Logo
শিরোনাম

বিয়ের তিন মাস না যেতেই স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন,স্বামী আটক

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় নববধূকে জবাই করে হত্যা করেছে স্বামী। এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকান্ডস্থলে শত-শত মানুষ ভীড় জমায়।

নিহত স্ত্রীর নাম গৃহবধূ রুপালী বেগম (২০) উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের মনির চৌকিদারের বাড়ির সিরাজ মিয়ার মেয়ে।

রোববার (১২ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে ময়নাতদন্তের মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।   এর আগে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সোনাদিয়া গ্রামের আবু তাহের বাবুল মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামী ইউসুফ নবী রুবেলকে (২৬) রক্তমাখা ছোরাসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সে উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের পূর্ব সোনাদিয়া গ্রামের আবু তাহের বাবুল মেম্বারের বাড়ির মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম বলেন,গত তিন মাস আগে পারিবারিক ভাবে রুবেলের সাথে বিয়ে হয় রুপালী বেগমের। কিছু দিন আগ থেকেই পরকীয়ার জের ধরে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দেয়। এ পরকীয়ার জেরে শনিবার দিবাগত রাতে তাদের মধ্যে বাকবিন্ডা দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্বামী রুবেল তার স্ত্রী পারভীনকে গায়ের ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফল কাটার চুরি দিয়ে গলায় জবাই করে হত্যা করে।

ওসি আরো জানায়, ওই সময় ঘরে থাকা বৃদ্ধ মায়ের শৌরচিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে হত্যাকারীকে আটক। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়,পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা হত্যাকারীর দেখানো মতে ঘরের দরমার ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়।পরকীয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ভাসুর রফিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় এনে রাখা হয়েছে। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের বিয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আরও খবর



