Logo
শিরোনাম

এভারেস্ট চূড়ায় আরেক বাংলাদেশি

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

চট্টগ্রামের বাবর আলী পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন। রবিবার (১৯ মে) নেপাল সময় সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি চূড়ায় পৌঁছান। সংবাদমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন এ অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান।

বাবর আলী হিমালয়ের শীতিধার চূড়া জয়ের জন্য রওনা হয়েছিলেন ১ এপ্রিল। চূড়াটি পর্বতের ১৫ হাজার ৫০০ ফুট ওপরে। সকাল সাড়ে ৮টায় সেখানে তিনি বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান।

দুই বছর আগে হিমালয়ের ২২ হাজার ৩৪৯ ফুট উচ্চতার আমা দাবলাম চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন চট্টগ্রামের এই তরুণ। মাউন্ট এভারেস্ট জয় করতে চলতি বছরের ১ এপ্রিল নেপালের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বাবর।

পর্বতারোহণের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নানা সরঞ্জাম কেনার কাজ শেষ করে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে লুকলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সপ্তাহ খানেকের ট্রেকিং শেষে পৌঁছান এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে। মূল অভিযান শুরু হয় এখান থেকেই। পর্বতের চূড়ায় উঠতে সময় লাগে দুই মাসের মতো।

বাবর আলী আগে চার বাংলাদেশির পা পড়েছে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায়। এর মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১০ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন মুসা ইব্রাহীম। এক বছর পর ২০১১ সালে দ্বিতীয় এভারেস্ট বিজয়ী হিসেবে নাম লেখান এম এ মুহিত। পরের বছর ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্টে আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই বছর সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে পা রাখেন আরেক বাংলাদেশি নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন।

প্রসঙ্গত, বাবর আলী পেশায় চিকিৎসক হলেও তার ধ্যানজ্ঞান পর্বতারোহণ। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের একমাত্র পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি।


আরও খবর



ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ৩০ কি.মি. যানজট

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে রিপোর্ট:


ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। 


উত্তরের পথে আজ শুক্রবার সকালে যানবাহনের ধীরগতি থাকলেও দুপুরের পর গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ার প্রায় ৩০ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। 




এদিন দুপুরের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। গণপরিবহণ ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, মোটর সাইকেল, এমনকি গাড়ির ছাদেও চড়ে হলেও স্বজনদের কাছে ফিরছে মানুষ। 



এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে টাঙ্গাইল নগর জলফৈ বাইপাস পর্যন্ত কালিহাতী অংশের প্রায় ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রীদের মতে, কিছু যানবাহন বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করায় এই যানজট আরও ভয়াবহ হয়েছে। 



ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সকাল ৮ টার সময় রওনা হয়ে ৭ ঘন্টারও বেশি সময় পর কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা-ভূঞাপুর লিংক রোডে পৌছেছেন লালমনিরহাটের আমেনা আক্তার। বাড়ি পৌঁছাতে কতক্ষণ লাগবে সেই অনিশ্চয়তা ফুটে উঠেছে তার চোখে-মুখে। 


তার অভিযোগ, রাস্তায় পানিসহ সব ধরণের খাবারের দাম কয়েকগুন বেশি রাখা হচ্ছে।


এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মীর সাজেদুর রহমান বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে হটাৎ করে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।


 দুপুরের পর এই চাপ আরও বেড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ আরও বাড়তে পরে।  গুরুত্বপূর্ণ  বিভিন্ন পয়েন্টে এবং মোড়ে মোড়ে হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



বেনজীর-আজিজ আওয়ামী লীগের লোক না: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

বিডি টু ডে ডিজিটাল ডেস্ক:



সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ আওয়ামী লীগের কেউ নন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 


ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস এবং ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি, বেনজীর আমাদের দলের লোক নয়। সিনিয়রিটি মেধা নিয়ে সে আইজিপি হয়েছে।


 আজিজও আমাদের দলের লোক নয়। সেনাপ্রধান হয়েছে তার যোগ্যতায়, তার সিনিয়রিটি নিয়ে। আমরা তাদের বানাইনি।



তিনি আরও বলেন, এখন ভেতরে তারা যদি কোনো অপকর্ম করে, এটা যখন সরকারের কাছে বিষয়টি আসে, তখন এদের বিচার করার সৎ সাহস শেখ হাসিনা সরকারের আছে।


বিএনপি দুর্বৃত্তের জন্মদাতা উল্লেখ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনাদের  সময় কেউ শাস্তি পায়নি। আপনাদের দলের নেতা নিজেই দুর্নীতিবাজ। আমরা সিঙ্গাপুর থেকে তারেক-কোকোর পাচার করা অর্থের একটা অংশ আনতে পেরেছি। 


এফবিআই ঢাকায় এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে তারেকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সেই তারেককে ভালো মানুষ সাজাতে এসেছেন!



ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে টিআইবি একটা আছে, সুজন আছে। সুজন না দুর্জন জানি না। ফখরুল-গয়েশ্বর যে সুরে কথা বলে, তারাও একই সুরে কথা বলে। মানুষের প্রশ্ন টিআইবি আর সুজন কি বিএনপির বি-টিম? যেভাবে কথা বলে, কোনো পার্থক্য নাই; একই সুরে কথা বলে—সরকারের বিরুদ্ধে।






আরও খবর



মিয়ানমার যদি আক্রমণে আসে আমরা কি বসে থাকবো? ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে ডিজিটাল ডেস্ক:


মিয়ানমার ইস্যুতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা এখনো কোনো আক্রমণ দেখিনি।


 যদি সত্যিই আক্রমণে আসে, তখন কী আমরা বসে থাকবো? আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।


তিনি বলেন, তাদের অভ্যন্তরীণ ৫৪টি গোষ্ঠী আছে। ওদের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যা। আমরা সীমান্তে আছি, গুলি এসে লাগতে পারে, গুলির আওয়াজ আসতে পারে। তাদের নৃতাত্ত্বিক বিদ্রোহীরা আছে। তাদের থেকেই এসব ঘটনা ঘটছে। 



সেটার জন্য কেন মিয়ানমার সরকারকে দায় দেবো? যতদিন সম্ভব শেষ পর্যন্ত আমরা আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে চেষ্টা করবো। 



সেন্টমার্টিন ইস্যুতে সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি নিয়েছে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলের একটা ভাষা আছে, সরকারি দলের সিদ্ধান্ত তারা নতজানু আখ্যায়িত করে। কিন্তু কীভাবে নতজানু, সেটা একটু ব্যাখ্যা করে দিক না। সেন্টমার্টিনে যে গুলিটা এসেছে, সেটা মিয়ানমার সরকার করেনি। এটা আরাকান আর্মি নামের যে বিদ্রোহীরা আছে, তাদের গুলি।


তিনি আরও বলেন, সেখানে যে জাহাজের কথা বলা হয়, সে জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২৫ আগস্ট যখন রোহিঙ্গারা স্রোতের মতো বাংলাদেশে ঢুকেছিল, তখনও অনেকে উসকানি দিয়েছিল। আমাদের আকাশসীমা কখনো-কখনো অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। 



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ওয়াশিংটনে। তখন সমস্ত বাহিনী প্রধানদের তিনি ফোন করে নির্দেশ দিতেন যে কোনো অবস্থাতেই আমরা যেন যুদ্ধে না যাই। মিয়ানমার উসকানি দিলে আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবো। একটা সমাধান বের করবো। যুদ্ধে জড়াবো না।


সারা দেশে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের জন্য সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক ইদানিং যে দুর্ঘটনা ঘটছে সেখানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। দেখা গেছে মোটরসাইকেলে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এরপর ইজিবাইক। বেপরোয়া ড্রাইভিংও আছে। এটাকে বাদ দেয়ার উপায় নেই।


তিনি বলেন, সচিবকে বলবো দ্রুত নীতিমালা করার জন্য। সারা দেশে লাখ লাখ তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেলের জন্য শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। সেজন্য নীতিমালাটা জরুরি। মানুষের জীবন আগে জীবিকা পরে। জীবিকা রক্ষা করতে গিয়ে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে।


সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, সড়কে ঈদযাত্রা অনেকটা ভালো হয়েছে। কিন্তু ফিরতি পথের বিষয়টি এখনো রয়েছে। এদিকে অনেকটা নজর কম থাকে, তাই দুর্ঘটনাও ঘটে অনেক সময়। তাই ফিরতি পথটাও এখন দেখতে হবে।


