Logo
শিরোনাম

বাংলাদেশের সাহস-গৌরব ও সততার প্রতীক

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সাহস-গৌরব ও সততার প্রতীক। পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যয়, দৃঢ় মনোবল ও আস্থার প্রতীক। ২৫ জুন নতুন সম্ভাবনা, নতুন দিগন্ত নিয়ে যাত্রা করছে পদ্মা সেতু। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই এক বিস্ময়। প্রবল স্রোতের এই পদ্মায় সেতুটি তৈরি করতে আধুনিক মানের সব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পাঁচটি বিশ্বরেকর্ডও গড়েছে এই সেতু। সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে এটির নির্মাণে। খরস্রোতা পদ্মায় পানিপ্রবাহ বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন (ব্রাজিল) নদীর পরেই এর অবস্থান।

এ সেতুর প্রথম বিশ্বরেকর্ডটি হলো- মাটির ১২০ থেকে ১২২ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো (প্রায় ৪০ তলা) পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো সেতুতে পাইল এত গভীরে প্রবেশ করাতে হয়নি। এসব পাইল তিন মিটার ব্যাসার্ধের। বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে পাইলিং প্রয়োজন হয়নি এবং মোটা পাইল বসানো হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। দ্বিতীয় রেকর্ড হলো, ভূমিকম্পের বিয়ারিং সংক্রান্ত। এই সেতুতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের’ সক্ষমতা হচ্ছে ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এর পরের বিশ্বরেকর্ড হলো, পিলার এবং স্প্যানের মাঝে যে বিয়ারিং থাকে সেটি। এখানে ১০ হাজার ৫০০ টন ওজনের একেকটি বিয়ারিং ব্যবহৃত হয়েছে। পৃথিবীতে এর আগে এমন বড় বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়নি কোনো সেতুতে।

অন্য রেকর্ডটি হলো, নদী শাসন-সংক্রান্ত। ১৪ কিলোমিটার (১.৬ মাওয়া, ১২.৪ জাজিরা) এলাকা নদী শাসনের আওতায় আনা হয়েছে। এই নদী শাসনে খরচ হয়েছে ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। পরের রেকর্ডটি ব্রিজে ব্যবহৃত ক্রেন। পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি আনা হয়েছে চীন থেকে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুনতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। সাড়ে তিন বছরে মোট খরচ হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশে^ প্রথম এই ব্রিজ বানাতেই এত দীর্ঘদিন ক্রেনটি ভাড়ায় থেকেছে। এই ক্রেনটির বাজারদর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আরেকটি রেকর্ড পদ্মা সেতুই বিশে^ প্রথম যেটি কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে।

ব্রাজিলের আমাজন নদীর পর প্রমত্তা পদ্মা বিশ্বে খরস্রোতা নদীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের পারাপারের জন্য উন্মোচিত হবে নবদিগন্তের দুয়ার। দ্বিতল পদ্মা সেতু দিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে সহজেই। পুরো সেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২টি। প্রতিটি পিলারের রাখা হয়েছে ছয়টি পাইল। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হয়েছে। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো দেশের দীর্ঘতম এ সেতুটির আয়তন ৬.১৫ কিলোমিটার।

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে গেলে, ২০১২ সালের জুলাই মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন যে, সরকারের নিজস্ব তহবিল দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবেন। ২০১৬ সালে কানাডিয়ান সুপ্রিম কোর্র্টও পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে মামলাটি খারিজ করে দেয়। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ জয়লাভ করে।

আমাদের যোগাযোগ ছিল একসময় নদীনির্ভর। এ ক্ষেত্রেও বাধা ছিল অসংখ্য নদণ্ডনদী। যেকোনো সড়ক তৈরি করতে গেলেই ছোট-বড় নদী অতিক্রম করতে হতো। একসময় উত্তরাঞ্চলের মানুষ কখনো ভাবতেই পারেনি সকালে রওনা দিয়ে দুপুরে ঢাকা পৌঁছে যাবে। আবার কাজ শেষ করে সেদিনই ফিরে আসা সম্ভব হবে। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতুর উদ্বোধন করা হয়। সে সময়েই বহুপ্রতীক্ষিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। আরো বিশদভাবে বলতে গেলে এই সেতু দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে এই সেতু আসলেই দেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া এই সেতুটি ভবিষ্যতে ট্রান্স-এশীয় রেলপথের অংশ হবে। তখন যাত্রীবাহী ট্রেন যত চলবে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি চলবে মালবোঝাই ট্রেন। ডাবল কনটেইনার নিয়ে ছুটে চলবে ট্রেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে মোংলা ও পায়রা বন্দর। অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন সোনালি স্বপ্ন এবং দেশের প্রবৃদ্ধিতে এ সেতু ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘুরে যাবে দ্রুত। বাড়বে জীবনযাত্রার মান ও কর্মসংস্থান। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য জেলার অধিবাসীদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধক ছিল যমুনা নদী। এ নদীর ওপর যখন বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মিত হলো, পাল্টে যায় অর্থনীতির গতিপথ।

