Logo
শিরোনাম

বাংলায় ইসলাম প্রচারে সুফীদের ভূমিকা

প্রকাশিত:রবিবার ২০ মার্চ ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৩১২জন দেখেছেন
Image

মুসলিম বণিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ইসলামের সূচনা হয় এবং প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে আলেম ও সুফি সাধকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঐকান্তিক নিষ্ঠার ফলে। আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, খোরাসান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে আলেম ও সুফীগণ বাংলায় আগমন করেন। ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে তারা এক অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। তাঁদের চারিত্রিক মাধুর্যে উজ্জীবিত হয়ে হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায় দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়।

স্বাভাবিক কারণেই তৎকালীন হিন্দু ও অন্য শাসকবর্গ ইসলাম প্রচারকদের উপর ক্ষেপে উঠেন এবং সুফীদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালাতে থাকেন। কাজেই প্রচার কাজে নিয়োজিত সুফীগণ ও তাদের শিষ্যদের সমভিব্যাহারে সমস্ত রাজাদের বিরুদ্ধে অসি চালনা করতে হয়েছিল। এ ময়দানে অনেকে হয়েছেন শহীদ আবার অনেকে হয়েছেন গাজী।

বাংলায় মুসলিম বিজয়ের পূর্বে যে সকল সুফীগণ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এদেশে আগমন করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেন:

শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী: বাঙ্গালার সুবাদার শাহসুজার সনদপত্রে উল্লেখিত হয়েছে যে, শাহ মুহাম্মদ সুলতান রুমী ১০৫৩ সালে তাঁর মুরশিদ সৈয়দ শাহ সুখখুল আনাতিয়াসহ ময়মনসিংহ জেলার মদনপুরে আসেন। মদনপুরেই তাঁর মাযার বিদ্যমান।

শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ার: তিনি প্রথমে ঢাকার হরিরামপুর নগর এবং পরে বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে ইসলাম প্রচার করেন। মৎস্যাকৃতি নৌকায় সমুদ্রপথে বাংলায় আগমন করার কারণে তিনি মাহী সাওয়ার ওলী নামে খ্যাত।

বাবা আদম শহীদ: রাজা বল্লাল সেনের শাসনামলে (১১৫৮-৭৯) তিনি ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণার আবদুল্লাহপুর গ্রামে ইসলাম প্রচার করতে আসেন। যুদ্ধে তিনি শহীদ হন এবং এখানেই তাঁর মাযার অবস্থিত।মাখদুম শাহ দৌলা শহীদ: ইয়ামেনের অধিবাসী মাখদুম শাহ দৌলা এক বোন, তিন ভাগিনা ও বহু শিষ্যসহ পাবনা জেলার শাহজাদপুর অঞ্চলে আগমন করেন। ইসলাম প্রচারের এক পর্যায়ে স্থানীয় হিন্দু রাজার সাথে এ দরবেশের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে মাখদুম শাহসহ ২১ জন মুজাহিদ শহীদ হন। এরপর সমগ্র বগুড়া অঞ্চলে ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

শাহ নেয়ামতুল্লাহ বুতশিকন: মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার বহু আগে শাহ নিয়ামতুল্লাহ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। ঢাকা নগরীর সন্নিহিত এলাকায় তিনি ইসলাম প্রচার করেন। একদা হিন্দুরা তাঁর ইবাদতে বিঘ্ন ঘটালে তিনি ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে হিন্দুদের মূর্তির প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করতেই মূর্তিগুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এরপর হিন্দুরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। ঢাকার দিলকুশায় তাঁর মাযার অবস্থিত।

সৈয়দ নাসিরউদ্দীন শাহ আউলিয়া: তিনি দিনাজপুর জেলার প্রাচীনতম ইসলাম প্রচারক। ওই অঞ্চলে তিনি সৈয়দ নেকমদ’বা নেকবাবা বলে পরিচিত।

জালালুদ্দীন তাবরিযী: পারস্যের তাবরিজ নগরে জন্মগ্রহণকারী জালালুদ্দীন তাবরিজী সুলতান গিয়াস উদ্দীন খিলজীর শাসনামলে তৎকালীন বাংলার রাজধানী মালদহ জেলার লাখনৌতি নগরে উপনীত হন এবং রাজধানী থেকে ১৭ মাইল দূরে পান্ডুয়ায় আস্তানা স্থাপন করেন। বাংলার উচ্চশ্রেণীর হিন্দু ও বৌদ্ধসমাজ তাঁর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। মুসলিম বিজয়ের পূর্বে আরো যে সকল সুফী এদেশে আগমন করেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাখদুম শাহ, গজনবী, বায়েজীদ বোস্তামী, শায়খ ফরিদ উদ্দীন শকরগঞ্জ প্রমুখ।

