Logo
শিরোনাম

ঢাবিতে গভীর রাতে বিএনপি নেতা রিজভীর নেতৃত্বে গোপন বৈঠক

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্ধোধনকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কার মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে গভীর রাতে বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকের ঘটনা ফাঁস হয়েছে! ঘটনার দু‘দিনের মাথায় আজ রোববার (২০ জুন) তারেক রহমানের আস্থাভাজন বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের কট্টরপন্থী অংশের আয়োজনে মধ্যরাতের এ বৈঠকের খবর ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।

রাত ১০টায় সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্লাবে রাত ১ টা পর্যন্ত গোপন এ বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ, ছবি নাশকতার পরিকল্পনার প্রমান দিচ্ছে বলে পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।

অনুমতি ছাড়া বহিরাগত লোকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৈঠক। এ বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাদা দলের অনেক শিক্ষকও। কলা অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদের সাদা দলের শিক্ষকদের কয়েকজন ইতোমধ্যেই অপর অংশের গোপন বৈঠকের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তুলেছেন।

রিজভী ও ৪/৫ জন শিক্ষক ছাড়া কেউ পরিচিত নন বলে জানিয়েছেন ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা ক্লাবের কর্মকর্তা কর্মচারিরাও। বৈঠকে ৪/৫ জন অপরিচিত মাহিলাও ছিলেন। তাদের কাউকে তারা চিনেন না বলে জানান কর্মকর্তা কর্মচারিরা। বৈঠকের জন্য একটি গরু জবাই দিয়ে ভুড়ী ভোজেরও ব্যবস্থা করা হয়।

কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকে রিজভী সামনে থাকলেও এর আয়োজনে ছিলেন ঢাবির সাদা দলের শীর্ষ নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ড.এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি আবার ঢাবি ক্লাবেরও সভাপতি।

তবে আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে অবমাননার দায়ে চাকরিচ্যুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: মোরশেদ হাসান খান। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের স্বাভাবিক সার্ভিস চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। নিয়ম অনুসারে কেউ অনুষ্ঠান করলেও সাধারন সম্পাদকের কাছে আবেদন বা তার অনুমতি দিতে হয়। তবে ১৮ জুনের এ কর্মসূচির বিষয়ে তাকে কিছু জানানোই হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ক্লাবের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রহীম। তিনি বলেছেন, ‘রাতে বৈঠক করার বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। নিয়ম অনুসারে সাধারন সম্পাদক হিসেবে আমাকে জানানোর কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। পরে আমি যখন জানতে পারি তখন সভাপতিকে আমি জিজ্ঞেস করেছি আমায় না জানিয়ে কোন কর্মসূচি করা হয়েছে কিনা। তিনি পরিস্কার করে কিছু বলেনি। তবে কিছু পরিচিত লোকজনকে নিয়ে বলেছিলেন বলে বলেছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে বিএনপি নেতাদের নিয়ে মধ্য রাতে বৈঠক নিয়ে উদ্বেগে আছেন শিক্ষক কর্মকর্তারা। ফুটেজ সংগ্রহ করে যাছাই বাছাই চলছে। কারা কারা ছিলেন তা অনেকটাই এখন পরিষ্কার। কর্তৃপক্ষ এ বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেছেন, ‘অনেক প্রশ্ন। যেখানে রাত ১০টার সময় সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায় সেখানে এভাবে রাত ১টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক কেন? এমনিতেই দেশে নাশকতামূলক নানা আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার মধ্যে এ বৈঠক স্বাভাবিক মনে হচ্ছেনা। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। একই সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের দায় দায়িত্ব অবস্থান নিয়ে আমার প্রশ্ন, তারা ঠিক কাজ করছে কিনা।’

