Logo
শিরোনাম

কতটা বুঝে উঠতে পারি আমরা মানুষকে?

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ঃ

 হয়তো আমাদের বোঝার মধ্যেই একটা অস্পষ্টতা থেকে যায়। এ অস্পষ্টতাই অনেক সময় মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। সময় এখানে একটা মহামূল্যবান উপাদান হিসেবে কাজ করে। সময়ের বোঝাটা সময়ে বুঝতে না পারাটাই ‘আমি অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করি’-এর মতো। ১৯৩১ সালের একটা ঘটনা মনে পড়ল।

কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানান তার একটি শো দেখার জন্য। তখন চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইটস্’ সিনেমার প্রদর্শনী চলছিল। শো-এর পরে তারা দুজন শহরের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সবাই আমাকে সহজেই বোঝে, এজন্যই আমার এত জনপ্রিয়তা। কিন্তু মানুষ আপনাকে কেন এত পছন্দ করে বুঝলাম না।’ আইনস্টাইন সহাস্যে জানালেন, ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এ জনপ্রিয়তা।’

তাহলে মানুষ যাকে সহজে বোঝে আর যাকে বোঝে না, তারা দুজনই কি জনপ্রিয় হয়? বোঝা না বোঝার এ ঘোরের মধ্যেই মানুষকে বোঝার গভীর তত্ত্বটা অনেকটা এক টুকরো আলোর মতো ছড়িয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে মহানুভবতা থাকলে সময় মানুষের মধ্যে বোধশক্তি তৈরি করে। কিন্তু মানুষের মধ্যে মহানুভবতা না থাকলে সময় তখন অপেক্ষা করে।

সে অপেক্ষা কতটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে, তা অনেকটা অনিশ্চিত। কারণ সময় তখন নিজেকে আড়াল করে, নিরুদ্দেশ হয়। যাযাবর হয়। কেউ সময়ের এ রহস্যকে ভেদ করতে পারে না। তবে চার্লি চ্যাপলিন আইনস্টাইন-এর ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এ জনপ্রিয়তা’ এ উত্তরটার ভেতরের অর্থ বুঝতে পেরেছিলেন। আত্মজীবনীতে তাই চ্যাপলিন লিখছেন, আইনস্টাইনকে তার ঘরোয়া ‘আলপাইন জার্মান’দের মতোই লেগেছিল। তবে চমৎকার অনুভূতিসম্পন্ন, হাসিখুশি আর বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন আলবার্ট।

তিনি খুব শান্ত ও ভদ্র। তবে এসব ছাপিয়ে ফুটে উঠেছিল আইনস্টাইনের গভীর ও অনন্য সংবেদনশীল মনের পরিচয়। চ্যাপলিনের ধারণা, এ সংবেদনশীল মনই আইনস্টাইনের অনন্য সাধারণ পাণ্ডিত্যের আধার।

আইনস্টাইনের সংবেদনশীল মনের পাণ্ডিত্য সবার পক্ষে বুঝে উঠাটা হয়তো কঠিন ছিল; কিন্তু তিনি যে কিছু একটা করে পৃথিবীর চিন্তাধারা বদলে ফেলতে পেরেছেন, সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সহজাত কৌতূহল তৈরি করতে পেরেছিল। মানুষের এ কৌতূহল থেকে আইনস্টাইন মানুষের কাছে সাধারণ থেকে অসাধারণ মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বকে না বুঝলেও তার চিন্তার শক্তিকে বুঝতে পেরেছিল। যেটি সে সময় নীরবে, নিভৃতে আইনস্টাইনকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আর রাজা রামমোহন রায় সে সময় সমাজ যা বিশ্বাস করত, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন। রাজা রামমোহন রায় যেমন ‘সতীদাহ প্রথা’ বন্ধের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। অন্যদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও বাল্যবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথা বন্ধে এবং বিধবা বিবাহ চালু করতে সমাজ সংস্কারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। সমাজ এগুলোকে সে সময় জীবনের অপরিহার্য অংশ ও নৈতিকতা বলে প্রচার করেছিল।

