Logo
শিরোনাম

বাংলায় ইসলাম প্রচারে সুফিদের অবদান

প্রকাশিত:রবিবার ২০ মার্চ ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ২৯৮জন দেখেছেন
Image

ইসলাম প্রচারমুখী ধর্ম। বিশ্বের যে প্রান্তেই ইসলামের পদচারণা হয়েছে সেখানেই ধর্মটি ধর্মান্তরিতদের মধ্যে দ্রুত সমপ্রসারিত হয়েছে। ঐতিহাসিক অবিভক্ত বাংলায়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। উপনিবেশ আমলে ১৮৭২- সর্বপ্রথম লোকগণনায় দেখা গেল, সারা বাংলায় মুসলমানদের সংখ্যাভিত্তিক অনুপাত ৪৮ ভাগ। তথ্যটি তখন বিস্ময় সৃষ্টি করলেও তার যুক্তি প্রমাণভিত্তিক ব্যাখ্যা ছিল। সারা উপমহাদেশের মধ্যে বাংলায় অধিবাস ছিল সামাজিকভাবে বঞ্চিত নিগৃহীত অধিক মানুষের; তারাই ইসলামের উদার কল্যাণমুখী আবেদনে সাড়া দিয়ে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। কেন এবং কীভাবে ব্যাপক ধর্মান্তরণ হয়েছিল তা ইতিহাসের এক চমকপ্রদ বিতর্কের বিষয়। যেমন পশ্চিমের অনেক গবেষক বলতে চেয়েছেন, ইসলাম বিস্তৃত হয়েছে মুসলিম শাসকদের তরবারির জোরে।  কিন্তু লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, দিল্লি আগ্রা ছিল দোর্দণ্ড মুসলিম প্রতাপের কেন্দ্র, কিন্তু যেখানে ধর্মান্তরিত মুসলমান মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশও ছিল না। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে বাংলায় মুসলিম শাসন ছিল দুর্বল। সেকারণে অধ্যাপক পিটার হার্ডি যথার্থই বলেছেন, Those who argue that Indian Muslims were forcibly converted generally failed to define either force or conversion&_ leaving us to presume that a society can and will change its religious identity simply because it has a sword at its neck
তাহলে বাংলায় ইসলাম-বিস্তৃতির ব্যাখ্যা কী? প্রথমত, ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে ইসলামের অন্তর্লীন মানবতাবাদী আবেদনের কথা। দ্বিতীয়ত এবং প্রধানত, এমন ইসলামের ধারক, বাহক প্রচারক সুফিদের অবদান। সুফিবাদী ইসলামের দুটো মৌল বক্তব্য বা ধারণা আছে। এক, ইন্নামাল আমানু বিন্নিয়্যাত। অর্থাৎ মনোবাঞ্ছার ওপর ধার্মিকতা বা ঈমান নির্ভরশীল। আরো উল্লেখ্য, এমন ইসলামে অন্তরের শুচিতা বড়; এবং তার সঙ্গে সংযোজিত হবে আবশ্যকীয় আচার-আনুষ্ঠানিকতা, তবে যা কখনই আচার-অনুষ্ঠানসর্বস্বতায় পর্যবসিত হবে না। দুই, মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু- নিজকে জানলে স্রষ্টাকে চেনা হয়।

অনুপুঙ্খ বিচারে বাংলায় ইসলামের আবির্ভাব, প্রচার প্রসার মুসলিম রাজনৈতিক শক্তি থিতুকরণে পাটাতন হিসেবে কাজ করেছে। অন্যভাবে বললে ইসলামের গতিময় ব্যাপ্তি রাজশক্তি বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছিল। বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব নয়, বরং অন্তর্লীন প্রণোদনায় প্রাণিত উদারপন্থী ইসলাম প্রচারিত হয়েছিল এমন ইসলামী মননসমৃদ্ধ সুফিকুল দ্বারা। তাদের মানবিক প্রণোদনা-উৎসারী ইসলামী আবেদন স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মানুসারী মানুষের মধ্যে সহজ ক্রমবর্ধমান গ্রাহক পেয়েছিল। অতীতের আচার-অনুষ্ঠানক্লিষ্ট ধর্মে বীতশ্রদ্ধ স্থানীয় হিন্দু (নমশূদ্র), বিশেষ করে ধর্মের কারণে সমাজচ্যুত সংক্ষুব্ধ আমজনতা যেন উদারপন্থী মানবিক ইসলামের মধ্যে এক অচলায়তন ভাঙার ইঙ্গিত পেয়েছিল।

