Logo
শিরোনাম

হাঁটলে আয়ু বাড়বে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩০ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকতে এবং শরীর ভালো রাখতে নিয়মিত হাঁটার বিকল্প নেই। কেবল শরীর নয়, মন সতেজ রাখতেও এর তুলনা হয় না। এছাড়া যারা ওজন কমানো নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন, তাদের জন্যও হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।

প্রতি সপ্তাহে মাত্র ৭৫ মিনিটের হাঁটা ২০ মাস পর্যন্ত আয়ু বাড়ে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও ব্রিগহ্যাম উওমেন হাসপাতালের একটি যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, যদি কেউ প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত ছোটখাটো শারীরিক পরিশ্রম করেন- যেমন ৭৫ মিনিট হাঁটেন- তাহলে তিনি ৪০ বছরের পর অন্যদের তুলনায় ন্যূনতম ২০ মাস বেশি আয়ু পেতে সক্ষম।

গবেষণায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের ১০ বছরের স্বাস্থ্য রেকর্ড নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এদের মধ্যে মাত্র ৮২ হাজার মানুষ উল্লিখিত বর্ধিত আয়ু শেষ হওয়ার আগে মারা যান।

তবে স্বাভাবিক ওজনের ব্যক্তিদের জন্য এ হাঁটা আরও উপকারি হতে পারে বলে গবেষণায় জানা যায়। তারা সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে ৭ বছর দুই মাস পর্যন্ত আয়ু বাড়াতে সক্ষম।

গবেষণা বলছে, যারা গতিতে হাঁটে তাদের আয়ু গড়ে ২০ শতাংশ বাড়ে, তাদের থেকে যারা সেভাবে কম গতিতে হাঁটেন। এছাড়াও পায়ের পেশী ভালো থাকে। 

নিয়মিত হাঁটলে কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস ও স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভাল থাকে। পাশাপাশি হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারের মতো রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে নিয়মিত হাঁটার অভ্যেস। কেন আমাদের আরো বেশি হাঁটা প্রয়োজন এবং জেনে নিন হাঁটার উপকারিতা-

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

হাঁটলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে। ফলে রক্তের গ্লুকোজ কমে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। সম্প্রতি গবেষকদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, আপনি যত বেশি হাঁটবেন, তত আপনার ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা কম হবে। যিনি সপ্তাহে ৫ দিন প্রতিদিন ১০,০০০ স্টেপ হাঁটেন, তিনি ডায়াবেটিস থেকে তত দূরে থাকেন যিনি প্রতিদিন ৩,০০০ স্টেপ হাঁটেন।

ক্যানসার প্রতিরোধ করে

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ মিনিট হাঁটা ও ব্যায়াম করতে হবে। স্তন, প্রোস্টেট, ফুসফুস, কোলন ও কিডনির ক্যানসার প্রতিরোধ নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

জয়েন্টে ব্যথার উপশম করে

গাঁটে গাঁটে ব্যথা বা জয়েন্ট পেইনে ভুগলে কিন্তু হাঁটার কোনও বিকল্প খোঁজা দায়। জয়েন্টে ব্যথার উপশমই শুধু নয়, এক গবেষণা বলছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হাঁটার গুণাগুণ প্রচুর।

হার্ট ভালো থাকে

নিয়মিত হাঁটলে রক্তনালীর দেওয়ারগুলিতে চর্বি কম জমে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়াও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কাজ দেয় হাঁটার অভ্যাস। এতে কমে যায় স্ট্রোকের সম্ভাবনা।

বাড়তি মেদ ঝরায়

ডায়টেশিয়ানদের মতে, প্রতি সপ্তাহে ২৫০ মিনিট ধরে হাঁটা উচিত। অর্থাৎ প্রতি দিনের নিরিখে আধ ঘণ্টার একটু বেশি। দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে ক্যালোরি বার্নে সুবিধা হয়। আর তারফলেই শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য হয়।

