Logo
শিরোনাম

কেনাকাটায় ধুম রাজধানীর মার্কেট-বিপণিবিতানগুলোতে

প্রকাশিত:বুধবার ২৭ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১১০জন দেখেছেন
Image

 রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে ঈদের আমেজ বইছে। সব ধরনের ক্রেতা সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে দোকানপাট। শেষ মুহূর্তে বেচাকেনায় যেন ধুম পড়েছে। আসন্ন ঈদ ঘিরে বাহারি পোশাকে সেজেছে রাজধানীর ফ্যাশন হাউসগুলো। রঙ-বেরঙের পোশাকে ভরে গেছে রাজধানীসহ সারা দেশের মার্কেটগুলো। করোনায় দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দোকানিরা। গত দুই বছরের চেয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে তাদের। নানা সমস্যার মধ্যেও অনেকে ঈদের কেনাকাটা করছেন। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর ঈদে সন্তানদের আবদার মেটাতে পারেননি তারা এবার কমবেশি কেনাকাটা করছেন।

‘গত দুই বছর বেচাবিক্রি ছিল না। এবার আশা করছি ভালো বিক্রি হবে। ক্রেতারা আসতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে,’ জানালেন রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা নূর মোহাম্মদ নূরু। অন্য ব্যবসায়ীরাও মনে করছেন, গত দুই বছরের ক্ষতি এবার তারা কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার ঈদুল ফিতরের মূল আকর্ষণ কাঁচাবাদাম ও পুষ্পা দ্য রাইজ। সকাল থেকেই প্রচন্ড গরম আর রোদ উপেক্ষা করে মার্কেটমুখী ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। ঈদ কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

দুপুরের পর থেকে প্রায় প্রতিটি মার্কেট ও বিপণিবিতান এলাকায় ক্রেতা বাড়তে থাকায় পা ফেলার স্থান নেই। ভারতের ভুবন বাদ্যকারের কাঁচাবাদাম খ্যাত গেঞ্জির মূল্য ১৫০-১৬০ টাকা। এছাড়া লাল চন্দন গাছ নিয়ে বিখ্যাত তেলেগু সিনেমা পুষ্পা দ্য রাইজ নামের মিল রেখে এসেছে ছেলেদের টি-শার্ট ও প্যান্ট। ক্রেতারা এ নামের পোশাক খুঁজছেন। প্রতিটি পুষ্পা টি-শার্ট ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ও প্যান্ট ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

রাজধানীর তালতলা সুপার মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, রামপুরা মার্কেট ও বাড্ডার মার্কেটগুলোতে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের সমাগম বেশি। প্রতি বছর রমজানের শেষ দিকে ক্রেতা বেশি দেখা গেলেও এবার শুরু থেকেই বিপণিবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরগরম থাকছে বঙ্গবাজার, বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ বেশিরভাগ সুপার মার্কেট।

মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া কামাল বলেন, গত দুই বছর ঈদের কেনাকাটা করা সম্ভব ছিল না। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। কমবেশি যাই হোক ঈদের কেনাকাটা করতে হবে।

অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদ-আনন্দের আমেজ নেই বললেই চলে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে কোনো মতো টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানালেন তাদের অনেকে।

ঈদে বখশিসের আশায় আছেন রাজধানীর শত শত বাসার দারোয়ান, গৃহশ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষরাও।

রাজধানীর ছয়তলা একটি ভবনে দারোয়ানের চাকরি করেন নাজির হোসেন। তিনি জানালেন, ঈদ বোনাস ও জাকাত-ফিতরা পেলে স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কেনাকাটা করতে পারবেন। তাছাড়া সম্ভব নয়।

বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজের জন্য রাজধানীর গোপীবাগে থাকেন মিনি। তিনি বলেন, ঈদে বোনাস ও ফিতরা পেলে মেয়ের জন্য জামা কিনতে মার্কেটে যাবেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দুই বছর পর অন্তত কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে মানুষ আয় করতে পারছে। ব্যয় করার সক্ষমতাও বাড়ছে। এ কারণে এবার ঈদে আংশিকভাবে হলেও সবাই কম-বেশি ব্যয় করবেন। তবে সবার জন্য সুযোগটা সমান হবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘খাবারের উচ্চমূল্য তাদের ঈদ আনন্দ মলিন করে দিচ্ছে। এটি কোনো স্বস্তির ঈদ নয়।’

