Logo
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির সম্মেলন জিএম কাদের

দেশের মালিকানা জনগনের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়ার পথে

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল; নারায়ণগঞ্জঃ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মেহাম্মদ কাদের বলেছেন, দেশের মালিকানা জনগনের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়ার পথে। সামনে নির্বাচন ঘিরে যে ধরনের পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে। সেখানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা যেকোন ভাবেই হোক ক্ষমতায় আসতে হবে এর জন্য অর্থ এবং পেশিশক্তি দিয়ে দলীয় করন করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। আর যারা বিপক্ষ দল তারাও বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছে ক্ষমতায় আসতে। তারা জানে যে পরাজিত হলে তাকে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হবে। 

শুক্রবার (১৭ জুন) বন্দর সমরক্ষেত্রে আয়োজিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়  তিনি এসব কথা বলেন 

তিনি আরো বলেন -বর্তমান সরকারের আমলে দেশের ৮ হাজার কোটি অবৈধ টাকা সুইস ব্যাংকে রাখা হয়েছে। সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে নাম মাত্র টেক্স দিয়ে ভাগাভাগি করে নেয়ার পায়তারা চলছে। সম্মেলন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য গেলাম কিবরিয়া টিপু, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টেপা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একে এম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা সহ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।

এমপি সেলিম ওসমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই সম্মেলনের কারনে আমাদের কমিটি গুলো সম্পুর্ন করা হয়নি। নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে জাতীয় পার্টির দুর্গ। এই দুর্গে কোন দিন ফাটল ধরাতে পারবে না। আমার নারায়ণগঞ্জের নেতারা কোনদিন লোভি ছিলো না। তাদের টেন্ডারবাজি বা চাদাঁবাজি করার কোন দরকার নাই। তারা শুধু জানে মানুষের সেবা করতে, এছাড়া তাদের আর কোন চাহিদা নাই। দল যখন ভালোর দিকে যায় তখন, ছেচরা, চাদাঁবাজ দলে ঢুকার চেষ্টা করে। আমরা ইতিমধ্যেই এক ভুমিদস্যুকে দলের থেকে বহিস্কার করিছি। 

তিনি আরও বলেন, এমন কোন লোককে জাতীয় পার্টিতে ঢুকিয়ে দিয়েন না যাতে করে আমাদের গর্ব নষ্ট হয়ে যায়। সে যেই হোক না কেনো, কোন জমি দখলকারি কোন চান্দাবাজ অন্তত এই নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টিতে ঢুকতে দিবো না। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করতে চাই, ‘আমাদের এমন বাজেট দিন যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি, অসহায় যাতে না হয়ে পারি। আমরা এতদিন বর্তমান সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিলাম, তবে এখন আমরা বিরোধী দলে থেকেও সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধ করবো যাতে এই বিষয়ে তারা সরকারের সাথে আলোচনা করেন। পরে আমরা চিন্তা করবো যে আন্দোলনে যাবো কি না।’

এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠন করার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। এসময় তিনি জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদসহ প্রয়াত সকলে নেতৃবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

সম্মেলন শেষে জেলা ও মহানগরের নব-নির্বাচিত কমিটি ঘোষণা করা হয়।  সানাউল্লাহ সানুকে সভাপতি ও আবু নাঈম বিপ্লবকে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে মহানগর কমিটিতে সভাপতি পদে মোদাছিরুল হক দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়। 


আরও খবর



রংপুরের কাউনিয়া অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সোমা আক্তার (২২) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই বছর রাজারহাট উপজেলার মুর্শিদ নাকান্দা গ্রামের সিরাজুল শেখ এর মেয়ে সোমার সঙ্গে কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর গ্রামের মৃত গাজী মিস্ত্রির ছেলে জাকির হোসেন এর বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে জাকির হোসেন প্রায়ই সোমাকে বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন অযুহাতে টাকা আনতে চাপ দিতেন। সোমা তাতে অপারগতা জানালে তাকে নানা ধরনের মানসিক অত্যাচার ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (১ জুন) জাকির হোসেন স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে পুনরায় টাকা আনতে বললে সোমা বাঁধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির হোসেন স্ত্রীকে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারপিট ও জখম করে সুঁচ দিয়ে শরীরের নানা অংশে আঘাত করেন। গর্ভপাত ঘটাতে তলপেটে লাথি দেন এমনকি হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় দড়ি বেঁধে ফাঁসিতে ঝোলানোর চেষ্টা করেন। তখন সোমার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশী রা ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তাকে।

