Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

বেড়েছে অধিকাংশ পণ্যের দাম , বিপাকে মানুষ

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

সপ্তাহ ব্যবধানে ফের অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার। দাম বেড়ে গেছে মাছ-মাংস ও শাক-সবজিসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ও আগানগর এবং রাজধানীর নয়াবাজার ও কারওয়ানবাজারসহ বেশকটি বাজার ঘুরে। কোরবানির ঈদের বাকি এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়। রোজার ঈদের আগে যেভাবে পণ্যের দাম বেড়েছিল, বর্তমানেও ঠিক একই পরিস্থিতি বাজারে।

ক্রেতাদের দাবি, প্রতিদিনই বাড়ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম। এর বিপরীতে কিছুই কমছে না, আর কমলেও খুবই নগণ্য। এতে সংসার চালানোই দায়!

রাশেদুল ইসলাম নামে বেসরকারি এক চাকরিজীবী বলেন, এমনিতেই পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। প্রতিদিনই বাড়ছে পণ্যের দাম। ঘোষণা করা হয়েছে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর আরও সুযোগ পেয়েছেন। আরেক ক্রেতা নয়ন বলেন, কোরবানি আসছে। এ সুযোগে মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ানোর যেন উৎসবে মেতে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারে দারুচিনি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা, জিরা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, এলাচ প্রকারভেদে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা, গোলমরিচ ৮৮০ থেকে ৯০০ টাকা, লবঙ্গ ১৬০০ থেকে ১৬৫০ টাকা, তেজপাতা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শুকনো মরিচ মানভেদে ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা, আলুবোখারা ৯৯০ টাকা, কাজুবাদাম ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা ও ধনিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম বাড়ার ফলে আমদানি কমায় মসলার দাম বেড়েছে পাইকারি বাজারগুলোতে। ফলে দাম বাড়ছে খুচরা বাজারেও। আমদানি না বাড়লে ঈদে দাম আরও বাড়তে পারে।

কারওয়ানবাজারের পাইকারি বিক্রেতা রাকিব জানান, ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি পর্যায়ে খরচ বেড়ে গেছে। যে কারণে সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। অবশ্য বাজেটের কোনো প্রভাব এখনও পড়েনি।

এছাড়া, কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। আর কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি দেশি রসুন ২৩০-২৪০ টাকা, আর আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। এছাড়া কেজিতে ২০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে আদা বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়।

এদিকে, সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে শাক-সবজির দাম। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৮০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পেঁপে ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০-৫০ টাকা, কহি ৪০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, লতি ৬০-৮০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা ও কাঁকরোল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, প্রতি পিস লাউ ৫০ টাকা ও চালকুমড়া ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি লালশাক ১৫ টাকা, পাটশাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, কলমিশাক ১৫ টাকা ও পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। তবে দাম কমেছে কাঁচা মরিচের। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা। আর পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস বলেন, কাঁচা মরিচের দাম কমলেও, বেড়েছে অন্যান্য সবজির। মূলত সরবরাহ কমায় দাম বাড়ছে।

স্বস্তির খবর নেই ডিম ও মাংসের বাজারেও। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা ও কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত কমে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৪০ টাকায়। প্রতি কেজি দেশি মুরগি ৭০০-৭৫০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৫০ টাকায়। এছাড়া, জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়।

বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-৮০০ টাকায়। তবে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি খাসির মাংস এক হাজার ৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।

দাম কমেনি ডিমেরও। মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, আর সাদা ডিম ১৫৫ টাকায়, আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২২০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়।

এদিকে, ইলিশ বাদে স্বস্তির খবর নেই মাছের বাজারে। প্রায় সব ধরনের মাছে কেজিতে দাম বেড়েছে ২০-৫০ টাকার মতো। বিক্রেতাদের অজুহাত, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।

বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০-২৩০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০-২৪০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৬৫০ টাকা ও চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়। এছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও আইড় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ইলিশের দাম। এ মুহূর্তে প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। যদিও ৮০০-৯০০ গ্রাম ইলিশ ১৪০০ টাকা ও ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়।

