Logo
শিরোনাম

গাজীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতার মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সদরুল আইন,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় ২০মিনিট অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে।

শনিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গাছা) আহসান হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাস্তা পারাপারের সময় ঢাকামুখি লেনে আজমেরি গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান এক যুবক। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় প্রায় ২০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতা বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। মহাসড়কের মাঝখানে রোড ডিভাইডার না থাকায় কয়েকমাস আগেও একই স্থানে এক স্কুল শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। 

আমরা বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে দ্রুত সড়কে ডিভাইডার স্থাপনের অনুরোধ করা হয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। ঘাতক বাসটিকে আটকের চেষ্টা চলছে। নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি টেলিসেবা স্থাপনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ কিছু এলাকায় দুর্যোগকালীন জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা স্থাপনে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। শনিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দুর্যোগকালীন জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবায় এবারই প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সেবা দিতে যাচ্ছে, যা এই স্যাটেলাইটের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। যদিও টেলিভিশন ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সেবায় স্যাটেলাইট সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ, ১২২ বছরের ইতিহাসে এমন বন্যা হয়নি সেখানে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

বন্যাদুর্গত সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় শুক্রবার থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।

বিএসসিএল জানায়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবের নির্দেশে ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ১২ সেট ভিস্যাট যন্ত্রপাতি দিয়েছে, যার মাধ্যমে জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা স্থাপন করা হবে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরকেও আরও ২৩ সেট ভিস্যাট যন্ত্রপাতি দেওয়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে আরো ২৩টি বন্যা উপদ্রুত এলাকায় জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা স্থাপন করা হবে। ‌

বিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি বন্যা উপদ্রুত এলাকায় নিয়োজিত সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ভিস্যাট যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে সক্ষম, যার মাধ্যমে বন্যাকবলিত আরো এলাকায় জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা স্থাপন করা যাবে। মোবাইল কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কাজেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভিস্যাট এর মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএসসিএল ইতোমধ্যে একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে, যেটি মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করবে।

শাহজাহান মাহমুদ জানান, বন্যাকবলিত নীলফামারীতেও কাল ভিস্যাট পাঠানো হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, আমাদের টেলিকম অপারেটরগুলো তিনটি করে টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছে বানভাসী মানুষদের জন্য।

প্রয়োজনে কল করুন :

গ্রামীণফোন- 01769177266, 01769177267, 01769177268

রবি- 01852788000, 01852798800, 01852804477

বাংলালিংক- 01987781144, 01993781144, 01995781144

টেলিটক- 01513918096, 01513918097, 01513918098


আরও খবর



নিমতলী ট্র্যাজেডি

পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরেনি এক যুগেও

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কেমিক্যাল বিস্ফোরণে নিমতলী ট্র্যাজেডির এক যুগেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি পুরান ঢাকায়। আজও বোমা গোডাউনেই বসবাস করছে পুরান ঢাকাবাসী। নিমতলী এলাকা থেকে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক জাতীয় কেমিক্যাল দোকান সরিয়ে নেওয়া হলেও তার এক কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য ‘বোমা গোডাউন’। অধিকাংশ গোডাউন আবাসিক ভবনগুলোতে।

নিমতলী ট্র্যাজেডির পর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সমন্বিত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা ১৭টি সুপারিশ পেশ করেছিলেন সরকারের কাছে। এরমধ্যে প্রথমেই ছিল বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়া, আবাসিক ভবনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধসহ ১৫টি সুপারিশ; যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর। ঘটনার এক যুগ অতিবাহিত হওয়ার পরও সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজনহারা ও ক্ষতিগ্রস্তরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির একজন বলেন, ‘ভয়াল ঘটনার এক যুগেরও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার নেপথ্যে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ও সরকারের স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ওই ঘটনার পর একই কারণে আরো দুটি অগ্নিকাণ্ড দেখতে হয়েছে পুরান ঢাকাবাসীকে।’

নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর কত প্রাণ গেলে সরকারের টনক নড়বে! ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে কেমিক্যাল গোডাউনগুলো হস্তান্তর হচ্ছে না। বরং বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে নানা রকম নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