সোমার বাবা সিরাজুল শেখ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুন) জাকির হোসেন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান মাসুম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে


আরও খবর



শ্রীনগরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

শ্রীনগর সংবাদদাতাঃ

মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইরাস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা  আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রেহানা বেগকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও হাত পা ভেঙ্গে দিবে বলে লাঞ্চিত করার অভিযোগে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে ‘শ্রীনগর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ’-এর ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা পরিষদ সড়ক  থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে শেষ হয়। 

মানবন্ধনে নারো নেত্রীরা বলেন,  শ্রীনগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ এর মতবিনিময় সভার নামে পকেট কমিটি করার প্রতিবাদ করি। এসময় আমাদের নেত্রী 

শ্রীনগর উপজেলা মহিলা  আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেহানা বেগম আমাদের সাথে পকেট কমিটির প্রতিবাদ জানায়। সেই প্রতিবাদ কে কেন্দ্র করে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী তোফাজ্জল হোসেন প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি, হাত পা ভেঙ্গে দিবে ও লাঞ্চিত করায় আমরা নিন্দা ও ঘৃনা জনাচ্ছি। 

মানববন্ধনে মহিলা আওয়ামীলীগের   পক্ষে বক্তব্য রাখেন, বাড়ৈখালী ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফরোজা মোবারক,  কোলাপাড়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্নি বেগম, কুকুটিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  সেলিনা হোসেন, মহিলা নেত্রী আরমিনের ,  শেলিনা বেগম, আফরুজা মোবারক, আছিমন, নুরজাহান প্রমুখ।


আরও খবর



টাকার মান ধরে রাখার চেষ্টা থেকে সরে দাঁড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

ইবাদত হোসেন:  বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ১০ মাসে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত) ৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার (৪৬০ কোটি টাকা) বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু আশানুরূপ কোনো ফল আসছে না। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমেই যাচ্ছে।

এ অবস্থায় ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধরে রাখার চেষ্টা থেকে সরে দাঁড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ২৯ মে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের বিনিময় হার ৮৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, বৃহস্পতিবার (২ জুন) তা তুলে নিয়েছে। ফলে আজ থেকে বাজারই উন্মুক্ত অর্থনীতির নিয়মে মুদ্রা বিনিময় হার ঠিক করবে। ব্যাংকগুলো যে কোনো দরে ডলার বিক্রি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওপেন মার্কেট অনুযায়ী ডলারের দাম ঠিক হবে। এটা না করলে রেমিটেন্স কমে যাবে বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।’তবে বিষয়টি বাজারের ওপর ছেড়ে দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় মনিটরিং করবে বলে জানান তিনি।

শুধু আন্তঃব্যাংক লেনদেনেই ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে ৩ শতাংশের বেশি। গত বছরের এপ্রিলে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। জুনে তা এক পয়সা বাড়লেও আগস্ট থেকে টাকার মান দ্রুত কমতে থাকে।আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর ৯০ টাকার নিচে থাকলেও মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছে।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ডলার বাঁচাতে বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রতা সাধনের দিকে কঠোর মনোযোগ দিয়েছে সরকার। অতি জরুরি প্রকল্প ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে অর্থায়নে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বিশেষ কারণ ছাড়া কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ আপাতত বন্ধ করা হয়েছে।


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




সোনারগাঁয়ে ১৫টি পশুর হাটের ইজারা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

প্রতিনিধি, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় কোরবানীর ঈদ উপক্ষে ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়। 

