Logo
শিরোনাম

গজারিয়ায় ১৮ বছর ধরে অন্যের বাড়িতে পরিবার নিয়ে খোকন সুত্রধর:

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image
ভাগ্য জোটেনি পাকা ঘর

জুয়েল দেওয়ান গজারিয়াঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নে সহায় সম্বলহীন খোকন সুত্রধর তার পরিবার নিয়ে বিগত ১৮ বছর ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন ফিলিং স্টেশনের পাশে অন্যের বাড়িতে বসবাস করলেও পরিবারটির ভাগ্যে  জোটেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর।

অথচ সহায় সম্বলহীন এ পরিবারটি যথেষ্ঠ আশার আলো দেখেছিলো। আশাছিল একটি নিরাপদ আশ্রয়ের।তালিকা তৈরীতে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় গৃহহীন পরিবারটির ভাগ্যে জোটেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর!

জানা যায়, ১৮ বছর আগে কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার অন্তর্গত রামপুরা গ্রাম থেকে জীবিকার তাগিদে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দিতে এসেছিলেন খোকন সুত্রধর ও দিপালী রানী সুত্রধর দম্পতি। ২০০৪ সালের দিকে খোকন সুত্রধর গজারিয়া উপজেলার প্বার্শবর্তী উপজেলা সোনারগাঁও একটি সুতার কারখানায় উৎপাদন শ্রমিক হিসাবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়

গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল সরকারের সহযোগিতায় করোনা মহামারির প্রথম ধাপে কিছু খাদ্যসহায়তা ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া তাদের ভাগ্যে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা জোটেনি। খোকন সুত্রধর আক্ষেপ করে বলেন, বয়স বেড়ে যাচ্ছে। আগের মতো কাজ করতেও পারি না। শুনি সরকার কার্ড করে চাউল দেয়,  কিছুই পাইনা। ঘরতো দুরের কথা। এ জনমে কি আমাদের ভাগ্যে জোটবে একটি ঘর। মেম্বার চেয়ারম্যান খালি বড়লোক গুলার নাম দিয়ে তাদের ঘর দেয়। আমি একটি ঘরের জন্য মেম্বার/চেয়ারম্যান সকলের কাছে গেছি। কেউ আমাকে একটি ঘর দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোকন সুত্রধরের আকুতি ৩টি সন্তান নিয়ে যেন মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই হয়।

একটি মেয়ে ও দুটি ছেলে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে খোকন সুত্রধর। মাথা গোঁজার নিজস্ব কোন ঘর না থাকায় মুন ফিলিং এর মালিক হেলাল উদ্দিন ভুইয়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে পার করে দিয়েছেন ১৮ টি বছর। কিন্তু সেই ঘরটিও আজ জীর্ণতায় বাসা বেঁধেছে। সহায় সম্বলহীণ খোকন সুত্রধর ও দিপালী সুত্রধর দম্পতি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করলেও ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে আবাসন সুবিধার আওতায় সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ২০২১ সালে ২৩ জানুয়ারী দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি বিতরণ করেন। এ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে ১৭০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভূমিহীন ও গৃহহীন হলে তাকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।


আরও খবর



অ্যান্টিবায়োটিকের অপ ব্যবহারে স্বাস্থ্যখাতে বিপর্যয়

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

দেশের সব জরুরি ও বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ৫০ শতাংশেরও বেশি কার্যকারিতা হারিয়েছে। এতে দেশের পুরো জনগোষ্ঠী যে কোনো ধরনের মহামারির বিরুদ্ধে অরক্ষিত থেকে যেতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ওষুধ ক্রমশ অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে ২০১৭ থেকে ২০২১ এর মধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালিত এই সারভেইলেন্স গবেষণা থেকে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা গতকাল একটি অনুষ্ঠানে বলেন, 'এই গবেষণা থেকে যে বার্তা পাওয়া গেছে, তা হচ্ছে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। এই অনুষ্ঠানে ১০টি প্রাধান্য পাওয়া প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে ২১টি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়।

