Logo
শিরোনাম

জেলেনস্কির ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স সফরে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ মে ২০২৩ | ৮০জন দেখেছেন

Image

ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স সফরে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরো সহায়তা ও সমর্থন পেলেন। ইউরোপীয় ঐক্যে বিশেষ অবদানের জন্য শার্লেমান পুরস্কারও গ্রহণ করলেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পর পর তিনটি ইউরোপীয় দেশ সফর করে ইউক্রেনের জন্য আরো সমর্থন ও সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করলেন। সেই সঙ্গে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স ইউক্রেনের প্রতি অবিচ্ছিন্ন সহায়তার অঙ্গীকার করছে। রোমে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট ইউক্রেনে শান্তি ফেরাতে নিজস্ব উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউক্রেনের জন্য জার্মানির সমর্থন ও সহায়তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ধীরগতি নিয়ে কিয়েভে যথেষ্ট ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে সেই কালো মেঘ কেটে গেছে। বার্লিন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি একাধিক ক্ষেত্রে সত্যিকারের বন্ধু ও সহযোগীদেশ হিসেবে জার্মানির ঢালাও সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরই জার্মানির অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। 

 এ ছাড়াও জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেন শুধু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিজস্ব ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলমুক্ত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে, রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলের কোনো চেষ্টা করবে না। অতীতের উত্তেজনা কাটিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন জেলেনস্কি। সেই সঙ্গে জার্মানির জনগণ ও করদাতাদের প্রতি ইউক্রেনের মানুষের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, জেলেনস্কির সফরের ঠিক আগে জার্মানি আরো এক দফা সামরিক সহায়তার ঘোষণ করেছে। ২৭০ কোটি ইউরো মূল্যের সেই প্যাকেজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট শলৎসের কাছে উন্নত বোমারু বিমান সরবরাহের অনুরোধ করেন। তিনি সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশকে নিয়ে এক ফাইটার জেট কোয়ালিশনগঠনের উদ্যোগের কথাও বলেন। শলৎস অবশ্য সেই অনুরোধ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

রবিবার জেলেনস্কি জার্মানির পশ্চিমে আখেন শহরে শার্লেমান পুরস্কার গ্রহণ করেন। ইউরোপীয় ঐক্যের জন্য জেলেনস্কি ও ইউক্রেনের মানুষকে যৌথভাবে এ বছরের পুরস্কার দেওয়া হলো। পুরস্কার গ্রহণ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ইউক্রেনের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা প্রতিদিন নিজেদের স্বাধীনতা এবং ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষার জন্য লড়াই করছেন। তাদের প্রত্যেকে আজ এখানে উপস্থিত থাকলে ভালো হতো।

জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেন শান্তি ছাড়া কিছুই চায় না। একমাত্র বর্তমান সংকটে জয়ের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করতে পারে বলে জেলেনস্কি মনে করেন। কারণ রাশিয়া যেকোনো ধরনের নিষ্ঠুরতা ও পাপের মাধ্যমে ইউরোপীয় একত্রীকরণের ইতিহাসের চাকা পেছন দিকে ঠেলতে বদ্ধপরিকর।

জার্মানির পর ফ্রান্স সফরে গিয়েও জেলেনস্কি আরো সমর্থন পেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ প্যারিসে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের পর আরো লাইট ট্যাংক ও আর্মার্ড যান সরবরাহের ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দেবে ফ্রান্স। রবিবার জেলেনস্কির সফরের শুরুতেই ম্যাখোঁ এক টুইট বার্তায় লেখেন, ইউরোপের সঙ্গে ইউক্রেনের বন্ধন আরো বাড়ছে। সেই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ছে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরও খবর



হিন্দু ধর্ম আইন বাস্তবায়ন না করার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৬ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ মে ২০২৩ | ৪৩জন দেখেছেন

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

হিন্দু ধর্ম আইন পরিবর্তন চেষ্টার প্রতিবাদে নওগাঁয় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে । শুক্রবার ২৬ মে সকাল ১০টার দিকে নওগাঁ শহরের সেবাশ্রম চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মুক্তির মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

হিন্দু মহাজোট নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ সোমেন্দ্র নাথ কুন্ডু'র সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুবীর দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব দাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা এ সময় বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় পারিবারিক ভাবে হাজার হাজার বছর ধরে সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। এই সৌহার্দ্য ও শান্তি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে একটি কুচক্রী মহল হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের ভাই-বোন, ননদ-বৌদিসহ সকলের মধ্যে হানাহানি, খুনাখুনি, নির্যাতনসহ বিভেদ সৃষ্টি করে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল ও দেশে হিন্দু শূন্য করার একটা প্রচেষ্টার জন্যই হিন্দু ধর্ম আইন পরিবর্তন চেষ্টা আইন বাস্তবায়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই আইন বাস্তবায়ন না করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে ।


