Logo
শিরোনাম

আওয়ামী লীগ নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, আহত ১

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা:

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে শওকত আলী নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই আওয়ামী লীগ নেতা অক্ষত থাকলেও গুলিবিদ্ধ হয়েছে এক কলেজ ছাত্র।


শুক্রবার (৩১ মে) রাত পৌনে ১২টার দিকে বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মকিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আল আমিন স্থানীয় যমুনা ডিগ্রি কলেজের ছাত্র।



বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল বারিক জানান, রাতে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মকিমপুর বাজারে নিজ বাড়ির সামনের একটি দোকানে দাড়িয়ে ছিলেন শওকত আলী। অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা দিয়ে আসা তিন তরুনকে দেখে সন্দেহ হলে দোকানে প্রবেশ করেন শওকত। 


এসময় শওকতকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় তারা। গুলিটি গিয়ে লাগে দোকানে উপস্থিত কলেজছাত্র আল আমিনের পায়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।    





আরও খবর



দেশের ১২ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

ঢাকাসহ দেশের ১২ অঞ্চলের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসময় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপিতে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আজ শনিবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।


আরও খবর



নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, খাদ্য ও সুপেয় পানি শঙ্কটে এলাকাবাসি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডেস্ক:



ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান জানান, এরই মধ্যে জেলার কলমাকান্দায় উব্ধাখালি নদীর পানি বেড়ে উপজেলা সদর, বড়খাপন, পোগলা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ঢুকেছে। 



এসব এলাকার বেশকিছু সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।


তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার, আশ্রয়ণকেন্দ্র, উদ্ধারকারী দল, মেডিকেল টিমসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান।


কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।



নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, উব্ধাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও সোমেশ্বরী, কংশ, ধনু ও মগড়াসহ সবকটি নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই। এতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



 পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বসত ঘরে পানি উঠবে এবং সুপেয় পানি ও খাবার সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।



ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান জানান, এরই মধ্যে জেলার কলমাকান্দায় উব্ধাখালি নদীর পানি বেড়ে উপজেলা সদর, বড়খাপন, পোগলা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ঢুকেছে।



 এসব এলাকার বেশকিছু সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জনসাধারণের চলাচলে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।


তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার, আশ্রয়ণকেন্দ্র, উদ্ধারকারী দল, মেডিকেল টিমসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান।


আরও খবর



ভারতের বিপক্ষে হারের কারণ ব্যাখ্যা করলেন তামিম

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ক্রীড়া ডেস্ক:


সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের দেওয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। 


এতে ৫০ রানে পরাজিত হয় শান্ত বাহিনী। এই ম্যাচে টাইগারদের রান তাড়ার অ্যাপ্রোচ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।


শনিবার (২১ জুন) ক্রিকইনফোর ম্যাচ পরবর্তী লাইভ অনুষ্ঠানে তামিম বলেন, আমার মনে হয়; অ্যাপ্রোচের দিক থেকে বাংলাদেশ দল হেরেছে। ভারতের কুলদ্বীপ যাদব ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটারদের অ্যাপ্রোচের কারণেই সে লুপ এবং ফ্লাইট দিতে পেরেছে...।


‘শুরু থেকে আমার মনেই হয়নি তারা (বাংলাদেশের ব্যাটাররা) রান তাড়া করছে। বাংলাদেশ হয়তো ১৪৬ রান করেছে। কিন্তু রিশাদ হোসেনের ১০ বলে ২৪ রান তাদের ওই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমার কোনও পয়েন্টেই মনে হয়নি বাংলাদেশ রান তাড়া করছিল।’


পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাটাররা যখন রান তুলতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন টস জিতে ভারতের বিপক্ষে বোলিং বেছে নেওয়ায় অনেকের মতোই অবাক হয়েছেন তামিম ইকবালও। তিনি বলেন, পুরো আসরেই বাংলাদেশের ব্যাটিং হতাশাজনক। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজে বার করতে হবে।


আবারও সাকিবকে খোঁচা মারলেন শেবাগ

‘ব্যাটাররা যখন রান করে, তখন ১৬০-১৭০ রান তাড়া করা যায়। কিন্তু যখন আপনি জানেন ব্যাটাররা হিমশিম খাচ্ছে... আমি অবাক হয়েছিল বাংলাদেশ আগে বোলিং নেওয়ায়। এই ম্যাচে দলের অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আমাকে অবাক করেছে।’


এ ছাড়া একাদশ থেকে তাসকিনকে বাদ দেওয়ায় অবাক হয়েছেন তামিম। এই বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, তাসকিন না খেলায় আমি অবাক হয়েছি। দুই স্পিনার (সাকিব ও মাহেদী) অনেক রান খরচ করেছে। একটা সময় তানজিম সাকিবের জোড়া শিকারে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত।