আরও খবর



নিম্নচাপে পরিণত সাগরের লঘুচাপ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। শুক্রবার (২৪ মে) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ অবস্থায় সব সমুদ্রবন্দরে তোলা হয়েছে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

নিম্নচাপটি শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে শনিবার। তখন এর নাম হবে রিমাল, নামটি ওমানের দেওয়া।


আরও খবর



লেগুনা থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

যানজটের হাত থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ বেতার রাজস্ব ভবনের পাশ দিয়ে শহীদ শাহাবুদ্দিন রোড থেকে শুরু করে কামাল সরণি হয়ে মিরপুর- নম্বর পর্যন্ত তৈরি করা হয় ৬০ ফিট সড়ক রোডটিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা লেগুনা আর এই লেগুনা থেকে লাইন খরচের নামে বছরে প্রায় সাড়ে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে স্থানীয় একটি চক্র 

সরজমিন দেখা যায়, বাংলাদেশ বেতার জাতীয় রাজস্ব ভবনের পাশে গড়ে উঠেছে অলিখিত লেগুনা স্ট্যান্ড। সিরিয়ালে একের পর এক লেগুনা এসে থামছে। যাত্রীবোঝাই করে আবারো যে যার গন্তব্যে ছুটছে। মিরপুর- নম্বর বড়বাগ এলাকারও একই অবস্থা। মিরপুর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচলকারী এসব লেগুনাগুলোর সামনের গ্লাসে লাগানো রয়েছে ডিজিটাল সিটি পরিবহনের ব্যানার। আর যেই লেগুনাগুলো মিরপুর- নম্বরের বড়বাগ এলাকা থেকে ছেড়ে এসে ৬০ ফিট হয়ে ফার্মগেট যাচ্ছে সেগুলোতে সাঁটা রয়েছে ঢাকা-ইন্দিরা পরিবহনের স্টিকার। মো. সুমন মিয়া নামে এক লেগুনাচালক বলেন, ডিজিটাল পরিবহনের ব্যানারে এই রোডে অন্তত পঞ্চাশটি লেগুনা চলে। আর ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলে দেড়শ মতো লেগুনা

সবমিলে ৬০ ফিট রোডে প্রতিদিন দুই শতাধিক লেগুনা চলাচল করে এর প্রতিটিকেই রোড খরচ হিসেবে লাইনম্যানদের টাকা দিতে হয় তিনি বলেন, ডিজিটাল সিটির ব্যানারে চলা লেগুনাগুলোকে দিনপ্রতি মোট ৬৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয় তিন ধাপে এই টাকা তোলা হয় মিরপুরের মাথায় ৫শ’, মাঝে পাবনা গলি এলাকায় ১শআর বেতারের মোড়ে ৫০ কারা এই চাঁদার টাকা তোলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেতার মোড়ে ডিজিটাল পরিবহনের ব্যানারে চলা লেগুনা থেকে টাকা তোলেন লাইনম্যান বাবু ছাড়াও শাহজাহান, সবুজ, আলমগীর, মনির, চন্নুসহ আরও অনেকেই এসব চাঁদা আদায় করে কোনো কোনো গাড়ির লাইন খরচ মহাজন (গাড়ির মালিক) দিয়ে দেন কোনো গাড়ির রাস্তার খরচ আবার চালকের কাছ থেকেও নেয়া হয় আর এই টাকা না দিয়ে কেউ রাস্তায় গাড়ি নামাতে পারবে না