এদিকে ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। তিনি বলেছেন, ‘ঘটনার জানার পরই আমি প্রক্টরকে বলেছি ঘটনা খতিয়ে দেখতে, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে একটা পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট দিতে। আমার এখতিয়ারের মধ্যে যা আছে সেভাবে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সভাপতিকে তার সেলফোনে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। আজ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরে সভাপতিসহ কেউ কেউ অন্য শিক্ষকদের কাছে দাবি করেছেন তাদের পরিচিত একজনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেছে তারা। তবে কার জন্মদিন, কি তার পরিচয়, এবং কেনইবা গভীর রাতে অনুমতি ছাড়া বহিরাগতদের নিয়ে অনুষ্ঠান করতে হবে সেই প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।






আরও খবর

দল গোছানোর কাজে গতি আনছে আ.লীগ

বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২




বিশ্বাস হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়া যায়না

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর ফেসবুক থেকে নেয়াঃ

বিশ্বাস কি খুব ঠুনকো আর ভঙ্গুর একটা জিনিস  | এটা  কি ছায়ার মতো নাকি কাচের আয়নার মতো ! ছায়া আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠে, অন্ধকারে মিলিয়ে যায় | বিশ্বাস ঠিক তেমনই | সত্যের উপর ভর করে বিশ্বাস যখন জ্বলে উঠে তখন মিথ্যার ছায়ার মৃত্যু ঘটে | অন্ধকার আলোর সাথে লড়াইয়ে পেরে উঠেনা | দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটে | সব কিছু উলোট পালট হয়ে যায়,  যখন বিশ্বাসের ভিতরে মিথ্যে প্রবেশ করে | তখন সত্যের ছায়ার মৃত্যু ঘটে | আলো পরাভূত হয় অন্ধকারের কাছে | বিশ্বাস কখনো কাচের আয়নায় নিজেকে দেখতে পায় | আয়নার বাইরের মানুষটার ভিতরে যদি মনুষ্যত্ব  থাকে  তখন আয়নার ভিতরের  মানুষটার ভিতরে  বিশ্বাস জন্ম নেয় | আয়নাটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলে মানুষের মুখটাও টুকরো টুকরো হয়ে যায়, বিশ্বাস তখন টুকরো টুকরো হয়ে যায় | এমন টুকরো টুকরো কাচের ভিতর মানুষ তার মনুষ্যত্বকে হারিয়ে ফেলে | বিশ্বাস তার অস্তিত্ব হারায় |  

বিশ্বাস একটা চাদরের মতো | যখন  কাউকে  শীতের তীব্রতা  গ্রাস করে  তখন চাদরটা তার শরীরে উষ্ণতা তৈরী করে | হয়তো চাদরটার উষ্ণতা তৈরী করার শক্তি নেই, কিন্তু চাদরটা যখন বিশ্বাস হয়ে যায় তখন উষ্ণতার জন্ম হয় | যার চাদর কেনার সামর্থ্য নেই, তখন শীতটা তার জন্য চাদর হয়ে যায় | মানুষটার উদোম শরীর আর শীত এক হয়ে যায় | অথচ কেউ কেউ আবার দামি দামি মখমলের একটার পর একটা মোটা চাদর শরীরের উপর জড়িয়েও শীতকে জয় করতে পারেনা | 

অন্যকে বিশ্বাস করা যতটা সহজ নিজেকে বিশ্বাস করা ততটা কঠিন | এটা অনেকটা আত্মসমীক্ষণের মতো | যেখানে মানুষ নিজেকে একটা চিত্রকর্মে পরিণত করে | তারপর রংতুলি দিয়ে একটার পর একটা জলরঙে নিজেকে ডুবিয়ে দেখার চেষ্টা করে | বিশ্বাসে যখন মরিচা পড়ে তখন রংগুলো বদলে যায় | বিশ্বাস পরিবর্তিত হয় | বিশ্বাস তখন আত্মঘাতী হয় | যদি জল রঙে ডুবিয়েও রঙের পরিবর্তন না ঘটে তবে বিশ্বাস পরীক্ষায় উতরে যায় | 

