Logo
শিরোনাম

বজ্রপাতে একদিনে আটজনের প্রাণহানি

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টু ডে  রিপোর্ট: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে একদিনে আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (৭ জুন) বজ্রপাতে নওগাঁয় তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনজন এবং নাটোর ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। 

নওগাঁ:

বজ্রপাতে নওগাঁর মান্দায় একজন এবং পত্নীতলা উপজেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (৭ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মান্দা উপজেলার ভোলাম গ্রামের ফইমুদ্দিনের ছেলে শামসুল আলম (৩৪), পত্নীতলা উপজেলার উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের নাগরগোলা গ্রামের বিশা মণ্ডলের ছেলে খাদেমুল ইসলাম (৫০) ও গাহন গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী মনিকা (৩৫)।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করেই পশ্চিম আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কৃষক শামসুল আলম মেঘ দেখে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করতে যান। তার স্ত্রী লালবানুও সঙ্গে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

অন্যদিকে, পত্নীতলা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে কৃষক খাদেমুল ইসলাম মাঠ থেকে ধান বহন করে বাড়ি আনার সময় উঠানে বজ্রাঘাতে নিহত হন। 

একই সময়ে পৃথক ঘটনায় গৃহবধূ মনিকা বাড়ির সামনে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত হন। স্বজনরা উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনটি ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

বজ্রপাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে শিশুসহ দুজন এবং ভোলাহাট উপজেলায় আরেক শিশু নিহত হয়েছে।

নিহতরা হলেন—শিবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীডাঙ্গার সুভাস ভক্তের স্ত্রী ববি ভক্ত (৩২), শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দক্ষিণপাকা নিশিপাড়ার এরশাদ আলীর মেয়ে কবিতা খাতুন (১১) এবং ভোলাহাট উপজেলার আন্দিপুর হঠাৎপাড়ার ইসলাম আলীর মেয়ে আমেনা খাতুন (১০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে বাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ববি ভক্ত। এ ছাড়া বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির পেছনে টিউবওয়েলের পানি আনতে যায় শিশু কবিতা খাতুন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অপরদিকে, বিকেল পৌনে ৩টায় ঝড়-বৃষ্টির সময় আমবাগানে আম কুড়ানোর সময় বজ্রপাতে আহত হয় আমেনা খাতুন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নাটোর:

নাটোরের নলডাঙ্গায় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কোমরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কামরুল হোসেন (৩৫) উপজেলার কোমরপুর গ্রামের মো. লুৎফর রহমানের ছেলে। আহত হয়েছেন মো. মজনু (৪০) একই গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। 

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ারুজ্জামান বলেন, দুপুরে মাছ ধরার সময় নলডাঙ্গার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের পীরগাছা এলাকায় বজ্রপাতে একজন মারা গেছে। আরও একজন আহত হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে।

ঠাকুরগাঁও:

বজ্রপাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের রনশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিপি আক্তার (৩৫) রনশিয়া গ্রামের ফিরোজ্জামানের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টি নামলে বাড়ির পাশে ভুট্টার গাছের খড়ি ঢাকতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন লিপি আক্তার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আনাম এ বিষয়ে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। 


আরও খবর



আছাদুজ্জামান মিয়ার তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এডিসি জিসানুল বরখাস্ত

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডিজিটাল ডেস্ক:


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।


এর আগে আছাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে অনলাইনে গেল, সেটি নিয়ে তদন্ত করে পুলিশ। এই কর্মকর্তা ছাড়াও পুলিশের আরও দুজন নন ক্যাডার সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



রোববার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা থেকে এডিসি জিসানুল হককে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।


সচিব মো. জাহাংগীর আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জিসানুল হকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ধারা ৩৯ (১) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ১২ (১) অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।


এ ছাড়াও প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশ সার্ভিস রুল অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।



এর আগে আছাদুজ্জামান মিয়াকে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছাদুজ্জামান মিয়ার ‘ইএসএএফ’ ছড়িয়ে পরে। ইএসএএফ ফরম হলো- ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রাইবার অ্যাপলিকেশন ফরম, যা মূলত মোবাইল গ্রাহকেরা পূরণ করে থাকেন। এই ফরমে একজন ফোন গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, আঙুলের ছাপসহ বিস্তারিত তথ্য থাকে।


ফরমটি প্রকাশের পর পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়। গাজীপুরের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নাজির আহমদ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। ফরমটিতে থাকা কিউআর কোড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গাজীপুর মহানগর পুলিশের বৈধ আড়িপাতা শাখার একজন এএসআই ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার থেকে এটি ডাউনলোড করেছেন। 



তদন্তে বেরিয়ে আসে গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পদের এক কর্মকর্তা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আছাদুজ্জামানের মোবাইল ফোনের তথ্য চেয়ে বৈধ আড়িপাতা শাখার এক এসআইকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দেন। 