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের যেসব স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অলিপুরা বাজার কবরস্থান সংলগ্ন অস্থায়ী গরু, আলমদী কালভার্ট সংলগ্ন হারুনের মাঠ অস্থায়ী গরু, রিলায়েন্স হাউজিং  মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, বস্তল অ্যাম্পায়ার ষ্টীল মিল সংলগ্ন মাঠ অস্থায়ী গরুর, হাট শিলাব বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, তালতলা বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, বন্ধীর বাজারের দক্ষিন পার্শ্বে চরনোয়াগাঁও বালুর মাঠে অস্থায়ী গরু, বৈদ্যেরবাজার বালুর মাঠ সংলগ্ন অস্থায়ী, মেঘনা শিল্পনগরী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, মঙ্গলেরগাঁও গিয়াস উদ্দিন সাহেবের বালুর মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট, খুলিয়াপাড়া মিলন মিয়ার বালুর মাঠ অস্থায়ী গরুর হাট, হোসেনপুর করবস্থান সংলগ্ন বিল্লাল বেপারীর বাড়ীর পার্শ্বেঅস্থায়ী গরু ছাগলের হাট, চর কিশোরগঞ্জ বালুর মাঠ প্রাঙ্গনে অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট, বারদী ইউনিয়নের ফুলদী বাগেরপাড়া বিলকী বাড়ী আমিন মেম্বারের বালুর মাঠ অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট, নয়াপুর বাজারের পিছনে আম বাগানে অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট।

এই ১৫টি অস্থায়ী হাটের বাইরে সোনারগাঁ পৌরসভার একটি পশুর হাট বসবে। এ হাটের অনুমোদন দেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ছাড়াও উপজেলার আনন্দবাজার ও কাইকারটেকে দুটি বৃহত্তর স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ এলাহী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং এলাকাবাসী যাতে নির্বিঘ্নে কাছাকাছি স্থান থেকে পশু কিনতে পারে সে জন্যই এত বেশি সংখ্যক হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



সূফিবাদের প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ |
Image

সূফি মাজহারুল মাসুম :   

হাদীসের দ্বারা তাসাইফের কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।একবার রাসূলে করীম (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ইহসান কি?তিনি উত্তরে বলেছিলেনইহসান হল  বিষয় যে,তুমি যখন নামায পড়বে তখন তুমি  মনে করবে যে আল্লাহকে তুমি দেখছ আর তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে এই মনে করবে যে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন

হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে যেযে ব্যক্তি নিজেকে চিনল,সে আল্লাহকে চিনল

হাদীসে কুদসীতে আরও এসেছে যেআল্লাহ বলেনযখন আমি আমার কোন বান্দাকে ভালবাসি তখন আমি তার ধ্যান-অনুধ্যানে  কাজে কর্মে নিকটবর্তী হই। আমি তার চোখ হই যা দিয়ে সে দেখে,আমি তার কান হই যা দিয়ে সে শুনতে পায়,আমি তার হাত হই যার সাহায্যে বিভিন্ন জিনিস ধরে।

 

অর্থাৎ,কুরআনে অসঅংখ্য আয়াত  হাদীসের দ্বারা  কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে সূফিবাদ কুরআন-হাদীস হতে নিঃস্বরিত এক ধরনের বাতিনী জ্ঞান।এ ছাড়াও আমরা  বিষয়টি লক্ষ্য করে দেখতে পাই যেনবী করিম (সাঃহেরা গুহায় গভীর ধ্যানে নিমজ্জিত থাকতেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে তিনি আধ্যাত্মিক জীবন সাধনায় প্রায় সময় ব্যস্ত থাকতেন। নবী করীম (সাঃএর জীবদ্দশায় আহলে সুফফার কিছু লোক আল্লাহ পাকের ধ্যান সাধনায় এমন সময় ব্যয় করেছেন যার দ্বারা ধারনা করা হয় যে সূফিবাদ কথাটির উৎপত্তি ঘটেছে। অতঃপর খুলাফায়ে রাশেদীনের সময় হযরত আবূ বকর(রাঃ),উমার(রাঃ),উসমান(রাঃ আলী(রাঃপ্রত্যেকে তারা শাসনকার্য পরিচালনার পাশাপাশি অসংখ্য ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যস্ত থাকতেন। সৈয়দ আমীর আলী বলেন,