সব হারিয়ে গেলেও ফিরে পাবার সম্ভাবনা থাকে, বিশ্বাস হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়া যায়না | বিশ্বাস ভেঙে গেলে জোড়া লাগানো যায়না | বিশ্বাস অনেকটা নদীর পানির মতো | যে পানি একবার স্রোতে হারিয়ে যায় তাকে আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়না |

বিশ্বাস একটা চিঠির মতো | তবে বিশ্বাসের চিঠিতে কোনো কালো অক্ষরের লেখা থাকেনা, একটা অদৃশ্য অনুভূতি থাকে, বিন্দু বিন্দু না বলা কথা থাকে  | কষ্ট থাকে, যন্ত্রনা থাকে, আনন্দ থাকে, হাসি থাকে | হয়তো মিথ্যেকে সত্য করে বলার মতো অনেক কিছুই থাকে | অথচ  বিশ্বাসের চিঠি কখনো  খামবন্দি হতে চায়না, বরং খামকে বন্দি করতে চায় | খামও বন্দি হতে চায়না বরং চিঠিকে তার ভিতরে ঢুকিয়ে বন্দি করতে চায় | এখন যুগ পাল্টেছে | মানুষের উপর চিঠি আর খামের অনেক বিশ্বাস ছিল তা আজ হারিয়ে গেছে | কারণ স্বার্থপর মানুষ নতুন কোনো বিকল্প পেলে পুরাতনের বিশ্বাসকে হত্যা করে |   রঙিন মানুষ, রঙিন দুনিয়ার প্রেমে পড়ে সাদা কালো দুনিয়ার বিশ্বাসকে হারায় |

বিশ্বাস একটা সার্কাসের জোকারে মতো | যে নিজে হাসতে না পারলেও মানুষকে হাসানোর বিশ্বাসকে তার কান্নার মধ্যে দিনের পর দিন জমাতে থাকে | সেটা বুকের ভিতরে এমন একটা জায়গায় জমতে থাকে সেটা জোকারটা ছাড়া আর কেউ কখনো দেখতে পায়না | মানুষ ভাবে টাকা দিয়ে জোকারের হাসি কিনেছে | আর জোকারটা জানে মুখে রং মেখে প্রতিদিন তার কান্না মানুষের কাছে বিক্রি করছে সে | বিশ্বাস সেটা যেটা আমরা বিশ্বাস করিনা, বিশ্বাস সেটা নয় যেটা আমরা বিশ্বাস করি | খুব অদ্ভুত একটা মনস্তত্ব | যা বইয়ের পাতায় থাকেনা | অথচ বইয়ের পাতায় মানুষ সারাজীবন বিশ্বাসকে খুঁজে বেড়ায় |

চোখে চশমা পড়ে বিশ্বাসকে খুঁজতে গেলে চশমাটাই একটা বিজ্ঞানের উপাদান হয়ে যায় | চোখও তখন বিজ্ঞানের উপাদান হয়ে যায় | মানুষটাও বিজ্ঞানের উপাদান হয়ে যায় | অথচ বিশ্বাসটা তখনও বিধ্বস্ত করা ঘূর্ণিঝড়ের মতো | কোথায় আঘাত হানবে তা কেউ আগে থেকে বলতে পারেনা |

একটা মানুষ বাজারে গিয়ে বিশ্বাসকে কিনবে বলে খুঁজে বেড়াচ্ছে অথচ ওই মানুষটার নিজের বিশ্বাস অন্যের কাছে কখন বিক্রি হয়ে গেছে তা সে নিজেই জানেনা | বিশ্বাস কখনো বিক্রি হতে ভালোবাসেনা অথচ মানুষ বিশ্বাসকে পণ্য বানিয়ে বিক্রি করতে চায় | যখন বিশ্বাস বিক্রি হয় তখন মানুষও বিক্রি হয় | বিশ্বাসের ভিতর মানুষ থাকে, মানুষের ভিতর বিশ্বাস থাকেনা | 