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকে

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাওয়া দাওয়ার নিয়মের পাশাপাশি দরকার নির্দিষ্ট সময় মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাঁটা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লাড প্রেশারের সমস্যা কমাতে ৩০ মিনিট নিয়ম করে রোজ হাঁটলে তা উপকার দেবে।

মানসিক সুস্থতা ভালো থাকে

অফিসে বা কাজে হেঁটে যাওয়া অনেক ভালো একটি উপায়। সকালে হাঁটার অভ্যাসের পাশাপাশি কাজের জায়গায় গিয়ে আপনাকে মানসিকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করবে।‘ইট দিস ডট কম’ ওয়েবসাইটের এক গবেষণায় অ্যাংলিয়াস নরউইচ মেডিকেল স্কুলের প্রধান গবেষক অ্যাডাম মার্টিন বলেন, যারা গাড়িতে যাতায়াত করেন, তাদের মানসিক সুস্থতা বেশি খারাপ হয়। আর যারা বেশি হাঁটেন, তাদের মানসিক সুস্থতা ততই ভালো হয়।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রভাব পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। কমে যায় স্মৃতি শক্তি। তাই স্মৃতি শক্তি ভাল রাখতে নিয়মিত হাঁটার অভ্যেস করুন। নিজেকে সুস্থ রাখুন।

হাঁটার সময় যেসব কৌশল মেনে চলবেন

জার্নাল অব হ্যাপিনেস স্টাডিজের একটি গবেষণায় তারা একদল স্বেচ্ছাসেবককে হাঁটার সময় তাদের সামনে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তিনটি কৌশল মেনে চলতে বলেন। প্রথমটি হচ্ছে— তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভালোবাসা-দয়া রাখা; দ্বিতীয়টি হচ্ছে— পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা এবং তৃতীয়টি হচ্ছে— কৌশলে বলা হয় অন্যান্য লোকদের বাহ্যিক উপস্থিতি এবং চেহারা বিবেচনা করতে। গবেষণাটিতে দেখা যায়, এ কৌশলগুলো অবলম্বন করার ফলে তারা কম উদ্বেগ, আরও সুখী, আরও সংযুক্ত, আরও যত্নশীল এবং আরও সহানুভূতি অনুভব করে।

হাঁটার মাঝে মাঝে শ্বাস প্রশ্বাস ঠিক রাখতে লম্বা ও গভীর দম নিন ও ছাড়ুন। নাক দিয়ে দম নিয়ে, মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন। এতে আপনার শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আরো হাঁটার শক্তি পাবে।

হাঁটার ১০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করুন। সারাদিন এক ঘন্টা পর পর এক গ্লাস করে পানি খেলে হাঁটার সময় পানিশুন্যতা হবে না। হাঁটার সময় প্রতি ২০ মিনিটে এক কাপ করে পানি খাবেন। হাঁটার শেষে এক থেকে দুই গ্লাস পানি খাবেন।

প্রতিদিন যত বেশি হাঁটবেন, মনে হবে আপনি ততই বেশি ভাল আছেন। ভাল থাকার ব্যাপারে আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। শরীরকে যথাযথভাবে কর্মক্ষম রাখার জন্যে এবং আয়ু বাড়াতে নিয়মিত হাঁটুন।


আরও খবর

যোগাসনে ব্যায়াম হবে পুরো শরীরের

সোমবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

খালি পেটে কাঁচা রসুন কেন খাবেন

শনিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২




ঢাকায় বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার : আগে ঢাকার মতো প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথাও ছিল না। কিন্তু এরই মধ্যে সেই নিষ্কাশন ব্যবস্থা মরে গেছে। ভরাট করা হয়েছে জলাশয়, পুকুর ও খালবিল। ফলে রাজধানী শহরটি মারাত্মকভাবে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় আছে।

এতে এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছেন দেড় কোটি মানুষ, যা দেশের জনসংখ্যার ৯ শতাংশ। প্লাবনভূমি ও নদী তীরে বসতি এবং অবকাঠামো বেড়ে যাওয়ায় এ ঝুঁকি আরো বাড়ছে। ফলে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বন্যার ভয়াবহতা সামনের দিনগুলোতে আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

