Logo
শিরোনাম

আত্মসমালোচনার পথ খোলা রাখুন

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ |

Image

-- আমিনুল ইসলাম কাসেমী :

আমরা মাঝে- মাঝে ভুল করি। বড় ভুল হয় আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের। তবে সে ভুল শোধরানোর চেষ্টা করিনা। বরং কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে তাকে গালমন্দ করে থাকি।

আমরা কেউ চাই না আমাদের কোন সন্তান ভাদাইম্মা হয়ে যাক।কেউ চায়না তার ছেলে কট্টরপন্হী  গ্রুপে যোগদান করুক। এমনকি আজকাল কোন অভিভাবক চায়না তার সন্তান প্রচলিত রাজনীতিতে শরীক হোক বা মিছিল - মিটিং-এ যাক। কিন্তু বর্তমান যে অবস্হা তাতে সন্তানেরা গার্জিয়ানের অপছন্দের  ওইসব কর্মকান্ড টপকিয়ে ভাদাইম্মার স্তর থেকেও উপরে উঠে গেছে। এখন আর স্বাভাবিক অবস্হাতে নেই। বরং বর্তমান তাদের কার্যকলাপগুলো স্কুল- কলেজ- ভার্সিটির ছেলে-মেয়েদের হার মানিয়ে দিচ্ছে।

আমরা কারো পাগড়ি বাঁধা দেখলে ফেরেস্তা মনেকরি। মনেহয় দুনিয়ার সবচেয়ে ভাল মানুষ। কিন্তু বর্তমানে  কিছু কিছু পাগড়ির নিচেও শয়তানে বাসা বেঁধে ফেলেছে সেটা ভেবে দেখিনা। 

এজন্য আত্মসমালোচনার রাস্তা খোলা রাখতে হবে।  নিজের সন্তানদের ভুল হলে সেটা সংশোধনের নিয়্যাতে ধরিয়ে দিতে হবে। যাতে তারা ইসলাহ হয়ে যায়। সামনে থেকে আর ওই ভুলগুলো না করে।

মরহুম আইনুদ্দিন আল আজাদ( রহ,)  একটা মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে "কলরব" গঠন করেছিলেন। বিশেষ করে অপসংস্কৃতির মোকাবেলায় একটা সুস্হ - সুন্দর এবং শালীন সংস্কৃতি জাতিকে উপহার দিবেন।  কিন্তু বর্তমান "কলরব" এর শিল্পিদের যে অবস্হা তাতে আর সুস্হ- সংস্কৃতি বাকি নেই। বিশেষ করে কদিন পর পর "কলরব" এর শিল্পিদের ব্যাপারে যে সব আপত্তিকর আওয়াজ শোনা  যায় সেটাতো জাহেল আর হুজুরদের মাঝে কোন ফারাক নেই।

 "কলরব" এর শিল্পিদের ব্যাপারে আমি কোন  আপত্তি করতাম না। তারা পাগড়ি - জুব্বা খুলে কলরবের সাইনবোর্ড সরিয়ে ওরা যা ইচ্ছে তাই করুক। কোনদিন আমি কথা বলবনা। কিন্তু জুব্বা- পাগড়ি লাগিয়ে  আবার প্রখ্যাত শিল্পি আইনুদ্দিন ( রহ,) এর নাম ভাঙিয়ে নিজের ইচ্ছেমত চলবেন, শরীয়াতের হুকুমের তোয়াক্কা করবেন না, তাহলে সেক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে চরম অন্যায়। 

 কদিন আগে কলরব এর এক শিল্পি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। তার বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ভিডিওগুলো অনলাইনে ঘুরছে।   তার বিয়ের গান নাকি তিন দিনেই একলক্ষ ভিউ হয়েছে। যেটা নিয়ে তিনি খুব শুকরিয়া আদায় করলেন।  তবে  আজব ব্যাপার হল  অধিকাংশ কমেন্টার এবং রিয়েক্টার মহিলা। তারাই ওইসব ভিডিওর আগাগোড়া দেখছে,আর অন্যরকম অনুভূতি ফিল করছে।

দেখলাম, শিল্পিরা গান গাচ্ছে " বিয়ে সুন্নাত মোতাবেক হোক"  

 মানে মুখে এক বুলি আর কর্মে আরেকটা।  ওনাদের কোন জিনিসটা সুন্নাত মোতাবেক হয়েছে?  হিন্দি- বাংলা সিনেমার নায়কদের স্টাইলে শেরওয়ানী আর টোপর পরে কোন সুন্নাত আদায় হয়েছে এখানে?  সারা জীবন পাগড়ি আর জুব্বা পরে গান গাইলেন আর বিয়ের সময় শাহরুখ খান আর সাকিব খানের বেশধরা এটা কোন সুন্নতের আওতায় পড়ে।

আমি এটা নিয়ে কিছু বলতাম না,  শুনেছি তিনি নাকি  যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস পাশ করেছেন। তাহলে একজন আলেম হয়ে এভাবে নায়কের বেশধরা কতটা যুক্তিযুক্ত? 

