Logo
শিরোনাম

কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংবর্ধনা

প্রকাশিত:বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

কুমিল্লা ব্যুরো ঃ

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় অবদান রাখায় টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংবর্ধনা দিয়েছে কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম।

কুমিল্লা নগরের একটি রেস্তোরায় এ সংবর্ধনার  আয়োজন করা হয়। 

সংবর্ধনাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন—বাংলাদেশ টেলিভিশেন সাবেক জেলা প্রতিনিধি মু,মিজানুর রহমান চৌধুরী,বিটিভির জাহাঙ্গীর আলম রতন, এটিএনবাংলা ও এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার খায়রুল আহসান মানিক,আরটিভির স্টাফরিপোর্টার গোলাম কিবরিয়া,ভোরের কাগজ,দেশটিভির এম ফিরোজ মিয়া,যুমনা টিভির ব্যুরো প্রধান খোকন চৌধুরী, সময় টিভির বাহার রায়হান, নিউজটোয়েন্টিফোরের হুমাযুন কবির জীবন, ডিবিসির নাসির উদ্দিন,চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জাহিদুর রহমান,বাংলাটিভির আরিফুর রহমান,আনন্দটিভির সৈয়দ আহসান হাবীব পাখী,এসএ টিভির আনোয়ার হোসেন,দেশটিভির সুমন কবিরসহ ১৭জন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা সিটিকর্পোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত।

মেয়র তারঁ বক্তব্যে কুমিল্লার উন্নয়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি  একাত্তর টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী এনামুল হক ফারুক।অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক  ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির জীবন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন, কুমিল্লা ক্লাবের সহ-সভাপতি আলী মুনসুর ফারুক, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র হাবিবুর আল আমিন সাদি, ধনুয়াখলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শামীম হায়দার, অনুষ্ঠান শেষে টেলিভিশন ক্যামেরাপার্সনদের কে শুভেচ্ছা উপহার দেয়া হয়। 

সাংবাদিকদের উদ্বুদ্ধ করতে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করতেই এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।


আরও খবর



সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে ডেমরায় সমাবেশ ও চার থানা কমিটি ঘোষণা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

হাসিবুল ইসলাম: সোমবার বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের রাজধানীর ওয়ারী জোনের আওতাধীন ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে আয়োজিত সাংবাদিক নির্যাতন ও সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি সরকারকে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ণসহ ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে জোড়ালো আহবান জানান। দেশে অহরহ সাংবাদিক নির্যাতন ঘটনা যেন থামছেইনা। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম সাদ্দাম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, কেন্দ্রীয় কমিটি। সদস্য সচিব সেলিম নিজামির সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি ছিলেন এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ (সিআইপি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শফিকুর রহমান, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৬৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান পলিন, চিত্রনায়ক যুবরাজ খান, বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খায়রুল আলম,সদস্য আমির হোসেন, পূর্বাঞ্চল সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি ওমর ফারুক জালাল, স্বাস্থ্য এন্ড পরিবেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সোসাইটির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খান, শরিফুল ইসলাম বিপ্লব।


অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মুন্সি মোঃ আল ইমরান, রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম,  মোঃ সাইফুল ইসলাম পারভেজ, রেভা খান, সুমন খান,  মনির হোসেন, সভায় নেতৃবৃন্দ সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলা, নির্যাতন, জেল জরিমানার নীল নকশার কালো আইন বাতিল, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার এবং গণমাধ্যম মালিকদেরকে আন্তরিক হওয়ার আহবান জানানো হয়। সমাবেশে ওয়ারী জোনের ৪টি থানার কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে একটি বৃহৎ ঐক্যের সুচনা করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানা কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি  মোঃ সাইফুল ইসলাম পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আল ইমরান নির্বাচিত হন, শ্যামপুর থানার সভাপতি মোঃ সহিদুল ইসলাম জনি সাধারণ মোঃ মনির নির্বাচিত হন। ডেমরা থানার সভাপতি সেলিম নিজামী ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কদমতলী থানার সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন  ও ইঞ্জিনিয়ার হাসান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সমাবেশ শেষে বিভিন্ন শিল্পীর অংশগ্রহনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