ইসলাম প্রচারধর্মী হলেও বাংলায় ধর্মটির প্রচারকৌশল পদ্ধতি যে মানবিক অনুভূতিসমৃদ্ধ ছিল তা বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে। বাংলায় মুসলমানরা ক্ষমতা দখল করেছিল তেরো শতকের শুরুতে; কিন্তু সুফিবাদী ইসলামের আগমন হয়েছিল আট শতকেই। অর্থাৎ মুসলিম রাজনৈতিক বিজয়ের পূর্বসূরি হিসেবে কাজ করেছিল ধর্মবিজয়। এটাও তো বলা অত্যুক্তি হবে না যে, রাজনৈতিক বিজয়পূর্ব ধর্মবিজয় রাজনৈতিক বিজয়ের পথ সুগম করেছিল।
পারসিক সুফিদের ইসলাম প্রচার-কৌশলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল সংশ্লেষণমূলক (syncretic) দৃষ্টিভঙ্গি। ইসলাম গ্রহণের সময় স্থানীয় ধর্মান্তরিতদের ঐতিহ্যবিচ্যুত হতে হয়নি। কারণ ধর্মপ্রচারক সুফিরা তা করতে বলেননি। ফলে বাংলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ইসলাম হয়েছে সংশ্লেষণবাদী। সুতরাং স্থানীয়দের পক্ষে ইসলামে ধর্মান্তরণ সহজ হয়েছিল। উল্লেখ্য, খোদ আরবেই ইসলাম স্থানীয় অনেক ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করে বিকশিত হয়েছিল। উপরন্তু লক্ষণীয়, বিশ্বের যে প্রান্তেই ইসলাম সমপ্রসারিত হয়েছে সেখানেই অভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। ধর্ম প্রচারের এমন পদ্ধতি নিঃসন্দেহে শুধু বিচক্ষণই নয়, মনস্তাত্ত্বিকভাবে মানবিকও বটে।

অন্যদিকে সুফি-সাধক পরিচালিত তিনটি প্রতিষ্ঠান বাংলায় ইসলাম প্রচারে পরিপূরক ভূমিকা পালন করেছিল। প্রথম প্রতিষ্ঠানটি ছিল লঙ্গরখানা। লঙ্গরখানায় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব অন্নহীন মানুষকে সমাদরে এবং বিনামূল্যে আপ্যায়িত করা হতো। অর্থের জোগান আসতো মুসলিম শাসকদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। ব্যবস্থার ফলে সবচেবেশি উপকৃত হয়েছিল কট্টর হিন্দুত্ববাদী সেন শাসনে (১১৬১-১২০৪) নিগৃহীত জাতিভেদ প্রথার শিকার হয়ে সমাজচ্যুত নমশূদ্ররা। জাত-পাতের পার্থক্যহীন সব মানুষের এমন সম্মিলন ছিল বাংলায় দৃষ্টান্তরহিত। বলা যায়, এক ধরনের সামাজিক বিপ্লবই ঘটে গিয়েছিল। আর এমন বিপ্লব যারা আস্বাদন করেছিল সেই স্থানীয়রা এমন এক উপলব্ধিতে প্রাণিত হয়েছিল যে, নতুন ধর্ম ইসলাম সামাজিকভাবে সমতাবাদী (socially egalitarian), যা বৌদ্ধ ধর্মে থাকলেও কট্টর হিন্দুত্বে ছিল না। কাজেই নিম্নবর্গের হিন্দু অভাজনদের কাছেই ইসলামের আকর্ষণ ছিল বেশি; এবং তারাই কালক্রমে মুসলমান সমাজের গরিষ্ঠ অংশ হয়েছিল। অবশ্য কিছু সংখ্যক বৌদ্ধও পরিস্থিতির চাপে মুসলমান হয়েছিল।

ইসলাম প্রচার-সহায়ক দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটি ছিল খানকাহ। লঙ্গরখানা ছিল সামাজিক ইসলামের বাস্তব দৃষ্টান্ত; আর খানকাহ তাত্ত্বিক ইসলামের প্রশিক্ষণকেন্দ্র। সুফিরা ছিলেন প্রশিক্ষক। লঙ্গরখানায় হার্দিকভাবে তৃপ্ত উন্নতজীবন প্রত্যাশী শোষিত-বঞ্চিত মানুষ খানকাহ- গিয়ে যে আগ্রহী ঐকান্তিক প্রশিক্ষণার্থী হবে সেটাই ছিল স্বাভাবিক। দুটো প্রতিষ্ঠানই তাদের ইসলামে দীক্ষা গ্রহণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিল। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বাংলায় সুফি-প্রয়াসলগ্ন ইসলাম-বিস্তৃতির বাস্তবানুগ ব্যাখ্যার জন্য একটি উদ্ধৃতির সাহায্য গ্রহণ করা যেতে পারেঃ The foremost consideration appears to be an intent to find a refuge where there would not be a social stratification and discrimination as these people had been going through under the Senna rule; and Islam appeared to be a refuge of such specification. Moreover, there had been clear material considerations uppermost in the psyche of the converts and the background to which was the way which the Sufis welcomed these people first by the Langerhans, and then Khanna (দ্রষ্টব্য Syed Anwar Husain, Human Rights in Bengal: Atash Dipankar to Sufis)