 ( বাংলাদেশের নদী এলাকায় মানব উপস্থিতি ও বন্যার ঝুঁকির গতিবিধি ) বিভিন্ন সময়ের উপগ্রহের ছবির একটি মূল্যায়ন’ শিরোনামের গবেষণা করে জিওকার্টো ইন্টারন্যাশনাল। যা একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশ পেয়েছে। নিবন্ধটির গবেষকদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে আট কোটি ৭০ লাখ (প্রায় পৌনে ৯ কোটি) মানুষ সরাসরি বন্যাকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব মানুষ বাস করছেন দেশের ছোট-বড় নদীগুলোর দুই কিলোমিটারের মধ্যে। এ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে মানুষের জন্য বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। যেমন, নদীর ১-২ কিলোমিটার তীরবর্তী বনাঞ্চল ৯১.৯৮ শতাংশ সংকুচিত হয়ে গেছে। তৃণভূমি ৬ শতাংশ ও অনুর্বর ভূমি কমেছে ২৭.৯২ শতাংশ। এ ছাড়াও প্লাবনভূমি আর নদী অববাহিকায় বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি।

এদিকে, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্থ অবজারভেটরির এক প্রতিবেদন বলছে, ১৯৮৮ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৫৭ লাখ। কিন্তু ২০২২ সালে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২০ লাখে। জনসংখ্যার এই ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি এখন ঢাকা। যে কারণে এখানকার বহু মানুষকে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাস করতে হচ্ছে।

ন্যাচার সাময়িকীর এক বিশ্লেষণ বলছে, ঢাকার চারপাশেই নদী। দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা, পশ্চিমে তুরাগ, উত্তরে টঙ্গীখাল ও পূর্বে বালু নদী। ২০০০ সাল থেকে বুড়িগঙ্গা ও বালু নদীর তীরে জনবসতি বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের বন্যায় ডুবে গিয়েছিল ঢাকা। এতে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। আর ১৯৯৮ সালের বন্যায় মারা যান ৯০০ জন। প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা রাতের ছবির পিক্সেলের আলো বিশ্লেষণ করে দেশের কোথায় কোথায় মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে, সে সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। ছবিতে কোথাও কোথাও আলোর উজ্জ্বলতা বেড়েছে।

আলোর উজ্জ্বলতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গবেষক দলের নেতা ও অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের নগর কিংবা গ্রামীণ অঞ্চলে আলো থাকে। যেসব অঞ্চলে শিল্পকারখানা আছে, সেখানেও আলো থাকে। নাসার বিশেষায়িত একটি উপগ্রহ আছে, যেটা কেবল রাত্রিকালীন আলোর তথ্য চিত্রায়ন করে। অর্থাৎ কোথায় আলো কমেছে কিংবা কোথায় বেড়েছে, তা ধারণ করতে পারে এ উপগ্রহ। এ রকম উপগ্রহ দিয়ে ১৯৯২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরের ডেটা নিয়েছি আমরা। কিন্তু এ গবেষণায় ২০০০-২০১৮ সালের তথ্য ব্যবহার করেছি।

বন্যার ঝুঁকি কেন বেড়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়ে এই গবেষক আরো বলেন, প্লাবনভূমি কমে গেলে বন্যার পানি কোথায় যাবে? তখন তা মানুষের বসতবাড়ি থেকে শুরু করে অবকাঠামোগুলো ডুবিয়ে দেবে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গবেষণা অনুসারে ঢাকা সবচেয়ে বেশি বন্যার ঝুঁকিতে। কারণ রাজধানীর জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নদীর পাশে বসবাস করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, আগে পানি যেখানে ওঠার কথা উঠত, এখনো যেখানে ওঠার কথা সেখানে ওঠে। কিন্তু পানি যেখানে ওঠার কথা, এখন সেখানে মানুষ থাকে। কাজেই মানুষ থাকে বলে তাদের ক্ষতি হচ্ছে। আগে ঢাকার শ্যামলী পর্যন্ত পানি আসত, কল্যাণপুরে পানি আসত। এখন মানুষ থাকতে চাইলে পানি আটকাতে হবে। আর পানিকে আটকানো হয়েছে। আর ভিতরে যাতে পানি থাকতে না পারে, সে জন্য পাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করতে চাইলে পানি সরিয়ে দিতে হবে। কাজেই পানিকে দোষ দিয়ে কিছু হবে না, পানির কাজ পানি করবেই।


