Logo
শিরোনাম

ইটনায় সরকারি স্কুলের তদন্ত রিপোর্টে "জজমিয়া কাহিনী"

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মোঃ মুজাহিদ সরকার কিশোরগঞ্জ ঃ

ইতিহাসের পাতায় জজমিয়ার কাহিনী এক নাটকীয় মিথ্যা গল্প। কোন বানানো গল্প বা নাটকীয় মিথ্যা গল্পের কথা আলোচনা হলেই ইতিহাসের পাতা থেকে "জজমিয়ার" নাম চলে আসে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল; ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে তাঁর সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এই হামলায় ২২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আড়াইশর বেশি লোক, যারা এখনো গ্রেনেড হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এই গ্রেনেড হামলার কথা উঠলেই হতাহত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি আরেকটি নাম ঘুরে ফিরে আসে। তিনি জজ মিয়া। 

গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিচারের প্রহসনের নামে লজ্জাজনক এক নাটক সাজায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাসের পাতায় এটি ‘জজ মিয়া নাটক’ নামে জায়গা করে নেয়। গ্রেনেড হামলার সত্যিকারের অপরাধীকে আড়াল করার জন্য নিরপরাধ সিডি বিক্রেতা জজ মিয়াকে আটক করে হামলার মূল হোতা বানানোর চেষ্টা করে বিএনপি সরকার।

তেমনি আর একটি জজমিয়ার কাহিনীর মত ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের ভয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্ত রিপোর্টে। 

গত ২৮ আগস্ট "ইটনায় সরকারি স্কুলে বেলা ১২টায় শিক্ষক আসে নাই, ক্লাস নিচ্ছেন দপ্তরী" নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই নিউজ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা যেমনঃ দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক আমার সংবাদ, দৈনিক দেশবাংলা, দৈনিক আজকের পত্রিকা সহ বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশিত হবার পর কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক তদন্তের নির্দেশ দেন ইটনা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন কে। নির্দেশ মোতাবেক ২৯ আগস্ট তদন্ত করার জন্য ভয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে তদন্ত রিপোর্ট পাঠান তদন্ত কর্মকর্তা।

০৫ আগস্ট (সোমবার) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে দুইজন সহকারী শিক্ষক মুক্তাহার ইয়াসমিন এবং পপি দাস কে শোকজ করেছেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক জানান, উপজেলা থেকে তদন্ত রিপোর্টে তিনি পেয়েছেন 'ভয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের নৈমিত্তিক ছুটি ছিল এবং উক্ত স্কুলে একজন সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসাইন যথাযথ সময়ে স্কুলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি স্কুলের দ্বিতীয় তলায় ক্লাসে ছিলেন।

এবার আসি নতুন "জজমিয়ার গল্পে" গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ কে মিথ্যা বানানোর জন্য জজমিয়ার গল্পের মতোই তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে কারন উক্ত তারিখে প্রতিবেদক সরজমিনে যখন ভয়রা স্কুলে উপস্থিত হন তখন ঘড়ির কাটায় সময় আনুমানিক সকাল সারে এগারোটা (১১:৩০) বাজে।

স্কুলে প্রতিবেদক উপস্থিত হবার পর দেখা যায় একটা স্কেল হাতে একজন ব্যক্তি ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। তখন সংবাদ প্রতিবেদক ঐ ব্যক্তি পরিচয় জিজ্ঞেস করলে জানতে পারেন তিনি স্কুলের দপ্তরী, উনাকে জিজ্ঞেস করা হয় স্কুলে কোন স্যার-ম্যাডাম নাই? তখন দপ্তরী নূরে আলম প্রতিবেদক কে জানান, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম স্যারের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে হাসপাতালে আছেন, বাকি স্যার ম্যাডাম এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করতেছি উনারা মনে হয় রাস্তায় আছেন আপনি একটু অফিসে এসে বসেন, আমি স্যার ম্যাডামকে ফোন দিচ্ছি আর আপনার জন্য চা নাস্তার ব্যবস্থা করতেছি আপনি একটু বসেন। তখন সংবাদ প্রতিবেদক অফিস কক্ষে ঢুকতেই দেখতে পান একজন বসে আছেন তিনি উক্ত বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির বিদ্যোৎসাহী মোঃ মাহাতুবুদ্দিন (স্কুলে স্যার-ম্যাডাম নাই এবং দপ্তরী নূরে আলম স্যার-ম্যাডাম কে ফোন দিচ্ছে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত)।