একটা কাঠের লাটিম বিক্রি করে যে মানুষটা সংসার চালায় তার জীবনটা অনেকটা লাটিমের মতো | লাটিম যতটা না ঘুরে লাটিম বিক্রি করা মানুষটাকে জীবনের সাথে লড়ার জন্য তার চেয়ে বেশি ঘুরতে হয় | লাটিমটা যে মানুষটা কিনে সে মানুষটাও লাটিমের মতো ঘুরে | সবাই ঘুরে, বিশ্বাসও ঘুরে | কিন্তু আবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু একেকজনের একেক রকম হয় |

মানুষ মরে যায়, বিশ্বাস তারপরও বেঁচে থাকে | মানুষের বয়স যত বাড়ে বিশ্বাসের বয়স তত কমে |  বিশ্বাসের বয়স এভাবে ক্রমাগত কমতে কমতে কখনো ফুরিয়ে যায়না | 


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




আকাশ ছুঁলো কাঁচা মরিচের দাম

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে কাঁচা মরিচের বাজার। গেল সপ্তাহে প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এক লাফে এ সপ্তাহে ছাড়াল আড়াইশ টাকা। কয়েকটি বাজারে ২৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্যবসায়িরা বলছেন, মৌসুম শেষের দিকে। তাই ফলন কম হওয়ায় বাজারেও চাহিদা মতো আসছে না; এতে দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বী। উত্তর বাড্ডা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মূল বাজার সংলগ্ন দোকানগুলোতে মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৬০ টাকা কেজি দরে। রাস্তার পাশে টুকরিতে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা। এদিকে, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল বাজার কাঁচা মরিচের বড় পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শান্তিনগর কাঁচাবাজারে মরিচের দাম ২৬০ টাকা কেজি। অনেকেই ২৫০ গ্রাম মরিচ না কিনে, খরচ বাচাতে ১৫০ গ্রাম কিনেছেন।

মরিচের দাম এত কেন জানতে চাইলে ব্যবসায়ী হেদায়েতুল্লাহ মিন্টু বলেন, আমাদের করার কী আছে? পাইকারি বাজারে মরিচের দাম বেশি।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী লতিফ মুন্সী বলেন, এখানে বেশিরভাগ মরিচ আসে উত্তরবঙ্গ থেকে। তবে ফলন কম হওয়ায় চাহিদা মতো মরিচ আসছে না। যা আসছে তার দামও আকাশছোঁয়া।

মরিচের দাম কবে কমবে জানতে চাইলে মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা হানিফ সওদাগর বলেন, পাইকাররা বলছেন, মরিচের চলতি মৌসুম শেষের দিকে। ক্ষেতে নতুন মরিচ উঠার পর দাম কমে আসবে।

কেবল ঢাকা নয়, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বেড়েছে মরিচের দাম। স্থানভেদে মরিচের দাম কেজিতে ১৮০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। খাগড়াছড়ি জুম পাহাড়ি মরিচের কেজি ৩২০-৪০০ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে নতুন মৌসুম শুরু না হওয়া পর্যন্ত মরিচের দাম আকাশচুম্বী থাকবে।

খাগড়াছড়ি : দীঘিনালায় স্থানীয় হাটবাজারে জুমে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা জানান, জুমের নতুন মরিচ বাজারে আসতে আরও এক মাস বাকি আছে। এখন সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাঁচা মরিচের আবাদ হয়ে থাকে নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলায়।

বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর গ্রামের চাষি খোরশেদ হোসেন বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছি। ফলন ও দাম ভালো। যদি কয়েক দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় তাহলে মরিচ ক্ষেতের পাতা ঝরা সমস্যা থাকবে না।

সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের চকআতিতা গ্রামের চাষি রেজাউল করিম বলেন, এক মাস আগেও ৫০-৬০ কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছি। ১৫ দিন আগে ৭০-৮০টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে বাজার দর ভালো। এখন প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৯০-১৯৫টাকা দরে। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৪০টাকা কেজিতে।

দয়ারামপুর বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রুপ চাঁদ ও মাবুল বলেন, কাঁচা মরিচের আমদানি কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। ফলন কম হওয়ায় মরিচ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে। আমরা এক হাজার টাকায় ৫ কেজি মরিচ কিনে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছি।

উপজেলা নির্বাহী আফিসার নীলুফা সরকার জানান, কোনো ব্যবসায়ী যদি কাঁচা মরিচের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন বা দাম বাড়ান তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



আরও খবর



মেট্রোরেলের চূড়ান্ত পরীক্ষা অক্টোবরে

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  মেট্রোরেলের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ডিসেম্বরেরই শুরু হবে স্বপ্নের আরেক যাত্রার। প্রাথমিক লক্ষ্য উত্তরা থেকে আগারগাঁও। এরই মধ্যে ২০ কিলোমিটারের এই মেট্রোরেল নির্মাণকাজের প্রায় ৮৫ ভাগ শেষ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে চালুর জন্য নির্ধারিত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশের কাজ ৯১ শতাংশ হয়েছে।

আসছে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মেট্রোরেলের চূড়ান্ত পারফর্মেন্স টেস্ট শুরু করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরপর কয়েকদিন যাত্রীবিহীন চলাচল শেষেই শুরু হবে বাণিজ্যিক যাত্রা। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক চলাচলের সব ধাপ শেষ হবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় চলাচলের জন্য বসানো হয়েছে নিজস্ব নেটওয়ার্কের লাইন। এতে লাইনে থাকা একটি ট্রেনের গতি বাড়লে সমান হারে বাড়বে অন্যটির গতিও। একই লাইনে থাকলেও দুটি ট্রেনের একটি আরেকটিকে ধাক্কা দেবে না বা ঘটবে না সংঘর্ষ।

এদিকে, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে মেট্রোরেল চালু করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ হচ্ছে। ট্রেনগুলোর ট্রায়াল ও অন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হতে এই সময় লাগবে। স্টেশনে ওঠানামার সিঁড়ি, চলন্ত সিঁড়ি বা এস্কেলেটর এবং লিফট বসানোর কাজ এখনও শুরু হয়নি। বেশিরভাগ স্টেশনেরই এ অবস্থা।

কর্তৃপক্ষ বলছে দুটি ট্রেনের সর্বনিন্ম দূরত্ব হবে ২৫০ মিটার স্বয়ংক্রিয় চলাচলে একটির গতি বাড়লে আরেকটিও বাড়বে। ঠিক একই অবস্থা হবে গতি কমলেও। তাই একটি ট্রেনকে অপরটি ধাক্কা দেবে এমন ঘটনা ঘটবে না। থাকবে না দুটি ট্রেনের সামনাসামনি সংঘর্ষের শঙ্কা। আর এ সবই নিয়ন্ত্রণ করবে অটোমেটিক প্রটেকশন পদ্ধতি যা নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছে নিজেস্ব নেটওয়ার্ক সিস্টেম।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে হবে, এটি দূর নিয়ন্ত্রিত হবে, ওয়াইফাই, জি ফাইভ সংযুক্ত হয়ে এটি চলবে। এটির দুটি টেস্ট আমরা করে ফেলেছি, আরও বেশকিছু টেস্ট বাকি আছে। আমরা যে দুটি টেস্ট করেছে সেটি হচ্ছে অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন। যে ট্রেনটি এখন অটোমেটিক চলাচল করতে পারে কি না। এই প্রক্রিয়া শেষে অক্টোবরের প্রথম দিনেই শুরু হচ্ছে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট। মাসখানেক এ পরীক্ষামূলক চলাচলের পরেই শুরু করা যাবে বাণিজ্যিক যাত্রা।

