Logo
শিরোনাম

বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  টানা বর্ষণ ও অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বেড়েই চলেছে বন্যার পানি। এরই মধ্যে সিলেট নগরী ও অনেক উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে পুরোপুরি ডুবে গেছে। গতকাল শনিবারও টানা বর্ষণে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সিলেট নগরীর বাকি এলাকা। পুরো সিলেট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ট্রেন যোগাযোগ।

এ ছাড়া গতকাল সকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, সদর উপজেলাসহ আরো অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌবাহিনী ও ফায়ার ব্রিগেড সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।

গতকাল শসকাল থেকে নৌবাহিনীর ৩৫ জন সদস্য দুটি টিমে বিভক্ত হয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌবাহিনীর সদস্যরা নিজস্ব ক্রুজ ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। বিকালে ৬০ জনের আরেকটি দল এবং আরো ক্রুজ ও হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়েছে।

বন্যার পানি ওঠায় পানিতে তলিয়ে গেছে কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। ফলে পুরো সিলেট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মোবাইল টেলিফোন নেটওয়ার্কও পাচ্ছেন না বন্যাদুর্গতরা। এদিকে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলায়। প্রথম দফা বন্যায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫ স্থানে ভেঙে যাওয়া ডাইক মেরামত না করায় ফের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গত শুক্রবার সকাল থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ৫টি স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে। গতকাল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অনেক এলাকা।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট : সিলেট কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্রে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পানি উঠে যাওয়ায় আপাতত সাবস্টেশনটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি পানি সেচে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি আবার চালু করতে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই সাবস্টেশনে পানি উঠতে শুরু করে। গত শুক্রবার দুপুর থেকে এই কেন্দ্র সচল রাখতে যৌথভাবে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে বাঁধ নির্মাণ করেন তারা। তবে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্ধ করে দিতে হলো উপকেন্দ্রটি।

ভাঙা ডাইক এখন মরণফাঁদ : জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলায় ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রথম দফা বন্যায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫ স্থানে ভেঙে যাওয়া ডাইক মেরামত না করায় ফের ভাঙা ডাইক দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গত শুক্রবার সকাল থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ৫টি স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অনেক এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুরমা নদীর আটগ্রাম এলাকার মরিচা, নালুহাটি ও বড়বন্দ গ্রামে প্রথম দফায় ভেঙে যাওয়া ডাইক দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। শুক্রবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাত্র ১২ ঘণ্টায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অর্ধশতাধিক গ্রাম। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনী : সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধারে কাজে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনী। গতকাল সকাল থেকে নৌবাহিনীর ৩৫ জন সদস্য দুটি টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছে। সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার কাজে নৌবাহিনী সদস্যরা নিজস্ব ক্রুজ ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। বিকালের মধ্যে ৬০ জনের আরেকটি দল এবং আরো ক্রুজ ও হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে যুক্ত হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নৌবাহিনীর ৩৫ সদস্যের একটি দল শুক্রবার রাতেই সিলেট এসে পৌঁছায়। গতকাল সকাল থেকে ৩৫ সদস্যের দল কোস্টগার্ডের একটি ক্রুজ ও বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে একটি টিম সকাল থেকে কাজ শুরু করে। আরেকটি টিম কোম্পানীগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র আরো জানায়, আরো দুটি ক্রুজ উদ্ধার কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিলেটে ও অন্যটি সুনামগঞ্জে উদ্ধার কাজে যুক্ত হবে। এদিকে, সেনাবাহিনীর ৯টি ইউনিট সিলেট ও সুনামগঞ্জে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার বিকাল থেকে তারা সিলেটের ৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ৫টি উপজেলায় উদ্ধার কাজ করছে।