কোন শিক্ষকদের না পেয়ে প্রতিবেদক সকাল ১১: ৩৯ মিনিটে ইটনা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন কে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানোর পর তিনি বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছেন জানান (রেকর্ড সংরক্ষিত)।

প্রতিবেদক বিদ্যোৎসাহী মোঃ মাহাতুবুদ্দিন কে নিয়ে স্কুলে ক্লাস গুলো দেখার জন্য দ্বিতীয় তলায় যান, তখন সাথে উক্ত স্কুলে সাবেক শিক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছিলেন। স্কুলের দপ্তরী নূরে আলম দ্বিতীয় তলার শ্রেণিকক্ষে তালা খুলে দেখান। তখন দ্বিতীয় তলায় ৬-৮ জন শিক্ষার্থী ছাড়া কোন শিক্ষক ছিলেন না (ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত)। স্কুলের প্রতিটা ক্লাস কক্ষ ঘুরে দেখার পর উপস্থিত সবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় (ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত)।

তদন্ত রিপোর্টে সরকারী শিক্ষক ইকবাল হোসাইন লিখেছেন তিনি স্কুলে ছিলেন এবং ক্লাস করাচ্ছিলেন তাহলে প্রশ্ন ০১) যখন দ্বিতীয় তলায় সংবাদ প্রতিবেদক, অভিভাবক গিয়েছিলেন দপ্তরি সহ তখন তিনি কোথায় ছিলেন? ০২) দপ্তরী নূরে আলম কেন বলেন নাই একজন শিক্ষক উপরে আছেন? ০৩) একজন অপরিচিত মানুষ স্কুলে গিয়ে ছবি তুলেছেন তখন সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসাইন কেন উনার পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন না? ০৪) সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসাইন প্রায় বারোটার সময় স্কুলে উপস্থিত হয়ে সংবাদ প্রতিবেদক চলা যাবার সময় তার সাথে কথা বলেন, বিভিন্ন রিকোয়েস্ট করেন, পরে তিনি কেন প্রতিবেদক এর নৌকা ভাড়া ২০টাকা নৌকার মাঝি কে জোর করে ধরিয়ে দেন? ০৫) সংবাদ প্রতিবেদক স্কুল থেকে চলে আসার পর

সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসাইন কেন সংবাদ প্রতিবেদকের মুঠোফোনে ফোন দিয়ে রিকোয়েস্ট করেন যেন উনার বিষয়টি একটু দেখার জন্য, তিনি যে ১২টার সময় স্কুলে আসছেন এই সময়টা একটু কমিয়ে লেখার জন্য ০৬) প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মুঠোফোনে শিক্ষক নাই বিষয়টি অবগত করলে, তিনি তখন কেন বললেন সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসাইন এবং পপি দাস কিশোরগঞ্জ থেকে আসতেছেন রাস্তায় আছেন, আপনি একটু বসেন (রেকর্ড সংরক্ষিত )। তদন্ত রিপোর্ট জানাজানি র পর আলোচনা ঝড় উঠেছে সচেতন নাগরিক এবং শিক্ষক সমাজে। কেউ কেউ বলছেন ঐ দিন প্রায় ১২:০০ টার সময় ইকবাল কিশোরগঞ্জ থেকে স্কুলে এসেছে এটা আমরা সবাই জানি কিন্তু এখন তদন্ত রিপোর্ট বলতেছে ইকবাল নাকি ঐদিন স্কুলে ছিল, তদন্ত রিপোর্ট মিথ্যা। সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি সত্য কে মিথ্যা করার জন্য এই তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, আবার সঠিক ভাবে তদন্ত করা উচিত। প্রতিবেদক মোঃ মুজাহিদ সরকার বলেন, আমার তথ্য বহুল সত্য প্রতিবেদন কে মিথ্যা করার জন্য একটা অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য আমার সংবাদ টি যেকোন উপায়ে মিথ্যা প্রমাণিত করার পর আমার ক্ষতি করার। সাংবাদিক মুজাহিদ সরকার আরও বলেন, হাওর এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আরও প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে ইনশাল্লাহ। 

