Logo
শিরোনাম

বিশ্বম্ভরপুরে সমীর দাসকে ভাসমান ঘর প্রদান

প্রকাশিত:সোমবার ০১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

শফিউল আলম,স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের প্যারিনগর গ্রামের সমীর দাসকে 

"ফ্লোটিং হাউস"-"ভাসমান ঘর"প্রদান করা হয়েছে।

১লা আগষ্ট সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে "ফ্লোটিং হাউস"-"ভাসমান ঘর"প্রদান করা হয়।সমীর দাসকে ২ টি শোবার ঘর ও ১টি রান্নাঘর বিশিষ্ট ঘরটি হস্তান্তর করা হয়।এ ঘর নির্মাণে ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।বৈশিষ্ট বন্যায় পানি বৃদ্ধি হলে ঘরটির প্লাটফর্মও  সমানুপাতিকভাবে উঁচুতে উঠবে।

 এসময় উপস্থিত ছিলেন,পলাশ ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান  আলহাজ্ব সুহেল আহমদ, সহকারী কমিশনার  (ভুমি)  আসমা বিনতে রফিক প্রমূখ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,

সাম্প্রতিক বন্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর, দক্ষিণ বাদাঘাট ও পলাশ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের শতভাগ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। সরকারিভাবে ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৭ টি পরিবারকে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন এবং বেসরকারি উদ্যোগে ৭৩ টি পরিবারকে ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন,বিগত ০৪ জুলাই বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ তালুত স্যার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি থেকে  রক্ষার্থে ভাসমান ঘরের প্রয়োজনীয়তা ও আইডিয়া দিলে বেসরকারিভাবে কিছু ফান্ড কালেকশন করতঃ প্যারিনগরে অবস্থিত পূর্নাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত সমীর দাসের ঘর পরিদর্শন করি এবং ভাসমান ঘর স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করি। পরবর্তীতে হাওর বিলাসের সামনে স্থাপিত ভাসমান হাওর ভিউ  ক্যাফের আদলে প্লাটফর্ম তৈরি করে স্থানীয় মিস্ত্রি নজরুল ও আমার সহকর্মীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৪ দিনে ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। সুনামগঞ্জ জেলায় হাওরে যাদের ঘর অবস্থিত এবং যারা অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে ইচ্ছুক নয় তাদের জন্য এরকম ঘর স্থাপন অনুকরণীয় হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিশিং উপযোগী স্থানে এরকম "ফ্লোটিং ভিলেজ" কনসেপ্ট চালু রয়েছে।


আরও খবর



দেশে করোনা বাড়ছে

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

দেশে করোনার প্রকোপ আবারো বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় বেসরকারি পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার খরচ কমানোর সুপারিশসহ পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯-সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। 

 শনিবার রাতের সভাটি ছিল কারিগরি কমিটির ৫৯তম সভায় অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন। কয়েক দিন ধরে কোভিড–১৯ সংক্রমণ বাড়তির দিকে। এ নিয়ে আলোচনার পর পাঁচ দফা সুপারিশ করেন কারিগরি কমিটির সদস্যরা। এর মধ্যে আছে, সব ক্ষেত্রে শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও হাত ধোয়া বা সেনিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করা। এর পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজের করোনার টিকা যারা গ্রহণ করেননি, তাদের টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করারও সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া বদ্ধস্থানে সভা করা থেকে বিরত থাকা ও দাপ্তরিক সভাগুলো যথাসম্ভব ভার্চ্যুয়ালি করার সুপারিশ করে কমিটি। অপরিহার্য সামাজিক অনুষ্ঠান বা সভাগুলোতে মাস্ক পরার সুপারিশও করা হয়। আর বেসরকারি পর্যায়ে কোভিড–১৯ পরীক্ষার ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় কমিটি।

কোভিড-১৯–সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা আরও বলেন, ‘আমরা এই সুপারিশগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেব। 


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




শিক্ষক ভাইয়ের কান্ড !