পদ্মা সেতু কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, শিক্ষা, বাণিজ্য- সব ক্ষেত্রেই এই সেতুর বিশাল ভূমিকা থাকবে। দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটা ও সুন্দরবনসংলগ্ন ছোট ছোট বিভিন্ন দ্বীপ পর্যটন উপযোগী করা যাবে। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন ও পায়রা বন্দর ঘিরে দেখা দেবে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সড়ক ও রেল- দুই পথেই দক্ষিণ বাংলার মানুষ অল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে। সেতুটির কারণেই প্রথমবারের মতো পুরো দেশ একটি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোতে চলে আসবে। দক্ষিণ বাংলার গ্রামেও পরিবর্তনের হাওয়া লাগবে। এ অঞ্চলের কৃষক, মৎস্যজীবী, তাঁতি, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তার সমাবেশ যে রাজধানী ঢাকা, তার সঙ্গে অনায়াসে সংযুক্ত হতে পারবেন। অন্যদিকে তারা রাজধানী থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারবেন তাদের গ্রামের ও আশপাশের এসএমই উদ্যোগগুলোর জন্য। এরই মধ্যে পদ্মা সেতু হবে শুনেই ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হতে শুরু করেছে। পদ্মা সেতুর দুই পাড়েই এক্সপ্রেসওয়ের পাশের জমির দাম তিন-চারগুণ বেড়ে গেছে।

নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, আবাসন প্রকল্প, রিসোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট ও নানা ধরনের এসএমই উদ্যোগ স্থাপনের হিড়িক পড়ে গেছে। খুলনা ও বরিশালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের প্রসার ঘটতে শুরু করেছে। কুয়াকাটায় পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটছে দ্রুতগতিতে। আগামী দিনে বিকাশের এ ধারা আরো বেগবান হবে। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেলের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট অবকাঠামোও স্থাপিত হবে। এর ফলে কলকাতার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এর প্রভাব বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের পণ্যসেবার পরিমাণ বাড়বে। নতুন নতুন জাহাজ ভিড়বে। ইন্টারনেট সেবা সহজেই পেলে দক্ষিণাঞ্চলে ডিজিটাল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা বাড়বে। আর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সহজলভ্য হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশও ঘটবে। কৃষিসহ দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উৎপাদন, সেবা, পর্যটন, শিল্প-বাণিজ্যেও বিনিয়োগ বাড়বে। বাড়বে কর্মসংস্থান। আর সেটা হলে এখন যে জলবায়ু চ্যালেঞ্জের শিকার অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক কাজকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের সংখ্যা কমে আসবে। দক্ষিণ বাংলায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন নতুন শহরও গড়ে উঠবে।

পদ্মা সেতু ঘিরে পদ্মার দুই পাড়ে সিঙ্গাপুর ও চীনের সাংহাই নগরের আদলে শহর গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা রয়েছে। নদীর দুই তীরে আসলেই আধুনিক নগর গড়ে তোলা সম্ভব। তবে সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। আর প্রতি বছর দারিদ্র্য নিরসন হবে শূন্য দশমিক ৮৪ ভাগ। এর মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ৬ কোটি মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু। একসময় দেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা দেখা দিত। এখন মঙ্গার কথা আর তেমন একটা শোনা যায় না। বঙ্গবন্ধু সেতু উত্তরাঞ্চলের এই মঙ্গা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ঠিক একইভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো এখনো শিল্পের দিক দিয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এ এলাকার বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হলে সবার আগে উপকার হবে এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর। কারণ পদ্মা সেতুর কল্যাণে ওইসব এলাকায় ব্যাপক আকারে শিল্পায়ন হবে, লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষের আয় বাড়বে এবং জীবন-জীবিকায় পরিবর্তন আসবে।

২০৩৫-৪০ সালে বাংলাদেশ যে উন্নত দেশ হবে, সেক্ষেত্রে এই সেতু নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বপ্নের এই সেতুকে কেন্দ্র করেই সেতু অর্থনীতির সেতুবন্ধন ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের পথে। তাছাড়া পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, এটি আমাদের উন্নয়ন, অহংকার, অহংকারের প্রতীক। আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়, যোগ্যতা সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রত্যয়ের ফসল। বিশ্বের অন্যতম সুখী দেশের পথে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।


লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




হালকা থেকে মাঝারি ও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : গরমে হাঁসফাঁস মানুষের জীবন। এ অবস্থায় তাপপ্রবাহ কমার তেমন কোনো সুসংবাদ না থাকলেও বৃষ্টি হতে পারে। দেশের আট বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি ও বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই বৃষ্টির প্রবণতা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী ও পাবনা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার (২২ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির দেখা মিলেছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে সাতক্ষীরায় ৩৫ মিলিমিটার। এ সময় ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বর্ষণ হতে পারে। রাজশাহী ও পাবনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

অন্যদিকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর নৌ হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




বাংলাদেশ - চীনের চার চুক্তি

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে চারটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কচা নদীর ওপর নির্মিত সেতু হস্তান্তর, সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি নবায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেরিন সায়েন্সেস শিক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা। এই চারটি দলিলে দুই দেশ স্বাক্ষর করেছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন। ববিবার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টার আলোচনার মধ্যে এক ঘণ্টা ছিল দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এরপর চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়েছে। এর মধ্যে কোনটা চুক্তি আর কোনটা সমঝোতা স্মারক পরে জানানো হবে।

 তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে চীনের চুক্তি হবে। চীনের দেওয়া ঋণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

পিরোজপুরে কচা নদীর ওপর যে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মিত হয়েছে, তা হস্তান্তর করা হবে একটি চুক্তির আওতায়। পিরোজপুর থেকে খুলনার পথে প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই সেতু চীনের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




সদরপুরে চাঁদা না পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীর উপর শিপন বাহিনীর হামলা

প্রকাশিত:সোমবার ০১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:  সদরপুরে চাঁদা না পেয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীর উপর হামলা তিন লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে ফরিদপুরের সদরপুরে খলিল খান নামে এক ব্যক্তির উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

গত ২৮/৭/২০২২ শুক্রবার এই ঘটনাটি ঘটে হামলার শিকার ওই ব্যক্তি বর্তমানে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরজমিনে ও এলাকাবাসী জানায় ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শিপন মিয়া বেশ কিছুদিন ধরে খলিল খানের নিকট তিন লক্ষ টাকা চাঁদা অথবা বাড়ৈরহাট বাজারে খলিল খানের ৬টি দোকান থেকে একটি দোকান তার নামে করে দেয়ার দাবি করে আসছিল। 

পাশাপাশি চাঁদা অথবা দোকান না দিলে তার বাজারের সব দোকান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৮/৭/২০২২ শুক্রবার বিকাল আনুমানিক পাঁচটার দিকে বাড়ৈরহাট বাজারে আইয়ুব খানের কাপড়ের দোকানের সামনে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী মোঃ শিপন মিয়ার নেতৃত্বে ১/মোঃ শফি মোল্লা পিতাঃ মৃত বারেক মোল্লা, ২/হাসেম শেখ, পিতাঃ মৃত এলেম শেখ, ৩/একলাস বেপারী, পিতাঃ মৃত মেহের ব্যাপারি, ৪/লাভলু মোল্লা, পিতাঃ মৃত শামসু মোল্লা, ৫/মোহাম্মদ নাঈম শেখ, পিতাঃ সরোয়ার শেখ, ৬/মিন্টু খান, পিতাঃ মৃত ইউনুস খান, ৭/জিতু সরদার, পিতাঃ মুসা সরদার, ৮/তোতা তালুকদার, পিতাঃ মালেক তালুকদার সহ ১৪-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী পিস্তল, হকিস্টিক, লোহার রড, বাঁশের গোড়ালি, লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে খলিল খানের উপর হামলা করে। এক সময় খলিল খানের চিৎকারে বাজার এবং বাজারে আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা খলিল খান কে মুমূর্ষ অবস্থায় ফেলে রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। 

পরবর্তীতে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সদরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়, তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তিনি বর্তমানে এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ৯ জনকে আসামী করে থানায় একটা মামলা দায়ের করা হয়েছে যার নং ১২/৮৩।


আরও খবর



বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত

পলাতক আসামি আলাউদ্দীন গ্রেফতার

প্রকাশিত:শনিবার ১৬ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ঃ

চাঞ্চল্যকর বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি  আলাউদ্দীনকে (৩২)গ্রেফতার করেছে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানা পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৫ জুলাই) ভোরে আলাউদ্দীনের শ্বশুর বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকা হতে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করে আটোয়ারী থানা নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে শনিবার ১৬ (জুলাই) দুপুরে চীফজুডিসিয়ার মেজিস্ট্রেট আদালতে হাজির  করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অলরাম কার্জী আসামিকে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামী আলাউদ্দীন উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর ভূমি অফিস পাড়ার মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে। ওই সময় সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। 