বাংলায় ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করা তৃতীয় প্রতিষ্ঠানটি ছিল দরগাহ। দরগাহে সমাবেশ হতো সব ধর্মের মানুষের, যে রীতি আজও চালু আছে। দেখা যায় যে, ক্রমাগতভাবে দরগাহ খানকাহ- স্থান দখল করে নিয়েছে। দরগাহ- এমন প্রাধান্যের সূচনা বাংলায় হুসেইন শাহী শাসনামলে (১৪৯৩-১৫৩৮) তবে দরগাহ- কিছু ইসলামি চেতনাপরিপন্থী আনুষ্ঠানিকতাও দৃশ্যমান হয়েছিল, যার রেশ আজও দেখা যায়।
বরেণ্য ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল করিম মন্তব্য করেছেন,  Bengal, not to speak of the big cities but even not a small city or a hamlet will be found where the Dervishes have not come and settled অর্থাৎ বাংলার বড়-ছোট সব শহর এমন কী গ্রামেও তারা পদার্পণ করেছিলেন, এবং স্থায়ীভাবে থেকে গিয়েছিলেন। কাজেই বাংলার সমগ্র ভূখণ্ড জুড়েই তারা ইসলাম প্রচার করেছিলেন। মুসলমান রাজশক্তি ইসলাম প্রচারে সুফিদের সহায়ক হয়েছিল, কিন্তু এমন শক্তির প্রভাবে ইসলাম বিস্তৃত হয়নি। বাংলায় ইসলামের আলো ছড়িয়েছিলেন সুফিরাই।


আরও খবর



বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুরু ১০ মে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ১১১জন দেখেছেন
Image

করোনার কারণে দুই বছর বিরতির পর আগামী ১০ মে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো। এবারের এক্সপোতে চারটি সেমিনার এবং দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (২০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক্সপোর এবারের ১২তম সংস্করণ করোনা-পরবর্তী নতুন বিশ্বে ডেনিম ব্যবসার চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের ওপর আলোকপাত করবে। এতে ৭৯টি দেশি ও বিদেশি ডেনিম ফেব্রিক্স, গার্মেন্টস, সুতা, মেশিন এবং এক্সেসরিজ কোম্পানি প্রদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে ২য় বৃহত্তম হলেও বর্তমানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তম ডেনিম রপ্তানিকারক দেশ।

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘দুই বছর আগে যখন বাংলাদেশে ডেনিম এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখনকার সময় থেকে বর্তমান সময় আমাদের সবার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কথা অনস্বীকার্য যে, করোনা মহামারি ডেনিম সাপ্লাই চেইনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা মহামারি আমাদের শিখিয়েছে টেকসই ব্যবসার গুরুত্ব সর্বাগ্রে রাখতে। তৈরি পোশাকের ক্রেতারাও আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন টেকসই ব্যবসার ব্যাপারে বেশি সচেতন। বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর এবারের সংস্করণের সারা বিশ্ব থেকে ডেনিম অংশীদাররা একই ছাদের নিচে সমবেত হয়ে আগামী দিনে টেকসই ডেনিম ব্যবসা নিশ্চিতকরণে তাদের মতামত দেবেন, যা বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’



সুত্রঃ ইত্তেফাক


আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২




লালমনিরহাটে দিনভর নানান নাটকীয়তায় শেষ হলো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ১১০জন দেখেছেন
Image

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি ঃ

লালমনিরহাটে দিনভর নানান নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষা। তবে মেঘনা সেটের প্রশ্নপত্র না পাওয়ায় জেলার কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রায় তিন শতাধিক পরীক্ষার্থী প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে পারেননি। জেলা প্রশাসকের অবহেলার কারণেই এমন হয়েছে দাবি করে পরীক্ষা কেন্দ্রে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থী।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, লালমনিরহাট সরকারি কলেজ ও সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগীরা জানায়, এবারে লালমনিরহাটে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায়-১৫ হাজার ১শ চল্লিশজন তার মধ্যে এন অঅই ডি কার্ড। সাথে না থাকায় প্রায় ১হাজার ও অনুপস্থিত থাকার কথা বলেন জেলা প্রশাসন। এছাড়াও ২ জন আটক ও ৭০ জন পরীক্ষার্থ ীকে বহিস্একার করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও সুরমা এ চার সেটে পরীক্ষা হওয়ার কথা। জেলার তিনটি কেন্দ্রে পদ্মা, যমুনা ও সুরমা সেটের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারলেও যারা মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারননি। কারণ ওই তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রে মেঘনা সেটের প্রশ্নপত্র নির্ধারিত সময়ে আসেনি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কেন্দ্রগুলোতে মেঘনা সেটের প্রশ্নপত্র আসে।