রেকর্ড ভেঙেছে এবার বন্যা : সিলেটে বন্যা দেশের আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা ডুবে গেছে। বাকি তিন জেলা শহরের কিছু উঁচু স্থান, পাহাড়ি এলাকা এবং ভবন ছাড়া সবখানে এখন পানি। আগামী দুই দিনে এই পানি আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে সিলেট বিভাগে অনেকটা এমন বন্যা হয়েছিল। কিন্তু এরপর বেশির ভাগ বন্যা মূলত হাওর ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ ও সিলেট শহরে দু-তিন দিনের জন্য হঠাৎ বন্যা হয়। কিন্তু পুরো সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হওয়ার মতো বন্যা হয়নি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, দেশের একটি বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ ডুবে যাওয়ার মতো বন্যা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। সিলেটে এর আগে যত বন্যা হয়েছে তা মূলত হাওর এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার গ্রাম, শহর ও উঁচু এলাকা হিসেবে বিবেচিত স্থানগুলোও পানির নিচে চলে গেছে। আর সোমবারের আগে এই পানি নামার সম্ভাবনা কম। কারণ উজানে আগামী দুই দিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূ-উপগ্রহভিত্তিক সংস্থা ইসিএমডব্লিউর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল বাংলাদেশের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; যা ১২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি। আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই অল্প কয়েক দিনে এত বৃষ্টির রেকর্ডও গত ১০০ বছরে নেই।

রানওয়েতে পানি, ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে যাওয়ার কারণে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটের শিডিউলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গতকাল ও আজকের দুটি ফ্লাইট পিছিয়ে আগামী ২১ ও ২৩ তারিখে নেওয়া হয়েছে। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ। তিনি বলেন, শনিবার ও রবিবার সিলেট-লন্ডন রুটে বিমানের দুটি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে যাওয়ায় এসব ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৮ তারিখের ফ্লাইট ২১ তারিখ এবং ১৯ তারিখের ফ্লাইট ২৩ তারিখ যাবে। এর আগে শুক্রবার বিকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বিমানবন্দরের পর এবার সিলেট রেলস্টেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলবে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেলস্টেশন ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, এরই মধ্যে রেলস্টেশনের মূল প্ল্যাটফরমে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। স্টেশনে কোনো ট্রেন ঢুকতে পারছে না। তাই রেলস্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল করবে।

সিলেট-সুনামগঞ্জের পর হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। কালনী-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদণ্ডনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এরই মধ্যে জেলার দুই উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জ-পাহারপুর ও আজমিরীগঞ্জ-কাকাইলছেও সড়ক ডুবে যাওয়ায় দুটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।



আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




আহ জীবন, আহারে জীবন

প্রকাশিত:শনিবার ১৬ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর ফেসবুক থেকে নেয়াঃ

কেউ কেউ জীবনে দিয়েই যায় | যতদিন সে দিতে পারে ততদিন তার দাম থাকে | তারপর একদিন তার দাম ফুরিয়ে যায় | যে মানুষটা সংসারের হাল ধরতে গিয়ে নিজের জীবনকে নিয়ে কখনো ভাবেনি বরং তিল তিল করে নিজেকে নিঃশেষ করতে করতে পরিবারের অন্যদের ভবিষ্যত গড়ে দিয়েছে একদিন পরিবারের কাছে সে বোঝা হয়ে দাঁড়ায় | কখনো কখনো পরিবারের অলংকার হবার পরিবর্তে কলংক হয়ে যায় | 

প্রশ্ন তো আসতেই পারে, কি কি বিসর্জন দেয় সেই নিঃস্বার্থ মানুষটা ? অনেককিছু, যা হয়তো খোলা চোখে দেখা যায়না, বন্ধ করে ফেলা চোখে দেখা যায় | চোখ যখন খোলা থাকে তখন মানুষ কোনোকিছু বিচার করতে পারেনা | তবে দিন যত যাচ্ছে চোখ তত বড় বড় চশমার কৃত্রিম কাঁচে আরও বন্দি হয়ে পড়ছে, ক্রমশ ঝাপসা হচ্ছে মানুষের দেখার অনুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি    |  হাবল টেলিস্কোপের উত্তরসূরি  বলে খ্যাত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ বানিয়ে মানুষ কত কিছুই না খুঁজছে অথচ একজন স্বার্থহীন মানুষের ত্যাগের মূল্য কি খুঁজছে | 