আরও খবর

কল্যাণপুরে ভবনে ফাটল

রবিবার ০২ অক্টোবর 2০২2

কিশোর গ্যাং আতঙ্কে রাজধানী

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২




ছাত্রলীগের কার্যকলাপ নিয়ে সমালোচনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যকলাপ নিয়ে যে সমালোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কমিটি বাণিজ্য, হল দখল, সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, শিক্ষক লাঞ্ছনা, প্রশ্ন ফাঁসসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শাখা কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে। এর জন্য ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার অদক্ষতাকে দায়ী করছে খোদ সংগঠনেরই একাংশ।

ছাত্রলীগ নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত হচ্ছে ছাত্রলীগের অভিভাবক আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। এজন্য অবিলম্বে সম্মেলন দাবি এবং বর্তমান কমিটির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য বিচারের দাবিও করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বড় একটি অংশ।

সংগঠনের সূত্র বলছে, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ কমিটির অনেক নেতা। অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ‘জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক’ লিখে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এতে ঠিকমতো মূল্যায়ন না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ।

সংগঠনের  সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের সুনির্দিষ্ট একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেই গঠনতন্ত্র মেনে চলছেন না। তারা ছাত্রলীগকে নিজেদের বলয় কাজে ব্যবহার করছেন। যেটা সংগঠনের জন্য অশোভনীয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্মেলন দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে বারবার অবহিত করার পরও তারা আমাদের কথায় পাত্তা দিচ্ছেন না। নেতৃত্ব বিকাশের পথ যেভাবে নষ্ট হচ্ছে অবিলম্বে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করা প্রয়োজন। এভাব একটা সংগঠন চলতে পারে না। নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) দেশে ফিরলে আশা করি কার্যত পদক্ষেপ নেবেন।

শুধু বর্তমান কমিটির নেতারাই নন, সাবেক ছাত্রনেতারা জয়-লেখকের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এ থেকে সংগঠনের উত্তরণের কোনো পথ নেই। বিতর্কিত যেই হোক লাগাম টেনে ধরতে হবে। 

সম্প্রতি ইডেন কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রীদের দুই গ্রুপের কর্মকাণ্ডে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ইডেনের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এতে রিভার বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি, ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের জোর করে নিয়ে যাওয়া, সিট বাণিজ্য, ক্যান্টিন থেকে চাঁদা দাবি ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হলের ছাত্রীদের কটূক্তি ও অশালীন বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। শুধু অশালীন বক্তব্যই নয়, নিজেদের মধ্যে চুলোচুলি ও সংঘর্ষে লিপ্ত হন ইডেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা। এনিয়ে ইডেনে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছ এবং ১৬ জন নেত্রীকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা বলছেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জয়-লেখকের নিজেদেরই মেয়াদ নেই। তারা বহিষ্কারের অধিকারও হারিয়েছেন।

শুধু ইডেন কলেজ নয়, দেশজুড়ে বেশ কিছু শাখা কমিটিতে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বরাবরের মতোই নিজেদের পক্ষে সাফাইগান। তিনি বলেন, একটি পক্ষ বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে লেগেই থাকে। তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে থাকতে পারে।


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




মোরেলগঞ্জে ক্যান্সারে আক্রান্ত এক দিনমজুর বাচঁতে চায়

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক  :

