Logo
শিরোনাম

কু‌মিল্লা বুড়িচংয়ে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু!কি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

 নিজস্ব প্রতিবেদক ,কুমিল্লা 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লড়িবাগ গ্রামে বজ্রপাতে রিপন মিয়া (১৮) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। 

বৃহস্প‌তিবার বি‌কেল ৫টায় এ ঘটনাটি ঘটে 

স্থানীয় সৌরভ মাহমুদ জানান,জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের লড়িবাগ গ্রামের চারু মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া বিকেলে বাড়ির পাশে  মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত হলে কিশোর রিপন মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় বাসিন্দা কুমিল্লা জজকোর্টের এড, মাহাবুবুর রহমান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও লড়িবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জামসেদ আলম ভূঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গরুর জন্য মাঠে ঘাস কাটতে যায় রিপন মিয়া। তখন বজ্রপাতে সে মারা যায়।বজ্রপাতে তার মুখমন্ডল ঝলসে যায়।তাদের পুরাতন বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরত্বে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মাকসুদ আলম জানান,এ বিষয়টি আমি জে‌নে‌ছি ।পু‌লিশ ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন ক‌রে‌ছে।


আরও খবর



মৃত ১০৪ শিশুর পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় মোট ১০৪ জন শিশুর প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অপরপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ১৯৯১ সালে ভেজাল প্যারাসিটাল সিরাপ সেবন করে ৭৬ শিশু এবং ২০০৯ সালে রিড ফার্মার প্যারাসিটামাল সেবন করে ২৮ শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় ২০১০ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিবার সংগঠন এইচআরপিবি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় দিয়েছেন।

রায়ে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা অবৈধ ঘোষণা ও ভেজাল ওষুধের অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালত বলেছেন, ভেজাল ওষুধের কারণে শিশু মৃত্যুর দায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এড়াতে পারে না।


আরও খবর



বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

আগামী ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেলে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫১তম বাজেট। নতুন বাজেটে বিভিন্ন ধরনের পণ্যে শুল্ক ও কর আরোপের প্রস্তাবনা আসতে পারে। পাশাপাশি জনস্বার্থে কিংবা দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় থাকবে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়। এসব কারণে সার্বিকভাবে অনেক পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি কিছু পণ্যের দাম কমতেও পারে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ৫১তম বাজেটের মূল স্লোগান হতে যাচ্ছে ‘কোভিডের অভিঘাত কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।

যেখানে মূল লক্ষ্য থাকবে সক্ষমতার উন্নয়ন। বৈশ্বিক ঝুঁকি কাটিয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো। আসছে বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যেখানে আয় ও ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সুরক্ষায় বিলাসবহুল পণ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করার প্রস্তাবনা থাকছে বাজেটে।

যেসবের পণ্যের দাম বাড়তে পারে আমদানিকরা বিলাসী পণ্য যেমন-বডি স্প্রে, প্রসাধনী পণ্য, জুস, প্যাকেটজাত খাদ্য ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপ হতে পারে।

গত ২৩ মে এক প্রজ্ঞাপনে বিদেশি ফল, বিদেশি ফুল, ফার্নিচার ও কসমেটিকস জাতীয় প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে ওই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে এবারে বৃদ্ধি পেতে পারে তামাকজাত পণ্য। স্ল্যাব অনুসারে শুল্ক আরোপ হবে। এনবিআর সূত্রানুসারে সিগারেটের নিম্ন স্তরের তিনটি স্ল্যাবে বেশি দাম বাড়তে পারে।

অগ্রিম কর আরোপের কারণে দাম বাড়বে মদ জাতীয় পণ্যের। প্রস্তাবিত বাজেটে মদ আমদানিতে অগ্রিম কর ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেশীয় পণ্য সুরক্ষায় শুল্ক আরোপে আমদানিকরা স্মার্ট মোবাইল ফোন দাম আরেক দফায় বৃদ্ধি পেতে পারে। সেক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো।

দাম বৃদ্ধি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি। ৪০০০ সিসি ওপরে বিলাসবহুল রিকন্ডিশন গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও আগাম কর এবং ভ্যাট মিলিয়ে কর প্রায় সাড়ে ৮০০ শতাংশে করভার রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ওই করভার এক হাজার শতাংশ বা তার বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।

শুল্ক বৃদ্ধি করণে আমদানিকরা ফ্রিজ ও এসির দাম আরেক দফা বাড়তে পারে। দাম বাড়তে পারে আমদানিকরা সব ধরনের বিলাসবহুল হোম অ্যাপ্লায়েন্সেরও।


