগুলো সীমান্ত পার হতে বাধা নেই বলে জানানো হলেও এখন বলা হচ্ছে- রপ্তানির জন্য ডিজিএফটি’র ছাড়পত্র প্রয়োজন। আর এতেই সময় লাগছে কারণ রপ্তানিকারকরা যেন এলসি’র ব্যাক-ডেট না করতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রবেশের জন্য সীমান্তে অপেক্ষারত ট্রাকগুলোর বেশিরভাগই ছোট ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে কান্দলা বন্দরে কয়েকটি বড় কোম্পানির ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ গম আটকে রয়েছে।

কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রায় ৬ হাজার ট্রাক, ১০-১২টি রেলওয়ে রেক এবং ১০-১২টি বার্জ/জাহাজ কলকাতা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের মোটামুটি অনুমান, প্রায় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টন গমের চালানে প্রকৃত এলসি থাকতে পারে।

ভারতের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার চেয়ারম্যান বিমল বেনগানি বলছেন, ‘গম রপ্তানির নিবন্ধন সনদ বা ছাড়পত্রের জন্য পূর্বাঞ্চল থেকে প্রায় ১২০০টি আবেদন অনলাইনে ডিজিএফটিতে জমা পড়েছে। অন্যদিকে এতোগুলো আবেদনের বিপরীতে গত ২ জুন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রপ্তানিকারককে প্রায় ২০০টি আরসি ইস্যু করেছে সংস্থাটি। কিন্তু আবেদনের অনেকগুলোই এখনও আটকে রয়েছে।’ তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আরসি পেতে দেরি হওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক লোকসানে পড়েছেন।

এর আগে গত ২ জুন এক প্রতিবেদনে আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থলবন্দরে আটকে থাকা গমের পরিমাণ প্রায় চার লাখ টন।

এছাড়া সীমান্তে গম আটকে থাকায় সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করেছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। তাদের আশঙ্কা, গম পরিবহনে বিলম্ব হলে বৃষ্টির কারণে প্রয়োজনীয় এই শস্য পচে যেতে শুরু করবে এবং এতে করে তারা কোটি কোটি রুপি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




পানির নিচে ৭ জেলা, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও ১৭টি

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  ভারতের মেঘালয় ও আসামে ক্রমাগত বৃষ্টি হওয়ায় তা বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এর মধ্যেই সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ অন্তত সাত জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী দুদিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও দেশের মধ্যাঞ্চলের আরও ১৭টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে। কারণ সেসব এলাকায় বন্যার তীব্রতা বাড়ছে, নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে শুরু করেছে।

সেই সঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সারাদেশের ১০৯টি নদী পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে ৯৫টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলছেন, সিলেট, সুনাগমঞ্জ এলাকায় আজ শনিবার (১৮ জুন) এবং আগামীকালও বৃষ্টি হবে। ফলে সেসব এলাকার বন্যার পানি আরও বাড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। সেই সঙ্গে যমুনা নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে।

ফলে উত্তরাঞ্চলের আরও কিছু জেলা প্লাবিত হতে পারে। বন্যার এই পানি আবার নিচের দিকে নেমে এলে মধ্যাঞ্চলের কিছু জেলাগুলোও প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সড়ক ডুবে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের সঙ্গে আগেই সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মোহনগঞ্জে রেলব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ায় নেত্রকোনার সঙ্গেও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেটের সাথে দেশ-বিদেশের বিমান যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে শুক্রবার থেকে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে বন্যা কবলিত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ পানী বদ্ধি অবস্থায়। আশ্রয় ও খাবারের জন্য তারা সরকারি-বেসরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

যেসব জেলায় বন্যা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় তা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রবেশ করে আরও এগিয়ে আসছে।

ফলে জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পাবনায় বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভিবাজারে বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন্যার পানি আরও নিচের দিকে নেমে এলে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর অঞ্চলেও বন্যা দেখা দেয়া ও ব্যাপকভাবে নদীভাঙন শুরুর ঝুঁকি রয়েছে।

মেঘালয় ও আসামের বৃষ্টি আশঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে আরও ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। গত তিন দিনে এখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আসামে বৃষ্টি হতে পারে অন্তত ৩০০ মিলিমিটার। এসব এলাকার বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সিলেট ও কুড়িগ্রাম দিয়ে নেমে আসবে।

ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত বৃহস্পতিবার ৯৭২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১২২ বছরের মধ্যে রেকর্ড। মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।

সিলেট, কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ ও দিরাইয়ে সুরমা নদী, কুড়িগ্রামে ধরলা, চিলমারিতে ব্রহ্মপুত্র, লরেরগড়ে জাদুকাটা, কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি, নাকুয়াগাঁওয়ে ভোগাই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা নদীর পানিও বাড়ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ, ভারতের আসাম, মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এসব পানি বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম এলাকা থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সাগরে নামে। ফলে এসব এলাকার নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বন্যায় আমার বাড়ি ডুবে গেছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একজন প্রতিবেশীর দোতলার ছাদে উঠেছি। আমার মতো গ্রামের আরও অনেকে এখানে আশ্রয় নিয়েছে।

এখনো সেখানে দ্রুত পানি বাড়ছে বলে তিনি জানান।

আক্রান্তদের অনেকে প্রতিবেশীর বাড়ি, নৌকায় আশ্রয় পেলেও গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন। সড়ক বা বাঁধগুলো ডুবে যাওয়ায় এসব প্রাণী রাখার জায়গা পাচ্ছেন না।

সাব-স্টেশনে পানি ঢুকে পড়ায় সুনামগঞ্জ এলাকার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করছে না। শুক্রবার থেকে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের বিষয়কে এখন তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ঢাকাসহ সারাদেশেরর সঙ্গে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সিলেট জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রানওয়ের কাছাকাছি পানি চলে আসায় সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুক্রবার বিকেল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

রংপুরের সাইদুল ইসলাম বলছেন, তিনি ১২ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। বন্যার আগে আগে মাত্র পাঁচ বিঘার ফসল তুলতে পেরেছিলেন। বাকিটা পানির নিচে চলে গেছে।

বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে মধ্যাঞ্চলেও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১২২ বছরে এটি রেকর্ড।

আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির সেই বৃষ্টির পানি খুবই দ্রুত গতিতে সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে নেমে এসেছে। এ জন্য বন্যা অল্প সময়ে সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীসহ কয়েকটি জেলাতেও আগামী কয়েকদিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া উত্তরের জেলাগুলোর পানি নামার সময় সিরাজগঞ্জ টাঙ্গাইলসহ মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতেও বন্যা হতে পারে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া মনে করেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই এপ্রিল মে মাসে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে নদীগুলোতে বিপৎসীমার কাছে পানি ছিল। এখন ভারী বৃষ্টি হওয়ায় অল্প সময়েই সিলেট অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। 


আরও খবর



ভারতর কাছে ১০ লাখ টন গম চাইলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শনিবার ১১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বাংলাদেশ সরকার দ্রুত ১০ লাখ টন গম রপ্তানির অনুমতি দিতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতীয় সরকারকে জানানো হয়েছে, ভারত গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করার আগেই বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ঋণপত্র (এলসি) করা আছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লেখা এক চিঠিতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এসব কথা জানায়। এর একটি কপি ভারতীয় মন্ত্রণালয়টির হাতে আছে।

প্রতিবছর ভারত থেকে ৬৭ লাখ টন গম আমদানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩ লাখ টন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। আর ৫০ লাখ টনেরও বেশি দেশের বেসরকারি বাণিজ্যের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২