Logo
শিরোনাম
আমদানি ব্যয় বাড়ায় চাপের মুখে রিজার্ভ

বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি বাড়ছে

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। এক দিকে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে; বিপরীতে কাক্সিক্ষত হারে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স-প্রবাহ বাড়ছে না। এর ফলে ডলারের বিনিময় হারের সাথে চাপ বেড়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে হারে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এটা অব্যাহত থাকলে আর্থিক বছর শেষে বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি আরো বেড়ে যাবে। এতে ডলারের দাম টাকার বিপরীতে আরো বেড়ে যাবে, যাতে মূল্যস্ফীতিসহ সামগ্রিক অবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ; অপর দিকে একই সময়ে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ শতাংশ। কিন্তু ৯ মাসের হিসাবে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। যে হারে আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, এটা এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। আমদানি ব্যয়ের এপ্রিলের হিসেব এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট হার বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থা থাকলে আর্থিক বছর শেষে চাপের মুখে পড়ে যাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ইতোমধ্যে রিজার্ভ কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের রেকর্ড ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন (২২৪ কোটি) ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১.২৬ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানের আমদানির খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। অথচ সাত-আট মাস আগেও ১০ থেকে ১১ মাসের আমদানি খরচ মেটানোর রিজার্ভ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।

এ দিকে অস্বাভাবিক হারে আমদানি দায় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৯০ কোটি ডলারে। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৫২১ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ছয় হাজার ১৫২ কোটি ৪০ লাখ (৬১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই ৯ মাসে ৪২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। অন্য দিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে ৩৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রফতানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। আমদানি ব্যয় থেকে রফতানি আয় বাদ দিলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় দুই হাজার ৪৯০ কোটি ডলার।

আলোচিত ৯ মাসে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সেবা খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৭০৮ কোটি ডলার। অন্য দিকে সেবা খাতে দেশের ব্যয় হয়েছে ৯৯৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৯৯ কোটি ডলার।

জানা গেছে, চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে এ ঘাটতির (ঋণাত্মক) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪০৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ঘাটতির অঙ্ক ছিল ৫৫৫ কোটি ডলার। সামগ্রিক লেনেদেনে ঘাটতি ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে সাত বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। সামগ্রিক লেনেদেনে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে এ সূচকে ৬৯৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়েও চাপ বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২ দিনের ব্যবধানে টাকার মান কমানো হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল প্রতি ডলারে কমানো হয়েছিল ২৫ পয়সা। গত সোমবার আরেক দফা কমানো হয়েছে ২৫ পয়সা। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দর উঠে গেছে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা, যা এক বছর আগেও ছিল ৮৪ টাকা। তবে ব্যাংকগুলো এর চেয়ে বেশি দরে লেনদেন করছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর ডলার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টাকার মান কমে গেলে বহুমুখী চাপে পড়ে যাবে দেশ। কারণ আমাদের অর্থনীতি আমদানি নির্ভরতা বেশি। টাকার মান কমে গেলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম আরো বেড়ে যাবে। এতে বেড়ে যাবে স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন ব্যয়। ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এক দিকে পণ্যের দাম বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে, অপর দিকে মানুষের আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাবে। সবমিলেই চাপে পড়ে যাবে সামগ্রিক অর্থনীতি। তাদের মতে, অনুৎপাদনশীল পণ্যের আমদানি কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানির আড়ালে মুদ্রাপাচার হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশী শ্রমের নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে।




আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২




জুমাতুল বিদায় মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৯২জন দেখেছেন
Image

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তি কামনায় আজ শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা হিসেবে প্রতিবছর পালন করেন মুসলমানরা। রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখা আর ইবাদত-বন্দেগির অংশ হিসেবে এদিন নাজাত প্রার্থনা করেন সবাই। রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের প্রধান প্রধান মসজিদে ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। গ্রামে-গঞ্জেও ছিল নামাজিদের অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। সকল পর্যায়ের কোটি মানুষ ছুটে আসেন রমজানের মহাসম্মানিত শেষ জুমায় শরিক হতে। রাজধানীর মসজিদগুলোতে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ধর্মীয় আবেগভরা উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আল্লাহর রহমত বরকত নাজাত প্রত্যাশী নানা বয়সী মানুষ যেন ¯্রােতের গতিতে ছুটে এসেছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, মহাখালী মসজিদে গাউসুল আজম, গুলশান আজাদ মসজিদ, ধানমন্ডি সেন্ট্রাল মসজিদ, সোবহানবাগ মসজিদ, এলিফ্যান্ট রোড মসজিদ, বনানী বাজার মসজিদ, মহাখালী বায়তুল মাহফুজ, মিরপুর কাজীপাড়া জামে মসজিদ, শেওড়াপাড়া বড় মসজিদ, ১১নং কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদ, কাওরান বাজার আম্বারশাহ ও হাইকোর্ট মাজার মসজিদসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জামে মসিজদগুলোয়।