আরও খবর



দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হচ্ছেন জাহাঙ্গীর

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ মে ২০২৩ | ১২৪জন দেখেছেন

Image

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করার দায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে চিরস্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। জাহাঙ্গীরকে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে জানানো হবে বলে জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের জানান, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। তাই এ নির্বাচন নিয়ে সবার আগ্রহ রয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা হলেও দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় চেষ্টা করায় জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে আলোচনা ওঠে। এ সময় নেতারা বলেন, জাহাঙ্গীর আলম এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটূক্তি করার জন্য দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে সেই ক্ষমা চাওয়ায় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এখন তিনি আবার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। একইসঙ্গে তার মাকেও তিনি প্রার্থী করেন। নিজের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরে মায়ের পক্ষে প্রচারণা করছে সে। এ জন্য তাকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে বিতর্কিত জাহাঙ্গীরের বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম কথা তোলেন। বারবার সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেন তিনি। পরে বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা এতে একমত হন। তখন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জানাবেন। জাহাঙ্গীর আলম যাতে দলের কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হতে পারেন সেই সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদক বলেন, বৈঠকে জাহাঙ্গীরকে স্থায়ী বহিষ্কারের বিয়য়ে নেতারা ঐক্যমত হয়েছেন। এ বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের উপ-কমিটিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে হবে। যাছা-বাছাই শেষে কমিটির অনুমধন দেওয়া হবে।

২৫ মে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর আজমত উল্লা খান। সেখানে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন জাহাঙ্গীর আলম। একই সঙ্গে মা জাহেদা খাতুনকেও প্রার্থী করেন তিনি। ঋণ খেলাপির জামিনদার হওয়ায় জাহাঙ্গীরের মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে আপিলেও মনোনয়ন ফিরে পাননি। কিন্তু তার মা নির্বাচনে মাঠে লড়ে যাচ্ছেন।


আরও খবর

বাসে আগুন দিলে খবর আছে: কাদের

বৃহস্পতিবার ২৫ মে ২০২৩




কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ মে ২০২৩ | ৬৯জন দেখেছেন

Image

রোকসানা মনোয়ার : বাংলাদেশে বিদেশি কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণাধীন আছে। তাই কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো আবশ্যকতা নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীনের দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু কিছু গণমাধ্যমে ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বা বাংলাদেশে বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা প্রদান নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য আমাদের নজরে এসেছে। প্রতিটি দূতাবাসেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা বিধান অব্যাহত রেখেছেন এবং রাষ্ট্রদূতদের নিরাপত্তায় পুলিশ প্রদত্ত গানম্যান নিয়োজিত আছেন। এ কারণে নিরাপত্তা প্রত্যাহার সম্পর্কিত এ বিভ্রান্তকর খবরটি সঠিক নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সাধারণত বাংলাদেশ পুলিশ বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তার গুরু দায়িত্বটি সবসময় পালন করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের কয়েক বছর আগের একটি ঘটনা পরবর্তী সময় থেকে কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিককে অলিখিতভাবে গাড়িসহ মূলত নিয়মিত ট্রাফিক মুভমেন্টে সহায়তার জন্য বাড়তি কিছু লোকবল দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণাধীন আছে। তাই তাদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রদানের কোনো আবশ্যকতা নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কার্যপরিধি বৃদ্ধির জন্য এই বাড়তি সুবিধাটি এখন অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে, পৃথিবীর কোনো দেশেই বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রদূতকে বাড়তি নিরাপত্তা ও চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো সুবিধা প্রদান করা হয় না।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দূতাবাস থেকে একই ধরনের সুবিধার জন্য অনুরোধ করার একটি প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে তাদের সবার সুবিধার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে একটি চৌকস দল তৈরি করেছে। বিদেশি কূটনীতিকরা তাদের খরচে এ সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারবেন।

কোনো দূতাবাস আনসার সদস্যদের এ সুবিধা অব্যাহত রাখতে চাইলে বা বাড়তি সুবিধা নিতে চাইলে আমাদের লিখিতভাবে জানালে আমরা সেই ব্যবস্থাটি গ্রহণ করব। খুব শিগগিরই সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সব বিদেশি দূতাবাসকে জানিয়ে দেওয়া হবে।


আরও খবর



রোহিঙ্গারা কেড়ে নেওয়া গ্রাম ফেরত চান

প্রকাশিত:বুধবার ১০ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ মে ২০২৩ | ১০১জন দেখেছেন

