Logo
শিরোনাম

ডেঙ্গু; ভয়াবহ রূপ নিতে পারে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলছে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ঢাকার বাইরে এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল বছরের শুরু থেকেই সেই আশঙ্কাকে বাস্তবতায় রূপ দিয়ে দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ২০০০ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী আরও ২৩ বছরে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুলাই মাস পর্যন্ত এত বেশি সংখ্যক রোগীর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তথ্যও এর আগে পাওয়া যায়নি কোনো বছর ২০২২ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার তথ্য জানানো হলেও চলতি বছরের শুধুমাত্র জুলাই মাসেই মারা গেছেন ২০৪ জন

দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের যে পরিসংখ্যান তাতে দেখা যায়, আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসেই এর মাত্রা বাড়তে থাকে তবে ২০২৩ সালে অক্টোবর মাস পর্যন্ত আতঙ্ক ছড়িয়েছে ডেঙ্গু

চলতি মৌসুমে জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে জুনে পরবর্তীতে জুলাই মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত মৃত্যুর পরিসংখ্যানকে ভয়ঙ্কর হবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা কারণ জুনের তুলনায় সাত গুণের বেশি মানুষ জুলাইয়ে আক্রান্ত হয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই মাস ভয়ঙ্কর তবে এটা আরও ভয়াবহ রূপ নিবে আগস্ট মাসে এরপরে এখনো বাকি সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাস এমন অবস্থায় মশা নিধন কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনা করা না গেলে পরিস্থিতি ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই

কীটতত্ত্ববিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক . কবিরুল বাশার বলেন, এবছর মে মাসে যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন কমিউনিটিতে এডিস মশার ঘনত্ব বাড়তে শুরু করে জ্যামিতিক হারে এডিস মশা বেড়ে গেছে এখন জুলাই শেষ আগস্ট সেপ্টেম্বর আমাদের জন্য বেশ শঙ্কার এবার মৃত্যুতে এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বাংলাদেশি ইতিহাস ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু শুরু হয়েছে জানিয়ে কবিরুল বাশার বলেন, প্রতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবার লক্ষ্য করছি- সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এর পেছনে কারণ কী? আমরা যদি একটু পেছনের দিকে লক্ষ্য করি দেখবো, ফিল্ড লেভেলে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে যত ডেঙ্গু হয়েছে, দেখবেন আগস্ট সেপ্টেম্বরে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুটি মাসের একটি মাসে ডেঙ্গু পিক ছিল ২০২১ সালে দেখেছি অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু ছিল এরপর এবার দেখলাম নভেম্বর, ডিসেম্বর পার হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ডেঙ্গু চলে আসছে জানুয়ারিতেও ৫০০ মতো ডেঙ্গু রোগী ছিল এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে ছিল না 

ঢাকা শহরেলাইট পলিউশনেরকারণে এডিস মশা এখন দিনে হোক বা রাতে সব সময় কামড়ায় জানিয়ে কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, লাইট পলিউশনের বিষয়টি আমরা তিন বছর ধরে গবেষণা করে প্রমাণ করেছি পলিউশন নিয়ে পৃথিবীর কোথাও কথা হয় কিনা জানি না লাইট পলিউশন কিন্তু একটা বিশাল বড় পলিউশন কারণে এডিস মশা তার আচরণে পরিবর্তন করেছে এই পরিবর্তনকে টার্গেট করে আমাদের এডিস মশার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে হবে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে তিনি বলেন, মশা জন্মানোর তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যারা মশার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন তারা টার্গেট করে মশার নিধন করতে হবে এডিস মশা যেখানে হয় সেখানে টার্গেট করে আমাদের তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করতে হবে যেখানে হয়তো আমরা পারছি না, কেন পারছি না, সেটা বের করতে হবে এতদিন আমরা মশার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে চেপে ধরেছি কিন্তু এখন আমরা দেখছি সারা দেশে মশা ছড়িয়ে পড়েছে

