Logo
শিরোনাম
নওগাঁয় চোরাই অটোভ্যান উদ্ধার সহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ জন আটক দ্বিতীয় বার আইজিপি পদক পেলেন রাঙ্গাবালী থানার ওসি হেলাল উদ্দিন অপহরণের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই কিশোরী উদ্ধার সহ অভিযুক্ত যুবক আটক বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত

গিনেস বুকে ইলন মাস্কের রেকর্ড

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

টুইটার চিফ ইলন মাস্ক বছরের শুরুতে লজ্জার রেকর্ড গড়ে গিনেস বুকে নাম লেখালেন! এহেন নজির যে তিনি গড়বেন, তা হয়তো তার বড় শত্রুও ভাবেননি। কিন্তু সত্যিটা ভাবনার থেকেও বড় হয়ে দাঁড়াল। টুইটার কিনে বিপুল অর্থ খুইয়ে রেকর্ড গড়লেন মার্কিন ধনকুবের। ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি লোকসান করে ইতিহাস তৈরি করেছেন মাস্ক।

এমন খবরই প্রকাশ্যে আনে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের নভেম্বরের পর থেকে অন্তত ১৮২ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছেন মাস্ক। অন্য সূত্রের আবার দাবি, হিসাবের অঙ্কটা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ২০ হাজার কোটি টাকা!

জানা গেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরের আগে মাস্কের মোট সম্পত্তির মূল্য যেখানে ৩২০ বিলিয়ন ডলার ছিল, সে মাসের পর থেকে নামতে নামতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এসে তা দাঁড়িয়েছে ১৩৭ বিলিয়ন ডলারে। এর থেকেই মাস্কের বিপুল লোকসানের অঙ্কটা অনেকটাই স্পষ্ট।

এর একটি কারণ তার কোম্পানি টেসলা স্টকের খারাপ পারফরম্যান্স। একটি সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, টুইটার কেনার জন্য প্রথম দফায় টেসলার ৭ বিলিয়ন ডলার, পরে ৪ বিলিয়ন ডলার এবং পরে আরও ৩.৫৮ বিলিয়ন ডলার স্টক বিক্রি করেছেন মাস্ক। এ বিপুল অর্থ খুইয়েই লজ্জার রেকর্ড করে গিনেস বুকে নাম তুলেছেন তিনি। আর এর সঙ্গেই বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি হওয়ার তকমাও হারিয়েছেন। বিশ্বের ধনীতমদের শীর্ষে ফ্রান্সের বার্নার্ড আরনল্ট। তার সম্পত্তির মূল্য ১৯০ বিলিয়ন ডলার।


আরও খবর



ইংল্যান্ডের স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 |

Image

ইংল্যান্ডের সব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক। এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিওয় এই ঘোষণা করেন তিনি। মোবাইল ফোনের ওপরে বিধিনিষেধের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, স্কুলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ফোন। ব্যাহত হয় পঠনপাঠন। সরকারি নির্দেশিকায় বিষয়টিতে নজরদারির জন্য প্রধানশিক্ষকের ওপরে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নানা উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। পড়ুয়ারা যাতে স্কুলে ফোন না নিয়ে আসে তা শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আবার কেউ ফোন আনলে তা যাতে লকারে সুরক্ষিতভাবে রাখা যায়, ওই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, ক্লাস চলাকালীন যেন কেউ যাতে ফোন ব্যবহার না করে কিংবা ফোনের আওয়াজে পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। শিক্ষামন্ত্রী স্কুলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতার ওপরে জোর দিয়েছেন।

মোবাইল ফোন কিভাবে কাজে বিঘ্ন ঘটায়, তা বোঝাতে ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন সুনক। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি যখনই কিছু বলতে যাচ্ছেন, বার বার বেজে উঠছে ফোন। সুনক বলেছেন, 'প্রায় এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, ফোনের জন্য কিভাবে তাদের পঠনপাঠনে বিঘ্ন ঘটে। অনেক স্কুল ইতিমধ্যেই ফোনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশের উন্নতি ঘটেছে। এবার নতুন করে এ বিষয়ে নির্দেশিকা দেয়া হলো। যাতে সব স্কুলই এই বিষয়টি মেনে চলে। ছাত্রছাত্রীদের যে শিক্ষা প্রয়োজন, তা যেন সকলে পায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই আমরা।