শেরে বাংলা নগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িও এই রাস্তায় চলে তাকেও চাঁদার টাকা দিতে হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মগেটগামী এক লেগুনার চালক বলেন, আজকে আমরা কথা বললে কাল থেকে আর আমাদের রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না কাজ থাকবে না না খেয়ে মরবে আমার পরিবারের সদস্যরা উল্টো নির্যাতন করা হবে মো. সজীব নামে ফার্মগেটগামী এক লেগুনা চালক বলেন, মিরপুর- বড়বাগ থেকে ফার্মগেটগামী ঢাকা-ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলাচলকারী লেগুনাগুলোকে সময়ভেদে দিনে থেকে ৯শটাকা চাঁদা দিতে হয় ফার্মগেট এলাকার দেলোয়ার হোসেন চুন্নু মিয়ার হয়ে লাইনম্যানরা এই চাঁদার টাকা ওঠায় অপ্রাপ্ত বয়সী এসব চালককে কখনো পুলিশ ধরে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই চাঁদার টাকা থানা থেকে নেতা সবার পকেটেই যায় তাই গাড়ির সামনে লাগানো স্টিকার দেখে কেউ গাড়ি আটকায় না চালকদের দেয়া তথ্য মতে, ডিজিটাল সিটি পরিবহনের ব্যানারে চলা ৫০টি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৬৫০ টাকা করে মোট ৩২ হাজার ৫শটাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে যা মাসে দাঁড়ায় লাখ ৭৫ হাজার টাকা বছরে কোটি ১৭ লাখ টাকা আর ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলা ১৫০টি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৮শটাকা করে মোট লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয় যা এক মাসে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ টাকা বছরে কোটি ৩২ লাখ টাকা এই একটি রাস্তা থেকে শুধুমাত্র লেগুনা থেকেই বছরে প্রায় কোটি ৪৯ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে 

 

বিষয়ে লাইনম্যান বাবু বলেন, আমি, শাহজাহান, সবুজ আমরা এই তিনজন প্রতিদিন মোস্তফা ভাইয়ের হয়ে টাকা তুলি। আমরা সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী। টাকা তোলার পরিবর্তে দিনপ্রতি ৬শটাকা করে পাই। বাকি সবকিছুই মোস্তফা মির্জা নিয়ন্ত্রণ করে। তার সঙ্গে আরও অনেকে আছেন। ছাপড়া মসজিদ এলাকায় তাদের অফিস আছে। তিনি সেখানেই বসেন। তবে এলাকাটিতে গিয়ে তার কথিত অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকার অনেক বাসিন্দা জানান, মোস্তফা বর্তমানে জেলে আছে। তবে নিজের নাম না বললেও মোস্তফার বোন পরিচয় দেয়া এক চা দোকানি বলেন, মোস্তফা ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি এসব কিছুই জানেন না। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের ২৮/ গ্লোব সেন্টারে অবস্থিত ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের অফিসে গিয়েও কাউকেই পাওয়া যায়নি।  

এদিকে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে লেগুনায় চলাচলকারী উত্তর পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, মাঝে মধ্যে দুই-এক টাকা কম দিতে চাইলোও নেয় না। হেল্পার-চালকেরা খুব খারাপ ব্যবহার করে। গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলে। কিন্তু চাঁদার টাকা ঠিকই দেয়। এই চাঁদা না দেয়া হলে আমাদের লেগুনা ভাড়া অনেক কমে আসতো। মিরপুর বড়বাগের বাসিন্দা মো. দুলাল জানান, এই লেগুনার জন্য প্রতিদিন জ্যাম লেগেই থাকে। রাস্তার ওপরই লেগুনাগুলো পার্ক করে রাখা হয়। যেখানে খুশি দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। কাউকেই যেন এরা তোয়াক্কা করে না। মনিপুরের বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার বলেন, ছেলেকে প্রতিদিন স্কুলে দিতে যাই। কী যে অবস্থা বলে বোঝানো যাবে না। সড়কটিতে ঠিকমতো হাঁটারও উপায় নেই। রাস্তাটিতে নিয়মিত চলাচলকারী আমতলীর বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, এই রাস্তায় একমাত্র ভরসা লেগুনা। তবে লেগুনাতে উঠলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। যাত্রীর জন্য মোড়ে মোড়ে দাঁড়য়। সব চেয়ে বেশি অসুবিধা হয় সকাল বেলা। স্কুলগুলোর সামনে যেইভাবে লেগুনাগুলো দাঁড়িয়ে থাকে, তাতে অন্য গাড়ি আর পথ চলতে পারে না। দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়

বিষয় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহাদ আলী বলেছেন, মূলত  লেগুনা বা রাস্তার গাড়ি চলাচলের বিষয়টি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ দেখভাল করে। আর লেগুনা থেকে টাকা নেয়ার যেই বিষয় বা চাঁদার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। যদি আমরা তেমন অভিযোগ পাই, অবশ্যই তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো


আরও খবর

রাজধানী ঢাকা এখন ফাঁকা

মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