Logo
শিরোনাম

ইউরোপে নতুন যুদ্ধের জন্য বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান ব্রিটিশ সেনাপ্রধানের

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

ব্রিটিশ নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার প্যাট্রিক স্যান্ডার্স দেশটির সেনাবাহিনীকে ইউরোপে নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। সেনাদের উদ্দেশ্যে লেখা একটি খোলা চিঠিতে তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইউক্রেনে আক্রমণের পরে রাশিয়ার নতুন হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে ‘সব পদমর্যাদার এবং আমাদের বেসামরিক কর্মচারীদের’ সম্বোধন করে তিনি চিঠিটি লিখেছেন।

জেনারেল স্যার প্যাট্রিক স্যান্ডার্স লিখেছেন, তিনিই প্রথম চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ যিনি ‘১৯৪১ সালের পর ইউরোপে একটি স্থল যুদ্ধের ছায়ায় সেনাবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেছেন যেখানে একটি প্রধান মহাদেশীয় শক্তি জড়িত।’ তিনি বলেছেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন আমাদের মূল উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে - যুক্তরাজ্যকে রক্ষা করা এবং স্থলে যুদ্ধ ও জয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়া - এবং রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধর প্রয়োজনীয়তাকে শক্তিশালী করা।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ব পরিবর্তিত হয়েছে এবং এখন আমাদের মিত্রদের পাশাপাশি যুদ্ধ করতে এবং যুদ্ধে রাশিয়াকে পরাজিত করতে সক্ষম একটি সেনাবাহিনী গঠনের একান্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’

জেনারেল স্যান্ডার্স ‘ন্যাটোকে শক্তিশালী করার জন্য সেনাবাহিনীকে সংগঠিতকরণ ও আধুনিকীকরণকে ত্বরান্বিত করা এবং রাশিয়াকে ইউরোপের আর কোনো অঞ্চল দখল করতে না দিতে লক্ষ্য নির্ধারণ’ করতে হবে বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা সেই প্রজন্ম যাদেরকে আবারও ইউরোপে লড়াই করার জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করতে হবে।’


সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, স্কাই নিউজ


আরও খবর



স্লিপ এপনিয়া উপসর্গ ও চিকিৎসা

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সম্প্রতি ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জনপ্রিয় এই গায়কের মৃত্যু হয়েছে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায়। কিন্তু এই স্লিপ অ্যাপনিয়া কী, কত ধরনের, এর কোনো চিকিৎসা আছে কিনা এবং থেকে প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে মানুষে ধারণা খুব কম। এবার তাহলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার এই সব বিষয়ে জেনে নেয়া যাক-

 

স্লিপ অ্যাপনিয়া

স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুমে বারবার ব্যাঘাত ঘটে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ায়। বিষয়ে জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, যখন কোনো ব্যক্তির স্লিপ অ্যাপনিয়া হয় তখন তিনি ঘুমানোর একটু পরই জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকেন। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস নেয়ার গতি বেড়ে গেলে হঠাৎ করেই আবার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পর ফের শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া শুরু হয়। আর শ্বাস-প্রশ্বাসের এই ব্যাঘাতকে অ্যাপনিয়া বলা হয়।

 

ঘুমের মধ্যে জোরে নিঃশ্বাস নেয়ার সময় হঠাৎ করেই শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, শ্বাস-প্রশ্বাস যখন বারবার নেয়া হয় তখন মূলত বাতাসের সঙ্গে শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়। কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কমে গেলে মানুষের শরীরে থাকা শ্বাস-প্রশ্বাসের সিস্টেম বন্ধ করে দেয় সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম। তখন নিশ্বাস কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর শরীরের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে ফের কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নার্ভাস সিস্টেম পুরোদমে উজ্জীবিত হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরে আসে। আর এই জটিল পরিস্থিতিতে অনেক সময় মানুষের মৃত্যুও হয়ে থাকে।

 