 

“ আলী(রাঃএর মৃত্যুর সাথে খিলাফত ধংসব হতে থাকে আর দামেস্কে যে বর্বরোচিত অত্যাচার শুরু হতে থাকে সেখান থেকে কিছু মানুষ একান্তে ইবাদত বন্দেগী করতে বাধ্য আর সেখান থেকে অতীন্দ্রয়বাদ স্বাভাবিকভাবে অগ্রসর হতে থাকে

 

কুরআন  হাদীসে সূফিবাদকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে।তা হল ইলমে বাতিনী,ইলমে লাদুন্নী,ইলমে ইলমে তরীকত,ইলমে মারিফত ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়েছে।

 সে সময় হতে হাসান বসরীসহ প্রমুখ তাবিয়ীর মাধ্যমে মরমীবাদ প্রকাশ হতে থাকে।উমাইয়্যা খিলাফত আমলে মানুষের বাহ্যিক চিন্তা-চেতনার এতটা বিকাশ ঘটে নাই যতটা বিকাশ ঘটেছিল আব্বাসীয়দের আমলে।সে সময় সূফিবাদের একটি চূড়ান্তরুপ লাভ করে।সে অর্থাত,হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদ নামে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী মরমীধারার উদ্ভব ঘটে।সে সময় যেসমস্ত কারনে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে তার প্রধান প্রধান কারনসমূহ নিম্নরুপঃ

()খলিফা হারুন-উর-রশিদের ইন্তেকালের পর তার দুই পুত্র আমীন  মামুনের ভিতর যখন মতবিরোধ দেখা দেয় তখন এক বীভীষীকাময় রাজনোইতিক অবস্থা বিরাজমান ছিল।অন্যদিকে ইসমাইলীয়া,বাতিনিয়া  কারামাতিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের অনুসারীগণ ধর্মের নামে অভীষ্ট রাজনীতির প্রচারণা চালাতে থাকে।এমতাবস্থায় কিছু লোকজন রাজনীতি থেকে কিছু মানুষ ইবাদতে ধ্যান-মগ্নে থাকার প্র্যাস পান এববগ এর ভিতর শান্তি তারা খুজে পেয়েছিল।

()আব্বাসীয়দের খিলাফতামালে মুতাযিলা সম্প্রদায়ের চিন্তা-চেতনার আবির্ভাব ঘটেছিল সেখানে মানুষের ভিতর এক ধরনের সংশায়াত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল আর মুতাযিলাদের সাথে অন্যান্য গোষ্ঠির ভিতর যে দ্বন্দ্বের আবির্ভাব হয়েছিল তা থেকে পরিত্রানের জন্য কিছু লোক আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে শান্তি খুজে পাওয়ার প্রয়াস খুজে পেয়েছিল।

()হানাফী,শাফিয়ী,মালিকি  হাম্বলী মাযহাব যে আবেগ বর্জিত পরহেজগারিতা নিয়ে এসেছিল সে অবস্থায় সম্পূর্ণ আবেগধর্মী অবস্থার দিকে এক দল মানুষ ধাবিত হচ্ছিল।

তাহলে আমরা বলতে পারি যে,তাসাইফের উৎপত্তি প্রকৃতপক্ষে বাহিরের কোন চিন্তা-ধারনা থেকে নয় বরং কুরআন-হাদীস  মুসলমানদের নিজস্ব চিন্তা-ধারাকে কেন্দ্র করে হয়েছে।মহানবী(সাঃএর জীবদ্দশায় এর উৎপত্তি ঘটেছিল যা

সূফিবাদের ক্রমবিকাশঃ

প্রকৃতপক্ষে সূফিবাদের আবির্ভাব মুহাম্মদ(সাঃএর সময় হতে শুরু হয়।অতঃপর যাকে সর্বপ্রথম মুসলিম সূফী হিসেবে চিহ্নতি করা হয় সে হল হযরত হাসান বিসরি(.) তার জ্ঞানতত্ত্বের আলোকে সূফী-সাধকগণ সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তার ভিতর মরমী  দার্শনিক চিন্তা-ধারার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছিল।এছাড়াও সর্বপ্রথম সূফী হিসেবে যার নাম স্বীকৃতি দেওয়া হয় সে হল আবয় হাশিম কূফী।কেউ কেউ আবার জাবির বিন হাইয়্যানকে প্রথম সূফী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।এরপর হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্বি পেতে থাকে।এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সূফীগণ হলেন ইব্রাহীম বিন আদহাম,রাবিয়া বসরী,দাউদ আত-

