Logo
শিরোনাম
শাখা স্থাপনে পিছিয়ে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো

গ্রামাঞ্চলে বেসরকারি ব্যাংকের ৩৭% শাখা

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও গ্রামাঞ্চলে শাখা স্থাপনে পিছিয়ে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। যেখানে সরকারি ব্যাংকগুলোর মোট শাখার ৬১ শতাংশই গ্রামাঞ্চলে, সেখানে বেসরকারি ব্যাংকের শাখা মাত্র ৩৭ শতাংশ। এদিকে গ্রামাঞ্চলে একটি শাখাও নেই বিদেশি ব্যাংকগুলোর। তবে বেসরকারি খাতের ব্যাংকাররা বলছেন, শাখা স্থাপন ব্যয় বেশি হওয়ায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এজেন্ট ব্যাংকিং ও উপশাখার মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি বিবরণী অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, দেশে ২০০৬ সালে শহরাঞ্চলে চারটি শাখার বিপরীতে গ্রামাঞ্চলে একটি করে শাখা খোলার নির্দেশনা ছিল। পরবর্তী সময়ে শহরে দুটির বিপরীতে গ্রামে একটি শাখা খুলতে বলা হয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দেয়, শহরে একটি শাখা খোলা হলে গ্রামেও একটি খুলতে হবে। পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা শহরসহ সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভা এলাকায় স্থাপিত শাখাকেও শহর শাখা হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই বিবরণীতে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর মোট শাখা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৪২টি। এর মধ্যে শহরে রয়েছে ৫ হাজার ৬২৬ এবং গ্রামে ৫ হাজার ৩১৬টি শাখা। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ৩১০টি কম। গত বছরের নভেম্বর নাগাদ সব ব্যাংকের মোট শাখা ছিল ১০ হাজার ৮০৩টি। তার মধ্যে গ্রামাঞ্চলে শাখার সংখ্যা ৫ হাজার ২৪২ এবং শহরাঞ্চলে ৫ হাজার ৫৬১টি। সে হিসাবে চার মাসে ব্যাংক শাখা বেড়েছে ১৩৯টি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবরণীতে দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট শাখা ৩ হাজার ৮১২টি। এর মধ্যে গ্রামে ২ হাজার ৪৬ এবং শহরে ১ হাজার ৭৬৬টি। চলতি বছরের মার্চের শেষ সময়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২৭ শাখা দাঁড়ায় সোনালী ব্যাংকের। এর মধ্যে শহরে ৫১৪ ও গ্রামে ৭১৩টি। এর পরই সবচেয়ে বেশি শাখা রয়েছে বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি)। ব্যাংকটির শাখার সংখ্যা ১ হাজার ৩৮টি। এর মধ্যে শহরে ১৭৬ এবং গ্রামে ৮৬২টি। জনতা ব্যাংকের ৯১৫টি শাখার মধ্যে শহরে ৪১৯ এবং গ্রামে ৪৯৬টি। অগ্রণী ব্যাংকের ৯৬২টি শাখার মধ্যে শহরে ৪৫৪ এবং গ্রামে ৫০৮টি। রূপালী ব্যাংকের ৫৮৬টি শাখার মধ্যে শহরে ২৮৮ এবং গ্রামে ২৯৮টি। বেসিক ব্যাংকের ৭২টি শাখার মধ্যে শহরে ৫৮ এবং গ্রামে ১৪টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ৫০টি শাখার মধ্যে শহরে ৩৩ এবং গ্রামে ১৭টি।