ওষুধগুলো মূত্রনালীর সংক্রমণ, সেপ্টিসেমিয়া, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া এবং ক্ষত সংক্রমণের মতো রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়েছিল।

৯টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াগুলোর ৯ শতাংশ পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত সব অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে সহনীয়।

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীর মতো অণুজীবকে ধ্বংস করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতাকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বলা হয়।

ফ্লোরা বলেন, 'এএমআর অন্য এক ধরনের মহামারি। আমাদের এমন হওয়া উচিত নয় যে—রোগ নির্ণয় হলো, সেই রোগের ওষুধও আছে কিন্তু সেটা রোগ সারাতে পারছে না।'

ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়কারী নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, ডেটা দেখে মনে হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার প্র্যাকটিশনারদের দ্বারা পরিচালিত হয়।

'আমাদের এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। পেশাদারদের শক্তিশালী উদ্যোগ নিতে হবে। এএমআর জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ,' তিনি যোগ করেন।

অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকে মূলত তিনটি সেটে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এগুলো হচ্ছে, প্রাথমিক পর্যায়ের সংক্রমণের জন্য 'অ্যাক্সেস গ্রুপ', উচ্চ সহনশীল ব্যাকটেরিয়ার জন্য 'ওয়াচ গ্রুপ' এবং পরিশেষে সব বিকল্প ব্যর্থ হলে 'রিজার্ভ গ্রুপ।'

২১টি অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে ৭টি অ্যাক্সেস গ্রুপ, ৯টি ওয়াচ গ্রুপ এবং ২টি রিজার্ভ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে ১৫টি ক্রমশ অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে পরীক্ষায় উন্মোচিত হয়েছে।

২০২১ সালে ওয়াচ গ্রুপের ওষুধ সেফটাজিডিম ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে এর অকার্যকারিতার হার ছিল ৬২ শতাংশ।

একই সময়সীমার মধ্যে ওয়াচ গ্রুপের বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বেড়েছে, যেমন সেফিক্সিম (৫২ থেকে ৫৮ শতাংশ), সেফেপিম (৫৭ থেকে ৬১ শতাংশ), সেট্রিয়াক্সোন ৫২ থেকে ৬৫ শতাংশ), সিপ্রোফ্লোক্সাসিন (২০ থেকে ৪০ শতাংশ) ও কার্বাপেনেম (২০ থেকে ৪০ শতাংশ)।

একই সময়ে অ্যাক্সেস গ্রুপের ওষুধ ডক্সিসাইক্লিন ও টেট্রাসাইক্লিনের উপযোগিতা বেড়েছে। তাদের অকার্যকারিতার হার কমে যথাক্রমে ৪৭ থেকে ৩৯ শতাংশ এবং ৫৮ থেকে ৫৪ শতাংশ হয়েছে।

আইইডিসিআরের লিড ইনভেস্টিগেটর ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান জাকির হোসেন হাবীব বলেন, 'এর পেছনে কারণ হতে পারে এই ওষুধগুলোর কম ব্যবহার। চিকিৎসকরা মূলত ওয়াচ ও রিজার্ভ গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন।'

অ্যাক্সেস গ্রুপের ওষুধের মধ্যে উপযোগিতা হারিয়েছে এ রকম ওষুধ হচ্ছে নাইট্রোফিউরানটয়েন, সালফামেথোক্সাজোল-ট্রাইমেথোপ্রিম, অ্যাম্পিসিলিন, অ্যামোক্সিসিলিন-ক্লাভুলানেট ও জেন্টামাইসিন। তবে পেনিসিলিনের উপযোগিতা সামান্য বেড়েছে।