তদন্ত রিপোর্ট পাঠানোর বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এবং ইটনা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইকবাল হোসাইন যদি মিথ্যা লিখিত দিয়ে থাকেন এবং তথ্য গোপন করে থাকেন তাহলে আবার তদন্ত করে রিপোর্ট দিব এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক জানান, তদন্ত রিপোর্টে আলোকে দুইজন সহকারী শিক্ষক কে শোকজ করেছি। শোকজ এর উত্তর আসলে সন্তুষ্টমূলক না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিব। সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসাইনের তথ্য গোপন করা এবং তিনি ১২টার সময় স্কুলে এসে লিখিত তদন্ত রিপোর্টে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি স্কুলে ছিলেন এই বিষয়ে তিনি বলেন, আপনার কাছে যত প্রমাণ আছে আমাকে পাঠান আমি দেখতেছি এই রকম হলে সেও শাস্তি পাবেন।


আরও খবর



তরিকা সমূহের বর্ণনা, তরিকা কি ?

প্রকাশিত:শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, ও গবেষক

বহুল পরিচিত পাঁচ তরিকার বিবরণ :

কাদেরিয়া তরিকা
চিশতিয়া তরিকা
নকশবন্দিয়া তরিকা
মোজাদ্দেদিয়া তরিকা
মাইজভান্ডারীয়া তরিকা

তরিকা কি?
তরিকা শব্দটি আরবী তারিক শব্দ হইতে পরিগৃহীত হইয়াছে, ইহার বাংলা অর্থ হইল পথ, রাস্তা ইত্যাদি। কিন্তু অবশ্যই বুঝিতে হইবে যে, এই পথ কোন সাধারণ পথ নয় বরং মহান আল্লাহ্র নৈকট্য হাসিল করার নিমিত্তে যে পথ অতিক্রম করা হইয়া থাকে মূলত সেই পথকেই তরিকা বলা হইয়া থাকে। ইসলামী আধ্যাত্মিক পরিভাষায় তরিকা হইল বেলায়েতের জ্ঞান অর্জন করিতে আল্লাহর অলিগণের প্রবর্ত্তিত বিভিন্ন সাধন পদ্ধতি আর সে পথটির সিলসিলা হইতেছে নিম্নরূপ:

পবিত্র কোরআনের দিক নির্দেশনা এবং রাসূল সা. ও তাঁহার পবিত্র আহ্লে বাইত আ.- এর দিক নির্দেশনার আনুগত্য করাই হইতেছে- মহান আল্লাহ্র নৈকট্য হাসিল অর্থাৎ পরিপূর্ণতায় পৌঁছানোর পথ।
পবিত্র কোরআনে বলা হইয়াছে:

লাকাদ কানা লাকুম ফি রাসুলিল্লাহ্ উসওয়াতুন হাসানাহ্…”

অর্থ: আল্লাহ্ রাসূলের মধ্যেই রহিয়াছে তোমাদের জন্য সকল সুন্দরের আদর্শ।

রাসূল সা. কর্তৃক মদিনা মোনওয়ারাহ্তে তৌহিদ বা এলাহিয়্যাতের শিক্ষা তথা মারেফাত অর্জনের যে শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল, তাহার পথ চলা শুরু হইয়াছিল পবিত্র কোরআন ও রাসূল সা.-কে আনুগত্যের মাধ্যমে। হযরত আলী রা. যেহেতু রাসূল সা.-এর একনিষ্ঠ বিশ্বস্ত এবং গোপন ভেদের আমিন ছিলেন তাই তাঁহার পরে তিনিই দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি এই শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। তিনি স্বীয় জীবদ্দশায় বহু শিষ্য তৈরী করিয়াছিলেন এবং রাসূল সা.- এর পরে তাঁহার সকল শিষ্যই হযরত আলী রা.-এর শিষ্যে পরিণত হইয়াছিলেন।

হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সা.- কে সূফীগণ প্রথম ও শ্রেষ্ঠ পীর বলিয়া অভিহিত করেন এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের মূল উৎস বলিয়া মনে করেন। সেই জন্য হযরত রাসূলে করীম সা. হইতেই সমস্ত তরিকার উদ্ভব।

হযরত নবী করীম সা. তাঁহার বিশেষ কিছু সাহাবীকে মিনহাজ বা তাসাওউফ বা তত্ত্ব দর্শন শিক্ষা দান করিয়াছেন। তাঁহাদের উল্লেখ যোগ্য হইলেন - হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা., হযরত ওমর ফারুক রা., হযরত আলী রা., হযরত সালমান ফারসী রা., হযরত আবু জর গিফারী রা., হযরত আবু হোরায়রা রা., হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা., হযরত মিকদাদ রা., হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রা., হযরত মাআজ রা. প্রমুখ।

হযরত আবু বকর রা.-এর মাধ্যমে বর্তমানেও দুইটি তরিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এই তরিকা দুইটি হইল: নকশবন্দিয়া ও মুজাদ্দেদিয়া।

হযরত ওমর রা.-এর মাধ্যমে প্রচারিত তরিকার বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নাই। হযরত সালমান ফারসী রা. ইয়ামেন অঞ্চলে তরিকত প্রচার করিতেন। নকশবন্দিয়া ও মোজাদ্দেদিয়া তরিকার শাজারা মোবারকেও তাঁহার নাম রহিয়াছে।

হযরত আলী রা.-এর মাধ্যমে প্রচারিত তরিকার উপর ভিত্তি করিয়াই কাদেরিয়া, চিশতিয়া ও মাইজভান্ডারীয়া তরিকা  সহ বিভিন্ন তরিকা ও উপ-তরিকা বর্তমানে বিদ্যমান রহিয়াছে। তাঁহার প্রচারিত তরিকা প্রধানতঃ তাঁহার পুত্রদ্বয় হযরত ইমাম হাসান রা. ও হযরত ইমাম হোসাইন রা. এবং বিশিষ্ট তাবেঈন হযরত হাসান বসরী রহ.-এর মাধ্যমে প্রচারিত হইয়াছে।  

বিভিন্ন তরিকার নিয়ম-কানুন, আধ্যাত্মিক সুলুক ও তালিম সু-সংগঠিত ও সু-সংবদ্ধ হয় খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীর দিকে। ইহার পূর্বে সূফীগণের আধ্যাত্মিক অনুশীলন মুখে মুখে চলিয়া আসিতেছিল। এই সময় (১০ম শতাব্দীতে) আধ্যাত্মিক সাধনার সু-বিখ্যাত কুতুব ও প্রৌজ্জ্বল পীর-মোর্শেদগণ বিভিন্ন তরিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সকল সূফী-পীর স্বীয় তরিকার ইমাম ও কুতুব হিসাবে পরিগণিত। কাল-কালান্তরে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা., হযরত আলী রা.ও হযরত ওয়াইস করনী রহ.-এর তরিকার উপর ভিত্তি করিয়াই উল্লেখযোগ্য সূফী-সাধকগণের মাধ্যমে অনেক তরিকা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। তাঁহাদের সাধন পদ্ধতির পার্থক্যের কারণেই তরিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়াছে। তরিকা সমূহের সংখ্যা নির্দিষ্ট করিয়া বলা দুষ্কর। কাহারো মতে, তিন সহস্র বা ততোধিক। এই সকল তরিকার মধ্যে বহু সংখ্যক তরিকা অবলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। প্রায় চারশত তরিকার সন্ধান পাওয়া যায়।

বহুল পরিচিত পাঁচ তরিকার বিবরণঃ

ভারত বর্ষে তিন শতাধিক তরিকার মধ্যে বহুল পরিচিত তরিকা গুলি হইল - কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদিয়ামাইজভান্ডারীয়া । 


( চলবে ...........)