এদিকে সরকারের বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৩৮৩টি শাখার মধ্যে শহরে ৫০ এবং গ্রামে ৩৩৩টি। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৯১টি শাখার মধ্যে শহরে ৬৭ এবং গ্রামে রয়েছে ২৪টি শাখা। সরকারের বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ৯ ব্যাংকের ৫ হাজার ৩২৪টি শাখার মধ্যে গ্রামে রয়েছে ৩ হাজার ২৬৫ এবং শহরে রয়েছে ২ হাজার ৫৯টি। সে হিসেবে গ্রামে শাখার হার শতকরা ৬১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্চ শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মোট শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৫৩টি। এর মধ্যে শহরে ৩ হাজার ৫০২ এবং গ্রামে ২ হাজার ৫১টি। সে হিসাবে গ্রামে শাখার হার ৩৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এছাড়া বিদেশি মালিকানাধীন ৯ ব্যাংকের মোট শাখা ৬৫টি। শাখাগুলো সবই শহরকেন্দ্রিক।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শাখা পূবালী ব্যাংকের। সারা দেশে ব্যাংকটির ৪৯০টি শাখার মধ্যে শহরে ২৮৮ এবং গ্রামে ২০২টি। এর পরই ইসলামী ব্যাংকের ৩৮৪টি শাখার মধ্যে শহরে ২৩৭ এবং গ্রামে ১৪৭টি। এছাড়া অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে উত্তরা ব্যাংকের শহরে ১৭৩ এবং গ্রামে ৭০টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ১৫০টি শহরে এবং গ্রামে ৭০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ১১৪টি শহরে এবং ৮৭টি গ্রামে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১১৯টি শহরে এবং ৭৭টি গ্রামে, ইউসিবি ব্যাংকের শহরে ১৫৬ এবং গ্রামে ৫৯টি, ন্যাশনাল ব্যাংকের শহরে ১৫৭ এবং গ্রামে ৬২টি, দ্য সিটি ব্যাংকের শহরে ১০৬ এবং গ্রামে ২৬টি, ব্র্যাক ব্যাংকের ১৩৩টি শহরে এবং ৩৪টি গ্রামে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী শহরে একটি শাখা খোলা হলে গ্রামেও একটি শাখা খুলতে হবে। ব্যাংকগুলো এ নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। যদি কোনো ব্যাংক শহরে শাখা খোলার পরও গ্রামে শাখা না খোলে, তাহলে সেই ব্যাংককে পরবর্তী সময়ে শহরে আর শাখা খুলতে দেওয়া হবে না।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি শাখায় যে পরিমাণ ব্যয় হয় তাতে করে গ্রামে শাখা খোলা হলে সেগুলো লস করে। এজন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রামে শাখা খুলতে আগ্রহী হয় না। তবে এজেন্ট ব্যাংকিং ও উপশাখার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। শাখার সব ধরনের সেবা এজেন্ট ব্যাংকিং ও উপশাখার মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।


আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২




৪ এসআই বরখাস্ত

টেনে-হেঁচড়ে ভিক্ষুক পরিবারকে থানায়

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল বেড থেকে টেনে হেঁচড়ে এক ভিক্ষুকের স্ত্রী, পুত্র সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ৪ এসআইকে বহিষ্কার ও ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজড করেছে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১০ মে) রাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বরখাস্ত চার এসআই হলেন, আলতাফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী ও মুনতাজ। প্রত্যাহার হওয়া দুই কনস্টেবল হলেন- মোজাম্মেল হক ও সাথী আক্তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি বাজার এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভিক্ষুক আব্দুল জলিল (৬৪) তার ২০ শতক জমিতে ঘর করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি মুজিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ওই জমিটি তার নিজের বলে দাবি করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় আদালতে মামলা হলে আদালত আব্দুল জলিলের পক্ষে রায় দেন।

তবে আদেশ অমান্য করে সোমবার (৯ মে) সকালে মুজিবুর রহমান দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুল জলিলের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ভিক্ষুক আব্দুল জলিল (৬৪), তার স্ত্রী লাইলী বেগম (৫০) ও তার তিন ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), ওয়ায়েজ করোনি (২৫) ও হামদাদুল হক (১৬)। পরে তাদেরকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, হামলার পর অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে চিকিৎসাধীন চার জনসহ ১৫ জনকে আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর মঙ্গলবার পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এজাহারভুক্ত আহত ওই চার জনকে গ্রেফতার করেন। এ সময় চিকিৎসাধীন ওই চার আসামি পুলিশের সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় হাসপাতালের শয্যা থেকে তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে আসে। পরে কিছু সময় তাদের কারাগারে রেখে বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

বাদী হয়ে সোমবার রাতে আব্দুল জলিলসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এরপর হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরই তাদেরকে আটক করা হয়।

জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই চার এসআই বরখাস্ত ও দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


আরও খবর



দেশেই উৎপাদন হবে টিকা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১০৫জন দেখেছেন
Image

শুধু করোনাপ্রতিরোধী টিকা নয়, দেশে সব রোগের টিকা উৎপাদনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ভর্তি পরীক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে দেশে টিকা উৎপাদনের কাজ চলমান রয়েছে। শুধু করোনা টিকা নয়। দেশে সব রোগ প্রতিরোধে টিকা উৎপাদনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা টিকা প্রতি বছর নিতে হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনার টিকা প্রতি বছর নিতে হবে কি না, তা নিশ্চিত না, তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। টিকা উৎপাদনে কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।

বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি ভর্তি পরীক্ষা খুবই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট।

‘পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি পরীক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষার মান আরও কিভাবে উন্নত করা যায়। যেভাবে সফলতার সঙ্গে এমবিবিএস পরীক্ষা নেয়া হয়েছে সেভাবে বিডিএস পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। করোনার মধ্যেও এসব পরীক্ষাগুলো নিয়ে এসেছি। কোনো সময় এই পরীক্ষা বন্ধ ছিল না।’

তিনি বলেন, সারা দেশের ৬৫ হাজার ৯০৭ পরীক্ষার্থী ৫৪৫টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রতি আসনের জন্য লড়ছেন ১২১ শিক্ষার্থী। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ১ হাজার ৪০৮ সিট রয়েছে। মোট ১ হাজার ৯৫০টি সিট রয়েছে ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের জন্য। এই পরীক্ষা ১২টি সেন্টার ও ২৬টি কেন্দ্র নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

ডায়ারিয়া প্রতিরোধে মে মাসে টিকা দেওয়া হবে ঢাকার ৫টি স্থানে। কোন প্রক্রিয়া ও কত তারিখ থেকে এই টিকাদান শুরু হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডায়রিয়ার প্রকোপ কমাতে টিকাদান কর্মসূটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। সাধারণত কলেরা বা ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি, সেখানেই এটা দেয়া হবে। টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হবে।


আরও খবর



শ্রীনগরে প্রস্তুতি কালে ৪ ডাকাত গ্রেফতার

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৪৯৩জন দেখেছেন
Image

শ্রীনগর সংবাদদাতাঃ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে প্রস্তুতি কালে ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার ভোর ৪ টার দিকে উপজেলার তন্তর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর থানার চিটাচুনী গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন (৩৮), কসবা থানার মাহফুজ মিয়ার ছেলে ফারুক (৩৪), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার রোশন আলীর ছেলে এরদোয়েন (৩১), দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার আব্দুর রশিদের ছেলে দুলাল (৩২)।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়, রাত দেড়টার দিকে উপজেলার  কল্লিগাঁও ব্রীজের উপর শ্রীনগড় থানা পুলিশ ডিউটিরত অবস্থা গোপন সূত্রে সংবাদ পায়  তন্তুর ইউনিয়নের  কুমারবাড়ী ব্রীজের পশ্চিম পাশে টাওয়ারের সামনে কতিপয় ডাকাতদল সিএনজি যোগে দেশীয় তৈরী অস্ত্রশস্ত্র নিয়া ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই খবর পেয়ে রাত  ২টার দিকে  ঘটনাস্থলে  পুলিশের গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হলে

ডাকাতরা রাস্তার উপর থাকা তাদের ঢাকা মেট্রোর খ-১১-৮১০৯ সবুজ রংয়ের সিএনজি যোগে পালানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশের গাড়ী দিয়া সিএনজিটিকে রাস্তায় বেরিকেট সৃষ্টি করলে ডাকাতরা সিএনজি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টাকালে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ৮টি দেশীয় অস্ত্র  উদ্ধার করা হয়। 

 শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, রাতেই ৪জন ডাকাতে গ্রেফতার  করা হয়। আজ সকালে তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, গ্রিল কাটারসহ তাদের সাথে থাকা সকল দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।


আরও খবর



শ্রীপুরে আখের বাম্পার ফলন

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৯৩জন দেখেছেন
Image

সদরুল আইন,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

চলতি বছর গাজীপুরের শ্রীপুরে আখের ফলন বাম্পার হয়েছে। চাষিদের ব্যস্ততা চলছে সেই আখ মাড়াই নিয়ে। যা দিয়ে তৈরি হবে আখের গুড়। 

তবে গুড় বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় আখ চাষিরা।

স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে কম-বেশি আখ চাষ হলেও বরমী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়েছে। দিনের শুরুতে আখ চাষিরা লেগে পড়েন ক্ষেত থেকে আখ কাটা, মাড়াই আর গুড় তৈরির কাজে। মাড়াই ও গুড় তৈরিতে তাদের এ কাজ চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