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের দৃষ্টিতে গত দুই বছরের চেয়ে এবারের ঈদ সবার জন্যই আনন্দের হবে। কারণ ধীরে ধীরে অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ কাজে ফিরছে। হয়তো করোনার আগের সময়কালে ফেরেনি। তবে গত দুই বছরের চেয়ে ভালো আছে। কেনাকাটা ও বাজার পরিস্থিতি দেখেই তা বোঝা যায়। হয়তো কষ্ট হচ্ছে, তবু সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করছেন সবাই। তিনি উল্লেখ করেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদ আনন্দের ছোঁয়া দিতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ব্যাংকগুলোরও দরিদ্রদের পাশে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন।’


আরও খবর



ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ সুবিধায় আসছে ২ হাজার হেক্টর জমি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৮৩জন দেখেছেন
Image

 মোঃ মজিবর রহমান শেখ,

কৃষি স্বনির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁও। আশপাশের জেলাগুলোর তুলনায় এ ঠাকুরগাঁও  জেলার ফসলের মান এবং উৎপাদন হার অনেক বেশি। কৃষিতে সেচ কাজে ব্যবহার হয়- এমন প্রাকৃতিক পানির উৎস বৃদ্ধি হলে এ জেলার কৃষি এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ।  

এরই লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও  জেলার টাঙ্গন ব্যারেজ, বুড়িবাঁধ ও ভুল্লির বাঁধ সেচ প্রকল্পগুলো পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ ও সম্মিলিত পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এতে বিদ্যমান সেচ প্রকল্পগুলো পুনর্বাসনের মাধ্যমে ৭ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ও সম্মিলিত পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ হাজার হেক্টর জমিসহ প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে। ঠাকুরগাঁও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ৪৫ কিলোমিটার ব্যাপী এ নদী খনন কাজ। এরই মধ্যে মাটি কাটার কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন গ্রাউন্ড ওয়াটারের উপর চাপ কমবে, অন্যদিকে সেচের জন্য ব্যবহার্য অতিরিক্ত জ্বালানি সাশ্রয় হবে। সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার ফসলের নিবিড়তা ২৪৫ শতাংশ উন্নীতকরণের মাধ্যমে বাৎসরিক প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। 

মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র রক্ষাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, ৪৫ কিমি. নদী পুনর্খননের মাধ্যমে নাব্যতাবৃদ্ধি এবং ৩ দশমিক ৩০ কি.মি. নদীতীর সংরক্ষণ কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন অবকাঠামো নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করবে। তীরে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বিরূপ প্রভাব থেকে প্রকল্প এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভুল্লি বাঁধ এলাকার বাসিন্দা মইনুল ইসলাম বলেন, শুকনো মৌসুমে এ এলাকার জমিগুলো পানিশূন্যতার কবলে পড়ে। নদী খননের ফলে শুকনো মৌসুমে পানি জমা থাকবে। এতে বিভিন্ন খাদ্যশস্য ফলানোর ক্ষেত্রে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়াও নদীতে মৎস্য আহরণ করে জনগণের চাহিদা পূরণ হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠাকুরগাঁও (পওর) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্প সমাপ্ত হলে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির প্রভাবে জমি সেচের আওতায় আসবে আরো ২ হাজার হেক্টর জমি। শুকনো মৌসুমে এ জমিগুলো সেচ সমস্যায় পড়বে না। নদী তীরে একটু পাড় রেখে বাকি মাটি সরিয়ে নেওয়া হবে। সে পাড়ে গাছ লাগানো হবে। এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার বালু বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ৩ জন ঠিকাদার ১৫ কি.মি. করে মোট ৪৫ কিলোমিটার নদী খননের কাজ করছেন। প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন গ্রাউন্ড ওয়াটারের উপর চাপ কমবে, ঠিক তেমনি সেচের জন্য যে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রয়োজন হতো তা সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভুল্লিরবাঁধে ৪৫ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ড। 


আরও খবর



গাজীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ জনতার মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৮৮জন দেখেছেন
Image

