Logo
শিরোনাম

বিনিয়োগ ছাড়াই গাজীপুরে ভাওয়াল রিসোর্টের মালিক বেনজীর

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি ডেস্ক রিপোর্ট:


গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ইজ্জতপুর সড়ক ধরে চার কিলোমিটার ভেতরে ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’। 


সেখানকার নলজানী গ্রামে তিন দিকে বনভূমিবেষ্টিত এই রিসোর্ট এলাকার মানুষের কাছে ‘বেনজীরের রিসোর্ট’ নামে পরিচিত। যদিও কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই ভাওয়াল রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিক হয়েছেন বেনজীর আহমেদ।


অভিযোগ রয়েছে, ৫০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা ভাওয়াল রিসোর্টের ৩.৬৮ একর জমি বন বিভাগের। আর নিরীহ কৃষকদের অন্তত ৪০ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন রিসোর্টটি।


সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুলিশের শীর্ষ পদে থাকার সময় কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। কীভাবে প্রভাববলয় ব্যবহার করে এত সম্পদ অর্জন করেছেন, তা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই গাজীপুরের রিসোর্টটির মালিক বনে গেছেন বেনজীর। শুরুতে ১৯ একর জমি নিয়ে রিসোর্টটির কাজ শুরু হলেও সাবেক আইজিপি (তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের-ডিএমপি কমিশনার) বেনজীরের ক্ষমতার জোরে প্রায় ৫০ একর জায়গা দখল করে নেন রিসোর্ট মালিকরা।


জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট, ম্যাক্স ভ্যালিসহ সাতটি রিসোর্টের অবৈধ দখল করা জমি উদ্ধার করলেও ভাওয়াল রিসোর্টের জমি উদ্ধারে এতদিন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছিল না বন বিভাগ।


এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভাওয়াল রিসোর্টের করা এক মামলায় এ জমির বিষয়ে একটি স্টে অর্ডার ছিল।


 এ কারণে বন বিভাগ চাইলেও জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে ২০১৭ সালেই জেলা জজ আদালতের স্টে অর্ডারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে আপিল করে। 


গত বৃহস্পতিবার এর রায় হয়েছে। আদালত আপিলটি গ্রহণ করে স্টে অর্ডারটি প্রত্যাহার ও ভাওয়াল রিসোর্টের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এখন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। তবে প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দিন লাগতে পারে।


শুধু বন বিভাগ নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধার জমিও দখল করে করা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। এর মূল প্রবেশপথের এক একরের বেশি জমি কাপাসিয়া-শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. সিরাজুল হক এবং তার মায়ের। 


প্রবীণ এ মুক্তিযোদ্ধা নিজের জমি উদ্ধারে নানাজনের কাছে দিয়েছেন ধরনা। তবে প্রভাবশালী বেনজীরের কারণে তারা ২০১৩ সালের পর থেকে ওই জমির ধারেকাছেও ভিড়তে পারেননি। বেনজীরের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর চাউর হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন ডা. সিরাজুল। 


জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে গাজীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।


এলাকাবাসী জানান, ভাওয়াল রিসোর্টের মূল উদ্যোক্তা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প গ্রুপ পারটেক্স। ব্যবসায়িক গ্রুপটির উদ্যোক্তা প্রয়াত এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজীজ রাসেল বর্তমানে এটির মালিকানায় রয়েছেন।


 ২০১৩ সালে গাজীপুর সদরের বারইপাড়া মৌজার নীলজানি গ্রামের কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কিনে এর সঙ্গে আরও কিছু সরকারি খাসজমি দখল করে নেন তারা।


এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ২৮ মে বেনজীর আহমেদকে চিঠি দেয় দুদক। ৬ জুন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের ৯ জুন জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তলব করা হয়েছে। 


তবে দুদকের ওই চিঠি গুলশান-১ এর ১২৬ নম্বর সড়কে বেনজীরের বাসার অভ্যর্থনা কক্ষে পড়ে আছে। দুদকের চিঠি ওই বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই ৪ মে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়েন সাবেক আইজিপি।


আরও খবর



গাজীপুর মহানগর আ.লীগের কমিটিতে ঠাঁই হল না জাহাঙ্গীরের

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডেস্ক থেকে সদরুল আইন :