আরও খবর



বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না গম বহনকারী ৬ হাজার ট্রাক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে আটকে রয়েছে গম বোঝাই ৬ হাজার ট্রাক। গত ১৪ মে থেকে দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থলবন্দরে এসব ট্রাক আটকে রয়েছে। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) থেকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আরসি) বা ছাড়পত্র না পাওয়ায় বাংলাদেশে ঢুকতে পারছে না গম বহনকারী এসব ট্রাক।

মঙ্গলবার (৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনোমিক টাইমস। এতে বলা হয়, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত ১৩ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সেই প্রজ্ঞাপনে ভারত থেকে অবিলম্বে গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসন এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। কারণ এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী গম সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অবশ্য ডিজিএফটি গম রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করলেও ভারতের সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়, গত ১৩ তারিখের আগে যেসব ঋণপত্র বা এলসি ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলো যথাসময়ে রপ্তানি করা হবে। তবে এরপরও ১৩ মের আগে চালান সম্পন্ন হওয়া বা অর্থ পরিশোধ করা গম বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ইকোনোমিক টাইমস বলছে, ১৩ তারিখের আগে যেসব ঋণপত্র বা এলসি ইস্যু করা হয়েছে সেগুলো সীমান্ত পার হতে বাধা নেই বলে জানানো হলেও এখন বলা হচ্ছে- রপ্তানির জন্য ডিজিএফটি’র ছাড়পত্র প্রয়োজন। আর এতেই সময় লাগছে কারণ রপ্তানিকারকরা যেন এলসি’র ব্যাক-ডেট না করতে পারে, সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

বাণিজ্য সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রবেশের জন্য সীমান্তে অপেক্ষারত ট্রাকগুলোর বেশিরভাগই ছোট ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে কান্দলা বন্দরে কয়েকটি বড় কোম্পানির ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ গম আটকে রয়েছে।

কনফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রায় ৬ হাজার ট্রাক, ১০-১২টি রেলওয়ে রেক এবং ১০-১২টি বার্জ/জাহাজ কলকাতা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের মোটামুটি অনুমান, প্রায় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টন গমের চালানে প্রকৃত এলসি থাকতে পারে।

ভারতের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার চেয়ারম্যান বিমল বেনগানি বলছেন, ‘গম রপ্তানির নিবন্ধন সনদ বা ছাড়পত্রের জন্য পূর্বাঞ্চল থেকে প্রায় ১২০০টি আবেদন অনলাইনে ডিজিএফটিতে জমা পড়েছে। অন্যদিকে এতোগুলো আবেদনের বিপরীতে গত ২ জুন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রপ্তানিকারককে প্রায় ২০০টি আরসি ইস্যু করেছে সংস্থাটি। কিন্তু আবেদনের অনেকগুলোই এখনও আটকে রয়েছে।’ তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আরসি পেতে দেরি হওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক লোকসানে পড়েছেন।

এর আগে গত ২ জুন এক প্রতিবেদনে আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থলবন্দরে আটকে থাকা গমের পরিমাণ প্রায় চার লাখ টন।

এছাড়া সীমান্তে গম আটকে থাকায় সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করেছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। তাদের আশঙ্কা, গম পরিবহনে বিলম্ব হলে বৃষ্টির কারণে প্রয়োজনীয় এই শস্য পচে যেতে শুরু করবে এবং এতে করে তারা কোটি কোটি রুপি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




পানির নিচে ৭ জেলা, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও ১৭টি

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রোকসানা মনোয়ার :  ভারতের মেঘালয় ও আসামে ক্রমাগত বৃষ্টি হওয়ায় তা বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এর মধ্যেই সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ অন্তত সাত জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, আগামী দুদিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও দেশের মধ্যাঞ্চলের আরও ১৭টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে। কারণ সেসব এলাকায় বন্যার তীব্রতা বাড়ছে, নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে শুরু করেছে।

সেই সঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র সারাদেশের ১০৯টি নদী পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে ৯৫টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলছেন, সিলেট, সুনাগমঞ্জ এলাকায় আজ শনিবার (১৮ জুন) এবং আগামীকালও বৃষ্টি হবে। ফলে সেসব এলাকার বন্যার পানি আরও বাড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। সেই সঙ্গে যমুনা নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে।

ফলে উত্তরাঞ্চলের আরও কিছু জেলা প্লাবিত হতে পারে। বন্যার এই পানি আবার নিচের দিকে নেমে এলে মধ্যাঞ্চলের কিছু জেলাগুলোও প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সড়ক ডুবে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের সঙ্গে আগেই সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মোহনগঞ্জে রেলব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ায় নেত্রকোনার সঙ্গেও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেটের সাথে দেশ-বিদেশের বিমান যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে শুক্রবার থেকে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে বন্যা কবলিত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ পানী বদ্ধি অবস্থায়। আশ্রয় ও খাবারের জন্য তারা সরকারি-বেসরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

