Logo
শিরোনাম

জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে কৃষি

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের আউশ ও রোপা আমন ধানের চাষাবাদ।

এই সময়ের মধ্যে সিংহভাগ জমিতে আমনের চারা রোপণ হওয়ার কথা। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে অধিকাংশ জমিতে চারা লাগানো যাচ্ছে না। প্রকৃতির এমন বিরুপ আচরণে চাষিদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। কখনো টিপটিপ, কখনো একপশলা বৃষ্টি হলেও বর্ষানির্ভর আউশ-আমন চাষের জন্য তা যথেষ্ট নয়। রোদের তীব্রতার চেয়ে বাড়তি সেচ খরচের ধকলে পুড়ছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে যে পুঞ্জিভূত মেঘ বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা সেটা এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছে। এজন্য বর্ষাকালেও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে না। গত এক দশক ধরেই আবহাওয়ায় এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে ঋতু পরিক্রমায় এই পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সামনে ভারী বর্ষনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চারা রোপণ করা যাবে। চাষিদের সম্পূরক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর তথ্যমতে, বরেন্দ্র অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিমিটার। ১০ বছর আগে রাজশাহীতে বছরে গড় বৃষ্টি হতো এক হাজার ৫০০ মিলিমিটার। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত বছর আষাঢ় মাসে রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছিল ২৫ দিন। আর এ বছর আষাঢ়ে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র আটদিন। গত বছর ৩৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও এবার তা হয়েছে মাত্র ৩৯ দশমিক দুই মিলিমিটার। বৃষ্টিপাত কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ। তবে এবার যেই পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে সেটাও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু সময়ের জন্য। তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে তাপদাহের বিপর্যয় শুধু বাংলাদেশ নয় এটা বৈশ্বিক সংকট। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষ রোপন করতে হবে। ফলদ ও ফুলের পাশাপাশি পশু-পাখির উপযোগী বৃক্ষরোপন অপরিহার্য।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর-বিবিএস আউশ ফসলের প্রাক্কলিত হিসাব শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর দেশে আউশের আবাদ হয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানায়, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি নেই। কৃষকেরা এটা ভাবতেই পারছে না। এই রকম বৈরী আবহাওয়া আগে কখনই দেখেননি।

সাপাহার উপজেলার গোয়ালভিটা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে আমনের জমি রোপণ করতে গিয়ে শ্রমিক খরচ, হালচাষ ও সার-কীটনাশক দিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে বোরোর আবাদ করতে যে ৯-১০ হাজার টাকার মতো খরচ হতো আমনেও তেমন খরচ হবে।

আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন উত্তরের কৃষির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান। তিনি বলেন, স্বাভাবিক বৃষ্টি না হলে আমন চাষে তিন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। প্রথমত সেচে বাড়তি খরচ, দ্বিতীয়ত খেতে আগাছা, রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ বেড়ে যায় এবং তৃতীয়ত উৎপাদিত ধানে ভালো মানের চাল পাওয়া যাবে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর আবদুল্যাহ আল মারুফ গণমাধ্যমে বলেন, রাজশাহী যে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা উর্দ্ধমুখী। আমরা গবেষণা করে যেটা পেয়েছি তা হলো, প্রতিবছর দশমিক ০০৩ করে তাপমাত্রা বাড়ছে। তিনি মনে করেন, রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ার কারণ জলাশয় ও পুকুর ভরাট, বৃক্ষ নিধন, বহুতল ভবন নির্মাণ। এজন্য রাজশাহীর তাপমাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, তাপপ্রবাহ মোকাবেলা করার জন্য এখন থেকে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। আমাদের সবাইকে গাছ লাগিয়ে আবার গ্রীন বলয়ে ফিরে আসতে হবে। নাহলে এই অঞ্চলে প্রতিবছর তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

সাত দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া নতুন করে না বাড়লেও উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়েছে সব ধরনের সবজি ও মাছ। তবে চালের দাম কমেছে।

শনির আখরার খুচরা বিক্রেতা মামুন বলেন, গত মাসের প্রথমদিকে পাইকারদের সিন্ডিকেটের কারণে ডিমের দাম বাড়ে। যে কারণে সেসময় প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এজন্য গত সপ্তাহেও প্রতি ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পাইকারি বাজারে আবারও দাম বাড়ায় ১৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বহুমুখী ডিম ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের অভিযানের পর ডিমের দাম অযৌক্তিকভাবে কমে যায়। এখন দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা চলছে। কয়েকদিন আগে দাম অনেক বেড়েছিল।

সরকারি সংস্থা টিসিবি বলছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এক মাসের ব্যবধানে চাল, চিনি, মসুর ডাল, শুকনা মরিচ, আদা, জিরা, লবঙ্গ, এলাচ, ইলিশ মাছ, গরুর মাংস, গুঁড়াদুধ, লবণসহ ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে।

সাবান, টুথপেস্ট, নারিকেল তেলসহ বিভিন্ন প্রসাধনীর দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত। আগে আধা কেজির যে ডিটারজেন্টের দাম ছিল ৬০ টাকা, সেটি এখন ৯০ টাকা। ৫২ টাকার সাবানের দামও এখন ৭৫ টাকা হয়েছে। যদিও এসব পণ্যের দামের ওঠা-নামার হিসাব টিসিবির কাছে থাকে না।

 কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, দেশে কোনো পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ে সেটি পরবর্তী সময়ে সেভাবে সমন্বয় হয় না। দাম কমলেও সেটা বাজারে বাস্তবায়ন করতে চান না কোম্পানি বা বিক্রেতা কেউই।


আরও খবর

লিটারে ১৪ টাকা কমল সয়াবিন তেলের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




উত্তর কোরিয়া থেকে অস্ত্র নেবে রাশিয়া

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের জন্য উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কয়েক লাখ রকেট ও কামানের গোলা কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউক্রেনে সরবরাহ ঘাটতিতে পড়েছে রাশিয়া। বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়ার দ্বারস্থ হওয়াতে এটিই প্রমাণিত হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে উত্তর কোরীয় সামরিক সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকতে পারে রাশিয়া। তবে কী পরিমাণ অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কিনতে চাইছে মস্কো, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তারা। এর আগে আগস্ট মাসে, ইরানে নির্মিত ড্রোনের চালান গ্রহণ করেছে রাশিয়া।  


আরও খবর

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




হিমাচলে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ৭

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ |
Image

পর্যটকদের নিয়ে খাদে পড়ে খানখান হয়ে গেল গাড়ি। হিমাচল প্রদেশের কুলু জেলায় রোববার রাতের এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সাত পর্যটকের। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কুলু জেলার বানজার এলাকায় ৩০৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এগোচ্ছিল পর্যটকবাহী ওই গাড়িটি। রাতের অন্ধকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় গাড়িটি। গভীর খাদে পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় গাড়িটি।

স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঁচ জনকে কুলু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বাকি পাঁচ জনের চিকিৎসা চলছে বানজার হাসপাতালেই। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মৃতরা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং দিল্লির বাসিন্দা। কুলুতে তারা সকলেই ঘুরতে এসেছিলেন।

কুলুর জেলা প্রশাসক আশুতোষ গর্গ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটিতে চালক-সহ মোট ১৭ জন ছিলেন। কিন্তু কীভাবে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাহাড়ি রাস্তায় খাদের ধার দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের তরফেও গাড়ির মালিক এবং চালকদের সচেতন করা হয়ে থাকে। তবু দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


সূত্র- এনডিটিভি।


আরও খবর

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




সিরাজগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

 সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে এক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ওভারব্রিজের কাছে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছে ধাক্কা খেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক সালেকুজ্জামান খান জানান, নাটোরের বনপাড়া থেকে একটি মাইক্রোবাসে ১৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসছিল।ঝাঐল ওভার ব্রিজের কাছে পৌঁছুলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও একজন মারা যান। হতাহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হাসপাতালে পাঠানো হয়।  


আরও খবর



স্মার্টফোন আসক্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :   করোনাভাইরাসের ধকল কাটিয়ে সশরীরে ক্লাসে ফিরেছে অনেক আগেই। নিয়মিত ক্লাস করছে, পরীক্ষাও দিচ্ছে। কিন্তু করোনাকালীন ক্লাস-পরীক্ষা চলেছে অনলাইনে। এই সময়ে স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ছিল তাদের সঙ্গী। এখন এই সঙ্গীই সর্বনাশের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। গেল অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় মিলেছে এর প্রমাণ। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কাজনক হারে খারাপ করেছে। দ্বিগুণ হয়েছে ফেল করা শিক্ষার্থী।

রাজধানীর প্রথম সারির কয়েকটি স্কুলের অর্ধবার্ষিক বা অর্ধসাময়িক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশি ফেল করা বিষয়ের তালিকায় গণিত, ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞান ও ধর্মশিক্ষা। ক্লাস অনুযায়ী ফেলের হার ৭০-৯৫ শতাংশ পর্যন্ত।

ক্লাস শিক্ষকরা বলছেন, করোনায় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা হাতের লেখায় অনেক পিছিয়ে গেছে। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারছে না। নবম শ্রেণিতে বিশেষ বিষয়ের ওপর জ্ঞানের মাত্রা অনেক কম। সে কারণে ফেলের হার বেড়ে গেছে।

হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী জানায়, বিজ্ঞান বিভাগে তাদের ৬০ জন ছাত্রী রয়েছে। অর্ধসাময়িক পরীক্ষায় ৪২ জন ফেল করেছে। এক থেকে চার বিষয় পর্যন্ত কেউ কেউ ফেল করেছে। তার মধ্যে উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞানে ফেল বেশি। তবে ফেল করা অনেক মেয়ে ক্লাস শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেটে পড়ে। স্যারদের কোচিংয়ে পড়েও তারা ফেল করেছে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলো অনেক কঠিন মনে হচ্ছে। গণিতের অনেক সূত্র ভুলে গেছি। সেগুলো নতুন করে মুখস্ত করতে হচ্ছে। একটি অধ্যায়ে স্যাররা একটি অংক করিয়ে বাকিগুলো আমাদের করতে বলেন। সেগুলো একার পক্ষে সমাধান করতে পারছি না। স্যারকে বললে ভালো করে আর বেঝাতে চান না।

আবার ক্লাস শিক্ষক বলছেন, বাড়িতে কাজ দিলে সেটি ক্লাসে করতে পারছে না। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থাকায় হাতের লেখায় তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত বই পড়লেও গত দুই বছর লেখার প্র্যাকটিস কম করেছে বলে পরীক্ষায় তারা খারাপ করছে। এটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ ভূইয়া বলেন, করোনার ক্ষতি এখনো আমাদের শিক্ষার্থীরা ধকল কাটিয়ে ওঠেনি। স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের অনেক শিখন ঘাটতি হয়েছে। তবে করোনার মধ্যে আমরা প্রথম ও নিয়মিত অনলাইন ক্লাস শুরু করি। সে কারণে অনেকে পড়ালেখায় এগিয়ে থাকলেও হাতের লেখার গতি ও সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার অভ্যাস ভুলতে বসেছে। অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে সবাই যুক্ত হতে না পারায় খুব বেশি সহায়ক হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিক আহসান বলেন, করোনায় আমাদের শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষাতে চলমান বাড়তি ক্লাস নেওয়া বা বাড়তি মনিটরিং পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষার্থীরা ক্ল্যাসিকাল সাবজেক্টের একটি লেভেল বা লেয়ার অতিক্রম করতে পেছনের জ্ঞানগুলো বুঝতে না পারলে পরের স্তরে সমস্যা হয়। তার মধ্যে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয় রয়েছে। এগুলোর শিখন ঘাটতি কাটাতে আরও বেশ কিছু কার্যকর প্রোগ্রাম দরকার। প্রতিবেশী শিক্ষার্থীর মধ্যে লার্নার গ্রুপ তৈরি করে ক্লাসরুমের বাইরেও কিছু কার্যক্রমে যুক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে অন্যদের কাছে শেখার সুযোগ তৈরি হবে। শুধু ক্লাসরুমে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। অ্যাসাইনমেন্টগুলো আরও চিন্তা-ভাবনা করে প্রজেক্টভিত্তিক করে তুলতে হবে। যেন শিক্ষার্থীরা ক্লাসের বাইরে, বাড়িতে ও অবসরে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তার সমস্যার সমাধান করতে পারে। 


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২