মোরেলগঞ্জে শত্রুতায় ফলন্ত কলাগাছ কর্তন

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এক শিক্ষকের কান্ড জমি শত্রæতায় কৃষক ভাইয়ের ফলন্ত কলাগাছ কর্তন। একের পর এক হয়রানি থানায় মুচলেকা দিয়েও থেমে নেই প্রভাবশালী ওই শিক্ষক।

  জানাগেছে, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের বড় বাদুরা গ্রামের কৃষক মো. মোয়াজ্জেম হাওলাদারের পৈত্রিক ভোগদখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের জন্য অপন সহোদর শিক্ষক হাওলাদার মোস্তফা মাহমুদ লোকজন নিয়ে শুক্রবার কৃষক মোয়াজ্জেমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ২০/২৫টি ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলে রেখে যায়। এতে ওই কৃষকের প্রায় ১৫ হাজার ক্ষতিস্বাধন করেছে হামলাকারিরা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোয়াজ্জেম হাওলাদার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ২০০৭ সাল থেকে পিতার দেওয়া পারিবারিক বন্টননামা অনুযায়ী ২৫শতক পৈত্রিক সম্পত্তি ও নিজের ক্রয়কৃত ৭ শতক মোট ৩২ শতক জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে।  পিতার বাকি জমিতে অন্য ভাইয়েরা নিজ নিজ ভোগ দখল করছে। তার পরেও একের পর এক হয়রানি করছে তাকে।

তারই আপন ভাই গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হাওলাদার মোস্তফা মাহমুদ গত বছরেও কৃষকের ওই বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিস্বাধন করে। এ ঘটনায় তখন থানায় অভিযোগ দিলেও মুচলেকা দিয়েও ক্ষ্যান্ত হয়নি ওই শিক্ষক। আবারও হামলা চালিয়ে গাছ কর্তন করেছে।

ইতোপূর্বে পারিবারিক জমি নিয়ে মোকাম মোরেলগঞ্জ বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালত বাগেরহাট মোয়াজ্জেম হাওলাদার বাদি হয়ে ১৮৪/১৮ মামলা দায়ের করেছেন। সে মামলাটি এখন চলমান বিচার সম্পন্নের পথে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষক। তিনি গাছ কর্তনের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি। এ বিষয়ে হাওলাদার মোস্তফা মাহমুদ বলেন, তিনি তার নিজ জমির গাছ কেটেছেন। অন্য কারোর জমির গাছ কর্তন করেননি। 


আরও খবর



জাপায় অন্তঃকলহ দিন দিন বাড়ছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

দলের নেতৃত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে পার্টিতে এখন ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদপন্থিরা ২৬ নভেম্বর কাউন্সিল করতে অটল। আর জি এম কাদেরপন্থিরা কাউন্সিল ঠেকাতে তৎপর। এ নিয়ে এরই মধ্যে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসিউর রহমান রাঙ্গাও পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক টানাপড়েন প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলে কোণঠাসা নেতারা জি এম কাদের এবং বিরোধীরা রওশন এরশাদকে ভুল বুঝিয়েছেন। পার্টির ভেতরে সর্বশেষ দ্বন্দ্বের পেছনেও কোণঠাসা বোধ করা নেতারা রয়েছেন বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ। পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এই অংশটিকে তৃতীয় শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একাংশের নেতৃত্ব দিতে থাকেন রওশন এরশাদ। তবে এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যান। এরপর জি এম কাদের রওশনকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদে হন বিরোধীদলীয় উপনেতা। সে সময় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে যে মীমাংসা হয়, সে অনুসারেই সবকিছু চলছিল।

তবে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে থাকাকালে দলের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হন রওশন এরশাদ। জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা তার খোঁজ না নেওয়ায় গত ২ জুলাই দলের একটি মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন।

এ সভায় দলে মধ্যে কোণঠাসা নেতারা উপস্থিত থাকলেও পার্টির মূল দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। রওশনের এই অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে রওশনকে দিয়ে নতুন নেতৃত্বের কথা বলেন। এ নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।

জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ২৬ নভেম্বর সম্মেলনের আহ্বান করার পাশাপাশি দলটির নিষ্ক্রিয়, ত্যাগী, বঞ্চিত ও বিভিন্ন দলে চলে যাওয়াদের জাপায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, সম্মেলন ডাকার এখতিয়ার নেই রওশন এরশাদের।

সম্মেলন ডাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশন এরশাদকে সরাতে দলের ২৩ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে। দলটির প্রেসিডিয়াম সভাও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জি এম কাদেরপন্থিরা প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে। সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় রওশনপন্থিদের কাউন্সিল ঘিরে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে।

যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দল আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়বে। পার্টির একাধিক নেতার মন্তব্য, জাপার নেতৃত্বে নতুন মোড় নিতে পারে শিগগির।