গতানুগতিক ধারার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে সময় ঈশ্বরচন্দ্র ও রাজা রামমোহন রায় সমাজের কাছে ভিলেন বলে পরিগণিত হলেও আজকের সময় ও সমাজ তাদের মহানায়কে পরিণত করেছে। সে সময়ের সমাজের পশ্চাৎপদ ধারণার মানুষদের কেউ মনে না রাখলেও ঈশ্বরচন্দ্র ও রাজা রামমোহন রায়কে সময় এখনো মনে রেখেছে। এটাই সময়ের ধর্ম।

ইতিবাচক দিকগুলো যতই পুরনো হোক না কেন, তাতে যদি মানবিক ধারণার নান্দনিকতা থাকে; তবে তার আলো কখনো নিভে যায় না। প্রযুক্তির আভিজাত্যের রঙ মেখে দারুণ এ সময়ে আমরা কতটুকু মানুষকে বোঝার চেষ্টা করেছি, কতটা করছি; সে বুঝতে পারার শক্তিটাই কেমন, যা ‘বোঝা’ হয়ে ঝুলে পড়েছে কোনো একটা আস্থাহীনতার জায়গায়! যাদের আমরা ভালো বলছি, তারাই হয়তো খারাপ। আবার যাদের আমরা খারাপ বলছি, তারাই হয়তো ভালো। এ এক গোলক ধাঁধা। সময়ের পরীক্ষা। যে পরীক্ষাটা সময় নেয়। উত্তরটাও সময় দেয়।

তবে সময়ের টমটম ঘোড়ায় চড়ে মানুষের সম্পর্কগুলো কেমন যেন অগোছালো, আলগা, ফসকা গেড়োর মতো হয়ে গেছে। মা, বাবা, ভাই, বোনের সম্পর্কগুলো কেমন যেন অচেনা হয়ে পড়েছে। আপন প্রাণের টানটায় কেমন যেন ঘুণে ধরেছে। মরিচা পড়েছে। সময়টা কি তবে অচেনা হয়ে গেল! মায়া-মমতা সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল! সেই পুরনো দিনের সম্পর্কের মখমলটা বিবর্ণ সুতার রক্তে যেন পচে গেছে। মা ছুটছে হাই সোসাইটিতে নিজের বড়ত্বের প্রমাণ দিতে; বাবা ছুটছে অবৈধ টাকার পিছনে।

অনৈতিকতাকে নৈতিক বানানোর রঙ-রূপ-রসে ছেলেমেয়েরা উচ্ছন্নে গেছে। মাদক আর ভোগবাদী দুনিয়াতে তারা ডুব দিয়েছে। না আছে মন, না আছে মানবিকতা, না আছে জীবনবোধ। সব মিছে খেলা হয়ে কাদামাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বন্ধুতে-বন্ধুতেও আর চাকচিক্য নেই, আছে স্বার্থের রুগ্ন দেহ। লোভ, কামনা, বাসনা। বন্ধুর মধ্যে আর সেই মায়ার বন্ধন নেই, জাদুকরী চিন্তার শক্তি নেই। সবাই কাঁচা পয়সার তেলেসমাতিতে বেসামাল হয়ে দড়ি টানাটানির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মানুষের ভেতর এখন আর কিছু নেই।

আছে কেবল অস্তিত্বহীন কিছু হাড় ও কংকাল। তবুও জীবন, তবুও সময় কখনো ভুল করে না। সময় সময়ের মতো করে জেগে উঠে। যেমন সময় কখনো ডানা মেলে উড়াল দেয়, আবার কখনো ডানাটা খুলে নেমে আসে মাটির পৃথিবীতে। সময়কে মানুষ যদি বুঝতে পারে, মানুষও সময়কে তখন বুঝে; যা একদিন বাস্তব হয়ে স্বপ্নের সময় হয়। সময়ের পরীক্ষাটা খুব কঠিন বরফের মতো। কখনো এটা পানি, কখনো জলীয়বাষ্প, আবার কখনো বরফ। কখনো গন্তব্যহীন।

