Logo
শিরোনাম

ঢাকায় ফিরছে মানুষ

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

ঈদের সরকারি ছুটির আজ শেষ দিন। এরই মধ্যে ঢাকায় ফেরার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে রাজধানীতে এখনো কর্মব্যস্ততা শুরু হয়নি। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা যেমন কম, তেমনি কম মানুষের চলাফেরাও।

সকাল থেকেই ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহন ছিল হাতে গোনা। রিকশাও খুব একটা চোখে পড়েনি। বেশির ভাগ দোকানপাটই ছিল বন্ধ। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। সিনেমা হলগুলোতে লাইন ধরে টিকিট কাটতে দেখা গেছে অনেককে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আসাদ। ঈদে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রংপুর গিয়েছিলেন তিনি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা স্বামীর অফিস রোববার থেকে খুলবে। এ ছাড়া দুই সন্তানের স্কুলও কাল থেকেই খুলছে। তাই ঈদের এক দিন পরই ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাল থেকেই আবার সবকিছু আগের মতোই চলবে। ছেলে-মেয়েদের স্কুল তো আর বাদ দেওয়া যাবে না

এদিকে রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে অনেকে। কমলাপুর রেলস্টেশনেও ঢাকামুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। তবে ঈদের পর রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া কিছুটা বেশি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ। পরিবহনের সংখ্যাও কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আজিমপুরের বটতলায় যেতে চেয়েছিলেন মো. আমিনুল হক। কিন্তু মিটারে যেতে চাননি কোনো চালক। শেষে কিছু টাকা বেশি দিয়েই অটোরিকশা ভাড়া নেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘ঈদের পর এই সময়ে ভাড়া একটু বেশিই দিতে হয়। এবারও আগের অবস্থাই আছে।

তবে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় আগামীকাল ও পরশু দিন আরও বাড়বে বলে মনে করেন আমিনুল। তিনি বলেন, এ কারণেই ঈদের এক দিন পরই ঢাকায় চলে এসেছেন। এ সময় ঢাকার ভেতরে যানজট কম থাকে বলেই তাঁর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া।


আরও খবর



নারায়ণগঞ্জে এক সঙ্গে তিন শিশুর জন্ম ; নাম রাখা হলো সপ্নের পদ্মা সেতু

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

 বুলবুল আহমেদ সোহেল ; নারায়ণগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জে এক দম্পতির একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্মের পর  স্বপ্ন, পদ্মা ও সেতু নাম রেখে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। হাসপাতালের চিকিৎসক বেনজির হক পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী মাসে তাদের জন্ম হওয়ায়

শখ করে "স্বপ্নের পদ্মা সেতু" এই বাক্যের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম স্বপ্ন আর মেয়েদের নাম যথাক্রমে পদ্মা ও সেতু রেখেছেন।

তিন সন্তানের জন্ম দেয়া প্রসূতি মা এনি বেগম বন্দর এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আশরাফুল ইসলাম অপুর স্ত্রী। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গেল নির্বাচনে ২৪ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে অংশগ্রহণ করেছিলেন অপু। প্রসূতি থাকা অবস্থায় এনি বেগম গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ব্যানজির হকের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা করান।শুক্রবার (১৭ জুন) সকালে শহরের বালুর মাঠ এলাকায় হেলথ রিসোর্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের মাধ্যমে তিন সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তিন নবজাতকের মধ্যে একটি ছেলে ও দুটি মেয়ে। ওই শিশুরা সুস্থ রয়েছে।

নবজাতকদের বাবা আশরাফুল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রী একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছে। এতে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। চিকিৎসক শখ করে পদ্মা সেতুর নামের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম স্বপ্ন আর মেয়েদের নাম যথাক্রমে পদ্মা ও সেতু রেখেছেন। তিনি তার তিন সন্তানদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, তাদের যেন মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।   

হাসপাতালের চিকিৎসক বেনজির হক পান্না জানান, শুক্রবার সিজারে এই তিন সন্তানের জন্ম হয়। মা ও নবজাতকরা সকলেই সুস্থ আছে। এই মাসে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে, এ মাসেই আমার হাতে সফল অস্ত্রপাচারে একসঙ্গে তিনটি সুস্থ  সন্তানের জন্ম হয়েছে। বিষয়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিন সন্তানের বাবা মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের আপত্তি না থাকায় 

আমি তাদের তিন ভাই বোনের নাম স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সঙ্গে মিল রেখে স্বপ্ন, পদ্মা ও সেতু রেখেছি। 