কোনটা বড় মানুষ, না মানুষের অতি উচ্চ বিলাসী স্বপ্ন | স্বপ্নের প্রাচুর্য বড় নাকি বাস্তবতার কষাঘাতে নিমজ্জিত মানুষের অসহায় মনটা বড় | এটা নিয়ে তর্ক বিতর্কে জড়াবোনা | সারা পৃথিবী সেই মনোমুদ্ধকর ছবির নানা বিশ্লেষণে মেতেছে, কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয় | যুক্তি-তর্কে কে কাকে ছোট করবে, কে কাকে বড় করবে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে | পান্ডিত্য জাহিরের এতো বড় সুযোগ মুখোশ মানুষরা কোনভাবেই ছাড়তে রাজি নয় | সাধারণ একটা মানুষের কাছে এসবের কোনো মূল্য নেই | তার কাছে তার মৌলিক চাহিদা মেটানোর  লড়াইটা সবচেয়ে বড় | 

এটা বিশ্ব রাজনীতির কোনো কৌশল কিনা বলতে পারবোনা, এটা বিজ্ঞানের মানব কল্যাণে নিহিত কোনো গবেষণা কিনা তা বলতে পারবোনা, এটা যেটাই হোক না কেন কোনোটাই বলতে পারবোনা | কারণ  সময় কথা বলবে, প্রকৃতি কথা বলবে, ইতিহাস কথা বলবে  |   তবে একটা কথা বলতে দ্বিধা নেই, সারা পৃথিবী অস্ত্র, মরণাস্ত্র, তারকাযুদ্ধের  নামে ধ্বংসযজ্ঞের যে অতি উচ্চ বিলাসী পরিকল্পনা হাতে নিয়ে শক্তির উন্মাদনায় মেতে উঠে টাকার পর টাকা ঢালছে,  সে টাকা কি দারিদ্রপীড়িত মানুষদের দারিদ্র্য মোচনের জন্য ব্যয় হতে পারতোনা  ? পৃথিবীর ক্ষুধার্ত শিশুদের ক্ষুধার যন্ত্রনা কি মিটাতে পারতোনা | হয়তো পারতো, কিংবা কারো কারো যুক্তিতে পারতোনা | কারণ বিষয় যাই হোক, এর পক্ষে, বিপক্ষে দাঁড়ানো মানুষদের সংখ্যাও কম নয় | কারণ সবকিছু যে একটা খেলা আবার সব খেলা খেলা নয় | 

ফেসবুকে একটা লেখা পেলাম, লেখাটা এমন ছিল:

"বাবার অসুস্থতার কারনে ৮বছর বয়সে সংসারের দায়িত্ব নিলাম... ইটভাটায় কাজ করেছি, জেলের কাজ করেছি, ট্রাকে লেবারি করেছি...

হাত ২টা ঠোসা পড়ে গেছে... পড়ালেখা করিনি...

বিয়ে করেছি ৩৫বছর বয়সে... শুধু ভাই-বোনের কথা চিন্তা করে...

সম্পুর্ন নিজের টাকায় ২জন বোন কে বিয়ে দিলাম...

২জন ভাইকে শিক্ষা অফিসার বানালাম...

আরেকজন ভাইকে বানালাম ডাক্তার...

আজ ছোট ভাই একটার জন্য মেয়ে দেখতে যাবে... ভাই বোন সবাই যাচ্ছে, আমাকে নেয়নি.. কারণ, আমি দেখতে ওদের মতো স্মার্ট না... এবং আমি মুর্খ, ওদের সাথে যায় না...

আহ জীবন, আহারে জীবন..."

ভাবছি অসহায় লোকটার কথা, একদিন যার দাম পরিবারের কাছে সবচেয়ে বেশি ছিল | স্বার্থপর আর সুবিধাবাদী পরিবারের মানুষরা তখন তাকে তাদের উপরে উঠার এক একটা  লোভনীয়  সিঁড়ি ভেবেছে | হয়তো লোকটা তাদের কাছে কোনোদিন মানুষের মূল্য পায়নি, আপনজনের ভালোবাসা পায়নি, যা পেয়েছে তা হয়তো একধরণের মেকি অভিনয়   | সবাই অভিনেতা হলেও সাধারণ লোকটা  সমাজের বাস্তবতা হয়েছে | কিন্তু সেটি হয়েওবা লাভ কি, সবাই রূপের জৌলুসকে ভালোবাসে, রক্ত মাংসের মানুষকে ভালোবাসেনা |