 বিয়ের আদ্যপান্ত ভিডিও করে ছাড়া হল। শেরওয়ানী গায়ে জড়ানো থেকে নিয়ে ওয়ালীমা সবকিছু ধারণ করে ইউটিউব অনলাইনে ছাড়া হল। আবার বিশাল বহর নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হানা দেওয়া হল, এগুলো কোন সুন্নাতের আওতায় পড়ে? মানে সুন্নাতের কোন খোঁজ নেই, ওদিকে গান গাওয়া হচ্ছে " সুন্নাত মোতাবেক বিয়ে হোক, মানে স্পষ্ট প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।

এই তো বেশীদিন আগের কথা নয়, মরহুম সৈয়দ ফজলুল করীম ( রহ,) এক বিয়েতে বর পক্ষকে গালমন্দ করেছিলেন। ছেলে নাকি দ্বীনদার। বিয়ে পড়ানোর সময় ছেলে এবং অভিভাবকদের বলেছিলেন, আপনারা কেমন দ্বীনদার? মেয়ের বাড়িতে গাড়ির বহর নিয়ে আসলেন এটা কেমন দ্বীনদারী? 

নব্বইদশক এবং এর পরবর্তি সময়গুলোতে দেখেছি, কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে ভিডিও করা আমাদের ওলামায়েকেরাম সে বিয়েতে শরীক হতেন না। বয়কট করতেন। অহেতুক ছবি তোলা,  ভিডিও করা এটা কোন আলেম জায়েজ বলেন নি। আজ পর্যন্ত কোন আলেম বৈধতার ফতোয়া দেয়নি। আর এখন বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ভিডিও করে আপলোড করা হচ্ছে। 

এখানেও আমি সমস্যা মনে করতাম না। যদি ওনারা এভাবে পাগড়ি - জুব্বা লাগিয়ে পাক্কা হুজুর না সাজতেন। অথবা রাজনৈতিক কোন উদ্দেশ্য বা ইসলামী কোন বিষয় প্রতিষ্টার চিন্তাভাবনা থাকত। কিন্তু অহেতুক এবং মানুষকে বোকা বানানোর উদ্দেশ্যে এমন ভিডিও সত্যি আপত্তিকর। এর দ্বারা দলিল হয়ে গেল।  হুজুরেরা বিয়ের শুরুতে শেষ পর্যন্ত ভিডিও করে অনলাইনে ছাড়ে, তারা সিনেমার নায়কদের মত শেরওয়ানী আর টোপর পরে, তাহলে আর আমরা করলে সমস্যা কোথায়? দিনে দিনে মানুষ অহেতুক এবং অনার্থক কাজের দিকে ঝুকে যাবে। এখন তাদের বড় দলিল "কলরব"এর হুজুরদের বিয়ে।

হাদীস শরীফে এসেছে, " ইন্না আ'জমান নিকাহে বারাকাতান আইছারুহু মায়ুনাতান"

অর্থাৎ ওই বিয়েতে বরকত যেখানে আড়ম্বরি কম হয়।  কিন্তু বিয়েতে আজকাল হুজুরেরা, আলেমেরা, পীর সাহেবরা যেভাবে আড়ম্বারিতা দেখাচ্ছেন তাতে কোন বরকত বিয়ে- শাদীতে থাকছেনা। যার কারণে দেখবেন, কদিন পর পর এখন হুজুর শিল্পিদের  বউ ডিভোর্স হচ্ছে। বেশীদিন থাকছেনা। জাহেলদের বিয়েশাদীতে যা হয় আলেমদের বিয়েতে  এখন তাই হচ্ছে। একারণে বিয়ের পরে প্রায় জায়গাতে আজকাল কিছু কিছু হুজুরদের সংসার ভেঙে যাচ্ছে। এর একমাত্র কারণ বিয়েতে সুন্নাত নেই। এরপর জাহেলদের মত কিছু হুজুর শরীয়াত মানছেনা।যে কারণে বিপত্তি ঘটে যাচ্ছে।  