আরও খবর



নারায়ণগঞ্জের হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ; নারায়ণগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জ নগরের  চাষাঢ়ার হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য প্রসূতি রোগীকে অকারণেই জরুরী অজুহাতে সিজার করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছ। সিজারের পর চুক্তির দ্বীগুন টাকা বিল ধরিয়ে দিয়ে টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত আটকে রাখাহয় রোগীকে। রোগীর অভিভাবক প্রায় তিনঘন্টা দেন দরবার করে চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করে রোগীর ছাড়পত্র হাতে পান।  বুধবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে নগরীতে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হায়দার আলী সুমন জানান, শহরের চাষাঢ়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসেন স্যার সলিমউল্লাহ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড মিটফোর্ড হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. পারুল আক্তার। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে তার তত্ত্বাবধানে ছিলেন তার স্ত্রী নীলিমা। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও গত রোববার (১৯ জুন) সিজার করতে হবে বলে চাষঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় অবস্থিত হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে নীলিমাকে ভর্তি কারতে বলেন ডাক্তার। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতালের লোকজন ডা. পারুলের সাথে আলাপ করে ১৫ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে বলেন। অগ্রীম টাকা দেওয়ার পর তার স্ত্রীকে ইনজেকশন দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ডা. পারুল ঢাকায় এক মিটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তিনি অপারেশন করতে পারবেন না। অন্য ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করানো হবে। অপারেশনের আগে বলেছিলেন, টাকা-পয়সা নিয়ে কোন টেনশন করতে হবে না, সব পারুল ম্যাডাম বুঝবেন।

বুধবার দুপুর বারোটায় স্ত্রী ও নবাগত মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র চাইলে হাসপাতাল থেকে ওষুধের খরচ ছাড়াও ৫৪ হাজার ৮০০ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়। আর অ্যাডভান্স ১৫ হাজার টাকাও বিলে ওঠানো হয়নি। পুরো টাকা পরিশোধে করে ছাড়পত্র নিতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

সুমন এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডাঃ পারুলের সঙ্গে ঔষধসহ সব কিছু মিলিয়ে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল বলে জানান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বলেন ডাঃ পারুলের সঙ্গে কথা বলে চুক্তিনুযায়ীই এ বিল ধরা হয়েছে। এসময় ডাঃ পারুলের সঙ্গে যোগাযোগ কররা চেষ্টা করলে তার ও অ্যাসিসটেন্ট দুজনেরই মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। 

পরে এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে প্রায় তিন চার ঘন্টা দর কষাকষি করে ৩৫ হাজার টাকা বিল পরিশোধের সমঝোতা হয়। পরে চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিকেল চারটার দিকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন সুমন। 

হেলথ রিসোর্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আব্দুল মান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ডা. পারুল আক্তারেরই অপারেশন করার কথা ছিল। তিনি রোগীকে পাঠিয়েও সময়মতো আসতে পারেননি। পরে আরেকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানো হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিলের বিষয়টি ডা. পারুলের সাথে রোগীর লোকজন আগেই চুক্তি করেন। সে অনুযায়ীই বিল করা হয়েছ বলে রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগের কথাটি এড়িয়ে যান। 

কৌশলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের এ অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগর জুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। সচেতন মহলের দাবি, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ঔদাসিনতায় আনাচে কানাচে নামে বেনামে অবৈধ হাসপতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছ। বৈধগুলোর মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক রোগীদের অনেক হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগী যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। সে কারণেই সেবা নিতে গিয়ে মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে।  


আরও খবর



পাহাড়ি ঢলের পানিতে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধার

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

শেরপুর জেলা  প্রতি‌নি‌ধি ঃ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পানিতে আটকে পড়া ছয়টি পরিবারের ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুন) বিকাল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত এ উদ্ধার তৎপরতায় নেতৃত্ব দেন উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আল মাসুদ। উদ্ধার কাজে অংশ নেন ঝিনাইগাতী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা, জনপ্রতিনিধি, স্কাউট সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাত থেকে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদীর পানি উপচে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের ঝিনাইগাতী, রামেরকুড়া, খৈলকুড়া, বনকালি, চতল ও আহম্মদ নগর; ধানশাইল ইউনিয়নের ধানশাইল, বাগেরভিটা, কান্দুলী, বিলাসপুর ও মাদারপুর এবং কাংশা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর চরণতলা, আয়নাপুর, কাংশা গ্রামসহ ৩০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। 

ঝিনাইগাতী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদৎ হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রামেরকুড়া এলাকায় মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে সকাল থেকে পানি প্রবেশ করে। হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করা ছয়টি পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। ওই পরিবারগুলোতে বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, শিশুসহ ২৬জন ছিল। দিনভর পানিতে আটকে থাকায় এবং পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই পরিবারগুলো অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এমন পরিস্থিতে খবর পেয়ে ইউএনও ফারুক আল মাসুদ ঘটনাস্থলে আসেন এবং তার নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা, জনপ্রতিনিধি, স্কাউট সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা ওই পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন। 

এছাড়া দিনব্যাপী প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন এবং খোঁজ-খবর নেন ইউএনও ফারুক আল মাসুদ, উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক, প্রকল্প বাস্তবান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাধা বল্লভ সরকার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন, সদস্য মো. জাহিদুল হক মনির প্রমুখ।

বৈরাগীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমান (৬০) বলেন, আমার বাড়ির সবাই বেড়াইতে যাওয়ায় আমি বাড়িতে একাই ছিলাম। ভোরে হঠাৎ বন্যার পানিতে আমি আটকা পড়ি; ঘরের খাটও পানিতে ডুবে ছিল। সন্ধ্যার আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কাউট সদস্য আশিক ও স্বেচ্ছাসেবী সোহান আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তাদের জন্য আমি হয়ত রেহাই পাইছি।

রামেরকুড়া এলাকার আক্কাস আলী বলেন, বন্যার পানিতে আমরা খুবই বিপদে পড়েছিলাম। পানির স্রোতে মনে হচ্ছিল আমার বাড়ি ভেঙে নিয়ে যাবে। এছাড়া খাবারের অভাবে আমার নাতনি চিৎকার করতে ছিল। বিকালে নাতনিসহ আমাদের সবাইকে ফায়ার সদস্যরা উদ্ধার করেন।

ঝিনাইগাতী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য মান্নান বলেন, ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যার পানিতে আটকে পরিবার গুলোকে জনপ্রতিনিধিসহ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরানোর কাজ করা হয়েছে। আমাদের কাজে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন, সদস্য মো. জাহিদুল হক মনির ব্যাপক সহযোগিতা করেছে।

ইউএনও ফারুক আল মাসুদ বলেন, কিছু পরিবার পানিতে আটকে পড়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।


আরও খবর



পদ্মা সেতুতে বসবে সিসি ক্যামেরা ও স্পিডগান মেশিন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সাময়িক। সেতুতে স্পিডগান মেশিন ও সিসি ক্যামেরা বসানোর পরই মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

কবে থেকে মোটরসাইকেল চলবে, তা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সচিবালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিমুলিয়ার মাঝিকান্দি রুটে ফেরি চলাচল বন্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। যানবাহনের চাহিদা যদি থাকে ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকবে। শিমুলিয়া ঘাটে এখন ছয়টি ফেরি আছে। যদি চাহিদা না থাকে কোনো ফেরি থাকবে না।

পদ্মা সেতুতে নাট খুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসচেতন ও দেশবিরোধী নেতৃত্বের কারণে খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ সেতু ভেঙে পড়বে। ওই বক্তব্যের ফলে তার কিছু অনুসারী এ নাট খুলে ফেলেন।


আরও খবর



কু‌মিল্লা চৌদ্দগ্রামে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কু‌মিল্লা জেলা প্রতিনিধি ঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে শুক্কুর আলী(৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী ও ছেলে শাহিনকে হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ার ভুঁইয়া বাড়িতে। বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা। 

স্থানীয় আক্তার হো‌সেন ও পু‌লিশ জানায়, খোদেজা আক্তার শিল্পীর বাবার বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার মঠবাড়িয়ায় এবং স্বামী শুক্কুর আলীর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। প্রায় ২০ বছর আগে তারা জায়গা ক্রয় করে গজারিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করে। তাদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় সময় পারিবারিক কলহ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া ও মারামারি লেগে থাকতো। রোববার দুপুরে হঠাৎ করে তাদের ঘরে চিৎকার শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। এ সময় খোদেজা আক্তার শিল্পী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী তাদের টয়লেটে গিয়ে গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় এলাকাবাসী শিল্পীকে আটক করে কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেয়। খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ উদ্ধার শেষে থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের শ্বশুড়ি আয়েশা বেগম বলেন, শুক্কুর আলী অনেকটা মানসিকভাবে অসুস্থ্য ছিলেন। আমি দুইদিন আগে তার বাড়িতে আসলে সে আমাকে দেখে ভয় পায় এবং অসলগ্ন কথাবার্তা বলে। আমি রোববার সকালে পাশ^বর্তী লক্ষীপুরে আমার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাই। পরবর্তীতে আমার মেয়ে খোদেজা আক্তার শিল্পী খবর পাঠিয়ে বলে-শুক্কুর আলী ব্রেইন স্ট্রক করেছে। আমি এসে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাই। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন বলেন, শুক্কুর আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। স্থানীয়রা আমাকে জানায়-প্রায় সময় তাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া লেগে থাকতো। আমি মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তার স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী আমাকে বলে-সেভ করতে গিয়ে বেলেটে গলা কেটে শুক্কুর আলীর মৃত্যু হয়েছে।  

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুক্কুর আলী রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী, ছেলে শাহীন ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে শুক্কুর আলীর মৃত্যু সম্পর্কে তথ্য নেয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে-শুক্কুর আলী কি আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যা করা হয়েছে। এজন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পী ও ছেলে শাহিনকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে’।


আরও খবর