Logo
শিরোনাম

চুলের যত্নে সরিষার তেল

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১৮০জন দেখেছেন
Image

চুলের যত্নে নারকেল তেল প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানেও চুল ভাল রাখতে নারকেল তেলেই ভরসা। তবে শুধু নারকেল তেল নয়, চুলের যত্নে সরিষার তেলও সমান ভাবে উপকারী।

সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, মিনারেল, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন এ, ডি, কে, ই সমৃদ্ধ যা চুল পড়া রোধ করে।

সরিষার তেলে থাকা জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন, সেলেনিয়াম এবং ওমেগা থ্রি অ্যাসিড চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

মাথার তালুতে সরিষার তেল মালিশ করলে মাথার রক্ত সঞ্চালন বেড়ে চুলের গোড়া মজবুত হয়।

অ্যান্টি-ফাঙ্গাল হিসাবেও সরিষার তেল খুব উপকারী। খুসকি বা মাথার ত্বকে চুলকানি থেকেও রক্ষা করে এই তেল।

চুলে সরিষার তেল ব্যবহারের দুটি উপায়-

১। একটি পাত্রে সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা জেল মেশান। মাথার তালুতে ভাল ভাবে মিশ্রণটি মাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে দিন। তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

২। একটি পাত্রে সরিষার তেল, লেবুর রস, ধনিয়া গুড়ো নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে তিন দিন এটি মাস্ক হিসাবে চুলে লাগাতে পারেন। আধা ঘণ্টা রেখে চুলে শ্যাম্পু করে নিতে পারেন। এতে চুল হবে মজবুত।


সূত্র : আনন্দবাজার


আরও খবর



নোয়াখালীতে ডাকাত দলের ৪ সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেফতার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১১৭জন দেখেছেন
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৪ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি এলজি,দুইটি কার্তুজ,একটি ছেনি,তিনটি কিরিচ. একটি লোহার রড এবং একটি কান্তা উদ্ধার করা হয়।

 বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  

গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাবু নগর গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে তারেক (২২) একই গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে রাকিব (২০)  শুভ (২১) একলাশপুর ইউনিয়নের মধুরামপুর গ্রামের মৃত ইমাম হোসেন বাহারের ছেলে শুভ (২১) ও কামাল উদ্দিনের ছেলে সাগর (২২)।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  তিনি আরও বলেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাতদের গ্রেফতার করা হয়।  এ ঘটনায় মামলা দায়েরর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  গ্রেফতারকৃত আসামিদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।


আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২




‘ট্রেনে প্রতিদিন রাজধানী ছাড়তে পারবেন ৫৩ হাজার যাত্রী’

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৯৬জন দেখেছেন
Image

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেছেন, ‘আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য ২৭ হাজার ৭৫৩টি টিকিট  রয়েছে। আর কমিউটারে আরও ২৫ হাজারের মতো টিকিট আছে। ফলে ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ৫৩ হাজার যাত্রী ট্রেনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে পারবেন। এখন সবাই যদি ট্রেনে করে বাড়ি যেতে চান সেটা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব না।’

আজ সোমবার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘অনেক মানুষ ট্রেনে বাড়ি যেতে চাওয়ায় টিকিট কাটতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে মানুষের চাপ হবে এটা জেনেই আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি স্পেশাল ট্রেনও সংযোজন করা হয়েছে, যেটি ২৯ এপ্রিল থেকে চলাচল করবে।’

ট্রেনের টিকিট পেতে কোটা বরাদ্দের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে যে কোটা প্রথা বাতিল করা হয়েছে এখনও সেটি বলবৎ আছে। শুধু রেলওয়ের ২ শতাংশ ও ইমার্জেন্সি (জরুরি) ২ শতাংশ কোটা চালু আছে। টিকিট অনলাইনে অর্ধেক ও কাউন্টারে বাকি অর্ধেক বিক্রি হচ্ছে।’


আরও খবর

ঢাকায় ফিরছে মানুষ

বুধবার ০৪ মে ২০২২




গজারিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৬ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৯জন দেখেছেন
Image

শাহাদাত হোসেন সায়মন 

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মধ্য ভাটেরচর স্পোটিং  ক্লাবের উদ্যোগে মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।  

গতকাল শুক্রবার বিকালে টেঙ্গারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর দে এ মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের  মাঠে এ মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ 

