Logo
শিরোনাম

গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি... প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার আগামী বছর একটি নতুন জাতীয় পাঠ্যক্রম চালু করবে। বাংলাদেশি শিশুদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই পাঠ্যক্রমের লক্ষ্য।

২০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ মহাসচিবের শিক্ষা রূপান্তর সম্মেলনে প্রচারিত রেকর্ড বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের শিশুদের প্রকৃত বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আগামী বছর থেকে আমরা নতুন জাতীয় পাঠ্যক্রম প্রবর্তন করছি। নতুন এই পাঠ্যক্রম আমাদের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করবে।

তিনি বলেন, ‘এই পাঠ্যক্রম শিশুদের জলবায়ু সহিষ্ণু হতে সচেতন করবে এবং বাংলাদেশকে উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে তার ভিশন-২০৪১-এর প্রকৃত এজেন্টে পরিণত করবে।

উচ্চশিক্ষার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গবেষণা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কারিগরি শিক্ষার জন্য আমরা ভালো শিল্প সংযুক্তির পরিকল্পনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি শিশুদের দক্ষতা থাকবে, ফলে তারা বিশ্বের যেকোনো স্থানে কাজ করতে পারবে। আমাদের প্রয়োজন যোগ্যতার দ্বিপক্ষীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মৌলিক এবং আজীবন শিক্ষার প্রাপ্যতা উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বহু ভাষায় শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কয়েকটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পাঠ্যবই প্রণয়ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আমাদের দেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ শিশুকে তাদের ভাষায় শিক্ষাদান করছি 

শিক্ষা রূপান্তর সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলন কর্মক্ষেত্রে আগামীর পরিবর্তন সম্পর্কে চিন্তাভাবনার নতুন উপায় চিহ্নিত করবে।’

সূত্র : বাসস।


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




আসরের সেরা খেলোয়াড় সাবিনা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০22 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে বড় অবদান রেখেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে তিনিই সর্বোচ্চ গোলাদাতা। আবার আসরের সেরা খেলোয়ারও তিনি।

গতকালকের ফাইনালে গোল না পেলেও গোল করিয়েছেন তিনি। প্রায় প্রতি ম্যাচেই কোনো না কোনোভাবে দলে জয়ে অবদান রেখেছেন সাবিনা। ফাইনালের আগপর্যন্ত করেছেন ৮ গোল। যার মধ্যে দুটি হ্যাটট্রিক। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ে সাবিনার দুই গোল। পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের ৬-০ গোলে জয়ে সাবিনারই তিন গোল। ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ে সাবিনা গোল না পেলেও, সেমিফাইনালে ৮-০ গোলে ভূটানকে উড়িয়ে দেয়া ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করেন সাবিনা।


আরও খবর

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট

রবিবার ০২ অক্টোবর 2০২2

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২




কারাগারের পাখি বলে পরিচিত শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

শাহ আলম ইসলাম নিতুল  ঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক, সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবঃ সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক গভীর শোক জানিয়েছেন। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

বহু আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতা ১৯৫২ সালে নবম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তার ঠিকানা ছিল মূলত কারাগার।

বন্ধু মহলে কারাগারের পাখি বলে পরিচিত শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন  জীবনে অন্তত ২০ বছর জেল খেটেছেন।

ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন তখনকার পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তিনবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এদেশে অনেক প্রথিতযশা রাজনীতিক তৈরি করেছেন।

১৯৬৬ সালের ছয়দফা ও ১৯৬৯ সালের এগার দফার অন্যতম রূপকার শাহ মোয়াজ্জেম মহান মুক্তিযুদ্ধেরও অন্যতম সংগঠক। তিনি স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের জন্য ভারতীয় পার্লামেন্টে টানা আড়াই ঘণ্টা ভাষণ দেন। নিজ হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করা সে সময়ের জাতীয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রবীণ এই রাজনীতিক। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পার্লামেন্টে প্রথমবারের মতো চিফ হুইপ নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর দ্বিতীয়বারের মতো চিফ হুইপ নির্বাচিত হন তিনি।

বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মৃত্যুতে দেশ একজন গুনী রাজনীতিবিদ হারিয়েছে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নেতা মনে করেন বর্তমানে যে একদলীয় আধিপত্যবাদী শাসন চলছে এমন সময়ে তার মতো রাজনীতিবিদ এর প্রস্থান একটা শূণ্যতা সৃষ্টি করবে।


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




প্রতারণা, মোটা চাল কেটে ‘মিনিকেট’

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মোটা চাল কেটে ‘মিনিকেট’ নামে ব্র্যান্ডিং করে ‘বড় প্রতারণা’র ছকে শহুরে মানুষের পকেট কাটা বন্ধ হচ্ছেই না। বারবার বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলেও তা আমলে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় শিগগিরই মিনিকেট চালের বাজারজাত বন্ধে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, এই চালের যেহেতু কোনো ভ্যারাইটি নেই, তাই আমরা সুপারশপ এবং রাইস মিলগুলোতে চিঠি দেব, যাতে এর বাজারজাত বন্ধ করা হয়। এটা বন্ধের জন্য সময় দেওয়া হবে। পরবর্তীতে আমরা অভিযান শুরু করব।

এক সময় উচ্চ ফলনশীল চিকন জাতের চালের জন্য মিনি প্যাকেটে করে বীজ সংগ্রহ করা হতো। সেই মিনি প্যাক থেকে এসেছে মিনিকেট। এখন সরকারের সায় নিয়ে এই চাল বাজার থেকে তুলে নিতে মিলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্যপণ্যের উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও সুপার শপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্যাকেটজাত নিত্যপণ্যের মূল্য বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় সব কিছু ছাপিয়ে মিনিকেট প্রসঙ্গটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

একই দিন সচিবালয়ে আলাদা অনুষ্ঠানে ‘মিনিকেট’ নামে বাজারে প্রচলিত চালের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বাজার থেকে মিনিকেট চাল সরাতে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ তারা পেয়ে গেছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে যারা ধান গবেষণায় যুক্ত, তারা জানিয়েছেন, মিনিকেট নামে চালের কোনো ভ্যারাইটি নেই। এটি একটি প্রতারণার ছক। এর ব্র্যান্ডিং করে মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে মিনিকেট চালের বাজারজাতকরণ বন্ধের জন্য ভোক্তা অধিকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সচিবালয়ে “মিনিকেটের উৎপত্তি সম্পর্কে মানুষ যদি জানত, তাহলে মিনিকেট চাল খুঁজতে যেতে না। এক সময় আমরা উচ্চ ফলনশীল চিকন জাতের চালের জন্য মিনি প্যাকেটে করে কিছু বীজ সংগ্রহ করি। সেই মিনি প্যাক থেকে এসেছে মিনিকেট। এই হলো মিনিকেটের ইতিহাস। এটা অনেকবার বলা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার মিনেকেট নামটা উচ্ছেদ করার জন্য মোবাইল কোর্ট চালাতে পারে। আমরা একটা আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য দিয়েছি। খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। এখন সেটা ভেটিংয়ের অপেক্ষায় আছে। ব্র্যান্ড যেটাই হোক, বস্তার গায়ে অবশ্যই ধানের জাতের কথা উল্লেখ করতে হবে। 

এদিকে, সুপার শপে খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন পণ্য মোড়কীকরণ করে বিক্রি করতে গিয়ে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও ভোক্তা অধিকারের ভাষ্য। তবে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া সুপার শপ প্রতিনিধিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 ভোক্তার মহাপরিচালক বলেন, খোলা বাজারে যে চাল ১২০ টাকা বিক্রি হয়, সেটা কিন্তু তিন হাতের লভ্যাংশ দেওয়ার পরই বিক্রি হয়। আপনারা এর সঙ্গে হয়তো একটা প্যাকেট যোগ করেছেন। সেজন্য খরচ হয়তো ৫ টাকা বাড়তে পারে। কিন্তু সেজন্য আপনি ৩০ টাকা লাভ করে বসতে পারেন না। তাছাড়া আজকের বাজারের সঙ্গে মেলালে আপনার হবে না। কারণ আপনি ধানটা কবে কিনে রেখেছিলেন, সেটা স্মরণ করেন। দিনাজপুরে ধানের মজুদের একটা ঘটনা ঘটেছে। সেটা নিয়ে আমি বলতে চাই না। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এভাবে মজুদ করে, আর বাজারের সঙ্গে তুলনা দেয়, তাহলে তো হবে না।


