Logo
শিরোনাম

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনে এগিয়ে আসে। (সূরা রা’দ : ১১)

নবী করীম (সা) বলেন, আমাকে সচ্চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের নিমিত্তেই প্রেরণ করা হয়েছে।

মানব জীবনে আখলাকের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ তার মনের আলোকেই সম্পাদিত হয়। দার্শনিক ঈমাম গাজ্জালীর মতে-যেমন গুণাবলী মানব মনে জাগরুক থাকে তারই প্রতিফলন তার বাহ্যিক কাজ-কর্মে প্রকাশিত হয়। এর আলোকে বলা যায় মানুষের কোনো কাজই তার মূল চিন্তা-চেতনা বহির্ভূত নয়। এ জন্যই যুগে যুগে সংস্কারকরা মানুষের সংশোধন ও পবিত্র জীবন যাপনের পন্থা হিসেবে তাদের আত্মার পরিশুদ্ধি ও মূল্যবোধের জ্ঞান প্রথমেই শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের উন্নতি-অবনতি, উত্থান-পতন, মান-সম্মান ইত্যাদি সব কিছুই তাদের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপরই নির্ভর করে।

উত্তম চরিত্র ইসলামী শিক্ষার অন্যতম একটি কোর্স হিসেবে পরিগণিত করা হয়। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা সমগ্র মানব সমাজের চারিত্রিক উন্নয়নে প্রচুর নির্দেশনা বিদ্যমান। মূলত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এ চরিত্রের আলোকেই হয়ে থাকে।

আখলাকের মাধ্যমেই মানুষ মনুষ্যত্বের চূড়ান্ত মানে উন্নীত হতে পারে। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। এ বিধানের পরিপূর্ণতার জন্য তাতে উন্নত চরিত্রের বিধান থাকা আবশ্যক।

তাই ইসলামে আখলাকুল হাসানাহ্ তথা উত্তম চরিত্রের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের নিমিত্তে আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রসূলদের প্রেরণ করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা) কে প্রেরণের অন্যতম কারণ সচ্চরিত্রের বিকাশ সাধন। একদা জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা) কে দ্বীনের সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বলেন, উত্তম চরিত্র। এ কথা দ্বারা বুঝা যায়, সচ্চরিত্রতা বা উত্তম চরিত্র দ্বীনের অন্যতম একটি রুকন, যা ব্যতীত দ্বীনের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না, যেমন হজ্ব সম্পর্কে রাসূলের বাণী- হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন হচ্ছে আরাফায় অবস্থান করা যা ব্যতীত হজ্ব আদায় হয় না, তেমনি সচ্চরিত্রতা ব্যতীত দ্বীন ও পরিপূর্ণ হয় না।

উত্তম চরিত্র হল পরকালে মুক্তির উপায়, ইসলামের অপরিহার্য ফরজ তথা নামাজ-রোযা পালন করা সত্তে¡ও পরকালে জাহান্নাম থেকে নাজাত ও জান্নাত লাভের জন্য আখলাক তথা উত্তম চরিত্রের কোনো বিকল্প নেই।

জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা)-কে উত্তম ঈমানদার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে যে অধিক চরিত্রবান সেই উত্তম’। উত্তম চরিত্র দ্বারা মু’মিনরা কিয়ামতে রাসূল (সা)-এর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে সবাই এক রকম হবে না।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা) বলেন, ‘কিয়ামতের দিবস তোমাদের মধ্যে আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় ও অবস্থানের ক্ষেত্রে অধিক নিকটবর্তী হবে তোমাদের মধ্যে যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী’। সৎ চরিত্রের অধিকারীর আমলনামাও ভারী হবে।

এ প্রসঙ্গে রসূল বলেন, ‘কিয়ামতের মাঠে হিসেব-নিকাশের সময় ’আ­ল্লাহ ভীতি ও চরিত্রতার গুণ’ মু’মিনের আমলনামাকে ভারী করবে।

রাসূল (সা)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেন, তিনি নিজে গুণাহমুক্ত হয়েও নিজের চরিত্র সুন্দর করার তৌফিক অর্জনের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন। যেমন তিনি দোয়ায় বলতেন, আল্লাহ তুমি আমার গঠন-আকৃতি সুন্দর করেছ, আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দাও।

আল্লাহ তায়ালা রসূল (সা) এর উত্তম চরিত্রের প্রশংসাও করেছেন, তিনি বলেন, ‘আপনি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত’। (সুরা কলম : ৪)

আয়াতে মহান আল্লাহ কর্তৃক রসূল (সা)-এর আখলাকের প্রশংসা করেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রচুর আয়াতে আখলাকের বিবরণ ও চরিত্রবানদের প্রশংসার বাণী উদ্ধৃত হয়েছে, মাক্কী ও মাদানী উভয় সূরাগুলোতে আখলাকের নির্দেশ বেশি থাকায় এর গুরুত্বেরও আধিক্য বুঝা যায়, যা থেকে কোনো মুসলিমের দূরে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার রাসূল (সা)-এর উত্তম চরিতে চরিত্রবান করুন।