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই। ক্রেতারা বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয় না। এতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়। আর বিক্রেতারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালালে অসাধুদের দৌরাত্ম্য কমবে।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ গরবাসী

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ |

Image

রাজধানীতে ফের বেড়েছে মশার উপদ্রব। দিনে রাতে সর্বত্র মশার দাপটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। বাসাবাড়ি, অফিস আদালত, রেস্টুরেন্ট, গণপরিবহণসহ মশার উৎপাত সহ্য করতে হচ্ছে নাগরিকদের। এমনকি গণভবনেও মশার উৎপাত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মশক নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেও এর সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।

মশার উৎপাত বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেই খাল পরিষ্কারের কাজ করা হচ্ছে। এতে ময়লা-আবর্জনাতে জন্ম নেওয়া মশা উড়ে বাসাবাড়িতে চলে যাচ্ছে। শীতকালীন সময়ে দেশের খাল ও জলাশয়গুলো শুকনা থাকে। বিশেষ করে কচুরিপানা ও পানিতে ভাসমান বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা থাকা মশাগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করছেন তারা। তাছাড়া এ সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। তবে এডিস মশা নিয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

তবে তাদের এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন কীটতত্ত্ববিদরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ ডক্টর কবিরুল বাশার যায়যায়দিনকে বলেছেন, খাল পরিষ্কারের কারণে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এ ঠিক না। খাল পরিষ্কার করলে সেখানে সাথে সাথে লার্ভি সাইট (মশার ডিম ধ্বংস করার ওষুধ) প্রয়োগ করার কথা।

মশার উৎপাত বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতি বছরই এই সময় প্রাকৃতিকভাবে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। পচা পানিতে এ মশার বংশ বিস্তার করে। এ সময় পানিতে অর্গানিক কমপাউন্ড বেড়ে যায়। এটা মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

মশক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে কবিরুল বাশার বলেন, প্রতি সাত দিন অন্তর অন্তর এডাল্টি সাইট ও লার্ভি সাইট প্রয়োগ করেত হবে। নিয়মিত জলাশয় ও পানি জমে থাকার স্থানগুলো পরিষ্কার করতে হবে। তবে একবার ওষুধ দিয়ে আবার ১০-১৫ দিন পর দিলে হবে না। মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রতি সাত দিন পরপরই ওষুধ প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন এ কীটতত্ত্ববিদ।

এদিকে, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহর এলাকার মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে চলতি সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ সভায় মশক নিধনে সিটি করপোরেশনগুলোর গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, প্রতিদিনই সকাল-সন্ধ্যা মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। বেশ কয়েক দফায় মশার ওষুধ পরিবর্তনও করা হয়েছে। নিজেদের সুরক্ষার জন্য বাসাবাড়ির আঙিনাসহ সর্বত্রই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, করোনার মধ্যে লকডাউনেও পাঁচবার চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। এজন্য এ বছর এডিসের প্রকোপ গতবারের মতো ছিল না। তেমনি কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০টি মিক্সড বেস্নায়ার কেনা হচ্ছে। এগুলো দিয়ে ওষুধ ছিটানো শুরু হলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) গুলশান, বনানী, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, উত্তরা, তেজগাঁও, ভাসানটেক, বাড্ডা, রামপুরা, হাতিরঝিল ও বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

উত্তরা এলাকার বাসিন্দা লুৎফুন্নাহার জানান, দিনে রাতে মশার অত্যাচারে ঘরে থাকা দায়। দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হয়। সিটি করপোরেশনের ওষুধ ছিটানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ওষুধ দিলে বাইরের মশা ঘরে চলে আসে।

হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরও পড়তে হয় মশার বিড়ম্বনায়। ঝিলের পাড়ের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বসে অবসর সময় কাটাতে আসা নগরবাসীকে সহ্য করতে হয় মশার কামড়। বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্টর কর্মচারীরা জানিয়েছেন, হাতিরঝিলে বেড়াতে আসা মানুষজন মশার কামড়ে রেস্টুরেন্টেও টিকতে পারে না। তাই প্রতিটি টেবিলের নিচে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখেন তারা।

ঝিলের পাড়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শাকিল আহমেদ জানান, এখানে এক মিনিটও টিকা দায়। এত মশা আগে কখনোই দেখিনি। দলবেঁধে মশা এসে নাকে-মুখে লাগে।

গুলশান গুদারাঘাট এলাকার এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা জানান, মশার জ্বালায় কোথাও দাঁড়াতে পারি না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মশা এমনভাবে কামড় দেয় যেন শরীরে পিঁপড়া কামড়াচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড এলাকার আনিসুর রহমান জানান, রাতে তো আছেই দিনেও মশার অত্যাচারে টিকা যায় না। ক'দিন আগেও মশার ওষুধ দিয়েছে। কিন্তু কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

ধানমন্ডি ১৫ নম্বর এলাকার আবু বকর জানান, এই সময়টা প্রতি বছরই মশার উপদ্রব বাড়ে। সিটি করপোরেশনের ওপর ভরসা না পেয়ে নিজেরাই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

তাছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ধানমন্ডি, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, পান্থপথ, মগবাজার, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মাতুয়াইল, ধনিয়া, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মানিকনগরসহ প্রায় সব এলাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আমরা ওয়াসা থেকে খালগুলো বুঝে পেয়েছি। এগুলো আমরা পরিষ্কার করছি। এসব খাল থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করা হচ্ছে। এসব খাল ও কচুরিপানায় যেসব মশা থাকত তার একটি অংশ কিন্তু উড়ে লোকালয়ে যাচ্ছে। এটাও মশা বৃদ্ধি পাওয়ার একটা কারণ। তাছাড়া শীতের মৌসুমে ঋতুগত কারণে মশা বেড়েছে। কারণ এডিস যেমন পরিষ্কার জমা পানিতে হয়, তেমনি কিউলেক্স মশা নোংরা, অপরিষ্কার পানিতে হয়। শীতকালে এখন যে মশা সেটি মূলত কিউলেক্স মশা। অনেক জলাশয় শীতকালে শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে কিউলেক্স মশা জমছে। আবার বর্ষাকালে জলাশয়ের পানি যেমন বহমান থাকে শীতকালে কিন্তু তেমন না। তাই মশা বেড়েছে।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




এবার বাঙালির কন্ঠ ও ঢাকা সাহিত্য পুরষ্কার পাচ্ছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের লেখক এম এ ওয়াজেদ

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image
নিজস্ব প্রতিবেদক::

আবারো পুরষ্কার পাচ্ছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের লেখক ও সমাজ সেবক এম এ ওয়াজেদ। তার সাফল্য মুকুট-এ এবার যুক্ত হচ্ছে বাঙগালির কন্ঠ ও ঢাকা সাহিত্য পুষ্কারের দুটি পালক। 

আগামী ১৯ জুলাই কবি ও সংগঠক হিসেবে বাঙালির কণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার তার হাতে তুলে দেয়া হবে। ইতোমধ্যেই পুরষ্কার দুটি গ্রহণের জন্য কবিকে আমন্ত্রণ পত্র পাঠানো হয়েছে। এর আগে চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারী জাতীয় কবি পরিষদ থেকে কবিতা ক্যাটেগরিতে পুরষ্কৃত হয়েছেন লেখক এমএ ওয়াজেদ। 