মুসলিম বিজয়ের পর যে সকল সুফী-আলেমগণ ইসলাম প্রচারের জন্য এদেশে আগমন করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

শেখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা: বুখারার অধিবাসী সুফী শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা বিহারের মানের হয়ে বাংলার সোনারগাঁও আসেন সুলতান বুগরাখান ও সুলতান রুকনউদ্দীন কায়কাউসের শাসনামলে। তিনিই প্রথম এদেশে বোখারী শরীফ নিয়ে আসেন। সোনারগাঁও-এ তিনি ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্র গড়ে তোলেন। ১৩০০ সালে ইন্তেকালের পর সোনারগাঁও-এ তিনি সমাধিস্থ হন।

শরফুদ্দীন এহিয়া মানেরী: বিহারের অধিবাসী মানেরী ১৫ বছর বয়সে শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার সাথে সোনারগাঁও-এ আসেন। মানেরী ছিলেন সোনারগাঁও শিক্ষা কেন্দ্রের জ্ঞানের নিদর্শন।

মাওলানা আতা: ১৩০০ থেকে ১৩৫০ সালের মধ্যে মাওলানা আতা দিনাজপুরে ইসলাম প্রচার করেন। ১৩৬৩ সালে নির্মিত একটি গৃহের শিলালিপিতে তাঁকে ইসলামের বিশেষ পন্ডিত এবং সত্য ও ধর্মের প্রদীপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হযরত শাহাজালাল ইয়ামেনী: পূর্ববাংলায় ইসলাম প্রচারের প্রধান পথিকৃত এই সনামধন্য সুফী দরবেশ ১৩০৩ সালে রাজা গৌড়গোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট অধিকার করেন। এই যুদ্ধে তাঁর সিপাহসালার ছিলেন সৈয়দ নাসির উদ্দীন। মুসলিম আনুমানিক ১৩৪৭ সালে সিলেটেই ইন্তেকাল করেন। বিশ্ব পর্যটক ইবনে বতুতা বলেন, বাংলার অধিকাংশ লোক তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। সিলেটে তাঁর মাযার অবস্থিত।

সাইয়েদ আহমদ কল্লা শহীদ: তিনি শাহজালালের অন্যতম শিষ্য ছিলেন। পরগনায় ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে হিন্দু রাজা আচক নারায়ণের সাথে যুদ্ধে শহীদ হন। ভক্তরা তাঁর কর্তিত মস্তকের সন্ধান পেয়ে তা আখাউড়ার খড়মপুর গ্রামে সমাধিস্থ করেন। আর একারণেই তিনি কল্লা শহীদ নামে পরিচিত।

শাহ মাখদুম রূপোশ: বর্তমান রাজশাহী জেলার পূর্বনাম ছিল মহাকাল গড়। ১২২৫ সালে বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচার করতে এসে তিনি মহাকাল গড় জয় করেন এবং এখানে ইসলাম প্রচার করেন। ১৩০৩ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

শেখ নূর কুতুবুল আলম: তিনি ছিলেন বাংলার ইলিয়াছশাহী বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সহপাঠী। তিনি তৎকালীন অবৈধ, কুখ্যাত রাজা গণেশের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেন।

খাজা খানজাহান আলী: সর্বজনমান্য দরবেশ হিসেবে সুপরিচিত খানজাহান আলীই দক্ষিণ বঙ্গজয়ের কৃতিত্বের অধিকারী। পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের শাসনামলে তিনি দক্ষিণবঙ্গ জয় করেন।

এ দরবেশ শাসনকর্তা বাগেরহাট শহর নির্মাণ করেন, এবং ঐ অঞ্চলের নামকরণ করেন খলিফতাবাদ, বহু রাস্তা, দীঘি, মসজিদ, শিক্ষালয় এবং বাগেরহাটের ষাট গুম্বুজ মসজিদ তিনিই নির্মাণ করেন।

শাহআলী বাগদাদী শাহআলী বাগদাদী বাংলায় আসেন ১৪৮৯ সালে। দিল্লী হয়ে প্রথমে তিনি ফরিদপুর আসেন। পরে তিনি ঢাকার আশে-পাশে ইসলাম প্রচার করেন। ঢাকার মিরপুরে তাঁর মাজার রয়েছে।