অ্যাপনিয়ার প্রকারভেদ

অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হলে তখন তাকে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়ে থাকে। এটা গলায় টনসিল ফুলে গিয়ে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসনালী এবং গলার সংযোগ স্থলে মাংসপেশি ফুলে গিয়ে হয়ে থাকে। যাকে অ্যাডনয়েডও বলা হয়। আবার অনেক সময় নাকের ভেতরে মাংসপেশি বড় হয়ে যায়।

 

এসব সমস্যাগুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে থাকে। যাকে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়। রোগে সাধারণত যাদের ওজন বেশি বা শরীরে মেদ বেশি, বয়স্ক মানুষ শিশু তারা ভোগে থাকেন।

 

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসকের মতে, হৃদপিণ্ড, ব্রেন এবং নিউরোজনিত সমস্যা থেকে মানুষের শরীরের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেনে বিভিন্নরকম জটিলতা হয়ে থাকে এবং ওই ব্যক্তির তখন স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভোগার সম্ভাবনা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা জটিল এবং গুরুতর হয়। তবে এই দুই ধরনের অ্যাপনিয়াতেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।

 

অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা

অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই যা দেখা হয় তা হলো, শ্বাসনালীকে কেন্দ্র করে কোন জায়গায় বাধা রয়েছে এবং তা চিহ্নিত করে পরে অপসারণ করতে হয়। এক্ষেত্রে অল্প সময়েই মুক্তি পাওয়া যেতে পারে এই সমস্যা থেকে। তবে জটিল স্লিপ অ্যাপনিয়া শরীরের বিভিন্ন গুরুতর সমস্যা থেকে হয়ে থাকে বলে এর চিকিৎসা আজীবন চালানোর প্রয়োজন হতে পারে।

 

প্রতিরোধের উপায়

স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ, একটু সতর্ক থাকলে এই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস করা। এছাড়া যাদের ঘুমের মধ্যে বার বার নিঃশ্বাস বন্ধ হয় তাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে বলে থাকেন চিকিৎসকরা।

 


আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো আজও বাস করছেন পাহাড়ের গায়ে

রাঙ্গামাটির ভয়াল সেই পাহাড় ধসের ৫ বছর

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

উচিংছা রাখাইন,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি 

রাঙ্গামাটির ভয়াবহ পাহাড় ধসের মর্মান্তিক ঘটনার ৫ বছর পূর্ণ হবে  আজ। ২০১৭ সালের ১৩ জুনের রাতে টানা তিনদিনের ভারী বৃষ্টি আর বজ্রপাতে রাঙ্গামাটিতে ঘটে যায় স্মরণকালের পাহাড় ধসের ঘটনা। বছর ঘুরে দিনটি ফিরে এলে রাঙ্গামাটিবাসীর মনে দেখা দেয় আতঙ্কের সেই ভয়াল স্মৃতি।

পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একদিনেই প্রাণ হারিয়ে ছিলেন, সেনা সদস্যসহ নারী পুরুষ ও শিশুসহ ১২০ জন। এর মধ্যে শহরের মানিকছড়িতে একটি সেনা ক্যাম্পের নিচে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের উপর ধসে পড়া মাটি অপসারণ করতে গিয়ে পুনরায় পাহাড় ধসের মাটি চাপা পড়ে নিহত হন ঐ ক্যাম্পের দুই কর্মকর্তাসহ ৫ সেনা সদস্য। 

নিহত সেনা সদস্যরা হলেন মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, করপোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক, সৈনিক মো. শাহিন আলম, ও  সৈনিক মো. আজিজুর রহমান।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৬জন, বিলাইছড়ি উপজেলায় ২জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৮জন এবং কাউখালী উপজেলায় ২১ জন মিলে মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে শিশু-৩৩, মহিলা-৩২, পুরুষ ৪৮ জনের মরদেহ পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে অন্য যে কোন পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ১৩ জুনের পাহাড় ধসের ঘটনা সেরকম ছিলনা। রাঙ্গামাটি ব্যাপক প্রানহানীর সাথে ব্যাপক ভৌত অবকাঠামো ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড়ে ঘরবাড়ী আছে এমন পাহাড়ও যেমন ভেঙ্গেছে, তেমনী ঘরবাড়ী ছিলনা এমন অসংখ্য পাহাড়ও ভেঙ্গে পড়ে। আবার ঝোপ জঙ্গল গাছপালাতে ভরপুর এমন পাহাড়ও ভেঙ্গে পড়ে। এক কথায় সব রকম পাহাড়েই মাটি ধস ধসে পড়ে। এটার ব্যাপ্তি, বিস্তৃতিও গভীরতা অনেক বেশী ছিল। 