যদিও জেলা প্রশাসক মো.আবু জাফরের নির্দশনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধানরা পরে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সময়ে মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেন। কিন্তু পরীক্ষার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পর মেঘনা সেটের অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান।

মেঘনা সেটের এ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু সংখ্য্যক পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও অধিকাংশ পরীক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কেন্দ্র ত্যাগ করে চলে যান।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় এমন অবহেলার জন্য জেলার প্রধান জেলা প্রশাসককে দায়ী করে জামসুর রহমান নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, দির্ঘদিন প্রতীক্ষার পর মনে অনেক আনন্দ নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর জানতে পারি আমার মেঘনা সেটের কোনো প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে আসেনি। তাই কেন্দ্র প্রধান মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। পরে আমরা মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে বিক্ষোভ করি।

বিক্ষোভ প্রদর্শন সময়ে কেন্দ্রে যাতে কোনো রকম বিশৃংখলা বা পরীক্ষায় ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় সেজন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরই মধ্যে আদর্শ ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্র প্রধান মাহবুবুল আলম মিঠু পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীদের সাড়ে ১২টায় তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে জানান।

এদিকে লালমনিরহাট পিটিআই সুপারিনটেনযেন্ট হায়দার আলী ৭১ টিভির সাংবাদিকের ক্যামেরায়  ফটোকপি করে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন পরে সেখানে উপস্থিত থাকা কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আসা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট  রেদওয়ান ওই সাংবাদিকের ক্যামেরা থেকে সেই ভিডিও ফুটেজ ডিলিট করার ব্যার্থ

 চেষ্টা চালায় এবং অসৌজন্যমুলক আচরন করেন। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, কারিগরী ত্রুটির কারণে মেঘনা সেটের প্রশ্নপত্র না আসায় মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি। তবে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে মেঘনা সেটের পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।


আরও খবর



মেলবোর্নে জুনে হবে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

প্রকাশিত:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১১০জন দেখেছেন
Image

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এই বছরের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী ১১ জুন প্রাক-প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।

বুধবার ভিক্টোরিয়ান সরকার নিশ্চিত করেছে, ম্যাচটি হতে যাচ্ছে আইকনিক মেলবোর্ন স্টেডিয়ামে। ৫ বছর আগে এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে এই মাঠে নেমেছিল দুই দল। ওই ম্যাচে ৯৫ হাজারের বেশি দর্শক হাজির ছিল।

ট্যুরিজম, স্পোর্ট অ্যান্ড মেজর ইভেন্টস মন্ত্রী মার্টিন পাকুলা বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রাখতে বিশ্বের সবচেয়ে সফল দুটি ফুটবল দলের এমসিজিতে ফেরা বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়া শহর ও অস্ট্রেলিয়ার ইভেন্ট রাজধানী হিসেবে আমাদের অবস্থানকে আরো শক্ত করে। ফুটবল পরিচিত বিশ্ব খেলা হিসেবে এবং এমন উত্তেজনাকর ম্যাচের কারণে মেলবোর্নের দিকে লাখ লাখ চোখ থাকবে ও ভিক্টোরিয়ার প্রতি হাজার হাজার অতিথি আকৃষ্ট হবে।’


আরও খবর



ফুল শার্ট-প্যান্ট-জুতা পরে মোটরসাইকেল চালাতে হবে

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৪২জন দেখেছেন
Image

দেশের মোটরসাইকেল চালকদের ফুল শার্ট, ফুল প্যান্ট, গোড়ালি ঢাকা জুতাসহ মানসম্মত নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরে মোটরসাইকেল চালাতে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

দেশের একাধিক সংবাদপত্রে দেয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ বলছে, দেশের সড়ক মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক করার জন্য তারা ওই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।

'মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে বিআরটিএ'র সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি' শিরোনামে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গঠনগতভাবে মোটরসাইকেল অপেক্ষাকৃত একটি অনিরাপদ বাহন। মোটরসাইকেল সাধারণত যুবক বা উঠতি বয়সীরা বেশি ব্যবহার করে থাকে, যাদের মধ্যে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা খুব বেশি।

