Logo
শিরোনাম

ব্যথায় গরম পানির সেঁক দেওয়া কি ঠিক?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

ব্যথা পেলে আমরা উপশপ পেতে নানান উপায় খুঁজি। অনেকে নেন ঠাণ্ডা পানি কিংবা বরফের প্রলেপ। আর কেউ কেউ গরম পানির সেঁক নিয়ে থাকি। 

ব্যথায় গরম পানির সেঁক নেওয়া ঠিক না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টারের কনসালট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. সাইফুল ইসলাম।   

ব্যথা পেলেই আমরা গরম পানির সেঁক বা হট প্যাক দেই। এটা অনেক বড় একটা ভুল। আঘাতজনিত ব্যথায় প্রথম দিকে গরম সেঁক দিলে ব্যথা এবং ফোলা দুটোই বেড়ে যাবে। 

কারণ গরম দিলে রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়ে আরও বেশি রক্ত এসে আঘাতপ্রাপ্ত অংশটি অনেক বেশি ফুলে যায়, ফলে ইনফ্লামেশন আরও বেড়ে যায়। অর্থাৎ নিজের সর্বনাশ নিজেই করলেন। 

ব্যথা পেলে কী করবেন ব্যথা পাওয়ার সঙ্গে বরফ দেওয়া উচিত।  বরফকে অবশ্যই কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে। অথবা আইস জেল প্যাক ব্যবহার করতে হবে। ২০-৩০ মিনিট বরফ দিতে পারেন। প্রতিদিন ৪ বার করে, প্রথম ৩ দিন। 

পরে অবস্থা বুঝে গরম পানির সেঁক দিতে পারেন, যদি ফোলা না থাকে। জয়েন্ট বা টিস্যু ফোলা থাকলে অবশ্যই বরফ দেবেন। 

গরম দিলে ফোলা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া আর্থ্রাইটিসজনিত হাঁটু ব্যথায় অনেকে হাঁটুতে গরম পানির সেঁক দেন, এমন কী হাঁটু ফোলা থাকলেও। এতে সাময়িক আরাম পেলেও ফোলা এবং ব্যথা উভয় বেড়ে যায়। তাই হাঁটু ফোলা এবং ব্যথাজনিত সমস্যায় বরফ দেবেন। 

আঘাতজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা এবং ফোলা বেশি থাকলে চিকিৎসকের কাছে দ্রুত যাওয়া উচিত। কারণ হাড় ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও হতে পারে।


আরও খবর



পরমাণু বোমা তৈরি বাড়তে পারে সামনের বছরগুলোতে: থিংক ট্যাংক

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রাগার বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) নামের থিংকট্যাংক সোমবার (১৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান

বিজ্ঞপ্তিতে গবেষণা সংস্থাটি দাবি করছে, রুশ বাহিনীর ইউক্রেনে আক্রমণ এবং ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের সমর্থন বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সামান্য হ্রাস পেয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়বে। 

এসআইপিআরআইয়ের গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচির পরিচালক উইলফ্রেড ওয়ান বলেন, ‘বিশ্বের সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র তাদের অস্ত্রাগার বাড়াচ্ছে। এটি খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা।’

ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করার তিন দিন পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ হামলাকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং এ যুদ্ধে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। তিনি বারবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। 

রাশিয়ার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। দেশটিতে ৫ হাজার ৯৭৭টি ওয়ারহেড রয়েছে। এই সংখ্যাটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ৫৫০টি বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে বিশ্বের ৯০ শতাংশের বেশি ওয়ারহেড রয়েছে। অন্যদিকে চীনের কাছে ৩০০ টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

এসআইপিআরআই বলেছে, বিশ্বব্যাপী পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ছিল ১৩ হাজার ৮০ টি। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তা কমে ১২ হাজার ৭০৫টি এসে দাঁড়ায়। তবে আগামী বছর তা আবার বাড়তে পারে।


আরও খবর



সারাদেশে চলছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

আজ থেকে শুরু হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় পুষ্টি সেবার (এনএনএস) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আজ থেকে চার দিনব্যাপী দেশ জুড়ে চলবে এ ক্যাম্পেইন।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের ১ লাখ আইইউ মাত্রার একটি নীল ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ২ লাখ আইইউ মাত্রার একটি লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দেশের সব ইপিআই কেন্দ্র এবং স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় চার দিন ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। নির্ধারিত ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডের (পুরোনো) আটটি সাব-ব্লকে সপ্তাহের চার কর্মদিবসে নির্ধারিত ইপিআই কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও স্বেচ্ছাসেবী কর্তৃক উদ্দিষ্ট শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তাছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায়ও ইপিআই কেন্দ্রগুলোয় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।