আরও খবর



আইসিসির কাছে নালিশ জানাবে পিসিবি

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

ইয়াশফি রহমান : খেলার মাঠে দুই দলের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়াবেই- এটাই যেন অলিখিত একটি নিয়ম। তবে, যাই ঘটুক, সবই থাকবে সীমার মধ্যে। অখেলোয়াড়োচিত কোনো আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচের উত্তেজনা অনেকটাই সীমা লঙ্ঘণ করে গেছে। আফগান পেসার ফরিদ আহমেদের দিকে তেড়ে গেলেন পাকিস্তানি ব্যাটার আসিফ আলি। শুধু তাই, তাকে ব্যাট দিয়ে পেটাতেও উদ্যোগি হতে দেখা গেছে আসিফ আলিকে।

যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো আনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর ঘটেনি। অন্য ক্রিকেটাররা এসে মাঝে দাঁড়িয়ে যান এবং দু’জনকে ছাড়িয়ে নেন। মাঠের এই ঘটনার রেশ গিয়ে পড়েছে গ্যালারিতেও। সেখানে আফগান সমর্থকদের বেশ উত্তেজিত হতে দেখা যায় এবং পাকিস্তানি সমর্থকদের ওপর হামলে পড়তেও দেখা যায়।

এসব বিষয় নিয়ে, বিশেষ করে গ্যালারিতে আফগান সমর্থকদের হামলার ঘটনার বিষয়ে আইসিসির কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজাই জানিয়েছেন এ তথ্য।

মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রমিজ রাজা বলেন, ‘আপনি সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন না। আর এ ধরনের পরিবেশ আপনাকে অসুস্থ করে তুলবে। আমরা আইসিসিকে লিখিতভাবে জানাব, নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরব। যা করা সম্ভব করব। কারণ, দৃশ্যগুলো ছিল বীভৎস।’

এবারই প্রথম এমন কিছু ঘটেনি জানিয়ে রমিজ বলেন, ‘এমন কিছু এবারই প্রথম ঘটেনি। হার ও জিত খেলারই অংশ। এটা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই ছিল। কিন্তু আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। পরিবেশ ভালো না থাকলে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আপনি কখনো এগিয়ে যেতে পারবেন না। 


আরও খবর

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট

রবিবার ০২ অক্টোবর 2০২2

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২




প্রেমঘটিত কারণ সবচেয়ে বেশি দায়ী

আট মাসে ৩৬৪ শিক্ষার্থীর আত্মহনন

প্রকাশিত:শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার : দেশে ক্রমেই বাড়ছে আত্মহননের প্রবণতা। বিশেষ করে নানা কারণে শিক্ষার্থীরা বেশি আত্মহননের দিকে ঝুঁকছেন। এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৩৬৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ১৯৪ জনই ছিল স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী। আর ৭৬ জন কলেজপড়ুয়া এবং ৫০ জন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়াও মাদরাসার ৪৪ জন শিক্ষার্থী নিজের জীবন নিজেই বিসর্জন দিয়েছেন।

সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের এক জরিপে এসব তথ্য ওঠে আসে এসব তথ্য। 

সংগঠনটি জানায়, ১৫০টি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার থেকে নেওয়া তথ্যে এ জরিপ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে সারা দেশে মোট ১০১ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিল বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। জরিপে দেখা গেছে, গত আট মাসে মোট আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০ জন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ৬০ শতাংশ এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ৪০ শতাংশ। কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে ৭৬ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, যাদের মধ্যে ৪৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ছেলে এবং ৫৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে। গত আট মাসে ১৯৪ জন স্কুলগামী শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ দশমিক ৯৯ শতাংশ ছেলে এবং ৬৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ মেয়ে। আর মাদরাসাপড়ুয়া ৪৪ জন শিক্ষার্থীর ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ ছেলে এবং ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি ডিভিশন) আজিজুল হক মামুন এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তরুণ প্রজন্মকে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি করা দরকার এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল করে তোলার একান্ত প্রয়োজন। তাই আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এটি তরুণ প্রজন্মের ওপর জরিপ পরিচালনা ও আত্মহত্যার তথ্যও সংগ্রহ করছে। যাতে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা নিরূপণ করা যায়।