গতকাল জুমার আজানের আগে থেকেই মুসুল্লিগণ মসজিদে সমবেত হতে শুরু করেন। জুমাতুল বিদার জামাতে প্রায় সকল মসজিদই ছিল পূর্ণ। ভবনের ছাদ-বারান্দা ভরে নামাজিদের কাতার চলে যায় সড়কে। নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে হয় দীর্ঘ মুনাজাত। খতিবগণের বিশেষ মুনাজাতের সময় ছিল আমিন আমিন ধ্বনি আর গুনাহ মাফ চেয়ে আল্লাহর কাছে কান্না। ভাবগম্ভীর ইবাদত ও মুনাজাত গোটা রাজধানীর পরিবেশকে মোহিত করে তুলেছিল। পবিত্র আবহ বিরাজ করছিল মসজিদ নগরী ঢাকায়। প্রাণের উচ্ছ্বাসে আর হৃদয়ের টানে মসজিদে ছুটে আসা মানুষ অভিবাসী নির্যাতিত মুসলিম ভাইবোন ও শিশুদের জন্য প্রার্থনা করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও জাতির সর্বাঙ্গীণ মুক্তি-সাফল্যের পথে সকল বাধা দূর করা, দুর্নীতি-লুটপাট, অন্যায়-অত্যাচার, অযোগ্যতা-দায়িত্বহীনতায় পূর্ণ নেতৃবৃন্দের হেদায়েত জন্যও আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। মুনাজাতে দেশের ঘৃণ্য রাজনীতির ব্যর্থতার চক্র থেকে উত্তরণ, অভিশপ্ত দুর্বৃত্তায়নের করাল গ্রাস থেকে পরিত্রাণ লাভ এবং বিশ্বময় উন্নতির যুগে, বাংলাদেশের অকর্মা, দুর্বৃত্ত ও লুটেরা চক্রের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ বের হওয়ার জন্য আল্লাহর রহমত ও করুণা কামনা করা হয়।
চট্টগ্রামে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, মাহে রমজানের শেষ জুমা জুমাতুল বিদা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের মসজিদে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। মহানগরী ও জেলার মসজিদগুলোতেও ছিল ব্যাপক উপস্থিতি। মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে রাস্তায় জুমার নামাজ আদায় করেন। এসময় বিভিন্ন মসজিদ এলাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। সেখানে মহান আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া কামনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
জুমাতুল বিদায় নগরীর আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন হন। মসজিদের আঙিনা, ছাদ ছাড়িয়ে মুসল্লিদের উপস্থিতি এসে পড়ে সামনের সড়কের অনেকদূর পর্যন্ত। নামাজ শুরুর আগে প্রচ- খরতাপ মুসল্লিদের ভোগালেও নামাজ শুরু হতে হতেই হালকা বৃষ্টি সবার মাঝে যেনো প্রশান্তির ছোঁয়া নিয়ে আসে। নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজদি, লালদীঘি জামে মসজিদ, বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, চট্টেশ্বরাই গায়েবি মসজিদ, সিজিএস কলোনী জামে মসজিদ, মুরাদপুর মসজিদে বেলাল, অলি খাঁ জামে মসজিদ, চন্দপুরা শাহী জামে মসজিদ, বহদ্দারহাট জামে মসজিদসহ নগরীর প্রায় সব মসজিদে তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না। নামাজের আগে জুমাতুল বিদা ও রমজানের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ খুতবা দেন ইমাম ও খতিবেরা।
খুলনাতে জুমাতুল বিদা পালিত
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনাতেও পালিত হল জুমাতুল বিদা বা রমজানের শেষ জুমা। রোজাদার মুসল্লীগণ জুমা আদায়ের জন্য মসজিদে একত্রিত হন। ঈমামগণ খুৎবা দানকালে রমজান মাসের শেষ জুমার, শাবে কদরের ও ফিতরার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। খুলনার টাউন জামে মসজিদে জুমাতুল বিদার খুৎবা দেন মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। খুলনার প্রত্যেকটি মসজিদে নামাজ শেষে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়। এসময় মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়। কেউ কেউ শেষ রাতে কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারাত করে মৃত আত্মীয় স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বগুড়ায় মুসল্লিদের উপচে পড়া ভীড়
বগুড়া অফিস জানান, পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুমাহ জুমাতুল বিদা’র জামায়াতগুলোতে বগুড়ার মসজিদগুলোতে ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভীড়।