উদ্বোধন করেন দেশবন্ধু গ্রুপের মহা-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশবন্ধু গ্রুপের মহা-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সমাজ থেকে কুসংস্কার, অন্যায়-অত্যাচার দূরীকরণে যেমন শিক্ষার বিকল্প নেই, তেমনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার সুযোগ করে দিতে হবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীরপ্রতীক রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া থানার পরিবর্তন (অপারেশন) মুক্তার হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আজিজুল হক পার্থ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডারের আহবায়ক রবিউল ডালিম, সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন প্রমুখ। 

উদ্বোধনী দিনে খেলায় অংশগ্রহণ করেন সোনার বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব বনাম স্বাধীন বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব এবং বিজয় বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব বনাম যুক্ত বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব।

উক্ত খেলায়  প্রথম খেলা  বিজয় বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব ০১গোলে  বনাম যুক্ত বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব ০১  গোলে ড্র হয়। দ্বিতীয় খেলা সোনার বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব বনাম স্বাধীন বাংলা স্পোর্টিং ক্লাব গোল শুন্য ড্র হয়েছে। 

 খেলা পরিচালনা করেন মো. আল-আমীন, সহকারী ছিলেন, সিফাত ও রাকিব। ধারা বিবরনীতে ছিলেন মনির হোসেন মাস্টার।


আরও খবর



বছরে পানিতে ডুবে মারা যায় সাড়ে ১৪ হাজার শিশু

প্রকাশিত:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৯৫জন দেখেছেন
Image

নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রতিদিন ‘প্রায় ৪০ শিশুর’ মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে। এর মধ্যে অধিকাংশেরই প্রাণ যায় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে। এজন্য দায়ী অভিভাবকের ব্যস্ততা কিংবা অসচেতনতা। ২০১৬ সালে একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে এই তথ্য উঠে আসে।

এরপর বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু-মৃত্যু প্রতিরোধের কৌশল উদ্ভাবন করে। বিশ্বদরবারে সুনামও অর্জন করে। সেই দেশে গত ছয় বছরে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্যই সংগ্রহ করা হয়নি।

সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আমিনুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০১৬ সালের ওই আলোচিত জরিপের পর, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে তারা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি একনেকে বড় একটি প্রকল্পও পাস হয়েছে।

সাম্প্রতিক কোনো পরিসংখ্যান নেই জানিয়ে আমিনুর রহমান বলেন, গবেষণা আরও করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে এ ধরনের গবেষণা করা কঠিন। সরকারের সহযোগিতা পেলে আগামী বছর আরেকটা গবেষণা করব।

আমিনুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১৯ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার। ৫ বছরের কম বয়সের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। অর্থাৎ, পানিতে ডুবে মারা যাওয়াদের প্রায় অর্ধেকের বয়সই ৫ বছরের কম।

সংখ্যাগুলো দিনের হিসাবে বিবেচনা করলে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩০টি শিশু প্রতিদিন মারা যায়। ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ জন আর সব বয়সী চিন্তা করলে প্রতিদিন মারা যায় প্রায় ৫০ জন।

এই মৃত্যু কমানোর জন্য আমরা কিছু কৌশল বের করেছি জানিয়ে আমিনুর রহমান বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখতে হবে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এই বয়সী যে শিশুরা মারা যায়, তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ এই সময়টাতেই পানিতে ডোবে।

‘এই চার ঘণ্টা প্রাপ্তবয়স্কদের কেউ যদি শিশুদের দেখে শুনে রাখে, তাহলে শিশুর পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার শঙ্কা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যায়।’

সরকারের পদক্ষেপ : বাংলাদেশের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দুই মাস আগে প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে ১৬টি উপজেলায় প্রায় ২ লাখ বাচ্চাকে ডেকেয়ার সেন্টারের আওতায় আনা হবে। তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুকে নতুন করে সাঁতার শেখানো হবে। এতে যে খরচ হবে, তার ৮০ শতাংশই বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। বাকি ২০ শতাংশ আসবে দুটি দাতা সংস্থা থেকে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে শিশু একাডেমি। সিআইপিআরবি কারিগরি সহায়তা দেবে।

আপাতত নির্দিষ্ট কয়েকটি উপজেলায় কাজ শুরু হলেও সরকারের আশা, ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে সারাদেশ এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।