জরিপে ওঠে এসেছে, আত্মহত্যাকারীদের অবস্থান বিবেচনায় সবার শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। আত্মহননকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে তুলনামূলক কম সংখ্যক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন, যা ৪ শতাংশ।

শিক্ষা স্তর বিবেচনায় আত্মহননকারীদের মধ্যে প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীর হাড় ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আত্মহত্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা, যা ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এবং মাদরাসার শিক্ষার্থী ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

মেয়েরাই বেশি আত্মহননে দিকে যাচ্ছে। আত্মহননের দিকে বেশি ঝুঁকছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা, যা মোট আত্মহননকারীদের ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে ছেলে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক আত্মহত্যার হার। জরিপের ফল থেকে জানা যায়, ১৩ থেকে ২০ বছর বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি, যা ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আত্মহননের ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ ২১ থেকে ২৬ বছর বয়সি শিক্ষার্থী। আর ১৩ নিচে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিক্ষর্থী এ পথ বেছে নেন।

প্রেমঘটিত কারণ সবচেয়ে বেশি দায়ী : আত্মহত্যার ঘটনা অনুসন্ধানে আঁচল ফাউন্ডেশনের তরুণ গবেষকরা আত্মহননের পেছনের বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে অভিমান, প্রেমঘটিত, ডিজিটাল ডিভাইস, সেশনজট, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, পড়াশোনার চাপ, পরিবার থেকে কিছু চেয়ে না পাওয়া, পারিবারিক কলহ, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি, চুরি বা মিথ্যা অপবাদ, মানসিক সমস্যা, বিয়েতে প্রত্যাখ্যাত, স্বামী পছন্দ না হওয়া, বাসা থেকে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বিষণ্নতা, বন্ধুর মৃত্যু, আর্থিক সমস্যার মতো বিষয়ও রয়েছে। তবে প্রাপ্ত তথ্যে প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা ঝুঁকি বেশি যাওয়া যায়। অর্থাৎ ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেন। এরপর রয়েছে অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে চাওয়া-পাওয়ার অমিল হওয়ায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং পারিবারিক কলহের কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির কারণে ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। মানসিক সমস্যার কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। পড়াশোনার চাপে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ, সেশনজটের হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহননের দিকে যান। ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ চুরির মিথ্যা অপবাদে, ১ দশমিক ৯২ শতাংশ আর্থিক সমস্যায় এবং বন্ধুর মৃত্যুতে বিষাদগ্রস্ত হয়ে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়াও বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এবং স্বামী পছন্দ না হওয়ায় ১ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর আত্মহননের কারণ জানা যায়নি।

ডিজিটাল ডিভাইস ও সাইবার ক্রাইম অন্যতম : আত্মহননকারী কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মহত্যার পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মানসিক অবসাদ কিংবা বিদায় নেওয়ার কথা জানান দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন আটজন এবং ভিডিও কলে এসে আত্মহত্যা করেন দুজন। আর সেলফি ক্যামেরা নিজের দিকে তাক করে আত্মহত্যা করেন শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ প্রেমিক যুগল। এছাড়া মৃত্যুর আগে চিরকুট বা সুইসাইড নোট লিখে আটজন আত্মহত্যা করেছেন। আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের শিকার শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার পথ নিচ্ছে। এই জরিপে ওঠে আসে এ কারণে চারজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ আবেগ বলেন, আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা পরিবার থেকে কোনো কিছু না পেয়ে অভিমান করেও আত্মহত্যা করেছেন। মোটরসাইকেল, মোবাইল চেয়ে না পাওয়ার কারণে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে কীভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক বড় ধরনের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিতে হবে। সাত বছরের একজন বাচ্চা যার আত্মহত্যা বোঝার মতো বয়সও হয়নি, তার আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলোও বিশ্লেষণ করে শিশু অবস্থা থেকেই শিক্ষার্থীদের মনোবল শক্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যার ঘটনাগুলো আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে কম বয়সি স্কুলগামী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্কুলগামী আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৬০ শতাংশেরও বেশি। এই হার এত উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে কারণগুলো কী! তা খুঁজে বের করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা এখন যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে আত্মহত্যা না করলেও তাদের অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আঁচল ফাউন্ডেশনের ১০ প্রস্তাবনা :