আরও খবর

লিটারে ১৪ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




ওমরাহ পালনে ৯০ দিনের বেশি থাকা যাবে সৌদিতে

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

এখন থেকে সৌদি আরবে ৯০ দিনের বেশি সময় অবস্থান করতে পারবেন বিদেশি ওমরাহ-যাত্রীরা। সৌদির হজ ও ওমরাহ-বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অবস্থানের পাশাপাশি তারা দেশটির যেকোনো শহরে বাধাহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারবেন এবং নিজ দেশে ফেরার সময় সৌদির যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন।

এখন থেকে বিদেশি ওমরাহ-যাত্রীরা তাদের ওমরাহ ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে ৯০ দিনেরও বেশি সময় সৌদিতে অবস্থান করতে পারবেন এবং মক্কা-মদিনাসহ যেকোনো শহরে ঘুরতে যেতে পারবেন। কোনো ধরনের আইনগত বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হবে না বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সৌদি সরকারের অনুমোদিত যেকোনো ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে সহজেই ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

 তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়, যারা সরকারের অনুমোদিত যেকোনো করোনা টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন, কেবল তারাই হজ ও ওমরাহ করতে পারবেন। এ বছর হজ ও ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক বিদেশিযাত্রীদের জন্য সীমান্ত খোলার ঘোষণা দেয় সৌদি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব বিদেশিযাত্রী করোনা টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন কেবল তাদেরই স্বাগত জানাবে সৌদি আরব।



আরও খবর

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




পাসপোর্ট সঙ্কটে ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ |
Image

 পাসপোর্টে ভুল দুরকম হয়। প্রথমত, আবেদনপত্রে গ্রাহকের ভুল। দ্বিতীয়ত, গ্রাহক ঠিক থাকলেও অফিসের ভুল। ভুল যে কারণেই হোক, দায়ভার চাপানো হয় গ্রাহকের ওপর। টাকা গচ্চা যায় গ্রাহকেরই। পাসপোর্ট অফিসের ভুলের দায় অফিস নিচ্ছে না।

এতে ভোগান্তির শিকার এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে অনেককেই। রাজধানীর আগারগাঁওসহ দেশের প্রতিটি পাসপোর্ট অফিসেই এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে আবেদনকারী বা গ্রাহককেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতের লেখার যুগ, এমআরপির যুগ পেরিয়ে বর্তমানে ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করলেও ভুল থেকেই যাচ্ছে। গ্রাহকের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, নতুন পাসপোর্ট করতেও যত লাগে, ভুল সংশোধন করতেও ততই লাগে। এক পয়সাও কম নেয়া হয় না। কোন দেশেই এমন নিয়ম নেই। সবচেয়ে বেশি ভুল হয় আগের পাসপোর্ট ও এনআইডির মধ্যে মিল না থাকায়। নতুন নিয়মে পুরনো পাসপোর্টে বিদ্যমান নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম এবং জন্ম তারিখ পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর এ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে এখানে।

অনেকেরই দেখা যাচ্ছে, পুরনো পাসপোর্টের নামের সঙ্গে এনআইডির নাম মিলছে না। জন্ম তারিখের তারতম্য ঘটছে। তখন এনআইডি অনুযায়ী পাসপোর্টের নাম সংশোধন না করে বলা হচ্ছে, এনআইডি সংশোধন করার জন্য। এনআইডি সংশোধন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পাড়তে হচ্ছে গ্রাহককে। আবার এনআইডি সংশোধন করে আনার পরও সেটা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সংশোধিত এনআইডির পরিচয়পত্র আকারে কপি চাওয়া হচ্ছে। অথচ, সার্ভারে কিন্তু এনআইডি সংশোধিত আকারে আছে। আবার এসব সংশোধন করতে গিয়ে এতসব কাগজপত্র জোগাড় করতে বলা হচ্ছে যে, সেসব জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কাগজ জোগাড় করতে আদালত পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। এর একটা সুরাহা হওয়া উচিত। এনআইডি থাকার পর এত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা পুনরায় বিবেচনা করা দরকার। পাসপোর্ট পেতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় সাধারণ মানুষ। অথচ, তারাই দুর্ভোগের শিকার হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশে গিয়ে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছে। তাই এই সাধারণ মানুষের পাসপোর্টপ্রাপ্তি সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার জন্য আলাদা সেল করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকে।

