Logo
শিরোনাম

বিপৎসীমার উপরে যমুনার পানি

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

শনিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টায় পাওয়া শেষ খবরে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

যমুনার পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এতে তিল, কাউন, বাদাম, পাট ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে।

এব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রোকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, জেলার কোথাও কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। তবে নদী তীরবর্তী কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে যমুনার পানি বিপৎসীমা (আজ) শনিবার অতিক্রম করতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই ভাঙন এলাকায় ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া ভাঙনরোধে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ৯৬ হাজার জিও ব্যাগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


আরও খবর



মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি, অচলাবস্থার হুশিয়ারি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

আহমেদ ফারুক মিল্লাত ঃ

চা শ্রমিকদের মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এ কর্মসুচি পালন করেন হবিগঞ্জের ২৪টি বাগানসহ দেশের সকল চা বাগানের শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে এ কর্মবিরতি পালন করা হবে।

এসময় চা শ্রমিক নেতারা বলেন, প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে। অথচ বাংলাদেশের চা শ্রমিককরা ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তির ১৯ মাস অতিবাহিত হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেনি মালিক পক্ষ। তাই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তিন দিনের মধ্যে তাদের দাবি না মানা হলে বাগানে অচলাবস্থা সৃষ্টি ও রাস্তায় নামার হুমকি দেন চা শ্রমিক নেতারা।

তারা বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের এই কর্মসুচি চলবে। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে বাগান সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাস্তায় নামার হুশিয়ারি দেন তারা।


আরও খবর



নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল ছাত্রীসহ নিহত ২

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী ঃ

নোয়াখালীর চাটখিল ও হাতিয়াতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রীসহ দুইজন মারা গেছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুইজন।

নিহতরা হলো, চাটখিল উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের বারইপড়া গ্রামের নূর ইসলাম মোল্লার ছেলে মো. শাহজাহান মোল্লা (৪৫) এবং হাতিয়া পৌরসভার গুল্লাখালি গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে নিহা আক্তার (৭)। নিহত নিহা গুল্লাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

সোমবার (২৫ জুলাই) রাতে এবং মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।  

স্থানীয় বাসিন্তা কামরুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার রাতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে বাড়িতে পথে তার রিকশাটি মন্ডবি বেপরী বাড়ির সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুত গতির সিএনজি তার রিকশাটিকে সামনে থেকে চাপা দিলে গাড়ি দুটি উল্টে সড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে দুই চালকসহ আহত হন শাহজাহান। সেখান থেকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওই হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।  

স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুঁটির পর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা-নলচিরা সড়ক দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল স্কুলছাত্রী নিহা আক্তার। বিদ্যালয় থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর পিছন থেকে একটি দ্রুত গতির টমটম গাড়ি তাকে পিছন তেকে ধাক্কা দিলে সড়কে পড়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেতলে গিয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাতিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাঞ্চন কান্তি দাশ বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়িটি আটক করেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পতক্ষেপ নেওয়া হবে।


আরও খবর



ইটনা প্রায় ২০০টি ফার্মেসীর মধ্যে ড্রাগ লাইসেন্স আছে মাত্র ০৯টির

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মোঃ মুজাহিদ সরকার,কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়ন বাজারে ২৩-২৫টা ছাড়াও ০৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও মহল্লায় আনুমানিক দুই শতাধিক ওষুধের দোকান গড়ে উঠেছে। হাতেগোনা কয়েকটি দোকান ছাড়া বেশিরভাগ ওষুধের দোকানে লাইসেন্স, কেমিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ছাড়াই চলছে রমরমা ওষুধ ব্যবসা। 

জানা যায়, প্রশাসনের কোন রকম নজরদারি না থাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারি রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এন্টিবায়েটিক, ঘুমের ঔষুধসহ সব ধরনের ওষুধ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক টেবলেট ও মহিলাদের গর্ভপাতের ওষুধ। আবার অনেক ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি রোগের চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে। 

কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে ইটনা উপজেলার অতিরিক্ত দূরত্ব হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন এসব ফার্মেসী। আর এতে করে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকি মধ্যে পড়ছেন উপজেলার মানুষ। অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে একদল ওষুধ ব্যবসায়ী। 