শরীয়াতের গন্ডির মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে।  টাকা পয়সা বেশী হলেই যে খুব বাড়াবাড়ি করতে হবে তা নয়। কেননা এখন তো শিল্পিদের টাকার অভাব নেই। আইতেও টাকা যাইতেও টাকা। তাই বলে "অর্থই যেন অনার্থের মুল"  এটা না হয়ে দাঁড়ায়।

আমি কলরবের বিলুপ্তি চাই না। আমি চাই সংশোধন। তারা নিজেদের ভুলগুলো ঠিক করে সামনে কদম রাখুক।  অপসংস্কৃতির মোকাবেলায় জেগে উঠুক এমনটি চাই।

আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট


আরও খবর



দিল্লিতে রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৯.৯ সেলসিয়াস

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

ভারতের রাজধানীতে মঙ্গলবার রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১২১.৮ ফারেনহাইট) পৌঁছেছে। সরকারের আবহাওয়া দফতর এই কথা জানিয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) বলেছে, তীব্র তাবদাহের পরিস্থিতিতে দিল্লির শহরতলি নরেলা ও মুঙ্গেশপুর দুটি স্টেশনে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবারও একই রকম তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

২০২২ সালের মে মাসে দিল্লির কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১২০.৫ ফারেনহাইট) উঠেছিল বলে সে সময় ভারতীয় গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছিল।

গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ভারতে অস্বাভাবিক নয়, তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে- বছরের পর বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাবদাহ দীর্ঘ, আরো ঘন ঘন এবং আরো তীব্র হতে পারে।

নয়াদিল্লি কর্তৃপক্ষ পানি সঙ্কটের আশঙ্কার কথা বলেছে। একটি তীব্র তাবদাহে কিছু এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্ন ঘটছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্র বুধবার জানিয়েছে, পানির অপব্যয় বন্ধ করতে পানিমন্ত্রী আতিশি মারলেনাকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, অতিশি বলেছেন পানির ঘাটতি মোকাবেলায় আমরা বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি, যেমন অনেক এলাকায় পানি সরবরাহ দিনে দুইবার থেকে কমিয়ে দিনে একবার সরবরাহ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এইভাবে সংরক্ষিত পানি রেশন করা হবে এবং যেসব এলাকায় সরবরাহ দিনে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্থায়ী হয় সেখানে পানির ঘাটতি পূরণে সরবরাহ করা হবে।

আইএমডি স্বাস্থ্যের উপর গরমের প্রভাব সম্পর্কে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যারা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য সতর্ক করেছে।

একই সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রেমাল থেকে ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশে রোববারের ঝড়ে ৩৮ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের একটি ঝড়। এই জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়।

সূত্র : বাসস


আরও খবর



ড. ইউনূসের মন্তব্য দেশের মানুষের জন্য অপমানজনক : আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image



বিডি টু ডে রিপোর্ট:


আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কর ফাঁকি দেওয়ার মামলাকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ পশ্চিমা দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচনা করে। 


ঠিক সেভাবেই ড. ইউনূসের মামলা পরিচালিত হচ্ছে। দেশের যে কোনো নাগরিক আইন ভঙ্গ করলে তার যেমন বিচার হয় ড. ইউনূসেরও সেভাবেই বিচার হচ্ছে।


 তবে তিনি যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন তা অসত্য এবং এসব কথা বাংলাদেশের জনগণের জন্য অপমানজনক।



আজ বুধবার (১২ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউরোপিয়ান দুই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।



আনিসুল হক বলেন, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি মামলা করেছে। সে মামলার ব্যাপারে আমি বলেছি- মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। আদালতে যে মামলা চলমান থাকে সে মামলা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী কোনো কথা বলেন না, সে ব্যাপারটাও তাদেরকে (ইউরোপিয়ান প্রতিনিধি দল) বলেছি।



আরেকটি বিষয় আমি বলেছি- তার বিরুদ্ধে ট্যাক্স না দেওয়ার মামলা রয়েছে। তার একটি মামলায় তিনি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গিয়ে হারার পরে ট্যাক্স দিয়েছেন। অন্যান্য মামলা যেগুলো রয়েছে সেগুলোও ট্যাক্স না দেওয়ার মামলা।