Image

রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়েই এখন মিয়ানমারে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। কিন্তু দুই বারের ব্যর্থতার পরে এবারও প্রত্যাবাসন সফল হবে কিনা, তা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়েছে শঙ্কা। তারা তাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে আগ্রহী। তবে পুর্নবাসন ক্যাম্পে নয়, ফিরে পেতে চান তাদের গ্রাম ও ভেটেমাটি। খবর বিবিসির।

টেকনাফের নেসার পার্ক এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবু শামার বাসাটি আর দশটি ঘরের মতোই বাঁশের বেড়া আর ছাদে মোটা ক্যানভাস কাপড় দিয়ে তৈরি। ১০ ফুট বাই ১০ ফুট সেই ঘরের দরজার সামনে বসে তার সঙ্গে কথা বলার সময় একটু পর পর আসা বাতাসে ঘরের ছাদ নড়াচড়া করছিল। এখানে এভাবে থাকতে কষ্ট হয়, বাড়ির কথা মনে পড়ে - বলছিলেন আবু শামা। কিন্তু মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ যেসব কথা বলে তাদের নিয়ে যেতে চাইছে, তাতে তিনি যাবেন না।

আঞ্চলিক রোহিঙ্গা ভাষায় আবু শামা বলেন, ‘’তারা আমাদের নিয়ে ক্যাম্পে রাখবে। সেখানে তারা এই রকম ছোট ছোট ঘর বানিয়েছে। আমাদের নাগরিকত্ব দেবে না, অতিথির মতো একটা কার্ড দেবে। সেখানে গেলে তো আমাদের সেই ক্যাম্পেই আটকে রাখা হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ দেখাতে বাংলাদেশ থেকে যে বিশ জনকে গত শুক্রবার মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন আবু শামা। সেখানে পরিবেশ ঘুরে দেখে তার কাছে স্বস্তিকর মনে হয়নি। কারণ তার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গিয়ে তাদের আবার আটকে রাখার একটা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে জমি-জমা, নাগরিকত্ব দেয়ার যেসব কথা বলছে, তাতেও তিনি কোন ভরসা পাচ্ছেন না।

এমনকি তাকে নিজের ফেলে আসা গ্রামেও যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দূর থেকে তিনি শুধুমাত্র দেখতে পেয়েছেন যে একসময় যেখানে তার গ্রাম ছিল, সেই কাউয়ার বিল এখন ফাঁকা মাঠ। ঘাস-জঙ্গল গজিয়ে গিয়েছে।

একই রকম বক্তব্য মিয়ানমার ঘুরে আসা আরেকজন রহিমা বেগমেরও। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই ১১ সন্তানের মা-হওয়া রহিমা বেগম বলছেন, ‘’তারা যদি আমাদের নিয়ে ক্যাম্পেই রাখে, তাহলে তো আমরা এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে গিয়ে পড়লাম। এখানে তাও তো ভালো, কেউ ভয়ভীতি দেখায় না।‘’ রহিমা বেগমের ছয় সন্তান মারা গেছে। জীবিতদের মধ্যে এক মেয়ে এখনো মিয়ানমারে রয়েছে, বাকি চারজন তার সঙ্গেই থাকে। এদের সবাইকে নিয়ে তিনি ক্যাম্পের একটি কক্ষে থাকেন। এই ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি মিয়ানমারে যেতে চান। কিন্তু সেজন্য তার রয়েছে আলাদা দাবি।

রহিমা খাতুন বলেন,‘‘ আমাকে আমার বাড়িতে যেতে দিক। আমাকে কোন রেশন, কোন টাকাপয়সা দেওয়া লাগবে না। আমাদের ঘরবাড়িও আমরাই তৈরি করে নেবো। খালি আমাদের সেই গ্রামে গিয়ে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ দিক আর নাগরিকত্ব দিক, তাইলেই হবে। মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের ফ্র্যাংকপুরে তার একটি ছোট ভিটে-বাড়ি ছিল, বাড়িতে গাছপালা, গরু-ছাগল ছিল। কিন্তু এখন সেখানে আর কোন ঘরবাড়ি নেই। পুরো জায়গাটি জঙ্গলের মতো হয়ে রয়েছে বলে তিনি দেখতে পেয়েছেন।

মংডু শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে অনেকটা বাংলাদেশের গুচ্ছগ্রামের আদলে মডেল ভিলেজ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে চার হাজার রোহিঙ্গা থাকতে পারবে, এমন ১৫টি মডেল ভিলেজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যেই এরকম দুটি গ্রাম তৈরি করা হয়েছে, যা প্রতিনিধি দলকে দেখানো হয়।

মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথমে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট (এনভিসি) দেওয়া হবে। পরবর্তীতে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। মোহাম্মদ সলিম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’আমাদের গ্রামগুলোয় সেনাবাহিনী ও পুলিশের ব্যারাক, ফাঁড়ি ও চৌকি তৈরি করা হয়েছে। আর আমাদের থাকার জন্য কিছু জায়গায় ক্যাম্পের মতো করে শেড তৈরি করা হয়েছে। একটা রুম আর একটা টয়লেট। তারা যদি আমাদের সত্যিই নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আমাদের গ্রামেই আমাদের থাকার সুযোগ করে দিক। আমাদের মেহমান করে না নিয়ে নাগরিকত্ব দিয়ে দিক।

উখিয়ার ইউনুস মাঝি বলছেন, ''এর আগে দুইবার আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। শেষবার মেরে কেটে ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে। আবার গিয়ে আবার মারধর খেয়ে ফেরত আসতে চাই না। তারা যদি নিতেই চায়, অন্যসব জাতির মতো আমাদেরও সমান অধিকার দিয়ে, নাগরিকত্ব দিয়ে নিয়ে যাক।

মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নানারকম মত থাকলেও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এবার শুরু করা যাবে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) কমিশনার মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘’মিয়ানমারের সদিচ্ছা রয়েছে বলে আমরা দেখতে পেয়েছি। বাংলাদেশের কাছে রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান হচ্ছে প্রত্যাবাসন। আমরা চাই সেটা যেন টেকসই হয় এবং স্বেচ্ছামূলক হয়। 

রোহিঙ্গাদের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, যে সংকট দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে, সেটা তো একদিনে সমাধান হবে না। আস্তে আস্তে সবকিছুর সমাধান হবে।

রোহিঙ্গা নেতারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলের অসন্তোষের বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল শনিবার কয়েকজন রোহিঙ্গা সদস্যকে কক্সবাজারে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে কথা বলে নিজ দেশে ফিরে যেতে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তারা এই রোহিঙ্গা সদস্যদের বলেছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতেই হবে, যদিও কাউকে জোর করে মিয়ানমারে পাঠানো হবে না।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আট লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছিল।

এরপর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার একটি ফিরতি তালিকা পাঠানো হয়। ওই তালিকা থেকে পরিবার ভিত্তিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১১৪০ জনকে বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৭১১ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমার সম্মতি দিলেও বাকি ৪২৯ জনের ব্যাপারে তাদের আপত্তি ছিল। গত মার্চে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল এসে এদেরসহ মোট ৪৮০ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই করে দেখেছে।

২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মুখে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা সে দেশের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। আগে আসা রোহিঙ্গা মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে।


আরও খবর



মহাদেবপুর-পোরশা সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি সেলিম

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৭ মে ২০২৩ | ৭৫জন দেখেছেন

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

নওগাঁর মহাদেবপুরে মহাদেবপুর টু পোরশা আন্ত:উপজেলা সংযোগকারী সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে ঐ সড়কের মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন বাটুলতলী এলকায় বন্দরনগরী কারিগরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত সমাবেশে জাতীয় সংসদ ৪৮, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলদাছী) আসনের এমপি সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সড়ক উন্নয়ন কাজের ফলক উন্মোচন করেন।

মোট ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির উন্নয়ন কাজ শেষ হলে নওগাঁ জেলা সদর ও মহাদেবপুর উপজেলার সাথে পোরশা উপজেলা এবং পাশ্ববর্তী চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সড়ক যোগাযোগের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সওজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সওজ পত্নীতলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ৩টি গ্রুপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরমধ্যে মহাদেবপুরের গ্রুপে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। এখানে মোট ৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১.৩ কিলোমিটার সড়ক ২৪ ফুট চওড়া করে আরসিসি ঢালাই দেয়া হবে। বাকী অংশে সড়কের চওড়া হবে ১৮ ফুট। এছাড়া অন্য দুটি গ্রুপে যথাক্রমে ৬৫ কোটি টাকার বেশি ও ৩০ কেটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে।

সেখানে আয়োজিত সমাবেশে এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান হাবীব ভোদন, এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ পত্নীতলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

খাজুর ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত সহকারি অধ্যাপক হাফিজুল হক বকুলের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মহাদেবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাওসার আলী প্রমুখ। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাফ্ফর হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া রহমান পলি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বদিউজ্জামান বদি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মজিবর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মন্ডল, অর্থ সম্পাদক হাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এমপি সেলিম বর্তমান সরকারের আমলে বাস্তবায়িত নানা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান।


আরও খবর