মুসলিম বিজয়ের পর আরও যারা ইসলাম প্রচার করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন,

উলুগ-ই-আজম হুমায়ন জাফরখান বাহরাম: তিনি দিনাজপুরের দেবীকোট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। পীর বদরুদ্দীন ইসলাম প্রচার করেন দিনাজপুরের হেমতাবাদ নামক স্থানে।

সৈয়দ জালালুদ্দীন বুখারী: ইসলাম প্রচার করেন রংপুর জেলার মাহীগঞ্জে। ৪০ জন ইসলাম প্রচারকের একটি দল দিনাজপুর অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন, যাদেরকে চিহিল গাজী বলা হতো।

খাজা চিশতী বেহেশতী আকবরের শাসনামলে ঢাকায় ইসলাম প্রচার করতে আসেন। ঢাকার হাইকোর্টের পার্শ্বে তার সমাধি রয়েছেন। এরা ব্যতীত আরো রয়েছেন সায়্যিদ আব্বাস আলী মক্কী, শাহ সুফী শহীদ, শায়খ আবদুল্লাহ কিরমানী, মাওলানা তাকিউদ্দীন আরাবী, শাহতুর্কান শহীদ, পীর বদর আলম, শেখ রোজা বিয়াবানী, আখি সিরাজউদ্দীন উসমান, শেখ আলাউল হক, শাহ আফজল মাহম্মুদ শায়খ জালাল হালবী, শাহ সুলতান আনসারী, শাহ চাঁদ আওলিয়া।

হাজী শরীয়াতুল্লাহ (রহ.) ১৭৮০ সালে মাদারীপুর মহকুমার শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইংরেজ শাসন ও তৎকালীন হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন পরিচালনা করেন। তিনি ইসলামের সংস্কার করেন এবং ভন্ডপীর ও বেদাতীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। তাঁর পরিচালিত আন্দোলন ফরায়েজী আন্দোলন নামে পরিচিত।

মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক (রহ.) ১৮৪১ সালে কলকাতার হুগলী জেলার ফুরফুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সুফী ফতেহ আলীর নিকট তিনি বয়াত গ্রহণ করেন। মাওলানা আবুবকরের সংস্কার ছিল বহুমুখী ও গঠনমূলক।

মাইজভান্ডারী দরবার শরীফের প্রতিষ্টাতা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর। কথিত আছে, তার পুর্বপুরুষ সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ি ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করেন। এবং পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স্থাপন করেন। তার এক পুত্র সন্তান সৈয়দ আবদুল কাদের ফটিকছড়ি থানার আজিম নগরে ইমামতির দায়িত্ব নিয়ে বসতি স্থাপন করেন। তার প্রপৌত্র মওলানা সৈয়দ মতি উল্লাহর পবিত্র ঔরসে  শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক বাংলা ১২৩৩ সনের ১ মাঘ রোজ বুধবার জোহরের সময় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার মাইজভান্ডার শরীফ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা শাহসুফ সৈয়দ মতিউল্লাহ এবং মাতার নাম সৈয়দা খাইরুন্নেসা বেগম।

মাওলানা নেছার উদ্দীন (রহ.) বরিশালের বর্তমান পিরোজপুর জেলার ছারছীনা গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি ফুরফুরার আবু বকর সিদ্দিকের শিষ্য ছিলেন। বাংলায় ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা ও খানকা প্রতিষ্ঠা করেন।

মাওলানা সৈয়দ এছহাক (রহ.) বরিশালের চরমোনাইতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চরমোনাইতে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম প্রচার করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত চরমোনাইতে বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী সম্মেলন অুনষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়া বাংলায় ইসলাম প্রচারে আরো যাদের অবদান রয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা আবদুল্লাহাহিল কাফি (রহ.), মাওলানা সামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.), মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুযুর (রহ.), কিশোরগঞ্জের মাওলানা আতাহার আলী (রহ.), চট্টগ্রামের খতীবে আযম মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ (রহ.), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা তাজুল ইসলাম (রহ.), সিলেটের মাওলানা সৈয়দ আবদুল করিম শায়খে কৌড়িয়া (রহ.) প্রমুখ।