তবে সুনকের এই ভিডিওর সমালোচনা করেছেন অনেকেই। কারো কারো মন্তব্য, 'খুবই দুর্বল অভিনয় দক্ষতা। বিরোধী লেবার পার্টিও ওই ভিডিওকে ব্যঙ্গ করে একই ধরনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সুনক কিছু বলতে যাচ্ছেন কিন্তু বার বার ফোনে নোটিফিকেশন আসছে। কখনো ব্রিটেনে আর্থিক মন্দার খবর, আবার কখনো অভিবাসন কিংবা স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যা সংক্রান্ত বার্তাও আসছে ফোনে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আরও খবর



বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪ |

Image

সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারের ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায় সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি করে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ।

এর আগে ২০২৩ সালের জুন মাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারের ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায় সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আয়কর আদায় থেকে বিরত থাকতে আপিল বিভাগের আদেশ বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে আয়কর আদায় নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দায়ের করা ৪৬টি রিট হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানির আদেশ বহাল রাখা হয়।

২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারের ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায়ের দুই প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ আপিল নিষ্পত্তি না পর্যন্ত এ আয়কর আদায় থেকে বিরত থাকতে এনবিআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০০৭ সালের ২৮ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয় যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, তাদের উদ্ভূত আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পুনর্নির্ধারণ করা হলো। ১ জুলাই থেকে এটা কার্যকর হবে।

২০১০ সালের ১ জুলাই এনবিআরের আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজের উদ্ভূত আয়ের ওপর প্রদেয় আয়করের হার হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। এরপর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৪৬টি রিট করা হয়েছিল।


আরও খবর



নওগাঁর জহুরুল জিরা চাষে সফল, জিরা চাষে আগ্রহী অন্য কৃষকরা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় কৃষক জহুরুল ইসলামের জিরা চাষ করা দেখে অন্য কৃষকরাও জিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। দেশে জিরার চাহিদার পুরোটায় আমদানী করা হয় বিদেশ থেকে। আর এই মূল্যবান জিরা চাষ করে এলাকার লোকজন তথা কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার শিয়ালা গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম। কৃষক জহুরুল ইসলাম এর পরীক্ষা মূলক জিরা চাষ দেখে আগ্রহ বাড়ছে অন্য কৃষকদেরও।

এক সময় এ গ্রামের মাঠ-জুড়ে দেখা যেত সবজির খেত। এখন সেই মাঠে চোখে পড়ে মসলা জাতীয় ফসলের খেত। এই ফসলের (জিরা) চাষ করেই চমক দেখিয়েছেন কৃষক জহরুল ইসলাম।নওগাঁর রানীনগর উপজেলার গ্রামের নাম শিয়ালা। জিরা মসলা জাতীয় ফসল। দেশে জিরার চাহিদার পুরোটায় আমদানি নির্ভর। আর সেই মূল্যবান জিরা চাষ শুরু করেছেন কৃষক জহরুল ইসলাম। এই গ্রামের তার এই পরীক্ষা মূলক জিরা চাষ দেখে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় অন্য কৃষকদেরও। এই অঞ্চলে মসলা ফসল জিরা চাষে কৃষক পাবে বিকল্প পথ এমনটাই আশা করছেন স্থানিয় সচেতন মহল।

প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে জিরা ব্যবহার করা হয়ে আসছে। জিরা শুধু রান্না কাজে মশলা হিসেবে ব্যবহার হয় না, বহু রকমের বিশেষ ঔষধী গুণ সম্পন্ন জিরা। এটি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় তা নয়, শরীরের নানা সমস্যা সমাধানে জিরার জুড়িমেলা ভার।