মনকে সব সময় খোলামেলা ও বিজ্ঞান নির্ভর রাখতে হবে

প্রকাশিত:শনিবার ১৬ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

গোবিন্দ শীল, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক ঃ

লক্ষ লক্ষ বছর আগে প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য মানব মস্তিষ্ক বেশ কয়েক ধরণের শর্টকাট ব্যবহার করতো । এই যুগে মনোবিজ্ঞানীরা সেসব শর্টকাট কে মনের পক্ষপাতিত্ব বা ঝোঁক বলছেন এবং সেই সাথে এসব প্রবণতা থেকে বের হবার উপদেশ দিচ্ছেন । এসব পক্ষপাতিত্বের মূল্য সে সময় অনেক বেশি ছিল কারণ সেখানে জীবণ-মরণের প্রশ্ন জড়িত ছিল এবং সেগুলো আমাদের অবচেতন  মনের অংশ হয়ে আছে । যেমন, কোন হিংস্র পশু দেখলে সাথে সাথে তাকে আক্রমণ করা অথবা পালিয়ে যাওয়া । পরবর্তীতে যে কোন তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক পূর্ববর্তী ঐ সব অভিজ্ঞতার সহায়তা নেয়া শুরু করে । সমস্যাটা শুরু এখান থেকে ।  এখন রাস্তায় সন্ধার অন্ধকারে কাউকে দেখলে মন সাথে সাথে বোঝার চেষ্টা করে লোকটি ক্ষতিকর কিনা, অথবা সুন্দর পোষাক পরিহিত কাউকে দেখলে মন ভাবতে পারে লোকটির মননও নিশ্চয় সুন্দর । এসব পক্ষপাতিত্বের মূল কথা হলো ব্যক্তিমাত্রই নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করে, যদিও অনেক সময় সেটি ভুলও হতে পারে । আমাদের মনের কয়েকটি পক্ষপাতিত্ব হলোঃ Confirmation Bias, Self-serving Bias (নিজের স্বার্থের অনুকূলে পক্ষপাতিত্ব), Anchoring Bias, survivorship bias, actor-observer bias ইত্যাদি । এরমধ্যে Self-serving Bias হলো আমাদের ইগো মনের পক্ষ নেয়া । এটি আমরা সবাই করে থাকি । যে কোন পরিস্থিতিতে আমরা নিজেদের পক্ষে কথা বলি, যদিও অনেক সময় সেটি বিজ্ঞান নির্ভর হয় না ।  Survivorship Bias হলো আমরা কারও সফলতাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করি । যেমন, কেউ চিংড়ী মাছ চাষ করে সফল হলে আরেকজন আরেকটি চিংড়ী ঘের করার চেষ্টা করে । Actor-Observer Bias হলো আমরা নিজেদের ব্যর্থতার জন্য অন্যদেরকে দায়ী করি আর অন্যদের ব্যর্থতাকে তাদের নিজেদের কারণে হয়েছে বলে মনে করি । মানব মস্তিষ্ক খুব অল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অর্থবহ একটি ছাঁচ  (Meaningful pattern) খোঁজে । পরবর্তীতে এটি অবচেতন মনের অংশ হয়ে যায় এবং মন সেখান থেকে সিদ্ধান্ত দিতে থাকে । মানব মনের আরেকটি অবৈজ্ঞানিক বিষয় হলো, তার সমুদয় স্মৃতিটাই পক্ষপাতে দুষ্ট । অর্থাৎ, আমরা আমাদের বিশ্বাসের পক্ষ নিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করি । অতীতে করিম একটি বোমা ফুটিয়ে থাকলে, কোন বোমা ফুটলেই আমরা ধরে নেই করিমই এটি ফুটিয়েছে  (confirmation bias) । এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রাজনীতিতে খুব সাধারণ একটি বিষয় ।  একই ভাবে পাশ্চাত্যে ও প্রাচ্যের রাজনীতিবিদেরা Anchoring Bias কে তাঁদের পক্ষে ব্যবহারের চেষ্টা করেন ।  এটি হলো, ধরুন যুদ্ধে ২,০০০ লোক মারা গেছেন। সরকার বিষয়টি সবচেয়ে আগে জানবেন সেটিই  স্বাভাবিক । তাই সরকার জনগণের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য আগেই ঘোষণা দিয়ে দেন : এ পর্যন্ত যুদ্ধে ২০০ জন নিহত হয়েছেন । আমরাও ব্যক্তিগত জীবনে, চাকুরির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলো বসকে আগে রিপোর্ট করতে চাই । যে আগে রিপোর্ট করে সে কিছুটা ভাল অবস্থানে থাকে, যদিও দোষটা হয়তো তারই । আমাদের দেশেও সরকারেরা এই এঙ্করিং বায়াসকে কাজে লাগায় । পোষাক কারখানায় বড় ধরণের ঘটনাকে সরকার ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে । আমাদের মনের ছাঁচ/পক্ষপাতকে ব্যবহার করে আমরা অন্যের সহানুভূতি পাবার চেষ্টা করি  অথবা পাল্টাপাল্টি আক্রমণকে বৈধতা দেই । প্যালেষ্টাইন সামান্য ঘটনা ঘটালে ইজ্রায়েল অনেক বড় আকারে প্রতিশোধ নেয়, এটি আমরা প্রায়ই দেখে থাকি ।  আমাদের মনের আরও অনেক ধরণের পক্ষপাত আছে । ধর্ম, জাতি,দেশ নিয়ে আলোচনা করার সময় আমরা আমাদের মনের পক্ষপাতকে গুরুত্ব দেই । মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন মনকে সব সময় খোলামেলা ও বিজ্ঞান নির্ভর রাখতে হবে । তবেই একটি সমাজ অগ্রসর হতে পারবে ।


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং মঙ্গলবার থেকে

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, দেশের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছে। তাই আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ে যাচ্ছে দেশ।

সোমবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস ভার্চুয়ালিকরণ ও অফিসের সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




সোনারগাঁয়ে আটোচালক নিখোঁজ

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বাড়িমজলিশ এলাকায় গত দুদিন ধরে আব্দুল বাছেদ মিয়া (৫১) নামে এক অটোচালক নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় তার বড় ভাই আব্দুল হক মিয়া বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন। নিখোজঁ বাছেদ মিয়া উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ী চিনিস গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার মিয়ার ছেলে। সাধারন ডায়েরীর বিবরনীতে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার রাতে অটো চালানোর পর আর বাসায় ফিরেনি। পরে ওইদিন রাত ১০টার বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করেও পাওয়া যায়নি। পরের দিন শনিবার মধুমতি সিএনজি স্টেশনে তাকে একজন দেখেছেন বলে সিএনজি স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ তাকে দেখা যায়।ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে সে অজ্ঞাত ৩জন যাত্রী নিয়ে অবস্থান করছিলো। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে। সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তারিকুল ইসলাম বলেন, জিডি পাওয়ার পর নিখোঁজ অটোচালকে খুজে বের করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। 


আরও খবর



আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে মানব স্বা‌স্থ্যের জন্য ক্ষ‌তিকর রং

৫০ হাজার জরিমানা

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

কু‌মিল্লা ব্যুরো ঃ

কুমিল্লা সদ‌রের জগন্নাথপুর এলাকার ঢাকা আইস‌ক্রিম ফ‌্যাক্ট‌রি‌কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।           বুধবার সকা‌লে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আছাদুল ইসলাম এ জরিমানা করেন। 

কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আছাদুল ইসলাম  বলেন, কুমিল্লার সদর উপ‌জেলার জগন্নাথপুর এলাকার ঢাকা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে মানব স্বা‌স্থ্যের জন‌্য ক্ষ‌তিকর রং ব্যবহার করে আইস‌ক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল। তারপর সেই আইসক্রিমে না‌মি-দা‌মি ব্রা‌ন্ডের মোড়ক লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। এসব অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় আইস‌ক্রিম ফ‌্যাক্ট‌রি‌কে ৫০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়। এসময় ৫ হাজার আইস‌ক্রিম জব্দ ক‌রে ধ্বংস করা হ‌য়ে‌ছে।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু রেল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, অধিকার আদায়ে আন্দোলন, সংগ্রাম এবং তার অসামান্য কর্মজীবন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠা হলো ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর।

বাংলাদেশ রেলওয়ের উদ্যোগে একটি মিটারগেজ ও একটি ব্রডগেজ রেল কোচের ভেতরে গড়ে তোলা ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরটি গত ২৭ এপ্রিল উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা এখন চালুর অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেল জাদুঘরটি ট্রায়াল সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামীকাল ১ আগস্ট থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রেলের বগিতে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরটি নির্মাণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। একটি মিটারগেজ ও একটি ব্রডগেজ কোচে একই জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। জাদুঘর দুইটিতে বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর নির্মিত তথ্যবহুল ও মনোমুগ্ধকর বারোটি চিত্র ও দুর্লভ আলোকচিত্রের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে।

কোচের একপাশের দেয়ালের ছয়টি ভাগে রাখা হয়েছে কিংবদন্তির প্রথম প্রহর, ধ্রুব তারার প্রথম কিরণ, নক্ষত্র হওয়ার পথে, বাংলার মাটি ও ভাষার বঙ্গবন্ধু, ধূমকেতু থেকে নক্ষত্র, মুক্তির স্বপ্নের সূচনা শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত। এখানে তুলে ধরা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে পর্যায়ক্রমে তার ছাত্রজীবন, রাজনীতিতে হাতেখড়ি, মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে গণমানুষের প্রাণের নেতা হয়ে ওঠার ইতিহাস।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরে আরও রয়েছে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবর্ননীয় নির্যাতন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের ইতিহাস। আরেক পাশের দেয়ালে থাকা ছয় ভাগে রয়েছে, দুর্বার পথচলা, নিপীড়িতদের কান্ডারি, এক নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন, মুক্তি, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার কথা, স্বপ্নগড়ার দিনগুলো, যে আলো নেভেনি আজও এমন শিরোনামে শিল্প প্রদর্শনী। এতে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬৬ এর ঐতিহাসিক ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও জাতির গৌরবোজ্জ্বল, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অজনের প্রধান নায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অবদান দর্শকদের চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে। দেখার সঙ্গে সঙ্গে যেন দর্শকরা ভালোভাবে শুনতে পারেন সেজন্য রাখা হয়েছে হেডফোনের ব্যবস্থা। কোচের এক প্রান্তে রাখা একটি বড় এলইডিতে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য ও সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাদুঘরটিতে আরও রাখা হয়েছে জয়বাংলা স্লোগানের আদলে তৈরি করা একটি বুক শেলফ। সেখানে প্রায় একশ বই রয়েছে। বইগুলোর মধ্যে শিশুদের জন্য বঙ্গবন্ধুর রচিত বিভিন্ন শিশুতোষ বই। ‘যাদু মনি’ সম্বোধন করে মেয়ে হাসুকে নিয়ে লেখা বঙ্গবন্ধুর চিঠিসহ মোট ছয়টি চিঠি রাখা হয়েছে। যা বঙ্গবন্ধুকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করবে দর্শনার্থীদের। দর্শকদের নজর কাড়ার জন্য ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম ফুলের বাগান। আরও রয়েছে জাতির পিতার ব্যবহৃত পোশাক ও জিনিষপত্রের প্রতিকৃতি। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল, স্মৃতিসৌধ, তার হাতে লেখা চিঠি। জাদুঘরটি রয়েছে একটি ডিসপ্লে, যেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা সময়ের ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এর পেছনে বেজে চলে ‘তুমি ইতিহাস জুড়ে সর্বশ্রেষ্ঠ মহানায়ক এই বাংলার তুমি শোষকের যম শোষিতের দম স্রষ্টা স্বাধীনতার।

রেলওয়ে কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর উল আলম চৌধুরীর লেখা গানটি জাদুঘরে থিম সং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর কোচ দুটির বাইরের অংশে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ধারাবাহিক সংগ্রামের ওপর শিল্পীর আঁকা রঙিন ম্যুরাল চিত্র। গত ২৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। এখন আসছে ১ আগস্ট থেকে সাধারণ জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২