রিজার্ভ গ্রুপের ওষুধ অ্যাজট্রিওনামের অকার্যকারিতা ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশ হয়েছে এবং লিনেজোলিডের ক্ষেত্রে তা ৩৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসেনশিয়াল ড্রাগস অ্যান্ড মেডিসিনের কারিগরি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ রামজি ইসমাইল বলেন, 'আমরা ফার্স্ট-লাইন অ্যান্টিবায়োটিক (অ্যাক্সেস গ্রুপ) হারিয়ে ফেলছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় লাইন অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যয়বহুল এবং টক্সিক।

তিনি আরও জানান, নতুন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ক্ষেত্রে গবেষণার পাইপলাইনে শুধুমাত্র অল্প কিছু আশাব্যঞ্জক বিকল্প রয়েছে।

এএমআরের সঙ্গে মোকাবিলায় ইসমাইল 'ওয়ান হেলথ' দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বনের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ওয়ান হেলথে ভালো উন্নতি করেছে।

ওয়ান হেলথে স্বীকার করা হয় মানুষ যে পরিবেশে থাকে এবং সে পরিবেশের অন্যান্য প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সঙ্গে তার নিজের স্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

কোনো কোনো দেশে চিকিৎসার চেয়ে খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

'আমাদের এই ফ্র্যাজাইল ওষুধের অপব্যবহারে অবদান রাখে এমন সমস্ত আচরণকে চিহ্নিত করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে,' তিনি যোগ করেন।


আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না গম বহনকারী ৬ হাজার ট্রাক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে আটকে রয়েছে গম বোঝাই ৬ হাজার ট্রাক। গত ১৪ মে থেকে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থলবন্দরে এসব ট্রাক আটকে রয়েছে। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) থেকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আরসি) বা ছাড়পত্র না পাওয়ায় বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না গম বহনকারী এসব ট্রাক।

মঙ্গলবার (৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমস। এতে বলা হয়, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত ১৩ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সেই প্রজ্ঞাপনে ভারত থেকে অবিলম্বে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কারণ এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী গম সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অবশ্য ডিজিএফটি গম রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করলেও ভারতের সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়, গত ১৩ তারিখের আগে যেসব ঋণপত্র বা এলসি ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলো যথাসময়ে রপ্তানি করা হবে। তবে এরপরও ১৩ মের আগে চালান সম্পন্ন হওয়া বা অর্থ পরিশোধ করা গম বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ইকোনোমিক টাইমস বলছে, ১৩ তারিখের আগে যেসব ঋণপত্র বা এলসি ইস্যু করা হয়েছে সেগুলো সীমান্ত পার হতে বাধা নেই বলে জানানো হলেও এখন বলা হচ্ছে- রপ্তানির জন্য ডিজিএফটি’র ছাড়পত্র প্রয়োজন। আর এতেই সময় লাগছে কারণ রপ্তানিকারকরা যেন এলসি’র ব্যাক-ডেট না করতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রবেশের জন্য সীমান্তে অপেক্ষারত ট্রাকগুলোর বেশিরভাগই ছোট ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে কান্দলা বন্দরে কয়েকটি বড় কোম্পানির ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ গম আটকে রয়েছে।

কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রায় ৬ হাজার ট্রাক, ১০-১২টি রেলওয়ে রেক এবং ১০-১২টি বার্জ/জাহাজ কলকাতা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের মোটামুটি অনুমান, প্রায় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টন গমের চালানে প্রকৃত এলসি থাকতে পারে।

ভারতের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার চেয়ারম্যান বিমল বেনগানি বলছেন, ‘গম রপ্তানির নিবন্ধন সনদ বা ছাড়পত্রের জন্য পূর্বাঞ্চল থেকে প্রায় ১২০০টি আবেদন অনলাইনে ডিজিএফটিতে জমা পড়েছে। অন্যদিকে এতোগুলো আবেদনের বিপরীতে গত ২ জুন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রপ্তানিকারককে প্রায় ২০০টি আরসি ইস্যু করেছে সংস্থাটি। কিন্তু আবেদনের অনেকগুলোই এখনও আটকে রয়েছে।’ তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আরসি পেতে দেরি হওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক লোকসানে পড়েছেন।