টানা তিনদিনের প্রবল বর্ষনে পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটির এত লোকের প্রাণহানি, ঘরবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুতের এতবড় ক্ষতি হবে সেদিন কেউ ভাবতে পারেনি। সেদিন মুহূর্তেই সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল পর্যটন শহর রাঙ্গামাটি। 

১৩ জুন রাত থেকেই শুরু হয়েছিল প্রচন্ড গগনবিদারী আওয়াজে বজ্রপাতসহ ভারি বৃষ্টি। ভয়ে আতংকে সেই রাত কাটাতে হয়েছিলো রাঙ্গামাটির মানুষকে। ভোর হওয়ার পর রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদী, মোনতলা, রাঙ্গাপানি, শিমুলতলি, মুসলিম পাড়া ও লোকনাথ মন্দির এলাকা, সদর উপজেলার মগবান ও সাপছড়ি ইউনিয়নসহ ৫টি উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে থাকে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল ১৩ জুন রাঙ্গামাটিতে। আর কোন দুর্যোগে রাঙ্গামাটিতে এতো প্রাণহানী ঘটেনি।

পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের শালবন এলাকায় ১০০ মিটার রাস্তা ধসে গিয়ে একেবারে বিলীন হয়ে যায়। দেশের অন্যান্য স্থানের সাথে রাঙ্গামাটি ৯দিন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। বিভিন্ন আন্ত সড়কে ১৪৫টি স্থানে সড়কে ভাঙ্গন দেখা দেয়। পাহাড় ধ্বসের বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ছাড়াও রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবান সড়ক, রাঙ্গামাটি-বড়ইছড়ি ও রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে যায়।

এছাড়া রাঙ্গামাটির বৈদ্যুতিক গ্রীড লাইনের পোল ও লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে রাঙ্গামাটি শহরের ৩ দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। আর বিশুদ্ধ পানির জন্য শহরের হাহাকার পড়ে যায়। সেনাবাহিনী ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের দ্রুত প্রচেষ্টায় তিন দিনের মাথায় বিদ্যুৎ ও দশ দিনের মধ্যে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামে সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি নৌ পথে লঞ্চ দিয়ে পানি, জ্বালানী তেল ও পন্য পরিবহনসহ লোকজনের চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রশাসন।

গৃহ হারা হয়ে রাঙ্গামাটির ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ হাজারের বেশী মানুষ আশ্রয় নেয়। সেনাবাহিনী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পানি ও খাবার সরবরাহ করে।

২০২২ সাল আসলেও রাঙ্গামাটির ভয়াল পাহাড় ধ্বসের ঘটনার ৫ বছর পার হলেও এখনো অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। এতো মৃত্যুর মিছিল ও বিপুল পরিমানের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরও লোকজন আজো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন। গেল পাঁচ বছরে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। 

আর প্রতি বছরের ন্যায় বর্ষার শুরুতেই এবারো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে ও উপজেলগুলোতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের বৃষ্টির সময় নিরাপদে সড়ে যেতে ও আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতা চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরের বেশকিছু স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে আবারো অসংখ্য বাড়ি-ঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে পাহাড়ের নীচে বসবাসকারীরা এখনো কেউই সড়ে যাওয়ার সেই প্রস্তুতি নেয়নি। বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার অনিহা প্রকাশ করছেন বার বার।

দিনটির কথা স্মরণ করে এ বছরও রাঙ্গামাটি জেলায় প্রাণহানি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এসময় তিনি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যারা পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন তাদের বৃষ্টির সময় নিরাপদে সড়ে যেতে ও আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য নিদের্শ প্রদান করেছেন। 