লোকটা পরিবারকে গড়ে তুলতে শরীরের ঘাম ঝরিয়েছেন, জীবনের অনেক মৌলিক চাহিদার মধ্যে শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদাকেও বিসর্জন দিয়েছেন | তার শ্রমের পানি করা রক্তে ভাই-বোনেরা এখন শিক্ষিত হয়ে সমাজের মাথা হয়েছে, বড় বড় পদপদবী পেয়েছে. ক্ষমতার রক্ত টগবগ করছে তাদের চোখে-মুখে   | সমাজে তাদের মর্যাদা বেড়েছে, জাতে উঠেছে তারা  | সবার দাম বেড়েছে আর সময় যতই গড়িয়েছে  নিঃস্বার্থ লোকটার দাম ততই কমেছে | খুব কষ্ট পেয়েছে লোকটা, হয়তো কান্নার পানি চোখে আনেননি , সেটা হিমশীতল বরফ করে জমাট বাঁধিয়েছেন এমন একটা জায়গায় সেটা হয়তো কেউ কোনোদিন খুঁজেও দেখবেনা | লোকটার কথাগুলো পড়ে মনে হলো মানুষ যতই শিক্ষিত  হয় ততই স্বার্থপর ও অকৃতজ্ঞ হয় | কারণ আমাদের শিক্ষায় ভোগবাদিতার সব উপাদান থাকলেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো জায়গা নেই | লোকটাকে এতদিন ব্যবহার করে বড় বড় সাহেব সুবেদার হয়ে উঠা আপনজনরা  মনে করছে লোকটা পরিবারের জন্য একটা কলংক | স্টেটাস বলেও তো একটা অতি দানৱীয় কথা আছে , সে স্ট্যাটাসে লোকটার  কোনো জায়গা নেই | তার জায়গা ডাস্টবিনে কিংবা গরুর খোয়াড়ে | একদিন সে গাছ ছিল, এখন সে আগাছা হয়েছে | 

আমার একজন প্রিয় ছাত্র লিখেছে, "পরিবারের বন্ধন ততদিন মজবুত থাকে যতদিন বন্ধনের মুল কারিগর (মা) থাকে।মুল কারিগর (মা) নেই বন্ধনও ধুমড়ে মুচড়ে নড়বড়ে।এটাই কি হবার কথা? সবই শূণ্যের কোটায়!!" কথাটা খুব সাধারণ মনে হলেও এর ভিতরের গভীরতা অনেক | যতদিন মা বেঁচে থাকেন ততদিন সম্পর্কগুলো মাকে আবর্তিত করে চলতে থাকে | মা যখন চলে যান, সম্পর্কগুলো তখন স্বার্থপর হয়ে যায় | চেনামুখগুলো অচেনা মনে হয় | পরিবারের স্বার্থহীন মানুষেরা পরিবারের স্বার্থপর মানুষদের দ্বারা আক্রান্ত হয় | কে আপন, কে পর বোঝা খুব কঠিন হয়ে পড়ে | মায়ের মৃত্যুর সাথে সাথে সম্পর্কের বন্ধন নড়বড়ে হয়ে পড়ে, সম্পদের লোভ মানুষের সম্পর্কে ফাটল ধরায় | ভেঙে যায় সব স্বপ্ন, সব সুখ | 

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন জাপানের মানুষেরা দীর্ঘায়ু হবার কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো তাদের খাদ্যাভ্যাস  | আর বাকি কারণগুলো মানবিক ধারণা দ্বারা পুষ্ট | যেমন তাদের বয়স যত বাড়ে টেনশন তত কমে, নাতি নাতনিদের সাথে তাদের আনন্দ করেই  সময় কাটে | সবচেয়ে বড় কথা হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে যেখানে ছোটরা বড়দের সব সময় সন্মান করে ,  পরিবারের জন্য বড়রা যে ত্যাগ করেন সে ত্যাগের প্রতি পরিবারের ছোটরা সব সময় কৃতজ্ঞ থাকে | তাদের শিক্ষায় মানবিক আচরণ ও জীবনাচরণের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ | 

এমন একটা সমাজের স্বপ্ন দেখি......স্বপ্ন কি সত্য হয় নাকি অধরাই থেকে যায় | ঠিক জানিনা, জানতেও চাইনা  | কারণ এ সমাজে কিছু চাওয়াটাই যে পাপ কিংবা অপরাধ | যদিও পাপ ও অপরাধের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান |  