এমএ ওয়াজেদের পুরো নাম মোহাঃ আব্দুল ওয়াজেদ। ১৯৭৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নওগাঁর সাপাহার উপজেলার জবই গ্রামে এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম৷ পিতার নাম মোঃ মকবুল হোসেন এবং মাতার নাম মোসাঃ মরিয়ম বিবি। শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক স্তর থেকেই সাফল্য পেতে শুরু করেন মেধাবী এই লেখক। তিনি ১৯৮৪ সালে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় এবং ১৯৮৭ সালে অষ্টম শ্রেনির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত হোন ৷ ১৯৯০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে  উত্তীর্ণ হোন। এ কারনে তাঁকে  সরকারি বৃত্তি প্রদান করা হয়। তিনি উচ্চ শিক্ষা জীবন কাটিয়েছেন শিক্ষার শহর রাজশাহীতে। রাজশাহী  নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৯২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে  প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন ৷ ১৯৯৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তিসহ এলএলবি (অনার্স ) এবং ১৯৯৮ সালে এলএলএম ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। তিনি নওগাঁয় এ্যাডভোকেট বার সমিতির সদস্য। নিজ জেলায় মানুষকে আইনী সেবা প্রদান করছেন। 

ছোটবেলা থেকেই কবিতা  ও প্রবন্ধ লিখেন এম এ ওয়াজেদ৷ কবিতার সাথে তাঁর গভীর প্রেম। অল্প দিনেই তাঁর লেখা এক গুচ্ছ বই প্রকাশ হয়েছে। যা ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। ইতোমধ্যেই তাঁর লেখা ৭ টি একক কাব্যগ্রন্থ  প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ১৪ টি যৌথ  কাব্যগ্রন্থ’ ও একটি গল্পগ্রন্থ বেড়িয়েছে তাঁর। একক কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ২০২০ সালে 'আলোকের ঝরনাধারা' ও 'অদ্ভুত আঁধার চারদিকে'। ২০২৩ সালে অমর একুশে বইমেলায় কারুবাক প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় 'প্রভাতের পুষ্পসুবাস'।২০২৪ এ অমর  একুশে বই মেলায় নব সাহিত্য প্রকাশনী  থেকে প্রকাশ হয় 'বেদনার কোষকাব্য' ও 'অভিশংসিত সরোবর'। বাংলা প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পায় অন্তর্দহনের শেষ পৃষ্ঠা ও 'হে হৈমন্তিকা যুবতী হও'। যৌথ কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো, অন্তরে অগ্নিশিখা, বুনো রোদ্দুর, ভোরের মাঝি, দ্বিভুজ, কবির কবিত্ব, স্বদেশের মৃত্তিকায় জননীর ঘ্রাণ, পড়ন্ত বিকেলের কাব্য, চাঁদনী রাতের কথা, বিহঙ্গ বাঁশরি, কাব্য ফেরি, প্রবাসী বুলবুল, কলমের আলো, ফিলিস্তিন আমার বারুদের ফুল ও মায়াবতীর নীলকাব্য। সম্পতি 'শ্রেষ্ঠ গল্প' নামে যৌথ গল্পপ্রন্থটিও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও জার্নালে তাঁর লেখা ১শ' ৫০ এর অধিক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

লেখক এমএ ওয়াজেদ দুই পুত্র সন্তানের জনক ৷ বড় ছেলে সাদিক ওয়াকিল সাদ ২০২৩ সালে নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়ে বর্তমানে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে এইচএসসিতে অধ্যায়নরত। ছোট ছেলে সিহাব ওয়াদুদ হাবিব নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ৷ তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সুমী একজন আদর্শ গৃহিণী। 

এমএ ওয়াজেদ লেখালেখির বাইরে বৃক্ষরোপন, অসহায় মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান সহ সামাজিক বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। সারাজীবন সাহিত্য রচনা ও সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি। 

আরও খবর



বাংলা ব্লকেড : শিক্ষার্থীদের নামে পুলিশের মামলা

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা করেছে পুলিশ। আন্দোলনের সময় পুলিশের যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি হিসেবে অজ্ঞাতপরিচয় অনেক শিক্ষার্থী উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের পরিবহন বিভাগের গাড়িচালক খলিলুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই কোটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল। সে অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে বিকেল ৪টার সময় স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে বেআইনি জনতায় আবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেন। তারা শাহবাগ মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন ও পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন। এসময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে সাধারণ জখম করেন।