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভতি কি মানুষ পেতে পারেনা ও বন্ধু”? তাইতো একটু সহানুভূতি ও সহযোগীতা চেয়েছেন মরণব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামের দিনমজুর মো. তৈয়ব আলী হাওলাদার (৬০)। একটু সহযোগীতা পেলে তিনি হয়ত জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পারে। ফিরে পেতে পারে স্বাভাবিক জীবন।   

শয্যাশায়ী ক্যান্সারে আক্রান্ত তৈয়ব আলী এক বছর পূর্বে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা অনুভুত হলে জাতীয় ক্যান্সার ইনষ্টিটিউট মহাখালী ঢাকায় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হলে রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পরে। দীর্ঘ এক বছরে অপারেশন করার পরে চিকিৎসা চালিয়ে সহায় সম্বল হারিয়েছে পরিবার নিঃস্ব প্রায়। বর্তমানে রোগ-যন্ত্রনায় খুবই কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ। তৈয়ব আলী হাওলাদারের স্ত্রী, ৫ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। তৈয়ব আলীর পূর্ব পেশা হিসেবে এ সন্তাননেরা মাছ বিক্রি করে সংসার কোন মতে চালাচ্ছে। 

চিকিৎসার জন্য মোরেলগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা দপ্তরে আবেদন করেছেন। স্বল্প সময়ে চিকিৎসা না হলে তার জীবন প্রদীপ নিভে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য সমাজের স্ব”ছল মানুষদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন অসহায় মানুষটি। হৃদয়বান ব্যক্তিরা তার পাশে দাঁড়ালে হয়তো তিনি আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

সাহায্য পাঠানোর মো. তৈয়ব আলী হাওলাদারের মেয়ে শাহানাজ বেগম, একাউন্ড নং-১৭৯৩৫, ইসলামী ব্যাংক, মোরেলগঞ্জ শাখা,বাগেরহাট। সরাসরি যোগাযোগ মোবাইল নং-(০১৭৩২-২৩৮১৮৩/০১৭১১২৮৪৩৬০)-বিকাশ-পার্সোনাল)। 


আরও খবর



পঞ্চগড় ট্রাজেডি : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ |
Image

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় তৃতীয় দিন পর্যন্ত মৃতদেহ মিলেছে ৬৮ জনের। এখনো নিখোঁজ আছেন চারজন। তাদের উদ্ধারে আজও চলছে কার্যক্রম।

উদ্ধার কার্যক্রমের তৃতীয় দিনে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৭টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। দিনাজপুরের খানসামা ও বীরগঞ্জ এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলার বিভিন্ন নদী-উপনদী থেকে এসব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আর জেলা প্রশাসনের জরুরি তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৬৮ জনের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জন শিশু, ৩০ জন নারী ও পুরুষ ১৭ জন। তবে ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। গত রবিবার দুপুরে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে শতাধীক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি। 


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে

ছাত্রলীগ কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জের ছাত্রলীগ কর্মী রাকিব হোসেন হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি দেলোয়ারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার বিকেলে র‌্যাব ১১'র মিডিয়া কর্মকর্তা রিজওয়ান সাঈদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন

গ্রেফতারকৃতরা হলো, শ্রমিক লীগের নেতা দেলোয়ার তার সহযোগি সজিব মিয়া ও রুবেল হোসেন। তাদের সকলের বাড়ি রূপগঞ্জ উপজেলায়।

র‌্যাব জানায়, রূপগঞ্জ থানাধীন গোলাকান্দাইল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে গত বুধবার (২১ সেস্পেম্বর) রাতে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে যুবলীগকর্মী রাকিবকে হত্যা করে। পরে নিহতের বোন আখি আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পরপরই হত্যাকারীরা আত্মগোপন করে। র‌্যাব মামলার আসামীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরধারী শুরু করে।

র‌্যাব ১১'র মিডিয়া কর্মকর্তা রিজওয়ান সাঈদ জানান, শুক্রবার রাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি সহ তিনজানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।


আরও খবর