আরও খবর



ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাট জমে উঠছে। ইতোমধ্যেই জেলার হাটগুলোতে পশু আসতে শুরু করেছে। জেলার কালিয়া কান্দাপাড়া, তালগাছী, রতনকান্দি, কামারখন্দ, এনায়েতপুর, সলঙ্গা, জনতার হাট, গ্যাস লাইন, শমেশপুর সহ বড় বড় হাটগুলোতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার আসতে শুরু করেছে।

করোনাকালীন গত দুই বছরের তুলনায় এবছর গবাদি পশুর দাম ভালো পাবেন বলে আশা করছেন খামারিরা। তবে এখনো স্থানীয় কোরবানিদাতারা পশু কিনতে নামেননি। তারা হাটে আসতে শুরু করলে দাম আরো কিছুটা বাড়তে পারে বলে খামারিরা আশা প্রকাশ করেন।

কয়েকজন খামারি জানান, দেশের বাইরে থেকে গবাদি পশু না এলে এবছর তারা ভালো লাভের আশা করছেন। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন হাট ও ক্রেতা বিক্রেতা সূত্রে জানা গেছে, বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) কালিয়া কান্দাপাড়া হাটে গরু কিনতে আসা ফরিদুল ইসলাম জানান, ৭০ হাজার টাকায় গরু কেনা হয়েছে। এবারে গরুর দাম একটু বেশি। তার দাবি, বাইরের গরু না আসায় গরুর ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে বড় আকারের তুলনায় মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুর দাম বেশি।

জেলা পশু সম্পদ অফিস সূত্র জানায়, এবছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার। সে তুলনায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার পশু। সেক্ষেত্রে জেলার চাহিদা মিটানোর পর বাকি পশু রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য পাঠানো হবে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের খামারি বলেন, এবছর তিনি ১২টি গরু মোটাতাজা করেছেন। ইতোমধ্যে হাটেও তুলেছিলেন কয়েকটি, কিন্তু পছন্দমতো দাম না হওয়ায় বিক্রি করেননি। তিনি বলেন, কোরবানির এখনও ৯/১০ দিন বাকি আছে। স্থানীয়রা পশু কেনা শুরু করেনি। তারা হাটে এলে আরো ভালো দাম পাওয়া যাবে।

কালিয়া গ্রামের খামারি ছামাদ জানান, খাবারের দাম বেশি হওয়ায় তার গবাদি পশু মোটাতাজা করতে খরচ বেশি পড়েছে। সরকারিভাবে যদি খামারিদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে খাবার সরবরাহ করা হতো তাহলে তারা আরো লাভবান হতে পারতেন।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জানান, সিরাজগঞ্জের গো-খামারিরা পশু পালনে সচেতন। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার ওষুধ ব্যবহার না করে তারা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন। এ ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ায় খামারিরা এখন অনেক সচেতন এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই পশু মোটাতাজা করে লাভবান হচ্ছেন।