১. আত্মহত্যা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন।

২. পাঠ্যপুস্তকে মানসিক শিক্ষাকে এবং মনের যত্নের কৌশলগুলোকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।

৩. স্কুল-কলেজে অভিভাবক সমাবেশের আলোচিত সূচিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা সম্পর্কিত এজেন্ডা রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা প্রদান।

৪. মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা।

৫. প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রদান।

৬. সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

৭. মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা।

৮. হতাশা, আপত্তিকর ছবি, আত্মহত্যার লাইভ স্ট্রিমিং, জীবননাশের পোস্ট ইত্যাদি চিহ্নিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ টুলস ব্যবহার করা।

৯. আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবার ও পরিচিতদের দায় অনুসন্ধানে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা।

১০. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করতে একটি টোল ফ্রি জাতীয় হট লাইন চালু করা।


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




জাপায় অন্তঃকলহ দিন দিন বাড়ছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

দলের নেতৃত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে পার্টিতে এখন ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদপন্থিরা ২৬ নভেম্বর কাউন্সিল করতে অটল। আর জি এম কাদেরপন্থিরা কাউন্সিল ঠেকাতে তৎপর। এ নিয়ে এরই মধ্যে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসিউর রহমান রাঙ্গাও পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক টানাপড়েন প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলে কোণঠাসা নেতারা জি এম কাদের এবং বিরোধীরা রওশন এরশাদকে ভুল বুঝিয়েছেন। পার্টির ভেতরে সর্বশেষ দ্বন্দ্বের পেছনেও কোণঠাসা বোধ করা নেতারা রয়েছেন বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ। পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এই অংশটিকে তৃতীয় শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একাংশের নেতৃত্ব দিতে থাকেন রওশন এরশাদ। তবে এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যান। এরপর জি এম কাদের রওশনকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদে হন বিরোধীদলীয় উপনেতা। সে সময় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে যে মীমাংসা হয়, সে অনুসারেই সবকিছু চলছিল।

তবে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে থাকাকালে দলের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হন রওশন এরশাদ। জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা তার খোঁজ না নেওয়ায় গত ২ জুলাই দলের একটি মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন।

এ সভায় দলে মধ্যে কোণঠাসা নেতারা উপস্থিত থাকলেও পার্টির মূল দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। রওশনের এই অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে রওশনকে দিয়ে নতুন নেতৃত্বের কথা বলেন। এ নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।

জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ২৬ নভেম্বর সম্মেলনের আহ্বান করার পাশাপাশি দলটির নিষ্ক্রিয়, ত্যাগী, বঞ্চিত ও বিভিন্ন দলে চলে যাওয়াদের জাপায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, সম্মেলন ডাকার এখতিয়ার নেই রওশন এরশাদের।

সম্মেলন ডাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশন এরশাদকে সরাতে দলের ২৩ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে। দলটির প্রেসিডিয়াম সভাও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জি এম কাদেরপন্থিরা প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে। সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় রওশনপন্থিদের কাউন্সিল ঘিরে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে।

যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দল আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়বে। পার্টির একাধিক নেতার মন্তব্য, জাপার নেতৃত্বে নতুন মোড় নিতে পারে শিগগির।

এ বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, আমরা কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাব। ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হবে। পার্টির সংসদীয় দল স্পিকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তাতে আমরা বিক্ষুব্ধ, বিস্মিত। বেগম রওশন এরশাদ এ মাসেই দেশে ফিরবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি জানাবেন।

জি এম কাদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ও এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, কোনোভাবেই জি এম কাদেরের সঙ্গে কোনো মীমাংসা হবে না। শুধু যদি তিনি (জি এম কাদের) রওশন এরশাদের নেতৃত্ব মেনে নেন, তাহলেই মীমাংসা হওয়া সম্ভব।