আরও খবর

সুফিবাদ ও ইসলাম

রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২




ধর্ষণ মামলায় মামুনুল হকের আদালতে হাজিরা

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায়  হেফাজতে ইসলাম সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের আদালতে হাজিরা। দুজন পুলিশ কর্মকর্তা সাক্ষ্য।

নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রির্সোট কান্ডের ঘটনায় থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় ৭ম দফায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আরও দুজন পুলিশ কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা হলেন- এএসআই বোরহান দর্জি, এবং এএসআই ওবায়েদ হোসেন।৩ অক্টোবর সোমবার নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। কড়া নিড়াপত্তায় সকাল ১১টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে তাকে উঠানো হয়।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় আরও দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মোট ১৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলার চার্জশিটে সাক্ষী রয়েছেন ৪০ জন। 

প্রসঙ্গত,  ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।


আরও খবর



শুভ জন্মদিন জনকের যোগ্য উত্তরসূরী

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, গবেষক :

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বলেছিলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। কথা তিনি রেখেছেন দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য তার দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে। রাষ্ট্রনায়ক থেকে নিজেকে নিয়ে গেছেন বিশ্বনেতার কাতারে। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মগ্রহণের দিন। শুভ জন্মদিন শেখ হাসিনা।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী-বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। এবছর তাঁর ৭৬তম জন্মদিন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর সাধারণ আলোচনায় অন্যান্য বছরের মতো বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন একটি রোল মডেল। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিশ্বনেতাদের। মিয়ানমারে জাতিগত নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই মহামারীর ধাক্কার পরও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এশিয়ার প্রায় সব দেশের ওপরে। সঠিক নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ, মানুষের জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা, অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রণোদনা ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষকে করেছেন ক্ষুধামুক্ত।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেবার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। বিশেষত শিক্ষা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম।

গত ১৩ বছর ধরে শেখ হাসিনার বিশ্বাসযোগ্য ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যতিক্রমীভাবে দুর্দান্ত সফলতা অর্জন করেছে। ফলস্বরূপ, বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে তাঁর নিরন্তর পরিশ্রম যেমন সারা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে অনেক আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৪০টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরষ্কার পেয়েছেন। বিভিন্ন সূচকে দেশের অগ্রগতির কারণে এ সম্মান অর্জন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রথমবার ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী এবং বাঙালীর দুই দশকের বেশি সময়ের যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবদান স্বরূপ ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো হোফোয়েট বোইগনি শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত করেন তাকে।

১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মান সূচক ডক্টর অব লজ উপাধি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই জাপানের বিখ্যাত ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর গ্রেট ব্রিটেনের ডান্ডি অ্যাবার্তে বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমার্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিবারেল আর্টস ডিগ্রি প্রদান করে।

১৯৯৭ সালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি শান্তি, গণতন্ত্র ও উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে নেতাজী মেমোরিয়াল পদক ১৯৯৭ প্রদান করে।

১৯৯৭ সালে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের রোটারি ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে পল হ্যারিস ফেলো নির্বাচিত করে এবং ১৯৯৬-৯৭ সালের সম্মাননা মেডেল প্রদান করে।

একই বছর লায়ন্স ক্লাবসমূহের আন্তর্জাতিক অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ১৯৯৭ সালে রাষ্ট্রপ্রধান পদক-এ ভূষিত হন শেখ হাসিনা।

পাবর্ত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইউনেস্কো শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালের ফেলিক্স হুফে বইনি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেন।

১৯৯৮ সালের ১২ এপ্রিল শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে মাদার তেরেসা পদক প্রদান করে নিখিল ভারত শান্তি পরিষদ।