সুপারিশ বাস্তবায়নে শুধু কি ক্ষমতাশালীদের প্রভাব না কি সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে- এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অলি আহমেদ খান বলেন, ‘ঘটনার এক যুগ পরও কেমিক্যাল গোডাউন হস্তান্তর না হওয়ার পেছনে সরকারের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এজন্য যেকোনো একটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব নিতে হবে। কেমিক্যালের কারণে নিমতলীর পর চকবাজেরর ঘটনাও আমাদের নাড়া দিয়েছিল।’

এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়া আগেই দ্রুত এসব কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউন হস্তান্তর করা দরকার বলে মনে করেন সাবেক এই কর্মকর্তা।

নিমতলী ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা য়ায়, নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের এক যুগ পরও বাতাসে ভাসছে পোড়া ও ক্ষতের গন্ধ। ওই ঘটনায় আগুনে পুড়ে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় শতাধিক মানুষ। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর নিমতলী থেকে কেমিক্যাল দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও পাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা; যা খোদ স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শহিদ মিয়ার বাড়ির নিচেই দেখা মেলে পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা। এ ছাড়া নিমতলী থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কেমিক্যাল গোডাউন। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন ‘বোমা গোডাউন’।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অ্যাটম বোমার ওপর বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার। রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ ও বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থের গোডাউন, কারখানা ও দোকানের ছড়াছড়ি পুরান ঢাকার একাংশ। বিশেষ করে ইসলামবাগ, ওয়াটার-হাজী বাল্লু রোড, কে বি রুদ্র রোড, হরনাথ ঘোষ রোড, গৌরী সুন্দর লেন, বকশীবাজার লেন, তাঁতীবাজার রোড, নাজিমুদ্দিন রোড, মনসুরবাগ, বাগচান খাঁ লেন, নিজামবাগ, জঙ্গলবাড়ী, নূরবাগ, দুখুরিয়া, মমিনবাগ, হুজুরপাড়া, মনেশ্বর রোড, লালবাগ রোড়, মৌলভীবাজার, আরমানীটোলা ও মিটফোর্ড এলাকায় রয়েছে কয়েক হাজার কেমিক্যাল গোডাউন। যার সিংহভাগই আবাসিক ভবনে। এর সততা মিলেছে খোদ ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের প্রতিবেদনেও।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালের শেষদিকে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আরমানীটোলা, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক ভবনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও দুই হাজার গোডাউন রয়েছে। সিটি করপোরেশনের তালিকায়ও উঠে আসে একই চিত্র।

সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, পুরান ঢাকায় প্রায় ১৯২৪টি কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে; যার ৯৮ শতাংশ আবাসিক ভবনে। তবে বেসরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে এর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের অধিক।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘আমরা বরাবরই পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরানো বিষয়ে সম্প্রতি কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে।’

কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিদাহ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল নদীর ওপার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ক্রেতা ও কয়েকজন কেমিক্যাল ব্যবসায়ী জানান, তারা পুরান ঢাকা থেকেই সব ধরনের কেমিক্যাল বিক্রি করে থাকেন। বিশেষ করে মিটফোর্ড, চকবাজার, আরমানীটোলা, ইসলামবাগের বিভিন্ন অলিগলির ভবনের এসব কেমিক্যাল গোডাউন। নাম প্রকাশ না করে এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের সব ক্রেতা পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক। এখানে ছোট-বড় অনেক কারখানা রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে গোডাউন করা হলেও এখানেই আমাদের ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না। এত ঘটনার পরও কোনো আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল সরানো হচ্ছে না! এমন প্রশ্নে ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই ব্যবসা যারা করেন, তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের। তাছাড়া এখানে বহু টাকার লেনদেন রয়েছে।’

নিমতলী ট্র্যাজেডির পর কেমিক্যাল গোডাউন স্থানান্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় কেরানীগঞ্জে ৫০ একর জায়গার ওপর ‘বিসিক কেমিক্যাল পল্লী ঢাকা’ নামে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। পরে ২০১৯ সালে সেটি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে ৩১০ একর জমিতে স্থানান্তর করা হয়। এ বছর এসব কেমিক্যাল গুদাম ও কারখানা স্থানান্তরের কথা থাকলেও প্রকল্প পরিচালক বলছেন, আরো এক বছর সময় লাগবে। বাস্তবে জমি ক্রয় ছাড়া এখনো কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি কেমিক্যাল পল্লীর। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রকল্প পরিচালক (বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের আবাসিক এলাকা থেকে হস্তান্তরের জন্য মুন্সীগঞ্জে ৩১০ একর জায়গা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ২০২৩ সালে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর সেখানে ব্যবসায়ীদের দোকান/গোডাউন বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