পরে তারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে শুনিয়ে পুনরায় শাহবাগ মোড়ে ফিরিয়ে আনতে যায়। এ সময় বিএসএমএমইউয়ের পাশে নিরাপদ স্থানে রাখা এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যাননের চারদিকে ঘেরাও করে অনেক সংখ্যক আন্দোলনকারীরা উঠে উদ্দাম নৃত্য শুরু করেন। তারা ওয়াটার ক্যানন চালককে গাড়ি থেকে জোর করে বের করার চেষ্টা ও গতিরোধ করেন। এর ফলে এপিসি ২৫ এর সামনের দুইটি এসএস স্ট্যান্ড, বনাটের উপরে বাম পাশে রেডিও অ্যান্টেনা এবং ডান পাশের পেছনের চাকার মার্টগার্ড চলি এবং ওয়াটার ক্যাননের বাম পাশের লুকিং গ্লাস ভেঙে অনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ছাত্রদের অন্যান্য সিনিয়র স্যাররা বুঝিয়ে শুনিয়ে এপিসি-২৫ ও ওয়াটার ক্যানন থেকে নামিয়ে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পানির বোতল, টেপটেনিস বল ও ইটের টুকরা ছুড়ে মারেন। এতে অনেক পুলিশ সমস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সব সিনিরয় কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বারডেম হাসপাতালের গেটের ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশ সদস্যদের আহত করেন। তারা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেন। ছাত্ররা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা এবং শাহবাগ থানায় ছাত্রদের ধরে নিয়ে গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশকে মারতে তেড়ে আসেন ও পুলিশকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে শাহবাগ মোড় ত্যাগ করেন।

এ ছাড়া বিবাদীরা বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি কাজে বাধা দেন। তারা স্বেচ্ছায় আঘাত করেন, গতিরোধ, দাঙ্গা দমনকারী কর্তব্যরতদের প্রতি আক্রমণ ও বাধা দিয়ে ক্ষতিসাধন ও ভয়ভীতি দেখান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লড়াই চলবে : নেতানিয়াহু

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


সরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, হামাসের সঙ্গে ‘আংশিক’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য তার দেশ প্রস্তুত। 



হামাস সব পণবন্দিকে মুক্তি না দিলেও কিছুসংখ্যক পণবন্দির মুক্তির বিনিময়ে হলেও তিনি গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি করতে আগ্রহী। গতকাল রোববার (২৩ জুন) ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এই কথা জানান।



নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো পণবন্দিদের হামাসের কবল থেকে ফিরিয়ে আনা এবং গাজায় হামাসকে শাসন ব্যবস্থা থেকে উৎখাত করা।’ তিনি আরও জানান, হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজী নন। 



যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের পণবন্দি প্রত্যাবর্তন চুক্তি হলে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি হবে।



এদিকে, গত শনিবার (২ জুন) থেকে চরম মাত্রায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে ইসরায়েলের সাধারণ জনগণ।  দফায় দফায় ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে হাজার হাজার ইসরায়েলি নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করছে। তাদের দাবি দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা এবং বন্দিদের ফেরত আনার জন্য কার্যকর চুক্তির বাস্তবায়ন করা।


গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ঘোষণা করেছিলেন।  সেখানে উল্লেখ্য করা হয়, ছয় সপ্তাহের জন্য গাজায় যুদ্ধ বিরতির পাশাপাশি হামাসের কাছে থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের ‍মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হবে। এই চুক্তি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার পথ সুগম করবে।


যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা হামাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু চ্যানেল-১৪ কে আরও বলেন, ‘রাফায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান প্রায় শেষ। হামাসের বিরুদ্ধেও যুদ্ধের তীব্র পর্যায় শেষের পথে। এর অর্থ এই নয় যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, আমরা রাফায় ভয়াবহ সামরিক অভিযানের সমাপ্তি টানছি। 