আরও খবর



দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  দেশে অব্যাহত অভিযানে নিবন্ধন না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার  হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনোস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সারাদেশে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনা এবং চিকিৎসার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এই অভিযানে ছোট-বড় সব ধরনের হাসপাতালেই নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিযানের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান হতে পারে - এমন খবরে সেখানে সদ্যজাত সন্তানসহ এক নারীকে অপারেশেন টেবিলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান ক্লিনিকটির ডাক্তার-নার্সসহ সবাই।
ঘটনাটি ঘটে রোববার ২৯ মে এবং এ ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানে নিবন্ধন এবং এমনকি সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
ক্লিনিকটিতে ওই ঘটনার শিকার নারীকে সদ্যজাত সন্তানসহ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাছেই একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার স্বামী তানভীর হাসান বলেন, ওই ক্লিনিকটির দালারের খপ্পরে পড়ে তারা সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন।
তিনি জানান, আমি অন্য জায়গায় ছিলাম। আমার শাশুড়ি আমার স্ত্রীকে এই ক্লিনিকে নিয়ে আসে। এক মহিলা দালাল আমার শাশুড়িকে ভুল বুঝিয়ে এখানে নিয়ে আসে। তারপর ক্লিনিকে নিয়ে বলেছে যে, ১৮ হাজার টাকা লাগবে। আমরা ১২ হাজার টাকা দিলে দুই মিনিটের মধ্যে সিজার করার জন্য ভেতরে নিয়ে গেল।
তানভীর হাসান আরো জানান, তার স্ত্রীকে যখন অপারেশন টেবিলে নেয়া হয়, তখন সেখানে সাংবাদিক এবং অভিযানের লোকজন আসছে বলে খবর আসে।
সে সময় মুহূর্তেই সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকে হাসানের হাতে দিয়ে এবং তার স্ত্রীকে অপারেশন কক্ষের ভেতরে রেখেই সেই কক্ষে তালা লাগিয়ে ক্লিনিকের ডাক্তার-নার্সসহ সবাই পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানের লোকজন এসে তালা ভেঙে তার স্ত্রীকে পাশে একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, ওই ক্লিনিকে অভিযানের পর থেকে স্থানীয় বেশির ভাগই ক্লিনিকই বন্ধ রয়েছে।
নাগরিকের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী এবং বারডেম হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডা: রশিদ-ই মাহবুব বলেছেন, সারাদেশেই সরকারি চিকিৎসা সেবায় ঘাটতির সুযোগ নিয়ে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কোনো নিয়ম না মেনে শত শত হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে।
সেজন্য চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা চরম এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা যেহেতু পর্যাপ্ত নয়, সুতরাং চাহিদা আছে। এখন এই চাহিদার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলো গড়ে উঠছে।
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রথম শর্তই হচ্ছে এর নিবন্ধন করতে হবে।
কিন্তু নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ডা: রশিদ-ই মাহবুবের।
এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া কিন্তু প্রয়োজনের ভিত্তিতে নয়। যে যেভাবে পারে নিবন্ধনটা করিয়ে নিয়ে তা চালিয়ে দেয়।
ডা: মাহবুব আরো বলেন, জনগণ স্বাভাবিকভাবে তাদের চিকিৎসাসেবা পায় না বলে দালালচক্রের মাধ্যমে এসব স্থানে যায়।
ব্যক্তি মালিকানায় বা বেসরকারিভাবে পরিচালিত হাসপাতাল-ক্লিনিক বা ডায়গনোস্টিক সেন্টারগুলোতে সেবার মানসিকতার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে মূলত ব্যবসায়িক চিন্তা - বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু যখন যেটাতে লাভ সেটা ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠতে থাকে। সেটা হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে পারে। সেখানে মান দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের যে পরিমাণ জনবল দরকার, তার ঘাটতি আছে, এছাড়া মানুষেরও সচেতনতার অভাব আছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সব পর্যায়েই ব্যয় অনেক বেশি এবং আইসিইউতে কোনো রোগীকে যেতে হলে গুণতে হয় অনেক বেশি টাকা।
সেখানে অনেক সময় পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত লাশ বের করতে দেয়া হয় না, এমনকি রোগী সুস্থ হওয়ার পরেও আইসিইউ থেকে ছাড়া পায় না - এ ধরনের নানা অভিযোগ বিভিন্ন সময় ওঠে।
ঢাকায় বেসরকারি বড় এক হাসপাতালে এমনই এক পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন প্রায় ৭০ বছরের একজন নারী, যে অভিজ্ঞতার কথা জানান তার একজন আত্মীয় পরিচয় গোপন রাখার শর্তে।
তিনি বলেন, আমাদের রোগী আইসিইউতে ১২ দিন থাকার সময় মাঝে আমি পেমেন্টও করেছি। পরে আমরা রোগীকে যেদিন কেবিনে নিয়ে শিফট করতে গিয়েছিলাম, সেদিন আমরা পেমেন্টটা করিনি। কিন্তু হাসপাতাল ওই মুহূর্তে আমাদের বলতেছে যে, আইসিইউতে থাকার পুরো পেমেন্ট না করলে কেবিনে নেয়া যাবে না। আমরা বললাম, আমরা তো এই হাসপাতালেই থাকছি। আমাদের আইসিইউ-এর অল্প কিছু পেমেন্ট বাকি আছে। কিন্তু তারা তা মানেনি। যখন টাকা পুরো ক্লিয়ার করেছি, তারপর রোগীকে কেবিনে নিতে দিয়েছে।
চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের পাল্লা অনেক ভারী। চরম অব্যবস্থাপনা, মূলত ব্যবসায়িক চিন্তায় হাসপাতাল-ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা - এসব অভিযোগ স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িতদেরই অনেকে তুলেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক কর্মকর্তা অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যাপারে সরকারের নতুন কোনো উদ্যোগ নেই। সে কারণে স্বাস্থ্যখাত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দখলে চলে গেছে।
সরকারি খাতটাকে এখন আর উন্নত করার চেষ্টাই করা হচ্ছে না। বড় বড় হাসপাতাল হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সিস্টেম অনুযায়ী উন্নত করা হচ্ছে না।
অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, সে কারণে প্রাইভেট খাতের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে মানুষ।
তিনি উল্লেখ করেন, জমিজমা বিক্রি করে হলেও মানুষ প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে।
অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, সরকারি হাসপাতালে যারা যান, তাদেরকে সেবা পেতে অনেক রকম বাধা পার হতে হয়। যেমন দালালদের ব্যাপার আছে। তারপর টেস্ট বা ইনভেস্টিগেশন বাইরে থেকে করতে হচ্ছে - ইত্যাদি, এমন অনেক ব্যাপার আছে। সুতরাং বেসরকারি খাতকে ইগনোর করতে পারবেন না। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি দুটো খাতেই অনিয়মের চূড়ান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
বেসরকারি খাতে হাসপাতাল ক্লিনিকের সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, যদিও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল আহসান জানিয়েছেন, ১৪ হাজারের মতো তাদের সমিতির তালিকাভুক্ত রয়েছে।
ডা: মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা এই বিশাল সংখ্যক বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা যথাযথ নজরদারি কাঠামোই তৈরি হয়নি।
ডা: মাহবুব বলেন, উন্নত বিশ্বে তাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে। কিন্তু আমাদের রেগুলেটরি কোনো মেকানিজম নেই এবং আর্থিক সঙ্গতিও নেই। ফলে সবকিছু মিলিয়ে এই জায়গাটা এখন যার-যার তার-তার।
তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে আলাদা কোনো রেগুলেটরি মেকানিজম নেই, অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর বিষয়গুলো তদারকি করলেও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালানো এবং নজরদারির জন্য তাদের প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই।
সে কারণে তিনি মনে করেন, সার্বিকভাবে বিষয়গুলোর দিকে নজর না দিয়ে শুধু অভিযান চালিয়ে ভাল ফল পাওয়া যাবে না।
সপ্তাহ খানেক ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক ডায়গনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় অভিযানে বন্ধ করে দেয়া অনেক হাসপাতাল ক্লিনিক পরে আবার চালু হয়েছে এবং আবার একই অনিয়ম করে চলেছে।
অনিয়ম বন্ধে কয়েক ধাপের পরিকল্পনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবির বলেছেন, এবার তারা কয়েক ধাপে অভিযানের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
এই পরিকল্পনায় তারা বেসরকারি ও সরকারি - দুই খাতেরই হাসপাতালে অনিয়ম চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।



আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




সিদ্ধিরগঞ্জে গ্রেপ্তারকৃত দের মুক্তির দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ৩২ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ঃ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মসজিদে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা মামলায়  ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আজ সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী - চাষঢ়া সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, গত শুক্রবার আদমজীর বিহারী ক্যাম্পের শাহী জামে মসজিদে জুম্মার নামাজে ভারতে মহানবীকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে মসজিদের ইমাম প্রতিবাদ করে বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সৈয়দ আজিজুল হক কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এমন বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ করলে মুসুল্লিরা ক্ষেপে উঠেন। এক পর্যায়ে মুসুল্লিরা ওই এসআইকে জুতা ছুঁড়ে মারতে থাকেন এবং সংঘবদ্ধ হয়ে মারধর করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ হামলার ঘটনায় ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২০/১২৫ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মির্জা শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। 

সোমবার ভোর রাতে সুমিলপাড়া বিহারি কলোনিতে বিশেষ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে সকাল ১০ টায় কলোনির বাসিন্দারা আদমজী-চাষাড়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে।এসময় পুলিশ তাদের  রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে চাইলে এলাকাবাসি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জসহ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের এ ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। আধঘন্টা পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু জানান, সকালে লোকজন সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইট-পাটকেল ছোঁড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও শতাধিক রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরুসহ ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।


আরও খবর