‘তাসকিন থাকলে ওই সময় বাংলাদেশ ভারতকে আরও বেশি আক্রমণ করতে পারতো। আমরা শিভব দুবের শর্ট বলে দুর্বলতার কথা জানি। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট গতি ছিল তাসকিনের।’


মোস্তাফিজকে ভালো ব্যবহার করতে না পারা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক টাইগার অধিনায়ক। তামিম বলেন, বাঁহাতি ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে রোহিতের দুর্বলতার কথা অনেকেই বলেন। ম্যাচে এটার একটা প্রভাব পড়তে পারতো। বাংলাদেশ শুরুটা করতে পারতো বাঁহাতি পেসারকে দিয়েই।


`ভারত ১৯৬ রান করেছে ঠিকই, কিন্তু রোহিত যেভাবে শুরুটা করে দিয়েছে সেটা তার দলের জন্য কাজে দিয়েছে। তানজিদ আগের ম্যাচগুলোতে নতুন বলে ভালো করেছে।



 কিন্তু তাকে নতুন বল দেওয়া হয়নি। কেন আপনাকে শুরু একজনের (রোহিত) জন্য পুরো সেটআপ বদলাতে হবে, যখন কেউ (তানজিম) অসাধারণ বোলিং করছে?'



আরও খবর



আত্রাইয়ে বন্যার আগেই একাধীক পাকা সড়ক ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

নওগাঁর আত্রাইয়ে আত্রাই-সিংড়া বাঁধ কাম পাকা সড়কের ডুবাই নামকস্থানে এবং আত্রাই-বান্দায়খাড়া বাঁধ কাম পাকা সড়কের লালুয়া নামকস্থানে ধ্বসে গেছে। এতে উপজেলা সদরের সাথে সদরের পূর্বা ল এবং পশ্চিমা অ লের বাসিন্দারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছেন। এলাকাবাসী বলছেন এখনো বন্যার পানির চাপ শুরুই হয়নি,এর মধ্যেই যেখানে সেখানে বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যাচ্ছে। ফলে ভরপুর বন্যা হলে বাড়ী-ঘর রক্ষায় চিন্তিত হয়ে পরেছেন এলাকাবাসী। এদিকে সড়ক ধ্বসে যাবার খবর পেয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি,নওগাঁ জেলা প্রশাসক,নওগাঁর পাউবির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ঠরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বৈঠাখালি গ্রামের জয়নুলসহ স্থানীয়রা জানান, একটানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির কারনে নদ-নদীতে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো নদীতে সেরকম পানির চাপ শুরু হয়নি। তার পরেও বৃহস্পতিবার রাতে আত্রাই থেকে নাটোরের সিংড়ার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কের শিকারপুর এলাকায় গুড় নদীর বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন শুক্রবার ধ্বসে যাওয়া সড়ক মেরামত করে। এর পর শুক্রবার রাতে ওই ভাঙ্গনের প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বদিকে বৈঠাখালির ডুবাই নামক ¯øুইচগেট সংলগ্ন স্থানে পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহনসহ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া শনিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম এলাকায় আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়কের লালুয়া নামকস্থানে বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে উপজেলা সদরের সাথে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লালুয়া গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন,সড়কের নিচ দিয়ে আগে থেকেই সামান্য করে পানি বের হতো। শনিবার সকালে হঠাৎ করেই পাকা সড়ক ধ্বসে পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। 

ডুবাই ধ্বসে যাওয়া সড়ক দেখতে আসা আব্দুর রশিদ,হামিদুর রহমান এবং সফিকুল ইসলাম বলেন,এখনো নদীতে পানির চাপ শুরু হয়নি। সামান্য পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধের নিকট বর্তি আসতেই একাধিক স্থানে ধ্বসে গেলো। তাহলে ভরপুর বন্যা হলে তো আমাদের বাড়ী-ঘর থাকবেনা। আসন্ন মৌসুমে বন্যা হলে কিভাবে বাড়ী-ঘর রক্ষা করবেন তা নিয়ে চরম চিন্তিত হয়ে পরেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।তবে এখনই বাঁধ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ঠদের অনুরোধ জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

এদিকে হঠাৎ করেই একাধীক পাকা সড়ক ধ্বসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি এ্যাড: ওমর ফারুক সুমন,নওগাঁ জেলা প্রশাসক গোলাম মাওলা,নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান,আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানান,শনিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত আত্রাই নদী আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বিপদ সিমার ১৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। 