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর(কিশোরগঞ্জ) সূত্রে জানা যায়, ইটনা উপজেলায় সরকারিভাবে ড্রাগ লাইসেন্সধারী ফার্মেসী রয়েছে মোট ৭৩টি। এর মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ৬৯টি, হোমিওপ্যাথিক ০২টি এবং ইউনানি ০১টি এবং হোল সেল ১টি ফার্মেসী রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইটনা উপজেলায় এই ৭৩টি এর মধ্যে শুধুমাত্র ০৯টি অ্যালোপ্যাথিক ফার্মেসীর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। নবায়ন হয়েছে "গীতা ড্রাগ হাউজ,জয়িতা ফার্মেসী,মুসলিম মেডিকেল হল,সাথী ফার্মেসী, ইসলামিয়া ফার্মেসী,জয় মেডিসিন সেন্টার,উর্মি মেডিকেল হল, পুষ্পকলি ওষুধালয় এবং জননী মেডিসিন গার্ডেন। কিছু ফার্মেসী আছে ২০১০-১৪ইং সালের পর আর নবায়ন করা হয় নাই কিন্ত উপর মহল ম্যানেজ করে ওষুধের রমরমা ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। 

সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার জন্য, ওষুধ ফার্মেসীতে সাজানো রোগী পাঠায় রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ছারপত্র ছাড়াই। আমাদের সাজানো ক্রেতা র চাহিবার মাত্রই এন্টিবাইটিক ওষুধ বিক্রি করেন ফার্মেসীতে দায়িত্বরত লোকজন অথচ তাদের ফার্মাসিস্ট সার্টিফিকেট নাই। একই চিত্র উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ফার্মেসীগুলোতেও।

দেখা যায়, আবার অনেক ফার্মেসীতে মানুষের ওষুধের পাশাপাশি গরু-ছাগল, হাঁস মুরগির ওষুধও বিক্রি করতে। এসব ঔষুধ সংরক্ষণও করা হয় যেনতেন ভাবে। 

গত ২৪ শে নভেম্বর ২০২০ইং নীলফামারীতে মডেল ফার্মেসী উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলে ছিলেন, ওষুধ ফার্মেসী স্থাপন করতে হলে ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। ড্রাগ লাইসেন্স এবং ফার্মাসিস্ট ছাড়াই যেসব ফার্মেসী স্থাপন করা হয়েছে, তা আইনানুযায়ী অবৈধ। ওই সব অবৈধ ফার্মেসীতে কোনো ওষুধ কোম্পানি ওষুধ সরবরাহ করতে পারবে না। ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট ছাড়া যেসব ওষুধের দোকান চালু আছে, তা ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক ফার্মেসীর মালিক বলেন, আমরা ইটনা সদরের সব থেকে বড় ওষুধের দোকান 'গীতা ড্রাগ হাউজ' থেকে ওষুধ কিনে এনে বিক্রি করি। আমার মতো ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন ইউনিয়নের ওষুধের দোকানে সব ধরনের ওষুধ বিক্রি করে গীতা ড্রাগ হাউজ কিন্ত গীতা ড্রাগ হাউজের হোলসেল করার অনুমতি নেই। 

গীতা ড্রাগ হাউজের মালিক সনজিত রায় বলেন, আমার এখন থেকে যারা ওষুধ কিনে নেন তাদের বেশিরভাগ-ই গ্রামের মহল্লার ছোট ছোট ওষুধ ব্যবসায়ী। ড্রাগ লাইসেন্স আছে নাকি নাই এগুলো ওষুধ কোম্পানি থেকেও খোঁজ করেন না তবে আমরা ফার্মেসীর মালিকদের সাথে মিটিং করে বার বার বলছি ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য। 

উর্মি মেডিকেল হলের মালিক শাওন চন্দ্র দে বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশ মেনে ট্যাক্স দিয়ে ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করে বৈধ ভাবে ব্যবসা করছি। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকার পরও জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে। প্রশাসনের উচিত মোবাইল কোর্ট করে জরিমানা দিয়ে ছেড়ে না দিয়ে তাদের ড্রাগ লাইসেন্স গুলো দ্রুত করার জন্য সহযোগিতা করা। 

ইটনা উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ওষুধ ব্যবসায়ী হায়দার আলী বলেন, আমরা সবাই কে বলবো ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য এবং যাদের ড্রাগ লাইসেন্স আছে তাদের নবায়ন করার জন্য। তিনি আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে ওষুধ ব্যবসায়ীদের কে নিয়ে মিটিং করবো।

ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.প্রসূন সাহা বলেন, চিকিৎসক এর প্রেসক্রিপশন ব্যতীত অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক, ব্যাথানাশক বড়ি এবং মানহীন ঔষধ মানব শরীরে কিডনি, লিভার সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা আক্তার জানান, কিছু মাস আগে উপজেলার বাজারে ওষুধের দোকানগুলোতে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এবং বেশ কিছু দোকানকে নগত অর্থ জরিমানা করা হয়েছিল। ওষুধ ব্যবসায়ীদের সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য এবং যাদের ড্রাগ লাইসেন্স আছে কিন্ত নবায়ন করা হয়নি তাদের কে দ্রুত নবায়ন করার জন্য।


আরও খবর



জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে কৃষি

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের আউশ ও রোপা আমন ধানের চাষাবাদ।

এই সময়ের মধ্যে সিংহভাগ জমিতে আমনের চারা রোপণ হওয়ার কথা। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে অধিকাংশ জমিতে চারা লাগানো যাচ্ছে না। প্রকৃতির এমন বিরুপ আচরণে চাষিদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। কখনো টিপটিপ, কখনো একপশলা বৃষ্টি হলেও বর্ষানির্ভর আউশ-আমন চাষের জন্য তা যথেষ্ট নয়। রোদের তীব্রতার চেয়ে বাড়তি সেচ খরচের ধকলে পুড়ছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে যে পুঞ্জিভূত মেঘ বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা সেটা এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছে। এজন্য বর্ষাকালেও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে না। গত এক দশক ধরেই আবহাওয়ায় এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে ঋতু পরিক্রমায় এই পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সামনে ভারী বর্ষনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চারা রোপণ করা যাবে। চাষিদের সম্পূরক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর তথ্যমতে, বরেন্দ্র অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিমিটার। ১০ বছর আগে রাজশাহীতে বছরে গড় বৃষ্টি হতো এক হাজার ৫০০ মিলিমিটার। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত বছর আষাঢ় মাসে রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছিল ২৫ দিন। আর এ বছর আষাঢ়ে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র আটদিন। গত বছর ৩৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও এবার তা হয়েছে মাত্র ৩৯ দশমিক দুই মিলিমিটার। বৃষ্টিপাত কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ। তবে এবার যেই পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে সেটাও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু সময়ের জন্য। তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে তাপদাহের বিপর্যয় শুধু বাংলাদেশ নয় এটা বৈশ্বিক সংকট। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষ রোপন করতে হবে। ফলদ ও ফুলের পাশাপাশি পশু-পাখির উপযোগী বৃক্ষরোপন অপরিহার্য।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর-বিবিএস আউশ ফসলের প্রাক্কলিত হিসাব শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর দেশে আউশের আবাদ হয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানায়, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি নেই। কৃষকেরা এটা ভাবতেই পারছে না। এই রকম বৈরী আবহাওয়া আগে কখনই দেখেননি।

সাপাহার উপজেলার গোয়ালভিটা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে আমনের জমি রোপণ করতে গিয়ে শ্রমিক খরচ, হালচাষ ও সার-কীটনাশক দিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে বোরোর আবাদ করতে যে ৯-১০ হাজার টাকার মতো খরচ হতো আমনেও তেমন খরচ হবে।

আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন উত্তরের কৃষির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান। তিনি বলেন, স্বাভাবিক বৃষ্টি না হলে আমন চাষে তিন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। প্রথমত সেচে বাড়তি খরচ, দ্বিতীয়ত খেতে আগাছা, রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ বেড়ে যায় এবং তৃতীয়ত উৎপাদিত ধানে ভালো মানের চাল পাওয়া যাবে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর আবদুল্যাহ আল মারুফ গণমাধ্যমে বলেন, রাজশাহী যে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা উর্দ্ধমুখী। আমরা গবেষণা করে যেটা পেয়েছি তা হলো, প্রতিবছর দশমিক ০০৩ করে তাপমাত্রা বাড়ছে। তিনি মনে করেন, রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ার কারণ জলাশয় ও পুকুর ভরাট, বৃক্ষ নিধন, বহুতল ভবন নির্মাণ। এজন্য রাজশাহীর তাপমাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, তাপপ্রবাহ মোকাবেলা করার জন্য এখন থেকে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। আমাদের সবাইকে গাছ লাগিয়ে আবার গ্রীন বলয়ে ফিরে আসতে হবে। নাহলে এই অঞ্চলে প্রতিবছর তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