 

তায়ী  ফুযায়ল বিন হাইয়ায প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।তাদের কার্যকলাপ  বাণী থেকে আস্তে আস্তে কৃচ্ছতা জীবনে উদ্ভব ঘটতে থাকে।

এরপরে সূফিবাদের ক্রমবিকাশে যুন্নুন মিসরীর ভূমিকা ছিল ব্যাপক।তিনি ইসলামী মরমীবাদকে স্তভ হিসেবে স্থাপিত করেছিল।তাই তাকে সূফিবাদের সর্বপ্রথম ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।তিনি হাল  মাকাম সম্পর্কে সূফী-সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন।অতঃপর যুনায়েদ বাগদাদী যুন্নুন মিসরীর ধারনাকে আরো উন্নতি  সুসংবদ্ব করেন।

কালক্রমে সূফিবাদের ভিতর সর্বেশ্ববাদের ধ্যান-ধারনা যুক্ত হতে থাকে।এ ধরনের মতাবাদের মূল প্রবক্তা ছিলেন বায়জীদ বোস্তামী  মানসুর হাল্লাজ।তবে মানসুর হাল্লাজের বক্তব্য কিছুটা বিতর্কিত ছিল যে জন্য তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

অতঃপ্অর ইমামা আল গাযযালী এর সময় থেকে গোড়া সুন্নিবাদী মতবাদ সূফিবাদের ভিতরে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নেয়।তিনি গোড়া ইসলাম  সূফিবাদের ভিতর একটি সুন্দর মিল তৈরী করেন।।তার সময় অনেল সূফীর আগমন হয় যার মধ্যে আব্দুল কাদির জিলানী,ফরিদ উদ্দিন আত্তার,আল-কুশাউরী,শিহাবুদ্দিন সোহয়ার্দীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সপ্তম হিজরীতে স্পেনে ইবনুল আরাবী সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তিনি সর্বেশ্বরবাদের প্রচলন করেন।তার তার প্রতিষ্ঠিত মতবাদের নাম ছিল “ওয়াহাদুল অজুদ।তার এই মরমী ধারার ক্রমবিকাশে সাহায্য করেছিলেন জালালুদ্দিন রুমি (.)।তার মসনবী শরীফ পৃথিবীর ইতিহাস এক অমূল্য গ্রন্থ হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছে।ইবনুল আরাবীর এই মতবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রুকুনুদ্দিন আলাউদ্দৌলা একটি পৃথক মতবাদ গঠন করেন যা শুহুদিয়া নামে পরিচিত।তার এই সম্প্রদায়কে বাহাউদ্দীন বিশেষভাবে সমর্থন দিয়েছেন এবং হিজরী একাদশ শতাব্দীতে  মতবাদটি ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে রাখে।    পরবর্তীতে সূফী-সাধকদের ভিতর কাশানী,আলজিলি এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।অতঃপর ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক সূফীর আবির্ভাব ঘটে যাদের ভিতর খাজা মইনুদ্দিন চিশতী,বাহাউদ্দিন,শিহাবুদ্দিন,মুজ্জাদিদ আলফে সানীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।বিশেষ করে আলফে সানী সূফিবাদকে ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে উজ্জীবিত করেন।তিনি প্রকৃতপক্ষে  শুহুদিয়া সম্প্রদায়কে বিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।অতঃপর ১৮৩৭ সালে মুহাম্মদ বিন আলী ১৮৩৭ সালে আলজেরিয়াতে একটি পৃথক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে সূফিবাদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়  ক্রমবিকাশ হতে থাকে।

 

 


আরও খবর

সুফিবাদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২

সুফীবাদের মূলনীতি

সোমবার ২৭ জুন ২০২২