কৃষক জহুরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় দেশী ও বিদেশী সবজী চাষ করে থাকেন। হঠাৎ কয়েক বছর থেকে বাজারে জিরার দাম আকাশ ছোয়া অর্থাৎ বেশি হওয়ায় জহুরুল ইসলাম সবজীর পাশাপাশি জিরা চাষে উদ্বুদ্ধ হোন। এরপর অনলাইনে চাষাবাদ প্রদ্ধতি দেখতে শুরু করেন এবং অনেক চেষ্টা করে অনলাইন এর মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ করে ৫০০ গ্রাম জিরা বীজ সংগ্রহ করেন। এরপর স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৯ শতক জমিতে এই জিরা বীজ রোপণ করেন। বর্তমানে জহুরুল ইসলাম এর জিরা গাছে ফুল ও জিরা আসতে শুরু করেছে। তিনি পরীক্ষা মূলক জিরা চাষে অনেকটা সফল হওয়ায় স্থানীয় কৃষদের মধ্যেও জিরা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে বীজ সংগ্রহের পর পানিতে ৩০টি জিরা বীজ ভিজে টিস্যুর মধ্যে রেখে পরীক্ষা করি, কি পরিমান গাছ গজাবে। পরে ৩০টির মধ্যে ২৫টি গাছ ওঠে গেছে। এর পরই ৯ শতক জমি হালচাষ ও সার ছিটিয়ে বীজ রোপন করি। বীজ রোপনের ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জিরা গাছগুলো উঠতে শুরু করে। পরে বৃষ্টির কারনে কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যায়। বাকি গাছগুলো ভালো করে যত্ন নেয়া শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, যেভাবে সরিষার চাষ করা হয় একই রকমভাবে জিরা চাষ করেছি। এরই মধ্যে গাছে ফুল ও জিরা ধরতে শুরু করেছে। গাছে যতগুলো ফুল, ততগুলোই জিরা ধরছে। হিসেব করে দেখছি যেভাবে জিরা ধরছে তাতে ৯ শতক জমি থেকে ২০ থেকে ২২ কেজি জিরা পাওয়া যাবে। বাজারে জিরার দাম ভালো থাকায় যার বাজার মূল্যে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারিব। তাতে জিরা চাষ একটি লাভজনক ফসল মনে হয়েছে। তবে জিরা চাষ শীতকালে ভালো হয়। বীজ বপণের ৩ থেকে সারে ৩ মাস সময় লাগে জিরা ঘরে উঠতে। এবছর পরীক্ষা মূলক ভাবে জিরা চাষ সফল দাবি করে আগামীতে আরো বড় পরিসরে জিরা চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন বলে জানান কৃষক জহুরুল ইসলাম।

স্থানীয় তানজিব হোসাইন নামে কৃষক পরিবারের যুবক বলেন, জহরুল ভাই নতুন ফসল জিরা চাষ করেছেন। জিরা চাষ ইতি পূর্বে আমরা কখনো দেখিনি। প্রথম হলেও খুব সুন্দর তার জিরার গাছ হয়েছে। বাজারে জিরার দাম ভালো রয়েছে। চিন্তা করছি তার দেখাদেখি আমরাও জিরা চাষ করবো এবং জিরা চাষ করে লাভবান হওযার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপর কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমাদের এই এলাকায় জিরা চাষ প্রথম হিসেবে মোটামুটি গাছ ভালোই হয়েছে জহুরুলের। শুনলাম তার এই জমিতে ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে আর পাবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মতো। কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করলে আমরাও জিরা চাষ করবো।

জিরা চাষ বিষয়ে নওগাঁর রানীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা হক বলেন, জহুরুল ইসলাম উদ্যোগী একজন কৃষক। তিনি নতুন ফসল হিসেবে জিরা পরীক্ষা মূলক ভাবে চাষ করেছেন। তার জিরা চাষ কৃষি বিভাগ সার্বক্ষনিক নজরদারী করছে। আমরা শেষ পর্যন্ত এটার ফলন কেমন হয় সেটা দেখবো। তিনি জিরা চাষে সফল হলে উঠান বৈঠক, সভা, সেমিনার করে অপর কৃষকদের জিরা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশে যে পরিমাণ জিরার চাহিদা তার পুরোটাই আমদানী করতে হয়। জিরা মসলা এখনও বাংলাদেশ আমদানী নির্ভর। তাই এই জিরা চাষে সফল হলে কৃষিতে বানিজ্যকরন ও জিরা উৎপাদন করে আমদানীর পরিমাণ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা।


আরও খবর



ভালবাসা ও ফাগুনে আগুন ফুলের বাজার !