স্বামী হিসেবে রবিনকে কেন পছন্দ, জানালেন পূর্ণিমা

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

প্রায় ২ মাস আগে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। তবে পারিবারিক বিভিন্ন কারণে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। বর্তমানে রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় স্বামী আশফাকুর রহমান রবিনের সঙ্গে এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন এ অভিনেত্রী। চার বছরের বন্ধুত্ব ও প্রেমের পরেই রবিনকে বিয়ে করেছেন পূর্ণিমা।

স্বামী হিসেবে কেন আশফাকুর রহমান রবিনকেই পছন্দ হলো তার? এ প্রশ্নের জবাবে নতুন স্বামীকে প্রশংসা ভাসালেন পূর্ণিমা।  ‘মনের মাঝে তুমি’ খ্যাত নায়িকা বলেন, ‘ছেলেটা আসলেই খুব ভালো। ভালো একজন মানুষ। যার কাছে সবকিছু বলা যায়। যাকে সবক্ষেত্রে বিশ্বাস করা যায়। আমরা কাজের ক্ষেত্রে কাজই করেছি। আবার বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সেটা সেভাবে বজায় রেখেছি।’

শুধু রবিনই নয়; নতুন স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও পছন্দ হয়েছে বলে জানালেন পূর্ণিমা। তিনি বলেন, ‘রবিনদের পরিবারটা খুবই রক্ষণশীল। আমিও সব জায়গায় গিয়ে ঘুরে বেড়ানো, রেস্তোরাঁয় খাওয়া এরকম টাইপের মানুষ না। ভালো লাগা, বোঝাপড়া থেকে মনে হয়েছে ঠিক আছে। সেখান থেকে দুজনেরই যখন মনে হয়েছে জীবনসঙ্গী হিসেবে, পার্টনার হিসেবে আমাদের এগোনো উচিত, তখনই পরিবারকে জানাই।’

তবে অভিনেত্রী হওয়ায় রবিনের পরিবার তাকে মেনে নিবে কিনা সেই দুশ্চিন্তাও ছিল পূর্ণিমার। তিনি জানালেন,  ‘আমার একটা ব্র্যাকগ্রাউন্ড আছে। আর তাদের রক্ষণশীল পরিবার। সবকিছু মিলিয়ে সবাই আমাকে তারা গ্রহণ করবে কিনা; এ নিয়ে একটা চিন্তা তো ছিলই। কিন্তু তার পরিবার খুব সুন্দরভাবে বিষয়টিকে গ্রহণ করেছে।’

কীভাবে রবিনের সঙ্গে পরিচয় সে কথাও জানালেন পূর্ণিমা। বর্তমানে দেশের বহুজাতিক একটি কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তবে পরিচয়কালীন রবিন অন্য একটি চাকরি করতেন বলে জানালেন পূর্ণিমা।  সেই চাকরিসূত্রেই নাকি রবিনের সঙ্গে তার পরিচয়।

পূর্ণিমা বলেন, ‘তখন সে (রবিন) অন্য একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করতো। ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে অনেক ইভেন্ট হতো। ইভেন্টে নিজের অধীনে থাকা ব্র্যান্ডগুলো দেখতো রবিন। সংগীতশিল্পী, ক্রিকেটারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকাদের নিয়ে ছিল তাদের কাজ। আমিও টানা একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করি। ওখান থেকেই আমাদের কথাবার্তা শুরু হয়। শুরুতে বন্ধুত্ব ছিল। পরে দুজনেই চিন্তা করে দেখলাম, একসঙ্গে সংসার করতে পারি। পরিবারকে জানাতেই তারা আমাদের মতামত গুরুত্ব দেন। বন্ধুত্ব, বিশ্বাস আর শ্রদ্ধাবোধ সবই পেয়েছি রবিনের মধ্যে। সেখান থেকেই মূলত সম্পর্ক মজবুত হয়। ’

বিয়ের সিদ্ধান্তটাও হুট করে নেওয়া বলে জানালেন পূর্ণিমা।  এ তারকা বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে হুট করেই। রোজার ঈদের পর। পরিবারকে যখনই জানানো হয়েছে ওনারা বলেছেন, ‘তাহলে আর দেরি করো না। এক দুই সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে করে ফেল।’ কোনো ধরনের কোনো প্রস্তুতিও ছিল না। হুট করেই আমরা বিয়েটা করেছি।’

 


আরও খবর

বিয়ে করছেন রিচা-ফজল

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২

গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন আলিয়া!

বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২