তাদের ‘দলবিরোধী ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা অপেক্ষা করেন। দেখেন কার সঙ্গে কে থাকে। এদিকে গত বুধবার জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ।

এদিকে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দলটির বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির শক্তি বেড়েছে দাবি করেন। তিনি বলেন, দল থেকে কেউ চলে গেলেও জাতীয় পার্টি থাকবে। দল দলের জায়গায় থাকবে। দল ভাঙবে না। রওশন এরশাদকে দলের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। রওশন এরশাদই জি এম কাদেরকে দায়িত্ব নিতে বলেছেন।

এ সময় প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ জাপার সব পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর

পুলিশের পক্ষে বললেন খামেনি

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২




রাঙ্গামাটি বগাইছড়ি দূর্গম এলাকায়

প্রথম বারের মতো সাজেকে এসএসসি কেন্দ্র চালু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

উচিংছা রাখাইন  রাঙ্গামাটি  :

সারা দেশের ন্যায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দূর্গম অঞ্চল বাঘাইহাট  উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম বারের মতো এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন ও  এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং  স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এবারই প্রথম বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন  সাজেকের দূর্গম শতাধিক গ্রাম থেকে ২২৪ জন শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে । নতুন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসে  শীক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন আগে ৪০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো এতে ছাত্র ছাত্রীদের মূল্যবান সময় ও অভিভাবকদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হতো, সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাঘাইহাটে পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হওয়ায় এলাকাবাসী ও ছাত্র ছাত্রীদের অনেক উপকার হয়েছে।


একেবারে ঘরের উঠানে পরীক্ষা দেয়ার মত। মৈত্রী ত্রিপুরা নামে একজন পরীক্ষার্থী বলেন আগে উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া করে পরীক্ষা দিতে হতো এখন বাড়িতে থেকে পরীক্ষা দিতে পারছি এতে আমাদের কষ্ট, টাকা, সময় সবকিছু বাঁচবে সেনাবাহিনী ও শিক্ষামন্ত্রীকে অনেক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ ঘটিকায় বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা  কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মুনতাসীর রহমান চৌধুরী (পিএসসি),  এসময় তিনি কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থা দেখে সন্তুষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি বলেন পাহাড়ে   বর্তমান সরকারের  ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে সাজেকে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হয়েছে , এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সম্প্রিতির বন্ধন আরো সূদৃঢ় করতে হবে। পাহাড়ে সেনাবাহিনী উন্নয়নের পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রিতির  সেই কাজই করছে। উল্লেখ  যে বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়টি তৎকালিন জোন কমান্ডার লে: কর্নেল জাহাঙ্গীর  আলম চৌধুরী,পিএসসি, ২৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট  আর্টিলারি  সার্বিক  সহযোগীতায়  ১৯৯২ সালে বাঘাইহাট জুনিয়র হাই স্কুল নামে অত্র স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর ১৯৯৯ সালে তৎকালিন জোন কমান্ডার লে: কর্নেল আবু সোহেল পিএসসি,১ ইস্ট বেংগল এর সার্বিক সহযোগীতায় সরকারি  এমপিও ভূক্তকরন হয়।


 পরবর্তীতে তৎকালিন জোন কমান্ডার লে: কর্নেল মোঃ মুহসিন আলম,পিএসসি,১৪ বীর এর সার্বিক সহযোগীতায়  ২০১০ সালে জেএসসি পরিক্ষার কেন্দ্র অনুমোদন হয়। বর্তমান জোন কমান্ডার-  লে: কর্নেল মুনতাসির রহমান চৌধুরী, পিএসসি,৬ ইস্ট বেংগল  এর সার্বিক সহযোগীতায়  ২০২২ সালে এস এস সি পরিক্ষার কেন্দ্র  ( মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড  ,চট্টগ্রাম) কেন্দ্র অনুমোদন হয়।


আরও খবর

১১০০ শিক্ষকের সনদ জাল

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২