এর আগে গত ২ জুন এক প্রতিবেদনে আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থলবন্দরে আটকে থাকা গমের পরিমাণ প্রায় চার লাখ টন।

এছাড়া সীমান্তে গম আটকে থাকায় সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করেছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। তাদের আশঙ্কা, গম পরিবহনে বিলম্ব হলে বৃষ্টির কারণে প্রয়োজনীয় এই শস্য পচে যেতে শুরু করবে এবং এতে করে তারা কোটি কোটি রুপি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




সৌদিতে আরও ২ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সৌদি আরবে মারা গেলেন আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রী। মঙ্গলবার (২১ জুন) মদিনায় মারা যান তারা। এ নিয়ে বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্কের হজের প্রতিদিনের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মৃত হজযাত্রীরা হলেন— রংপুর পীরগাছার মো. আব্দুল জলিল খান (৬২)।  তার পাসপোর্ট নম্বর- BX0552614 ও ঢাকার কোতোয়ালির বিউটি বেগম (৪৭)। তার পাসপোর্ট নম্বর- EA0009584।

বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭৮টি ফ্লাইটে সৌদি আরবে গেছেন ২৮ হাজার ৩০৯ জন হজযাত্রী।

সৌদি আরব যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৩ হাজার ৩৮৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ২৪ হাজার ৯২৪ জন রয়েছেন। 

গত ৫ জুন বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। ঢাকা থেকে শেষ হজ ফ্লাইট ছেড়ে যাবে ৪ জুলাই।





আরও খবর

১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আযহা

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার এক সিএনজি’র যাত্রী (২৮) কে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মোঃ বিজয় (৩৫) নামের এক সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ষক বিজয়কে গ্রেফতার করেছে তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। শনিবার সকালে মাঝেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতাকৃত ধর্ষক সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর পূর্বপাড়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলচ্ছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ৭ টা দিকে আড়াইহাজার থানার ফেরিঘাট হইতে সিএনজি যোগে গৃহকর্মী এক নারী মদনপুর যাচ্ছিলেন। সিএনজি চালক বিজয় মাঝেরচার এলাকায় পৌছালে ওই নারীকে গাড়িতে একা পেয়ে রাস্তার পাশে বাবুল মিয়ার মুরগির খামারের জংগলে নিয়ে ধর্ষন করে। খবর পেয়ে তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ জাকির রব্বানীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য অভিযান চালিয়ে দুপুর ১২ টার দিকে ধর্ষক বিজয়কে মাঝেরচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন।

তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ জাকির রব্বানী বলেন, সিএনজি’র যাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষন করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করি। পরে গোপন সুত্রে ধর্ষক বিজয়ের তথ্য সংগ্রহ করে মাঝেরচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষন মামলার প্রস্তুতি চলচ্ছে।


আরও খবর



উত্তেজনা ছড়িয়ে টাইগারদের লজ্জার হার

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ |
Image

ইয়াশফি রহমান :  অ্যান্টিগা টেস্টে শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ দল। প্রথম ইনিংসের বাজে ব্যাটিং বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। দেয়ালে পিঠ ঠেকানো অবস্থায় দারুণ লড়াই করেছে সফরকারীরা। সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে পরশু রাতে ইনিংস হারের চোখরাঙানিকে বিদায় জানাতে পারেনি টাইগাররা।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ধস! ৪৫ রানেই নেই ছয় টপ অর্ডার ব্যাটার। দ্বিতীয় ইনিংসেও একইভাবে ব্যর্থ টপ অর্ডার। তাতে নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে লড়াই করেও দলকে উদ্ধার করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। হতাশার ব্যাটিংয়ে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বড় ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে। অ্যান্টিগায় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনই ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে আগামী ২৪ জুন। দুটি ম্যাচই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে।