 গাজা থেকে হামাসকে উৎখাত করে আমরা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠন করতে চাই যাতে গাজায় মানবিক সাহায্যপণ্য সরবরাহ বজায় থাকে এবং পরে বেসামরিক জনগণের জন্য সুষ্ঠু ও সুন্দর বাসস্থান তৈরি করা যায়।’



আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধে ৩৭ হাজার ৫৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ প্রতিদিনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। ভেঙে পেড়েছে খাদ্য সরবরাহ ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কাজ।



আরও খবর



সংসদে অর্থ বিল উঠছে আজ, বাজেট পাস রোববার

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:



নানান আলোচনা-সমালোচনার পরও কালো টাকা সাদা করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটছে না সরকার।



 কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখেই রোববার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পাস হচ্ছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট। নতুন এই বাজেট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে।



বড় কোনো সংশোধনী ছাড়াই জাতীয় সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন হচ্ছে আজ শনিবার (২৯ জুন)। এর আগে ৬ জুন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। 


চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংসদ সদস্যরা বিধানের তীব্র সমালোচনা করেন।



অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে ছোটখাটো দু-একটি বিষয় ছাড়া তেমন কোনো বড় সংশোধনীর সম্ভাবনা নেই।


এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা প্রত্যাহার নিয়েও ছিল আলোচনা-সমালোচনা। নানান জল্পনা কল্পনা শেষে এমপিদের গাড়ি আমদানিতে ৪০ শতাংশ কর বসানোর প্রস্তাব করা হয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে।



এছাড়া কর অবকাশ সুবিধার পাশাপাশি শর্ত সাপেক্ষে ইকোনমিক জোন ও হাইটেক পার্কের বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে আগের মতোই জিরো ডিউটি সুবিধা বহাল থাকতে পারে।


প্রস্তাবিত বাজেটে সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবু হাসান মাহমুদ আলী। তবে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর নাও হতে পারে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানিতে বিদ্যমান আদেশ সংশোধনের কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ফলে আগের মতো এবারও এমপিরা শুল্কমুক্ত কর সুবিধা ভোগ করতে পারেন।


এনবিআর সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।



 পরে মঙ্গলবার (২৬ জুন) বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।


সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যায়ক্রমে কর অব্যাহতি কমিয়ে কর জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল(আইএমএফ)। পাশাপাশি আর্থিক খাত সংস্কারের পরামর্শ ও দিয়েছে সংস্থাটি।


আন্তর্জাতিক এ সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, আইন প্রণেতাদের গাড়ি আমদানিতে থাকা কর অব্যাহতি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম জোরদার করতে চেয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সংসদ সদস্যদের এ সুবিধা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার প্রস্তাবটি পাস না হওয়ার সম্ভাবনা আছে।


প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের আগে আইন প্রণেতাদের গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল আইন মন্ত্রণালয়।


জানা গেছে, কর অবকাশ সুবিধার পাশাপাশি কিছু শর্ত সাপেক্ষে ইকোনমিক জোন ও হাই-টেক পার্কের বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে আগের মতই জিরো ডিউটি সুবিধা বহাল থাকতে পারে।



 এছাড়া শেয়ারবাজারে ক্যাপিটাল গেইনের উপর নতুন করে আরোপ করা ট্যাক্স অব্যাহত থাকতে পারে।


অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদের প্রবল সমালোচনার মুখেও কালো টাকা সাদা করার বিধান থেকে সরছে না সরকার। এ সুযোগ বহাল থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই ছাড়াই কালো টাকা সাদা করতে পারবেন। সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করতে পারবে না।


নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো করদাতা ফ্ল্যাট ও জমির মতো স্থাবর সম্পত্তির জন্য নির্ধারিত হারে কর প্রদান করলে এবং নগদ, সিকিউরিটিজ, ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয় স্কিমসহ অন্যান্য সম্পদের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