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে কিছু দুষ্কৃতিকারী। আলোচিত এ হত্যাকান্ডে বিজ্ঞ আদালত ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদন্ড এবং বাকী ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আটটি আপিল ও সাতটি জেল আপিল করেন আসামিরা। এসব আপিল ও ডেথ্ রেফারেন্সের শুনানি একসঙ্গে নিয়ে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট।

এদিকে আটোয়ারী পুলিশ জানায়,সুত্রাপুর থানার মামলা নং -৮/ডিসেম্বর ২০১২, জি.আর -৩৬৭/২০১২ মোতাবেক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, নম্বর -৪ এর বিজ্ঞ বিচারক কর্তৃক ইস্যুকৃত ওয়ারেন্টের সুত্র ধরে ওই মামলার ১৩ নম্বর পলাতক আসামি আলাউদ্দীনকে আটক করা হয়

এছাড়াও আলাউদ্দীনের নামে সুত্রাপুর থানায় আলোচিত এ ঘটনার পূর্বে আরেকটি মামলায় তার ওয়ারেন্ট ইস্যু ছিল। যার মামলা নম্বর-১৫/নভেম্বর ২০১২, জি.আর ৩৫০/২০১২।

মামলার পর থেকে সে ঢাকার কোনাবাড়ী সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিল। পলাতক থাকা অবস্থায় প্রেম করে ২০১৬ সালে বিয়ে করে সে।

আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সোহেল রানা আলাউদ্দীনের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় (১৫ জুলাই) তাকে শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আটোয়ারী থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে  (১৬ জুলাই) সকালে আলাউদ্দীনকে হাজির করলে  পঞ্চগড় দুপুরে আদালতের নির্দেশ ক্রমে জেল হাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা 


আরও খবর



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে ৩ দিন বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধ রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধ রাখলে গাড়িতে জ্বালানি তেলের ব্যবহারও কম হবে। অন্য দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

কোভিডের কারণে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এর মধ্যে আবার বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধের এ সুপারিশ করব। বাকিটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা চাইলে এটা করতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন বাসায় থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে তিন দিন বন্ধ রাখলে অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এতে ‘কার হলিডে’ করার মতো পদক্ষেপও আছে। বিদেশের আদলে কার হলিডে দেওয়া অর্থাৎ সপ্তাহে এক দিন গাড়ি বন্ধ রাখা।

এছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে বড় বড় শপিংমল পালাক্রমে (বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী) বন্ধ রাখার কথাও চিন্তা করছে সরকার। বর্তমানে রাত ৮টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

এদিকে অকটেন-পেট্রলের দাম আবার বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই এ ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা আসতে পারে। এর মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভর্তুকি কমিয়ে আনতে চায় সরকার।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার মাধ্যমে সরকারের প্রত্যাশিত সাশ্রয় হচ্ছে না। বিপিসি থেকে জ্বালানি বিভাগকে জানানো হয়েছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সাশ্রয়ের মাধ্যমে মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের মাত্র ৭-৮ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় হয়। দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়, বিশেষ করে ডিজেল ব্যবহার হয়, তার ৯০ শতাংশই ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। ফলে সরকার পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল কমিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার আপাতত অকটেন এবং পেট্রলের দাম একটু বেশি পরিমাণে বাড়াতে চায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিদেশ থেকে যে দামে অকটেন আমদানি করে, দেশের বাজারে তার কাছাকাছি মূল্য নির্ধারণ করতে চায় সরকার। এতে ভর্তুকির পরিমাণ কমে আসবে।

তিনি বলেন, অকটেন মূলত ধনীরা ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ দামি গাড়িতেও অকটেন ব্যবহার হয়। ফলে অকটেন এবং পেট্রলের দাম বাড়ানো হতে পারে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গাড়িতে ২০ শতাংশ জ্বালানির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজেল যেহেতু কৃষি সেচ কাজ এবং সাধারণ মানুষ বেশি ব্যবহার করে, ফলে আপাতত ডিজেলের দাম নাও বাড়তে পারে। তবে ডিজেলের দামও বাড়বে আরো কিছুদিন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণের পর।

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মোট কথা যেকোনোভাবেই হোক জ্বালানি সাশ্রয় করতে হবে। মানুষের কাছে আমার আহ্বান থাকবে নিজ থেকে যতটা পারেন সাশ্রয়ী হোন। এখন একটা সংকটকালীন সময়। সারা বিশ্বে সেটার প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে আমরা সবাই যদি সাশ্রয়ী হই তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারব।


আরও খবর