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

ঋতুরাজ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে রাঙাতে কতই না আয়োজন। যার মূল অনুষঙ্গ রঙ-বেরঙের ফুল। সব আবেদন, অনুরাগ, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের বড় মাধ্যম ফুল। শহুরে প্রকৃতিতে এসবের কিছু কমতি থাকলেও সংরক্ষিত বাগানগুলোতে দেখা মিলেছে বাহারি সব ফুলের। তাছাড়া শীতের জীর্ণতা আর শুষ্কতাকে পেছনে ফেলে বসন্তের সজীবতাকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মানুষও।

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত- এ দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবসে সবাই প্রিয়জনকে দিতে চায় তাজা গোলাপ, বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে খোপায় বাঁধে গাঁদা ফুল। সবমিলিয়ে কদর বেড়েছে ফুলের রানি গোলাপসহ অন্যদের। এবছর বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও সরস্বতী পূজা একইদিনে হওয়ায় রাজধানীর ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ ফুল বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ ও আগারগাঁও এলাকার ফুলের দোকানগুলোতে দেখা গেছে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কীভাবে নিজের দোকানের ফুলগুলো সবার সামনে ফুটিয়ে তোলা যায় সেই পরিকল্পনা করছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তিন উৎসব একদিনে হওয়ায় ২০ কোটি টাকারও বেশি ফুল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তারা। এ মাসের ১৪ তারিখ এবং ২১ তারিখ সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়। ১৪ তারিখে গোলাপ আর ২১ তারিখে গাঁদা ফুল বেশি বিক্রি হয়। এসব দিনে ফুলের দোকানগুলোতে অনেকে বাড়তি কর্মচারী ও কারিগর রাখেন।

শাহবাগে একটি খুচরা বাজার ও একটি পাইকারি ফুলের দোকান আছে। যশোর, বেনাপোল, ফরিদপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে ফুল আসে। পরে এখান থেকেই ঢাকার অন্য খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা ফুল সংগ্রহ করেন। এসব ফুলের মধ্যে রয়েছে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রথস্টিক, জিপসি, গ্যালেনডোলা ও চন্দ্রমল্লিকা। শাহবাগে ৫০টির মতো খুচরা ফুলের দোকান রয়েছে। ক্রেতারা এই বাজার থেকে ফুল সংগ্রহ করেন।

ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি বাবুল প্রসাদ বলেন, সারা বছর শাহবাগে ফুল বিক্রি হয়। দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। আর আগামী ১৪ ও ২১শে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি পাইকারিতে ফুল বিক্রি হবে। আর খুচরা বাজার তো আছেই। এখানে ২৪টি জেলা থেকে ফুল আসে।

শাহবাগের ফুলের দোকান পুষ্পালয়ের মালিক রকি আহম্মেদ বলেন, ফুল বিক্রি ভালোই হচ্ছে। বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে এ বিক্রির সংখ্যা আরও বাড়বে। এবছর বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও সরস্বতী পূজা একদিনে হওয়ায় ফুল বিক্রির পরিমাণ অন্যান্য বছরের চেয়ে আরও বেশি হবে। ফুলের ব্যবসা করার মাস হচ্ছে ফেব্রুয়ারি। এসময়ে চাহিদাও থাকে বেশি। পাইকারিতেও কিছুটা বেশি দাম দিতে হয়। সেই প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। বুধবারের জন্য অগ্রিম ফুলের অর্ডার দিয়ে রেখেছি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ভালো মানের গোলাপ ফুল এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোলাপি রঙের বিদেশি গোলাপ এখন প্রতি পিস ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রজনীগন্ধার স্টিক মানভেদে ২০-৮০ টাকা, প্রতিটি গাঁদার মালা ৬০-১২০ টাকা, জারবেরা ফুল ৫০-১২০ টাকা, অর্কিড স্টিক ৮০-১০০ টাকা, গ্লাডিওলাস রং ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়িরা বলছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি সাধারণ গোলাপ ৮০-৯০ টাকায় এবং বিদেশি গোলাপ ১৫০ টাকার বেশিতে বিক্রি হবে।