সদরুল আইন,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় ২০মিনিট অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে।

শনিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গাছা) আহসান হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাস্তা পারাপারের সময় ঢাকামুখি লেনে আজমেরি গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান এক যুবক। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় প্রায় ২০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতা বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। মহাসড়কের মাঝখানে রোড ডিভাইডার না থাকায় কয়েকমাস আগেও একই স্থানে এক স্কুল শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। 

আমরা বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে দ্রুত সড়কে ডিভাইডার স্থাপনের অনুরোধ করা হয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। ঘাতক বাসটিকে আটকের চেষ্টা চলছে। নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুরু ১০ মে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ১১১জন দেখেছেন
Image

করোনার কারণে দুই বছর বিরতির পর আগামী ১০ মে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো। এবারের এক্সপোতে চারটি সেমিনার এবং দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (২০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক্সপোর এবারের ১২তম সংস্করণ করোনা-পরবর্তী নতুন বিশ্বে ডেনিম ব্যবসার চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের ওপর আলোকপাত করবে। এতে ৭৯টি দেশি ও বিদেশি ডেনিম ফেব্রিক্স, গার্মেন্টস, সুতা, মেশিন এবং এক্সেসরিজ কোম্পানি প্রদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে ২য় বৃহত্তম হলেও বর্তমানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তম ডেনিম রপ্তানিকারক দেশ।

বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘দুই বছর আগে যখন বাংলাদেশে ডেনিম এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখনকার সময় থেকে বর্তমান সময় আমাদের সবার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কথা অনস্বীকার্য যে, করোনা মহামারি ডেনিম সাপ্লাই চেইনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা মহামারি আমাদের শিখিয়েছে টেকসই ব্যবসার গুরুত্ব সর্বাগ্রে রাখতে। তৈরি পোশাকের ক্রেতারাও আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন টেকসই ব্যবসার ব্যাপারে বেশি সচেতন। বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর এবারের সংস্করণের সারা বিশ্ব থেকে ডেনিম অংশীদাররা একই ছাদের নিচে সমবেত হয়ে আগামী দিনে টেকসই ডেনিম ব্যবসা নিশ্চিতকরণে তাদের মতামত দেবেন, যা বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’



সুত্রঃ ইত্তেফাক


আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২




ঈদের আগে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থির

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৯৬জন দেখেছেন
Image

সরকার নির্ধারিত মূল্যে কিছু পরিমাণ বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও সেটা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আবার কারখানা থেকেই খোলা সয়াবিন তেলের দাম চাওয়া হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট :

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন বাজার থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে গেছে। বেশি দামেও মিলছে না বোতল জাত সয়াবিন তেল।

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, গত বুধবার বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে গেলে বোতল জাত তেল নেই বলে দোকানদার জানায়। পরে দাম বেশি দেওয়ার কথা বললে ৫ লিটার বসুন্ধরা তেল দেয়। কিন্তু বোতলের সঙ্গে তেলের মূল্য ৭৬০ টাকা লেখা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ৮৬০ টাকা। বাজারের বিভিন্ন ক্রেতা জানান, বসুন্ধরা ৫ লিটার তেলে সঙ্গে ৫ কেজি আটা, তীর ৫ লিটার তেলের সঙ্গে ২ লিটার সরিষার তেল নিতে বাধ্য করছে, তা না হলে তারা সয়াবিন তেল বিক্রি করছে না। এতে বাধ্য হয়ে অনেকেই তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাউফল (পটুয়াখালী) : গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাউফল বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত তেল নেই। আবার খোলা তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দোকানদার বোতলজাত তেলই বিক্রি করছেন না। এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটে সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

সোয়াবিন তেলের দাম জানতে গেলে পৌর সদরের লোকনাথ ভান্ডারের দোকানি সঞ্জয় কুমার বনিক সাংবাদিকদের বলেন, এক সপ্তাহ থেকে বোতলজাত তেল সংকট চলছে।

পৌরসদরের বাসিন্দা ক্রেতা রিয়াজ বলেন, গত ১০ দিন আগে খোলা সয়াবিন তেল কিনলাম ১৮০ টাকা কেজি। সেই তেল এখন কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে।