বাংলাদেশের উপশহর, উপজেলাতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে গেছে কেউ জানে না কেন উপজেলাতে ডেঙ্গু হচ্ছে সে গবেষণাটা কে করবে, সে গবেষণার ফাইন্ডিং কে দেবে সেটি রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে এটা ভাবলে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটাকে আরও জোরদার করবে বলে জানান কবিরুল বাশার তিনি বলেন, যখন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়, তখন এডিস মশার ঘনত্ব বাড়ে ভারী বর্ষণ হলে এডিস মশার ডেনসিটি কমবে এখন থেমে থেমে বৃষ্টিটাই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্বেই হঠাৎ তাপদাহ বা অতিবৃষ্টি হচ্ছে। তাই সারা বছরই ডেঙ্গু থাকবে। তবে বর্ষার শুরু এবং শেষে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি থাকবে। তাই জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর। আগস্ট মাসে আরও বাড়তে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা এবং সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণ উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে থাকবে এরপর ধীরে ধীরে কমবে যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে, সংক্রমণ আগস্টে শীর্ষে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে এবারের সংক্রমণকে ডেঙ্গুর দ্বিতীয় ঢেউ বলা যায় কারণ গত বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি নভেম্বর-ডিসেম্বরের পর একটু কম ছিল চলতি বছর মার্চ থেকে বাড়তে শুরু করে

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে খ্যাতিমান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ২০২২ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ ছিল। সে সময় আক্রান্ত ছিল ৬২ হাজারের বেশি এবং মারা যায় ২৮১ জন। তবে এবার সেটাও ছাড়িয়ে যাবে মনে হচ্ছে। আক্রান্ত মৃত্যুর যে হিসাব আসছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, অনেকের ঘরেই জ্বরের রোগী আছে, চিকিৎসা নিচ্ছে না। ঘরে থেকেই ভালো হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো তো রিপোর্টে আসে না

তবে এভাবে যদি বাড়তে থাকে অবস্থা আগামী এক থেকে দুই মাসে আরও খারাপের দিকে যাবে যত আক্রান্ত হবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে ডেঙ্গু রোগীর জন্য রক্তের তেমন দরকার নেই জানিয়ে এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু হলে আবার অনেকে রক্ত দেয়ার জন্য অস্থির হয়ে যায় তবে রক্ত দেয়ার দরকার নেই ডেঙ্গু মশার জন্য রক্ত তখনই লাগে যখন রোগীর রক্তপাত হয় সেখানে চিকিৎসক চাইলে রক্ত দিতে পারে কিন্তু ডেঙ্গু হলেই যে ব্লাড দিতে হবে এমনটা না ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে খুব বেশি প্লাটিলেট প্রয়োজন হয় না যারা মারা যায় তারা প্লাটিলেট কমের জন্য মারা যায় না অনেকে মারা যায় প্লাজমা লিকেজের ফলে শরীর থেকে লিকুইড চলে যায় যেমন প্রেসার কমে যায়, প্রস্রাব হয় না, কিডনি ফেইলিউর, লিভার ফেইলিউর শকে চলে যায় আর রোগীরা এসব কারণে মারা যায় কারণে অযথা প্লাটিলেট নিয়ে চিন্তিত হবেন না বেশির ভাগ ডেঙ্গু রোগের প্লাটিলেট বা রক্ত লাগে না


আরও খবর



ইসরাইলকে রাফায় হামলা বন্ধের আদেশ আইসিজের

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

ফিলিস্তিনের রাফায় ইসরায়েলের চলমান হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। শুক্রবার (২৪ মে) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইসরায়েলকে এ নির্দেশ দেন। খবর আল জাজিরার।

আইসিজের প্রধান বিচারপতি নওয়াফ সালাম বলেন, মার্চ মাসে আদালতের শেষ আদেশের পর থেকে রাফায় মানবিক পরিস্থিতির আরো অবণতি হয়েছে। তিনি বলেন, রাফায় মানবিক পরিস্থিতি এখন বিপর্যয়কর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। আদালত নিশ্চিত নয় যে গাজা উপত্যকায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ইসরায়েল যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা যথেষ্ট কি না। বিশেষ করে সম্প্রতি রাফা থেকে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাফায় সামরিক অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনি জনগণ ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

রাফায় হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে নওয়াফ সালাম বলেন, ইসরায়েলকে অবিলম্বে রাফায় সামরিক আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। এই হামলা গাজার ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর উপর আঘাত করতে পারে। সেখানে বসবাসকারীদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করবে এবং তাদের শারীরিক ধ্বংসও ডেকে আনতে পারে।

আইসিজে কর্তৃক আদেশকৃত ব্যবস্থা প্রয়োগের অগ্রগতি ইসরায়েলকে এক মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবেশের জন্য ইসরায়েলকে রাফা সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

সাত মাসের বেশি সময় ধরে গাজার বিভিন্ন অংশে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এরই মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার নিরীহ ও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার বেশিরভাগই নারী ও পুরুষ। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৮০ হাজার।

সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজার দক্ষিণ রাফায় হামলা জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাফায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের দারস্থ হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।

আদালতের বিচারকরা বলেছেন, ইসরায়েল গাজার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে যেসব প্রতিশ্রতি দিয়েছে এবং রাফা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে সেটিতে তারা সন্তুষ্ট নন।