সেই বার্তারভিত্তিতে তিনি অন্য একজন এএসআইকে সেটা ডাউনলোড করতে বলেন। পরে সেটা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। তদন্তে দেখা যায় অনলাইনে প্রকাশিত ফরমটি হুবহু সেই ফরম।


পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুর মহানগর পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর রোববার জিসানুল হককে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি হয়।


আরও খবর



নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মবিরতি চলমান

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

সিনিয়র রিপোর্টার :

'বৈষম্য নিপাত যাক-পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মুক্তি পাক' এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৈষম্য দূরীকরণ সহ অভিন্ন চাকুরী-বিধি বাতিলের দাবীতে টানা ৬ষ্ঠ দিনের মতো সারা দেশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। কর্মবিরতি পালনের অংশ হিসেবে রবিবার সকাল ৯ টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার বিভিন্ন বৈষম্যের প্রতিবাদে রবিবার সকাল ৯টা থেকে নওগাঁ শহরের চকবিরাম নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কার্যালয় প্রাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে এই কর্মবিরতি পালন করা হয়। এসময় নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা ডিজিএম আকিয়াব হোসেনের নেতৃত্বে এজিএম রাজু হাসান ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এসময় নওগাঁ জেলার অন্যান্য উপজেলার নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদমর্যাদা, ৬ মাস পিছিয়ে পে-স্কেল ও ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, এপিএ বোনাস সমহারে না দেওয়া, লাইনম্যানদের নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা ও কাজের জন্য প্রয়োজনীয় লাইনম্যান ও বিলিং সহকারী পদায়ন না করা, যথাসময়ে পদন্নোতি না করা, মাঠ পর্যায়ে কর্মচারীদের চুক্তি ভিত্তিক চাকুরি নিয়মিত না করা সহ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিভিন্ন অনিয়মের শিকার হচ্ছে সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব শোষন, নির্যাতন, নিপীড়ন বন্ধ করে স্মার্ট ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে অভিন্ন চাকুরী বিধি ও সকল চুক্তিভিত্তিক, অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকুরি নিয়মিতকরনের দাবি জানান মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। দাবি আদায় না হলে আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষনাও দেওয়া হয়।


আরও খবর



বিপৎসীমার উপরে সুরমার পানি, সিলেট ও সুনামগঞ্জে ফের বন্যার শঙ্কা

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডেস্ক: সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি ফের বাড়তে শুরু করেছে।

 ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় ধাপে বাড়তে শুরু করেছে এ অঞ্চলের নদ-নদীর পানি। এরইমধ্যে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে অনেক এলাকা পুরোপুরি ডুবে গেছে।

 গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি সামান্য কমলেও বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে সুরমা। এ ছাড়াও অন্য নদ-নদীর পানিও বেড়েছে। দুই দফা বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বন্যার কবলে পড়তে যাচ্ছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা।

সোমবার (১ জুলাই) সকালে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড। আবার পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি যাদুকাটা নদী হয়ে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুরের একটি অংশ প্লাবিত করেছে। তাই খেয়া নৌকা ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা।

এ দিকে রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু আজ সকালে বৃষ্টিপাত আরও বেড়েছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এ অঞ্চলে ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রোববার বিকেল চারটা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগের ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি) থেকে অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের ওপরে) বৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘সোমবার তিন ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। 

এর আগে সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। রোববার সন্ধ্যায় বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে রোববার পর্যন্ত ১০ হাজার ৯০৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় ৬৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ২১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে লোক উঠেছেন। তবে সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন নেই।

এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি ও চেরাপুঞ্জিতে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের বড় অংশ ফের তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রী ও এলাকাবাসীকে চলাচলে ব্যবহার করতে হচ্ছে নৌকা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ১৮৬ মিলিমিটার। এ দিকে সারারাত সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হওয়ায় কারণে উজানের পানিতে সীমান্তের নিচু সড়ক প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, বিপৎসীমা ছাড়িয়ে সুরমা নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারার পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। কুশিয়ারা নদীতে জুড়ী নদী ও শেরপুরের মনু নদের পানি এসে মিলিত হয়। 

একই নদীতে আরও দুটি নদীর পানি মিলিত হওয়ায় পানি বেড়ে যায়। ফলে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার নিচে নামতে সময় লাগে। এ ছাড়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত থাকায় এবার পানি ধীরগতিতে নামছে।


আরও খবর



ঈদের আমেজ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

সদরুল আইনঃ


প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছেড়েছিলেন লাখো মানুষ। সেই আনন্দ ও ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে ফের রাজধানীমুখী হচ্ছে তারা।