যেসব জেলায় বন্যা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় তা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে প্রবেশ করে আরও এগিয়ে আসছে।

ফলে জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পাবনায় বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভিবাজারে বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন্যার পানি আরও নিচের দিকে নেমে এলে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর অঞ্চলেও বন্যা দেখা দেয়া ও ব্যাপকভাবে নদীভাঙন শুরুর ঝুঁকি রয়েছে।

মেঘালয় ও আসামের বৃষ্টি আশঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে আরও ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। গত তিন দিনে এখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আসামে বৃষ্টি হতে পারে অন্তত ৩০০ মিলিমিটার। এসব এলাকার বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের সিলেট ও কুড়িগ্রাম দিয়ে নেমে আসবে।

ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত বৃহস্পতিবার ৯৭২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১২২ বছরের মধ্যে রেকর্ড। মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।

সিলেট, কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ ও দিরাইয়ে সুরমা নদী, কুড়িগ্রামে ধরলা, চিলমারিতে ব্রহ্মপুত্র, লরেরগড়ে জাদুকাটা, কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি, নাকুয়াগাঁওয়ে ভোগাই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা নদীর পানিও বাড়ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ, ভারতের আসাম, মেঘালয়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এসব পানি বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম এলাকা থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সাগরে নামে। ফলে এসব এলাকার নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বন্যায় আমার বাড়ি ডুবে গেছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একজন প্রতিবেশীর দোতলার ছাদে উঠেছি। আমার মতো গ্রামের আরও অনেকে এখানে আশ্রয় নিয়েছে।

এখনো সেখানে দ্রুত পানি বাড়ছে বলে তিনি জানান।

আক্রান্তদের অনেকে প্রতিবেশীর বাড়ি, নৌকায় আশ্রয় পেলেও গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন। সড়ক বা বাঁধগুলো ডুবে যাওয়ায় এসব প্রাণী রাখার জায়গা পাচ্ছেন না।

সাব-স্টেশনে পানি ঢুকে পড়ায় সুনামগঞ্জ এলাকার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করছে না। শুক্রবার থেকে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের বিষয়কে এখন তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ঢাকাসহ সারাদেশেরর সঙ্গে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সিলেট জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রানওয়ের কাছাকাছি পানি চলে আসায় সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুক্রবার বিকেল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

রংপুরের সাইদুল ইসলাম বলছেন, তিনি ১২ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলেন। বন্যার আগে আগে মাত্র পাঁচ বিঘার ফসল তুলতে পেরেছিলেন। বাকিটা পানির নিচে চলে গেছে।

বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে মধ্যাঞ্চলেও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১২২ বছরে এটি রেকর্ড।

আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির সেই বৃষ্টির পানি খুবই দ্রুত গতিতে সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে নেমে এসেছে। এ জন্য বন্যা অল্প সময়ে সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীসহ কয়েকটি জেলাতেও আগামী কয়েকদিন বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া উত্তরের জেলাগুলোর পানি নামার সময় সিরাজগঞ্জ টাঙ্গাইলসহ মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতেও বন্যা হতে পারে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া মনে করেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই এপ্রিল মে মাসে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে নদীগুলোতে বিপৎসীমার কাছে পানি ছিল। এখন ভারী বৃষ্টি হওয়ায় অল্প সময়েই সিলেট অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। 


আরও খবর



আজ দেশে ফিরছেন ইয়াসির

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটাই শেষ হয়ে গেল ইয়াসির আলি রাব্বির। পিঠের ইনজুরিতে পড়ে শুরুতে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন তিনি। এবার টি-২০, ওয়ানডে সিরিজেও খেলা হচ্ছে না তার। ব্যথা না কমায় তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

গতকাল রাতে বিসিবির মিডিয়া বিভাগ থেকে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ক্যারিবিয়ান থেকে দেশে ফেরার বিমানে চড়েছেন ইয়াসির। আজ দেশে পৌঁছে যাবেন এ তরুণ মিডল অর্ডার ব্যাটার।

গত ১০ জুন প্রস্ত্ততি ম্যাচের প্রথম দিনে পিঠের পেশিতে টান পড়েছিল ইয়াসিরের। পরে এমআরআইতে ধরা পড়ে তার ডিসকোজেনিক পেইন তথা মেরুদণ্ডে ব্যথা। তারপরও তাকে ক্যারিবিয়ানে রাখা হয়েছিল, সুস্হ হলে যেন সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে খেলতে পারেন। কিন্তু তার ব্যথার উন্নতি হয়নি। এমনকি রিহ্যাবও শুরু করা যায়নি। দেশে ফেরার পর বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের অধীনে চিকিৎসা চলবে ইয়াসিরের।


আরও খবর