রোমান সম্রাট নিরোর কথা মনে পড়ছে। নিরোকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কথাটি হলো-রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল। এটা সত্য না মিথ্যা ছিল, সে বিচারের ভার সময়ের হাতে। কারণ সময় সর্বদাই বেঁচে থাকে, কিন্তু মানুষ সময়ের গর্ভে হারিয়ে যায়। রোমান সম্রাট নিরো ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ও পাগলাটে ধাঁচের শাসক ছিলেন। কথিত আছে, নিরোর মা নিরোকে ক্ষমতায় বসালেও তিনি তার মাকে হত্যা করেন। ক্ষমতার উন্মুক্ততায় নিরোর হত্যার শিকার হয়েছেন তার সৎভাই ও স্ত্রীরা।

বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর তার দমন-পীড়নের কাহিনী এখনো মানুষের মুখে মুখে। একটা আবেগতাড়িত শিল্পমনস্কতা তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। নিরো থিয়েটার করতে খুব পছন্দ করতেন। তিনি বীণা জাতীয় বিশেষ একটি বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন, গান গাইতেন, কবিতা লিখতেন এবং মঞ্চে অভিনয়ও করতেন। সম্রাট নিরোর শাসনকালের প্রথম পাঁচ বছর তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। এ সময়টা রোমান জনগণের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সময় তাকে মানুষের রাজা বানিয়েছিল। সময়ের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা আবার তাকে পথের মাটিতে ছুড়ে মেরেছে। এটা তো সময়ের খেলা, সময়ের নাটক। সেনাবাহিনী ও সিনেট তাকে ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করে। নিরোকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করার আদেশ জারি হয়। বিশাল রাজপ্রাসাদে থাকা সম্রাট নিরো গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। কিন্তু সেটা আর কতক্ষণ? রক্ষীরা তার গন্তব্যের খোঁজ পেয়ে যখন অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তিনি আত্মহত্যা করেন।


মৃত্যুর আগে তিনি ‘কোয়ালিস আর্টিফেক্স পেরেও’ বলে চিৎকার করছিলেন। কী অদ্ভুত! সময় যেটা তাকে উচ্চারণ করতে প্ররোচিত করেছিল, সেটার অর্থ ছিল বহুমাত্রিক। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অর্থ হিসেবে যা বিবেচনা করা হয়, তা হলো- ‘আমার মৃত্যুর সময়ে আমি কী দারুণ এক শিল্পী’, ‘আমার সঙ্গে কী এক শিল্পীর মৃত্যু হচ্ছে’ অথবা ‘আমি একজন বণিকের মতো মারা যাচ্ছি।’ কী বিচিত্র সময়ের রং বদলানোর জাদু; যার অস্থিমজ্জার পচনশীলতায় মানুষ একসময় পচে যায়। কখনো সময়ের সম্মোহনী জাদুতে মানুষ প্রাণশক্তি ফিরে পায়।


আরও খবর



মিয়ানমারে জান্তার গোলায় নিহত ২ শিশু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ |
Image

মিয়ানমারের রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে সাত বছরের দুই শিশু নিহত হয়েছে। সরকারি সেনাদের সাথে আরাকান আর্মির চলমান সংঘাতের মধ্যে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, রোববার রাতে কিয়ায়ুকতাউ সেনাবাহিনীর ঘাঁটি থেকে মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। কোনও কারণ ছাড়াই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়। এতে না গা ইয়ার গ্রামে একটি বাড়িতে সরাসরি আঘাত হানে মর্টারের গোলা। এতে, পিঠে আঘাত প্রাপ্তের তিন ঘণ্টা পর এক শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও একজন। এছাড়া, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বুথিডাউং টাউনশিপে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে সাত বছর বয়সী এক মুসলিম শিশু নিহত হয়েছে। উরুতে আঘাত পাওয়া ছেলেটি কয়েকদিন পর হাসপাতালে মারা গেছে। 


আরও খবর

চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




বিএনপির আন্দোলন মানেই নৈরাজ্য সৃষ্টি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন মানেই সন্ত্রাস সৃষ্টির উস্কানি ও রাজপথ দখলের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির এই চিরায়ত আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সর্বদা বাধাগ্রস্ত করেছে। বৈশ্বিক সংকটে জনগণের পাশে না থেকে বরং তারা দেশ ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছে।

তিনি বলেন, বিরাজমান বৈশ্বিক সঙ্কটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশের গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের চক্রান্ত চালাচ্ছে বিএনপি। একই সাথে সঙ্কটকে পুঁজি করে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে তারা আরও দেশবিরোধী ও গণবিরোধী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিএনপির অন্তর্নিহিত ফ্যাসিস্ট চরিত্র জনগণের সামনে ফুটে উঠছে এবং তারা যে কোন উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছে। আর সরকারের পদত্যাগের জনবিচ্ছিন্ন দাবি করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছে। আন্দোলনের নামে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরাবরের মতো জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 ‘সরকার বিরোধী দল দমন করছে’ বিএনপি এমন অভিযোগের আড়ালে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। দেশের যে সকল জায়গায় তারা সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে সে সকল এলাকায় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী মতকে দমনে বিশ্বাস করে না। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করে রাজনীতি ও ক্ষমতার একমাত্র উৎস হলো দেশের জনগণ। তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের অপরিহার্য কর্তব্য।

বিএনপিকে সন্ত্রাস নির্ভরতা ত্যাগ করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে কাউকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনমনে ভীতি সঞ্চার ও ক্ষতিকর কার্যকলাপ সংঘটন করতে দেওয়া হবে না।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সুদক্ষ ব্যবস্থাপনায় সকল ধরনের সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের উপর আস্থা রাখে। এই সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার সরকার জনগণের প্রতি যে সকল আহ্বান জানিয়েছে জনগণ তাতে সাড়া দিয়েছে।


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




বর্ণাঢ্যময় জীবনের অধিকারী আকবর আলি খান

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ |
Image

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের মহুকুমা প্রশসাক বা এসডিও ছিলেন। যুদ্ধকালীন সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সরকার দেশদ্রোহিতার অভিযোগে তার বিচার করে। তিনি ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আকবর আলি খান সরকারি চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তীতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হবার আশঙ্কায় তিনি তিনজন উপদেষ্টার সঙ্গে পদত্যাগ করেন।

আকবর আলি খান ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৬৪ সালে সম্মান ও ১৯৬৫ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন দুটিতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে।সরকারি চাকরিতে যোগদানের পূর্বে আকবর আলি খান কিছু সময়ের জন্য শিক্ষকতা করেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে তিনি লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭০ সালে হবিগঞ্জ মহুকুমার এস. ডি. ও. হিসেবে পদস্থ হন। তিনি তার এলাকায় সুষ্ঠুভাবে ১৯৭০-এর নির্বাচন পরিচালনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগের অসহযোগ আন্দোলনে আকবর আলি খান সমর্থন দেন। পাকিস্তান বাহিনীর আক্রমণ শুরু হলে হবিগঞ্জ পুলিশের অস্ত্র সাধারণ তিনি মানুষের মধ্যে বিতরণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অণুপ্রাণিত করেন।

আকবর আলি খান স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তহবিল তৈরি করতে ব্যাংকের ভল্ট থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা উঠিয়ে ট্রাকে করে আগরতলায় পৌছে দেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য যোগান দেওয়ার জন্য গুদামঘর খুলে দেন এবং পরবর্তী সময়ে আগরতলায় চলে যান। ১৯৭১-এর ডিসেম্বরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সচিবালয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।

১৯৭৩ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায় যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। আকবর আলি খান তার পদত্যাগপত্র জমা দিলেও শেখ মুজিবর রহমান তা গ্রহণে অস্বীকৃত জানান। তাকে অবসর না দিয়ে শিক্ষকতা করার জন্য ছুটি দেওয়া হয়।

কমনওয়েলথ বৃত্তির জন্য মনোনীত হওয়ার আগে তিনি অল্প সময়ের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বৃত্তির জন্য তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়এ যোগ দেন এবং সেখানে অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্স এবং পি. এইচ. ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৯ সালে দেশে ফেরত আসার পরে অল্প সময়ের মধ্যেই আকবর আলি খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাকে আবারও প্রশাসনের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

১৯৮৪ সালে তিনি সাভারের বিপিএটিসি-তে মেম্বার ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৭ সালের আগ পর্যন্ত তিনি পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কর্মকমিশন সচিবালয়ে কাজ করেন।