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




বিএনপির রাজপথের শক্তি যত হ্রাস পাচ্ছে

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  গণমাধ্যমের সামনে দলটির নেতাদের হাস্যকর তর্জন-গর্জন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (২৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি দুর্যোগ-দুর্বিপাক ও সংকটে জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে সংকটকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে ভয়াবহতার দিকে ঠেলে দিতে সব ধরনের অপচেষ্টা চালায়।’

আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতে করতে বিএনপির দেশবিরোধী চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি নেতাকর্মীরা) আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে মরিয়া হয়ে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নেতারা দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড পরিহার করবে। না হলে, দেশের জনগণ বিএনপিকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি মানসিক দেউলিয়াত্ব ফুটে উঠেছে বলে দাবি করে কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বারবার নির্বাচনে না আসার মতো শিশুসুলভ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও বারবার বলেছি, দেশের সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান বহির্ভূত যে কোনও বিধান দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার নামান্তর। শর্ত দিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও অগণতান্ত্রিক অশুভ অপশক্তির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রত্যাবর্তন জনগণ মেনে নেবে না। বিএনপি তার অতীত

অপকর্মের জন্য জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পায়। সেকারণে তারা সাংবিধানিক পন্থার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের বিদেশি প্রভুদের আজ্ঞাবহ সরকার গঠনের দিবাস্বপ্নে নিমজ্জিত হয়ে আছে।


আরও খবর



প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

ইয়াশফি রহমান :  প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনার নারী ফুটবল দল। ধরা দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, এতে নিশ্চিত হল ২০২৩ নারী ফুটবল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার।

শনিবার (৩০ জুলাই) কলম্বিয়ার মাঠ এস্তাদিও সেন্তেনারিওতে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ নিশ্চিতের ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টাইনরা। তবে শেষ ১৩ মিনিটে ৩ গোল করে সব শঙ্কা কাটিয়ে প্যারাগুয়েকে ৩-১ গোলে হারায়।

ম্যাচে বলের দখল, প্রতিপক্ষ গোলমুখে শট, সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু ৩৯তম মিনিটে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রমিনা নুনিয়েজ নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বসলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। আত্মঘাতি গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যায় দু’দল।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ৭৮ মিনিট কোনও কিনারাই পাচ্ছিল না তারা। এতে করে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার শঙ্কাটাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল আলবিসেলেস্তেদের।

তবে ৭৮ মিনিটে ইয়ামিলা রদ্রিগেজের গোলে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার পর বদলে যায় দৃশ্যপট। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ফ্লোরেন্সিয়া বনসেগুন্দো গোল করেন আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। আর ইনজুরি টাইমের এক মিনিটের সময় ইয়ামিলা রদ্রিগেজ ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে প্যারাগুয়েকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে তৃতীয় স্থান তো বটেই, আর্জেন্টিনা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাও নিশ্চিত করেন। আর প্যারাগুয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে ৪ নম্বরে থেকে।


আরও খবর

এশিয়া কাপের দল ঘোষণা ভারতের

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




আরো ১০ আসামীকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ঃ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি নৈশ কোচে যাত্রীবেশে ডাকাতি ও এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া  ১০ জনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেছেন র‌্যাব-১২।  আজ মঙ্গলবার বিকেলে হস্তান্তরকৃত আসামীদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করলে  টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফারজানা হাসানাত ৬ আসামীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে টাঙ্গাইল কোর্ট  পরিদর্শক তানবীর আহম্মেদ নিশ্চিত করেছেন। 

টাঙ্গাইল র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাব-১২ এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান  সাংবাদিকদের জানান, সোমবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে রতনসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে আনা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে রবিবার (৭ আগস্ট) রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১২ ও ১৪।

র‌্যাব জানায়, বাসের হেলপারের ছদ্মবেশে ২০১৮ সাল থেকে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে আসছিল রতন হোসেন (২১)। তিনি এ চক্রের দলনেতা। তার অধীনে ১৩ থেকে ১৫ জন্য সদস্য রয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় দুই দফার কারাভোগও করেছেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় ৯ মাস কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আসেন এবং পুনরায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি করে দলনেতা হন রতন হোসেন।