পৌর সদরের বাংলাবাজার এলাকার আরেক ব্যবসায়ী আবদুল জলিল বলেন, সয়াবিন তেলের চাহিদা আছে কিন্তু সরবরাহ নেই। ডিলাররা বলছেন সরবরাহ বন্ধ।’

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) : বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার সয়াবিন তেল ২০০ টাকা লিটার মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এতে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। বিক্রেতাদের দাবি, এক সপ্তাহ যাবত কোনো কোম্পানি সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে না। তাই বাজারে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। যাও পরিমাণে অল্প পাওয়া গেলেও বেশি দরে কিনে বেশি মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বোয়ালমারী বাজারের মেসার্স সাহ স্টোর, দত্ত ভান্ডারসহ বিভিন্ন স্থানের একাধিক মুদি দোকানদার বলেন, ইন্দোনেশিয়া তেল রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই মুনাফালোভীরা তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ফরিদপুরের সভাপতি শেখ ফয়েজ আহমেদ বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পেছনে ডিলার ও পাইকারদের হাত রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান নিয়মিত করা হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধভাবে মুনাফা অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। প্রায়দিনই বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে এর সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগেরহাট : বাগেরহাটে সয়াবিন তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তেল কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন ভোক্তারা। খোলা তেলও বিক্রি হচ্ছে বোতলজাত তেলের থেকে বেশি দামে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অগ্রিম টাকা দিয়েও কোম্পানি থেকে তেল পাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের প্রধান বাজারসহ অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। যেসব দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল রয়েছে, তারা ১৬০ টাকা গায়ের রেটে ১৭০ টাকা লিটার বিক্রি করছেন। এছাড়া খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, দাম বেশি নেওয়ার অপরাধে আমরা বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করেছি। বর্তমানে যদি কোনো ব্যবসায়ী এ ধরনের কাজ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


আরও খবর

পচছে আমদানি পেঁয়াজ

সোমবার ১৬ মে ২০২২




বাড়ি যাব আজ ‘যেভাবেই হোক,

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৯৭জন দেখেছেন
Image

যেভাবেই হোক আর যত কষ্টই হোক- আজ বাড়ি যাবেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লিমা আক্তার। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করবেন, আনন্দে কাটাবেন কয়েকটা দিন। কমলাপুরের রেলস্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থেকে কথাগুলো বলছিলেন তিনি। জানালেন পাওয়া না পাওয়ার হিসাব কষতে রাজি নই।

ঈদ উপলক্ষে ট্রেনযাত্রার চতুর্থ দিন শনিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছিল উপচেপড়া ভিড়। সকালের দিকে মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়ায় ভিড় থাকলেও আগের তিন দিনের মতো গরমে কষ্ট করতে হয়নি যাত্রীদের, তবে ভিড়ের কারণে নির্ধারিত আসন খুঁজে বসতে ভোগান্তি সহ্য করেছেন যাত্রীরা।

যারা টিকিট পাননি, তারা কষ্ট করে দাঁড়িয়ে গেছেন, তবে বাড়ি যাওয়ার আনন্দের কাছে বরাবরের মতোই এসব কষ্ট উপেক্ষিত ছিল।

রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ৩৫ মিনিট দেরিতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে গেছে। ট্রেনটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

কথা হয় যাত্রী ফারুক হোসেনের সঙ্গে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এ চাকরিজীবী বলেন, এখনও কষ্টের কিছুই শুরু হয়নি। এয়ারপোর্ট স্টেশনে গেলে বগিতে দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না। তখন কষ্ট বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, যত কষ্টই হোক, বাড়িতে ফিরতে হবে, এটা আমার এবং আর দশজন মানুষের ভাবনা।

ফারুকের মতো ঘরমুখো মানুষদের ভোগান্তির শুরু গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস ‍বৃহস্পতিবার। দিনে অফিস শেষে বাড়ি ফেরার তাগিদ ছিল অনেকের। ফলে বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালের দিকে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে ছিল উপচেপড়া ভিড়।