এসময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় রাঙ্গামাটি জেলায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় যাতে প্রাণহানি না ঘটে তার জন্য আগাম সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। আর এইসব ব্যাপারে প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দূযোর্গ প্রস্তুতি সভাও করা হয়েছে। সেখানে সকলের সম্মেলিত ভাবে দূর্যোগ মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহনের নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে এবং প্রতিটি এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র ঘোলা রাখা হয়েছে। 

২০১৭ সালের ১৩ জুনের পাহাড় ধস রাঙ্গামাটির ভূ-পৃষ্টতলকে (সারফেস) নাড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত নাজুক করেছে যা গত ৫ বছরেও কাটিয়ে উঠা যায়নি। যে কারণে রাঙ্গামাটির অনেক সরকারী বেসরকারী স্থাপনা, মানুষের ঘরবাড়ি,


আরও খবর



সাংবাদিকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে ডিবিসি নিউজের এক সাংবাদিকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুন) ভোরে হাতিরঝিল এলাকায় পুলিশ প্লাজার উল্টোদিক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাংবাদিকের নাম আবদুল বারি। লাশ উদ্ধার করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, আবদুল বারির দেহে আঘাতের বহু চিহ্ন রয়েছে। গলায় কাটা দাগও পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরাও পাওয়া গেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরা তদন্ত করে খুনিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।


আরও খবর



ভেনেজুয়েলার জন্য আরও একটি তেল ট্যাংকার নির্মাণ করলো ইরান

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বৃহৎ আকারের দ্বিতীয় তেল ট্যাংকার নির্মাণ করে ভেনেজুয়েলার কাছে হস্তান্তর করেছে ইরানের একটি জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো শুক্রবার তেহরান সফরে আসার পর ইরানের জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সাদ্রা শিপবিল্ডিং এই তেল ট্যাংকার ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরে এই জাহাজ হস্তান্তর করা হয় এবং হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি ও নিকোলাস মাদুরো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় সাদ্রা কোম্পানি ও ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জাহাজ হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিনিময় করেন।

আফ্রাম্যাক্স নামে এই ট্যাংকারের ওজন ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টনের মধ্যে। ট্যাংকারটি ২৫০ মিটার লম্বা এবং এতে ২১ হাজার হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন ও তিনটি ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করা হয়েছে। যা ৯০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।

সাদ্রা কোম্পানি হচ্ছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং এর ডকইয়ার্ড পারস্য উপসাগরের বুশেহর এলাকায় অবস্থিত। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে সাদ্রা কোম্পানি আফ্রাম্যাক্স ট্যাংকারের পরীক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করে।

কোম্পানির প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা আলী জারেয়ি জানান, ভেনেজুয়েলার জন্য আরও দুটি আফ্রাম্যাক্স ট্যাংকার খুব শিগগিরই সাদ্রা কোম্পানি নির্মাণ শুরু করবে।


আরও খবর



লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, চরাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি ঃ

উজানের পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীতে পানি বেড়েছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) দুপুর ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিকের চেয়ে ৫২ দশমিক ০০সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদী-তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারেজে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় উজানের ঢল বেড়ে যায়। ফলে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বেড়েছে। যদিও এখনো জেলার তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে জেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া পানি জমেছে জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকায়। এসব পানি তিস্তা ও ধরলা নদীতে চলে আসায় পানি অনেকটা বেড়েছে।

তারা আরও জানান, তিস্তা নদীর বাম তীরে ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষায় আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন এলাকায় সলেডি স্প্যার বাঁধ ২ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত বছর কিছু অংশে ভাঙন দেখা দিলে তা সংস্কার শুরু করে। সেই সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই আবারও সেটি ভেঙে যাচ্ছে। এত দিনে পানি কমে গেলেও এবার সেটির কোনো কাজ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানির প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে না দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতি বছর জুনে বন্যা দেখা দেয়। তাই তিস্তাপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


আরও খবর