দেখা গেছে, উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা গ্রামে একদিকে চলছে আখ কাটা, মাড়াই ও গুড় তৈরির কাজ। যন্ত্রের মাধ্যমে আখ মাড়াই করে বের করা হচ্ছে রস। এরপর রস ছাঁকন পদ্ধতি শেষে দেওয়া হচ্ছে বড় চুলায় রাখা পাত্রে। টিনের তৈরি এ পাত্রে রাখা রস আগুনে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গুড়।

উপজেলার বরামা গ্রামের আখ চাষি সারফুল ইসলাম জানান, এবছর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে তিনি আখ চাষ করেছেন। কিছু আখ বিক্রি করেছেন মাড়াই করা ছাড়া। বাকি দুই বিঘা জমির আখ মাড়াই শুরু করেছেন। এরপর রস দিয়ে গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন। তাতে ভালো লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

একই গ্রামের আখ চাষি আবুল কালাম বলেন, এক সময় এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে আখ চাষ করা হতো। অনেক বছর ধরে আখ চাষ বন্ধ ছিল। ইদানীং এই অঞ্চলে আবার চাষ শুরু হয়েছে। চলতি বছরে চার বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। এ ছাড়া অনেকেই আখ চাষ করেছেন। এতে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন বলেও জানান আখ চাষি কালাম।

উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বদনীভাঙা গ্রামের আখ চাষি মো. শাহজাহান বলেন, আগের দিনে আখ মাড়াই কাজে ব্যবহৃত হতো গরু-মহিষ। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে সহজে আখ মাড়াইয়ের কাজ করা হয়। আখ চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

বরমী ইউপি চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ইউনিয়নের বরামা পোষাইদ গ্রামে প্রচুর পরিমাণে আখ চাষ হয়েছে। ইউনিয়নের গুড়ের চাহিদা পূরণ করে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ গুড় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের আখে প্রচুর পরিমাণে রস হয়। স্বাদে আর মানেও সেরা।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, এ বছর শ্রীপুরে গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হয়েছে। লাভবান হওয়ায় অনেক চাষি আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। 

তিনি বলেন, আখ চাষ করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।


আরও খবর



গজারিয়ায় বিটিভির সাংবাদিক পরিচয় দানকারী দুই প্রতারক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৪২জন দেখেছেন
Image

জারিয়া সংবাদদাতাঃ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নিলয় (২০) ও জাকির হোসেন (২২) নামে দুই প্রতারক কে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। 

গ্রেপ্তারকৃত নিলয় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখাঁন উপজেলার হাজীগাঁও গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে অপর জন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মো. আলম মিয়ার ছেলে।

জানা যায়,গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের বিটিভি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন মূলক রিপোর্ট তৈরি কথা বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন দুই প্রতারক।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার হোসেন্দী দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়ন মূলক রিপোর্ট তৈরি কথা বলে অত্র মাদ্রাসার সুপার আবদুস সালাম কে ফোন দিয়ে মাদ্রাসায় আসে নিলয় ও জাকির হোসেন। একপর্যায়ে তাঁদের আচার-আচরন সন্দেহ জনক হলে তাদের আটক করে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ।

পরে পুলিশ গিয়ে দুজন কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আবদুস সালাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিটিভিতে উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান প্রচারের কথা বলে অর্থ আদায় করেছে। তাঁরা ভবেরচর ওয়াজির আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন সরকারের কাছ থেকে ৭হাজার টাকা, টেঙ্গারচর রাজিয়া কাদের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুদ্দিনের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা, ভবেরচর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মামুন ঢালীর কাছ থেকে ৫হাজার টাকা, ভাটেরচর দে এ মান্নান পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে ২হাজার টাকা নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁদের আচার-আচরন সন্দেহ জনক হলে আটক করে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবেরচর ওয়াজির আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক মুঠো ফোনে জানান, কিছু দিন আগে উপজেলার এক সরকারি কর্মকর্তা অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বার্তা প্রেরন করেন। সেখানে তিনি লিখেন আগামীকাল বিটিভি থেকে সাংবাদিক আসবে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন মুলক রিপোর্ট তৈরি করার জন্য। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আপনারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন। এমন বার্তা পাওয়ার কারনে বিদ্যালয় থেকে ৭হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে দুই প্রতারক কে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক ভাবে অর্থ আদায়,বিটিভির ভুয়া পরিচয় প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গজারিয়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আইরিন সিদ্দিকা জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সাংবাদিক পরিচয়দানকারী দুজনের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আরও খবর