এম এ এন ছিদ্দিক আরো বলেন, আগামী অক্টোবর মাসে যাত্রা আমরা শুরু করতে চাচ্ছি। এটি হলো ইন্টিগ্রেটেট টেস্ট, এটির পরে যাত্রী পারাপারে সেই রানটি আমরা করবো। তারপর আমরা বাণিজ্যিক চলাচলের দিকে যাবো। এ ছাড়া যে কোন অনাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে থাকবে ম্যান্যুয়াল পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।

এদিকে, মেট্রোরেলের প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য ৯ ধরনের বিশেষায়িত যন্ত্র আমদানি করা হচ্ছে। এ ধরনের যন্ত্রপাতি এর আগে বাংলাদেশে আমদানি হয়নি। ফলে এসব যন্ত্রপাতি আমদানির এইচএস কোডও নেই। এ অবস্থায় মেট্রোরেলের এই নতুন ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে নতুন এইচএস কোড নির্ধারণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আবেদন করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এনবিআর এখন এইচএস কোড নির্ধারণের কাজ করছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্ল্যাটফর্মের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে এর মধ্যে রয়েছে- টিকিট অফিস মেশিন বা টম, টিকিট ভেন্ডিং মেশিন, কার্ড ইনিশিয়ালাইজিং ডিভাইস, ওয়েসাইড রেডিও সেট, স্বয়ংক্রিয় গেট বা প্যাসেঞ্জার গেট, এডিও এক্সিট এন্ট্রান্স ডোর ফর ড্রাইভার, প্ল্যাটফর্ম অ্যান্ড ডোর (পিইডি), প্ল্যাটফর্ম স্কিন ডোর ও বেলাইজ এনকোডার। এনবিআর এসব পণ্যের জন্য এইচএস কোড নির্ধারণ করে দেওয়ার পর ডিএমটিসিএল আমদানির এলসি খুলবে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯৮

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : ঈদযাত্রায় অনেক স্বপ্ন এবার বাড়ি নয়, কবরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঈদযাত্রা নিয়ে আয়োজিত সংস্থাটির প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদে ১১৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত হয়েছেন। যা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, করোনা না থাকার কারণে এবারের ঈদে বেশি মানুষের যাতায়াত হয়। রাজধানী থেকে ১ কোটি ২০ লাখ এবং ৪ কোটি মানুষ আন্তঃজেলায় যাতায়াত করেছে। এছাড়া এবারের ঈদে সবচেয়ে বেশি ভাড়া নৈরাজ্য হয়েছে এবং ৪ ঘণ্টার যাত্রা ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বাসের পাশাপাশি ঈদযাত্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল ও ৪০ লাখ ইজিবাইক রাস্তায় নামে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কারণে ঈদযাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বরাবরের মতো বেড়েছে।

তিনি জানান, সমিতির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৩ জুলাই থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯৮ জন নিহত এবং ৭৭৪ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ১০টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং ৩ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তথ্য মিলেছে। বিগত ৭ বছরের তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দুটোই সর্বোচ্চ।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




চট্টগ্রামে বাসের ধাক্কায় নিহত ছয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী সহ চালক নিহত হয়েছে। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে আরও আটজন আহত হয় বলে জানায় পুলিশ ।

সোমবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পটিয়ার কমল মুন্সীর হাটের অদূরে জলুয়ার দিঘীর পাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা যায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও একজন মহিলা। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চন্দনাইশ উপজেলা থেকে পটিয়ার দিকে আসছিল। কক্সবাজার থেকে নগর অভিমুখী একটি বাস পেছন থেকে অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। অটোরিকশার সব যাত্রীই মারা গেছেন। বাসের ৭-৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।’

পটিয়া ফায়ার স্টেশনের টিম লিডার প্রদীপ ত্রিপুরা বলেন, ‘বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। আমরা ঘটনাস্থলে এসে অটোরিকশা থেকে মরদেহ বের করেছি। 


আরও খবর