আমিন


আরও খবর

শারদীয় দুর্গোৎসব কাল শুরু

শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২




কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৪ জন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

কু‌মিল্লা ব্যুরো ঃ

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ জেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৪ জন। এর মধ্যে মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ১৪৫ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার ৫২৯ জন। নোয়াখালী, ফেণী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৭৪ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই ৬ জেলার ১ হাজার ৭৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এবছর এসএসসি’র জন্য ২ লাখ ২০ হাজার ২৮৮ জন রেজিষ্ট্রেশন করলেও পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৩ জন শিক্ষার্থী। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০৪ জন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে,   কুমিল্লা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী কুমিল্লা জেলায়- ৬৫ হাজার ১৫৪ জন। এছাড়া নোয়াখালী জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৮১৭ জন, ফেণী জেলায় ১৮ হাজার ৫৩৯ জন, লক্ষ্মীপুর জেলায় ১৬ হাজার ৭৫৮ জন, চাঁদপুর জেলায় ২৮ হাজার ১৮৫ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ২৮ হাজার ২১১ জন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আবদুস ছালাম জানান, কুমিল্লা বোর্ডের এসএসসির সকল পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সবাই যথা সময়ে পরীক্ষায় আসবেন বলেই আশা করছি।

এদিকে ২০২২ সালের কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ জেলায় এসএসসির জন্য রেজিষ্ট্রেশনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ২০ হাজার ২৮৮ জন, এর মধ্যে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৩ জন। রেজিষ্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় বসছে না প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। পরীক্ষায় না বসা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ঝরে গেছেন শিক্ষা জীবন থেকে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও স্কুল প্রধানরা বলছেন, মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার মূল কারণ বাল্য বিবাহ, আর ছেলেরা ঝুঁকছে উপার্জনে। আর প্রত্যন্ত এলাকায় এই ঝরে পড়ার হার বেশি। ১৫ সেপ্টেম্ব থেকে শুরু হচ্ছে এবছরের এসএসসি পরীক্ষা।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান জানান,  পরীক্ষার জন্য ফম পূরণ না করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবাই শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়েছে এমন নয়, এর মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত শিক্ষার্থীও রয়েছে। তবে বেশির ভাগই পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছেন এমন।

তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারির পর যে বিষয়টি লক্ষ্যনীয় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকেই দেখা যাচ্ছে অষ্টম শ্রেণী পাশের সনদ দিয়ে কোন না কোন চাকরি খুজছেন। যে কারণে অনেকে রেজিষ্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় বসছে না।  আর মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার মূল কারণ বাল্য বিবাহ।

১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে. কুমিল্লা ফেণী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং লক্ষীপুর জেলায় এসএসসির জন্য মোট রেজিষ্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ২৮৮ জন। কিন্তু পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৩ জন। রেজিষ্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় বসছে না ৩৬ হাজার ৯৪৫ জন পরীক্ষার্থী। রেজিষ্ট্রেশন করা ৮৯ হাজার ৫৮১ জন ছাত্রের মধ্যে ফরম পূরণ করেছেন ৭৮ হাজার ৩৯৬ জন; ঝরে পড়েছে ১১ হাজার ১৮৫ জন। অপরদিকে রেজিষ্ট্রেশন করা ১ লাখ ৩০ হাজার ৭০৭ জন ছাত্রীর মধ্যে ফরম পূরণ করেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৯৪৭ জন; এর মধ্যে ঝরে পড়েছে ২৫ হাজার ৭৬০ জন। পরিসংখ্যান বলছে, ছেলে শিক্ষার্থীদের চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যা বেশি। ঝরে পড়া মেয়ে শিক্ষার্থীর হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ছেলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।     

এদিকে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৩০ হাজার, যদিও বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে- অনিয়মিত পরীক্ষার্থী না থাকায় কমে এসেছে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২১ সালের পরীক্ষা পদ্ধতিতে পাশের হার প্রায় শতভাগ থাকায় অকৃতকার্যের সংখ্যা নেই, যে কারনে এবছর অনিয়মিত হিসেবে পরীক্ষার্থী নেই।


আরও খবর

১১০০ শিক্ষকের সনদ জাল

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২




সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

শফিউল আলম, স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞাত ব্যক্তির(৫০) মৃত্যু হয়েছে।১৯ সেপ্টেম্বর সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১থেকে দেড় বছর যাবত এই অজ্ঞাত(৫০)ব্যক্তি শক্তিয়ারখলা বাজারে থাকতো।বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট মোহাম্মদ ছবাব মিয়া জানান,১৭ সেপ্টেম্বর রাতে পরিষদের সামন থেকে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় গ্রামপুলিশের মাধ্যমে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তানভীর আহমদ জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর(সোমবার)সকালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরমৃত্যু হয়। সেইসাথে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।অজ্ঞাত  ব্যক্তির লাশ হস্তান্তর বিষয়ে সত্যতা জানিয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার এস আই আলিম উদ্দীন  জানান,অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরও খবর



জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে.. প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত এবং সময়োপযোগী প্রচেষ্টা কোভিড-১৯ মহামারি থেকে বহু জীবন বাঁচিয়ে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে পারে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সফলভাবে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করেছে এবং অনেক জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা করে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে, মহামারির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাবে। তবে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত এবং সময়োপযোগী প্রচেষ্টা সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে পারে।

এই সম্মেলন সর্বশেষ গবেষণার তথ্য ও কৌশল শেয়ার করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে এবং ব্যথা, ব্যথার ওষুধ, মূল্যায়নের সরঞ্জাম এবং ব্যথা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য একটি ফোরাম গঠনে সহায়তা করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ানস-বিএসএ-সিসিপিপিকে অভিনন্দন জানান এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৫টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১৬টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। গত এক দশকে সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বেসরকারি খাতে দেশে প্রচুর সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে ৩০টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




শিক্ষক রনির স্বীকারোক্তি

অদিতাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ অনুপ সিংহ,

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর লক্ষীনারায়ণপুরে অষ্টম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে প্রাইভেট শিক্ষক আবদুর রহিম রনি। এদিকে স্কুল ছাত্রী অদিতা হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গন ও রাজপথ।

অভিযুক্ত আবদুর রহিম রনি (৩০) নোয়াখালী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষীনারায়ণপুর মহল্লার লাতু কাউন্সিলরের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে। 

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এসপি নিজ কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্সে বলেন, রনি নামে এক যুবকের কাছে প্রাইভেট পড়ত নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অদিতা। হঠাৎ করে অদিতা তার কাছে প্রাইভেট পড়তে অনীহা প্রকাশ করে এবং নতুন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করে। এতে রনি নাখোশ হয়। এ বিষয়সহ অদিতার ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানার জন্য তাৎক্ষণিক রনিকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন তার তুথনি ও ঘাড়ে নখের আঁচড়ের তাজা দাগ দেখতে পায়। নখের আঁচড়ের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আঁচড়ের ব্যাপারে তার থেকে কোন সদুত্তর না পেয়ে তার বিষয়ে আরো সন্দেহ জোরালো হয়। তখন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষে আদালতে সোপর্দ করে ১০দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রনি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।   

এসপি আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অদিতার বাসায় যায় সাবেক কোচিং শিক্ষক রনি। বাসায় গিয়ে বন্ধ দরজা নক করলে অদিতা বাসার দরজা খুলে দেয়। তখন সে বাসায় প্রবেশ করে অদিতার সঙ্গে গল্পগুজব করে। গল্পগুজবের একপর্যায়ে রনি অদিতাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন কারণে ব্যর্থ হয়। এরপর রাগান্বিত হয়ে অদিতা বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে রনি অদিতাতে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।  পরবর্তীতে রান্না ঘর থেকে ছোরা এনে অদিতার বাম হাতের রগ এবং গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে হাতের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর আসামি রনি ঘটনাকে ভিন্ন খাতে রুপ দিতে ঘরের আলমিরা ও ওয়ারড্রবের জামা-কাপড়, কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রুমের দরজা লক করে এবং মূল ঘরের দরজা বাহির থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি রনি এসব কথা বলেন। 

উলেখ্য, গত বৃহষ্পতিবার বিকেলে জেলা শহর মাইজদীতে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) গলাকেটে হত্যা করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধারের পরপর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাবেক গৃহ শিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে (২০), ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদ (২০) গ্রেফতার করে। গতকাল আদালত রনির ৩ দিনের মঞ্জুর করে।


আরও খবর



কুমিল্লার বাঙ্গরায় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

কু‌মিল্লা ব্যুরো ঃ

কুমিল্লার বাঙ্গরায় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।                                        শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার মুরাদনগর উপ‌জেলার বাঙ্গরা বাজার থেকে শেখ আকরাম নামের ওই আসামিকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনতাই করা হয়। 

আসামি আকরামের বড় ভাই ওই ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে বাঙ্গরা থানারএসআই রনি নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, গত ৪সেপ্টেম্বর ফুয়াদ নামে এক স্কুল ছাত্রকে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা দায়ের করেন দৌলতপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ছোট ভাই শেখ আকরাম সহ ৪জনকে আসামি করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব আসামিদের গ্রেফতারে খাপুরা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শেখ আকরামকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার পথে বাঙ্গরা বাজারে ইউপি  চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় হ্যান্ডকাফ  পরিহিত আকরামকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। এতে পুলিশের এসআই রনি আহত হয়। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, আমরা পুলিশের ওপর হামলা করিনি, আমার ভাই শেখ আকরামকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এলাকার লোকজন তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করেছে, আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা সঠিক নয়। 

 মুরানগর উপ‌জেলার বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, এজহার নামীয় আসামি শেখ আকরামকে খাপুরা  গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে থানায় নিয়ে আসার পথে বাঙ্গরা বাজারে পুলিশের উপর হামলা করে হ্যান্ডকাফসহ আসামী আকরামকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও খবর