বহুল আলোচিত গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম পরপর দুবার আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। দুবারই তিনি ক্ষমা পেয়েছিলেন। 




সবশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মা জায়েদা খাতুনের পক্ষে কাজ করে বহিষ্কার হন। কিন্তু গত বছর অক্টোবরে তাঁকে আবার ক্ষমা করা হয়। দলে ফেরার পর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ফিরবেন বলে আলোচনা ছিল।



 কিন্তু সদ্য ঘোষিত মহানগর শাখার ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কোথাও তাঁর ঠাঁই হয়নি।


আজমত উল্লাহ খানকে পুনরায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ মণ্ডলকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন। 



একই সঙ্গে এ কমিটিতে ২৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


আজমত উল্লাহ খান ও আতাউল্লাহ মণ্ডল

২০২১ সালে বহিষ্কার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গাজীপুর জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে প্রথম বহিষ্কার হন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। গত বছরের ২১ জানুয়ারিতে তাঁকে ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।



এর চার মাসের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আজমত উল্লা খানের বিরুদ্ধে মা জায়েদা খাতুনকে বিদ্রোহী প্রার্থী করে পুনরায় বহিষ্কার হন।



 ওই নির্বাচনে আজমতকে হারিয়ে জায়েদা খাতুন মেয়র নির্বাচিত হন। এবারও জাহাঙ্গীরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ক্ষমা করা হয়। গত অক্টোবরে তাঁকে ক্ষমা করা হয় বলে জানান আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।


প্রথমবার ক্ষমা করার সময় বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমা পেলেন জাহাঙ্গীর আলম। এবারও একই কথা বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। 



এরপর জাহাঙ্গীর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের স্বপ্নও দেখেছিলেন।


বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও আগামী নির্বাচন মাথায় রেখে জাহাঙ্গীর আলমকে ক্ষমা করা হয় বলে তখন দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।



 ঢাকার অন্যতম প্রবেশমুখ গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাহাঙ্গীরকে প্রয়োজন বলে দলের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে বুঝিয়েছিলেন।


দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বারবার ক্ষমা পাওয়ার পেছনে দুটি বড় কারণ আছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, অঢেল টাকা থাকায় জাহাঙ্গীর আলম দলের নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সঙ্গে টাকাপয়সা খরচ করে যোগাযোগ রাখেন। দ্বিতীয়ত, তাঁর নিজস্ব কর্মী ও সমর্থক বাহিনী আছে।


গত বছর মে মাসে বহিষ্কার হলেও গত জুলাইয়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের ‘শান্তি সমাবেশে’ বিপুলসংখ্যক লোক নিয়ে এসেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশমুখে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচির দিনও টঙ্গী-আবদুল্লাহপুর এলাকায় জাহাঙ্গীরের সমর্থকদের ব্যাপক তৎপরতা ছিল।



 ১৪ অক্টোবর ঢাকার কাওলায় সিভিল অ্যাভিয়েশন মাঠে আওয়ামী লীগের সমাবেশে তিনি বিরাট মিছিল নিয়ে আসেন।


জাহাঙ্গীরের মায়ের কাছে পরাজিত আজমত উল্লাকে গত ৪ জুন গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বানিয়ে কিছুটা সান্ত্বনা দেয় আওয়ামী লীগ। এদিকে দলে ফেরার পর জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর মহানগরের পদ ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন।


গাজীপুর মহানগর কমিটির ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি:



কমিটির অন্য পদ পাওয়া নেতারা হলেন সহসভাপতি বেগম সামসুন নাহার ভূঁইয়া, মো. মতিউর রহমান মতি, আব্দুল হাদী শামীম, রেজাউল করিম ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন, ওসমান আলী, আসাদুর রহমান কিরণ, সফর উদ্দিন খান, শেখ মো. আসাদুল্লাহ, হেদায়েতুল ইসলাম ও মো. আব্দুল আলীম মোল্লা।


যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকেরা হলেন মো. আফজাল হোসেন সরকার রিপন, মো. কাজী ইলিয়াস আহমেদ ও এ বি এম নাসির উদ্দিন নাসির।


কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. খালেদ হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, দপ্তর সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রাসেল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আক্তার হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবদুল হালিম সরকার, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. সাইজ উদ্দিন মোল্লা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. শহীদ উল্লাহ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মোসা. হোসনে আরা জুলি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মো. খালেকুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. হীরা সরকার, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. বাছির উদ্দিন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. সোলায়মান মিয়া।


এ ছাড়া কমিটিতে সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. কামরুল আহসান সরকার রাসেলকে। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মো. মজিবুর রহমান, এস এম আলতাব হোসেন ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল। উপদপ্তর সম্পাদক হয়েছেন মো. তৌহিদুল ইসলাম দ্বীপ, উপপ্রচার সম্পাদক মোসা. সালমা বেগম। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে।



কমিটির সদস্যরা হলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মো. জাহিদ আহসান রাসেল, মেহের আফরোজ চুমকি, কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন, এম এ বারী, ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, মো. আব্দুর রউফ নয়ন, এস এম মোকছেদ আলম, মো. আবু সাহিদ খান, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আজিজুর রহমান শিরিশ, মহিউদ্দিন আহম্মেদ, মো. আব্দুর রহমান, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. ফজলু, মো. জাহিদ আল মামুন, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মো. আবুল কাশেম, মীর আসাদুজ্জামান, মো. খলিলুর রহমান, মো. আদম আলী, আক্তার হোসেন, এস এম আকরাম হোসেন, নীলিমা আক্তার লিলি, মো. জালাল উদ্দিন, এস এম শামীম আহমেদ, মো. খোরশেদ আলম রানা, মতিউর রহমান, কামাল আহমেদ খান, মো. সেলিম মিয়া, মো. কবির হোসেন, মো. আব্দুর রউফ, এইচ এম শাহজাহান, অরুণ কুমার সাহা, কাজী মো. সেলিম ও মো. আলমগীর হোসেন খান।


আরও খবর



দেশে ফিরলেন ৪৩ হাজার ৮৩ হাজি, মৃত্যু বেড়ে ৫৮

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



ববিডি টুডেস ডেস্ক:


পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৪৩ হাজার ৮৩ হাজি।



 এ বছর হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।



বুধবার (৩ জুলাই) ভোরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।



বুলেটিনে বলা হয়, পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৮৩ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। সৌদি থেকে ১০৯টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৪১টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪২টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।


হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ জন হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।



এদিকে চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৪৫ জন এবং নারী ১৩ জন। তাদের মধ্যে মক্কায় ৪৬ জন, মদিনায় চারজন, মিনায় ছয়জন ও জেদ্দায় দুইজন মারা গেছেন।


প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। আগামী বছর (২০২৫) বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে সৌদি আরব।


এদিকে, চলতি বছর প্রখর তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমের জেরে হজ করতে গিয়ে সৌদি আরবে রেকর্ড মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।‌ 



এর মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে ১৭ জন, বাকি ৪১ জন হজের আনুষ্ঠানিকতার শুরুর পর মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবার পরিচয় প্রকাশ করেছে হজ পোর্টাল।


সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে যদি মারা যান, তাহলে তার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হয়। নিজ দেশে আনতে দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তি গ্রাহ্য করা হয় না। মক্কায় হজ যাত্রী মারা গেলে মসজিদুল হারামে নামাজে জানাজা হয়।



আরও খবর



নওগাঁয় বিয়ের আগের দিন সড়কেই ঝরলো এক যুবকের প্রাণ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

বিয়ে করার জন্য মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়কেই ঝরলো জসিম উদ্দিন (২৩) নামে এক এনজিও কর্মীর প্রাণ।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউপির দেবীপুর মোড়  নামক স্থানে দুটি মোটরসাইকেল এর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটলে এদূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জসিম উদ্দীন নওগাঁর পাশ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বেগম-নগর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির মহাদেবপুর উপজেলার মহিষবাথান শাখার প্রশিক্ষণার্থী জুনিয়র অফিসার ছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, নিহত জসিম উদ্দীনের আগামীকাল শুক্রবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। তিনি বিবাহ করার জন্যই অফিস ছুটি নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে  নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ফেরার পথে দেবীপুর মোড় নামক স্থানে পৌঁছালে এসময় গ্রামের ভেতর থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সাথে তার মোটরসাইকেল (দুটি মোটরসাইকেল) সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। জসিম উদ্দিন এর মৃত্যুর খবর তার গ্রামে পৌছার পর থেকে এলাকা জুড়ে লোকজনের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া। দূর্ঘটনার পর পরই নিহতের অফিসের সহকর্মী ও স্বজনরা দূর্ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ বাড়িতে যায়।