ডাকাত দলের গ্রেপ্তার বাকি সদস্যরা হলেন- মো. আলাউদ্দিন (২৪), সোহাগ মন্ডল (২০), খন্দকার হাসমত আলী ওরফে দীপু (২৩), বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১), মো. জীবন (২১), আব্দুল মান্নান (২২), নাঈম সরকার (১৯), রাসেল তালুকদার (৩২) ও আসলাম তালুকদার ওরফে রায়হান (১৮)। এর আগে রাজা মিয়া, আউয়াল ও নুরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজা মিয়া, আউয়াল ও নুরনবী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তাদের জেলাহাজতে পাঠায় ডিবি পুলিশ। এই তিনজন বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন,  এ মামলায় গ্রেপ্তার ১০ জনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে সামিদের আদালতে তোলা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জনের ৩ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এরা হলেন,  রতন হোসেন (২১) সোহাগ মন্ডল (২০), খন্দকার হাসমত আলী ওরফে দীপু (২৩), বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস (২১), মো. জীবন (২১), আব্দুল মান্নান (২২)। এর আগে গ্রেপ্তার তিনজন কারাগারে রয়েছেন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ২৪ থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে সেখান থেকে একদল ডাকাত যাত্রীবেশে ওই বাসে ওঠে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা ওই তরুণ দল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের বেঁধে ফেলে। কয়েক মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়।

এরপর এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করে তারা। বাসটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তিন ঘণ্টার মতো নিয়ন্ত্রণে রাখে। পরে পথ পরিবর্তন করে টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালির স্তূপে বাসটি উল্টিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। 


আরও খবর



নোয়াখালীতে মাদ্রসা শিক্ষক দ্বারা ১০ছাত্র বলৎকারের অভিযোগ

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী ঃ 

নোয়াখালীর সেনবাগের ৯নং নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার মুতামিম মাওলানা আবদুল ফাত্তাহ'র বিরুদ্ধে মাদ্রাসার  ১০জন আবাসিক ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকদের চাপের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেওয়া হয়। 

গত শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার গুলো নিয়ে তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসায় একটি সালিশী বৈঠক বসে। বৈঠকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওই বৈঠকে ২০-৩০জন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।  তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। ওই বৈঠকের খবর পেয়ে গত দুই দিনে অভিযুক্ত শিক্ষক আর মাদ্রাসায় আসেননি।     

ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানায়,তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার আবাসিক হলের  ৮-১০ জন ছাত্রকে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার মুতামিম আবদুল ফাত্তাহ রাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যেত। ওই সময় মোবাইল ফোন আনা নেওয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে তার অফিস,শয়ণ কক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড বলৎকারের ঘটনা ঘটায়। এরপর বলাৎকারের শিকার মাদ্রাসার ছাত্ররা বাড়ি গিয়ে আর মাদ্রাসায় আসতে না চাওয়ায় পরিবারের লোকজন তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে মাদ্রারাসায় পাঠাতে না পেরে মারধর করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার গুলো নিয়ে তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসায় একটি সালিশী বৈঠক বসে। ওই বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আর মাদ্রাসায় আসেননি। অপরদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসায় থাকা আবাসিক ছাত্রদের তাদের অভিভাবকরা অত্র মাদ্রাসা থেকে অন্য মাদ্রাসা নিয়ে ভর্তি করাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সভাপতি ছারওয়ার আলম বলেন,মাদ্রাসার শিক্ষকদের গ্রুপিংয়ের কারণে ওই অভিযোগটি উত্থাপিত হয়েছে। বিনা দোষে কেন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে বলেন অত্র মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগ অচিরেই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব বলেন, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অত্র মাদ্রাসার প্রধানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।  

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল ফাত্তাহ ফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মো.জহিরুল ইসলাম বলেন, অভিভাককদের পক্ষ থেকে মৌখিক ভাবে ৮-১০টি অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ গুলো মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি তদন্ত করে দেখছে। এ ঘটনা নিয়ে গত শনিবার ২০-৩০জন অভিভাবকের উপস্থিতিতে মাদ্রাসায় একটি সালিশী বৈঠক বসে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।      

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন।  তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিভাবক থানায় লিখিত কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর