Logo
শিরোনাম

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙে পড়তে পারে

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউতে যোগ দেওয়ার আগেই এই ইউনিয়ন ভেঙে পড়তে পারে। তিনি রবিবার (১৯ জুন) মস্কোয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মেদভেদেভ বলেন, ইইউ সবেমাত্র ইউক্রেনকে তার সদস্যপ্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় লাগবে এবং ততদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্তিত্ব থাকে কিনা, না নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন গত শুক্রবার ইউক্রেনকে ইইউর সদস্যপ্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে কমিশনের বৈঠকে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ইইউর সদস্য হওয়ার জন্য যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া রয়েছে, এটি তার সূচনা মাত্র।

ইউক্রেনের ইইউ বা ন্যাটোর সদস্যভুক্ত হওয়া ঠেকানোর জন্যই মূলত রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলোনেস্কি উল্টো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার চার দিনের মাথায় ইইউতে তার দেশের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান।

২৭ সদস্যবিশিষ্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা গত ১০ মার্চ ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকে কিয়েভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তারা বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে ইইউতে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়।


সূত্র : পার্সটুডে


আরও খবর



সূফিবাদের প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ |
Image

সূফি মাজহারুল মাসুম :   

হাদীসের দ্বারা তাসাইফের কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।একবার রাসূলে করীম (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ইহসান কি?তিনি উত্তরে বলেছিলেনইহসান হল  বিষয় যে,তুমি যখন নামায পড়বে তখন তুমি  মনে করবে যে আল্লাহকে তুমি দেখছ আর তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে এই মনে করবে যে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন

হাদীসে কুদসীতে বলা হয়েছে যেযে ব্যক্তি নিজেকে চিনল,সে আল্লাহকে চিনল

হাদীসে কুদসীতে আরও এসেছে যেআল্লাহ বলেনযখন আমি আমার কোন বান্দাকে ভালবাসি তখন আমি তার ধ্যান-অনুধ্যানে  কাজে কর্মে নিকটবর্তী হই। আমি তার চোখ হই যা দিয়ে সে দেখে,আমি তার কান হই যা দিয়ে সে শুনতে পায়,আমি তার হাত হই যার সাহায্যে বিভিন্ন জিনিস ধরে।

 

অর্থাৎ,কুরআনে অসঅংখ্য আয়াত  হাদীসের দ্বারা  কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে সূফিবাদ কুরআন-হাদীস হতে নিঃস্বরিত এক ধরনের বাতিনী জ্ঞান।এ ছাড়াও আমরা  বিষয়টি লক্ষ্য করে দেখতে পাই যেনবী করিম (সাঃহেরা গুহায় গভীর ধ্যানে নিমজ্জিত থাকতেন যার দ্বারা বুঝা যায় যে তিনি আধ্যাত্মিক জীবন সাধনায় প্রায় সময় ব্যস্ত থাকতেন। নবী করীম (সাঃএর জীবদ্দশায় আহলে সুফফার কিছু লোক আল্লাহ পাকের ধ্যান সাধনায় এমন সময় ব্যয় করেছেন যার দ্বারা ধারনা করা হয় যে সূফিবাদ কথাটির উৎপত্তি ঘটেছে। অতঃপর খুলাফায়ে রাশেদীনের সময় হযরত আবূ বকর(রাঃ),উমার(রাঃ),উসমান(রাঃ আলী(রাঃপ্রত্যেকে তারা শাসনকার্য পরিচালনার পাশাপাশি অসংখ্য ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যস্ত থাকতেন। সৈয়দ আমীর আলী বলেন,

 

“ আলী(রাঃএর মৃত্যুর সাথে খিলাফত ধংসব হতে থাকে আর দামেস্কে যে বর্বরোচিত অত্যাচার শুরু হতে থাকে সেখান থেকে কিছু মানুষ একান্তে ইবাদত বন্দেগী করতে বাধ্য আর সেখান থেকে অতীন্দ্রয়বাদ স্বাভাবিকভাবে অগ্রসর হতে থাকে

 

কুরআন  হাদীসে সূফিবাদকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়েছে।তা হল ইলমে বাতিনী,ইলমে লাদুন্নী,ইলমে ইলমে তরীকত,ইলমে মারিফত ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়েছে।

 সে সময় হতে হাসান বসরীসহ প্রমুখ তাবিয়ীর মাধ্যমে মরমীবাদ প্রকাশ হতে থাকে।উমাইয়্যা খিলাফত আমলে মানুষের বাহ্যিক চিন্তা-চেতনার এতটা বিকাশ ঘটে নাই যতটা বিকাশ ঘটেছিল আব্বাসীয়দের আমলে।সে সময় সূফিবাদের একটি চূড়ান্তরুপ লাভ করে।সে অর্থাত,হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদ নামে একটি স্বতন্ত্র ইসলামী মরমীধারার উদ্ভব ঘটে।সে সময় যেসমস্ত কারনে সূফিবাদের উদ্ভব ঘটে তার প্রধান প্রধান কারনসমূহ নিম্নরুপঃ

()খলিফা হারুন-উর-রশিদের ইন্তেকালের পর তার দুই পুত্র আমীন  মামুনের ভিতর যখন মতবিরোধ দেখা দেয় তখন এক বীভীষীকাময় রাজনোইতিক অবস্থা বিরাজমান ছিল।অন্যদিকে ইসমাইলীয়া,বাতিনিয়া  কারামাতিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের অনুসারীগণ ধর্মের নামে অভীষ্ট রাজনীতির প্রচারণা চালাতে থাকে।এমতাবস্থায় কিছু লোকজন রাজনীতি থেকে কিছু মানুষ ইবাদতে ধ্যান-মগ্নে থাকার প্র্যাস পান এববগ এর ভিতর শান্তি তারা খুজে পেয়েছিল।

()আব্বাসীয়দের খিলাফতামালে মুতাযিলা সম্প্রদায়ের চিন্তা-চেতনার আবির্ভাব ঘটেছিল সেখানে মানুষের ভিতর এক ধরনের সংশায়াত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছিল আর মুতাযিলাদের সাথে অন্যান্য গোষ্ঠির ভিতর যে দ্বন্দ্বের আবির্ভাব হয়েছিল তা থেকে পরিত্রানের জন্য কিছু লোক আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে শান্তি খুজে পাওয়ার প্রয়াস খুজে পেয়েছিল।

()হানাফী,শাফিয়ী,মালিকি  হাম্বলী মাযহাব যে আবেগ বর্জিত পরহেজগারিতা নিয়ে এসেছিল সে অবস্থায় সম্পূর্ণ আবেগধর্মী অবস্থার দিকে এক দল মানুষ ধাবিত হচ্ছিল।

তাহলে আমরা বলতে পারি যে,তাসাইফের উৎপত্তি প্রকৃতপক্ষে বাহিরের কোন চিন্তা-ধারনা থেকে নয় বরং কুরআন-হাদীস  মুসলমানদের নিজস্ব চিন্তা-ধারাকে কেন্দ্র করে হয়েছে।মহানবী(সাঃএর জীবদ্দশায় এর উৎপত্তি ঘটেছিল যা

সূফিবাদের ক্রমবিকাশঃ

প্রকৃতপক্ষে সূফিবাদের আবির্ভাব মুহাম্মদ(সাঃএর সময় হতে শুরু হয়।অতঃপর যাকে সর্বপ্রথম মুসলিম সূফী হিসেবে চিহ্নতি করা হয় সে হল হযরত হাসান বিসরি(.) তার জ্ঞানতত্ত্বের আলোকে সূফী-সাধকগণ সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তার ভিতর মরমী  দার্শনিক চিন্তা-ধারার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছিল।এছাড়াও সর্বপ্রথম সূফী হিসেবে যার নাম স্বীকৃতি দেওয়া হয় সে হল আবয় হাশিম কূফী।কেউ কেউ আবার জাবির বিন হাইয়্যানকে প্রথম সূফী হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।এরপর হিজরীর ২য় শতকে এসে সূফিবাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্বি পেতে থাকে।এ সময়ের উল্লেখযোগ্য সূফীগণ হলেন ইব্রাহীম বিন আদহাম,রাবিয়া বসরী,দাউদ আত-

 

তায়ী  ফুযায়ল বিন হাইয়ায প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।তাদের কার্যকলাপ  বাণী থেকে আস্তে আস্তে কৃচ্ছতা জীবনে উদ্ভব ঘটতে থাকে।

এরপরে সূফিবাদের ক্রমবিকাশে যুন্নুন মিসরীর ভূমিকা ছিল ব্যাপক।তিনি ইসলামী মরমীবাদকে স্তভ হিসেবে স্থাপিত করেছিল।তাই তাকে সূফিবাদের সর্বপ্রথম ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।তিনি হাল  মাকাম সম্পর্কে সূফী-সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন।অতঃপর যুনায়েদ বাগদাদী যুন্নুন মিসরীর ধারনাকে আরো উন্নতি  সুসংবদ্ব করেন।

কালক্রমে সূফিবাদের ভিতর সর্বেশ্ববাদের ধ্যান-ধারনা যুক্ত হতে থাকে।এ ধরনের মতাবাদের মূল প্রবক্তা ছিলেন বায়জীদ বোস্তামী  মানসুর হাল্লাজ।তবে মানসুর হাল্লাজের বক্তব্য কিছুটা বিতর্কিত ছিল যে জন্য তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