এ বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, আমরা কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাব। ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হবে। পার্টির সংসদীয় দল স্পিকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তাতে আমরা বিক্ষুব্ধ, বিস্মিত। বেগম রওশন এরশাদ এ মাসেই দেশে ফিরবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি জানাবেন।

জি এম কাদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ও এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, কোনোভাবেই জি এম কাদেরের সঙ্গে কোনো মীমাংসা হবে না। শুধু যদি তিনি (জি এম কাদের) রওশন এরশাদের নেতৃত্ব মেনে নেন, তাহলেই মীমাংসা হওয়া সম্ভব।

তাদের ‘দলবিরোধী ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা অপেক্ষা করেন। দেখেন কার সঙ্গে কে থাকে। এদিকে গত বুধবার জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ।

এদিকে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দলটির বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির শক্তি বেড়েছে দাবি করেন। তিনি বলেন, দল থেকে কেউ চলে গেলেও জাতীয় পার্টি থাকবে। দল দলের জায়গায় থাকবে। দল ভাঙবে না। রওশন এরশাদকে দলের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। রওশন এরশাদই জি এম কাদেরকে দায়িত্ব নিতে বলেছেন।

এ সময় প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ জাপার সব পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




ফুলবাড়িতে, জন্মগত শারীরিক অক্ষমতা সম্পন্ন

মজিদ পাগলার শেষ আশ্রয় বোনের সংসার

প্রকাশিত:রবিবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

উত্তম কুমার মোহন্ত,ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রামঃ

বাস্তব এক ইতিহাস ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন, সেই রক্তের বন্ধন যায়কি কোনদিন খণ্ডন।অচল বৃদ্ধবড় ভাইয়ের প্রতি বিধবা দুইছোট বোনের যে মায়া মমতা ভালোবাসা দেখতে যদি চাও,তাহলে পশ্চিম অনন্তপুর বাকুয়ার ভিটা গ্রামে চলে যাও। জন্মগতভাবে শারীরিক অক্ষমতা সম্পন্ন আব্দুল মজিদ পাগলার(৬৫)শেষ আশ্রয় স্থল তার ছোট দুই বিধবা বোনের ছোট্ট সংসার। সেই সংসারেও উপার্জনক্ষম নেই কেউ।বৃদ্ধ তিন ভাই বোন মিলে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম অনন্তপুর মৌজার বাকুয়ার ভিটা গ্রামের মৃত: মোহাম্মদ আলীর ছেলে, আব্দুল মজিদ পাগলা (৬৫) এলাকার সকলের কাছে মজিদ পাগলা নামে পরিচিত।

সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, আব্দুল মজিদ পাগলা জন্মগত ভাবে শারীরিক অক্ষমতা সম্পন্ন ছিলেন।ছোট বেলা থেকেই ভালোভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। শারীরিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ক্ষীণ থাকায় লক্ষ্যেস্থির করে একদিকে হাঁটতে চাইলে অন্যদিকে চলে যেত।লাঠিতে ভর করে কোনরকমে এলাকাতেই চলাফেরা করত। তখন এলাকার লোকজনের নিকট সাহায্য সহযোগিতা ও ভিক্ষাবৃত্তি করে কোন মতেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।এখন বয়োঃবার্ধক্যের ভারে চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে সবমিলে দুর্বিষহবস্থায় বিছানায় শুইয়ে বসে কাটাতে হচ্ছে দিন রজনী। জীবনের অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কষ্ট করে জীবন যাপন করতেন শেষ বয়সে এসেও ভালো নেই সহদর তিন ভাইবোন। পৈত্রিক ভিটায় মাত্র আট শতাংশ জমিতে তিন সহদরের মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও উপার্জনক্ষম কেউ নেই। ছোট দুই বোনের  ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়েছে মেয়েরা শ্বশুরালয়ে আর ছেলেরা পৃথক পৃথক ভাবে নিজেদের ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত,কেউ তাদের খোঁজ খবর রাখে না। বয়োবৃদ্ধ তিন ভাইবোন একসাথে অতিকষ্টে দিন যাপন করে বসবাস করছেন। 