নরওয়ের রাজধানী অসলোয় অবস্থিত মহাত্মা গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালের এম কে গান্ধী পদক প্রদান করে। ১৯৯৯ সালে ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ঋঅঙ) কর্তৃক সেরেস পদক লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অসাধারণ অবদানের জন্য ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ উপাধি প্রদান করা হয়। ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে (Doctor Honor is Cauca) প্রদান করে।

২০০০ সালে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য ম্যাকন ওমেনস কলেজ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পার্ল এস বাক পদক লাভ করেন তিনি।

২০০০ সালে আফ্রো-এসিয়ান ল ইয়ার্স ফেডারেশন প্রদত্ত পারসন অফ দ্যা ইয়ার নির্বাচিত হন তিনি।

২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে।

২০০৫ সালের জুন মাসে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির স্বপক্ষে অবদান রাখার জন্য শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে পিপলস ফ্রেন্ডসশিপ ইউনির্ভাসিটি অব রাশিয়া।

২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্বখ্যাত ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পদক ২০০৯-এ ভূষিত হন শেখ হাসিনা।

২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নে অসমান্য অবদানের জন্য St. Peters burg বিশ্ববিদ্যালয় Honorary Doctorate প্রদান করে।

শিশুমৃত্যু হ্রাস সংক্রান্ত এমডিজি-৪ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ কর্তৃক এমডিজি অ্যাওয়ার্ড-২০১০ পুরস্কার লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১১ সালে প্যারিসের ডাউফিন ইউনিভার্সিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক ও ডিপ্লোমা পুরস্কার প্রদান করে।

আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন, সাউথ-সাউথ নিউজ ও জাতিসংঘের আফ্রিকা সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কমিশন কর্তৃক যৌথভাবে প্রদত্ত South-South Awards 2011 : Digital Development for Digital Health শীর্ষক পদক লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের হাউস অব কমনসের স্পিকার John Be cow, MP

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার অনবদ্য অবদানের জন্য Global Diversity Award প্রদান করেন।

২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলা একাডেমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।

২০১২ সালের ১২ জানুয়ানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে ত্রিপুরা সেন্ট্রাল ইউনির্ভাসিটি। শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্বের দূরদৃষ্টি এবং শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

৬ ডিসেম্বর, ২০১২ সালে, তাঞ্জানিয়ায় অনুষ্ঠিত GAVI alliance Partners Forum এ বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। টীকাদান কর্মসূচীতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অন্য ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

৮ই জুন, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল এর তরফ থেকে রোটারী শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

১৩ই জুন, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহনের জন্য আমন্ত্রণ জানান জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল হোসে গ্রাজিয়ানো দা সিলভা।

২০১৩ সালের ১৬ জুন জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা দারিদ্র্যতা, অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় বাংলাদেশকে ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড পদকে ভূষিত করে।

২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ পুরস্কার লাভ করেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার স্বপ্ন-প্রসূত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত তথ্যপ্রযুক্তি মেলায় সাউথ এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক ম্যানহাটন অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ পদকে ভূষিত হয়।

নারী শিক্ষায় অনবদ্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে শান্তি বৃক্ষ স্মারক তুলে দেয়। ৮ই সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা তাঁর হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেন।

২০১৪ সালের ২১শে নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরষ্কারে ভুষিত করা হয়।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৫ তারিখে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্ল্যানেট ৫০-৫০ পুরস্কারে ভূষিত করেছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউএন ওম্যান

গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এজেন্ট অফ চেঞ্জ পুরস্কারে ভূষিত করে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য ও সাহসী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, মূল্যবোধ, কৃষি, অর্থনীতি, রেমিট্যান্স, বিদ্যুৎ, বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশবাসীকে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। শুধু আর্থিক বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়েছে, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন রকমের সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের স্বীকৃতি মিলেছে। বাংলাদেশের সফলতা ও নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন ও নানাবিধ সম্মানে ভূষিত হয়ে বাংলাদেশের নাম বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল করেছেন। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এখন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। বিশ্ব গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা এখন বহুল আলোচিত ও প্রশংসিত নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনা ছাড়া এমন গুণাবলিসম্পন্ন আর কোনো নেতা বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। এ কারণে তাঁর সাথে অন্য কোনো নেতার তুলনা চলে না, শেখ হাসিনা নিজেই নিজের তুলনা।