রোহান আহমেদ নামের লালবাগ সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজর এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে ফুলের চাহিদা বেড়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে ফুলের দাম তিন গুণ বেশি। ভালোবাসা দিবসে ফুলের চাহিদা বেশি হয়ে ওঠে, কারণ এটি ভালোবাসা প্রকাশের উপযুক্ত উপহার। ফুলের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভালোবাসার আনন্দ ও মনোমুগ্ধতা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ঠিক এ সুযোগটি নিচ্ছেন। এটি ঠিক না।


আরও খবর



শীঘ্রই কাটছে না গ্যাস সংকট

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ মার্চ 2০২4 |

Image

জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের যোগান কম থাকায় রেশনিং করে খাতভিত্তিক গ্যাসের সরবরাহ করছে জ্বালানি বিভাগ। সে ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে শিল্প ও বিদ্যুৎখাত। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, এখনো চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছে না বেশিরভাগ শিল্প। অন্যদিকে চলতিমাসেই বিদ্যুতের চাহিদা আরও ২-৩ হাজার মেগাওয়াট বাড়তে পারে। আর এই বর্ধিত চাহিদা পূরণে বাড়ানো হতে পারে গ্যাসের সরবরাহ। এতে শিল্পখাতে তৈরি হয়েছে নতুন শংকা।

শিল্পসহ দেশের বিদ্যুৎখাতের গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের। গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মলূত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন সংস্কারের কারণে সারাদেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। যদিও পাইপলাইন বন্ধের কারণে দিনে মাত্র ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যেখানে দিনে চাহিদা ৪শ মিলিয়ন ঘনফুট। দেখা গেছে স্থানীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাহিদার থেকে যোগান ক্রমেই কমছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎসহ সবধরনের শিল্প ও উৎপাদনমুখী খাতে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এর বাইরেও সিএনজি ও আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়াবে কয়েকগুণ। এদিকে সংকট নিরসনে শিল্প উদ্যোক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই জোড় দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলেও শিল্প ও বিদ্যুৎখাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।এদিকে মার্চের শুরুতেই বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা। এই মুহূর্তে ৪-৫ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলেও তখন এ খাতে গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে শিল্পে বিদ্যমান গ্যাসের সরবরাহ নতুন শংকা তৈরি হয়েছে। যদিও বিকল্প জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের। কিন্তু অন্য যে কোনো জ্বালানিকে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি কিংবা আমদানি করা বাড়বে ব্যয়, যা এখাতে ভতুর্কি আরও বাড়িয়ে দেবে।

এদিকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে অন্তত ২ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সম্প্রতি সংসদে এক বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে বর্তমান সংকট নিরসনে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন নিম্নমুখী। আমদানির মাধ্যমে এই ঘাটতি মেটানো হলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। মূলত আমদানি গ্যাস পরিবহণ ও মজুদের বিদ্যমান অবকাঠামোগত সক্ষমতার চেয়ে ঘাটতি বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় একমাত্র নিজস্ব গ্যাসের উত্তোলন বৃদ্ধি ছাড়া গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দেখা গেছে দেশের প্রধান গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরেই এর উত্তোলন কমতির দিকে। অন্যদিকে নতুন গ্যাস কূপগুলোর সঙ্গে পাইপলাইন সংযোগ নেই। ফলে তা জাতীয় গ্রিডে আসছে না। তাই গ্যাস পরিবহণে অবকাঠোগত সক্ষমতা তৈরিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে শিল্প উদ্যোক্তারা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই জ্বালানি বিভাগকে বাড়তি দামে হলে আমদানি করে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বলে আসছে। কিন্তু এখন আমদানি বাড়ানো হলেও তা সরবরাহে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকয়ে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পখাতে নেতীবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করেন উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফাকচার্স এন্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও শিল্প উদ্যোক্তা শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি গত দুবছর ধরেই খারাপ। এখন যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। অগ্রাধিকার দেওয়ার পরেও ৪০-৪৫ শতাংশ গ্যাসের সরবরাহ মিলছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ২ থেকে আড়াই গুণপর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ৩ শিফটের পরিবর্তে মাত্র ১টি শিফট ফ্যাক্টরি চালাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিল্পসহ সামগ্রিক রপ্তানিখাত দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি রপ্তানি বাজার হারানোর শংকাও রয়েছে।

এমনিতেই স্বাভাবিক অবস্থায় শিল্পখাতে বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের এলাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকে। এছাড়াও গ্যাসে চাপ এত কম থাকে। ফলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি বিকল্প জ্বালানিতে মেটাতে হয়। এতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এ অবস্থায় যদি দীর্ঘ মেয়াদে রেশনিং করে সরবরাহ করা হয় তাহলেও গড় ঘাটতি ৪০ শতাংশ থেকেই যাবে। আর এই ঘাটতি বিকল্প জ্বালানিতে মেটানোর সক্ষমতা অনেকেরই নেই। এতে বিদ্যমান ব্যাংক ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে।

সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি : সম্প্রতি ২০২৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বৈশ্বিক গ্যাস বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সেখানে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা তেমন বাড়েনি বলে উল্লেখ করা হয়ছে। বরং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৩ সালের প্রথম ১০ মাসে গ্যাসের চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও একই সময়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু স্থানীয় গ্যাসের যোগান ধারাবাহিকভাবে কমতির দিকে থাকায় ২০ শতাংশ আমদানি বাড়িয়েও বিভিন্ন খাতে গ্যাসের রেশনিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফলে ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

এদিকে দেশে গ্যাসের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। অন্য যে কোনো জ্বালানির থেকে এর উৎপাদন ব্যয় অর্ধেকেরও কম। তবে দেশি গ্যাসের যোগান কমতে থাকা এবং আমদানি বাড়তে থাকায় গ্যাসের গড় দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। দেখা গেছে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত গ্যাসের ৭০ শতাংশই নিজস্ব। তবে ২০২৬ সালের মধ্যেই এই সরবরাহ ৫০ শতাংশে নামতে পারে। ফলে এই বিশাল ঘাটতি পূরণে আমদানি ব্যয় ছাড়াবে ৫ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটে অর্ধেক কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে অর্থাৎ ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য বছরে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।

সিএনজি গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রেশনিংয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিএনজি খাত। সার ও আবাসিক খাতেও তা চলছে এক প্রকার অঘোষিতভাবে। অর্থাৎ এসব খাতেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না পেট্র্রোবাংলা। দেশে গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা আসলে কত সেটির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সরকারি সংস্থাগুলো থেকে তথ্য জানা যায়নি। তবে পেট্রোবাংলার ভাষ্যমতে, দেশে দৈনিক প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। আর তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ থাকলে বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক, সার ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, চাহিদা ও সরবরাহে এখন গ্যাসের ঘাটতি দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এ পরিমাণ ঘাটতি গ্যাস স্থানীয়ভাবে যেমন জোগান দেওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি নেই আমদানি করার মতো অর্থ।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় পরিসরে গ্যাসের জোগান বাড়াতে হলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। কারণ ওই সময়ে নতুন চুক্তির আওতায় দেশে এলএনজি আসবে এবং সেই সময়ে টার্মিনালগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে। তখন গ্যাস সরবরাহ সংকট কমে আসবে।

 


আরও খবর