বিআরটিএ বলছে, দেশে এ যাবত মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ৩৬ লাখ ৫০ হাজার হলেও মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংখ্যা ২৩ লাখ ৫০ হাজার। অর্থাৎ বহুসংখ্যক অদক্ষ মোটরসাইকেল চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত মোটরসাইকেল চালনা করছে।


আরও খবর



ভোগান্তি নিয়েই বাড়ি ছুটছে মানুষ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৩জন দেখেছেন
Image

মাকে মনে পড়তেই ছল ছল জল ভেসে উঠে দু’চোখের কোনায়। সবকিছুই তো আছে ঠিকঠাক, কেবল মা নেই। তাই বাড়ির পথে নাড়ির টান আমায় আর ডাকে না। ভারাক্রান্ত মনে কথাগুলো বলছিলেন সহকর্মী এক সাংবাদিক। বলছিলাম মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটের কথা। নাড়ির টানে আজ এখানে ঘরমুখো মানুষের স্রোত।

ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে যানবাহনের চাপও ততই বাড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ঘরে ফেরার অপেক্ষা শুরু হয়েছে। রাজধানী থেকে অনেকেই পদ্মা পাড়ি দিতে ঘাটে হাজির হয়েছেন।

শুক্রবার ভোর থেকে লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে দেখা গেছে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। শিমুলিয়া ঘাট থেকে পদ্মা উত্তর সেতু থানা পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হাজারের বেশি যানবাহন ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রচণ্ড রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. ফয়সাল জানান, বর্তমানে মোট ১০টি ফেরি পারাপারে কাজ করছে। বাংলাবাজার নৌরুটে সাতটি ও মাঝিরকান্দা নৌরুটে তিনটি ফেরি চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটের পাশের মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি। শুক্রবার ভোর থেকেই ঢাকা থেকে ঘাটে আসতে শুরু করে যানবাহন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারির দৈর্ঘ্য লম্বা হতে থাকে।

ফেরি সংকট ও সময় মতো ফেরি না ছাড়ায় ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ও স্পিডবোট যাতায়াত করতে দেখা যায় যাত্রীদের। এতে তাদের বাড়তি টাকাও গুনতে হচ্ছে। বাস, লেগুনা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে আসা ঘরমুখো মানুষদের লঞ্চ বা স্পিডবোটে নদী পারাপার হতে দেশি দেখা গেছে।

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যশোর যাবেন আতাহার মোল্লা। তিনি বলেন, মধ্যরাতে আগেভাগে রওনা হয়েছি। ২ ঘণ্টা ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছি। কখন ফেরিতে উঠব আর নদী পার হতে পারব জানি না।

কলেজছাত্র আরিফিন মোল্লা জানান, ফেরির অপেক্ষায় থাকলে দিন গড়িয়ে রাত হবে। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে স্পিডবোটে করে পার হবেন নদী। পরে মোটরসাইকেলে করে যাবেন শিবচরে।

নবদম্পতি নাজমুল ও তার স্ত্রী শরবত রওনা হয়েছে ভোরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে। বাসে করে এক ঘণ্টা ১০ মিনিটে পদ্মাসেতু উত্তর থানা পর্যন্ত আসতে পারলও বাকি চার কিলোমিটার পথ আসতে লেগেছে দেড় ঘণ্টা। এরপর ঘাটে মোটরসাইকেল আরোহীদের কারণে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পরও তারা উঠতে পারেননি ফেরিতে।

জলিল হাওলাদার দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে ভোরে রওনা হন। বাসে চড়ে পদ্মাসেতুর উত্তর থানার পর্যন্ত আসেন। এরপর ৪ কিলোমিটার হেঁটে ঘাটে এসে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। যাত্রীতে ঠাসা ঘাট এলাকা। লঞ্চ, সী-বোট, ফেরি কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই।

জলিল হাওলাদার বলেন, কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে ঘাটে আইসা দেখি হাজার হাজার মানুস। কখন লঞ্চে উঠমু, বাড়িতে যামু ঠিক নাই। স্পিডবোটে যাওয়ার টাকা নাই।

বিআইডব্লিউটিএ শিমুলিয়া ঘাটের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রী পারাপারের সংখ্যা বেড়েছে। ফেরির জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা না করে মানুষ লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাতায়াত করছে। ভোর থেকে ১৫৫টি স্পিডবোট ও ৮৭টি লঞ্চ চলাচল করছে।


আরও খবর