আরও খবর



ইলিশের নামে বিক্রি হচ্ছে ‘সার্ডিন

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৭জন দেখেছেন
Image

নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বাজার থেকে প্রকৃত ইলিশ কিনেই যেন প্রবাসীরা ঘরে ফিরতে পারেন তার জন্য হতে হবে একটু সাবধান ও সচেতন। কারণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ছেয়ে গেছে নকল ইলিশে।

গোটা যুক্তরাষ্ট্রেই বাংলাদেশি গ্রোসারিগুলোতেই ইলিশের নামে একই আদলের মাছ ‘সার্ডিন’ ও ‘চৌক্কা’ বিক্রি করা হচ্ছে। ইলিশের নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিয়ে একটি অসাধু চক্র এই ভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি করছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ঈদের পরই বাংলা বর্ষবরণ কর্মসূচি পালন করবেন।

এদিকে, প্রবাসী ক্রেতাদের অভিযোগ, নিউ ইয়র্কের বাজার থেকে ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে রান্না করার পরও তারা ইলিশের সেই ঘ্রাণ বা স্বাদ পাচ্ছেন না। এই মাছগুলো দেখতে ইলিশের মত হলেও এগুলোতে খুব বেশি কাটা। আর ভাজলে তাতে ইলিশের মতো তেলও বের হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র রমজানের কারণে প্রায় ৩৫টি অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবারও যথাসময়ে বাংলা বর্ষবরণের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। প্রতিবছর এপ্রিলে বর্ষবরণের আনন্দে প্রবাসীরা মেতে উঠলেও এবার সে উৎসব থেকে সকলেই বঞ্চিত হয়েছেন। তবে রোজার পরই ঈদ আনন্দ ও বাংলা বর্ষবরণ জমজমাটভাবে পালনের চিন্তা করছেন প্রবাসীরা।

নিউ ইয়র্কের ৫টি বৃহৎ পৌরসভা ব্রঙ্কস, কুইন্স, জামাইকা, ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের প্রায় অর্ধশত বাংলাদেশি মালিকানাধীন গ্রোসারিগুলো থেকে ইলিশ মাছ কিনে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছেন প্রবাসী ক্রেতারা। এসব এলাকার অসাধু ব্যবসায়ীরা ইলিশের দামে দেদারছে বিক্রি করেছে সার্ডিন মাছ। কিন্তু প্রবাসী ক্রেতারা বিশেষ করে বাইরের অঙ্গরাজ্যের ক্রেতারা কেউ কোন প্রতিবাদ করছেন না। কারন অনেকেই জানেন না কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করতে হয়।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল ও বাংলাদেশি অধুষ্যিত নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইলিনয়স, কলারাডো, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, কানসাস, ম্যারিল্যান্ড, মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, ওয়াশিংটন ডিসি ও কেন্টাকির বাংলাদেশি মালিকানাধীন গ্রোসারিগুলোতে নকল ইলিশ বিক্রির প্রতারক চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আসল ইলিশের দামও হাঁকাচ্ছেন তারা। তবে মাছ বিক্রেতারা ইলিশ বলে যে মাছ বিক্রি করছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে ‘সার্ডিন’, ও ‘চৌক্কা’। এগুলো দেখতে ইলিশের মতো হলেও এতে ইলিশের স্বাদ-গন্ধ কিছুই নেই।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, ‘সার্ডিন’ দেখতে আকারে জাটকার মতো হলেও ‘চৌক্কা’ মাছ আকারে বেশ বড়। এটি লম্বায় ইলিশের অনেকটাই কাছাকাছি। তবে ইলিশের চেয়ে চওড়ায় কম। আর ইলিশের চেয়ে সার্ডিন ও চৌক্কার চোখের আকার বড়। অনেকেই তাই ইলিশের মত দেখতে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, ‘সার্ডিন’ দেখতে আকারে জাটকার মতো হলেও ‘চৌক্কা’ মাছ আকারে বেশ বড়। এটি লম্বায় ইলিশের অনেকটাই কাছাকাছি। তবে ইলিশের চেয়ে চওড়ায় কম। আর ইলিশের চেয়ে সার্ডিন ও চৌক্কার চোখের আকার বড়। অনেকেই তাই ইলিশের মত দেখতে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশের নদীকেন্দ্র ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে ‘সার্ডিন ও চৌক্কা সমুদ্রের মাছ হলেও অনেক সময় নদীর মোহনায় চলে আসে। জেলেদের জালে ইলিশের সঙ্গে এসব মাছও ধরা পড়ে। চেহারায় কিছুটা সাদৃশ্য থাকায় অনেকেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ভালো করে খেয়াল করলে পার্থক্য বোঝা যায়।’