বগুড়ার মহাস্থান গড় জামে মসজিদ, বগুড়া কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, বগুড়া সেন্ট্রাল জামে মসজিদসহ ছোট বড় সব মসজিদেই দেখা যায় হাজার হাজার মুসল্লি মসজিদের ভিতরে যায়গা না পেয়ে আশেপাশের রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়ে।
হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে লাখো মানুষের ঢল
চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে জুমা’তুল বিদায় লাখো মানুষের ঢল নামে। সকাল থেমে থেমে বৃষ্টি ও বিশাল জামায়াতকে রুখতে পারেনি। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে সকাল ১০টার পর থেকে হাজীগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্চল ও জেলা শহর থেকে মুসল্লিরা এসে নামাজ পড়ার জন্য জায়গা নেয়। মসজিদ, মসজিদের ছাদ, কওমী মাদরাসা ১-৬ তালা, হাজীগঞ্জ প্লাজা, হাজীগঞ্জ টাওয়ার, হাজীগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের ২য় ও তৃতীয় তলা, বিভিন্ন মার্কেটের ওলিগলি পূর্ণ হয়ে যখন নামাজ শুরু হয় তখন চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে মুসল্লিরা দাঁড়িয়ে পড়লে নামাজের সময় সড়কটি বন্ধ থাকে। জুমাতুল বিদার নামাজ সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসনের আগে থেকে প্রস্তুত থেকে সেবা প্রদান করে। এ ছাড়া ২০টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কাজ করে। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মা ও বিশ্ব শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আবদুর রউফ।
গফরগাঁওয়ে জমাতুলবিদা পালিত
গফরগাঁও উপজেলা সংবাদদাতা জানান, পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার পবিত্র জমাতুল বিদা গফরগাঁও উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন মসজিদে পালিত হয়েছে। প্রতিটি মসজিদে মুসুল্লিদের উপচে পড়া ভীর ছিল। কোথাও জায়গা নেই। সকলস্তরে মুসুল্লিরা জুমা নামাজে অংশ নেয়। এ উপলক্ষে প্রতিটি মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাজশাহীতে জুমাতুল বিদা পালিত
রাজশাহী ব্যুরো জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে শুক্রবার রাজশাহীতে পালিত হয়েছে পবিত্র জুমাতুল বিদা। জুমার আজানের পর রাজশাহী কেন্দ্রীয় শাহ্ মখদুম (র.) দরগা মসজিদ, সাহেব বাজার বড় মসজিদ ও হেতেম খাঁ মসজিদ, সোনাদিঘী মসজিদসহ নগরীর সব মসজিদে নামাজে মুসল্লিদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। জুমাতুল বিদাকে কেন্দ্র করে নামাজ শুরুর আগেই সব মসজিদ কানায় কানায় ভরে যায়। ঠাঁই না হওয়ায় অনেকেই বাইরে নামাজ আদায় করেন। জুমাতুল বিদার খুতবায় উচ্চারিত হয় ‘আলবিদা, আলবিদা, ইয়া শাহর রামাদান। অর্থাৎ বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। জুমার দুই রাকাত নামাজ শেষে রাজশাহীসহ গোটা দেশ ও জাতির সুখ সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ আদায়ের পর মহানগরের টিকাপাড়া, কাদিরগঞ্জ, হেতেম খাঁ, গৌরহাঙ্গাসহ বিভিন্ন কবরস্থানে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে যান। এ মাসের শেষ জুমার দিন পালিত হয় আল কুদস দিবস।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, পবিত্র জুমাতুল বিদা নামাজে গতকাল বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে।
জুমাতুল বিদা উপলক্ষে গতকাল দক্ষিণাঞ্চলে সর্ববৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার জাকেরান ও আশেকানবৃন্দ বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জামে মসজিদে জুমাতুল বিদার নামাজ আদায় করেন। পরে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পীর ছাহেব খাজাবাবা ফরিদপুরী নকসবন্দী মুজাদেদ্দী (কু:ছে:আ:) ছাহেবের রওজা শরিফ জিয়ারতের নিয়তে ফাতেহা শরিফ পাঠান্তে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশালের চরমোনাই দরবার শরিফ মসজিদ, পিরোজপুরের ছারছীনা দরবার শরিফ মসজিদ এবং ঝালকাঠীর নেছারাবাদ দরবার শরিফ মসজিদ ও মোকামিয়া দরবার শরিফ মসজিদ ছাড়াও জামে বরিশাল মহানগরীর এবাদুল্লাহ মসজিদ, জামে কসাই মসজিদ, বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ নগরীর বিভিন্ন মসজিদে জুমাতুল বিদার বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