০৯(সেপ্টেম্বর)শুক্রবার দুপুরে মজিদ পাগলার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র চারটি টিন দিয়ে তৈরি ছোট একটি ছাপরা ঘর পুরোনো চাটাই দিয়ে তৈরি জীর্ণশীর্ণ বেড়ায় বেষ্টিত ঘরে প্রচণ্ড রোধের তাপে ছাপরার টিন গুলো আগুনের মতো গরম হয়ে ঘরের ভিতরে পর্যন্ত গরম ভাপ ছুটেছে সেই গরমে মজিদ পাগলা ছোট একটা কাঠের চৌকিতে বসে আছে এদিকে শরীর ঘেমে পানি পরছে নিচে।ঘরের ভিতরে আসবাবপত্র বলতে কাঠের চৌকিটি আর ঘরের এক খুটি থেকে আর এক খুঁটিতে রশি টাঙ্গানো তাতেদুই তিনটি ছিরাফাটা ময়লা পরিধানের কাপড় চোপড় আর কিছু নেই। এমতাবস্থায় ঘরের ভিতরে ঢুকতেই অপরিচিত লোক দেখে চমকে উঠলেন তিনি পরে স্থানীয় কয়েক জনকে সঙ্গে দেখতে পেয়ে খুশিতে মলিন ভাবে একটা হাসি দিয়ে ফেললেন।

কেমন আছেন জানতে চাইলে,দুচোখে জল ছলছল হয়ে এলো কিছুক্ষণ পর মজিদ পাগলা অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন কি আর ভালরে ভাই আগোত তাও লাঠিঢোকা দিয়া চলাফেরা করিয়া এলাকার সগার সাথে দেখা কইরব্যার পাইচোং কথাবার্তা কবার পাইচোং এলা আর শরীলোত বল পাংনা ভাই। এক বছর থাকি ঘরোত পরি আচোং ক্যাং করি ভাল থাকোং।ঘরোত সুতি থাইক প্যার আর ভাল লাগে না।সউগ সময় সুতি থাইকতে, থাইকতে অসুখ মনে হয় মোক আরো বেশি করি ঠাশি ধইর ব্যার নাইকচে। তোমাক গুলাক অনুরোধ করি কংরে ভাই যদি মোক কাইও একটা হুইলচেয়ার দান করিল হয় তাহলে মরার আগোত বাইরার আলো বাতাস দেখি শান্তি পানুহয়। একনা দেখরে ভাই কারোটে এখান হুইলচেয়ার নিয়া দিবার পান নাকি। হুইলচেয়ারোত বসি একনা বাইরে গেনুং হয়।

মজিদ পাগলার বিধবা দুই ছোট বোন জামিলা বেওয়া (৫৪) ও ছালেহা বেওয়া (৫২) বলেন, আমার তিন ভাইবোন মিলে পৈত্রিক ভিটে মাটি আট শতাংশ ছাড়া আর কিছুই নাই।এমনিতেই আমাদের দুই বোনের অভাব অনটনে দিন কাটাতে হয় তারপর বড়ভাই অচল অবস্থায় কোথায় ফেলে দেই সব কিছু ত্যাগ করা রায় রক্তের সম্পর্ক তো আর ত্যাগ করা যায় না একেই মায়ের ওদোরে তিন ভাই বোনে ছিলাম। আল্লাহ যতদিন বাঁচে রাখবে ততদিন একসাথে থাকব আমাদের বাবা বেঁচে নাই বাবার মতো বড়ভাই কে শত দুঃখ কষ্টের মাঝেও ফেলে দিবো না।আমাদের দুইবোনের ও বয়স হয়েছে তারপরও অসুস্থ পাগলা ভাইটাকে কষ্ট করে ঘর বাহির করি ঘরে থাকতে থাকতে ভাইটা বাহির হবার জন্য কেঁদে ওঠে ভাইয়ের এতকষ্ঠ আমরা সইতে পারি না কেউ যদি দয়া করে আমাদের অচল পাগলা ভাইটাকে একটা হুইলচেয়ার দান করতো তাহলে ঘর বাহির করতে কষ্ট একটু কম হতো। হুইলচেয়ার থাকলে পাগলা প্রতিবন্ধী ভাইটা সহ-আমাদের দুই বোনের এই বয়সে একটু হলেও কষ্টটা লাঘব হতো।

স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন পরিচালক মোঃ আব্দুল জব্বার (৩৭)পল্লি চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম (৪১) খলিলুর রহমান (৫৪) রফিকুল ইসলাম (৪০) সহ-আরো অনেকে জানালেন মজিদ পাগলা জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হত্তয়ায় কর্মক্ষমতা অক্ষম ছিলেন ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন। যৌবনের একটি সময়ে বিয়েও করেন তিনি।