দরজায় ঈদ কড়া নাড়ার সময় শনিবারও কমলাপুরে কমেনি ভিড়। এ নিয়ে কথা হয় ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রী আইয়ুব আলী সুমনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ঈদ কাছাকাছি চলে আসার কারণে মনে হয় আজকে ভিড় বেড়েছে, তবে এর চেয়েও বেশি ভিড় ও ভোগান্তি সহ্য করে টিকিট কেটেছি। অবশেষে স্বপ্নের ঈদযাত্রা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারব। এতেই আমি সন্তুষ্ট।

কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী এক্সপ্রেসের যাত্রী সাদিয়া আফরিন। স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছেন কিশোরগঞ্জে।

তিনি বলেন, গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে ভিড়টা বেশি, তবে করোনার আগে এর চেয়ে বেশি ভিড় হতো বলে আমার মনে হয়।

সাদিয়া আরও বলেন, ‘সকালের দিকে ভিড় হতে পারে এবং জ্যাম থাকতে পারে বলে আগেই চলে এসেছি। কিছুক্ষণ বসে থাকতে হচ্ছে, কিন্তু এতে শান্তি আছে।

অনেক দিন পর বাড়িতে যাচ্ছি। এমনিতেই একটা ভালো লাগা কাজ করছে। কেন জানি না, ক্লান্তি আসছে না।

একই ট্রেনের আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আজকে ভিড় হবে। এটা আগে থেকেই মনে হচ্ছিল। তাই আমিও বুদ্ধি করে সেহরি খেয়েই রওনা দিয়েছিলাম; ঘুমাইনি।

স্টেশনে বসে থাকতে হলেও বাড়ি যাওয়ার আনন্দে আমার কিছুই মনে হয়নি।

ব্যাংক কর্মকর্তা ঊর্মি যাবেন চট্টগ্রামে। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ঈদ করতে ঢাকা থেকে গ্রামে যাচ্ছি। এর অনুভূতিটাই অন্যরকম। এর আগে তো বাড়িতেই থাকতাম।

তাই ঈদযাত্রা কী, এর জন্য ভোগান্তি ও চাপা একটা আনন্দ কাজ করে, সেটা জানতাম না। সব মিলিয়ে ভোগান্তি থাকলেও আমি উপভোগ করছি।

কথা হয় সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাকিবের সঙ্গে। নাটোরগামী এ যাত্রী বলেন, ভিড়টা বেশি মনে হচ্ছে, তবে এসব কষ্টের পরও স্বস্তির ব্যাপার এই যে, ঈদ করতে পারব মা-বাবার সঙ্গে।

ঈদযাত্রার প্রথম দুই দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভিড় স্বাভাবিক মাত্রায় থাকলেও শুক্রবার সকালে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি ছিল। কমলাপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে তিল ধারণের জায়গা ছিল না শুক্রবার সকালেও, কিন্তু বিকেলে দেখা যায় তার উল্টো চিত্র। প্ল্যাটফর্মগুলো ফাঁকা পড়ে ছিল।

বিকেলের দিকে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও ইফতারের পর বাড়তে থাকে। শেষ সময়ে স্ট্যান্ডিং টিকিটের কদর বাড়তে দেখা গেছে।

সন্ধ্যার পর স্টেশনের বাইরে টিকিট কাউন্টারের সামনে দেয়া হয় স্ট্যান্ডিং টিকিট। অবশ্য এর আগে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এবার স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হবে না।

শনিবার সকালে দেখা যায়, বিনা টিকিটে যেন কেউ ভ্রমণ করতে না পারে, তার জন্য স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুহূর্তে চেক করছেন রেলওয়ের কর্মীরা। যাদের টিকিট নেই, তাদের ‘ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষকের বাড়তি ভাড়ার টিকিট’ দেয়া হচ্ছে।

স্টেশনের টিটি দেলোয়ার হোসেন বলেন, যাত্রীদের আটকানো সম্ভব নয়। তাই কেউ যেন বিনা টিকিটে ভ্রমণ না করে, তার জন্য এই টিকিট দেয়া হচ্ছে। কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট বিক্রি হচ্ছে না।

এবারের ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ৫৩ হাজার যাত্রী ট্রেনে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন। এর মধ্যে শুধু আন্তনগর ট্রেনে আসন ২৭ হাজারের বেশি।


আরও খবর