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন,দীর্ঘ দিন আগের নির্মিত বাঁধ কাম পাকা সড়ক ইঁদুরে এবং শেয়ালে গর্ত করে নষ্ট করে ফেলেছে। ফলে পানি আসার সাথে সাথেই সড়কের নিচ দিয়ে পানি পার হয়ে ধ্বসে যাচ্ছে। ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো মেরামতের কাজ চলছে। আসা করছি দ্রæতই চলাচল স্বাভাবিক হবে। এছাড়া বাঁধকাম পাকা সড়কে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।


আরও খবর



সেন্ট মার্টিনে প্রকট খাদ্য সঙ্কট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বাংলাদেশের দক্ষিণে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে খাদ্য সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে৷ দ্বীপ থেকে উপজেলা টেকনাফের নৌ যোগাযোগ ২০ দিন ধরে বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের কারণে নাফ নদী ব্যবহার করা যাচ্ছে না৷ নৌপথ ছাড়া যোগাযোগের আর কোনো তেমন পথ নাই৷

আরেকটি বিকল্প সেন্ট মার্টিন থেকে জাহাজযোগে কক্সবাজারের সাথে যোগাযোগ৷ এটা সময়সাপেক্ষ এবং শুধু জাহাজ দিয়েই সম্ভব৷

তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, 'এখন সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দারা চাইলে নাফ নদী ব্যবহার করে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াত করতে পারেন

আর আইএসপিআর আর জানিয়েছে, 'সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের একাধিক জাহাজ মিয়ানমারের জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় থেকে নিয়মিত টহল দিচ্ছে৷

 

সেন্ট মার্টিন টেকনাফের একটি ইউনিয়ন৷ জনসংখ্যা ১০ হাজারের মতো৷ সেন্ট মার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, 'এই ২০ দিনে মাত্র একবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেন্ট মার্টিনে খাদ্যসামগ্রী পঠানো হয়েছে৷ আর সেটা ছিল জেলে এবং যারা সরকারের ভিজিএফ কার্ডধারী৷ ফলে এখন খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে৷

তিনি বলেন, 'সেন্ট মার্টিনের কিছু মানুষ জেলে আর অধিকাংশই কৃষক৷ চাহিদার ২০ ভাগ খাদ্যও এখানে উৎপাদন হয় না৷ জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ আছে৷ বন্ধ আছে পর্যটন৷ ফলে আয়ের উৎস যেমন বন্ধ তেমনি বাইরে থেকে খাদ্য আনারও কোনো সুযোগ নাই৷

'আর তিন-চার দিনের মধ্যে যদি খাদ্য সরবারাহ করা না হয় তাহলে অনেককেই অনাহারে থাকতে হবে,' জানান তিনি৷

একই কথা বলেন সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান৷ তিনি বলেন, 'আমাদের এখানে ঈদ নাই৷ আতঙ্কে আর খাদ্য সংকটে আমাদের দিন কাটছে৷ দ্বীপের মানুষের হাতে কোনো কাজ নেই৷ নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা কাজের জন্য কোথাও যেতে পারছেন না৷ দোকানে যে চাল, তেল, ডাল পাওয় যাচ্ছে তার দাম অনেক৷ শাকসবজি শেষ হয়ে গেছে৷ চলাচল শুরু না হলে সামনের দিনে আমরা কী খাবো তাই ভেবে পাচ্ছি না৷

'আমাদের খোঁজ কেউ নিচ্ছে না৷ না জনপ্রতিনিধি, না প্রশাসন৷ একবার মাত্র খাদ্য পাঠিয়ে তারা চুপচাপ আছেন৷ ওই খাদ্যে কয়জনের হয়!

টেকনাফ স্পিডবোট মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলম বলেন, 'গত দু'দিন ধরে আমরা গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছি না৷ তবে দূরে মিয়ানমারের সমুদ্র সীমায় তাদের যুদ্ধজাহাজ এখনো অবস্থান করছে৷ আর বাংলাদেশের সমূদ্র সীমায় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের দুটি জাহাজ টহল দিচ্ছে৷ আমরা খুব কষ্টে আছি৷ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্বীপের বাইরে নেয়ার কোনো সুযোগ নাই৷ একটির নামমাত্র স্বাস্থকেন্দ্র আছে সেখানে সাধারণ রোগেরও চিকিৎসা সম্ভব নয়৷ আর খাদ্য সামগ্রী দ্রুত ফুরিয়ে আনছে৷