অতঃপ্অর ইমামা আল গাযযালী এর সময় থেকে গোড়া সুন্নিবাদী মতবাদ সূফিবাদের ভিতরে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নেয়।তিনি গোড়া ইসলাম  সূফিবাদের ভিতর একটি সুন্দর মিল তৈরী করেন।।তার সময় অনেল সূফীর আগমন হয় যার মধ্যে আব্দুল কাদির জিলানী,ফরিদ উদ্দিন আত্তার,আল-কুশাউরী,শিহাবুদ্দিন সোহয়ার্দীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সপ্তম হিজরীতে স্পেনে ইবনুল আরাবী সূফিবাদের ক্রমবিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।তিনি সর্বেশ্বরবাদের প্রচলন করেন।তার তার প্রতিষ্ঠিত মতবাদের নাম ছিল “ওয়াহাদুল অজুদ।তার এই মরমী ধারার ক্রমবিকাশে সাহায্য করেছিলেন জালালুদ্দিন রুমি (.)।তার মসনবী শরীফ পৃথিবীর ইতিহাস এক অমূল্য গ্রন্থ হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছে।ইবনুল আরাবীর এই মতবাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রুকুনুদ্দিন আলাউদ্দৌলা একটি পৃথক মতবাদ গঠন করেন যা শুহুদিয়া নামে পরিচিত।তার এই সম্প্রদায়কে বাহাউদ্দীন বিশেষভাবে সমর্থন দিয়েছেন এবং হিজরী একাদশ শতাব্দীতে  মতবাদটি ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে রাখে।    পরবর্তীতে সূফী-সাধকদের ভিতর কাশানী,আলজিলি এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।অতঃপর ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক সূফীর আবির্ভাব ঘটে যাদের ভিতর খাজা মইনুদ্দিন চিশতী,বাহাউদ্দিন,শিহাবুদ্দিন,মুজ্জাদিদ আলফে সানীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।বিশেষ করে আলফে সানী সূফিবাদকে ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে উজ্জীবিত করেন।তিনি প্রকৃতপক্ষে  শুহুদিয়া সম্প্রদায়কে বিকাশে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।অতঃপর ১৮৩৭ সালে মুহাম্মদ বিন আলী ১৮৩৭ সালে আলজেরিয়াতে একটি পৃথক সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে সূফিবাদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়  ক্রমবিকাশ হতে থাকে।

 

 


আরও খবর

সুফিবাদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২

সুফীবাদের মূলনীতি

সোমবার ২৭ জুন ২০২২




সোনারগাঁয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা হুমকি ও কটুক্তির প্রতিবাদ সভা,

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

 সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি জামায়াতের হত্যার হুমকি ও কটুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ। গতকাল শনিবার বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন ছিলেন, সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগে যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসরাম নান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন, আবু সাইদ, সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহামুদ প্রমুখ। এসময় সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধাসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 


আরও খবর



বাড়ছে কোরবানির পশুর দাম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  সারাদেশের হাটগুলোতে পশু পরিবহন শুরু হবে দু’একদিনের মধ্যেই। পথে পথে চাঁদাবাজি চিরচেনা দৃশ্য। হাটে অতিরিক্ত মাশুল আদায়, বন্যা ও পশু খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি কারণে এবার কোরবানির ঈদে পশুর দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করেছে। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনগণকে অতিরিক্ত দামে কোরবানির পশু কিনতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। খবর ডয়চে ভেলে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা দ্রুতই একটা বৈঠক করব। একজন উপসচিব রিপোর্টটির পর্যালোচনা করছেন। তবে এবার পশু সংকট হবে না, সেটা মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে তো আগেই বলা হয়েছে। অন্যগুলো কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে সেগুলো আমরা দেখছি। পাশাপাশি চাঁদাবাজিসহ অন্য বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চামড়ার কথাও বলা হয়েছে। চমড়া সংরক্ষণে যাতে সংকট না হয় সে জন্য আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়কে দেড় লাখ টন লবন আমদানির অনুমতি দিয়েছি। চমড়া পরিবহনেও যাতে সংকট না হয় সেটাও আমরা দেখব।

গত ২৩ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ মাসে বাজারে সব ধরনের পশু ও পোলট্রি খাদ্যের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে পশু পালনে খামারিদের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে আসন্ন ঈদুল আযহার কোরবানির পশুর দাম বাড়তে পারে। এতে কোরবানির পশুর বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বাজার তদারকির মাধ্যমে পশুখাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা না গেলে কোরবানির বাজারে পশুর অপ্রতুলতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোরবানির পশু পরিবহনে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি হয়, স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটের মালিকেরা অযৌক্তিক হাসিল আদায় করে। এসব বন্ধেও সুপারিশ করা হয়েছে।