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর এ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। জন্ম তারিখ সংশোধন করার জন্য ভোটার আইডি কার্ড, এসএসসির সার্টিফিকেট অথবা জেএসসির সার্টিফিকেট, ভোটার আইডি কার্ডের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে থাকলে অনলাইন কপি, বিবাহিত হলে নিকাহনামা- এগুলো প্রয়োজন হবে পাসপোর্টের জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য। আর জন্ম তারিখ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত হলে সংশোধন করতে পারবেন। পাসপোর্টে বাবা-মায়ের নাম সংশোধন করার জন্য ভোটার আইডি কার্ড, এইচএসসি অথবা এসএসসির সার্টিফিকেট, বাবা-মায়ের ভোটার আইডি কার্ডের কপি লাগবে।

পাসপোর্টের মধ্যে কেউ যদি পেশা পরিবর্তন করতে চান, তবে দিতে হবে কর্মক্ষেত্রের প্রত্যয়নপত্র। আর এর সঙ্গে জমা দিতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের ফটোকপি। কেউ যদি স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান, সে ক্ষেত্রে আবার নতুন করে পুলিশ প্রতিবেদন লাগবে। তবে, বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য বা সংশোধনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোন নিয়ম নেই। যদি বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন করতে চান, তাহলে পাসপোর্টের আবেদনপত্রের সঙ্গে নিকাহনামা দিতে হবে।

ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রথমেই ব্রাউজার ওপেন করে সার্চ করে পাসপোর্ট সংশোধন ফর্ম বা পাসপোর্ট সংশোধন-সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনটি লিখে সার্চ করার পর প্রথমে যে ওয়েবসাইট আসবে, ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে পাসপোর্ট সংশোধন ফর্ম ডাউনলোড করে নিতে হয়। এই ফর্মটির সবকিছু সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়। তারপর পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন ফর্মের এই বক্সের মধ্যে যেই ব্যাংকে জমা দেয়া হবে, সেই ব্যাংক থেকে একটি চালান বা রিসিট নিয়ে এবং এখানে ফি তথ্য বসাতে হয়। তারপর এই আবেদন ফর্ম এবং অন্যান্য সব ডকুমেন্ট একসঙ্গে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিলে ২১ দিনের মধ্যে গ্রাহকের মোবাইল নাম্বারে মেসেজ যায় সংগ্রহ করার।

সংশোধনের অপশন তো পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়ার আগেই আবেদনকারীকে দেখা ও যাচাই-বাছাই করার সুযোগ দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে তো ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে না। যদি হয়েও থাকে, সেটা হাজারে একটা কি দুটো হতে পারে। আগের মতো অর্থাৎ হাতে লেখার সময় বা এমআরপির মতো এত ভুল হয় না এখন। কাজেই ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সব সঠিক নয়। হ্যাঁ ভুল হয়, সেটা আবেদনকারীর ভুল পূরণের জন্যই। এ দায়তো অফিস নেবে না।

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ভোগান্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে যেখানেই হোক- পাসপোর্ট তৈরিতে এখন প্রধান ডকুমেন্ট জাতীয় পরিচয়পত্র। তথ্য জটিলতার কারণেই দেরি হচ্ছে পেতে। ইউরোপে যারা আছেন, তারা একটা নাম দিয়ে পাসপোর্ট করে আগে নিয়ে গেছেন, কিন্তু তার দেশের সম্পত্তি বা সবকিছু অন্য নামে।

১৮ বছর পর সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী পাসপোর্ট করতে হবে। দেখা যাচ্ছে পরিচয়পত্র হয়েছে এক নামে, আর পাসপোর্ট করা হয়েছে অন্য নামে। এখন রিনিউ করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী দিলে তিনি পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। অথচ পাসপোর্ট হয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী। এই সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়, সেটা নিয়েও কাজ চলছে। অর্থাৎ গ্রাহকের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ।

 


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২