সাদা পোশাকে বাংলাদেশের ব্যর্থতার মূল কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। গেল কয়েক মাস ধরেই এই ব্যাটিং ব্যর্থতা ধুকছে বাংলাদেশ। এই তো কদিন আগে ঘরের মাঠেও দেখল একই হতাশা। এর জন্য বদল করা হলো অধিনায়ক। কিন্তু তাতেও মিলল না স্বস্তি। তৃতীয় মেয়াদে নেতৃত্বে ফেরা সাকিব আল হাসানের শুরুটা হলো হারের তিক্ততা নিয়ে।

অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে পরাজয় থেকে মাত্র ৩৫ রান দূরে থেকে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। এই রান তাড়া করতে স্রেফ ২৬ মিনিট সময় নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিন উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া ক্যাম্ববেল ও বনার মিলে দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই বাংলাদেশকে হারিয়ে দেন। ক্যাম্ববেল করেন ৫৮ রান আর ব্ল্যাকউড করেন ২৬ রান। গতকাল শনিবার ১১২ রান দূরে থেকে টেস্টের তৃতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই মোট ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে থাকা দুই বাঁহাতি ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হককে সাজঘরে পাঠান কাইল মায়ার্স। এরপর কেমার রোচ ফেরান লিটন দাস ও মাহমুদুল হাসান জয়কে।

দিনের শুরুতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৭ রানে বিদায় নেন শান্ত। মায়ার্সের সুইংয়ে ভুগতে দেখা যায় মুমিনুলকেও। তিনিও মায়ার্সের বলেই এলবির শিকার হন।

বছরজুড়ে ছন্দে থাকা লিটন দাস ওয়েস্ট ইন্ডিজে হতাশার মুখ। রোচের করা স্ট্যাম্পের বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে আলগা শটে স্লিপে ক্যাচ দেন লিটন। ১৫ বলে ১৭ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।

এর একটু পরেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। গত পরশু ব্যাটিংয়ে নেমে থিতু হয়ে যাওয়া জয় হুট করেই যেন মনোযোগ হারান। তিনিও উইকেটের পেছনে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ১৫৩ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৪২ রান করে ফেরেন জয়।

প্রথম সেশনে ২৯ ওভার খেলে ৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। এই সেশনেই মূলত ৪ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় সাকিবের দল। শেষ পর্যন্ত সোহানকে নিয়ে সাকিব নিজেই আবারও হাল ধরেন। সপ্তম উইকেটে উপহার দেন ১২৩ রানের জুটি। দুজনেই তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি। এই জুটিতে ভর করেই দলীয় রান প্রায় আড়াইশর কাছাকাছি যায় বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ইনিংসে লিড থাকায় ক্যারিবীয়দের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৮৪ রানের।

ব্যাট হাতে ৬৩ রানের ইনিংস উপহার দেন সাকিব। ৯৯ বলে তার ইনিংসে ছিল ছয়টি বাউন্ডারি। তার সঙ্গে উইকেটে থেকে ৬৪ রান করেন সোহান। ১৪৭ বলে তিনি হাঁকান ১১টি বাউন্ডারি।

৮৪ রানের এই ছোট লক্ষ্য তাড়ায় গতকাল ৩ উইকেট হারালেও জয় পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের দেখা পেয়ে যায় ক্যারিবীয়রা।

এর আগে প্রথম ইনিংসেও হতাশা দেখে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো ব্যর্থ হন ব্যাটাররা। এক সাকিব ছাড়া ব্যাট হাতে সবাই দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম সেশনে স্কোরবোর্ডে ২৬৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজের কল্যাণে ক্যারিবীয়দের তিনশর নিচে থামাতে পারে সাকিব আল হাসানের দল। দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের বোলাররা ভালো করেন।


আরও খবর