আরও খবর

গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন আজ

রবিবার ১৫ মে ২০২২

হজের নিবন্ধন শুরু সোমবার

শুক্রবার ১৩ মে ২০২২




৬০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়েছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

রুশ সামরিক অভিযানের পর থেকে ৬০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) জাতিসংঘের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১ মে পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে পালিয়েছে অন্তত ৬০ লাখ ২৯ হাজার ৭০৫ জন মানুষ।
সংস্থাটি আরও জানায়, ইউক্রেন ছেড়ে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় পুরুষরা সামরিক চাকরির জন্য দেশ ত্যাগ করতে পারেনি। যার কারণে শরণার্থীদের ৯০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানা গেছে।
তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের সীমান্ত জুড়ে প্রতিদিন শরণার্থীদের দেশ ত্যাগের প্রবণতা কিছুটা কমেছে। গত মার্চ মাসে দেশ ছেড়েছিল ৩৪ লাখ ইউক্রেনীয়। এপ্রিলে দেশ ছাড়ে ১৫ লাখ মানুষ।

মে মাসের শুরু থেকে, প্রায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ইউক্রেনীয় ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় চেয়েছে এবং জাতিসংঘের অনুমান এ বছর ৮০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যেতে পারে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) গবেষণা বলছে, দেশটিতে অভ্যন্তরীণভাবেও স্থানান্তর ঘটেছে ৮০ লাখ মানুষের।
ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী সের্হি মার্চেনকো বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে বলেন যে তার দেশ রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে ৮৩০ কোটি ডলার ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোকদের জন্য অস্ত্র কেনা ও মেরামত করা থেকে জরুরি সহায়তা কাজে এ অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইউক্রেনের আরও জরুরি সহায়তা দরকার বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



টাঙ্গাইলে মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার জন্য জেলা প্রশাসকের আর্থিক অনুদান

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৮১জন দেখেছেন
Image

 মোঃ সিরাজ আল মাসুদ, টাঙ্গাইলঃ

টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার অস্বচ্ছ মেধাবী শিক্ষার্থী তন্নী আক্তারকে অধ্যয়নের জন্যে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ালেন জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি। আজ বুধবার (২৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কক্ষে এ অনুদান প্রদান করা হয়। 

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, 

 বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে অধ্যয়নের জন্যে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত এম.বি.বি.এস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থী তন্নী আক্তার কৃতিত্বের সাথে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল এ ভর্তি হবার সুযোগ লাভ করেছে। কিন্তু মেয়েটি পিতৃহারা এবং অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান হবার দরুন মেডিকেলে ভর্তি হবার খরচ বহন করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছিলো। 

মেধাবী এই ছাত্রীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ যেন অর্থাভাবে কোনোভাবেই প্রতিবন্ধকতার শিকার না হয় সেজন্য টাঙ্গাইল জেলার জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আতাউল গনি আজ বুধবার  শিক্ষার্থীর হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন এবং তার ভবিষ্যতের জন্য সর্বময় মঙ্গল কামনা করেন।