বিবিসি জানিয়েছে, যেন গাজার সাধারণ মানুষের অবস্থার আর অবনতি না ঘটে সেটা নিশ্চিত করতেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এই নির্দেশনা দিয়েছে।


আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

বাংলাদেশকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১১৭.৪২ টাকা ধরে)।

সোমবার (১০ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। সোমবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও এডিবির পক্ষে যথাক্রমে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং এ ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে উভয়পক্ষ। সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রোগ্রামের মাধ্যমে এডিবির এই অর্থ দেশের মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক উন্নয়ন এবং বৈচিত্রপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। দেশের দারিদ্রতা কমাতে সাহায্য করবে এই নতুন প্রোগ্রামটি।

এ ব্যাপারে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং বলেন, সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সুরক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদার প্রতিক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কাজের গতি বাড়ানো। এ কর্মসূচির প্রথম ধাপ ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া এই প্রোগ্রামের সাহায্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সামাজিক সুরক্ষায় এ অর্থ কাজে লাগানো হবে বলে জানা যায়। এ ছাড়া বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে এডিবির এই নতুন প্রোগ্রামের মাধ্যমে। পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য জীবিকা সহায়তা কর্মসূচির প্রসার ঘটিয়ে দুর্বল নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করা হবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

কর্মসূচির আরেকটি লক্ষ্য হলো তৈরি পোশাক খাতকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। দেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানে আরও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পোশাক খাতের কর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মীদের কাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যায়। এ ছাড়া দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নীতি বিশ্লেষণে সহায়তা করে সরকারি সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুদান দিচ্ছে এডিবি।


আরও খবর



বিনিয়োগ ছাড়াই গাজীপুরে ভাওয়াল রিসোর্টের মালিক বেনজীর

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

বিডি ডেস্ক রিপোর্ট:


গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে ইজ্জতপুর সড়ক ধরে চার কিলোমিটার ভেতরে ‘ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’। 


সেখানকার নলজানী গ্রামে তিন দিকে বনভূমিবেষ্টিত এই রিসোর্ট এলাকার মানুষের কাছে ‘বেনজীরের রিসোর্ট’ নামে পরিচিত। যদিও কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই ভাওয়াল রিসোর্টের ২৫ শতাংশের মালিক হয়েছেন বেনজীর আহমেদ।


অভিযোগ রয়েছে, ৫০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা ভাওয়াল রিসোর্টের ৩.৬৮ একর জমি বন বিভাগের। আর নিরীহ কৃষকদের অন্তত ৪০ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন রিসোর্টটি।


সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পুলিশের শীর্ষ পদে থাকার সময় কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। কীভাবে প্রভাববলয় ব্যবহার করে এত সম্পদ অর্জন করেছেন, তা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই গাজীপুরের রিসোর্টটির মালিক বনে গেছেন বেনজীর। শুরুতে ১৯ একর জমি নিয়ে রিসোর্টটির কাজ শুরু হলেও সাবেক আইজিপি (তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের-ডিএমপি কমিশনার) বেনজীরের ক্ষমতার জোরে প্রায় ৫০ একর জায়গা দখল করে নেন রিসোর্ট মালিকরা।


জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট, ম্যাক্স ভ্যালিসহ সাতটি রিসোর্টের অবৈধ দখল করা জমি উদ্ধার করলেও ভাওয়াল রিসোর্টের জমি উদ্ধারে এতদিন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছিল না বন বিভাগ।


এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভাওয়াল রিসোর্টের করা এক মামলায় এ জমির বিষয়ে একটি স্টে অর্ডার ছিল।


 এ কারণে বন বিভাগ চাইলেও জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে ২০১৭ সালেই জেলা জজ আদালতের স্টে অর্ডারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে আপিল করে। 


গত বৃহস্পতিবার এর রায় হয়েছে। আদালত আপিলটি গ্রহণ করে স্টে অর্ডারটি প্রত্যাহার ও ভাওয়াল রিসোর্টের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে এখন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। তবে প্রক্রিয়া শুরু করতে কয়েক দিন লাগতে পারে।


শুধু বন বিভাগ নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধার জমিও দখল করে করা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। এর মূল প্রবেশপথের এক একরের বেশি জমি কাপাসিয়া-শ্রীপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. সিরাজুল হক এবং তার মায়ের। 


প্রবীণ এ মুক্তিযোদ্ধা নিজের জমি উদ্ধারে নানাজনের কাছে দিয়েছেন ধরনা। তবে প্রভাবশালী বেনজীরের কারণে তারা ২০১৩ সালের পর থেকে ওই জমির ধারেকাছেও ভিড়তে পারেননি। বেনজীরের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর চাউর হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন ডা. সিরাজুল। 


জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে গাজীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।


এলাকাবাসী জানান, ভাওয়াল রিসোর্টের মূল উদ্যোক্তা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প গ্রুপ পারটেক্স। ব্যবসায়িক গ্রুপটির উদ্যোক্তা প্রয়াত এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজীজ রাসেল বর্তমানে এটির মালিকানায় রয়েছেন।


 ২০১৩ সালে গাজীপুর সদরের বারইপাড়া মৌজার নীলজানি গ্রামের কয়েকজনের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কিনে এর সঙ্গে আরও কিছু সরকারি খাসজমি দখল করে নেন তারা।


এদিকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ২৮ মে বেনজীর আহমেদকে চিঠি দেয় দুদক। ৬ জুন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের ৯ জুন জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তলব করা হয়েছে। 


তবে দুদকের ওই চিঠি গুলশান-১ এর ১২৬ নম্বর সড়কে বেনজীরের বাসার অভ্যর্থনা কক্ষে পড়ে আছে। দুদকের চিঠি ওই বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই ৪ মে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়েন সাবেক আইজিপি।


আরও খবর



হজ পালনে সৌদি পৌঁছালেন ৬৩ হাজার বাংলাদেশি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে মৃত্যু হয়েছে মমতাজ বেগম (৬৩) আরও এক বাংলাদেশির। এ নিয়ে দেশের মোট ১১ হজযাত্রীর মৃত্যু হলো।

এদিকে হজ পালনের জন্য এখন পর্যন্ত (৬ জুন রাত ২টা ৫৯) সৌদি পৌঁছেছেন ৬৩ হাজার ১৪১ জন হজযাত্রী। মোট ১৬২টি ফ্লাইটে তারা সৌদিতে পৌঁছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ১৬৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৮ হাজার ৯৭৬ জন হজযাত্রী সৌদিতে পৌঁছেছেন। আবেদনের বিপরীতে শতভাগ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্পডেস্ক।

হেল্পডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ১৬২টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৮৫টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫১টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। বুধবার (৬ জুন) পর্যন্ত মোট ফ্লাইটের ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ, আর মোট হজযাত্রীর ৭৬ শতাংশ সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

এখন পর্যন্ত দেশের ১১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে মারা গেছেন। এর মধ্যে সবশেষ মমতাজ বেগমসহ আটজন মক্কায় মারা গেছেন। তিনজন মারা গেছেন মদিনায়।

গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ১২ জুন।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন ৮৫ হাজার ২৫২ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৬২ জন। আর বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৮০ হাজার ৬৯৫ জন। প্রতি ৪৪ জনে একজন করে গাইড হিসেবে ১ হাজার ৮৯৯ জন হজযাত্রীদের সঙ্গে যাবেন।

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী এজেন্সির সংখ্যা ২৫৯টি। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ২০ জুন আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ২২ জুলাই।


আরও খবর



ঈদযাত্রায় সড়কে চাপ আছে, যানজট নেই: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image




বিডি টুডে ডিজিটাল ডেস্ক :



ঈদযাত্রায় সড়ক যানজটে নেই জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার চাপ আছে, যানজট নেই। সড়কে চাপ হবে, তবে রাস্তার জন্য যানজট হয়নি।


শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।



ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ঈদের ফিরতি যাত্রায় কিছু দুর্ঘটনা ঘটে, সেজন্য এবার আমরা আরও বেশি সতর্ক রয়েছি। কোরবানির ঈদে পশুবাহি গাড়ির কারণে সড়কে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়। 


ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও ভোগান্তিমুক্ত রাখতে পশুহাটের কারণে রাস্তায় যেনো যানজট তৈরি না হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।


আওয়ামী লীগে ভুল-ত্রুটি থাকলেও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতিবাজ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখায়নি। 



আওয়ামী লীগের সময় ঝিনাদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককেও রিম্যান্ডে আনা হয়েছে।



বিএনপির টপ টু বটম দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে। তারেক রহমানকে এখন সাদা মানুষ সাজানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। 


তারেককে সাদা মানুষ বানানোর জন্য গঠনতন্ত্র থেকে দুর্নীতিবাজ সংক্রান্ত ৭ ধারা বাতিল করেছে বিএনপি। বিএনপি দেশের গণতন্ত্রকে গিলে খেয়েছিলো। এখন অবস্থা দাঁড়িয়েছে- নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার নিশ্চয়তা যারা দিতে পারবে, সেই সরকারই বিএনপির কাছে বন্ধু।


আরও খবর