'আমাদের এখন দরকার নাফ নদীর চ্যানেলটি নিরাপদ ও উন্মুক্ত করে দেয়া৷ তা না হলে আসলে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়েই থাকব৷ কারণ সমূদ্র পথে জাহাজ দিয়ে কক্সবাজারে আমাদের যোগাযোগ সম্ভ নয়৷ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বোট চালক, মাঝিমল্লাররাও বেকার হয়ে পড়েছেন৷

কক্সবজারের জেলা প্রশাসক জানান, 'তাদের খাদ্যের প্রয়োজন হলে আমরা আরো খাদ্য পাঠাবো৷ আর এখন তারা চাইলে নাফ নদী ব্যবহার করতে পারেন৷

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ওখানে যা হচ্ছে তা তো মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার৷ সেন্ট মার্টিনের লোকজন আবহাওয়ার কারণে এখন নৌপথ ব্যবহার করছেন না৷ তারা তো এই পরিস্থিতির মধ্যেই আসাযাওয়া করেন৷ তারপরও আমরা আরো একটু পরীক্ষা করে তাদের এই নৌপথ ব্যবহারের জন্য বলব৷ তবে এখন ব্যবহারে কোনো বাধা নেই৷

এদিকে আইএসপিআর এক বিবৃতিতে বলেছে, 'বর্তমানে মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমার নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ অপারেশন পরিচালনা করছে৷ মিয়ানমার নৌবাহিনী সেন্ট মার্টিনের অদূরে মিয়ানমারের সমুদ্রসীমায় অবস্থানের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অবহিত করছে৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১২ জুন প্রতিবাদ জানায়৷

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের একাধিক জাহাজ মিয়ানমারের জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় থেকে নিয়মিত টহল দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়৷

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যৌথ অপারেশন পরিচালনা করছে৷ মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির এই সংঘর্ষের কারণে নাফ নদী এবং নদী-সংলগ্ন মোহনা এলাকায় বাংলাদেশি বোটের উপর অনাকাঙ্খিত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে৷ এই ধারাবাহিকতায় মিয়ানমার নৌবাহিনী সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অদূরে মিয়ানমারের সমুদ্রসীমায় এবং নাফ নদীর মিয়ানমার সীমানায় অবস্থান করে মিয়ানমারের দিকে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করছে৷ একই সঙ্গে আরাকান আর্মিও মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ ও বোট লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করছে৷ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ড এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় চলমান রয়েছে৷

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইং-এর মহাপরিচালক মিয়া মোহাম্মদ মইনুল কবিবের কাছে সোমবার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আইএসপিআর বিবৃতিতে যা বলেছে এর বাইরে আমাদের কাছে আর কোনো বাড়তি তথ্য নেই'

এদিকে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক সামরিক অ্যাটাশে ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল অব. এম শহীদুল হক বলেন, 'নৌবাহিনী এখন যে টহল দিচ্ছে এটা আরো আগে করলে ভালো হতো৷ তাহলে সেন্ট মার্টিনের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতো না৷ এখন দরকার দ্রুত নাফ নদীর চ্যানেলটি নিরাপদ করে সেন্ট মার্টিনের যোগাযোগ চালু করা৷'

তবে নতুন আরেকটি সমস্যার কথা বলেন তিনি৷ তিনি বলেন, 'আরকান আর্মি কিন্তু রোহিঙ্গা বিরোধী৷ তারা বুধিডং ছেড়ে রোহিঙ্গাদের চলে যেতে বলেছে৷ এর আগে তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে৷ এখন ওই রোহিঙ্গারা কোন দিকে মুভ করে তা বাংলাদেশের নজরে রাখা উচিত৷ তা নাহলে নতুন একটি সংকট হতে পারে৷

তার কথা, 'সেন্ট মার্টিন নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা না জেনে শুনে কথা বলছেন৷ সেন্ট মার্টিন কোনো পক্ষেরই টার্গেট না৷ আমরা মাঝখানে পড়ে গেছি৷ তবে আমাদের শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে৷

একই ধরনের কথা বলেন মিয়ানমারের সিটুয়েতে বাংলাদেশের সাবেক মিশন প্রধান মেজর অব. মো. এমদাদুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, 'আরাকান আর্মির নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের এখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে৷ বলা হচ্ছে, তাদের হয়ে যুদ্ধ করলে নাগরিকত্ব দেয়া হবে৷ এতে আমাদের এখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হতে পারে৷ সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷

তিনিও মনে করেন, সেন্ট মার্টিন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বা আরকান আর্মির টার্গেট নয়৷ তাই এব্যাপারে রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বহীন কথা বলা উচিত নয়৷ তবে বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই শক্ত অবস্থানের জানান দিতে হবে৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরও খবর