উল্লেখ্য, এই কৃতি শিক্ষার্থী ২৭ এপ্রিল আর্থিক অনুদান চেয়ে  জন্য টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলেন।আবেদন প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক তাকে অর্থনৈতিক অনুদান মঞ্জুর করে এক নজির স্থাপন করলেন।


আরও খবর



গাজীপুরে সড়কে ১০ মিনিটের ব্যবধানে নিহত ৫

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৮৭জন দেখেছেন
Image

সদরুল আইন :   গাজীপুরে ঈদের দিন মঙ্গলবার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে বিকেল ৪টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকার উড়াল সড়কের পূর্ব পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন এবং একই সময়ে ওই সড়কের আনুমানিক পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দু'জন নিহত হয়।

নিহতরা হলেন গাজীপুর মহানগরের দক্ষিণ সালনা এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (৪৪), কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর গ্রামের মৃ আলতাব হোসেনের স্ত্রী রেণু বেগম (৫০), জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দাবাড়ি গ্রামের মৃত শফিকের স্ত্রী সাথি আক্তার (২৫), দুর্ঘটনায় নিহত শরিফ হোসেনের (৩০) পুরো পরিচয় পাওয়া যায়নি এবং পরিচয় না জানা (৪১) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর উড়াল সড়কের পূর্ব পাশে উত্তরবঙ্গগামী এনা পরিবহনের একটি বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালক (৪১) নিহত হয়। সিএনজি চালকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেণু বেগম, শরীফ হোসেন ও সাথি আক্তারের মৃত্যু হয়।

একই সড়কের দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে তাকওয়া পরিবহনের সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে হাসপাতালে নেয়ার পথে অটোরিকশা যাত্রী মোহাম্মদ হোসেন মারা যায়। 



আরও খবর



খেরসন শহর দখলে নিল রাশিয়া

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ১১৫জন দেখেছেন
Image

ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহর পুরোপুরি দখলে নিয়েছে রুশ সেনারা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী দক্ষিণ ইউক্রেনের সমগ্র খেরসন অঞ্চলটিকে ‘মুক্ত’ করেছে। এর আগে গত ৩ মার্চ একবার সেই অঞ্চলটি দখলে নিয়েছিল রাশিয়া।

রুশ বার্তাসংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই দাবি অবশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইউক্রেনের একজন আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, (খেরসনের) আঞ্চলিক প্রশাসনের এবং একইসঙ্গে সিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান নিয়োগ করেছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী।

২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর হেন্নাদি লাহুতাকে খেরসনের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘গতকাল দখলকারীরা খেরসন সিটি কাউন্সিলের পুরো প্রাঙ্গণ দখল করে নিয়েছে। পরে সেখান থেকে তারা ইউক্রেনের সকল প্রতীক ও চিহ্ন সরিয়ে দেয় এবং নিজস্ব রক্ষীদের নিযুক্ত করেছে।

এদিকে খেরসন শহরের মেয়র ইহোল কোলিকায়েভ বলেছেন, তিনি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিযুক্ত নতুন প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি খেরসনেই অবস্থান করছি এবং ১৮ মাসেরও বেশি সময় আগে আমাকে শহর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া খেরসনের বাসিন্দাদের সাথেই আছি।

এর আগে মার্চের প্রথম সপ্তাহে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান শহর এবং বন্দরনগরী খেরসন দখল করে নেয় রাশিয়া। এছাড়া প্রথম বড় কোনো ইউক্রেনীয় শহর হিসেবে খেরসন দখল করেছিল রুশ সেনারা। এর প্রায় দুই মাসের মাথায় এবার খেরসনের পুরো অঞ্চলটি দখলে নিলো রাশিয়া।

প্রায় ৩ লাখ বাসিন্দার খেরসন শহর ও অঞ্চলটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দখলে যাওয়া মস্কোর জন্য বড় ধরনের এক বিজয়। মূলত রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটিও হবে শহরটি।

এছাড়া এই শহর থেকে উপকূল বরাবর আরও ভেতরে এবং পশ্চিমের আরেক বৃহৎ বন্দরনগরী ওডেসার সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। খেরসন শহরটি কৃষ্ণ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং একটি শিল্পকেন্দ্র।


আরও খবর