মামলা হয়নি, পায়নি আশানুরূপ ক্ষতিপূরণ : নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে নিহতের স্বজনদের দাবি, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন নিহতের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের মাথাপিছু ২০ লাখ টাকা করে দেওয়া কথা থাকলেও পরিবার প্রতি পেয়েছেন এক লাখ টাকা। যার পরিবারের ১১ জন মারা গেছে, তিনিও পেয়েছেন ১ লাখ টাকা। ভয়ংকর এ ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্বজনরা।

জানা যায়, সেসময়ে বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তারও কোনো হুদিস নেই পুলিশের কাছে। বংশাল থানার ওসি বলেন, ‘তখন কোনো জিডি হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই।’

এদিকে এ ঘটনায় নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘নিমতলী ট্র্যাজেডির প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি এবং সেসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনেক বাসিন্দাকে নির্যাতন ও নানাভাবে হয়রানি করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ ঘটনায় প্রভাবশালী নেতারা সুবিধা নিয়েছেন অথচ ভুক্তভোগীরা কিছুই পাননি।’

ক্ষতিগ্রস্তরা প্রশ্ন রেখে বলেন, কেমিক্যাল গোডাউন কার ছিল, কাদের জন্য আমাদের এত ক্ষতি, এত বড় ঘটনায় কেন মামলা হলো না? এসব প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে।



আরও খবর



লালমনিরহাটে মাইক্রোবাসে,১৭ কেজি গাঁজাসহ

কুড়িগ্রামের ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার করেছে র‍্যব

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি, লালমনিরহাট: 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যব-১৩) রংপুর,  লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কাকিনায় ১৭ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।সোমবার (৬ জুন) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর র‍্যব ১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমদ।

 রোববার (৫ জুন) রাতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কাকিনা কবি শেখ ফজলুল করিমের ফলকের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।আটককরা হলেন, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার ইকবাল হোসেন (৩৪), আজিমুল হক (৩৭), মুসা মিয়া (২২) ও সুমন মিয়া (১৫)।র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে কাকিনা কবি শেখ ফজলুল করিমের নাম ফলক এলাকায় অভিযান চালায় রংপুর র‍্যাব ১৩ এর একটি দল। এসময় সন্দেহজনকভাবে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাস আটক করে তল্লাশী চালানো হলে ১৭ কেজি গাঁজা জব্দ করে র‍্যাব। সেই সঙ্গে চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

মাইক্রোবাসটি জব্দ করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটকদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি


আরও খবর



প্রত্যাবাসন চায় রোহিঙ্গারা

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

দ্রুত প্রত্যাবাসনসহ ৭ দফা দাবিতে বাড়ি চলো ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। রবিবার (১৯) সকালে বিভিন্ন ক্যাম্পে সমাবেশ করে রোহিঙ্গারা৷ এ সময় তারা বাড়ি ফিরতে ৭টি দাবি উত্থাপন করেন।

উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১ ইস্টে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের নেতা ডা. জুবায়ের ও মাস্টার কামাল, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মাস্টার ইউসুফ ও নুরুল আমিন।

বক্তারা বলেন, তারা আর এক মুহূর্তও বাংলাদেশে থাকতে চান না। যেকোনো উপায়ে দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে হবে। মিয়ানমারে অন্য জাতিগুলোর জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা ও নিয়ম রয়েছে, সেগুলো রোহিঙ্গাদেরও দিতে হবে।

সমাবেশে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন মাস্টার নুরুল আমিন। এই দাবিগুলে হলো—দ্রুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করতে হবে, দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ গ্রামে পুনরায় প্রত্যাবাসন করা, অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট সময়ের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করা, রাখাইন রাজ্যে আইডিপি ক্যাম্প বন্ধ করা এবং তাদেরকে নিজ গ্রামে ফিরিয়ে দেওয়া, মিয়ানমারে নিরপরাধ ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।