আরও খবর



ভারতে আমার সফর দেশের মানুষের জন্য গৌরবের : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image


বিডি টুডেস  রিপোর্ট:


ভারতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় দ্বিপাক্ষিক সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভারতে আমার এ সফর ছিল দেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এ সফরের ফলে আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছবে।’



প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।



ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে গত ২১ থেকে ২২ জুন নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর নয়াদিল্লিতে এটিই কোনো সরকারপ্রধানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।


শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার এ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’


এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে দুই দেশের মানুষ বেশ উপকৃত হবে।


আরও খবর



শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক মতিউর কন্যা ইপ্সিতা

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডিজিটাল ডেস্ক:

ছাগলকাণ্ডে একে একে বের হতে থাকে মতিউরের দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জন করা কোটি কোটি টাকার সম্পদ। 

শুধু মতিউর না তার দুই স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে বেনামে থাকা সম্পদের তথ্যও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মতিউরের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকীর মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতা সম্পদের তথ্য এবার ফাঁস হয়েছে।


মাত্র ৩২ বছর বয়স। নিজেকে মেকআপ আর্টিস্ট হিসাবে পরিচয় দেন এই তরুণী। পড়াশোনা শেষে এই পেশায় যোগ দিয়ে কতই বা আয় করতে পারেন। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি, এই অল্প বয়সেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাততলা বাড়িসহ শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।



 কানাডায় নিজস্ব ফ্লাটে বসবাস করেন ইপ্সিতা। কানাডায় তার বাড়ি-গাড়িসহ বিলাসী জীবনের ছবি ঘিরে নেট দুনিয়ায় হইচই চলছে। তবে কানাডার চেয়ে দেশেই তার বেশি সম্পদ রয়েছে।প্রশ্ন উঠেছে একজন মেকআপ আর্টিস্ট এত টাকার সম্পদের মালিক হলেন কীভাবে।



ইপ্সিতার সম্পদ নিয়ে একাধিক সূত্রে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে, ২০২৩ সালে মতিউর কন্যার প্রকাশিত আয়কর ফাইলেই ৪২ কোটি টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে। 



সোনালী সিকিউরিটিজে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সিনাজি ট্রেডিং লিমিটেডে ৫ লাখ টাকা, গ্লোবাল সুজ কোম্পানিতে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৫৫ হাজার, ওয়ান্ডার পার্কে ১০ লাখ ও মামুন অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস কোম্পানিতে ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে ইপ্সিতার।



আয়কর নথিতে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে ঋণ ও ধার বাবদ ইপ্সিতার সম্পদ আছে ২২ কোটি টাকার। নরসিংদীতে হেবামূলে দেড় একর জমি আছে তার। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিলাসবহুল এলাকার সাততলা বাড়ি মালিক তিনি। বাড়িটির মূল্য অন্তত ৫০ কোটি হলেও আয়কর নথিতে তা ৫ কোটি দেখানো হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মতিউর রহমান তার অবৈধ পথে আয় করা কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে বৈধ করার অপচেষ্টাও চালিয়েছেন। ইপ্সিতার নামে থাকা বিপুল সম্পদ তারই নমুনা মাত্র।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, বয়স ও পেশার সঙ্গে ইপ্সিতার সম্পদের পরিমাণ স্পষ্টতই অস্বাভাবিক। 



বাবার প্রভাবে তার আয়কর ফাইল রাজস্ব বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি। বাবার প্রভাবে তিনি আটকাননি। দেশে যারা কর ফাঁকি দিতে চান তারা পার পেয়ে যান, আর স্বচ্ছতার সঙ্গে কর দিতে চাওয়া মানুষেরা নানামুখী হয়রানির শিকার হন। 


এখন দুদকের উচিত হবে মতিউর রহমান, তার দুই পক্ষের স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের সম্পদের খোঁজ নেওয়া।




আরও খবর