যত্ন-সচেতনতার বিকল্প নেই : পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়টিকে এখন অনেকেই অভিভাবকের ‘অবহেলাজনিত অপরাধ’ বলে উল্লেখ করছেন। গণমাধ্যম ও উন্নয়ন যোগাযোগবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে বিভিন্ন সময় পরামর্শ সভার আয়োজন করে, এমন বার্তাই দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি, সিআইপিআরবির মতো ব্যাপক পরিধির জরিপ না চালালেও তাদের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ মাসে, সারাদেশে ৪৬৭টি ঘটনায় ৮৩৩ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। এদের মধ্যে ৬৮৬ জনই (৮২.৩৫ শতাংশ) শিশু। মৃতদের মধ্যে ২৮১ জন কন্যাশিশু।

সমষ্টির পরিচালক ও সাংবাদিক মীর মাসরুর জামান মনে করেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধের ব্যাপারটি সামগ্রিক যত্নের বিষয়। তিনি বলেন, বিষয়টি পারিবারিক, কমিউনিটি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যত্ন নিয়ে দেখতে হবে। সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা


আরও খবর



আমদানি ব্যয় বাড়ায় চাপের মুখে রিজার্ভ

বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি বাড়ছে

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। এক দিকে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে; বিপরীতে কাক্সিক্ষত হারে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স-প্রবাহ বাড়ছে না। এর ফলে ডলারের বিনিময় হারের সাথে চাপ বেড়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যে হারে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এটা অব্যাহত থাকলে আর্থিক বছর শেষে বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি আরো বেড়ে যাবে। এতে ডলারের দাম টাকার বিপরীতে আরো বেড়ে যাবে, যাতে মূল্যস্ফীতিসহ সামগ্রিক অবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ; অপর দিকে একই সময়ে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ শতাংশ। কিন্তু ৯ মাসের হিসাবে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। যে হারে আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, এটা এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। আমদানি ব্যয়ের এপ্রিলের হিসেব এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট হার বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থা থাকলে আর্থিক বছর শেষে চাপের মুখে পড়ে যাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ইতোমধ্যে রিজার্ভ কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের রেকর্ড ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন (২২৪ কোটি) ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১.২৬ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানের আমদানির খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। অথচ সাত-আট মাস আগেও ১০ থেকে ১১ মাসের আমদানি খরচ মেটানোর রিজার্ভ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।

এ দিকে অস্বাভাবিক হারে আমদানি দায় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৯০ কোটি ডলারে। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৫২১ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ছয় হাজার ১৫২ কোটি ৪০ লাখ (৬১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই ৯ মাসে ৪২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। অন্য দিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে ৩৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রফতানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। আমদানি ব্যয় থেকে রফতানি আয় বাদ দিলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় দুই হাজার ৪৯০ কোটি ডলার।

আলোচিত ৯ মাসে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সেবা খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৭০৮ কোটি ডলার। অন্য দিকে সেবা খাতে দেশের ব্যয় হয়েছে ৯৯৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৯৯ কোটি ডলার।

জানা গেছে, চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে এ ঘাটতির (ঋণাত্মক) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪০৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ঘাটতির অঙ্ক ছিল ৫৫৫ কোটি ডলার। সামগ্রিক লেনেদেনে ঘাটতি ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে সাত বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। সামগ্রিক লেনেদেনে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে এ সূচকে ৬৯৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়েও চাপ বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২ দিনের ব্যবধানে টাকার মান কমানো হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল প্রতি ডলারে কমানো হয়েছিল ২৫ পয়সা। গত সোমবার আরেক দফা কমানো হয়েছে ২৫ পয়সা। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দর উঠে গেছে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা, যা এক বছর আগেও ছিল ৮৪ টাকা। তবে ব্যাংকগুলো এর চেয়ে বেশি দরে লেনদেন করছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর ডলার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টাকার মান কমে গেলে বহুমুখী চাপে পড়ে যাবে দেশ। কারণ আমাদের অর্থনীতি আমদানি নির্ভরতা বেশি। টাকার মান কমে গেলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম আরো বেড়ে যাবে। এতে বেড়ে যাবে স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন ব্যয়। ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এক দিকে পণ্যের দাম বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে, অপর দিকে মানুষের আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাবে। সবমিলেই চাপে পড়ে যাবে সামগ্রিক অর্থনীতি। তাদের মতে, অনুৎপাদনশীল পণ্যের আমদানি কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানির আড়ালে মুদ্রাপাচার হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশী শ্রমের নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে।




আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২