‘গত এক বছরে পশুখাদ্যের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে এবার গরুর দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এমনিতেই বাড়বে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারি, বিভিন্ন দেশে পশুখাদ্যের কাঁচামালের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ার কারণে সামগ্রিকভাবে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে। পশুখাদ্যের অন্যতম উপাদান হচ্ছে গম, ভুট্টা, ধানের কুড়া, সয়ামিল, সরিষার খৈল, আটা-ময়দা প্রভৃতি। এর মধ্যে বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গম, ভুট্টা ও সয়ামিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে বেশি ভুট্টা আমদানি করেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। আবার গম আমদানিতেও এ দুটি দেশের ওপর নির্ভরতা রয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারির পরে দেশ দু'টি থেকে আমদানি এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। ফলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে। বেড়েছে পরিবহন খরচও। যে কারণে পশুখাদ্য উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, এ বছর কোরবানিযোগ্য এক কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজারের বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর এক কোটি ১৯ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত ছিল, তার মধ্যে প্রায় ৯১ লাখ গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। এ বছর চলাচলে কোনো বিধি-নিষেধ না থাকায় গত বছরের চেয়ে কোরবানি বেশি হবে বলে আমরা আশা করছি। এবার কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে গরু-মহিষ রয়েছে ৪৬ লাখ, ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৭৫ লাখ এবং অন্যান্য পশু রয়েছে ১৪ হাজার। ফলে পশুর সংকট হবে না।

চাঁদাবাজিসহ হাটগুলোতে অতিরিক্ত মাশুল নেওয়ার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলে ডা. শাহজাদা বলেন, আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকার বৈঠক করেছি। পশুবাহী পরিবহন যাতে দ্রুত চলাচল করতে পরে সে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরে বৈঠক করেছি। সেখানে মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। আমি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব সেখানে দিয়েছি। তার মধ্যে পশুবাহি ট্রাক দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব ট্রাক থেকে যাতে চাঁদাবাজি না হয় সে উদ্যোগ নিতে হবে। কোন খামার থেকে যদি কেউ পশু কেনেন তাদের কাছ থেকে কোন মাশুল আদায় করা যাবে না। আমরা যে হাটে পশু নিতে চাইব সেখানে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অনেক ইজারাদার জোর করে তাদের হাটে খামারিদের ট্রাক নিয়ে যান। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পশুবাহী ট্রাকগুলো টোলমুক্ত করার প্রস্তাবও আমি দিয়েছি।

এবার দাম বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটা কেন? জবাবে জনাব ইমরান বলেন, দাম তো বাড়বেই। গত এক বছরে পশুখাদ্যের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে এবার গরুর দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এমনিতেই বাড়বে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। আর চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য খরচ বাড়লে তো পশুর দাম আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় গবাদি পশুর খাবারের বেশ সংকট হয়। দাম বেড়ে যায় গোখাদ্যের। এর প্রভাব কোরবানির পশুর হাটে পড়তে পারে। দেশের অন্যতম গোচারণভূমির এলাকা সিরাজগঞ্জ। সেখানেও এবার বন্যা হয়েছে।


আরও খবর



রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর হতে ইয়াবাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আমিনবাগ আলী আহমেদ গলি এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ২৩,৪০,০০০ টাকা মূল্যের ৭,৮০০  পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর নাম মোসাঃ সোনিয়া বেগম (২৭) বলে জানা যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মহিলা একজন পেশাদার মাদক ব্যাবসায়ী। সে বেশ কিছুদিন যাবত কামরাঙ্গীরচরসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত মহিলার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।


আরও খবর



বন্যার প্রভাব কাঁচা বাজারে

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা বিপর্যস্ত দেশ। তারই প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। দাম বেড়েছে সবজি এবং পেয়াজের।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে।

বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে সবজির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার কারণে সরবরাহ কম থাকায় গত ৩-৪ ধরেই শাক-সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।

শুক্রবার এসব বাজারে শসা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, করলা ৭০, চাল কুমড়া পিস ৪০, প্রতি পিস লাউ আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০, চিচিঙ্গা ৫০, পটল ৫০, ঢেঁড়স ৫০, কচুর লতি ৬০, পেঁপের কেজি ৫০, বটবটির কেজি ‌৬০, ধুনধুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

এছাড়া এসব বাজারে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। শুকনা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা।

বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। আর একটু ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। বাজারে রসুনের দাম কমেছে। এসব বাজারে রসুনের কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বাজারে চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।

অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এসব বাজারে দেশি মুশুরের ডালের কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ইন্ডিয়ান মুশুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। প্যাকেট আটার কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। বাজারে ভোজ্য তেলের লিটার ২০৫ টাকা। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। হাঁসের ডিমের ডজন ১৬০ ও দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৯০ টাকা।

তবে অপরিবর্তিত রয়েছে বাজারে গরুর মাংসর দাম, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা করে। এছাড়া খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। বয়লার মুরগির কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়।


আরও খবর