শুক্রবার (২১ জুন) সকাল থেকে কর্মজীবী মানুষরা ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। চাপ বেড়েছে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদে। সড়ক ছাড়া সদরঘাটেও অনেক চাপ।


দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় ফিরছে। দূরপালার বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যেতে সিএনজি, উবার ও পাঠাওয়ে শরণাপন্ন হচ্ছেন।


কাহহার নামে এক সিএনজিচালক বলেন, এতদিন মানুষের চাপ ছিল না। তবে আজ থেকে আবারও যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকে গাবতলীর যাত্রী নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি।



ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালক রনি খাঁ বলেন, আজ থেকে সাধারণ মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। সকাল থেকে সায়েদাবাদ থেকে অনেকগুলো ট্রিপ পেয়েছি, ভালো লাগছে।


কুষ্টিয়া থেকে বাসে গাবতলী এসেছেন সৈকত হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকায় এলাম কোনো ভোগান্তি ছাড়াই। এমনকি দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটেও কোনো যানজট ছিল না।


এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা যায়, ঢাকাফেরা মানুষের ভিড়। তাদের কেউ বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ফিরছেন। আবার কেউ ফিরছেন পরিবার নিয়ে। 


কারও সঙ্গে রয়েছে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা বিভিন্ন জিনিসপত্রের ব্যাগ। তবে লঞ্চের মাধ্যমে ঢাকামুখী এ যাত্রায় কোনো অনিয়ম বা বড় ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।


গত ১৬, ১৭, ১৮ জুন (রবি, সোম ও মঙ্গল) ছিল ঈদের ছুটি। ছুটি শেষে বুধবার কাজে যোগ দিয়েছেন অনেকে। এদিন সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং ব্যাংক খুলতে দেখা গেছে। তবে পুরোদমে ফেরেনি কর্মচাঞ্চল্য।



 কারণ, একদিন অফিস (বৃহস্পতিবার) করার পরই আবার শুক্র ও শনিবার (২২ জুন) সাপ্তাহিক ছুটি। এই ছুটি শেষে রোববার (২৩ জুন) থেকে রাজধানী হয়তো ফিরে যাবে আগের রূপে।



আরও খবর



প্রাথমিকে বড় পরিসরে 'মিড-ডে মিল' চালু করতে যাচ্ছে সরকার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমানোর লক্ষ্যে দুই বছর পর আবারও মিড-ডে মিল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। 


এবার আরও বড় পরিসরে, ১৫০টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হতে যাচ্ছে এ স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। আগামী আগস্ট মাসের শুরু থেকেই প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে।


মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার ১৯ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৭ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য তিন বছর মেয়াদে এ প্রকল্প চালু হবে।



 প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। প্রাক্কলিত এ ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ১৮১ কোটি টাকা ব্যয় হবে খাদ্য সংগ্রহ খাতে। আর বাকি অর্থ ব্যয় হবে ঠিকাদার, পরিবহন, সার্ভিস চার্জ, খাদ্য বিতরণ ও প্যাকেজিং খাতে। প্রকল্পটি সফল হলে সারা দেশের স্কুলগুলোতেই এই মিড-ডে মিল চালু করা হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নিজে তার বাজেট বক্তৃতায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কথা বলেছেন।



 শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকায় প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনও ইঙ্গিত দিয়েছে।


প্রসঙ্গত, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ফিডিং প্রকল্প পরিচালনা করে। এরপর ২০১০ সালে ১০৪টি দারিদ্র্যপ্রবণ উপজেলায় ১৫ হাজার ৩০০টিরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু হয়েছিল। 



এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে ফর্টিফায়েড বিস্কুট এবং তিন উপজেলার শিক্ষার্থীদের গরম খাবার বিতরণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত চলে। মাঝে ২০২০ সালের আগস্টে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে পাঁচ বছর মেয়াদে খাবার বিতরণের জন্য ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।



 তবে মিড ডে মিলের খিচুড়ি বানানো শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলে প্রকল্পটি আর অনুমোদন পায়নি একনেক সভায়।


এ ব্যাপারে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছিলেন, প্রকল্পটির কাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। স্কুলে খিচুড়ি রান্না করলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছিলেন তিনি। 



আর প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, গরম খাবার সরবরাহ করা তাদের পক্ষে কঠিন হবে কারণ এতে লোকবল এবং রান্নার জন্য জায়গা প্রয়োজন।


এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া নতুন এই কর্মসূচিতে সরকার শুধু ফর্টিফায়েড বিস্কুটই নয়, মৌসুমি ফল, কলা, ডিম ও রুটিও সরবরাহ করবে। 



এ ছাড়া জুলাই মাসে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সমান্তরাল আরেকটি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।


উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ২০১৮ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মিড-ডে মিল কর্মসূচির ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।


আরও খবর