জানা যায়, পরিপূর্ণ ইলিশ লম্বায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। সার্ডিন ও চৌক্কা আকারে ইলিশের ধারে-কাছে যেতে পারে না। সাগরে সারা বছরই কম-বেশি সার্ডিন ও চৌক্কা ধরা পড়ে। বিদেশ থেকেও আমদানি হয় সার্ডিন। তবে নববর্ষের আগে বেশি আমদানি হয়। তবে অনেক ধরনের মাছ একসঙ্গে আমদানি হয় বলে কী পরিমাণ সার্ডিন আসে সেই পরিসংখ্যান নেই।


আরও খবর



সোনারগাঁয়ে রিসোর্ট কান্ড

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিলেন আরও দুজন।

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৬০জন দেখেছেন
Image

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলায় চতুর্থ দফায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন- নাজমুল হাসান শান্ত ও মো. শফিকুল ইসলাম। সোমবার বেলা ১১ থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত আদালতে সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ দিন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনি ও রতন মিয়া নামে আরও দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নির্ধারণ থাকলেও তারা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

 সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে ৯ ও ১০ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক নয়ন বলেন, সাক্ষীরা বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরে জানেন না, মনে নেই বলে জানিয়েছেন

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, চার্জশিটের ৯ ও ১০ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীরা সবাই মামুনুল হক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানান

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) নাজমুল হাসান বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মামুনুল হককে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে আনা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আবার তাকে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে ২৫ জানুয়ারি মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য দেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, রিসোর্টের আনসার গার্ড ইসমাইল ও রিসিপশন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় মামুনুলের বিরুদ্ধে রয়েল রিসোর্টের সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ, রিসিপশন কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম অনিক ও আনসার গার্ড রতন বড়াল সাক্ষ্য দেন।

গত ২৪ নভেম্বর প্রথম দফায় মামুনুল হকের উপস্থিতিতে কথিত তার দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সাক্ষ্য নেন আদালত। একই সঙ্গে ৩ নভেম্বর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলায় বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।


আরও খবর



আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই বললেন পোলার্ড

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১১৩জন দেখেছেন
Image

হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড। মঙ্গলবার রাতে ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওবার্তায় তিনি সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫ বছর বয়সি এ তারকার ২০০৭ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়। তিনি ১২৩ ওয়ানডে ও ১০১টি টি-২০ খেলেছেন। ২০১২ সালের টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ ছিলেন মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারে দানবীয় ব্যাটিং করতে পারা এ অলরাউন্ডার।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে পোলার্ড বলেন, অনেক ভাবনা-চিন্তা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যখন বয়স ছিল ১০ বছর তখন থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলার স্বপ্ন ছিল। ১৫ বছর দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারায় আমি গর্বিত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেও টি-২০ এ ফেরিওয়ালাকে দেখা যাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-২০ লিগে। বর্তমানে তিনি আইপিএলের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলছেন। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-২০ লিগ সিপিএলও খেলে যাবেন তিনি।

তিনি জাতীয় দলের হয়ে ১২৩ ম্যাচে রান করেছেন দুই হাজার ৭০৬ এবং উইকেট পেয়েছেন ৫৫টি। টি-২০ তিনি রান করেছেন এক হাজার ৫৬৯ রান এবং উইকেট পেয়েছেন ৪২টি।


আরও খবর



খেলার মাঠের তাগিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

ইয়াশফি রহমান:  রাজধানী ঢাকায় বসবাস করা শিশুদের খেলাধুলার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘ঢাকা শহরে খেলার সুযোগ কম। শিশুরা ফ্ল্যাটে বাস করে ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে। বাবা-মায়েদের অনুরোধ করবো, কিছু সময়ের জন্য যেন তারা খেলতে পারে, এমন ব্যবস্থা করতে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’

বুধবার (১১ মে) জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে যোগ দেন সরকারপ্রধান।

২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গত আট বছরের জন্য ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়া হয় ৮৫ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে। এদের মধ্যে ৩৯ জন ক্রীড়া সংগঠক রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, এখন থেকে প্রতি বছর জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দেওয়া হবে।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে শিশুদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। গ্রামীণ খেলাগুলো আমাদের চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে সহায়তা করছি। আমরা চাই, আমাদের এ খেলাগুলো আরও এগিয়ে যাক।’