মন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শ্রম আইন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি আইন, ডেটা প্রটেকশন ও সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে কথা হয়েছে। তাদের নির্বাচন কমিশন থেকে একটি টিম এসেছিল সেই টিমে রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কি চিন্তা ভাবনা করছি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং সর্বশেষ এন্টি ডিসস্ক্রিমিনেশন বেল সম্পর্কেও তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। 


তারা ড. ইউনূসের মামলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। এসব ব্যাপারেও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।



আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কবে নাগাদ শ্রম আইন পাস করতে যাচ্ছি এসব তারা জানতে চেয়েছিল। আমি তাদের বলেছি- আন্তর্জাতিক শ্রম আদালতে আমাদের বিরুদ্ধে যে নালিশ করা হয়েছিল, সেই নালিশটার আমরা শেষ চাই। 


আমি তাদের বলেছি শ্রম আইন নিয়ে আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি। শ্রম আইন সংশোধন নিয়েও কাজ করছি। আমার মনে হয় বিষয়টা শেষ করে দেওয়া উচিত। আগামী নভেম্বরে তাদের যে গভর্নিং বডির মিটিং হবে সেখানে আমাদের সমর্থন করার জন্য তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।


ড. ইউনূসের বিষয়ে কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূসের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের দেশ থেকে অনেকগুলো প্রশ্ন এসেছে সেসব বিষয়গুলো তারা পরিষ্কার হতে চেয়েছিলেন। 



ড. ইউনূসের ব্যাপারে যেসব মামলা রয়েছে আমি তাদের সেসব বলেছি। বলেছি- তিনি শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন সেখানে মামলা হয়েছে। তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ১০৮ জন শ্রমিক ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।



আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে নিহত বেড়ে ১০

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

নিজস্ব ডেস্ক:


  ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে নিহত বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে রোববার (২৬ মে) দুইজন এবং সোমবার আটজনের মৃত্যু হয়েছে।


এরমধ্যে পটুয়াখালীতে তিনজন, ভোলা ও বরিশালে দুইজন করে এবং সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় একজন করে রয়েছে।


প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যমতে, রোববার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে শওকত মোড়ল নামে এক বৃদ্ধ মারা যান। একইদিন বিকেলে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝডড়ের প্রভাবে প্লা‌বিত এলাকা থেকে বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে মো. শরীফুল ইসলাম নামে একজনের মৃত্যু হয়।



এ ছাড়া সোমবার (২৭ মে) ভোরে বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় বহুতল ভবনের দেয়াল ধসে ২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন লোকমান ও মোকছেদুল।


ভোলায় ঝোড়ো বাতাসে টিনের ঘর ভেঙে চাপা পড়ে মনেজা খাতুন নামে এক নারী মারা যান। তিনি লালমোহন উপজেলার চর উমেদ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের স্ত্রী। 



একই জেলার দৌলতখানে গাছ ভেঙে চাপা পড়ে মাইশা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। মাইশা দৌলতখান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ম‌নির হোসেনের মেয়ে।


চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকায় দেয়াল চাপায় সাইফুল ইসলাম হৃদয় নামে এক পথচারী মারা যান।


পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে তিনজন মারা গেছেন। এর মধ্যে জেলার দুমকী উপজেলায় গাছচাপায় জয়নাল হাওলাদার নামে (৭০) এক বৃদ্ধ মারা যান। তিনি উপজেলার পাঙ্গা‌শিয়া ইউ‌নিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নলদোয়া‌নি স্লুইসগেট এলাকার বাসিন্দা।


 জেলার বাউফলে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে একটি অফিস ভেঙে চাপা পড়ে মো. আব্দুল করিম (৬০) নামের এক পথচারীর মৃত্যু হয়।


এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রেমাল দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে, এর আগেই ঘূর্ণিঝড়টি তাণ্ডবে বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট তছনছ হয়ে গেছে। বহু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।


এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে গবাদি পশু, মাছের ঘের ও ফসলি ক্ষেত। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।


আরও খবর



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করলো ৫০ জলদস্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

বিডি টু ডে  ডেস্ক:


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকার ১২ বাহিনীর ৫০ জলদস্যু। এর মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুর ১টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ এর এলিট হলে আত্মসমর্পণ করেন তারা। এ ৫০ জনের মধ্যে তিনজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু। 


জলদস্যুদের পক্ষে ১১ জন তাদের অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে জমা দেন।


এ প্রসঙ্গে র‌্যাব বলছে, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। 


এসব মানুষের মধ্যে অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। আর এলাকার স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা প্রতিনিয়ত জলদস্যুদের দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে।



চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। 


আজকের এ আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল জলদস্যুমুক্ত হবার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। ফলশ্রুতিতে এ অঞ্চলের সাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আগামীর দিনগুলোতে আরও বেগবান হবে।



আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নুরে আলম মিনা, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিতি আছেন।



র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমানার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এই সাগরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। 


বিশাল এই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উপার্জনের অন্যতম আশ্রয়স্থলকে কণ্টকাকীর্ণ করে রাখে কিছু অস্ত্রধারী বিপথগামী জলদস্যু। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে র‌্যাবের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে র‌্যাব-৭ এর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল হতে সর্বমোট ৭৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে।’


তিনি বলেন ‘এরআগে র‌্যাব-৭, র‌্যাব-৬ এবং র‌্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে বাঁশখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া এবং সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চল হতে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অবলোকন করার ফলেও এসব জলদস্যুরা আত্মসমর্পণে অনুপ্রাণিত বোধ করে। 


প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতিতে এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করানোর বিষয়টি এক যুগান্তকারী ঘটনা। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।’


জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের মধ্যস্থতা করেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক মীর মোহাম্মদ আকরাম হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আজ চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের চিহ্নিত অস্ত্রের কারিগর ও কুখ্যাত বেশ কয়েকটি জলদস্যু বাহিনীর সর্দার ও সদস্যরা সদলবলে আত্মসমর্পণ করেছে।’


তিনি জানান, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। 


২০১৯ সালে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ৯৬ জন, ২০২০ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন দুর্ধর্ষ বাহিনীর ৩৪ জন জলদস্যু অস্ত্র গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে।


আরও খবর



নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশিত হলো নাটক ‘দ্যা স্লেভ'

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশিত হলো হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর বিখ্যাত উপন্যাস আঙ্কেল থমস্ কেবিন  অবলম্বনে নাটক 'দ্যা স্লেভ'। আজ (০৪ জুন) রাত ৮:৩০ মিনিটে কলা ও বিজ্ঞান ভবনের সামনে নাটকটি পরিবেশিত হয়। 

নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা করেছেন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হোসেন তোকদার । বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিনয় অনুশীলন পরীক্ষার জন্য নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে।


আমেরিকার কেন্টাকি শহরের আফ্রো-আফ্রিকান ক্রীতদাসদের নির্মম শোষণের গল্প 'দ্যা স্লেভ'। হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর বিখ্যাত উপন্যাস আঙ্কেল টমস্ ক্যাবিনকে সঙ্গে করে পান্ডুলিপি নির্মিত হয়েছে। নিগ্রো সৎ ক্রীতদাস টমস ও ছোট শিশু হ্যারিকে বিক্রি করার প্রচেষ্টা থেকে গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। মি. শেলবী একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী,  তার সকল সম্পত্তি বন্দক রেখেছেন দাস ব্যবসায়ী মি. হ্যালীর কাছে। মি. হ্যালির বন্দকী অর্থ পরিশোধের জন্য বাধ্য হয়ে টম ও হ্যারিকে বিক্রি করো দেয় মি. শেলবী, এই খবর জানতে পেরে হ্যারির মা এলিজা হ্যারিকে নিয়ে পালিয়ে যায়।  অন্যদিকে এলিজার স্বামী জর্জ হ্যারিস এই বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি নিয়ে কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।  এলিজা পালানোই মি. হ্যালী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং টমকে হাতে পায়ে ব্যারি পড়িয়ে নিয়ে যায়। নাটকটির ঘটনা প্রবাহে মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকার দাসত্বের অনৈতিকতা এবং অমানবিকতাকে  চিত্রিত করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রো-আফ্রিকান ক্রীতদাসদের দুর্দশার ও নির্যাতনের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। 

নির্দেশক মোহাম্মদ মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, আমেরিকান ক্রীতদাসদের ইতিহাস এবং আঙ্কেল টমস্ কেবিন উপন্যাসকে একসূত্রে মিলিয়ে ক্রীতদাসদের শোষণ নির্যাতনের জীবন গল্প সকলের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস তিনি করেছেন। 

উল্লেখ্য, নাটকটির বিশেষ দৃশ্যে অভিনয় করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পরিবেশনা বিভাগের ২০২১-২০২২, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা, ড্যান্স ক্লাব ও ১৫ জন শিশু কিশোর।


আরও খবর