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসে অর্থমন্ত্রী পদে যোগ দেন আকবর আলি খান। ঢাকায় ফিরে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগে অতিরিক্ত সচিব পদে যোগ দেন।  ১৯৯৩ এ সরকারের সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আকবর আলি খান। ১৯৯৬ সালে তিনি অর্থ সচিব হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বদলি হন।

২০০১ সালে তিনি বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে বিকল্প এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর পদে যোগদান করেন। বিশ্ব ব্যাংকে তিনি ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। বিশ্ব ব্যাংক থেকে অবসর গ্রহণের তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর গভর্নমেন্ট স্টাডিজ প্রতিষ্ঠিত করেন।

আকবর আলি খান দেশের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও অগ্রগতি নিয়ে গবেষণা করছেন। একই সঙ্গে তিনি জীবনানন্দ দাশের কবিতা নিয়ে গবেষণা করছেন। আলি আকবর খানের গ্রন্থ হিস্টোরি অব বাংলাদেশবা বাংলাদেশের ইতিহাসএশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত।

পরার্থপরতার অর্থনীতিআকবর আলি খানের গবেষণাধর্মী একটি আলোচিত বই।


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রবিবার সকালে মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে বাস্তবায়নে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন। 

 উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড.শাহ-ই-আলম বাচ্চু, পৌর মেয়র এসএম মনিরুল হক তালুকদার। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.জাহাঙ্গীর আলম, এসএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার নীতিশ বিশ্বাস, রওশন আরা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আল আজাদ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো.কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোরেলগঞ্জ সার্কেল আল মামুন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, পঞ্চকরণ ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার, স্কাউট কমিশনার হোসনে আরা হাসি, সাংবাদিক মশিউর রহমান মাসুম, প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহামন, দূর্গা রানী ঘরাই প্রমুখ। সভায় উপজেলার বিভিন্ন কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসার প্রধানগণ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সুধিজন উপস্থিত ছিলেন । #


আরও খবর

১১০০ শিক্ষকের সনদ জাল

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২




সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে সাহিত্যিকদের জলভোজন

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

শফিউল আলম, স্টাফ রিপোর্টার :

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক লেখক কলামিস্ট গীতিকার শিল্পী সহ

জেলার তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে জলভোজনের আয়োজন করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দারের আমন্ত্রণে জলভোজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

ইসলামগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বাংলা প্রভাষক সুরমার মোহনার সম্পাদক কবি ফজলুল হক দোলন,দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক কবি মোঃ মশিউর রহমান,

 জাগ্রত কন্ঠ সমাজকল্যাণ সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি কবি মোঃসহিদ মিয়া, কবি এস ডি সুব্রত,ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্সের জেলা এজিএম মিসবাহ উদ্দিন রুমি, মইনুল হক কলেজের প্রভাষক কবি তৈয়ুবুর  রহমান, পল্লী চিকিৎসক কবি মো শফিক আহমদ, গীতিকার সামরান আহমদ মিলন,সাংবাদিক শফিউল আলম প্রমুখ। টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের পরে শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি) 


বৈকালি আড্ডায় গান,কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত। প্রভাষক কবি মোঃ মশিউর রহমান বলেন,

সকালে টাঙ্গুয়ার হাওরে বিশাল জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগ করে, দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীর তীরে উত্তর শ্রীপুর বাজার ঘাটে নৌকায় স্থানীয় চেয়ারম্যান আলী হায়দার সাহেবের আমন্ত্রণে জল ভোজন শেষে বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাটে শহিদ সিরাজ লেক ( নীলাদ্রি লেক) এ  গানে, আড্ডায় , কবিতা পাঠে চমৎকার সময় পার হলো।কবি ফজলুল হক দোলন বলেন,আজকের আয়োজন ছিল খুবই আনন্দদায়ক।এদিনটি কোন দিন ভুলা যাবে না।সময় পেলে যে কোন জন ভ্রমণে আসতে পারেন স্বপরিবারে! টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের পরে শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি) 

প্রকাশ জনৈক কবি খালেদ বলেন,বনে ভ্রমণ করে খাওয়া দাওয়া করলে হয় বনভোজন। এভাবে জলে ভ্রমণ করে খাওয়া দাওয়া করলে হয় জলভোজন।


আরও খবর