দেশের প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম শুধু ক্রিকেট নয়, সবধরনের খেলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধুলায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে বেশি সুযোগ দিতে হবে। বিজয়ী জাতি হিসেবে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখলে সব খেলায় বাংলাদেশ বিজয়ী হবে বলে মনে করেন তিনি।


আরও খবর



''৫২ বছর পর নিজের ঘরে ঘুমাবো"

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে তজুমদ্দিনের ভিক্ষুক জহুরা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৫জন দেখেছেন
Image
এম, নুরুন্নবীঃ জহুরা খাতুন (৭০) বয়সের ভারে ঠিক মতো উঠে দাড়াতেই কষ্ট হয়। ৫২ বছর আগে স্বামী মোঃ আলীকে হারালেও চার ছেলে মেয়ের কেউই আজ পাশে নেই তার। নিঃসঙ্গ জীবনের একমাত্র সঙ্গী দশ বছরের নাতি শাকিল। স্বামীর মৃত্যুর পরপরই নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে যান। 

আশেপাশের এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করেই চলে জহুরা খাতুনের সংসার। থাকেন তজুমদ্দিনের চাঁদপুর ইউনিয়নের কেয়ামুল্যা বেড়িবাঁধ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় একটি ঝুঁপড়ি ঘরে। এখানে দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়েই জহুরা বেগমকে এই বয়সে এসেও জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতি রাতে ঘুমানোর চিন্তায় বরাবরই ব্যাকুল হয়ে পড়েন। বেড়িবাঁধের এই ঝুপড়ি ঘরটিতে একটু বাতাস কিংবা বৃষ্টি এলেই নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। 

এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি তজুমদ্দিনের ইউএনও মরিয়ম বেগমের কাছে সাহায্যের জন্য গেলে তিনি জানতে পারেন গৃহহীন জুহুরার বর্তমান অবস্থার কথা। পরে ইউএনও তাকে মুজিব বর্ষের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহারের ঘরের ব্যবস্থা করে দেন। 

জহুরার মতোই গৃহহীন চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের স্বামী পরিত্যক্তা নুরজাহান বেগম (৭২)। ওসমান ফারুক নামের স্থানীয় এক যুবকের ফেসবুক আইডিতে ওই নারীর ভূমিহীন ও দারিদ্রতার চিত্র তুলে ধরলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এর। পরে সাংসদ শাওনের নির্দেশে তাকে আবাসনের ব্যবস্থা করে উপজেলা প্রশাসন। অবশেষে সেই জহুরা খাতুন এবং নুর জাহানরা পেয়েছেন মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহারের ঘর। 

ঘরের চাবি পেয়ে দুজনেই বেশ উচ্ছ্বসিত। অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বারবার কেঁদে ফেলছেন। জহুরা বললেন, "স্বামীর মৃত্যুর পর নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। আর কখনোই নিজের ঘর ছিলোনা। ৫২ বছর পর নিজের ঘরে ঘুমাবো। এর চেয়ে শান্তি আর কিছুই নেই। শেখ হাসিনা কে আল্লাহ বেশিদিন বাচিয়ে রাখুক।" অপরদিকে নুর জাহান ঘর পাওয়ার আনন্দে ধন্যবাদ দেন সাংসদ শাওনকে। নুর জাহান  অসহায় মানুষের পাশে থাকার জন্য এমপি শাওনকে বারবার এ-ই এলাকার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে চান বলে জানান।

২৬ এপ্রিল সারাদেশের সাথে একযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব গৃহহীনদের ঘরের চাবি ও দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্ভোদন করেন। এর অংশ হিসেবে অত্র উপজেলার ৪৯ ভুমিহীনের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উপহারের ঘরের চাবি ও ২ শতাংশ জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইউএনও মরিয়ম বেগমের সভাপতিত্বে দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দুলাল, ইউএনও মরিয়ম বেগম, চাঁদপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্যাহ কিরন, সোনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিশু, চাচড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের, শম্ভুপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাসেল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাসেদ খান প্রমুখ।
  
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায়  উপজেলার তিনটি ইউনয়নে ১৮৪ গৃহহীন ও ভুমিহীনকে নির্বাচিত করা হয়। এদের মধ্যে ৪৯ জনকে জমির দলিল হস্তান্তর করা হলেও বাকীদের খুব শীঘ্রই ঘর বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো অনুষ্ঠানে। 

আরও খবর