 


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




নারায়ণগঞ্জে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার,জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার

প্রকাশিত:রবিবার ০২ অক্টোবর 2০২2 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ঝোঁপের ভেতরে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ কাউসার , কামরুজ্জামান শিমুল ওরফে শ্যামল , ফাহিম ওরফে জিকো । এছাড়াও লিমন  ও হানিফ নামের আরও দুই জন এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতর সকলেই বন্দর উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে তারা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার বর্ননা দিয়েছে। 

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা এসব তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার দিকে নিহত কায়েস  তার মিশুক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। রাতে বাসায় না ফেরায় পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দর থানায় একটি ডায়েরী করা হয়। (জিডি নং- ১৩৫৯ তারিখ- ২৯-০৯-২০২২)। শনিবার  কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কান্দিপাড়া নরপদি এলাকার একটি ঝোঁপ থেকে  কিশোরের কায়েসের  হাত পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা এসে নিশ্চিত করে এটি নিঁখোজ মিশুক চালক কায়েসের লাশ। নিহত কায়েস নবীগঞ্জ নোয়াদ্দা এলাকার মোঃ কাশেম মিয়ার ছেলে। পরে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।১২ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃত শ্যামল, জিকো, লিমন ও হানিফ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নিহত কায়েসের অটো ভারা করে সাবদি ব্রীজের নিচে যায়। সেখানে মদ পান করে, অতঃপর সেখানেই কায়েসকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে লাশ গুম করার জন্য সেখানেই লাশ ফেলে মিশুক নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।


আরও খবর



কলড্রপের ক্ষতিপূরণ বাড়ছে ১ অক্টোবর থেকে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : মোবাইল ফোনে প্রতি কলড্রপের জন্য তিনটি পালস ৩০ সেকেন্ড ফেরত পাবেন গ্রাহক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হবে। বিটিআরসি থেকে মোবাইল অপারেটরদের এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কলড্রপ নিয়ে সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জবাবদিহি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে সব মোবাইল অপারেটর অভিন্ন ইউএসএসডি কোর্ডের (*১২১*৭৬৫#) মাধ্যমে একজন গ্রাহক-পূর্ববর্তী দিন, সপ্তাহ, মাসিক অননেট কলড্রপের জানতে পারবেন।

এত দিন কোনো অপারেটরই প্রথম কলড্রপের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দিত না। উল্লেখ করার বিষয় হলো, গ্রাহকের যত কলড্রপ হতো তার ৬৫ শতাংশই হয় প্রথম কলড্রপ। দেখা যাচ্ছে, এতে কলড্রপের বেশির ভাগ অংশেরই ক্ষতিপূরণ পেত না গ্রাহক।

কলড্রপের বর্তমান পরিস্থিতি : চলতি বছরের মে মাস জুড়ে কলড্রপের পরিসংখ্যান বলছে, ওই ৩১ দিনে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের অননেট কলড্রপ হয়েছে ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩২টি। যেখানে প্রথম কলড্রপ ৫ কোটি ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৭টি, দ্বিতীয় কলড্রপ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ১৭৮টি, তৃতীয় ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৬টি, চতুর্থ ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৬টি, ৫ম ১৫ লাখ ৪১ হাজার ১৬০টি, ৬ষ্ঠ ৯ লাখ ৫০ হাজার ৩১০টি এবং ৭ম ১০ লাখ ২৬ হাজার। এর বাইরে ৮ম হতে আরো কলড্রপের পরিমাণ ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৮৯২টি।

সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ডাক ও টেলিযোযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান। কলড্রপ নিয়ে বিশদ উপস্থাপনা দেন বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ। সম্মেলনে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর

এক এনআইডিতে ১৫টির বেশি সিম নয়

বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২