লম্বাশিয়া ক্যাম্প ১ ইস্ট ছাড়াও মোচরা ক্যাম্প ৪, বালুখালী ৯, জামতলী ক্যাম্প ১৫ ও জাদিমুরা ক্যাম্প ২৭-সহ ১০টি ক্যাম্পে পৃথক পৃথক সমাবেশ হয় বলে জানা গেছে। নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যানারে এই আয়োজন করা হয়।


আরও খবর



কালীগঞ্জে ৫ পরিবারের লোকজনের বাড়ী থেকে বেড়ানোর রাস্তা বন্ধ

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

লালমনিরহাট কালীগঞ্জে ৫ পরিবারের লোকজনের বাড়ী থেকে বেড়ানোর রাস্তা বন্ধ করায় দেড় বছর যাবৎ গৃহ বন্দি আবেদন দিয়ে ও  উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের , ইউএনও আব্দুল মান্নান বিষয়টি দেখবেন মর্মে জানান। 

আবেদন সূত্রে জানা গেছে , সতীশ চন্দ্র লালমনিরহাট জেলা কালিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের গ্রামের আদি এবং স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি যে জায়গাটি তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়ি করে আছেন ওই দাগের জমি প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করেন তার কাছে বিক্রেতা জমির মালিক। তিনি যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেন উক্ত রাস্তাটি পরবর্তী ক্রেতা জলধর এর নামে দলিল হয়। সেখানে সরকারি একটি ঘর বরাদ্দ হলে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ঘরটি নির্মাণ না করে ফেরত আসে সরকারি কর্তৃপক্ষ। পরে জলধর কয়েকজনের শলাপরামর্শ হিটস পরিবার সহ পরিবারের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের রাস্তা টি বন্ধ করে দিলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে চলাচলের রাস্তা না পাওয়ায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সহকারী রাস্তা থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যে সরকারি সম্পত্তি রয়েছে তার মধ্য থেকে চলাচলের রাস্তার জন্য সরকারের নিকট বন্দোবস্তের আবেদন করেন। তাতে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচিত সাংসদ বর্তমান সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এর সুপারিশকৃত একটি আবেদন উপজেলা নির্বাহী নিকট জমা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহি অফিসার সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় উক্ত জমি দিয়ে চলাচলের রাস্তা দেয়ার জন্য সরেজমিনে যান এবং রাস্তা প্রদান করেন। কিন্তু তাতেও বাধা দেয় প্রতিবেশী আরো দুইজন। পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় চলাচলের রাস্তা ‌ বিগত ১০ বছর যাবৎ বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তা না পাওয়ায় বাজারের ভিতরে দিয়ে অন্যের উপর সরকারি রাস্তায় কোনরকমে উঠে তারা জীবন-যাপন করছেন মানবেতরভাবে। উল্লেখিত ইউএনও পদোন্নতি জনিত কারণে অন্যত্র চলে গেলে ওনার স্থলাভিষিক্ত হন বর্তমান ইউএনও আব্দুল মান্নান। তিনি কয়েক দফায় বর্তমান এসিলেন্ট কে দায়িত্ব দিলে সরেজমিনে তদন্ত জান  এবং রাস্তার বিষয়টি তদন্ত করে আসেন। এসিলেন্ট যেদিন ঘটনাস্থলে তদন্ত চান ঐদিন হাতীবান্ধা স্কুল এন্ড কলেজের কর্মরত শিক্ষক ওনার সঙ্গে অসৎ ব্যবহার করলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।পরে রহস্যজনক কারণে এ সংবাদ দেখা পর্যন্ত মানবতার জীবনযাপনকারী পরিবারের আবেদন নিয়ে আর কখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়নি। এর আগে একাধিকবার  আজ শনিবার মোবাইল ফোনে কোন আব্দুল মান্নান এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি জানেন কিন্তু স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেছেন মর্মে জানা ন। এদিকে এ বিষয়ে লালমনিহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর এর সাথে কথা হলে তিনি পুনরায় একটি আবেদন দেয়ার কথা বলেন।


আরও খবর