শারীরিক অক্ষমতার কারণে‌ সেই সংসার জীবনও বেশিদিন টিকে থাকেনি বিয়ের কিছু দিন পর স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান, তারপরে দ্বিতীয় বিয়ের কথা আর কোনদিন ভাবেননি তিনি। এখন বয়োঃবৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান রোগ চলাফেরা করতে পারে না দিনরাত ঘরের ভিতরে সুইয়ে বসে থাকতে হয়।মজিদ পাগলার আপনজন বলতে বিধবা দুইটি ছোটবোন ছাড়া আর কেউ নেই।বোনদের সংসারের অবস্থা অসচ্ছল তারপরেও রক্তের টানে অচল পাগলা বড়ভাই কে নিজেদের কাছে রেখে দেখা শুনা করছেন। তাদের ও বয়স হয়েছে একসাথে তিন ভাইবোন মিলে দুঃখ কষ্ট সহ্য করে সাথে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন।স্থানীয় অনেক শুভা কাঙ্ক্ষীরাও একই কথা বলেন যে,সমাজের অনেক হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তিবর্গ আছেন কেউ যদি এই অচল মজিদ পাগলাকে একটা হুইলচেয়ার দান করতো তাহলে বৃদ্ধ তিনভাই বোনের কষ্টটা একটু লাঘব হতো। 


আরও খবর



লালমনিরহাটে বঙ্গবন্ধু ও ঐতিহাসিক ১০ অক্টোবর উদযাপন

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগমন এবং ঐতিহাসিক ১০ অক্টোবর  উদযাপন উপলক্ষে সভা 

১৯৬৯ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর শুভাগমনের ১০ অক্টোবরকে বিশেষ দিবস হিসেবে এই প্রথম উদযাপন করতে যাচ্ছে লালমনিরহাট বাসী । এজন্য গঠিত হয়েছে সামাজিক ,সাংস্কৃতিক ,মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি । তৎকালীন সময়ে মার্শাল্লা আইনকে উপেক্ষা করে ট্রেনে করে উত্তর বঙ্গ সফরে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১০ অক্টোবর ১৯৬৯ সালে সকাল সাড়ে ১০টায় উপস্থিত হন কর্মী সমাবেশের জন্য রংপুর ১৪ বর্ত মানে লালমনিরহাট -৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন এমপির কুড়িগ্রাম -ফুলবাড়ী মহাসড়কের এই পাটের গুদাম ঘরের মাঠে। অনেক দেরিতে হলেও তারই পুত্র বর্তমান পিএসসির সদস্য বৈভবে একাত্তর বইয়ের লেখক প্রফেসর মোঃ হামিদুল হক তথ্য উপাত্ত সঠিক পাওয়ায় তাঁর আহবানে এই দিবসটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সেই ইতিহাস জেলা বাসীর কাছে তুলে ধরতে ১১ সদস্যের একটি উপযাপন কমিটিও গঠন করেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে হলেও ১০ অক্টোবরকে ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে লালমনিরহাটে ব্যাপক কর্ম সূচীর মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। 

এসময় নজরুল হক পাটোয়ারি ভোলাকে আহবায়ক,যুগ্ম আহবায়ক ফেরদৌসি বেগম বিউটি,সদস্য সচিব নিশিকান্ত রায়,তপু বণিক,মোকছেদুর রহমান,কিশোর সরকার বাকা,মজিবুর রহমান, ৭১ টিভির লালমনিরহাট প্রতিনিধি উত্তম রায়,প্রথম আলোর লালমনিরহাট প্রতিনিধি আব্দুর রব সুজন প্রমুখ ছাড়াও অনান্য কয়েকজনকে সদস্য করে লালমনিরহাটে বঙ্গবন্ধুর শুভাগমন উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়। প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর নজরুল ইসলাম,ঢাকাস্থ লালমনিরহাট জেলা সমিতির সভাপতি, লালমনিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু , র্বতমান মেয়র  রেজাউল করিম স্বপন,সুফি মোহাম্মদ,  প্রমুখ।

 প্রফেসর হামিদুল হক , সদস্য পিএসসি  জানান, দিবসটিকে সাফল্য মন্ডিত করতে জেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে ও আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাছাড়াও তিনি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে অনেক অজানা তথ্য সভায় উপস্থিত সকলের মাঝে তুলে ধরেন।


আরও খবর